অ্যানাপোলিসের ডায়েরী – ৪

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৩
প্রকৃতির কীর্তি কলাপ দেখছি গত কয়েকদিন ধরে। এমনিতেই এই সপ্তাহের শেষে ছিল তিন দিনের উইকেন্ড। শনি, রবি, সোম টানা তিন দিন বন্ধ। মার্টিন লুথার কিং এর জন্মদিন উপলক্ষ্যে। তিনদিন উইকেন্ড থাকার সবচেয়ে ভালো দিক হলো পরের সপ্তাহে এক দিনের কর্ম দিবস কমে যাওয়া। এই জন্য বেশ ফুরফুরে একটা মেজাজে ছিলাম। যাই হোক, সোমবার মধ্যরাতে পেলাম ইমেইল। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও তুষার ঝড়ের কারনে আগামীকাল মানে মঙ্গলবার কোন ক্লাস হবেনা। একাডেমীর সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত। কোন ইমেল পড়ে জীবনে কখনো এতটা আনন্দিত হয়েছি কিনা বলে মনে পরেনা। আমাদের একাডেমী র জন্য এটা একটা বিরল ঘটনা বটে। খুব জরুরি কোন কারন না থাকলে ক্লাস সাধারণত বাতিল করা হয়না। যাই হোক, শুয়ে বসেই কাটালাম কালকের দিনটা। একদম অলস কিছু সময়। বিকেলে কোম্পানির বন্ধুরা এই তীব্র তুষার ঝড়ের মাঝে ফিল্ডবল খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ফিল্ডবল খেলাটা আসলে একটা খিচুড়ি টাইপের খেলা। ফুটবল, রাগবি আর হ্যান্ডবল এর নিয়ম কানুন মিশিয়ে এই সংকর জাতীয় খেলাটা তৈরি করা হয়েছে। যাওয়ার জন্য ছেলেপিলেরা বেশ তাগাদা দেওয়া শুরু করলো। বাইরে তুমুল তুষার ঝড়, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ও ১৫ ডিগ্রী নিচে। এই অবস্থায় বাইরে বল নিয়ে মাতামাতি করতে কোন পাগলে যাবে? মানা করে দিলাম ওদের। ওরাও কথা না বাড়িয়ে চলে গেল। ওরা চলে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর থেকেই শুরু হলো আমার খুঁতখুঁতানি। ব্ল়াইন্ড টা তুলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ। সাদা ! অদ্ভুত রকমের সাদা ! দমকা বাতাস। ক্রমাগত তুষার পরছে। কেন জানি তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করে।
