“তারপর কী হল শোন, সেই ক্যাডেটকে খুঁজে পাওয়া গেল টয়লেটের মধ্যে । হাতে হুমায়ূন আহমেদ এর বই। ভাঙা দরজার সামনে যখন প্রিন্সিপাল দাঁড়িয়ে আছে তখনো তার চেতন নেই। এঁকেই বলে বইয়ের পোকা। ভাঁবা যায় টানা তিন দিন একটা ক্যাডেট বই পড়ে টয়লেটে কাঁটিয়ে দিয়েছে।” সত্য স্যারের গল্প শুনে কেউ অবাক হলনা। কারন মোটামুটি সবাই জানে স্যারের কথার অধিকাংশই মিথ্যে। ক্যাডেট কলেজের ভাষায় যার নাম গুল।
বিস্তারিত»রাজপুরুষ
টিউশনী যারা করে, কেবল তারাই জানে এর জালা কিরকম।বিশেষ করে যারা খুলনায় টিউশনী করে, একে তো দূরত্ব, তার উপর সারা বছর ভ্যাপসা আবহাওয়া।সেদিন ছিল আমার জন্মদিন।বাস্তবতার টানে সেদিনও বিকেল হতেই টিউশনীতে যেতে হল।এমনিতে সারাদিন ক্লাস, ল্যাব তারপর ক্লাস টেস্ট; এরপর কারো মেজাজ ঠিক থাকে না। সে অবস্থাতেও অতি কষ্টে একটা কেক আর কলা খেয়ে তারপর চা সিগারেট হাতে চিন্তা করছিলাম, মাস চলবে কিভাবে।আজও টিউশনীতে না গেলে পরে মাস শেষে টাকা নিতে গায়ে বাধে।
বিস্তারিত»বন্ধুত্ব আর কিছু বিড়ম্বনা…
রাজ-এর মাথায় হঠাৎ একটা শয়তানি খেলে গেল ।
ওকে কষ্ট দিয়ে দিপ্তি শান্তিতে থাকবে, এইটা মেনে নাওয়া যায় না, ভাবল সে ।
কত্ত বড় খারাপ মেয়েটা , কাল সারাটা বিকাল ওকে টেনশনে রেখেছে। সেই কখন থেকে দিপ্তির একটা খোজ খবর কিচ্ছু পায়নি সে । একটা কল ও না, এমনকি ফেসবুক এ একটা পোক ও না…
পরে দেখে, ফেসবুক আইডিটাই ডিয়েক্টিভেটেড,
বিস্তারিত»মাত্রতো একটা যুগের একটু বেশী….
বন্ধূ চয়নকে ফোন দিয়েছিলাম বহুদিন পর- চিনতেই পারেনি।
নাম বললাম- ভালো নামটা, যে নামে স্কুলে প্রতিদিন উপস্থিতি ডাকত রেবেকা আপা
সেই নামটাই বললাম, ডাক নাম অবশ্য ইচ্ছে করেই বলিনি
নাহ! বন্ধু আমাকে চিনতেই পারেনি।
সময়ও অবশ্য কম গড়ায়নি, এক যুগেরও একটু বেশী।
আমার আবেগ এখনো কাঁচা কিন্তু বন্ধুরা কেউ মনে রাখেনি।
যাই হোক, চয়নের কথা বলছিলাম।
ফাল্গুনের নতুন বাতাসে আজিজের দুই তলায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে চয়নকে একবার ফোন দিলাম-
স্নাতক শেষ,
ডলফিন, নীলতিমি ও একটি থিসিস পেপার
(১)
ভেজা বারান্দায় দৌড়ানো সহজ কথা নয়। সেটাই করতে হচ্ছে শুভকে। এমনিতেই পাঁচ মিনিট দেরী হয়ে গেছে।থিসিস পেপারটা শুভ স্যার কে দেখাতে পারবে তো? এমনিতেই রশিদ স্যার যে রাগী! এসব ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল শুভ। হঠাৎ পা পিছলে গেল।
কিছুটা স্পীডেই দৌড়াচ্ছিল শুভ।তাই পড়ে গিয়ে ভাল ব্যথা পেল সে।কাপড়চোপড় আগেই ভিজে গিয়েছিল। এখন আরো খারাপ হল কাপড়ের অবস্থা। যাই হোক শুভ একটু ঠিক হয়ে নিক।এই সুযোগে আপনাদের সাথে ওকে পরিচয় করিয়ে দেই।
বিস্তারিত»গিটারিস্ট
শূন্যতা
বৃষ্টি শেষের গান
লেখার শুরুতেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের তৃতীয় ব্যাচের ক্যাডেট, মুক্তিযোদ্ধা লেঃ কর্নেল(অবঃ) খায়রুল আলম বেলাল ভাইকে। ভাইয়া অশেষ ধন্যবাদ,এই সময়ের একজনকে সেই সময়ে নিয়ে যাবার জন্য।
আমার মা’র কথা
মা’র জন্য আমাকে প্রায়ই বিব্রত হতে হয়। বিশ্বাস করুন প্রায়ই হতে হয়। বিশেষ করে ছুটি শেষে কলেজে ফেরার সময়। মা আমাকে বিদায় দিতে রেলষ্টেশন পর্যন্ত চলে আসেন । আমি সব সময়ই চাইতাম- বিদায় পর্বটা অন্তত বাড়িতেই শেষ হোক।
বিস্তারিত»অধরা ফাইনাল
আমার মা বলেন ছেলেদের সৌন্দর্য আচরনে আর কাজে। আমি অবশ্যই এই কথা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেই সব সময়।
দুপুরে খেলা দেখতে যাবো,এই উত্তেজনায় সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেল। মিষ্টি আর পরোটা দিয়ে জম্পেশ একটা খাওয়া দিলাম। পলাশি মোড়ের দোকানগুলো একটু ময়লা হলেও খাবার বানায় বেশ। পেট ডলতে ডলতে সবাইকে ফোন দিলাম। সবাই রেডি।
আমি সাবান ডলে গোসল করে,গায়ে ২-৩ টা স্প্রে ছিটায় নেমে পড়লাম রাস্তায়।
বিস্তারিত»ইচ্ছের বর্ষায়
শেষ রাতের দিকে বৃষ্টি নামল। ঝুম বৃষ্টি। করিডোরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়ার চেষ্টা করলাম। বৃষ্টির কয়েকটা ফোঁটা এসে মুখের ওপর পড়ল। একটু পরেই শুরু হল বাতাস। প্রকৃতির পাগলামি আজ একটু বেড়েছে। বৃষ্টি এলেই পুণ্যিকে খুব মনে পড়ে। মেয়েটা ভীষণ বৃষ্টি পাগল ছিল। ক্লাশ শেষে প্রায়ই টি.এস.সিতে আড্ডা দিতাম। পুণ্যি বলতো ” ইস যদি বৃষ্টি হত। কেন যে বছরের ছয়টি ঋতুই বর্ষা হলোনা। সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজতাম। ”
বিস্তারিত»চাকা
মহাদেবপুর মহাকূমা থেকে অজগরের মত এঁকেবেঁকে বিশাল রাস্তাটা চলে এসেছে সূত্রাপুর। ইট বসানো পাকা রাস্তা। দু’ধারে কড়ই,নিম আর শাল গাছগুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।প্রায় দুশো বছর আগে মহাদেবপুরের জমিদার বিনোদ রায় সিং যশোর থেকে মহাদেবপুর পর্যন্ত ২০০ ক্রোশ লম্বা এই রাস্তা নির্মাণ করেছিল। সূত্রাপুরে তখন কয়েক ঘর লোকের বসতি ছিল। গ্রামের দক্ষিণদিকটায়, খালের পাড়ে। কুমোরপাড়া।
আজ সূত্রাপুরে কয়েক হাজার লোকের বাস। কুমোরপাড়া,জেলেপাড়া,
বিস্তারিত»যা হবার…
বশির কাকার সাথে গুটিগুটি পায় একটা পুরনো দোতলা বাড়ির গেটে এসে দাঁড়ায় লাচি।ওর হাতের স্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাগে একটা ফ্রক আর একটা প্যান্টের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।কাকা কলবেল বাজায়।কারও সাড়াশব্দ মেলে না।৪-৫ বার অনবরত বাজিয়ে যাওয়ার পর লাচির বয়সী একটা মেয়ে গেট খুলে দেয়।লাচির দিকে তাকিয়ে তার মুখে হাসি ফোটে।
‘বশির আংকেল,কাজের মেয়ে পেয়ে গেছেন ! বাঁচলাম ! গেট খুলতে খুলতে আমার অবস্থা শেষ !’
এক ভদ্রমহিলা ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন।
বিস্তারিত»স্বপ্ন
ইদানিং অনেক সকাল বেলা মিশু ভার্সিটিতে চলে আসে। ক্লাস থাকে না। তাও আসে। একটা লাভ অবশ্য আছে- ফাকা রাস্তায় সকাল বেলা একটানে চলে আসা যায়। আর হাত খরচের টাকা বাচানো তো আছেই!! এসেই প্রথম কাজ চা-সিগারেটের টঙ্গে ঢোকা কিংবা একটা সিগারেট ধরিয়ে আনমনে অজানার উদ্দেশ্যে হেটে চলা। আজকেও সে চলে এসেছে অনেক আগে। আজকে একটু বেশিই আগে হয়ে গেছে। টং গুলাও এখনো খুলেনি। কি আর করার।
বিস্তারিত»ভালবাসার মানুষ
এখন কত দিবস হয়েছে।ভালবাসা দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস। এসব আমাদের দিনগুলিতে ছিলনা। খুবই সাদা মাটা ছিল আমাদের দিনগুলি। প্রকৃতি হয়তো কিছু ‘সোনার মানুষ’ সৃষ্ট করে আমাদের সেই অভাব ঘুচিয়েছিল ।
ভদ্রলোকের সাথে প্রথম পরিচয় হয় ‘ চৈত্র সংক্রান্তির ‘ দিনে।আমার স্পষ্ট মনে আছে ।মনে থাকার কারনও আছে,বলছি।
১৯৮৮~৮৯ সালের দিকের কথা। অফিসে মন খারাপ করে বসে আছি। এই আধুনিক কালে চৈত্র মাস নিয়ে ব্যবসা জগতের এই ব্যাপারগুলি আর সহ্য হয়?
বিস্তারিত»ছোটগল্প : স্বপ্ন, ভালোবাসা অথবা যাপিত জীবনের গল্প
একটি রোমান্টিক গল্প লিখবার জন্য গল্পটি শুরু হয়। গল্পের শুরু বাছাইয়ে সমস্যা হয়। যাপিত জীবন থেকে কেটে নেওয়া কোন সময়ের থেকে তার শুরু। রোমান্টিক হবার প্রয়োজনেই গল্পের শুরুতে তাই স্বপ্নের পিছে ছুটে চলা কোন মানবকে দেখা যায়। তারপরে আপন শিরোনামেই গল্পের পরিসর বাড়ে খণ্ড খণ্ড দৃশ্য কল্প দিয়ে।
স্বপ্নের হাতছানিতে ছুটে চলা
নগরীর বুকে যখন রাত গভীর হয়, সময়কে যখন ক্ষণিকের জন্য স্থবির মনে হয়,
বিস্তারিত»