প্রবাসের গল্প

অনুগল্প – ১ঃ পড়াশুনা আর টিকে থাকা

ইউরোপের উদ্দশ্যে উচ্চ শিক্ষার্থে দেশ ছেড়েছি ২০১২ সালে – তাও প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি হয়ে গেল। মোটেও সোজা ছিল না শুরুর সময়টা। নতুন দেশ, পরিবেশ, পড়ালেখার ধরণ, খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট, জন্মের ঠান্ডা, স্বর্ণকেশী/নীলনয়নাদের আনাগোনা – সব মিলিয়ে অনেক কঠিন মন বসানো। তারপরেও জীবন চলে যায় জীবনের নিয়মে।
ইউরোপীয়ানদের তুলনায় আমাদের ম্যাথের ব্যাকগ্রাউন্ড যথেষ্ট দুর্বল।

বিস্তারিত»

ভূমিকম্পঃ ভয় বনাম দায়িত্ব

ভূমিকম্পঃ ভয় বনাম দায়িত্ব

নেপালের জন্য বেশ খারাপ লাগছে। প্রায়ই বিধ্বস্ত স্তুপের ছবি দেখছি। গতকাল টিভিতে ভূমিকম্পের সময়ে ধারণকৃত নেপালের একটা ভিডিও ক্লিপ দেখলাম। মায়ের কোলে সন্তানের চিৎকার, কান্না, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার ছুটোছুটি। যথেষ্ট পরিমানে মন খারাপ করা দৃশ্য। ফেসবুকের কল্যানে আপডেটগুলো আরো মন খারাপ করে দিচ্ছে। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা ছাড়া আমার আর এই মুহূর্তে কিই বা করার আছে। পরশুদিনের পরে কাল আবার দুপুরের ভূমিকম্পের পর যখন বিকেলে বাসায় ফিরছিলাম,

বিস্তারিত»

নবীশী কুচকাওয়াজ

নবীশী কুচকাওয়াজ

ক্যাডেট কলেজে আসার পর পরই শুনেছিলাম নভিসেস প্যারেড বলে একটা ভীষন ব্যাপার আছে। নতুন ক্যাডেটদের বেশ ভাল করে সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ শেখানো হবে। তারপর তিন হাউসের মধ্যে প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে নাকি কপালে বিশেষ দুর্ভোগ আছে। আগের বছরে আমাদের বড়ভাইদের দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে নি। ফলে তাদের কেমন সাজা হয়েছিল তার রোমহর্ষক বিবরন কিছু শুনেছি। সেই থেকে আমার নিত্য এক দুশ্চিন্তা।

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ Bon Appetit

বৃষ্টিভেজা শনিবারে বন্ধু অরিন্দমের সাথে থাই কুজিনে খেতে গিয়েছিলাম। মাইল পাঁচেক ড্রাইভ করতেই তার পছন্দের রেস্তোরাঁটিতে পৌঁছে গেলাম। আমরা ভোজনবিলাসী মানুষ কিন্তু খাই ক্যালরী মেপে। দু’জনের জন্য খাবার অর্ডার করলে কখনোই শেষ করতে পারিনা। তাই বলি, তোমার পছন্দের সুপ আর এপেটাইজার বলো, আমি অর্ডার করছি মেইন ডিশ। দু’জন মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়া যাবে। ও চাইলো ফ্রাইড ক্যালামারি আর কোকোনাট সুপ। আমি চিংড়ি নাকি চিকেন নেবো এই নিয়ে ‘ইনি মিনি’

বিস্তারিত»

ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (গ)

ঘটনা (ক)

কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলাম গত সপ্তাহে। সিলেট ক্যাডেট কলেজের ছোট ভাই ইবনে সিনা ইয়েনের বিয়েতে। সবাই যখন বাসে করে যেতে চাইছে আমি তখন সুবোধ বালকের মত শুক্রবার সকালের ‘এগারোসিন্দুর প্রভাতি’ ট্রেনের টিকেট কিনে ফেললাম। যাতায়াতের ব্যাপারে ট্রেন ব্যবহারের প্রতি আমার স্পষ্ট পক্ষপাত রয়েছে। বাঙলাদেশের অভ্যন্তরে কোথাও যেতে চাইলে সড়কের আগে প্রথমে দেখি রেললাইন আছে কিনা। সড়ক-প্রেমী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত রাস্তা ছেড়ে সমান্তরাল লাইনে চলে এসেছিলাম।

