লালমাই-ময়নামতি পাহাড় শ্রেণির উত্তাংশের পূর্ব ভাগে অপেক্ষাকৃত নীচু ও সমতল ভূমিতে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে আনন্দ বিহার অবস্থিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও কুমিল্লা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত বিহারসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই বিহার ‘আনন্দ রাজার বাড়ি’ নামেও পরিচিত। ৮ম শতকে দেব বংশের সবচেয়ে যোগ্য ও প্রভাবশালী নৃপতি আনন্দ দেব এই বিহার প্রতিষ্ঠা করেন অথবা তার নামে তার যোগ্য পুত্র মহারাজা ভবদেব এটি নির্মাণ করেন বলে প্রচলিত ধারনা রয়েছে।
বিস্তারিত»সর্বংসহা তুমি, সর্বভূক তুমি
তোমার গর্ভে রোপিত হয় বীজ,
সে বীজে লুকিয়ে থাকে জীবন।
বীজ থেকে অংকুরোদ্গম হয়,
ফুলে ফলে শোভিত হয় কানন।
তোমার বুকে বড় হয় মানুষ,
সরীসৃপ, তৃণলতা, শস্যক্ষেত্র।
নীরবে সরবে বড় হতে থাকে,
তুমি বুক পেতে রাখো দিবারাত্র।
যে মানুষ এখন তোমার বুকে
চলেছে সদর্পে পদাঘাত করে,
সেই একদিন স্তব্ধ, জড় হয়ে
হারিয়ে যাবে তোমার গহ্বরে।
হায় ঈশপ! হায় ঈশপ -১
বহুকাল আগের গল্প। কোন এক দেশের কোন এক শহরের কোন এক গ্রামে এক টুপিওয়ালার বসবাস। টুপি বিক্রি করে জীবন চলে তার। নিজ হাতে পরম যত্নে টুপি প্রস্তুত করে টুপিওয়ালা। নিজেও নিজের হাতে তৈয়ার করা একখানা টুপি মাথায় দেয়। সারা সপ্তাহ টুপি তৈয়ার করে সপ্তাহান্তে শহরের পাশের বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়। টুপির ঝোলা কাঁধে নিয়ে পাড়ি দেয় বন, গ্রাম। কোন একবার, কোন এক সপ্তাহান্তে, চারটা খেয়ে,
বিস্তারিত»দৌড়
এক অদৃশ্য হুইসেলের ফুঁৎকারে আমাদের দৌড় শুরু হয়।
নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা দৌড়াতেই থাকি।
শেষ সীমারেখা দৃশ্যমান নয়।
যার পথ যত দীর্ঘ, স্মৃতির সম্ভার তার তত বেশি ভারী।
যার যার পথসীমা নির্দিষ্ট, তবে ট্র্যাক পৃথক।
রেলপথের মত কখনো দুটো ট্র্যাক এক হয়ে যায়,
আবার কখনো বাঁকা পথ নেয়।
পথ শেষ হওয়া সতীর্থরা পড়ে রয়, আমরা দৌড়াতে থাকি।
বসন্ত তুমি
বসন্ত তুমি
ওবায়েদুল্লাহ
প্রকৃত পরাণ ছিল না কোন কালে
তুমি ছাড়া,
বিবসনা ছিল সুর ফাগুনের গানে
মন দিশেহারা।
ফুটিল শাখাতে ফুল মৌভরা মুকুল
কাপে মধুবন,
গুন্জরি কলি কোলে ভ্রমর আকুল
সুখ আহরন।
শিমুল পলাশ সেজেছে লাল দেহভর
পোড়ায় পরাণ,
সরষের মাঠ উন্মনা পড়ে হলুদ শাড়ি
প্রেম ভরা গান।
তোমারি প্রেমে বহিল মলয় দক্ষিনে
গাহি কুহুতান,
সুনিতা কিংবা বিদ্যাঃ দখিন থেকে পুব
আমার গল্পের চরিত্র কিন্তু একই দেশের। তবে সুনিতার মত মাতাল দক্ষিণা হাওয়ার সাথে তার চলাফেরা কখনোই ছিল না। ছিল উত্তর-পূর্বের নদী বরাক, ইম্ফালের সাথে তার গভীর সংযোগ। বাড়ির পাশের লোকটাক লেকের শান্ত নীল জলের মত তার গতি। উচ্ছ্বাস নেই, মাদকতা আছে। সাদা মেঘের মত পেলব, ছুঁতে ইচ্ছে করে। সুনিতার মত অবশ্য তার চোখ গভীর কালো নয়, বরং কিছুটা ঘোলাটে বলা যেতে পারে। তবে সে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে এক মুহূর্ত ক্লান্তি আসেনি আমার।
বিস্তারিত»সময়
সময় একটি সতত বহমান নদী।
সে নদীতে আমরা মাত্র কিছুকাল ভেসে চলি।
কখনো চোখ বুঁজে উজানে সন্তরণে,
আবার কখনো ভেসে ভেসে ভাটায়, নির্লিপ্ততায়!
