১২ বছর বয়সে যখন ক্যাডেট কলেজএর গেট দিয়ে প্রবেশ করলাম তখন দু’ ধরনের অনুভুতি ভর করেছিল আমায়।প্রথমত স্বপ্ন পুরন হওয়ার আপ্লুত এক আনন্দ, দ্বিতীয়ত অচেনা এক নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার অজানা এক আতঙ্ক। সেদিন নিজেকে অনেক বড় মনে হছিল, কিন্তু এখন যখন ক্লাস ৭ কিংবা ৮ এর কোন ছেলের দিকে তাকাই তখন নিজে নিজে চিন্তা করি আসলে কতটা ছোট ছিলাম আমরা।
সেই ক্ষুদ্র বয়সে কৈশোর জীবনে বাবা-মা পরিবার পরিজন ছেড়ে বের হয়েছি।
কখনো বলা হয় নাই, লন্ডনে প্রত্যেকটা কাউন্সিলে লাইব্রেরী রয়েছে। বাঙালি অধ্যুষিত হওয়ায় প্রচুর বাংলা বই পাওয়া যায়; যা খুবই সুখকর একটা বিষয়। যদিও এখানের লাইব্রেরিতেই প্রথম কাসেম বিন আবু বাকারের বই পাই। কিন্তু একটাও আবুল বাশারের বই নাই। লাইব্রেরিতে বললাম একথা। দেখি কি করে? অনেকদিন আবুল বাশারের বই পড়িনা। নকশাল আন্দোলন নিয়ে ওনার একটা বই বেরিয়েছিল অনেক আগে। ২য় খণ্ড বেরিয়েছে কিনা জানিনা। অন্য কোনও লেখক এতো ব্যাপক ও গভীরভাবে নকশাল নিয়ে লিখেছেন বলে মনে পড়েনা!
গতকাল হঠাৎ করেই মেহেদির “মা” কে নিয়ে লেখা ব্লগটি পরে একটা ব্লগ লিখতে ইছা হল। জীবনে কখনও ব্লগ লিখিনি, তাই সব সময়ই মনে হত এই ব্লগ লেখা হয়ত আমার জন্য নয়। হয়ত ব্লগ লেখার মত যথেষ্ট যোগ্যতা আমার নেই। কিন্তু আজ হঠাৎ সিধান্ত নিলাম লেখার। আদৌ জানি না কেমন হবে। ভুল ত্রুটি নিজ গুণে ক্ষমা করবেন প্রথম ব্লগ বলে। লেখার সিধান্ত নেয়ার পর প্রথমেই মনে হল যে আমার প্রথম ব্লগটি লিখবো “আমার বাবা”
লিজা বারান্দায় দাড়িয়ে। বাইরে খুব ঝড় হচ্ছে আজকেও আবীর আসবে কাক ভেজা হয়ে। আর ড্রাইভার আসবে ওর আগে এসে কাচুমাচু মুখে বলবে “স্যারকে নিষেধ করছি স্যার শোনে নাই।”অভ্যাসটা আবীরের অনেক পুরানো।তখন আমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে খুব ঝড় আর বৃষ্টি বাইরে ও ভিজে এসে আমাকে বলল চল “বৃষ্টিতে ভিজি।”আমার খুব হাসি পেয়েছিল।কিন্তু আমি গিয়েছিলাম রিকশার হুড খুলে আমরা ভিজছিলাম কেন জানি আমার মনে হয়েছিল আবীর কাদছিল আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিল।আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিধারা আর ওর চোখের জল হয়ত মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল আমি কিন্তু বুঝেছিলাম সেদিন।
আজ “মা” দিবস নয়। তারপরও আজকের লেখাটা মাকে নিয়েই লিখলাম।
ফটিকের গল্পটা মনে আছে? “ছুটি” গল্পে ফটিক কেমন নির্বিকার ভাবে মাকে বলে গেলো, ” মা, আমার ছুটি হয়েছে, আমি যাচ্ছি……”।
ফটিকের সেই বিদায় কেন জানি আজ অবধি আমাকে কাঁদায়।
আমার মা একটু পাগলা কিসিমের। সন্তানের জন্য এত অফুরন্ত ভালোবাসা একজন মা কিভাবে বুকে ধারন করে রাখতে পারে, তা আমি আমার মাকে দিয়েই বুঝেছি।