বিস্তারিত»

অণু ব্লগঃ চলতি পথে

বিকেলে হাঁটতে বেরুলে প্রতিবেশী মিজ বারবারার সাথে আমার দেখা হয় মাঝেমাঝে। সত্যি কথা বলতে কি মধ্য পঞ্চাশের বারবারা বাগান করতে ভালবাসেন এইটুকু ইনফরমেশন ছাড়া তার সম্পর্কে আমি আর কিছুই জানি না। টল এন্ড স্লেন্ডার বারবারার এক মাথা সাদা কালো চুল। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি তার লেগেই আছে। দেখা হলে হাত নাড়ি দু’জনেই, আরো একটু সময় হলে হয়তো জানতে চাই কুশল। সামার এলে হয়ত বারবারা জানতে চান আমার কাছে বাড়তি দুটো চারটে শশার চারা আছে কিনা অথবা তার দুটো টমেটোর চারা পরে রয়েছে আমি চাইলে তিনি দিতে পারেন।

বিস্তারিত»

সিসিবি-তে কবিতা পাঠ

সাবিনা চৌধুরী অনেকদিন ধরেই পিছনে লেগে আছেন একটা ভিডিও ব্লগ যেন নামাই, সেইজন্য।
নানা অজুহাত দিয়ে অনেক সময় পার করলাম। কিন্তু শেষমেষ বুঝলাম, ফিতা না কাটা পর্যন্ত এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ নাই।
যদিও প্রধান অজুহাতই ছিল, “আমি তো ফটোজনিক না” – কিন্তু সাবিনা ওটা মানতে রাজী না।
অনুরোধের ঢেকি গিললাম কিন্তু তা যে ভবিষ্যতেও হবে সেই গ্যারান্টি কিন্তু নাই।

আমি তো পারি কেবলই “পাঠ-প্রচেষ্টা”

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ আলো’র বাড়ি যাবো

পশ্চিমে জন্মালে মিলি আপার নিজের টিভি শো থাকতো, একটা দুটো ম্যাগাজিন থাকতো ওপরাহ উইনফ্রির মতো, বাড়ীর পেছনে অর্গানিক ভেজি গার্ডেন থাকতো আর প্রতি বৃহস্পতিবার রেড বেল পেপার আর ব্রাসেলস স্প্রাউটের ঝুড়ি হাতে ফটো শুট করতেন তার ফেইসবুক ফ্যানদের জন্য! কিন্তু আপা পূর্বে জন্মেছেন যেখানে রান্নাবান্না করে ঠিক জাতে ওঠা যায়না, আর মনি কাঞ্চনের কথা নাইবা বললাম এখানে!

আগের দিনে পালকি পাঠিয়ে নাইওরী নিতো গ্রামের বাড়ি আর এখন কেউ ভালবাসলে নিজেই ঘন্টাখানিক ড্রাইভ করে এসে চ্যাংদোলা করে সাথে নিয়ে যান।

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ গডের স্টেক

এক গেলাস জল গড়িয়ে খেতে হয় নাই দেশে অথচ এখানে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই নিজেকে করতে হয়। বাজার সরকার থেকে শোফার, রাঁধুনি থেকে কবি অথবা জেনেটর বলতে সবই আমি এই জগত সংসারে!

বড়দিনের ছুটি কাটাতে বড় আপার ফ্যামিলি আসবে আমাদের আটলান্টার বাড়ী তাই মা মেয়ের আনন্দ আর ধরে না। তারা আর আমি বসে বসে খাবারের মেন্যু বানাই। বড় আপা আমার তিন বছরের বড় হলেও আমার প্রতি তার আচার আচরণ আমার মায়ের চাইতে কোন অংশেই কম নয়।

বিস্তারিত»

আত্মহননঃ আমার অভিমত – প্রেক্ষাপটঃ ক্যাডেট কলেজ কম্যুনিটি

আত্মহননঃ আমার অভিমত – প্রেক্ষাপটঃ ক্যাডেট কলেজ কম্যুনিটি

[আমার এই লেখাটা কোন ভাবেই কোন সিস্টেম বা ব্যাক্তিকে দায়ী বা কটাক্ষ করে লেখা নয়। বরং গত কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু ঘটনার কারনে মনের মাঝে জমে থাকা অনেকগুলো বিষয়কে রিলেট করে একটা সমাধানের আশায় লেখার একটা প্রয়াস মাত্র। আমি নিজে একজন ক্যাডেট বলেই হয়তো বিষয়টা নিয়ে আমি ক্যাডেট কলেজ কম্যুনিটির প্রেক্ষাপটে লিখছি। কিন্তু আসলে এটা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

বিস্তারিত»

আন্সারুল্লা বাংলা টিমের জন্য সহানুভূতি

( আমার জীবনের সবচেয়ে অশ্লীল লেখা। নিজ দায়িত্বে পড়বেন। গালাগালি যত খুশি দিবেন দেন, আর কোপাইতে মঞ্চাইলে ডাইরেক্ট হালাহ পন্থায় জবাই দিয়া দিয়েন, কোপাকুপি এখন ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে। শুঞ্ছি হালাহ পন্থায় জবাই করা প্রানী সুজা বেস্তে যায়! আমার আবার হুর নিয়া মাস্তি করনের অনেক শখ! আর কিছু বানান ভুল ইচ্ছাকৃত)

অভিজিৎদাকে যখন কোপানো হচ্ছে, ঘটনাস্থল থেকে আমি খুব বেশী দুরে না, যদিও তার কিছুই আমি তখনো জানিনা।

বিস্তারিত»

ঢাকার শুনানি, ঢাকায় শুনানি (ক)

একজন মানুষ যখন বিদেশ যায়, পড়তে কিংবা কাজ করতে, তখন সেই বিশেষ দেশটির প্রতি মায়া না জন্মালেও যেই এলাকায় থাকা হয় সেই এলাকাটির প্রতি হয়তো মায়া হয়তো ঠিকই জন্মায়। এই মায়ার গাঁথুনি তৈরী হয় অভ্যাসে ও সুরক্ষিত থাকে আবেগে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছোট এক শহর ছেড়ে দেশে পাড়ি জমিয়েছি প্রায় সপ্তাহ দুয়েক। দেশে আসার আগে ঘুরে বেড়িয়েছি শিকাগো, ক্যানসাস সিটি, সল্ট লেক সিটি, ও লাস ভেগাস।

বিস্তারিত»

অণু গল্পঃ শনিবারের দুপুর

প্যাটেল প্লাজায় শনিবারের উৎসবমুখর মধ্যাহ্ন। কুমড়োর ছক্কা রাঁধবেন বলে বাতের ব্যাথা শিকেয় তুলে প্রতিবেশীর সাথে বাজারে এসেছেন চাটুয্যে গিন্নী। কুমড়ো কেনার বাহানায় এলেও নারকোল, মামড়া, মেথি শাক আর বাসমতী চাল কিনলেন তিনি। মেয়েটা ইডলি খেতে বড় ভালবাসে তাই একটা ইডলি মেকারও নিলেন মনে করে। মিশিগান থেকে মেয়ে জামাই আর টোপলা গালের নাতনীটা আসছে যে কাল রাতের ফ্লাইটে।

মায়ের পাশে কুলফি হাতে কিশোরীটির কানে হেডফোন।

বিস্তারিত»

বিশেষ দিনে- অগোছালো কিছু অনুভূতি

রাতে বাসায় ফিরেই বললাম চলো কনসার্ট দেখে আসি। আমার সহধর্মিণী বলল, না অনেক রাত হয়েছে, তা ছাড়া রাতে কারোরই খাওয়া দাওয়া করা হয়নি। বাসায় আমার পরিবার ছাড়াও আমার সহধর্মিণীর আপন বড় বোন, বোন জামাই ও তাদের বড় কন্যা মানে ভাগ্নি রয়েছে।

ভাগ্নি সবে ভার্সিটিতে ঢুকেছে আর আমার ছেলে ডিজিটাল যুগের স্ট্যান্ডার্ড থ্রিতে। কনসার্ট শুনে দুই জনেই সুর মিলায়ে চোখের পলকের মধ্যে রেডি হয়ে আমার সামনে।

বিস্তারিত»

তবু মনে পড়ে……।।

কষ্টগুলো, দুঃখগুলো ভুলে থাকতে চাই। সব সময়। তবু মনে পড়ে যায়।

২৫শে ফেব্রুয়ারী এলেই মনে পড়ে মেজর শাহনেওয়াজ ভাই আর মেজর আজিজুল হাকিম স্যারকে। পিলখানায় যাদেরকে বিনা অপরাধের খুন করা হয়েছে আরো পাঁচ ডজন অভাগা বীর সেনানীর সাথে।

আল্লাহর কাছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

বিস্তারিত»