দেহ-কাব্যের পাঠ

দেহ-কাব্য-১

এক এক সময় ঝড়ের মতো আঙ্গুল চলে টাচস্ক্রীনে, কী বোর্ডে-
ঠিক যেমন ঝড়ের মতো আঙ্গুল ঘোরে ওষ্ঠ ছোটে , তোমার দেহে,
বর্ণ গুলো শব্দ গড়ে, শব্দ গুলোয় ভাব
স্পর্শ গুলো আদর গড়ে, আদরে উত্তাপ।

আবার যখন ভাবছি কিছু,
টকাস করে জেগে ওঠে স্ক্রীন-সেভারের মুখ
ঠিক যেমনই খুজছি পিছু,
টকাস করে খুলে আসে ব্রেসিয়ারের এর হুক-

এরপরে কি যায় আর যে সে পদ্য লেখা?
এবার শুরু হোক না তবে দেহ-কাব্য শেখা।

[নোটঃ বন্ধু শাকুর মজিদ কবিতাটা পড়ে দুইটা জায়গায় ছন্দের মেরামত সাজেস্ট করলো। করে দিলাম, ওর কথা মত]

১,০৮৭ বার দেখা হয়েছে

২৫ টি মন্তব্য : “দেহ-কাব্যের পাঠ”

    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      আমি একজন অতি সামান্য কীবোর্ড টেপা পাবলিক। নিজেরে লেখকই ভাবি না, আবার কবি?
      অথচ গতরাতে হলোটা কি, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মোটামুটি ভালোই স্ট্যাবলিশড লেখক, শাকুর মজিদ বললো:
      "তোর বাংলা লিখার হাত ভাল। আমি আগ্রহ নিয়ে পড়ি"।
      শাকুরের মুখে এই কথা শুনে মাটির ফাঁক খুজতে ছিলাম, "কুতায় লুকাই"।
      সেই ফুর্তি, জুনায়েদের অসুখ না যাওয়ার উৎসাহ, সাবিনা আপুর দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থতা কামন - এইসবে এমনিতেও উড়ন্ত অবস্থায় ছিলাম। আর সেখান থেকেই জন্ম, এই জিনিষের।
      সিসিবি-র সর্বাধিক পঠিত ও গভীরতাসম্পন্ন কবি হলে তুমি, নূপুর।
      তুমি এইটা পড়ে এই কথা বললে তো পা আর মাটিতেই পড়বে না আমার।

      "কে আছিস ধর! আমারে আবার দুইন্যাতে ফিরায়া আন......"

      সিমপ্লী লাভ দিস কমপ্লিমেন্টস। এন্ড লাভ ইউ অল, ব্রাদার্স এন্ড সিসটার্স। লাভ ইউ সো মাচ।


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  1. সামিউল(২০০৪-১০)

    অসাধারণ ধারালো কবিতা ভাই।

    তবে বিবাহিত ভাইয়েরা এ বিষয়ে ভাল বুঝবেন। 😛
    আমরা নাদান বাচ্চাকাচ্চা, সব বুঝে ফেললে সমস্যা। 😛

    আর ভাই,আপনি অনেক সুন্দর লেখেন। ব্লগে এবং ফেসবুকে নিয়মিত আপনার লেখা পড়ি। bdnews24 এর লেখাগুলোও পড়া হয় মাঝেমাঝে।


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে?"

      এইটা কি শুনাইলা? এই কবিতা বুঝতে আবার বিবাহিত হওয়া লাগবে?
      শোনা, বিয়ে করতে ইচ্ছা হলে, আজকাল আর খাট কাটার দরকার পরে না। সেই দিন গত হয়েছে কবেই...
      আর তোমার জেনারেশনের এক দঙ্গল ছেলেমেয়ের সাথে দিনরাত উঠাবসা আমার।
      দিনে ক্লাসে-ক্যাম্পাসে আর রাতে ফেসবুকে। বুঝতেই পারছো আমি কতটা আপ-টু-ডেইট তোমাদের "জ্ঞানের" গভীরতায়।

      লাস্ট লাইনটা পড়ে বর্তে গেলাম। আমার এইসব আকিবুকির কোন "নিয়মিত পাঠক" থাকতে পারে, ভাবতেই গা শিরশির করে। আর শুনলে তো কান ঝাঁ ঝাঁ।

