স্মৃতিরা গানের ভাঁজে

দুটি মন আর নেই দুজনার। রাত বলে আমি পাখি হবো যে। গানটি মনে পড়লো খুব উদ্ভট এক সময়ে। কমোডে বসে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ। হঠাৎ একরকম গলা ছেড়েই কিছুটা ভুল হলেও গেয়ে উঠলাম। চার লাইন গেয়েই থেমে গেলাম। সুর বাদে আর কিছু মনে নেই। ২৩ বছর আগেকার কোন এক সকালে প্যানাসনিক ক্যাসেট প্লেয়ারে বাজতে থাকা গানের কলি এভাবে মনে পড়ায় অনেকটাই হতহম্ভ আমি। ঘুরেফিরে চারলাইন বেশ কিছুক্ষণ গাইবার চেষ্টা করলাম।

বিস্তারিত»

আমাদের ভূগোল স্যার

আমাদের ভূগোল স্যার ছিলেন হিসেবি। শুধু হিসেবি নয় ভয়াবহ হিসেবি। কতটা
হিসেবি বলি, তিনি ছিলেন আমাদের ক্লাস টীচার। ক্লাস টীচারের দায়িত্ব ছিল
অনেক। ক্লাসের কোন জিনিসপত্র নষ্ট হলে তা ঠিক করার দায়িত্ব ছিল স্যারের।
একবার হঠাত্‍ করেই ক্লাসের ঘড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেল। যেহেতু আমাদের
ক্যাডেট কলেজে অনেক নিয়ম কানুন ছিল তাই চাইলেও ব্যাটারি পরিবর্তন করার
সুযোগ ছিলনা। এদিকে পরীক্ষাও খুব কাছে চলে এসেছে।

বিস্তারিত»

চিহ্ন

বৌ অসুস্থ।
নার্ভাস ব্রেক্ডাউন।
হাত-পা নাড়াতে চাড়াতে পারেনা। মুখ দিয়ে কোনরকমে বললো এম্বুলেন্স কল করতে। একে তো শুক্রবার ইভিনিং। হাসপাতাল বেশ বিজি থাকে। প্লাস বৌ হাসপাতালে গেলে বাচ্চাদের কে দেখ্বে এইসব নানা কারণে একটু ওয়েট করে নিশ্চিত হলাম যে কেস ডেঞ্জারাস। ট্রিপল নাইন কল করতে হবেই। সব এম্বুলেন্স বিজি। আসতে সময় লাগলো ওদের। বেশ কয়েকবার ফোন দিতে হলো।

দুই মেয়ে আর আমি,

বিস্তারিত»

তুর্কী জাতিকে নিয়ে কিছু কথা…

শুনেছি স্বপ্ন নিয়ে মানুষ নাকি বেঁচে থাকে। জীবনের চলার পথে স্বপ্ন নাকি মানুষের এক অপরিহার্য সহযোগী।যুগে যুগে মানুষ স্বপ্নের রকমফের করেছে। পরিবর্তন করেছে স্বপ্নের সংজ্ঞাকে। শুনেছি কেউ কেউ নাকি স্বপ্নকে আশা বলে ব্যক্ত করতেই পছন্দ করেন। তো সেই রকম কত স্বপ্নই না আমরা দেখে থাকি জীবনে। বিশেষত একজন বাঙ্গালীর স্বপ্ন দেখার সংজ্ঞাটা এবং পরিধিটা বেশ বড়। কথায় বলে বাঙ্গালী নাকি স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে। আর ১৮ বছর বয়সের এক যুবক তরুণের ক্ষেত্রে সেই স্বপ্নটা অনেকটাই অতিমাত্রায় রঙ্গিন।

বিস্তারিত»