সিদ্ধান্ত বদলে ফেললাম হুট করেই! সোয়েট শার্ট টা গায়ে লাগিয়ে হাতমোজা আর কানটুপি নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম। মনে মনে ভাবলাম, কি আছে আর জীবনে? মাঝে মাঝে পাগলামি না করলে কি আর চলে? একদৌড়ে চলে গেলাম ফ্যারাগুট ফিল্ডে। ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে খেলা। কিসের আর নিয়ম মেনে খেলা ! আসলে হচ্ছিল তুষার নিয়ে লাফালাফি, ধাক্কাধাক্কি ! হইহই করে যোগ দিলাম সবার সাথে। কতক্ষণ ছিলাম ওখানে মনে নেই। একটা ঘোরের মাঝে ছিলাম মনে হয় ! সমুদ্র স্নান করতে গেলে মানুষ পানি নিয়ে যেরকম অর্থহীন ছেলেখেলা শুরু করে, আমরাও তুষার দিয়ে সেরকম খেলাধুলা শুরু করলাম। স্নো বল বানিয়ে একজন আরেকজনের গায়ে ছুড়ে মারতে মারতেই মনে পরে গেল ক্যাডেট কলেজের বৃষ্টির দিনে খেলা বোম্বাস্টিং খেলার কথা ! ক্যাডেট কলেজ বড়ই আজব এক জায়গা ! এই জায়গাটা ঘিরে কত স্মৃতি যে জমে আছে তা নিজেও জানিনা। সময়ে অসময়ে বিভিন্ন কাজের ফাঁকে এসে স্মৃতিগুলো হুটহাট হানা দেয় মনের মাঝে। গেলাম বরফ নিয়ে একটু ছেলেমানুষী আনন্দ ফূর্তি করতে , আর সেখানেও হানা দিল কলেজের স্মৃতি। এতে কোন আক্ষেপ অবশ্য নেই ! কলেজের স্মৃতি রোমন্থন করা আমার অন্যতম ফেভারিট টাইম পাস জব ! কোন ক্লাস বা লেকচার যদি ভালো না লাগে তাহলে সামনের দিকে তাকিয়ে কল্পনায় টাইম মেশিনে চড়ে কলেজে চলে যাই । মনে মনে আমার ক্যাডেট লাইফের ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দেই। কোন দিন আমি ক্লাস নাইনের নিয়ম ভাঙ্গা ক্যাডেট, কোন দিন অলস এসএসসি ক্যান্ডিডেট, আবার কোনদিন ক্লাস টুয়েলভ এর ক্যাডেট এর ভূমিকায় নিজেকে কল্পনা করতে করতে সময় পার করে দেই। নিজের অজান্তেই লেখার টপিক চেঞ্জ হয়ে গেছে। ঘুরতে ঘুরতে আবার সেই ক্যাডেট কলেজ টপিকে চলে এসেছি। এ জিনিসটা প্রতিনিয়ত হয়। অনেকক্ষণ এই বরফ পাগলামি করে রুমে ফিরে আসার পর টের পেলাম যে ঠান্ডায় আমি পুরো জমে গেছি। উত্তেজনায় আসলে তেমন কিছু টের পাচ্ছিলাম না। এরপর অনেকক্ষণ সময় লেগেছিল ধাতস্থ হতে।
সন্ধ্যায় স্কোয়াড ডিনার ছিল। সেটা সেড়েই এইমাত্র ফিরলাম। টিপিকাল আমেরিকান খাবার দাবার। নাক মুখ বন্ধ করে বেশ মজা পাওয়ার অভিনয় করতে করতে খেলাম। খাওয়া দাওয়ার পর বাকি সবাই রিজার্ভার ডগ মুভি দেখতে বসে গেল। উপায় না দেখে আমিও ৪র্থ বারের মতো মুভিটা দেখতে বসে গেলাম। ট্যারান্তিনো আসলেই একজন জিনিয়াস। বারবার দেখার পর ও এই লোকের কোন মুভি ই বিরক্তিকর লাগেনা। অন্যরকম এক প্রতিভা।

