(অনেক দিন সিসিবিতে কিছু লেখিনা। জাভেদ ওমর বেলিম গুল্লুর মত এককালের ডাকসাঁইটে(!?) জন্মদিন প্রিফেক্ট এখন অবসরে। তবে ফেসবুকে গরম গরম স্ট্যাটাস দেয়া চলছে।আজ সক্কাল সক্কাল উঠেই প্রিয় ছোটভাই এবং ভবিষ্যৎ এ্যাডমিরাল নাফিস উজরাতের খোঁচা খেলাম-” কি ভাইজান, সিসিবিতে লিখা দিতে ইচ্ছা করেনা, তাইনা??” ওর এই খোঁচা থেকেই স্ট্যাটাসসমগ্রের জন্ম। পুরোন স্ট্যাটাসগুলো দুই তিনটা এক করে প্রথম পর্ব আজ শুরু করছি। দায়দায়িত্ব এবং গালাগালির দায়ভার সম্পূর্ণ এ্যাডমিরালের 😀 )
নতুন বছরের শুরুতে দেখা যাচ্ছে সিসিবির উর্বরতা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছ। একের পর এক নতুন লেখা আসছে, তারচেয়ে বড় কথা ভাল মানের লেখা আসছে। ব্লগে ঢুকলে মনটাই ভাল হয়ে যায়। লেখার সাথে সাথে আনাগোনাও প্রচুর বেড়েছে, সবসময়ই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আর অতিথিদের অন প্যারেড দেখি। তবে এর মাঝে হালকা মন খারাপের বিষয় হলো এত আনাগোনার তুলনায় মন্তব্য করার হারটা একটু কমই। আমরা যারা লেখা পড়ছি তারা যদি একটু কষ্ট করে পোস্টটাতে আমাদের ভাল লাগা,
ছোট ক্লাসে পড়া রসগোল্লা গল্পটির কথা হয়ত আমাদের অনেকেরই মনে আছে, মুজতবা আলীর এ গল্পটি আক্ষরিক অর্থেই একটি রসগল্প।
ইতালির এক কাস্টমস অফিসার বাঙালি ব্রাহ্মণ সন্তান ঝাণ্ডুদার মিষ্টান্নের প্যাকেট খুলতে বলায় এবং ঝাণ্ডুদা তার বন্ধুর মেয়ের জন্য তা লন্ডনে নিয়ে যাচ্ছে বলে খুলতে রাজি না হওয়ায় চুঙ্গিওয়ালা কোনো যুক্তি না মেনে তা খোলাতে বাধ্য করল। ঝাণ্ডুদা তাতে ক্ষেপে গিয়ে একটি রসগোল্লা চুঙ্গিওয়ালার নাকে-মুখে প্রবিষ্ট করিয়ে দিয়েছিল।
সে বহুকাল আগের কথা।এক দেশে ছিলো এক প্রেমিক-যুগল।তারা একে অপরকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসত।একদিন ছেলেটা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে চৌধুরী সাহেব,তথা মেয়ের বাবার নিকটে গেলো।কিন্তু চৌধুরীসাহেব তাকে ভাগিয়ে দিলেন।
প্রেমিকযুগল ঠিক করলো,এই জীবন আর রাখবে না তাঁরা।পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবে।মিলন হবে জাহান্নামে।সেই মোতাবেক তাঁরা গেলো পাহাড়ের চূড়ায়।জীবিত অবস্থায় শেষবারের মত প্রেমিকাকে চুম্বন করে ছেলেটা বলল,”সোনা,আমি যাচ্ছি,তুমিও আস।”বলেই সে লাফ দিলো।
মেয়েটা চুম্বন শেষে চোখ খুলে দেখে ছেলেটা নেই,নিচে তাকিয়ে দেখে,তার এক্স-বয়ফ্রেন্ডের দলা পাকানো শরীর দেখা যাচ্ছে।মেয়েটা ছুটে বাসায় চলে গেলো।বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকবার বমি করলো।অতঃপর ফেস-ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।ঘুমানোর আগে সে তার আরেক গুণমুগ্ধ ভক্তের কাছে খুদে-বার্তা পাঠালো,”তুমি না ডিনার করাতে চাইছিলা???আজকে যাবা???