চেনা মানুষের মাঝে ফিরে যেতে চাই

ঘুম ভাঙলো সকাল ১১টার দিকে। বেশ ঠান্ডা লাগছে। আজকেও দেরী করে ঘুম ভাঙলো। মুঠোফোনের আবহাওয়া সংবাদ চোখ বুলিয়ে দেখি বৃষ্টির সম্ভাবনা। তাপমাত্রাও ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। চোখ ডলতে ডলতে ফ্রিজ খুলে দেখি ওটমিল, দুধ, এবং চকোলেট সিরাপ দিয়ে বানানো আমার প্রায় নিত্যদিনের নাস্তাটি নেই। তাহলে ওটা স্বপ্ন ছিল। এবার নিজের উপর বিরক্ত হবার পালা। গতকাল রাতে মাইকেল ক্রাইটনের বেস্টসেলার ‘প্রে’ (Prey) পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।

বিস্তারিত»

নো অফেন্স লেডিজ,প্লিজ!

চমৎকার ওয়েদার। রোদ,বাতাস,মেঘ; সবই আছে! তাই নর্দমার পূতিগন্ধময় মমিন্সিঙ নগরে নিতান্ত অনিচ্ছাকৃতভাবে নেমে আসা বিকেলটাকেও চমৎকার বলা যায়। ! এই ওয়েদারে একটা রিকশা নিয়ে অনন্তকাল হাটাহাটি করতে বেরুনো যায়।কোন হুড তোলা হবে না,কোন প্রেমিকার স্থান হবে না পাশে! শুধু আনমনা সিগারেটে আলতো টান হবে!(রমজানের কারণে আপাত সংযম)!
রিকশার মৃদুমন্দ গতি এবং রমজানের আপাত সংযম দুটোতেই ছেদ পড়ল! উল্টোদিক থেকে একটা রিকশা আসছে,আরোহিণী একজন “আগুনের দলা”!

বিস্তারিত»

ক্যাডেট কলেজ কড়চা-২

২০০২ থেকে ২০০৮।আমার ক্যাডেট লাইফ।ভালোয় মন্দে মিশিয়ে কেটেছে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এই ছয়টি বছর।যেকোন ক্যাডেটের এই ছয়টি বছর কাটে অনেক ঘটনাবহুল।আমিও ব্যাতিক্রম না,মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ক্যাডেট লাইফ একটু বেশিই উরা-ধুরা।কলেজের গল্প করতে কার না ভালো লাগে?ছয় বছরের ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে আমার এই সিরিজ ‘ক্যাডেট কলেজ কড়চা’।আগেই বলে নেই ঘটনাগুলো ক্রমানুসারে সাজানো নয়।যেটা আগে মনে আসবে সেটাই লিখবো আগে।

(ডিসক্লেইমারঃধূমপান ক্যানসার সহ নানা প্রকারের দুরারোগ্য ব্যাধির কারণ হতে পারে)

বয়স তখন ১৩ কি ১৪।ক্লাস এইটের কোন এক ছুটি।দুই দুষ্টু (ক্যাডেট)বন্ধুর প্ররোচনায় সিগারেটে হাতেখড়ি।আমার ভাব তখন দেখে কে?২ দিনে মনে হলো অনেক বড় হয়ে গেছি।অসম্ভব(!)স্মার্ট লাগতে লাগলো নিজেকে।তার উপর বিলবোর্ডে নেভির প্যাকেট সামনে রেখে জাহিদ হাসানের ছবি,লেখা “শেষ পর্যন্ত সিগারেটটা ধরেই ফেললাম”।ভ্যাকেশনে লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খেতাম বাথরুমে,অনেক রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে।মাঝে মাঝে মিসটাইমিং হয়ে যেত।আম্মা বলতো রাতদুপুরে নাকি বিড়ির গন্ধ পায়।নানী এগিয়ে আসতো আমাকে বাঁচাতে,বলতো পাশের বাসার আঙ্কেল রাতে বিড়ি খায়।

বিস্তারিত»

