ছোট মুখে কিছু বড় কথা (রাজনীতি সম্পর্কিত)

জানিনা আমার এই লেখাটা কে কিভাবে নেবেন। হয়ত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ততটা পরিপক্ক হয়নি বলে লেখার অনেক বিষয়ে ভুল চিন্তাধারায় প্রতিফলন ঘটেছে। তাই শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আশা করছি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে ভুলগুলো শুধরে দেবেন।

রাজনীতি সচেতন নাগরিকরা গণতান্ত্রিক দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে। আর আমাদের দেশের প্রায় ৯০% প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের আড্ডার বিষয় হচ্ছে ‘রাজনীতি’। কিন্তু তাই বলে কি আমরা বলতে পারি যে তারা সবাই রাজনীতি সচেতন? আমার কিন্তু তা মনে হয়না।
দেশের অধিকাংশ মানুষই অন্ধভাবে একটি দল কে সমর্থন করে। সেই দল যাই করুক না কেন তা তাদের কাছে সঠিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর অপর দল ভাল কিছু করলেও তা খারাপ প্রমান করতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়। তাছাড়া প্রভাবশালী দলগুলোর প্রত্যেকটিই ক্ষমতায় যাবার পর দলীয় আক্রোশ মেটানোয় মনযোগী হয়ে পরে। তাদের কাজ দেখে মনে হয় দেশের স্বার্থ নয়, দলীয় ও ব্যাক্তিগত স্বার্থটাই মুখ্য। এই অবস্থার পরিবর্তন কবে হবে?
প্রশাসনে দলীয়করন আর ব্যাক্তিস্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ এই রাজনীতির পরিবর্তন না হলে দেশের উন্নয়নের গতি আজীবন কচ্ছপের ন্যায়ই থেকে যাবে। কাজেই আমাদের প্রকৃতপক্ষে সচেতন হতে হবে এবং একচোখা সমর্থন ও biased চিন্তা-ভাবনা দূর করতে হবে।

একটা গণতান্ত্রিক দেশে ছাত্র-রাজনীতি থাকবে – এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে যে ছাত্র-রাজনীতি বিরাজমান তা কি পুরপুরি সুস্থ?
ঢাকা ভার্সিটিতে পরে এমন বেশ কিছু বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ ’তোরা কেন রাজনীতি করিস?’
উত্তরে যে কারনটা বলেছিল তা হলঃ ‘মোটমুটি রেজাল্ট করলেও দলীয় কোঠায় একটা সরকারি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া ভার্সিটির ভিতরেও যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে।’
মানতে কষ্ট হলেও এটাই কিন্তু অধিকাংশ ছাত্রের, রাজনীতির সাথে জড়িত হবার পিছনে মূল কারন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বর্তমান সংঘাতগুলো থেকে কি তাই প্রতীয়মান হয়না?
আমি বলতে চাচ্ছিনা যে, ছাত্র-রাজনীতি উঠে যাক। আমি বলতে চাছি শিক্ষাঙ্গনে এমন ছাত্র-রাজনীতির প্রচলন ঘটুক যেন ছাত্ররা ‘পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতি’ করতে পারে, ‘রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনা’ নয়। যদি কখনো এমন পরিবেশ তৈরী হয়, তবেই দেশে সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটবে।

অবশেষে আর একটি বিষয়ে বলতে চাই। আমরা তরুন প্রজন্ম ১৯৭১ দেখিনি। কিন্তু আমরা ৭১ ও তার পরবর্তি সময় এর সঠিক ইতিহাস জানতে চাই। ৭১ থেকে ৯০ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘটিত ঘটনাবলির ব্যাখ্যা এক এক লেখকের বই-এ, এক এক রকম ভাবে উপস্থাপন করা। যেন ব্যক্তিগত মতামত ও দলীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠার চেষ্টাই তাদের লেখার মূল কারন। এ ধরনের পরষ্পর বিরোধী মতামত তরুন প্রজন্মকে শুধু দ্বিধার মধ্যেই ফেলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক কারনে পাঁচ বছর পর পর আমাদের ইতিহাসে বিশেষ বিশেষ প্রেক্ষাপট যুক্ত হবে আর কিছু কিছু বাদ যাবে – এমনটা কেউ চায়না। দেশের ইতিহাস নিয়ে রাজনীতি না করে উদার মনোভাবে পরবর্তি প্রজন্মের জন্য, সঠিক ইতিহাসটা সংরক্ষণ করুন। কারন ইতিহাস কোন রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়।

৪,১৮৬ বার দেখা হয়েছে

১৩ টি মন্তব্য : “ছোট মুখে কিছু বড় কথা (রাজনীতি সম্পর্কিত)”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    বিভিন্ন লেখকের মত অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকায় এ থেকে বিভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে একটি মজার দিক।যদি হাতের কাছে পাওয়া সব বইগুলো পড়ে ফেলা যায় তাহলে নিজের বুদ্ধি বিবেচনা ব্যবহার করে সঠিকের মোটামুটি কাছাকাছি একটা সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব বলে আমি মনে করি।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে গেলে ভারতীয়দের বই(যেখানে তারা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তাদের সহায়ক শক্তি বলে চালিয়ে দেবার হাস্যকর অপচেষ্টা করেছে),পাকিস্তানি জেনারেলদের(যারা নিজেদের নৃশংসতা ঢাকতে নির্লজ্জ্ব মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে) এমনকী পাকি জারজ এদেশীয় রাজাকারের বাচ্চাদের লেখা বই(ডঃ ফিরোজ মাহবুব কামাল টাইপ মাদার**দ দের)গুলোও পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।এর ফলে যেটা হবে-সবগুলো দৃষ্টিভঙ্গি জানা থাকলে খুব সহজেই নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে হীরকস্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে।আমার মত নিতান্ত আনাড়ীর পক্ষেও ডঃ ফিরোজ মাহবুব কামালের মিথ্যাচার খণ্ডন করা এ পদ্ধতিতেই সম্ভব হয়েছে(আগ্রহী পাঠক চাইলে নিচের লিঙ্কে দেখতে পারেন) ।(//www.somewhereinblog.net/blog/eklavya1971/28840029)

