কোথায় আলো জ্বেলে অপেক্ষায় বসে আছে আমার বিদায় উৎসব তোরণ! কে জানে কোন ক্ষণে আমি পৌঁছে যাবো সেইখানে। আমার প্রস্থান লগ্নটিকে ছুঁয়ে দিতেই বুঝিবা নিভে যাবে তার সমস্ত আলোকসজ্জা।
টিকিটের গায়ে অদৃশ্য গন্তব্য স্টেশনের নামটি ঠিক ঠিক বুঝি তখনই দৃশ্যমান হয়ে উঠবে – আমার যাত্রাশেষের ইংগিত আলোকবর্তিকার মতোন। অদৃশ্য ট্রাফিক হাতের ইশারা বলবে যখন, থামো। এটাই শেষ স্টেশন। নামো।
ভালোবেসে যা কিছু প্লাবন এনেছো মাটির গায়ে পাললিক আহলাদে,
ঘোলা জল – পরিষ্কার জল – পুরানো কথা – নতুন কথা
জাতি হিসাবে আমরা বেশ অদ্ভুত। যদিও নিকট অতীতে এক সার্ভেতে আমরা ১১তম সুখী রাষ্ট্র কিন্তু পরচর্চা, পরনিন্দা, পরকে ঘৃণা করা আমাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্য বললে মনে হয় কম বলা হয় না। প্রতিবেশি ব্যাগ উপচে পড়া বাজার নিয়ে ঘরে ফিরলে বলি, এই দুর্মূল্যের বাজারে এতো টাকা পায় কই! আর খালি হাতে বা তলানি নিয়ে বাড়ি ফিরলে বলি, ছোটজাত, কোনদিন খেয়েছে নাকি, বাজার করা শিখবে কোথা থেকে!
আমরা ভালো কে ভালো,
সম্পর্ক: ভার্চুয়াল বনাম একচুয়াল
মুখবই বন্ধ করেছো জানি
বুকের বইটা বন্ধ করতো দেখি?
হিসাবখানা নিস্ক্রিয় করেছো জানি
আলাপগুলো নিস্ক্রিয় করতো দেখি?
সুখস্মৃতি অস্বীকার করতে পারো
সঙ্গসুখ অস্বীকার করবে কি করে?
মুখবই-এ বাধা দিতে পারো
মনটা তোমার বাঁধবে কেমন করে?
হিন্দু, ভারত, একজন চাষার ছেলে
দিনকয়েক আগে ছড়ানো হচ্ছিলো বাঙলাদেশ ব্যাংকে ডাইরেক্টর হিসাবে কতোজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা হিন্দু নামধারী আছেন তাদের নাম। গতকাল থেকে ছড়ানো হচ্ছে ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত বাঙলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে চুরি যাওয়া ৫ লাখ টাকা র সংবাদ। বিষয়টি অহেতুক আলোচনায় তুলে আনছেন আসিফ নজরুল, প্রমুখ।
এটা ছড়ানোর পিছনেও মূল কারণ টাকা লোপাট এর পিছনে ভারত ও হিন্দু ষড়যন্ত্র খুঁজে বের করা।
আপনাদের সুবিধার জন্য দৈনিক সমকালে প্রকাশিত সংবাদটির স্ক্রিন শট দিয়ে দিলাম।
বিস্তারিত»আর্কেডিয়া

(উৎসর্গঃ কবি রফিক আজাদ শ্রদ্ধাভাজনেষু)
ভুল করে তুমি একদিন নেমেছিলে বুঝি ভুল জলে
অথবা সে ভুল নয়, হৃদয়ের প্রিয় অপচয়,
কারুচারীর জন্মগত অভিশাপে!
শরীরের বাঁকে বাঁকে কে করেছিল একদিন মরণের খোঁজ
আরক্ত নবীন প্রেম, দুর্দান্ত প্রবল প্রতাপে!
সর্বগ্রাসী ক্ষুধার জ্বালায় একদিন ভাত দে বলে
চেঁচিয়ে কে উঠেছিল? করেছিল মানচিত্র ছিঁড়ে-খুঁড়ে
জটিল ক্ষুন্নিবৃত্তির সন্ধান!
