বিবর্তনবাদ – a Review (৩)

বিবর্তনবাদ – a Review (১)(২)
নাস্তিক বিবর্তনবাদীদের জোড়ালো যুক্তিগুলো “বিবর্তনবাদ – a Review (১)” তে দেয়া আছে। আস্তিক বিবর্তনবাদীদের এবং আস্তিক অবিবর্তনবাদীদের অনেক যুক্তি আছে “বিবর্তনবাদ – a Review (২)”-এ। আগের দুটি অংশ পড়ে এই অংশ শুরুর অনুরোধ রইলো।

৪.৪ ফসিল রেকর্ড
বিবর্তনের ফলে তৈরী হওয়া প্রজাতিগুলির বিভিন্ন ধাপে কি ধরনের ফসিল পাওয়া উচিত তা বুঝতে ব্যাঙের রুপান্তর একটি আদর্শ উদাহরণ। চিত্র ৫-এ জীবনের বিভিন্ন ধাপে ব্যাঙের বাহ্যিক গঠন দেখানো হয়েছে। ছোট বয়সে ব্যাঙের ধীরে ধীরে পা গজানো অথবা বড় অবস্থায় ধীরে ধীরে লেজ মিলিয়ে যাওয়ার দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারা যাবে, এ প্রক্রিয়াটি কত gradual হওয়া উচিত। ব্যাঙের ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহে ঘটা বিবর্তন (এক্ষেত্রে যথাযথ শব্দ যদিও পরিবর্তন) যদি ১০ বা ১০০ মিলিয়ন বছর ধরে হয় তবে ভেবে দেখুন, প্রতি এক মিলিয়ন বা দশ মিলিয়ন পরে পাওয়া ফসিলগুলোকে পর পর বসালে, কত ধীর পরিবর্তন চোখে পরা উচিত। এবং এই বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে আপাত অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া অঙ্গের উপস্থিতি থাকা উচিত।

image-5
চিত্র ৫: ব্যাঙের রুপান্তর। সূত্রঃ ওয়েব।

কিন্তু ট্রান্সিসনাল ফসিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত প্রানীগুলোর মধ্যে সবসময়ই অন্যপ্রানীর সম্পূর্ণ বৈশিষ্ট্যই পরিলক্ষিত হয় এবং সম্পুর্ণ বিকশিত ফিচার থাকে। আর্কিয়অপ্ট্রিকসের কথাই ধরা যাক। এর যে পাখা আছে তা কিন্তু পুরোপুরি বিকশিত। কয়েকধরনের প্রানীর সম্পুর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এই প্রানীদের বলা যায় ‘মোজাইক’, যেমন এই সময়ের প্লাটিপাস। আর্কিয়অপ্ট্রিকসের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা অবশ্য নিশ্চিত নন যে সে উড়তে পারতো কি না, তবে পাখা যে পুরোপুরি তৈরী তা আর্কিয়অপ্ট্রিকসের মডেল (চিত্র ৬) দেখলেই বোঝা যায়।

আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি আর্কিয়অপ্ট্রিকসের ফসিল পাওয়া গেছে এবং সবগুলো, একই রকম। এ যেন মাঝখানের স্তরগুলো ছাড়া পুর্ণাঙ্গ ব্যাঙের অস্তিত্ব পাওয়া যাওয়ার মত। তাহলে কেমন করে প্রমান হয় যে ডাইনোসর থেকে বিবর্তিত হয়ে এই প্রানী এসেছে।

image-64
চিত্র ৬: (a) আর্কিয়অপ্ট্রিক্সের মডেল (b) ও (c) আরো ফসিল প্রথমটি বার্লিনে ও পরেরটি মিউনিখ এ পাওয়া।[১১]।

