ডেইলি প্যাসেঞ্জার – পর্ব ৪

ইদানিং পাবলিক সবাই স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে গেসে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সবাই চিরতার রস খাইয়া বের হয় কিনা কে জানে, তাদের কথাবার্তায় রস কসের বড়ই অভাব ! ভাবছিলাম আমার ডেইলি প্যাসেঞ্জার পর্ব ম্যালাদিন বীর বিক্রমে চালু থাকবে পাবলিকের অবদানে, কিন্তু সেই আশায় গুঁড়ে সুরকি মিশ্রিত বালি ! পাবলিক বাসে উঠলে এখন খালি কাইজ্জা করে, একটুও বিনোদন পাওয়া যায়না ! তারপর ও মাঝে মাঝে আখের মত ছেঁচা দিয়া কিঞ্চিৎ রস বের হয় বৈ কি !

বিস্তারিত»

টিউশনি পর্ব – ১

ছোটবেলায় আমরা যখন প্রাইভেট টিউটর কে জ্বালায়ে মাছভাজা করে ছেড়ে দিতাম,তখন ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনাই যে এক মাঘে শীত যায়না। এই মহা মুসিবত যে আমার ঘাড়েও চাপবে তা বুঝলে আমার টীচারদের জ্বালাতন করার তোড়জোড় একটু কমায়ে দিতাম। আমি তখন ক্লাস টু তে। । বাড়ির মানুষজনের শাসন আর চোখ রাঙ্গানি থোড়াই কেয়ার করতাম দেখে আমার মা ঠিক করল আমারে টিউটর দেবে। আমার মা অফিসে চলে গেলে আমি নিজেকে রাজা বাদশাহ গোত্রীয় ভাবা শুরু করতাম।

বিস্তারিত»

আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ

১.

বাংলাদেশে মহিলা গুন্ডি দের তালিকা করা হইলে শামা কে অনায়াসে চোখ বন্ধ করে এক নম্বরে রাখা যাবে। তার যন্ত্রণায় নুহা (শামার বেস্টফ্রেন্ড) একশ একবার মনে মনে আর দুয়েকবার ভয়ে ভয়ে শামার সামনে আক্ষেপ করে , কোন দুঃখে শামা নামক অতিমানবীর ফ্রেন্ড যে হইছিল । ফ্রেন্ড হইছিল তাও মানা যায়,এক্কেবারে বেস্ট ফ্রেন্ড,আবার মরার উপর খাঁড়ার ঘা রুমমেট ও !! নাহ, বড্ড ঝামেলা করে মেয়েটা।

বিস্তারিত»

রুহুল আর রাদিয়ার গল্প


এই ঢাকা শহরে কোন একসময় রুহুল আর রাদিয়া বাস করতো। তারা দুজন একই সাথে এই শহরের কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। একই বিভাগ। সেই সূত্রে তারা ছিল সহপাঠী। শুধুই সহপাঠী। বন্ধু নয়। আবার শত্রুও নয়। এমন কেউ ছিল না যে দুজনেরই বন্ধু। তাই ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে কিম্বা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তারা কখনও একসাথে আড্ডা দেয়নি, ক্যাফেটেরিয়ায় চা পান করেনি, শর্ট-ফিল্ম দেখতে পাবলিক মিলনায়তনে একত্রে ঘুরতে বের হয়নি।

বিস্তারিত»

ডেইলি প্যাসেঞ্জার – পর্ব ৩

বি আর টিসির লাল রঙের এসি বাসগুলো একেকটা সাক্ষাৎ মশার আস্তানা। বিশেষ করে সকালবেলার প্রথম ট্রিপটাতে মশার দলবলের পিনপিনানি অটো মিউজিক সিস্টেমের কাজ করে।তার সাথে পাবলিকের মশা মারার চটাস চটাস শব্দ তো আছেই। একদিন মশার পরিমাণ একটু না,অনেক বেশিই ছিল। শেষমেশ পাবলিক বিরক্ত হয়ে ড্রাইভার কে মশা নিধনের উপর টিপস দিতে শুরু করল। এক যাত্রী আবার এক কাঠি সরেস। ড্রাইভার কে বলল, ওই মিয়া এরোসল নাই?

