ভালো থাকুক আমার স্বপ্নেরা….
সুখে থাকুক তারা…
শান্তিতে বসবাস করুক তাদের পরিবার নিয়ে।
এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম,
জন্মদানের মাধ্যমে তারা বেচে থাকুক আমার মস্তিষ্কের নিউরনে।
সুন্দর স্বপ্নগুলাকে এই বিভৎস বাস্তবে এনে,
আমি ওদের নষ্ট করতে চাই না।
কারন, আমি দেখছি ওদের করুণ মৃত্যু।
আমার সহ্য হয়নি।
আবগের ছোট্ট ছোট্ট অনু দিয়ে যেইটার সৃস্টি,
যেইটার লালনে পরিস্ফুটিত হয় মানব হৃদয়,
অলিন্দ বন্দরে
অলিন্দ বন্দরে।।
যদি অসময় খেলা করে
নিয়মিত কোন সময়ে,
যদি অসহায় হয়ে যাওয়া
পরিনত হয় অভ্যাসে,
যদি সন্দেহ বাঁধে বাসা
হরহামেশা অন্তরে,
তবে বুঝে নিও
গোলযোগ হয়েছে,
অলিন্দ বন্দরে।।
যদি অপারগ মনে হয়
প্রায়শঃই এক দিবালোকে,
যদি প্রলয়ে পিঠে চেঁপে
বনবাস জেঁকে বসে,
যদি অবহেলা এসে যায়
জীবনের যাপনে,
প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ
পঞ্চ পান্ডবের পর বাঙলা ভাষায় আমার প্রিয় কবিদের অন্যতম নির্মলেন্দু গুণ। গুণকে ষাটের দশকের কবি বলা যায়; নাকি সত্তর। গুণকে আর যাই হোক দশকে আটকে রাখা যায় না। তিনি কালোত্তীর্ণ কিনা তা এখনি বলা সম্ভব নয়, কিন্তু তিনি যে যুগোত্তীর্ণ এতে কোন সন্দেহ নেই।
নিজের সম্পর্কে খুব সহজেই ঠাট্টা করতে পারেন এই কবি। দাড়ি রাখেন রবীন্দ্রনাথ সাজতে তাও বলেন।
বিস্তারিত»আঠারো জুনের কবিতা
আজকে তোমার জন্মদিনে মনে পড়ে নৌকাভ্রমণ-
মনে পড়ে ধবলবিলের কাঁচের মতো মেঘলা আকাশ?
মেঘ মাখা নীল,নিঝুম দুপুর-
আমরা ছোঁয়াই সবুজ আঁধার নির্জনতার চক্রবালে
আমরা ছোঁয়াই শীতল আঙুল পরস্পরের অচিন গালে
কলমী ফুলের ছায়ায় হঠাৎ খলসে মাছের চোখ রাঙানী
মনে পড়ে সেই যে তোমার চোখের ভেতর আয়নাখানি?
চিরটাকাল আকাশবিহীন হঠাৎ সেদিন ধবলবিলে
রূপশ্রাবণের একলা আকাশ ছাউনি হলো বিলীন নীলে
কাঠপেন্সিল,নীলের গুড়ো ছড়িয়ে তোমার লাল কাগজে
জাদুকরের রঙিন রুমাল লুকিয়ে ফেলে খোঁপার ভাজে
মনে পড়ে মিথ্যে গল্প লেখা সেসব খাতার চিঠি?
সূর্য সন্তান
জন্ম নিলো হাজারে হাজার
যথেচ্ছ বলাৎকারে
সাদা আর লালচে
হলদে আর কালচে
বর্বর বাবা কাকাদের
দেখে আরও হিংস্র
হয়ে ওঠে ওরা।
আর সব বেজন্মাদের
থেকেও বেয়াদব
ক্রমাগত নখরাঘাতে
বিবস্ত্র করে জননীকে
রক্তের নেশায়।
বিস্তারিত»
ফেরা
স্টেশনে আমি পৌছালাম শেষরাতের দিকে,
বহু পুরনো ঠিকানা আমার,
জানতাম না আবার ফিরে আসতে পারবো কিনা;
হোক না অন্যভাবে, তবু এসেছি আমি আবার।
রফিক চাচা, হোসেন আর কামাল এসেছে-
আমাকে নিয়ে যেতে,
অনেক চেনা জায়গা এটা; তবু এসেছে ওরা।
কারণ, আসতে হয়।
আমাকে নিয়ে এগুতে থাকে ওরা-
সামনেই নতুনবাজারের মোড়।
হাহ, নতুনবাজার!