প্রিয় শাড়ীগুলো দেখে সে-ই ফের উঠেছিল গান গেয়ে
অথবা কালের ঘুংঘুর বেঁধেছিল অসম্ভবের পায়ে!
আমরা বুড়িকে মেরে ফেলেছি
ইতালির টুরিস্ট সিটি ভেনিসের মূল আকর্ষন তার খালগুলো, খাল্গুলোকে কাজে লাগিয়েই শহর চলছে, লন্ডন, সেন্ট পিটারসবার্গ, আর্মস্টারডাম ইত্যাদি শহরের চমৎকার অতিথিপরায়নতার মধ্যে আছে নদী, নেভা নদী, রাইন নদী। নদী আমাদেরও ছিল, ঢাকার মধ্যেই ছিল, নদীর নাম বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গায় গত দশ বছরেও নাকি মাছ নেই, আগে হেথায় সেথায় দু একটা শুশুক লাফিয়ে উঠত, এখন সেটাও নেই।
পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য শহরের মধ্যে ঢাকা শহর এক নাম্বারে অবস্থান করছে,
বিস্তারিত»বিপ্লব, যুদ্ধ এবং শৈশব (প্রথম পর্ব)
বিপ্লব, যুদ্ধ এবং শৈশব (প্রথম পর্ব)
শান্তির সময়ে শিশুদের বয়স দ্রুত বাড়েনা! কিন্তু আন্দোলন, বিপ্লব, যুদ্ধ, এমনকি দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষের সময়ে তারা দ্রুত বেড়ে ওঠে। আমি এই কাল, সেই কাল, এই দেশ, সেই দেশ এবং যুদ্ধ বা শান্তির সময়ের পরিক্রমা থেকে এধরনের একটা সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছি! কারন এই সময়গুলোতে বড়রা এমন সব বিষয়ে নিজেদেরকে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রাখেন যে, শিশুরা কখনই তাদের স্বভাবগত শিশুসুলভ কোন বৃত্তি সমূহকে লালন বা পরিচালনা করতে পারেনা।
বিস্তারিত»যদি উপেক্ষা করতে না পারো, ভালবেসো না
“পথে চলে পারে পারাপারে
উপেক্ষা করিতে চাই তারে;
মড়ার খুলির মতো ধরে
আছাড় মারিতে চাই, জীবন্ত মাথার মতো ঘোরে
তবু সে মাথার চারিপাশে!
তবু সে চোখের চারিপাশে!
তবু সে বুকের চারিপাশে!
আমি চলি, সাথে সাথে সেও চলে আসে!”
– জীবনানন্দ দাশ
=======================
যদি উপেক্ষা করতে না পারো,
বিস্তারিত»আত্মহত্যা কি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য?
আত্মহননের কোনো ঘটনা ঘটার কথা শোনার সাথে সাথে আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই প্রবনতা হলো খুজতে চেষ্টা করা যে এর পিছনে কে বা কোন ঘটনা দায়ি।
ব্যাপারটা হয় এমন, যে ঐ ব্যক্তি বা ঐ ঘটনা না হলে যেন আর ঐ আত্মহননের ঘটনাটা ঘটতো না।
আসল সত্য হলো, আত্মহনন সররাচর এত সরল কোনো বিষয় না যা কোনো একটা ঘটনা ঘটা বা না ঘটার কারনে সংঘটিত হয়ে থাকে।
সমুদ্রপারে তাদের পাড়ায় পাড়ায় (৫ম পর্ব)

সমুদ্রপারে তাদের পাড়ায় পাড়ায় (৫ম পর্ব)
লুনসারের লৌহ পাহাড়ে!
