ওনেক দিন এখানে আসা হয় না। দেখে ভালো লাগলো যে এখনো এখানে লেখালেখি চলছে।
সম্প্রতি একদফা ক্রিকেটিয় ঝাপটা বয়ে গেল, তাই মনে হয়, আমার এই রসসৃষ্টির চেষ্ঠা একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হবে না।
এঁরা যদি হতেন ক্রিকেটার (নাম বলছি না, পাঠক বুঝে নেবেন)ঃ
১।
দ্বাদশ ওভারে পিচের পর
কেমনে থামিল রানের ঝড়
কেমনে লাগিলো ব্যাটের কানায়
লোহিত বলের বাড়ি
ওরে আম্পায়ারের অঙ্গুলি হেলনে
টিকিয়া থাকিতে নারি।
২।
হাজার ইনিংস ধরে আমি ব্যাট করিতেছি পৃথিবীর পীচে
ওয়াংখেডে ময়দান হতে কুয়াশা ভেজা সুদুর লর্ডসের মাঠে
মালয়সাগর ছেড়ে আরো দূরে অস্ট্রেলিয়ায় রোদেলা প্রান্তরে
সেখানে খেলেছি আমি
আমি দূরন্ত ব্যাটসম্যান এক
আমার উইকেট দু’বার উড়িয়েছিল
অজিদের ওয়ার্নার শেন
৩।
“এতক্ষনে”, কোহিলা কোহলি বিষাদে,
“জানিনু কেমনে বল আসি পশিল মোর স্ট্যাম্পে
হায় যাম্পা, উচিৎ কি তব এই কাজ?
মহান ম্যাক্সোয়েল তোমার সতীর্থ
ব্যাট হস্তে স্বয়ং কালান্তক কর্ণ
পিতামহ তব এশেজ বিজয়ী।“
————————————-
এবং এরা যদি হতেন ধারাভাষ্যকারঃ
১।
আজি এই নিদাঘ অপরাহ্নের মৃদুমলয়সমীরে নবদূর্বাদলসম তৃনাচ্ছাদিত ঘনশ্যামল প্রান্তরে দুইদল প্রাচীন শত্রু পূনর্বার নিদারূন সংগ্রামে লিপ্ত হইয়াছে। একপক্ষে কেবল দুইজন রাজপুত বীর, বর্মচর্ম অসি হস্তে যোদ্ধৃবেশে মাত্র বাইশ হস্ত পরিমান ভূমির উভয়প্রান্তে দূর্গদ্বার রক্ষা করিতেছে। অন্যপক্ষে এগারোজন যবন সেনা, বিধিমত পরিচ্ছদে ভূষিত হইয়া ইহাদিগকে ঘিরিয়া ব্যূহ রচনা করিয়াছে। দলপতির ইঙ্গিতে, এক যবন সেনা, হস্তে কামানের গোলাতূল্য এক লোহিত গোলক হস্তে ধাবিত হইল, এবং উল্কার বেগে তাহা রাজপুতের প্রতি নিক্ষেপ করিল। রাজপুত কবে যবনকে ভয় করিয়াছে! তাহার চক্ষু দিয়া অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ঝরিল। দামিনিচমকের ন্যায় তাহার হস্তস্থিত অসি ঝলসিল, উহার প্রহারে সেই লোহিত গোলক উল্কার বেগে শূন্যমার্গে ছুটিল। অতঃপ্র উহা ময়দান বেষ্ঠনকারি সোপানশ্রেনিতে উপবিষ্ট লোকসলের মধ্য আপতিত হইল। তথা হইতে ঘোর হর্ষধবনি উত্থিত হইল…।
২।
পীচের একপাশে দাঁড়িয়ে ফরিদ উশখুশ করছিল। সাজঘর থেকে বেরোবার মুখে দরজার চৌকাঠে জোরে হোঁচট খেয়েছিল, সেই থেকে জুতোটা কেমন বেশি টাইট লাগছে। অন্যপাশে ব্যাট হাতে সাজ্জাদ, বেশ বীর বীর ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে। ফরিদের বাবা মোখলেস সাহেব নিশ্চই খবরের কাগজ হাতে টিভির সামনে বসে আছেন। তাঁকে চা দেবার ছুতো করে জরিও এসেছে। হঠাৎ ঠকাস শব্দে ফরিদের চমক ভাঙ্গে, সে অবাক হয়ে দেখে সাজ্জাদ কখন যেন এপাশে চলে এসেছে, আর চীৎকার করে কিছু বলছে। ফরিদ যান্ত্রিক ভাবে দৌড়োতে শুরু করে, তার সাথে পীচটাও কেমন লম্বা হতে থাকে। জুতোর ভেতর মনে হয় একটা নুড়িও ঢুকে গেছে, পায়ে ব্যাথা লাগছে। একসময় সে উইকেটে পৌঁছায়, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। রান আউট হয়ে মাথা নীচু করে সাজঘরের দিকে হাঁটতে শুরু করে সে। গ্যালারিতে একঝাঁক মায়াবতী ও রূপবতী তরুনী বসেছিল, মনে হয় সাজ্জাদের কাজিন। সবাই খিল খিল করে হাসছে। ফরিদ স্পষ্ট দেখতে পায়, মোখলেস সাহেব আনন্দিত গলায় বলছেন, “দেখলে, দেখলে, বলেছিলাম না! ও ব্যাটা খেলার কিছুই জানে না- চড় দিয়ে বের করে দিতে হয়। হা হা হা…” জরি অন্য দিকে তাকিয়ে কান্না চাপার চেষ্ঠা করছে।