স্বপ্নের বাসর

(বাসর রাতে কী হবে, এটা নিয়ে কমবেশি চিন্তা হয়ত সবার মাথায়ই উঁকি দেয়। আমরা যারা এখন ‘কুমার’, এই চিন্তাটা আমাদেরই বেশি। বাসর রাতে বৌয়ের সাথে আমার কী কথা হবে, সেটাই উঠে এসেছে এই কবিতায়। প্রথমে স্বামী, এরপর স্ত্রী এভাবে নিচে নিচে কথোপকথন হিসেবে পড়ে যেতে হবে এটা। কবিতাটা তাইফুর ভাইকে গিফট করা হলো। :gulti: )

-অবশেষে এলো এই রাত
সহস্র প্রতীক্ষার প্রহর পেরিয়ে এলো এই রাত।
মায়াবী জ্যোত্স্নায় হৃদয় মাতাল করে এলো
তোমায় আপন করে নেবার মহেন্দ্রক্ষণ হলো।

-সত্যি প্রিয় হায়
কতো শত রঙ্গে এঁকেছি তোমায়।
অবশেষে পেলাম তোমার মিলন,
এ যে কী এক মধুর স্বপন।

-স্বপ্ন নয়গো প্রিয়া, এতো সত্যিকারের আমি।
তোমায় স্মরে প্রেমের কাব্য লিখেছে যেই স্বামী।
এইতো আমি।

-হাতটা তবে ছোঁও একটু, দেখাও সত্যখানি।
স্পর্শে তোমার কল্পনা সব হারাক এখুনি।
তোমার বুকে মাথা রেখে এতোদিনের আল্পনা-
মিলিয়ে দেখি কতোটুকু সত্য হলো ভাবনা।

-হাতটা ছোঁব আর কিছুনা,
লতার মতো জড়িয়ে থেকো এই বাসনা।
তোমায় নিয়ে গড়বো প্রেমের বাসর রচনা।

-সারাজীবন সঙ্গে রবো এই কামনা।
দিচ্ছি কথা, তোমায় ছেড়ে কোথা যাবনা।
কেবল আদর বিনে আর কিছুই চাইবনা।

-আদর অনেক পাবে যদি লক্ষ্মী হয়ে থাক।
মিষ্টি হেসে পুরো বাড়ি মাতিয়ে যদি রাখো।
সোহাগ দিয়ে সারাটাক্ষণ প্রাণ জুড়িয়ে ডাক।

-প্রেম দেবগো উজাড় করে, দ্বিধা রবে নাকো।
চাইবে যা চাও যেমন খুশি, না করব নাকো।

-তোমায় পেয়ে সত্যি হলাম ধন্য বড় প্রিয়া।
এক অনুরোধ, রাখবে বলে আশা বুকে নিয়া-
করছি আরজ, আমার মাকে জড়িয়ে রেখো ভালবাসিয়া।
মা যে আমার বড়ো অভাগী, সারা জীবন গেলো
আমার সুখের কথা স্মরে শুধু কষ্ট পেলো।
বাবা যদিবা থাকতো বেঁচে হয়ত হতো কিছু
একা একা জীবনটা তার কাটলো রয়ে পিছু।

-তোমার মা যে আমারও মা, ভাবছ কেন মিছে
সেবা-যত্নে রাখবো তাকে, রাগ না করেন পাছে।
তুমি কেবল চলার পথে ধরিয়ে দিও ভুল
সদাই রবো তৈরি আমি নিতে মাশুল।

-এইতো হলো হামদাম আমার, এইতো পরানপ্রিয়া
জগতশ্রেষ্ঠা বৌ হলে মোর, তাই দিয়েছি হিয়া।

-খোদার কাছে এই মিনতি, মিলেমিশে রেখো,
সারাজীবন ভালবাসায় জড়িয়ে যেন থাকো।

-ঢের হয়েছে কথার মালা
এবার শুবে এসো,
শিয়রপাশে ফুলের মেলা
সুবাস জুড়ে মেশো।
বাতায়নে হাসে মিষ্টি
বাঁকা চাঁদ ওই দেখো,
আমার ঘরে বাসে নটি
নয়নভরে চেখো।।

(শব্দার্থঃ 😛 স্মরে= স্মরণ করে, হামদাম= প্রিয় বন্ধু, বাসে= বাস করে, বাতায়ন= জানালা।)

৪,০৯৬ বার দেখা হয়েছে

৩৩ টি মন্তব্য : “স্বপ্নের বাসর”

  1. ফয়েজ (৮৭-৯৩)
    বাসর রাতে বৌয়ের সাথে আমার কী কথা হবে, সেটাই উঠে এসেছে এই কবিতায়।

    উইশ ইউ লাক।

    তয় কবিতায় কথা কইবানা আমি নিশ্চিত।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  2. তাইফুর (৯২-৯৮)

    গিফট পায়া ধণ্য হইলাম।

    বদ পুলাপান ব্রাকেটেড অংশ পড়তে পারে, তবে মন্তব্য করতে নিরুৎসাহিত করা হল ... (বিয়ে'র পর তিন মাস সংসার করতে না করতেই সুদান চইলা আসছি ... দেশে ফিরে সব আবার নতুন করে শুরু করব ... আবার বাসর থেকে ... হা হা হা ...)

    ছোটবেলায় পাঠ্য কবিতা'র পরে যেরাম শব্দার্থ থাকত, সেরাম করে কবিতার শেষে শব্দার্থ দেয়ার আইডিয়াটা ভাল লাগছে ... আবার পরীক্ষা নিবি না তো ??


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
    • আলম (৯৭--০৩)
      দেশে ফিরে সব আবার নতুন করে শুরু করব … আবার বাসর থেকে … হা হা হা …

      একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু করতে পারেন, তাহলে সেরাম আমেজ থাকবে। 😉 (অনুষ্ঠানে আমরাও থাকতে চাই কইলাম 😛 )

      পরীক্ষার আইডিয়াটা ভাল। দেখি, ইরাম কিছু করা যায় কিনা। B-)

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।