আমার ব্যক্তিগত মত হল পৃথিবীতে স্বাধীনতা বা স্বাধিকারের জন্যে যুদ্ধই হল ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ; অন্য যে কোন ধরনের যুদ্ধই মানুষের জন্যে অকল্যাণকর। ন্যায় সঙ্গত যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মানুষদের আচরন, চলাফেরা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার কোন প্রয়োজন নেই, কারন এই সময়গুলোতে মানুষেরা তাদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক চিন্তাভাবনা এবং আচরণকেই সকল সময়ে প্রতিবিম্বিত করে থাকে। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল আমাদের ১৯৭১ সনের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে।
বিস্তারিত»এক হিতৈষীর শুভাকাঙ্খা
যেদিন থেকে জানলাম,
শুধু শুভাকাঙ্খা কিংবা সমর্থন দেয়াই নয়,
সমব্যথী কিংবা হিতৈষী হওয়াও নয়,
অন্য, অন্য আরও কিছু দরকার,
তোমার বন্ধুত্বের স্বীকৃতি পেতে –
আমি ঠিক করলাম,
আমি তোমাকে বন্ধন মুক্ত করে দেবো।
জানি না কোন অতিমানবীয় কিংবা
অলৌকিক গুন আমায় অর্জন করতে হবে
অথবা অপার্থিব কোন রূপ
আমায় ধারন করতে হবে,
তোমার বন্ধুত্বের শর্ত পূরণ করতে,
২৫ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। উচ্চতর গণিত পরীক্ষা দিয়ে এসে জানতে পারি ঢাকায় সেনাবাহিনীর সাথে গন্ডগোল চলছে বিডিয়ারের। খুব বেশি কিছু জানার সুযোগ ছিল না। কারণ, আমরা বাস করি এমন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে যেখানে বাইরের পৃথিবীর খবরগুলো সেন্সর করে আমাদের কাছে পাঠানো হয়। সব খবর আমাদের জন্য প্রাসংগিক না। এ কারণেই হয়তো এমন করা। কলেজের শৃং্খলা রক্ষায় নিয়োজিত জলপাই রং পোশাকের মানুষগুলোর বিচলিত মুখ দেখে বুঝতে পারি কোন সাধারণ ঘটনা নয়।
বিস্তারিত»চিন্তা খেলা করে ৩
সম্পর্কের রসায়ন
কি জটিল প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে জানা নেই। জানি না এই শহরে কেমন করে প্রেম হয়। গড়ে ওঠে সম্পর্কের বীজ। চারদিকে অজস্র সম্পর্ক গড়ে ওঠার মিছিল দেখে মাঝেমাঝে ইচ্ছে হয় ভীড়ের মাঝে আমিও ঢুকে পড়ি। কিন্তু এইসব মিছিলে নিজেকে ‘ফিশ আউট অফ ওয়াটার’ মনে হয়। ভাবি, গড়পরতা এইসব সম্পর্কের শেষটা আসলে কোথায়?
কলাভবনের সামনে তেঁতুলের আচার চাটতে দেখে যে নারীকে অপার্থিব সৌন্দর্যের দেবী মনে হয়েছিল,
বিস্তারিত»পথ খোঁজা রাতগুলো
প্রতি রাতে চেয়ে দেখি ঘুরে-ফিরে,
ফেলনা সব খেলনা খুঁজে, যুদ্ধের আয়োজন চলে।
গাছের পাতায় হাওয়ার মাতম শেষ হলে- কাকেদের ঘরে শান্তি আসে।
তাদের ঘুম না ভাঙ্গিয়ে চুপিচুপি হেঁটে যায় কেউ,
চোখ মেলে ঊর্ধ্বাকাশে।
বেচাকেনার হাট বসে সাইনবোর্ড ছাড়া;
কে কেনে আর কে বেচে, বুঝে ওঠার আগেই মিলিয়ে যায় হাট।
পড়ে থাকে জঞ্জাল, মানুষের ঘাম।
রাস্তা বয়ে চলে সংবাদের গাড়ি,
পুরনো ঢাকা’র গল্পঃ ছয়
“চাঁন রাইতে চাঁদনী চক যাইবি না কিলা? এক্কেরে আসল মজা পাইবি।”
পুরনো ঢাকার এই সংলাপ মিথ্যা নয় প্রমাণ পেলাম। একবার ঈদের আগের রাতে মা’র ব্লাউজ আনতে গেলাম। দর্জি ডেলিভারি দিতে দেরি করছে। পরে বুঝেছিলাম সে আসলে বানায়নি সেই ব্লাউজ, শুধু কাপড় কেটে রেখে দিয়েছে, সেলাই বাকি! অথচ দু’দিন আগে ডেলিভারির ডেট ছিল।
আমি রাগে, ক্ষোভে গড়গড় করছি, পায়চারি করছি, আর আশেপাশের ঘটনা দেখছি।