বিস্তারিত»

আমার মায়েরা…

আজ কেন যেন খুব মায়ের গল্প করতে ইচ্ছা করছে।সচরাচর যা আমি করিনা…মা দিবসে সবাই মাকে নিয়ে পোস্ট দিয়ে ফেবুতে ঝড় তুলে দেয়।আমি চুপ থাকি।আমার যা বলার আছে ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস এর সাধ্য নাই তা বলার।আজকে বলতে ইচ্ছা করছে খুব।

আমার মায়ের সাথে আমার বয়সের পার্থক্য মাত্র সতের…গ্রামে হয়তো ব্যাপারটা
খুবি স্বাভাবিক…কিন্তু একটি অবস্থাপন্ন বাড়ির সবচে ছোট মেয়ের জন্যে জীবনের অর্থ কখনোই সংসার,সন্তান কিংবা চারদেয়ালের মাঝে দিন কাটানো,সন্ধ্যাবেলা বারান্দায় অফিসফেরত স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করার মাঝেই আটকে ছিল না…..হবে কেমন করে…মফস্বলে বেড়ে ওঠা আমার মা শুনতেন এলভিস প্রিসলি…পরতেন গোর্কি…মা চেয়েছিলেন অনেক বড় হতে…আব্বু মাকে দেখতে চেয়েছিলেন আর দশটা বাঙালি বউ এর চেয়ে অনেক আলাদা…অনেক স্বাধীন…বাড়ির ছোট বউ আমার মা তাই শাশুড়ি জা এর সব আদেশ মেনে,সব কাজ সামলে সারারাত ধরে পরতেন এস এস সি এর জন্যে…আমাকে নিজের ভিতর বয়ে নিয়ে মা মাইল মাইল হেঁটে গিয়েছেন পরীক্ষা দিতে…ম্যাট্রিক থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত প্রতিটা পরীক্ষায় আমার মায়ের রেজাল্ট নিয়ে আমার আব্বু এবং আমরা এখনো গর্ব করি…

বিস্তারিত»

মুনিয়া

আমার একজোড়া মুনিয়া চাই
কলাপাতা সবুজ আর নীল মেশানো ধুসর
কিংবা আকাশী নীলের মাঝে সাদা ফুটকি,
ওদের জন্য খুব শিগগির বানাব প্রাসাদ
শিকের পরে শিক,লোহার ছোট্ট ফটক
আংটায় লাগাবো ঝালর মখমলী
লাল,নীল,বেগুনী।

খেয়েদেয়ে ভরপেট
শিকের ফাঁকে লম্বা ঠোঁট গলিয়ে
মুনিয়া আমায় শোনাবে কিচিরমিচির,
নরম পালকে হাত বুলিয়ে
দিন ছুটবে তন্দ্রা ভেঙ্গে,
বারেবারে চুম্বক টানে দেখব
দুই মুনিয়ার ঘরসংসার,

বিস্তারিত»

হে বীর, তোমায় সালাম

সময়টা ১৯৭১ সালের মার্চ মাস। আইয়ুব ক্যাডেট কলেজের ক্যাডেটদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেই বা কি, অনেকেই বাড়ি ফিরে যায় নি। অনেকেই বলতে অনেক সাহসী ক্যাডেট। দেশমাতৃকার এই চরম দুর্দিনে বাড়ি গিয়ে আরামে ঘুমাবে কি করে? চারঘাটের ছেলে আব্দুল মান্নাফও এর ব্যাতিক্রম নয়। এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। কোথায় কবে অপারেশন হবে তার সবকিছুই বলতে গেলে মান্নাফ জানে।

বিস্তারিত»

বন্ধুর পরিচয়ঃ ৯৬-০২ ব্যাচের ক্যাডেট

ক্যাডেট কলেজের প্রথম দিনের কথা খুব ১ টা মনে পড়েনা। সৃতি কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেছে। যেদিন প্রথম যাব কলেজে সেইদিন ছিল জুনের ৪ তারিখ, সাল ১৯৯৬। আজ থেকে ঠিক ১৬ বছর আগে জুনের ৩ তারিখ ১৯৯৬ সাল, এই দিনে রংপুরের আশে পাশে আমার এক মামার বাসায় উঠেছিলাম একটি অজানা ভবিষ্যতের মধ্যে প্রবেশ করার জন্য। বৃষ্টিতে ভিজে রিক্সায় করে কলেজের সামনে নেমেছিলাম। বৃষ্টির কারনে আমার সাদা জামার হাতায় দাগ পরে গিয়েছিল এটা মনে আছে।

বিস্তারিত»

টীন এজার

৩রা জুন, ১৯৯৯ থেকে ২০১২ , পাক্কা তের টা বছর ! । কলেজের এ্যালবাম খুলে নিজের ছবি দেখে সবার মনে একটা কথাই আসে, ইস ,আমরা কি পিচ্চি ছিলাম ! ;)) বিশ্বাস ই হতে চায়না কবে এত্ত বড় হয়ে গেলাম থুক্কু বুড়ী  ;;;  হয়ে গেলাম । পিছন ফিরে তাকালে হুড়মুড় করে ছয়টা বছর চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ।

ক্লাস সেভেনে প্রথমের দিকে , তখন মনে হয় আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে আজিব চিড়িয়া ছিলাম  O:-) অবশ্য ক্লাস সেভেনটা এমনই,

বিস্তারিত»

আমার লেখাটা একটু পড়বেন কি?

