ইতিহাস স্যার জিজ্ঞেস করলেন, বল দেখি মাহাত্মা গান্ধীকে কে খুন করেছিল?
রতন উত্তর না দিয়ে উদাস ভঙ্গিতে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে।
স্যার ধমক দেন, বল গান্ধীকে কে খুন করেছিল?
আমি কী করে জানব স্যার! আমি তো খুন করিনি। কাউকে করতেও দেখিনি।
ক্লাস এইটের ছেলের এই উত্তরের পর যে কারোই মাথা ঠাণ্ডা রাখা কঠিন। কাজেই রতন আচ্ছা একটা ধোলাই খেলো। ইতিহাস স্যার শুধু ধোলাই দিয়েই খুশি হন না,
মাঝে মাঝে তোমার চোখে থমকে তাকাই কেন?
বোঝনা তা! জানিও বুঝবে না।
কারন কবিদের চোখে বিশাল আকাশ,
যার আসমানী বুকে পেঁজা পেঁজা মেঘ; হঠাত কখনো,
গোধুলী আলোয় তাতে অনেক অচেনা রঙ।
কবিরা উলুখড়, যেন বিদেশী হাওয়ার প্রেমে
চিরচেনা ঘাস-মাটি ছেড়ে-ছুঁড়ে চলে যেতে চায়।
তারা প্রেমিকাকে পাশে রেখে তার পানে চায়নাকো!
বরং উদাত্ত আকাশ বা শিরীষ গাছের দিকে চেয়ে
কি উদাস কল্পনায় তার ঠোঁটে রাখে ঠোঁট!
২০০০ সাল। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে আইসিসিএলএম চলছে। আমরা তখন ক্লাস টেন-এ। আমি গিয়েছিলাম ব্যান্ড পার্ফরমার হিসেবে, কিবোর্ডিস্ট। ওটা আমার প্রথম ইন্টার ক্যাডেট কলেজ মিট-এ যাওয়া। অন্যরকম এক্সাইটমেন্ট। সিনিয়ররা কলেজ থেকে আসার সময় বলে দিয়েছে ওই টাইমটা ফ্রি– কোন ইয়েস প্লীজ, নো প্লীজ এর বালাই নাই, কথা বলার সময় সাবধান হয়ে দাঁড়ায় থাকার দরকার নাই;
অনেকের কোন কিছু হয়ে ওঠা হয় না। অনেকে সেটা শুরুতেই বুঝে যায় যে তাদের কিছু হয়ে ওঠা হবে না। তখন তারা একধরনের হাল ছেড়ে দেয়া অনুভবে ভাসতে থাকে। তারপরে একটা সময়ে সেই এলিয়ে পড়া অনুভূতিটাই তাদেরকে অভ্যস্ত করে ফেলে দৈনন্দিন ঘটনাবলীতে। তারা বুঝে ফেলে যে এই কোন কিছু না হয়ে ওঠা, কোনকিছু না করে ফেলাটাই একটা বড়ো কঠিন কাজ। এবং এরকম ক্রিয়াটি সুসম্পন্ন হলে তারা তৃপ্ত হয়।
(পূর্ব প্রকাশিতের পর..)
