সময়টা ১৯৭১ সালের মার্চ মাস। আইয়ুব ক্যাডেট কলেজের ক্যাডেটদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেই বা কি, অনেকেই বাড়ি ফিরে যায় নি। অনেকেই বলতে অনেক সাহসী ক্যাডেট। দেশমাতৃকার এই চরম দুর্দিনে বাড়ি গিয়ে আরামে ঘুমাবে কি করে? চারঘাটের ছেলে আব্দুল মান্নাফও এর ব্যাতিক্রম নয়। এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। কোথায় কবে অপারেশন হবে তার সবকিছুই বলতে গেলে মান্নাফ জানে।
বিস্তারিত»ওরা এগারো জন: কারা এরা?
সারা রাত কেটে গেল গোছগাছ করতে। পিঠটা ব্যাথা করছিল। না পেরে ভোরের দিকে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুম গ্রাস করে নিল। বাসা থেকে বেরুতে কিছুটা দেরিই হয়ে গেল। ছুটতে ছুটতে বিমানবন্দরে পৌঁছুলাম। সম্ভবত দলের মধ্যে আমিই সবার শেষে!
কিন্তু না। আরো বিষ্ময় অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বোর্ডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশন পেরিয়ে দলের অন্যদের সঙ্গে মিশতেই ফিসফিসানি শুনতে পেলাম।
বিস্তারিত»আঁচল
১.”কিন্তু মা সবাই শাড়ী পরবে। ভার্সিটির প্রথম পহেলা বৈশাখ। তুমি প্লিজ একটা শাড়ী ম্যানেজ করে পাঠাওনা।” অয়নীর কথা শুনে রাহেলা বেগম ছোট নিঃশ্বাস ফেললেন। চাপা কন্ঠে বললেন, মাগো সবাই শাড়ী পরবে আর তোর ও পরতে হবে এমন কোন কথা আছে? এবছর ই তোর বাবা মারা গেল। অনেক কষ্টে তোকে পড়া খরচ পাঠাই। একটু বোঝার চেষ্টা কর।”
মায়ের কথা শুনে অয়নীর কান্না এল। কোনমতে নিজেকে সংবরন করে বলল,
ঘৃণা
আমি তোমাকে ঘৃণা করি………হ্যাঁ, আমি তোমাকেই ঘৃণা করি……।। ঘৃণা করি তোমাকে………কারন তুমি আমার জীবনে এসেছ। ঘৃণা করি তোমাকে………কেননা আমার জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে চেয়েছ তুমি।
আমার জীবনটা কখনই খুব সুন্দর ছিল না। আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি নিজের একগাদা দুঃখ-কষ্ট নিজের মাঝে জমিয়ে রেখে। নিজের সব কষ্টগুলো সবসময় নিজের মাঝেই রাখতাম আমি। মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হলে একা একা অন্ধকার ঘরে বসে কাঁদি।
বিস্তারিত»বাস্প উপাখ্যান
তুমি দেখনি-
ফুটন্ত জলের বাষ্পীভবন।
সে-ই ভাল,
আমাকে কি আর-
আলাদা লাগত তখন?