৬০-৭০ বছরের পুরনো বাজার।
ওমর খৈয়াম ০১

সুরা, সাকী, পদ্য এই তিন মিলে ওমর খৈয়াম।
তবে সবার উপরে প্রেম।
যে নিজেকে না ভালোবাসে সে অপরকে কিরূপে ভালোবাসিতে পারে!
ওমর খৈয়াম এর সংক্ষিপ্ত বিবরণী
গিয়াদ আল-দিন আবুল-ফাত্তাহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-নিশাবুরী খৈয়াম (জ. মে ৩১ ১০৪৮ – মৃ. ডিসেম্বর ৪, ১১৩১) একজন ইরানের কবি, গণিতবেত্তা, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ। ইরানের নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করার পর যুবা বয়সে তিনি সমরখন্দে চলে যান এবং সেখানে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
ভূমিকম্প
ভূমিকম্প হয়েছে কতই তোমার আমার চুমোতে
সেই কথা ভেবে কাল রাতে আমি কেন যে পারিনি ঘুমোতে
কেঁপেছে শরীর তীব্র আদরে এতটা কাঁপেনি মাটি
তুমি হয়েছিলে কামনার নদী যেখানে সাঁতার কাটি
ভূমিকম্প হয়েছে দু’জনে মাত্রা গিয়েছে ছাড়িয়ে
বিপর্যস্ত আমার নগরী তোমাতে গিয়েছে হারিয়ে
শত সহস্র প্রোটিন পাচার হয়েছে ঠোঁটের কিনারে
চুমুগুলো সব প্রভাতফেরীতে গিয়েছে তোমার মিনারে
কেঁপে উঠেছিল তোমার শরীর কেঁপেছে দেহের বাঁক
লণ্ডভণ্ড হয়েছি দুজনেই কামনায় পুড়ে খাক
দুটি নিঃশ্বাস মিলে গিয়ে যেন হয়েছিল ঝর হাওয়া
শান্ত ছিল না দেহ উপকূল শরীরের আবহাওয়া
ভূমিকম্প আবার হবে তোমার আমার ভূমিতে
তুমি মিশে যাবে আমার ভেতরে আমিও তলাবো তুমিতে
কবিতা। বাহাদুর শাহ জাফর
এই লুণ্ঠিত ভূমিতে আমার হৃদয়ের আর বিশ্বাস নেই,
কে-ই বা পূর্ণতার অনুভূতি পেয়েছে এই অর্থহীন পৃথিবীতে।
বসন্তের মোহময় সময়ে
বুলবুল তার অভিমানী কন্ঠে বলেছে
প্রহরী কিংবা শিকারী নিয়তির রায়ে
আমি শৃঙ্খলিত নই।
এই তীব্র অপেক্ষার আকুতিকে বল
অন্য কোথাও বসতির,
এই বিবর্ণ হৃদয়ে
তার সুযোগ্য স্থান নেই।
ফুলের ডালে বসা বসন্তের মৃদু সমীরনে
আন্দোলিত বুলবুল
আর আমার হৃদয়ের বাগানে
কন্টক ছড়ানো।
ম্যাজিক দৃশ্য
তিনটি পাখি ডাইনে গেলো, চারটে পাখি বাঁয়ে
আর কে দিলো নুনের ছিটা কাটার ওপর ঘাঁয়ে?
চালের চেয়েও সস্তা আটা, নুন ও তেলের চেয়ে
ম্যজিক দৃশ্যে বদলে যাচ্ছো, বুঝতে পারো মেয়ে?