তারার পাশে তাঁরা

শাকুর মজিদ নামের সাথে পরিচয় নবম শ্রেণীতে। আমি তখন বরিশাল ক্যাডেট কলেজ এ পড়ি। হঠাত্‍ করে খবর পেলাম কেউ একজন ক্যাডেট কলেজের সপ্তম শ্রেণীর জীবনযাত্রা নিয়ে একটি বই লিখেছে। বই এর নাম,ক্লাস সেভেন ১৯৭৮। বইয়ের নাম শুনেই বুঝলাম যে বইটা লিখেছেন তিনি হয়তো ১৯৭৮ সালে ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণীতে ছিলেন। বই এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হল। কারণ,আধাসামরিক এ কলেজের নিয়ম কানুন দেশের আর দশটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা।

বিস্তারিত»

ক্যাডেট কলেজ কড়চা-১

২০০২ থেকে ২০০৮।আমার ক্যাডেট লাইফ।ভালোয় মন্দে মিশিয়ে কেটেছে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এই ছয়টি বছর।যেকোন ক্যাডেটের এই ছয়টি বছর কাটে অনেক ঘটনাবহুল।আমিও ব্যাতিক্রম না,মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ক্যাডেট লাইফ একটু বেশিই উরা-ধুরা।কলেজের গল্প করতে কার না ভালো লাগে?ছয় বছরের ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে আমার এই সিরিজ ‘ক্যাডেট কলেজ কড়চা’।আগেই বলে নেই ঘটনাগুলো ক্রমানুসারে সাজানো নয়।যেটা আগে মনে আসবে সেটাই লিখবো আগে।

আমাদের (২০০২-০৮) ছয়টি বছর কেটেছে আফসোস করতে করতে।আমরা কলেজে গিয়েই শুনেছি বের হয়ে যাওয়া ব্যাচগুলোর দুর্ধর্ষ কাজকর্মের কথা,শুনেছি কলেজ পালিয়ে মরডান মোড়ে গিয়ে শাবনুরের সিনেমা দেখে পুষ্টির মিষ্টি নিয়ে কলেজে ফেরার কথা,শুনেছি আগের এক্স ক্যাডেটদের বীরের মতো জুনিয়র পিটানোর কথা।তারা নাকি জাম্বুরা,কাঁঠাল,পেয়ারা এমন কোন ডাল নেই যা দিয়ে জুনিয়র পিটায় নাই।আমরা না পারছিলাম আগের ক্যাডেটদের মতো দুঃসাহসী হালাকু খাঁ হতে,

বিস্তারিত»

আমার মন কেমন করে……

একটা গান শুনছি বেশ কয়েকদিন ধরে। রবীন্দ্রনাথ এর “আমার মন কেমন করে……”। ঘুরে ফিরে বারবার শুনছিলাম গানটা। শুনতে শুনতে আমারও মন কেমন করে উঠছিলো। জানিনা গানটি লেখার সময় রবিঠাকুরের মন তার প্রেমিকা কিংবা কোন আপনজনের জন্য কেমন করছিল কিনা। কিন্তু আমার ‘মন কেমন’ করে উঠছিলো কিছু তুচ্ছ, ক্ষুদ্র জিনিসের জন্য। আমাদের সবারই এই রকম অসংখ্য মন কেমন করা স্মৃতি আছে। এই জিনিসগুলো আমরা নিজেরা ছাড়া আর কেউ বোঝেনা;

বিস্তারিত»

অ্যানাপোলিসের ডায়েরী

#কলেজে প্রায় ই কঠিন কোনো পরীক্ষার দিন সকালে ক্লাসরুমে এসে একটা মৃদু অসন্তোষের গুঞ্জন শোনা যেত।আস্তে আস্তে সেই গুঞ্জন টা একটা তীব্র আন্দোলনে রূপ নিত। আমার মতো  সেই সমস্ত ক্যাডেট যারা “ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে” এই মতবাদে বিশ্বাস করে তারা পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চিল্লা চিল্লি শুরু করতো । এরপর নানা দিকে কাহিনীর জল গড়াতো। একশন কমিটি গঠন করা হতো। এই পার্টি থেকে যথাযথ দিক নির্দেশনা দেওয়া হতো। 

বিস্তারিত»