আগের পর্বের লেখাটা বেশ বিরক্তিকর হয়েছিল এটা আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি । তাই ভেবেছিলাম ক্যাডেট কলেজ ব্লগ আমার উপর রাগ করেছে । কারন আমি অনেক চেষ্টা করেও লেখা সাবমিট করতে পারছিলামনা । বেশ চিন্তিত হয়ে গেলাম । কী হল ? পরে দেখলাম ক্যাডেট কলেজ ব্লগ নয় , দোষ আমার নিজের । আমি যে ছোট একটা ভুল করছিলাম সেটা আমি খেয়াল করিনি । এজন্য একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম ।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃএকান্তই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
কলেজ থেকে বের হওয়ার পরে সবচেয়ে কঠিন সময় হচ্ছে তার পরের কয়েক মাস।এই সময়েই নির্ধারিত হয়ে যায়,কার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।অনেকে সাবলীল্ভাবে পার করে দেয় এই সময়টা,অনেকে পিছিয়ে পড়ে।এই লেখায়,আমি আমার এই সময়টার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।
বেশিরভাগ বন্ধুই কলেজ থেকে বের হওয়ার পরে ঢাকায় তাদের সাময়িক নিবাস নিয়ে ব্যস্ত,আমার বাসা ঢাকায় হওয়ায়,আমার সেই চিন্তা ছিলো না।ওদের ছিলো খাওয়ার কষ্ট,পানির কষ্ট,যাতায়াতের কষ্ট,টিপে টিপে খরচ করার কষ্ট।আর আমার ছিলো একা থাকার কষ্ট।থাকতাম বারিধারা ডিওএইচএসে।আশেপাশে ব্যাচমেট তো দূর কি বাত,পরিচিত কেউই ছিলো না।উদ্ভাস থেকে দেওয়া লেকচার শীট পড়তে বসলে মনে হত,না বুঝলে বুঝায়ে দেওয়ার মত কেউ আশে-পাশে নেই,পড়ে লাভ কি???কম্পিউটারে বসলে ঘুরে-ফিরে চলে যেতাম সেই ফোল্ডারে,যেখানে আছে আমার কলেজ লাইফের সব স্মৃতি।সেই ছবিগুলো দেখে বুকে মোচড় দিত।অদ্ভুত একটা ফিলিংস।একই ফিলিংস হয়েছিলো সেইসব দিনের অনেকদিন পরে।১৫ জানুয়ারী ২০১২ তে।ডিপার্টমেন্টে প্রথম ক্লাস করতে যেয়ে একটা মেয়েকে দেখেছিলাম।ক্লাস শেষের পরে তাকে তার বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে চলে যেতে দেখে।আজব না???দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা,অথচ কষ্টটা এক।
কলেজে ছয় বছর পার করার পরও অনেক ক্যাডেটের অর্জনের খাতাটা থাকে শূন্য। কলেজ থেকে পাসআউটের সময় বুকে থাকে অনেক কিছু না পাওয়ার বেদনা। কলেজের অনার বোর্ডে নিজের নামটি চিরস্মরণীয় না করতে পারার ক্ষোভ নিয়ে পার করতে হয় বাকি জীবন। এ থেকে পরিত্রান পেতে হলে ক্যাডেট জীবনের শুরু থেকেই সুচিন্তিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তাই নিজের ছয় বছরের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি থেকেই বর্তমান ক্যাডেটদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ দিচ্ছি।
বহু বছর আগে, একটা সময় ছিলো যখন আমাদের অনেকেই সিসিবিকে নিজের ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলাম। যার যার নিজস্ব জীবনের গন্ডীতে থেকেও দিনের একটা বিরাট সময় আমরা অদ্ভুত ভাবে সিসিবিতে ঢুকে বসে থাকতাম। শুধু চুপচাপ বসে থাকাই নয়, হাসি কান্না হাউ কাউ ঝগড়া ফ্যাসাদ খাওয়া দাওয়া, এরকম প্রাত্যহিক সবগুলো কাজ যেন সবাই মিলে এই একটা জায়গাতেই করতাম। কেন করতাম কিভাবে করতাম এখন হয়তো পুরোপুরি বলতে পারবেনা কেউই,