যাবার কয়েকদিন আগে, প্রিন্সিপাল বাংলোর ল্যাম্ব রোস্টের গন্ধে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে, ২ দিন পরে কলেজ থেকে চলে যাবো। চেতনা ফিরলো যখন রানা ভাই এসে একটা হাঁক ছাড়লেন, ভাই কাপড় জমা দেন, কাপড়। হায়রে ক্যাডেট লাইফ। আমার এক ফ্রেন্ডকে প্রায়ই বলতে শুনতাম,”যৌবনের তেজ আর জোরে চাপা ছোটো বাথরুম দুইটাই ক্ষণস্থায়ী। ” সে যদিও হিন্দিতে বলতো আমি একটু অনুবাদ করে দিলাম আর কি! আরে, আর কি লিখতে গিয়ে মনে পড়লো আমাদের আর্কিমিডিস স্যারের কথা মানে ভূগোলের মকবুল স্যারের কথা।

বিস্তারিত»

কিছু অসমাপ্তি-২

৩.সেই বাগানবাড়ির অনেক পরের কথা। আমরা যখন আগের বাসায় ছিলাম, বাসা ছিলো দোতলায়।সারাদিন রিক্সার টুং টাং, বুয়াদের হইচই আর মাঝেমধ্যে গাড়ির শব্দে মুখর থাকতো রাস্তাটা। কিন্তু রাতের বেলায় একদম উল্টো। শান্ত, নিশ্চুপ। বারান্দার কাছেই জ্বলতো একটা সোডিয়াম বাতি। অনেক রাত বারান্দায় বসে নৈঃশব্দের মায়া দেখেই সময় কাটিয়ে দিতাম।
কিন্তু প্রতিদিন রাত ৯-১০টার মাঝে আমার নিরবতা ভেঙে দিয়ে যেত একটা কালো মাইক্রোবাস। গাড়িতে বাজতো অনেক অনেক পুরোনো দিনের হিন্দি সিনেমার গান!

বিস্তারিত»

কিছু অসমাপ্তি

১।অনেক ছোটবেলার বাসাটা খুব মনে পড়ে। আশেপাশে যখন সবাই অট্টালিকা বানানোর প্রতিযোগিতায় মত্ত, আমাদের আর রুলিদের(আমার ছোট্টবেলার বান্ধবী) তখন ছিলো বাগানবাড়ি, ঢাকার একদম মধ্যখানে! বাসার সামনে একচিলতে বাগান,বাবার শখের পেয়ারা গাছ, মায়ের নানান পাতাবাহার, বোনের প্রিয় শিউলী আর আমার আম গাছের দোলনা! খেজুর গাছ ও ছিল একটা, আর কি কি ছিল মনে নেই। এই বাগানের দেয়ালের ধারে বসে আমি দেখতাম অন্য বাচ্চাদের সারাদিনের নানা খেলায় ব্যাস্ততা,

বিস্তারিত»

“সরি বলার মতো কোন কাজ করিনাই”

ক্লাস সেভেন এ সবাই মনেহয় কিছুটা অস্বাভাবিক থাকে! কেউ কথাবার্তায়, কেউ চলাফেরায়, কেউ ব্যবহারে, কেউ বা সবকিছুতেই! আমাদের ব্যাচ এর কথা তো বলাই বাহুল্য! কিসব যে ভয়ংকর ঘটনা ঘটতো, বলার মতো না! আমি নিজেই ভেবে অবাক হই, আমি সেভেনে রীতিমতো একটা গুন্ডা ছিলাম! সবাইকে মারামারির উপরে রাখতাম! একবার কাকে যেন একটা স্টিলের স্কেল ছুঁড়ে মেরেছিলাম, আরেকবার আঠার বোতলের মুখ খুলে কারো চুলে টার্গেট করে মেরেছিলাম!!!

বিস্তারিত»

স্ট্যান্ডিং এট দি এজ (Standing at the Edge)

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। আমার জীবনের কতো কতো স্মৃতি জড়িয়ে রেখেছে সযত্নে। কতোবার এই সবুজের বুক চিরে ছুটেছি, কখনো এদিক, কখনো ওদিক। কোনদিন তো এমন হয়নি আমার, এই চিরচেনা পথটার জন্যে এভাবে বুকটা হুহু করে ওঠেনি!
ছয়তা বছর ধরে, বছরে সাত-আট বার আমি এই সড়ক পাড়ি দিয়েছি। যতবার এই পথে ছুটেছি আমি, প্রতিবার নতুন কিছু পেয়েছি, নতুন নতুন জিনিস দেখেছি। মনেহয় যেন এই সড়কের প্রতিটি নুড়ি আমার চেনা।

বিস্তারিত»