নুন আনতে পানা ফুরায়,পান্তা আনতে তেল
পথের পাশে কুড়িয়ে পাওয়া লাল রঙা ককটেল
দশম শ্রেণীর শেকল তোলে র্যাটম খাওয়া কনে
চারটে আঙুল উড়ে গেলো হঠাৎ বিস্ফোরণে
তিনটি আঙুল উড়ে গেলো প্রিয় পাখির মতো
ডান ও বায়ের পাখিগুলোও ঘুরছে অবিরত

ছোরাটির কিছু কথা
এক।
এবং সে ছোরা,
খালের ঘোলাজলের
কোলাহলে
পড়ে থাকা সে
একদা-রক্তাক্ত
ক্লান্ত হতাশ ছোরা –
রাগে নিশপিশ বাঁট নিয়ে
একদা-উদ্ধত
একবুক যৌবন নিয়ে
মিছেমিছিই
দেখে স্বপ্ন
আর গুনগুন করে গান :
আ হা,
তেমন হাতে
ফিরে গেলে ফের
যকৃৎ কণ্ঠনালী চিরে চিরে
ফোটাতো কত
বর্ণিল বাগান!
দুই।
বিস্তারিত»জ্যৈষ্ঠের দুপুর ও বৃষ্টি আবাহন
জ্যৈষ্ঠের দুপুর
করোটিতে সূর্যকিরণ
মগজ হলো কর্পূর
জ্যৈষ্ঠের দুপুর।
বৃষ্টি আবাহন
ডিম মুখে পিঁপড়ের দল চলছে সারি সারি
ঝালাপালা হলো কান ঝিঁঝিঁর কিরি কির কিরি।
গলা ফুলিয়ে কোলা ব্যাঙ
গাইবে শুধু ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ।
ঝমঝমিয়ে মুষলধারে নেমে আসুক বারি !
[০১.০২.১৪২১]
বিস্তারিত»কালবৈশাখী
কালবৈশাখী
ধূলা বালি শিমুল তুলা
খড়কুটা ঝরা পাতা
শোঁ শোঁ শোঁ পাগলা হাওয়া
রাতকানা চোখে
খিচখিচে ধোঁয়া।
গুড় গুড় গুড় মেঘের ডাক
কড় কড় কড় বিজলীর হাঁক
মড় মড় মড়াত
কড় কড় কড়াত
ঘরের চাল গাছের ডাল
কলা বাগান পেপের ক্ষেত
জলে ভেজা বজ্রপাত
শেকড় বাকড় চিতপাত।
[০১.০৫.২০১৪ রাতে যেমন দেখলাম]
প্রণয়োন্মাদের প্রলাপ-২
একটা কবিতা শুনিয়ে সে
গাঢ় চোখে চেয়ে জানতে চেয়েছিল-
“কেমন লাগলো?”
জানিনা কেমন লেগেছিল আমার।
তবু কেন অঙ্কের খাতায় বার বার ভুলে-
লিখে আসি সেই কবিতা?
কিছু একটা ভুল করে-
লাজুক হেসে বলেছিল-
“আর হবে না”।
কী হবে না, কেন হবেনা, প্রশ্ন করিনি আমি।
খালি চেয়েছিলাম-
ভুল হোক;
এক, দুই, তিন, সহস্রবার।
বৈশাখ ১৪২১
শিমুল তুলো
গগনবিহারী শিমুল তুলো
মিতা গরম হাওয়া
আর ধূলো।
তপ্ত বিষাদ
অনল প্রবাহে তপ্ত মগজ
শীতলীতে মস্তক মুণ্ডণ
হরিষে বিষাদ স্বমেহন।
ফটিক জল
দিঘীর তলার কাদা ফাটে
মিন মণ্ডুক চাতক কাঁদে
ফটিক জল ফটিক জল।
বৈশাখী অশ্রু
বৈশাখী গরম হাওয়া
আগুনের হলকায়
কাঁদার আগেই অশ্রু শুকায় !