“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।”
কবি সুকান্ত আঠারো বছর বয়সীদের নিয়ে এই কবিতা লিখলেও ক্যাডেট কলেজ পার্সপেক্টিভ থেকে চিন্তা করলে বলতে হবে “ক্যাণ্ডিডেট টাইমেই অহরহ বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি”। সবচেয়ে ভদ্র সভ্য ক্যাডেটদের মনেও গড়ে ওঠে ডিসিপ্লিন ভঙ্গের নানারকম নীলনকশা।
হাজার দিন বাদে লিখতে বসেছি তাই শিরোনাম দেওয়ার কিছু খুঁজে পাই নি। অন্তত ৪খানা শিরোনাম লিখে কেটে তারপর ভাবলাম শিরোনামের অভাবে বুঝি আমার লেখাটাই আর হবে না। শিরোনাম ছেড়ে তাই বিষয়ে মন দিলাম। আগে তো লিখে শেষ করি তারপর না হয় শিরোনাম।
দুদিন আগে সিসিবির একটা পিকনিক হল। সিসিবির ঐতিহাসিক প্রথম মিটিং এর পর এই আমার দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। ২০০৮ সালের আগস্টে মনে হয় আমরা প্রথম মিট করেছিলাম।
দুপুর ১২টা ১৮ মিনিট। সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩
সকালে উঠতে দেরী হয়ে গেল। আসলে কিছু করার নেই। এখন সূর্য উঠে ৮টা ৩৫ মিনিটে। দেহ ঘড়ি সেই ভাবে নিজেকে ঠিক করে নিয়েছে। এই এলাকার লোকজন শীতকালে কিভাবে ৮টার অফিস ধরে আমার বোধগম্য নয়। ৮টায় অফিস ধরতে যাওয়া মানে আক্ষরিক অর্থে সূর্য উঠার আগে অফিসে ঢোকা। আমার মত অলস বাঙালীর জন্য যেটা চিন্তার বাহিরে। মেক্সিকান অমলেট নামক এক ফাঁকিবাজি নাস্তার মেনু শিখেছি নাইজেলা ল’সন এর ওয়েবসাইট থেকে।
“আফতাব ভাইও মারা গেলেন। নৃশংস খুন। ইত্তেফাকে থাকতে পুরোটা সময় সময় আমি আফতাব ভাইকে পেয়েছিলাম। এখনো কানে বাজে আফতাব ভাইয়ের ডাক-‘মাসুম, ভাইয়া’।
কিছুদিন আগেই মারা গেলেন ইত্তেফাকের শফিকুল কবির ভাই। তিনি তাঁর একটা বই শুরুই করেছিলেন আমার নাম দিয়ে। কবির ভাইয়ের শেষ জীবনটাও কষ্টে কেটেছে।
কাকতালীয় হয়তো, তাও বলি। সেই ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় জাল পরা বাসন্তীর বিখ্যাত ও অতি আলোচিত ছবিটি তুলেছিলেন আফতাব ভাই আর সংগের রিপোর্টার ছিলেন কবির ভাই।”
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য বেকারের খাতায় নাম লিখিয়েছি। স্বগোত্রিয় আরও কয়েকজনের সমবায় সমিতিতে শুরু হল পন্ডিতি। বিকাল বেলা লোকমানপুর স্কুল মাঠে কখনও ক্রিকেট আবার কখনও বাদাম টুয়েন্টি নাইনে বুদ্ধিজীবির ভূমিকা। মাস্টারী করি তাই ছা পোষাদের সাথেও মেলা মেশা শুরু।এমন একজন ছিলেন দলিল চাচা।পেশায় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। মাদার টিংচার থেকে বিভিন্ন মাত্রার ওষুধ তৈরী বেশ ভাল একটা বিনোদন। শিশিটাকে উঁচু করে দ্রুত হাত নামিয়ে আস্তে করে অন্য হাতে ঠেকান।
আজকের দিনটি ছিল খুবই ইউনিক একটা দিন। আগামী ১০০, ১০০০ বা ১০০০০ বছর পরেও এমন আরেকটি দিন আসবেনা। এই তারিখকে স্মরনীয় করে রাখতে নানা কর্মসুচীতে জড়িয়ে যাই। একই দিনে কলেজের ব্যাচের গেট টুগেদার আবার সিসিবি পিকনিক। দুইটার সময়ই দুপুরে। একেবারে কোনটা ছেড়ে নেব কোনটা অবস্থা। শেষমেশ কলেজের বন্ধুদের ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে গেট টুগেদারের সময় রাতে নিলাম আর এতদিন পর ক্যাডেট কলেজ ব্লগের গেট টুগেদার বা পিকনিকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলাম।