পঞ্চ পান্ডবের পর বাঙলা ভাষায় আমার প্রিয় কবিদের অন্যতম নির্মলেন্দু গুণ। গুণকে ষাটের দশকের কবি বলা যায়; নাকি সত্তর। গুণকে আর যাই হোক দশকে আটকে রাখা যায় না। তিনি কালোত্তীর্ণ কিনা তা এখনি বলা সম্ভব নয়, কিন্তু তিনি যে যুগোত্তীর্ণ এতে কোন সন্দেহ নেই।
নিজের সম্পর্কে খুব সহজেই ঠাট্টা করতে পারেন এই কবি। দাড়ি রাখেন রবীন্দ্রনাথ সাজতে তাও বলেন।
সুরা, সাকী, পদ্য এই তিন মিলে ওমর খৈয়াম।
তবে সবার উপরে প্রেম।
যে নিজেকে না ভালোবাসে সে অপরকে কিরূপে ভালোবাসিতে পারে!
ওমর খৈয়াম এর সংক্ষিপ্ত বিবরণী
গিয়াদ আল-দিন আবুল-ফাত্তাহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-নিশাবুরী খৈয়াম (জ. মে ৩১ ১০৪৮ – মৃ. ডিসেম্বর ৪, ১১৩১) একজন ইরানের কবি, গণিতবেত্তা, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ। ইরানের নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করার পর যুবা বয়সে তিনি সমরখন্দে চলে যান এবং সেখানে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
এক।
এবং সে ছোরা,
খালের ঘোলাজলের
কোলাহলে
পড়ে থাকা সে
একদা-রক্তাক্ত
ক্লান্ত হতাশ ছোরা –
রাগে নিশপিশ বাঁট নিয়ে
একদা-উদ্ধত
একবুক যৌবন নিয়ে
মিছেমিছিই
দেখে স্বপ্ন
আর গুনগুন করে গান :
আ হা,
তেমন হাতে
ফিরে গেলে ফের
যকৃৎ কণ্ঠনালী চিরে চিরে
ফোটাতো কত
বর্ণিল বাগান!
তুমি আমাদের কষ্ট চেনাতে এসো না
বৈশাখের নির্দয় রোদ আমাদের চেনাতে এসো না
সাবধান করে দিচ্ছি।
মাধ্যাকর্ষণের টানে কপাল থেকে নেমে আসা ঘাম যখন চোখের পাতা ভিজিয়ে দেয়,
তখন কৃষ্ণচূড়ার ডালে কত রঙের আগুন খেলা করে
সেটা তোমার চেয়ে অনেক ভালো জানি আমরা।
তুমি আমাদের আগুন চেনাতে এসো না।
যে ব্যথায় তোমার চোখ ফেটে জল বেরিয়েছে
তুমি মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে তীব্র চিৎকার করে কেঁদেছ
সেই একই ব্যথায় আমরা দাঁতে দাঁত চেপে পিঠ টান করে উঠে দাঁড়িয়েছি।