এই কবিতার একটা ইতিহাস আছে।তখন আমাদের হাউস মাষ্টার হল জামসেদ স্যার।আমাদের ক্লাসে একদল উঠতি কবি ছিল যারা কিনা নাইট প্রেপে বসে কাব্য চর্চা করত।আমিও সেই দলের এক কবি।যা হোক একদিন খুব মনোযোগ দিয়ে কবিতা লিখছি।হঠাৎ কেউ একজন টান দিয়ে আমার খাতা টেনে নিল।মাথা ঘুরিয়ে দেখি স্যার আর যাবা কই।আর এই কাজের শাস্তি হিসেবে স্টাফ লন্জে সব স্যারের সামনে এই কবিতা আবৃত্তি করতে হয়েছিল।আজও কবিতা লিখতে গেলে মনে পড়ে।তবে কবিতাটা শেষ করা হয়নি আজও
শুধু তোমার জন্য
আজও হেটে চলেছি জীবনের আকা-বাকা পথ ধরে
বন্ধুর পথে শুধু থুবড়ে পড়েছি
রক্তাত্ত হয়েছি,ক্ষত-বিক্ষত হয়েছি
তুবও থেমে যায়নি
শুধু তোমার জন্য
আজও স্বপ্ন দেথি
হাজারো দুঃস্বপ্নের ভীড়ে
শুধু তোমার জন্য
বুকের ডান পাশে জমিন ফাকা
কোন রিয়েল স্টেট কোম্পানীর প্রলোভনে
বিক্রি করেনি
শুধু তোমার জন্য
রাস্তার মোড়ে বসে সিগারেটে দম দেয়না
অফিস ফেরত আন্টিদের শিস দেয়না
শুধু তোমার জন্য
বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে
কাক ভেজা হয়ে ঘরে ফিরি
কবিতা ও গানের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। তারা শুধু তার মাঝেকার অন্তর্নিহিত ভাবের মাঝে সীমবদ্ধ থাকে না। মাঝে মাঝে তারা ধারণ করে পাঠক অথবা শ্রোতার হারিয়ে যাওয়া সময়কে। যে সময় খুঁজে পাওয়া যায় না শুধু নিজের স্মৃতিকোঠা ছাড়া সেই সময়ই হাপুস করে বেরিয়ে আসে কবিতা ও গানের কোল থেকে। প্রতি পাঠেই পূর্ব চর্চিত কোন এক সময় ফিরে আসে শ্রোতার মাঝে। তখন সেই প্রিয় সময়ের মতো কবিতাও আপন হয়ে যায়।
জমজমাট সিসিবি তে টুশকি কে খুব মিস করছি। সায়েদ ভাই তো ভুলেও এদিকে আসেন না। কিছু দিন আগে (চোখের নিমিষে ২/৩ বছর কেটে যায়) আমি টুশকি জুনিয়ার নামে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় জমজমাট সিসিবি তে আবারও ছোট টুশকির আগমন।
১। প্রাণবন্ধু স্যার সব খেলাতেই রেফারীর দায়িত্ব পালন করতেন। ফুটবল কম্পিটিশনের সময় ১৬তম ব্যাচের মাসুম ভাইয়ের হ্যান্ডবল হল নিজেদের গোল পোষ্টের খুব কাছাকাছি।
…u can not make people listen to u, they are so busy preaching their own religion..interestingly u are not hearing too, coz, u hav your own.
সব মানুষকে মনের কথা খুলে বলা যায় না…মানুষ তার নিজের মনের কথাটা শোনাতে এত ব্যস্ত থাকে যে, তোমার কথা গুলো তার মাঝে হারিয়েই যাবে। তার বক্তব্যের চাপে তোমার সহজ সরল অভিজ্ঞতা গুলো, ভুল প্রমাণিত হয়ে মিথ্যে হয়ে যাবে।
খরদুপুরে শাহবাগের মোড়ে দাড়িয়ে থাকা এক তরুণ। হাতে একগুচ্ছ গোলাপ। বেশকিছুক্ষন পর হাতের মোবাইলে পরিচিত রিংটোন-
মোবাইলের এপাশ ঃ হ্যালো
ওপাশ ঃ তুমি কোথায়?
এপাশ ঃ শাহবাগের মোড়ে ফুলের দকানের সামনে।
ওপাশ ঃ এইতো আমি চলে এসেছি, কতক্ষণ ধরে wait করছিলে?