সময় বয়ে চলে জন্ম জন্মান্তর ধরে,
কালের সাক্ষী হয়ে রয় মানুষের কিছু অমর কীর্তি।
নশ্বর মানুষ বিলীন হয়ে যায় ধরিত্রীর মৃত্তিকায়,
কিছু কিছু মানব কর্মকে সময়ও সমীহ করে যায়।
এক জলে মানুষ দু’বার নামতে পারেনা
একটি মুহূর্তকে কেবল একবারই আঁকড়ানো যায়।
নিঃসঙ্গতার মন্ত্রী ও রাগ কমানোর পার্ক
একটি জাতির একাকী অথবা নিঃসঙ্গ মানুষগুলোর জন্য একজন মন্ত্রী থাকবেন এবং তিনি সবার একাকীত্ব ঘোচাতে এগিয়ে আসবেন–এ কথা হঠাৎ শুনলে খুব স্বাভাবিক মনে হবে না। অন্তত আমরা– বাঙালিরা তো মানতেই চাইবো না যে মানুষ একাকী বোধ করতে পারে।
সম্প্রতি ব্রিটেনে একজন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে–একাকীত্বের মন্ত্রী। বাংলায় নিঃসঙ্গতা এবং একই কথা কিনা আমি জানি না, তবে সে দেশে ‘লোনলিনেস’ এবং ‘অ্যালোন’ এক কথা নয়।
নতুন রূপে ‘নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদতে নেই’
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৫ তে প্রকাশিত হয়েছিল আমার প্রথম কবিতার বই ‘নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদতে নেই’। ঐ বছর মেলাতেই বইটির প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায় এবং অভূতপূর্ব সাড়া পাই কবিতা প্রিয় পাঠকদের কাছ থেকে। এ বছর বইটির দ্বিতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে চৈতন্য প্রকাশন থেকে। বইটি মেলায় পাওয়া যাচ্ছে চৈতন্য প্রকাশনের ৬০৪-৬০৫ নম্বর স্টলে। এছাড়া অনলাইনে রকমারি এবং বইপড়ুন ডট কমের মাধ্যমে সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে।
বিস্তারিত»“এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প” পড়ার জন্য ধন্যবাদ
এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প ২০১৬ তে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর আমি যে পাঠক-প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তা লেখক হিসেবে আমার হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছে। চেনা-অচেনা পাঠক আমায় জানিয়েছেন যে উপন্যাসটি পড়ে তাঁদের ভাল লেগেছে। যাঁরা আমার এই বইটি পড়েছেন তাঁদের জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা।
এ গল্পের ঘটনাগুলো এতো দ্রুত ঘটছে যে অনেকেই শুধু ঘটনাগুলোর ওপরই মনোনিবেশ করেছেন। ক্যাডেটরা কি করে তাই দেখেছেন। অনেকে ক্যাডেট কলেজে ইতিহাস বলে গন্য করেছেন।
ফুটবলে আইসল্যান্ডের উত্থানঃ আমাদের জন্য শিক্ষা
মাত্র ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষের দেশ আইসল্যান্ড ফুটবলের দুনিয়ায় কোন মতেই ‘মিনোস’ এর চেয়ে বেশি কিছু হবার কথা নয়। একটি সময় পর্যন্ত তারা ‘পুঁচকে’ই ছিল। তবে, সব হিসেব বদলে যায় গত ইউরোতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার পর। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় দল হতে তাদের বেশি সময় লাগেনি। তাদের অর্জন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায় লোকসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা লাভ করার পর।