মহাজাগতিক যানে-
তুমি আজ নক্ষত্ররাজ্যে।
আর আমার-
চৌকির চার পা প্লাবিত।
হ্যা-
এখানে আজ মহাপ্লাবন।
ভাসছে স্বপ্ন, সুখ, কামনা-
ঘোলা, নোংরা পানির ঘূর্ণিতে।
অবসর নেই, তবুও-
অবসরে কাটে জীবন,
ক্ষুধামন্দায় আকাশের স্মৃতি।
সহস্র বছর-
রোদ ওঠেনি।
ফেরারী ৩
তিন
মেয়েটার মাথায় আঘাতটা মাপা হয়নি বেশ জোরেই হয়ে গেছে।অনেক খানি কেটে গেছে।বাথরুমে পাওয়া গেল ফার্স্ট এইড কিট সেখান থেকে কিছু তুলা আর গজ দিয়ে কোন রকম ব্লিডিং বন্ধ করার ব্যবস্থা করলো জিকো।ইচ্ছে ছিল না ওর।এই মেয়েটি মরলেও কিছু এসে যায় না।কিন্তু তবুও একটা নিরর্থক প্রাণ নিতে ওর বিবেকে বাধলো। তবে বেশিক্ষন এভাবে মেয়েটিকে রাখা উচিৎ হবে না।
বিস্তারিত»বন্ধুর পরিচয়ঃ ৯৬-০২ ব্যাচের ক্যাডেট
ক্যাডেট কলেজের প্রথম দিনের কথা খুব ১ টা মনে পড়েনা। সৃতি কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেছে। যেদিন প্রথম যাব কলেজে সেইদিন ছিল জুনের ৪ তারিখ, সাল ১৯৯৬। আজ থেকে ঠিক ১৬ বছর আগে জুনের ৩ তারিখ ১৯৯৬ সাল, এই দিনে রংপুরের আশে পাশে আমার এক মামার বাসায় উঠেছিলাম একটি অজানা ভবিষ্যতের মধ্যে প্রবেশ করার জন্য। বৃষ্টিতে ভিজে রিক্সায় করে কলেজের সামনে নেমেছিলাম। বৃষ্টির কারনে আমার সাদা জামার হাতায় দাগ পরে গিয়েছিল এটা মনে আছে।
বিস্তারিত»অপরাহ্ণের ভ্রান্তি
ঘরের জানালা দিয়ে দিনের প্রথম আলোটুকু আমার চোখের উপর পড়ে আমার ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিলো। জানালা বলা ঠিক হবে না। বলা যায় একটা ফাঁকা জায়গা। জেলে তো আর জানালা থাকে না। আমি অন্যদিনের মতো আলস্য না দেখিয়ে উঠে পড়লাম, সূর্যোদয়টা দেখা দরকার। ফুটোটা দিয়ে যতটুকু পারা যায় দেখে নিলাম। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সূর্যটা তখন অনেক উপরে উঠে গেছে। মানে বেলা অনেক গড়িয়ে গেছে। মনের অজান্তেই একটা দীর্ঘনিশ্বাস বের হয়ে এলো।
বিস্তারিত»“প্রভু, তুমি ওদের ক্ষমা করে দিও”!
পচন ধরে মাথা থেকেই। আমাদেরও পচন ধরেছে একেবার শীর্ষ থেকে।সমাজপতি অধিপতি যাদের কে বলে আর কি!
তারাও প্রায় পুরো মাথাই খুইতে বসেছে।আমেরিকা-কানাডা-ওস্ট্রেলিয়ায় মাথা বন্ধক রেখে, ধড় ফেলে রখেছে এদেশে। একমাত্র কাজ, যতটুকু হাতিয়ে নেয়া যায়।
আঁখেরের শান্তিতো ওই দেশেই, এখানে একটু কষ্ট করে রাস্তাঘাট গরম করা,কালো-ধলা বিড়াল খুঁজে বেড়ানো, বিশ-পঞ্চাশ হাজার টাকার মূলধনে একশ কোটি টাকার ব্যবসা ফাঁদা, ব্যাংক ম্যানেজার কে ম্যনেজ করে ভোল্ট হাতিয়ে নেয়া,
বিস্তারিত»শুভ জন্মদিন, ১৯৯৯ ইনটেক