এপাশ ঃ বেশি না, মাত্র ১ ঘণ্টা!!
ওপাশ ঃ আহারে……এইতো তোমাকে দেখতে পাচ্ছি…।
গতকাল এক বাসায় গিয়েছিলাম বেড়াতে। ঠিক বেড়াতে যাওয়া নয়। রোগী দেখতে। বেচারা বাংলাদেশে গিয়েছিল বেড়াতে। কোথায় কি খেয়েছে খোদা মালুম, salmonella বাধিয়ে ফেরত এসেছে।
বাংলাদেশের সাথে যোগসূত্র এখন বাবা, মা, আত্মীয়স্বজন, এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ফোনালাপ। সময় পেলে টিভি দেখি এন টিভি (ফালুর টেলিভিশন তো সব কথা ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারিনা), এ টি এন (সারাক্ষণ ডক মিয়ার; মালিক বা তার গুণবতী স্ত্রীর গাআআন আর তৃতীয় শ্রেণীর নাটক),
[তাইফুর ভাইয়ের কমেন্টের সূত্র ধরেই লিখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু বড় হয়ে যাওয়ায় পোস্ট আকারেই দিয়ে দিলাম। এটি তীব্র সাম্প্রদায়িক, নারীবিদ্বেষী এবং সংকীর্ণ পুরুষতান্ত্রিক একটি পোস্টের জবাবের জবাব। কাব্যগুলোয় আপাত দৃষ্টিতে নারীদের পক্ষ অবলম্বন করলেও কবি আড়ালে বলেছেন অন্য কথা যা সেই প্রাক্তন পোস্টকেই সাপোর্ট করে । যার নমুনা প্রতিটি কাব্যের অর্থের ভিতরেই লুক্কায়িত….এবং যাহা অতীব সত্য :grr: :grr: ]
এক.
বিকেল বেলা চটপটি
পড়ে থাকে কটকটি
[অর্থ: প্রেমিকার সঙ্গে ডেট করে আইসিডিডিআরবিতে ভর্তি ………………..]
আসল অর্থ: প্রেমিকার সাথে ডেট করাকে কবি লুজ মোশনের সাথে তুলনা করেছেন।
ব্লগের এই দুর্দিনে আমি একটা বিশাল পোষ্ট দিতাম চাই।
” শৈবাল দিঘীরে বলে উচ্চ করি শির
লিখে রেখো দুই ফোটা দিলেম শিশির। ”
যাক আযাইরা প্যাচাল না পাইরা এইবার আসল কথায় আসি। আমি গত ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১১ তে ছোটখাট একটা বিয়া করছিলাম। সেই বিয়াটাকে একটু টাইনা বড় করতে মঞ্চাইতাছে। অনুষ্ঠানটা করা হয় নাই। হঠাত করে ভাবলাম করেই ফেলি। যেই কথা সেই কাজ।
ইনসমনিয়ার বাংলা তো অনিদ্রা। দুটো একই শব্দের রূপ, ভিন্ ভাষায়; অথচ শব্দ দুটোর চরিত্র কী আলাদা! ইনসমনিয়া শুনলে মনে হয় জ্যাজ শুনছি। নিদেনে কোনো পুরানো ব্লুজ, পঞ্চাশের দশকের পিয়ানোর সুর। আভিজাত্যের সাথে সংবেদনের যোগাযোগ। তার সাথে নিশ্চুপ রাত, ভ্রম হয় রাতের পিঠে অন্ধকার সরীসৃপের মতো জানালার বাইরে শুয়ে আছে। শুয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। হয়তো একটু পরে আমার ঘরে ঢুকে পড়বে।
মা,
আমি জানি, তুমি আমার এ চিঠি পড়ে মন খারাপ করবে। সেই যে আমি বাড়ি থেকে চলে এসেছিলাম,তারপরে তো আর বেশিদিনের জন্য তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমুতে পারিনি। কথা দিচ্ছি মা, এইবার একেবারে আমি আমার সব কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরব।
তুমি কি এখনো আমার পথ চেয়ে বাড়ির উঠোনে বসে রও ? এখনো কি তুমি আমি রাতে ফিরতে পারি ভেবে মোটা কাঁথায় বিছানা করে রাখ ?