বিস্তারিত»ভয়ঃ ভিন্ন প্রেক্ষিতে
খন্দকার সাহেব একজন সুখী মানুষ, কারণ জীবনে তার চাহিদা খুব বেশী কিছু নয়। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অল্পতেই তিনি সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছেন। সন্তানদেরকেও তাই শেখাতে চেয়েছেন। যুগের প্রভাব বলয় থেকে ক’জনাই বা বের হয়ে আসতে পারে? কিন্তু তিনি সফলতার সাথে তা পেরেছেন। এ জন্যেই তার সুখটা নির্ভেজাল।
নিজে যতটুকু ধর্মকে বোঝেন, খন্দকার সাহেব ততটুকুই ধর্মাচার যথাসম্ভব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন এবং ধর্ম নিয়ে কিছুটা হাল্কা পড়াশোনাও করে থাকেন।
বিস্তারিত»ডিজিটাল অঘটন
মনে আছে, কয়েক মাস আগে আমাদের ঢাকা শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও চালকরা তাদের গাড়ি আর না চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন? গত ২৭ নভেম্বর থেকে তাদের অটোরিকশা আর রাস্তায় নামাবেন না বলে পূর্ববার্তা দিয়েছিলেন। তার অর্থ হচ্ছে, সাধারণ যাত্রীরা তাদের অফিস বা কর্মস্থলে যেতে এবং কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে আর অটোরিকশা চেপে যেতে পারবে না।
এমন ধর্মঘটের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ ছিল। আমি তাদের দাবিগুলো খুব মন দিয়ে দেখেছিলাম।
বিস্তারিত»দীর্ঘস্থায়ী হোক আমাদের গ্রন্থাগারগুলো
আমরা যখন স্কুলে পড়ছিলাম, সেটা প্রায় ৭০’র দশকের কথা। ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময়, আমাদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ছিল সেখানকার গ্রন্থাগার। জেনেছিলাম তখন সেখানে ৪০ হাজারেরও বেশি বই ছিল। ‘লাইব্রেরি ক্লাস’ বলে আমাদের একটি ক্লাসই ছিল– সেখানে অন্যান্য বই থেকে ক্লাসের পড়া আরও ভালো করে জানা ছিল উদ্দেশ্য। যখনই কোনও শিক্ষক অনুপস্থিত থাকতেন অথবা অসুস্থ্ থাকতেন, তার ক্লাসের বদলে আমাদের অন্য কোনও ক্লাস হতো না।
বিস্তারিত»লতিকোট মুড়া – কুমিল্লা
কুমিল্লা-কোটবাড়ি-কালির বাজার রাস্তা ধরে কালির বাজারের দিকে যেতে থাকলে বাংলাদেশ একাডেমী ফর রুরাল ডেভলপমেন্ট (BARD)’র প্রধান গেট অতিক্রম করে হাতের ডানে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পূর্ব/ডান দিকের প্রাচীর সংলগ্ন স্থানে লোতিকোট মুড়ার অবস্থান। এটি মাঝারি আকারের একটি বৌদ্ধ বিহার। বিহারের পাশ্ববর্তী স্থানে বেশ কয়েকটি প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে। এই সবের মধ্যে ভোজ বিহার, রূপবান মুড়া ও ইটাখোলা মুড়া অন্যতম। প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক ২০০৩ খ্রীঃ বিহারটির খনন কাজ করা হয়।
বিস্তারিত»