আজ থেকে ১৩ বছর আগে (03/06/1999) আমার জন্ম হয়েছিল, ক্যাডেট হিসেবে। ক্যাডেট কলেজে চান্স পাবার পর যেই বাবা সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছিলেন, তিনি কাঁদলেন। চোখের জলে আমাকে বিদায় দিলেন মা। আমি বুঝলাম, আমার এতদিনের সাজানো জীবন থেকে আামাকে সরিয়ে দেয়া হল। রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে আমি কাঁদলাম না। কিন্তু সেই রাতে সীমাহীন শূণ্যতা আমায় জাপটে ধরল। আমি কেঁদে বালিশ ভিজালাম। আমার বিগত জীবনের মূত্যু হল। নতুন এক অনাকাঙ্খিত জীবন লাভ করলাম।
বিস্তারিত»টীন এজার
৩রা জুন, ১৯৯৯ থেকে ২০১২ , পাক্কা তের টা বছর ! । কলেজের এ্যালবাম খুলে নিজের ছবি দেখে সবার মনে একটা কথাই আসে, ইস ,আমরা কি পিচ্চি ছিলাম ! ;)) বিশ্বাস ই হতে চায়না কবে এত্ত বড় হয়ে গেলাম থুক্কু বুড়ী ;;; হয়ে গেলাম । পিছন ফিরে তাকালে হুড়মুড় করে ছয়টা বছর চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ।
ক্লাস সেভেনে প্রথমের দিকে , তখন মনে হয় আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে আজিব চিড়িয়া ছিলাম O:-) অবশ্য ক্লাস সেভেনটা এমনই,
বিস্তারিত»ডিডিপি’র জিডিপি
ফাইয়াদ, তুই কি ডিডিপি তে গেছস এইবার?
না, যাই নাই। ডিডিপি মানে কি ক আগে।
জানিনা। দোস্ত, তুই এইবার বিতর্কে যাবি হাউস থেকা।
মজা করিস না।
আমারে বাঁচা, আর কাউরে খুইজা পাইতাছিনা।
তাই বইলা আমারে?
না করিস না, তুই না ভালো। হাউস মাস্টার আমারে জ্বালাইতাসে নামের লাইগা। সবাই কোন না কোনডাতে গেসে, খালি তুইই বাকী।
আমি ছয় দাগ ক্যাডেটের কাছে ডাবল স্টার হাউস প্রিফেক্টের এই হলো আবেদন।
বিস্তারিত»প্রলাপ-৮
১।
এ পোড়া দেশেও হায়
বৃষ্টি নামে
চশমায়
তেরচা হয়ে….
মাঠ নয়,
শপিং মলের ধু ধু পার্কিঙে
রোরুদ্যমান দুচোখ
বেদিশা থমকে যায়
চরাচরে শুধু
করুণ গাভীর মতো ভিজে চলে
সারসার গাড়ির কাঁচ
২।
আকাশের মতো
এই জানলা জুড়ে
বৃষ্টির পরোয়ানা নিয়ে
দৈত্যের মতন মেঘ এসে
দাঁড়ালে কোনদিন,
দূরত্ব
তুমি আর আমি
এখন দুজন দুগ্রহের বাসিন্দা,
কেটে গেছে অনেক দিন, কিন্তু
কমেনি আমাদের মাঝের দূরত্ব;
তারপরও জানি
আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি।
চলে গেছে সে ক্ষণ, যখন
তোমার ছায়াকে অনুসরণ করত আমার পদচ্ছাপ,
এখন চলে যায় দিনের পর দিন, তবুও
আমার হৃদয় পায় না তোমার কোমল স্পর্শ;
বিস্তারিত»স্মৃতির রোমন্থন
আমি আসলে ভালো লেখক না, তাই গল্পের মান খুব ভালো হবে না সেটা আগেই বলে রাখছি। এটাকে ঠিক গল্প বলা ঠিক হবে না, আপনারা এটাকে গল্পগুচ্ছ বলতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্তরা রাগ করবেন না এই ভেবে যে, ব্যাটা গুরুদেবের বইয়ের টাইটেল নকল করছে। হ্যাঁ, নকলই করছি, সেজন্যে আগেই ক্ষমা চাচ্ছি। :boss:
১. অর্থনীতির আব্দুস সামাদ স্যার, আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম কখন তার ক্লাশ করব।
বিস্তারিত»