নীলা।দুইটা অক্ষরের ছোট্ট নাম।ওর চোখ আকাশের মতো নীল।তাই আদর করে আমি নীলা ডাকি।নীল আমার ফেভরিট কালার কিনা!ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে।কিভাবে পরিচয়,আর একদিন বলব।
আমার হইছে এক জ্বালা!আমি সাইন্সের আর ও আর্টসের।আমি যখন তাকে “কার্শফস ভোল্টেজ ল” আর “কার্শফস কারেন্ট ল” বুঝাই,সে বলে”এই গুলার মধ্যে কোন রস আছে নাকি!এই নাও ‘মানব জমিন’”।ও ব্যাগ থেকে বই বের করে দেয়।”ও,ওই ব্যাটা তো ক্যারেক্টারলেস।কার না কার সাথে সম্পর্ক বাধাইছে।আবার কিনা পাহাড়ে যাইতে চায়।কত্ত বড় সাহস।এত জনরে ঘুরাইয়া শেষে কিনা চইলা যায়!”ওকে রাগাতেই এত আয়োজন।রাগলে ওকে খুব সুন্দর লাগে।
একে একে সবাই চলে গিয়েছে
প্রার্থণার পর,শূণ্য গীর্জা
পড়ে থাকে আবছা অন্ধকারে
হঠাৎ আলোকিত হয় বেদী
ঈশ্বরের দূত অবস্থান নেয়
একটি মোমের উপর
যীশু আর একা নয়
সে এখন ক্রুশবিদ্ধ,রক্তাক্ত
এবং নগ্ন এক সুখী পুরুষ।
কি পড়ছি: এবারে বই মেলায় যাই শেষ দিন । ভাবতেই পারি না বই মেলা হচ্ছে আর আমি যাইনি। এক সময় তো বই মেলাতেই পড়ে থাকতাম। বই কেনা আমার নেশা। এই প্রথম মনে হয় বই মেলা থেকে জাফর ইকবালের কোনো বই কেনা হল না। এই আফসুসটা থেকে গেল। বই কেনা হল। আর উপহার পেলাম নজরুলের লেখা বইটি। নজরুল আর ওর বউ নুপুর দুজনে মিলে বইটা দিল।
বাচ্চাদের সাথে বড়দের বুঝে শুনেই চলা উচিত। বাচ্চাকাচ্চার সাথে কোন অবস্থাতেই টক্কর দেয়া উচিত না। বাচ্চারা তাদের সাথে বিটলামির প্রতিশোধ যে ভয়ংকরভাবে নেয় তা বলাই বাহুল্য। এমন অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই সবারই হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতাগুলোই শুনুন তাহলেই বুঝবেন কেন বাচ্চা ভয়ংকর….কাচ্চা ভয়ংকর …. :
আমার ভাগ্নে তামিম এর বয়স ৫ বছর। গত সপ্তাহে তার খৎনা করা হয়েছে। সে ঐ অবস্থায়ই সমানে দৌড়ঝাঁপ করে যাচ্ছে।
আমার ছোটভাই আপাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করল তামিমের খবর।
১৯৫৪ সালে জন্ম মেয়েটির। মস্কোর রাস্তায় রাস্তায় ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতো। মেয়েদের পক্ষে ভবঘুরে হওয়া অতোটা সোজা নয়। কিন্তু লাইকার জন্য তা আসলেই সোজা ছিল। কারণ তার জন্ম কোন মানুষের ঘরে হয়নি। হয়েছে এক কুকুরের ঘরে। মানব সমাজে লিঙ্গভেদ থাকলেও আমার জানামতে কুকুর সমাজে তা খুব একটা নেই। নানা দিক দিয়ে বরং মেয়ে কুকুরেরাই বেশী সুবিধাভোগী।
সুখ-দুঃখ মিলিয়ে ভালই কাটছিলো লাইকার দিনগুলো। তাকে তখন কেউ লাইকা নামে ডাকতো না।
“এই তুই আমার মাথায় মারলি ক্যান?”খাইছে!ক্ষেপছে!কিছুই করি নাই।খালি দুষ্টামি করে ওর মাথায় একটা চাটি মারছি।ধ্যাত,বিকালটাই আজ মাটি হয়ে গেল।খুব রাগলে ও তুই-তোকারি শুরু করে।
“আমি বলছি না,আমার মাথায় কখনো মারবে না!আমার মাথা ব্যাথা করে।”ওর সাইনোসাইটিস আছে জানতাম,কিন্তু দুষ্টামি করে চাটি মারার জন্য মাথা এত ব্যাথা করার কথা না,যার জন্য রেগে টং হতে হবে?
টিএসসির ক্যাফের পাশে দুজন পাশাপাশি বসে আছি।ওর হাতটা আমার হাতের মুঠোয় নিয়ে আদর করতে লাগলাম।যা রাগছে!বছরে খুব হলে তিন থেকে চার দিন নীলার সুন্দর মুখটা দেখতে পাই।দুজন বাংলাদেশের দুই প্রান্তে থাকি কিনা!এই সময়টুকু অভিমানে নষ্ট হোক চাই না।