    চমৎকার লেখার জন্য জাকারিয়াকে ধন্যবাদ।

    জবাব দিন
  2. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    আমার ধারণা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মামলাটা সমাধা হবার উপরে আসল ইতিহাস চর্চা নির্ভর করছে। ঐটা সম্পন্ন হলে সবার মাঝে একটা সাধারণ আগ্রহ জন্মাবে যে, "তারপর কি হয়েছিল"? আর এই প্রশ্নের আলোচনায় স্বভাবতঃই চলে আসবে "কি হওয়ার কথা ছিল?"- অর্থ্যাত, "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা"টা আসলে কি ছিল, সেটা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কে, কিভাবে বাস্তবায়ন করেছে; যেটুকু বাস্তবায়ন হয়নি, সেটা কেন, কিভাবে, কার কারণে, ইত্যাদি।- এসব প্রশ্নের অনুসন্ধানে অনিবার্যভাবেই দেশি-বিদেশী নানান পক্ষ চলে আসবে।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মামলা'টায় আবেগ আছে প্রচুর। আর আবেগ নৈর্ব্যক্তিক চিন্তাকে অসম্ভব করে তোলে।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
    • জুবায়ের অর্ণব (৯৮-০৪)
      যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মামলা’টায় আবেগ আছে প্রচুর। আর আবেগ নৈর্ব্যক্তিক চিন্তাকে অসম্ভব করে তোলে।

      মনের কথা বলে ফেললেন। আসলে আমিও চাই কোন অপরাধ যেন বিন শাস্তিতে পার পায়ে না যায়। কিন্তু, ট্রায়ালটা কিভাবে হবে বুঝতে পারি না। এভিডেন্স আসবে কোথা থেকে। বিচারক কে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

      জবাব দিন
  3. ছাত্র রাজনীতি এখন মোটামুটি পচেঁ গেছে.......... এটাকে উপরে তোলা মোটামুটি অসম্ভব........

    পলিটিক্সের পক্ষে উদাহরন দেখানো হয় ১৯৬৯, ১৯৯০ এর আন্দোলনগুলোকে , বলা হয় ছাত্র রাজনীতি ছাড়া এগুলো সম্ভব হত না........সত্যি কথা সন্দেহ নেই কিন্তু আসল উদ্দেশ্য টেন্ডারবাজী,চাঁদাবাজী সেটা বলা হয়না........ টিভি'র অ্যাড এ যেমন ভাল মডেল দেখিয়ে জঘন্য জিনিস বিক্রি করা হয় স্টুডেন্ট পলিটিক্স এখন সেরকমই একটা ব্যাপার হয়ে গেছে.............

    পলিটিক্সের দরকার আছে...... অবশ্যই আছে..... কারণ পলিটিক্স না থাকলে বুয়েটকে "যদু মদু কদু" বানিয়ে ফেলত টিচাররা (নাইট শিফট ও টিচার কোটা চালু করে)..... পলিটিক্যাল মুভমেন্টের কারণেই সেটা থামানো গেছে....

    আর স্টুডেন্টদের দোষ দেখি আমরা............. সরকারী দুর্নীতিবাজগুলো স্টুডেন্টদের করা ক্ষতির চেয়ে ১০০০০০০০০ % বেশী ক্ষতি করছেন কিন্তু তাদের নিয়ে কখনোই কথা বলতে দেখিনা.........

    যাই হোক, আমরা নাদান পাবলিক...... আমাদের এগুলো ভেবে লাভ নাই.......

    পোস্টের লিখাগুলো ভাল লেগেছে........

    জবাব দিন
  4. জুবায়ের অর্ণব (৯৮-০৪)
    আমি বলতে চাচ্ছিনা যে, ছাত্র-রাজনীতি উঠে যাক। আমি বলতে চাছি শিক্ষাঙ্গনে এমন ছাত্র-রাজনীতির প্রচলন ঘটুক যেন ছাত্ররা ‘পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতি’ করতে পারে, ‘রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনা’ নয়। যদি কখনো এমন পরিবেশ তৈরী হয়, তবেই দেশে সুস্থ রাজনীতির বিকাশ ঘটবে।

    আমি মনে করি ছাত্র রাজনীতি থাকা অবশ্যই দরকার, কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকেরা একটি দেশের সবচেয়ে প্রগতিশীল জনসংখ্যা রিপ্রেজেন্ট করে। কিন্তু, আমি যতদুর জানি বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি ঠিক ছাত্রদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় এবং শিক্ষকেরাও মানসম্পন্নভাবে নিরপেক্ষ নয়। আমার মনে আছে, ২০০৫ সালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে "স্টপ ইসলামোফোবিয়া" এর একটি প্রসেশন স্টুডেন্ট ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংগঠিত প্রসেশনে প্রায় অনেক শিক্ষকও যোগ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশেও আমি মনে করি রাজনীতিটা দলভিত্তিক না হয়ে হওয়া উচিত এরকম যে ছাত্ররা ও শিক্ষকেরা ডিফেন্ড করবে গনতন্ত্র এবং মানবাধিকার।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।