      আগে কানের ঝাঁ ঝাঁ-টা তো কমুক, তারপরে আবার অন্য কিছু লিখবো।


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  2. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    আমি সিসিবির সদ্যোজাত লেখক। কি বলতে কি বলে ফেলি সবাইকে তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই! 😛 তাই চুপ করে বসে আমাদের কবিদের অপেক্ষায় ছিলাম। ব্লাশ টাশ করে চোখে মুখে জল ছিটিয়ে এলাম আবার। 🙂 কবিতার জয় হোক।

    আপনি তো সিসিবি তে আগুন লাগিয়ে দিলেন... নান্না মুন্না গুলার না জানি কি অবস্থা গো! 😛

    জবাব দিন
  3. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    কবিতার মৃত্যুঃ

    এইচ পি প্রো-বুক নিয়ে বসে আছি। প্রায় দেড় ঘন্টা যাবত কি-বোর্ডে ঝড় তোলার নিষ্ফল চেষ্টা চলছে। মাঝে মাঝে ভাবের জগতে মেঘ করছে, ঝড়ো বাতাস বইছে, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে- কিন্তু তা ঝড়ে রুপান্তরিত হতে পারছে না। ফলাফল- কিছুক্ষণ পর পরই ডিলিট বা ব্যাকস্পেস চাবির ব্যবহার! দূর থেকে কেউ ল্যাপটপের আলোয় আমার চকচকে চোখ এবং কিছুক্ষণ পরপর কিবোর্ডে টকাটক টাইপিং দেখলে ভাবতেন না জানি কোন হাতি-ঘোড়া মারছি!! আসলে তো হয়েছে ঘোড়ার ডিম!!!

    এমন সময়ে পেছনে প্রিয়তমার সশব্দে হাই তোলার শব্দ পেলাম। পেছন ফিরে দেখতে পেলাম ও মোহনীয় ভঙ্গিতে খাটের উপর আধো-শোয়া অবস্থায় টিভি দেখছে। আসলে,‘টিভি দেখছে'না বলে ‘টিভি চ্যানেল সার্ফিং করছে'- বলাই শ্রেয়! কেননা,টিভির সাউন্ড বন্ধ করা এবং অনবরত চ্যানেল চেঞ্জ করে চলেছে। রুমে আলোর স্বল্পতা থাকার কারণে ওর মুখের উপর চ্যানেল পরিবর্তনের সাথে সাথে নানা রঙের পরিবর্তনটা অদ্ভূত সুন্দর লাগছে। আমি কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে রইলাম। আমার মুগ্ধ দৃষ্টি দেখতে পেয়ে ওর মুখ থেকে বিরক্তির রেখা সরে গিয়ে হাসির সূক্ষ্ম রেখা দেখা দিল। ‘কি,ঘুমাবে না?'জিজ্ঞাসা করল ও।

    আর ঘুম! মাত্র যে দৃশ্যটির অবতারণা হল তা প্রকাশ করার জন্য মাথার মধ্যে শব্দ,ছন্দ,উপমাগুলো যেন হৈ চৈ শুরু করে দিল। ‘এক মিনিট,জান'-বলে আবার কি বোর্ডের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। কিন্তু প্রিয়তমা এবার এটাকিং ফরমেশনে চলে গেল! টিভি বন্ধ করে রিমোটটা সশব্দে খাটের পাশে রেখে দিল। অগত্যা আবার পেছন ফিরতে বাধ্য হলাম। দেখি সে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসল। ওর দীঘল কালো চুল এতক্ষণ খাটের উপর ময়ূরের পাখার মত ছড়ানো ছিল, তা যেন চট করে সুশৃঙ্খলভাবে পিঠের সাথে লেপটে গেল। এরপর আস্তে করে খাট থেকে নেমে দাঁড়ালো। শাড়ির আঁচল কাঁধ থেকে খসে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। পড়ে যাওয়া আঁচল যথাস্থানে রাখার কোন ইচ্ছে ওর মধ্যে দেখা গেল না!

    বেড রুমের ডিম লাইটের হালকা নীল আলো, প্রিয়তমার পিঠ ভর্তি খোলা চুল, খসে পড়া আঁচল, মুখে কপট রাগের বলিরেখা, থেমে যাওয়া সময়- আমার কবিতা লেখা চুলোয় উঠল। 'নিকুচি করি কবিতার...' বলে ‘ঠাস' করে ল্যাপটপের লিড বন্ধ করে দিলাম!!


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।