বৃষ্টি বন্দনা

এক

মাঝ রাতের বৃষ্টির পাড় ভাঙ্গা ক্ষমতা নাকি অসাধারণ। জানা নেই। এই হিসেবি জীবনের বৃষ্টি মানেই এক পশলা নাগরিক ভোগান্তি। দৌড়ে গিয়ে জানালার স্লাইড বন্ধ করার তাড়াহুড়া। কাদা ছিটকে জামা নষ্ট হবার একরাশ বিরক্তি। ঘরের ছাদে বৃষ্টির স্বরবৃত্ত তাল কল্পনা করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। তারপরও, কোন কোন মাঝরাতে বৃষ্টি নামে। কল্পলোকের কল্পনাতে বাস্তবতা দৌড়ে পালায়। স্মৃতির পাড় বেয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে সোমেশ্বরী। অবিরল বৃষ্টিতে দুধ সাদা বিরিশিরি।

বিস্তারিত»

আধাসামরিক প্রেমের গল্প

আধাসামরিক ক্যাডেট কলেজে বেসামরিক প্রেমিকা থাকা শুধু কষ্টের নয়, ভয়াবহ কষ্টের।প্রতিবার ছুটির শেষে প্রিয়
মানুষটিকে ফেলে কলেজে যেতে অনেক কষ্ট হয়।ক্যাডেট কলেজ, সে এমন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখান থেকে মুক্ত পৃথিবীর খোঁজ নেয়া অসম্ভব প্রায় । আর্মি হেড কোয়ার্টারের স্বেচ্ছাচারিতায় মুঠোফোনের বেতার তরঙ্গ তখনো জায়গা করে নিতে পারেনি ক্যাডেট কলেজের সেই চৌহদ্দিতে। তবুও সমস্ত কলেজ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কখনো আন্ডারগার্মেন্টস এর নিচে,কখনো মোজার ভেতর,মোটা বইয়ের পৃষ্ঠা কেটে,ব্যাগের কোনায়,এংলেটের মধ্যে,

বিস্তারিত»

আত্মহত্যা বা জীবন যেরকম

হাতে ব্লেড নিয়েও চামড়ায় বসায় আর কয়জন! আমরা আসলে ভাবিই এভাবে… কিন্তু বসায়,অনেকেই বসায়। প্রতি স্কুলে, প্রতি কলেজে, প্রতি ভার্সিটির কোন না কোন ক্লাসে দুই একটা ছেলে বা মেয়ে থাকবেই যারা এই জিনিস নিজেদের কোমল হাতে এপ্লাই করে ফেলেছে, যারা বন্ধুরা “মুড়ি খা” বললে মুড়ি খাবার বদলে ঘুমের ওষুধ গিলেছে। বোকা বাচ্চাগুলো বোঝেনা বন্ধুরা বা মা বাবা মুড়ি খা” বললে মুড়িই খেতে হয়, “দূরে গিয়ে মর”

বিস্তারিত»

২৭ জুন, ২০১৩, রোজ বৃহস্পতিবার, বেলা বারোটা বিশ মিনিট

একটু দেরিতে ঘুমালেও সকাল সাতটায় ঘুম ভেঙে গেল আজকে। বেশ খানিকটা বিয়ার পান করলে এরকম হয় দেখেছি। গতকাল রাতটা ঘুমানোর আগে স্থানীয় বিয়ার প্রস্তুতকারক/পানশালা কিউইনা ব্রিউইং কোম্পানির বিয়ার পান করে কাটিয়েছি। সবাইকে এটাকে কেবিসি বলেই জানে। কমদামে উন্নত মানের বিয়ার প্রস্তুতকারক হিসেবে খুব দ্রুত নাম কামিয়েছে এই কম্পানিটি। যাক মাথা ব্যথা চলে গিয়েছে। গতকাল বৃষ্টিতে ভেজার কারণে বেশ মাথা ধরেছিল। প্রায় দেড় বছর পরে বৃষ্টিতে ভিজলাম।

বিস্তারিত»