 

২৬ জানুয়ারি , ২০১৪
আরেকটা উইকেন্ড শেষ হয়ে গেল ! তবে এবার আর কোনো আফসোস নেই। শনিবার রাত খানা প্ল্যান মাফিক কাটিয়েছি। যেটা গত ২/৩ সপ্তাহ ধরে ব্যাটে বলে মিলছিল না। দিনে বাল্টিমোরের দিকে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হুট করে শুনলাম ওদিকের কোন এক শপিং মলে নাকি এক একটিভ শ্যুটার গুলি করে তিনজনকে মেরে ফেলেছে। হুট হাট করে গুলি করা এখানকার মানুষজনের কমন মানসিক ব্যাধি। অবাক হইনি। সেই প্ল্যান বাদ দিয়ে রাতে ডাউনটাউন এনাপলিস চষে বেড়ালাম। প্রচুর কাজ জমে আছে হাতে। মঙ্গল বার IR ক্লাসে একটা পেপার ডিউ আছে। সেটা শেষ করতে হবে। কাল আবার হিস্ট্রি ক্লাসে ইন ক্লাস রাইটিং প্রজেক্ট আছে একটা। ইহুদি ধর্মের সাথে হিন্দু আর বুদ্ধ ধর্মের তুলনামূলক আলোচনা। এটা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করা লাগবে। এরাবিক হোমওয়ার্ক শুরু করেছিলাম, কিন্তু ৫ মিনিটের মাঝেই বই, ল্যাপটপ সব বন্ধ করে দিয়েছি। সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। কি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছে সেটাই ধরতে পারছিনা, উত্তর দিবো কি? আর ওদিকে আমার যম ফিজিক্স তো আছেই। সোমবার দিনটা আমার বড়ই অপছন্দের। সকাল ৮ টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত টানা ক্লাস হবে কালকে। এর মাঝে একটা পিরিয়ড আবার মার্শাল আর্ট। ফিজিকাল এক্টিভিটিস আর ভালো লাগেনা। ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে গেছি। সন্ধ্যার পর যে কাজ গুলো এগিয়ে নিবো , সেই জো ও নেই। কালকে একজন গেস্ট স্পিকার আসবেন। ঐটাতে এটেন্ড করা বাধ্যতামূলক। অনেক সময় যাবে ওখানে। খুব সম্ভবত বুশ প্রশাসনের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি আসছেন বক্তা হয়ে।ডিক চেনির কথা মনে করে একচোট হেসে নিলাম। ইরাক যুদ্ধের সময় বুশ-রামসফেল্ড আর ডিক চেনি কে বাংলাদেশে গণহারে গালিগালাজ করা হতো। এরা তো মনে হয় প্রায় ভিলেনের লেভেল উঠে গিয়েছিল। তবে আমার মূল আগ্রহ অন্য জায়গায়।এই সপ্তাহে একাডেমিতে লিডারশিপ কনফারেন্স শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন ই অনেক বক্তা থাকবেন। এরমাঝে একটাতে যাবোই যাবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। কমান্ডার ক্রিস্টোফার ক্যাসিডি। নেভি সিল এবং নাসা এস্ট্রনাট ! কি অদ্ভুত এক যুগলবন্ধন ! এই লোক কি বলে তা শোনার খুব আগ্রহ।
কিছুক্ষণ বাংলাদেশের খেলা দেখলাম। প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হলো আজকে। আমি খেলা দেখা শুরু করার সাথে সাথেই টানা তিনটা উইকেট পরে গেল। ট্যাব ক্লোজ করে দিলাম। বাংলাদেশের উইকেট পরা দেখতে ভালো লাগেনা। হাতের কাজ গুলো একটু এগিয়ে নেওয়ায় দরকার। স্পটিফাই এর আমার ক্ল্যাসিকাল প্লে-লিস্ট টা ছেড়ে দেওয়ায় সময় এসে গেছে।

২৮ জানুয়ারী:
ডিক চেনি তার বক্তৃতা দিয়ে চলে গেলেন। লাভ হয়নি কোন ! যা হওয়ার তাই হয়েছে। উনি স্পিচ শুরু করার পর মনে মনে ভাবলাম, ক্যাডেট কলেজের সেই ক্লাস সেভেন/ এইট থেকে যে অভ্যাস রপ্ত করেছি , সেটা কি ডিক চেনির জন্য ত্যাগ করবো নাকি ?যেই ভাবা সেই কাজ…
ডিক চেনি তার লম্বা বক্তব্য শুরু করার ২/৩ মিনিটের মাঝেই আমি গালে হাত দিয়ে, শিরদাড়া সোজা করে ঘুমিয়ে গেলাম।
১ নাম্বার মোরাল: মানুষ অভ্যাসের দাস..
২ নাম্বার মোরাল: ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে!

৫ ফেব্রুয়ারী:
চন্দ্রবিন্দুর গান শুনে দিন শুরু হলো.. আবার সেই নস্টালজিক অনুভূতি। বেশ কিছুদিন পর বাংলা গান শোনা হলো। কি অসাধারণ লিরিক ! বন্ধু তোমায় গানটা টানা কয়েকবার শুনলাম। মন খারাপ হয়ে যায় কেন জানি। রকিবুল ভাই এর স্ট্যাটাস দেখেই চন্দ্রবিন্দুর কথা মনে পরে গিয়েছিল। ওখান থেকেই “বন্ধু তোমায় ” গানটার কয়েকটা লাইন দিয়ে দিলাম,

“ছেঁড়া ছবি স্ফটিক জল
এইটুকু সম্বল।
বাদ বাকি রোদ চলে যাওয়া বিকেল বেলা,
একঘেয়ে ক্লান্ত দিন, ক্যাম্পোজ-অ্যাসপিরিন,
যানজটে দেরি হয়ে গেল বিকাল বেলা।
মরা মাছের চোখ যায় যদ্দুরে,
শুকানো জলছবি আজো রোদ্দুরে।

হাওয়ায় হাওয়ায়,
হাওয়ায় হাওয়ায়,
বন্ধু তোমায় এ গান শোনাবো বিকেল বেলায়”

বাইরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কালো মেঘে ঢাকা আকাশ। অভিমানী কিশোরীর গোমড়া মুখের মতন.. একেক জায়গার আকাশ একেক রকম ! ঢাকার আকাশ, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের আকাশ, আমার দাদুবাড়ির আকাশ, বাংলাদেশের আকাশ, এনাপোলিস শহরের আকাশ। সবগুলো কেই খুব ভালো ভাবেই আলাদা করতে পারি কেন জানি। লম্বা একটা দিন সামনে। টানা ৬ পিরিয়ড ক্লাস। লাঞ্চ ব্রেকে এক প্রফেসরের সাথে মিটিং। এরকম ব্যস্ত দিনের সাথে এমন গোমড়া আবহাওয়া কেমন জানি বেমানন লাগে।

গতকাল রাতে বেশ সময় নিয়ে অনেকের সাথে ফোনে কথা বললাম। সব আত্মীয় স্বজনকে ফোন দিলাম। ফেসবুকে সময় কাটালে মনে হয় যে সবার সাথে বেশ ভালো ভাবেই কানেক্টেড আছি। আসলে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। পুরো দুই ঘন্টা সময় নিয়ে সবার খোজ খবর নিলাম। সপ্তাহে এরকম একটা দুটা ফোনকল অনেকের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই হয়তো এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারিনা। এটা কারো দোষ নয়। কাছে থাকার কারনেই হয়তো এই উপলব্ধিটা আসেনা। দূরে চলে যাওয়ার পর আমার মতো আরো অনেকেই হয়তো এটা ফিল করে যে , যত যাই হোক না কেন, দিনশেষে ফ্যামিলি ই আমাদের শেষ আশ্রয়।

 

১,২২২ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “অ্যানাপোলিসের ডায়েরী – ৪”

  1. তাওসীফ হামীম (০২-০৬)
    সপ্তাহে এরকম একটা দুটা ফোনকল অনেকের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই হয়তো এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারিনা। এটা কারো দোষ নয়। কাছে থাকার কারনেই হয়তো এই উপলব্ধিটা আসেনা। দূরে চলে যাওয়ার পর আমার মতো আরো অনেকেই হয়তো এটা ফিল করে যে , যত যাই হোক না কেন, দিনশেষে ফ্যামিলি ই আমাদের শেষ আশ্রয়।

    🙂 :clap: :boss:


    চাঁদ ও আকাশের মতো আমরাও মিশে গিয়েছিলাম সবুজ গহীন অরণ্যে।

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    দূর্দান্ত :thumbup: চন্দ্রবিন্দুর কোন তুলনা নেই।

    সপ্তাহে এরকম একটা দুটা ফোনকল অনেকের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকেই হয়তো এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারিনা। এটা কারো দোষ নয়। কাছে থাকার কারনেই হয়তো এই উপলব্ধিটা আসেনা। দূরে চলে যাওয়ার পর আমার মতো আরো অনেকেই হয়তো এটা ফিল করে যে , যত যাই হোক না কেন, দিনশেষে ফ্যামিলি ই আমাদের শেষ আশ্রয়।

    :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  3. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    ডিক চেনির বক্তৃতায় ঘুমায় পড়ার কথায় মনে হইলো। আমার এডভাইজার ব্যারী সলোমন উনার ক্লাশে ঘুমায় নাই কিংবা ঝিমায় নাই এরকম বান্দা পাওয়া মুশকিল এবং সেই ঘুমটা যে সাময়িক সেটাও আমরা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী আলোচনা করে বাইর করসি। কারণ একটাই, উনি ভয়াবহ পর্যায়ের এক্যুরেট একটা মনোটোন ব্যবহার করে লেকচার দেন। এবং সেই টোন যেকোন কারোর ঘুম বা ঝিম ধরাতে বাধ্য। ক্লাশ শেষ হবার পরে অনেকেই বাসায় বা লাইব্রেরীর কাউচে ছুটে গিয়েছে ঘুমিয়ে নেবার জন্য কিন্তু কাজ হয় নাই। পরে আমরা বুঝতে পারি এইটা উনার কন্ঠস্বরের উত্থানপতনহীন ছন্দের কেরামতি! O:-)


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।