টিকটালিকের কথায় আসা যাক[২৯]। ২০০৬-এ টিকটালিকের আবিস্কারের পরেই Nature-এ প্রকাশিত একটি আর্টিক্যালে[৩০] দেখানো হয়েছে কিভাবে মাছ থেকে সরিসৃপের বিবর্তনে টেকটালিক ভূমিকা রাখে। সামনের হাতের হাড়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় (চিত্র ৭ এর উপরের সারি) Ure নামক হাড় (highlighted অংশ) কিভাবে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে এবং মিলিয়ে যায়। খুবই গ্রহনযোগ্য একটি কাহিনী। একই জার্নালে Panderichthys(টিকটালিকের আগের পর্যায়)-এর ফসিলগুলোকে আরো পর্যালোচনা করে ২০০৮ সালে প্রকাশিত আরেকটি রিপোর্ট[৩১] প্রকাশিত হয়। এখনকার ছবিতে (চিত্র ৭ এর নিচের সারি) দেখা যাচ্ছে সেই একই হাঁড়, বিবর্তনের ফলে একবার বেড়ে আবার কমছে। সুতরাং, কোন একদিকে পরিবর্তিত হওয়ার সেই গল্পে Panderichthys যেন বাধ সাধল।

image-7-selected
চিত্র ৭: মাছ থেকে tetrapod-এর বিবর্তন। উপরের সারি ২০০৬ সালে টিকটালিকের আবিস্কারের পরে প্রকাশিত[৩০]। নিচের সারি ২০০৮ সালে Panderichthys-এর উপরে আরো গবেষণার পরে প্রকাশিত[৩১]

বাংলাদেশের যে কেউ যদি ৬৪ জেলার মানচিত্র নিয়ে বসে যায়, তাহলে কয়েকদিনের মাথায় একটু চেষ্টা করলেই প্রমান করতে পারবে যে, এক জেলার থেকে বিবর্তিত হয়ে আরেক জেলার জন্ম হয়েছে! পঞ্চগড়টা একটু বে-সেপ। কিন্তু লালমনিরহাটকে একটু কোণাকোণি একদিকে টেনে আরেক দিকে চেপে দিলে অনেকটা মিলে যায়। আর যতটুকু মিলবে না তা নিয়ে চিন্তার কিছু নাই, মিলিয়ন বছরের ব্যাখ্যা তো আছেই! এম্নিতেই একটু একটু করে পরিবর্তন হয়ে সেট হয়ে যাবে! আর বেশি ফারাক থাকলে; ‘পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম’ নামের অসাধারণ তত্ত্বই শেষ ভরসা! [ব্যাঙ্গার্থে লেখা]

image-8
চিত্র ৮: বাংলাদেশের জেলার বিবর্তন! বিবর্তনের ধারাঃ কুড়িগ্রাম > লালমনিরহাট > পঞ্চগড়।

শুধুমাত্র মানুষের বিবর্তনের ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যা নিয়ে পুরো একটি প্রবন্ধ লেখা যাবে। সংক্ষেপে কিছু তথ্যঃ
১। Piltdown man নামে মানুষ ও ape এর মধ্যবর্তী প্রানীর ফসিল পাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ইংল্যান্ডে। পরে প্রমানিত হয় সেটি একটি তৈরী করা বা জোড়া দেয়া ফসিল।
২। শুধুমাত্র একটি মাত্র দাঁতের উপরে ভিত্তি করে nebraska man-এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল। পরে দেখা গেল সেটা ছিল শুকরের দাঁত।
৩। সব সময়ই আগের মানুষগুলোকে বনমানুষের কাছাকাছি একটা রুপ দেয়া হয়, যেমন গা ভর্তি লোম। কংকাল বা হাড়ের নমুনা দেখে এই জাতীয় উপসংহারে আসা কতটা যৌক্তিক? আসলে এসমস্ত ক্ষেত্রে বিবর্তনবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটানো হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে বিবর্তনবাদী মনোভাব ঢুকিয়ে দেয়ার একটি ব্যবস্থা। একই কংকালের উপর ভিত্তি করে, মডেল তৈরী করেন এমন দুইজন লোক, দুই ধরনের রুপ দেন। কারণ এখানে কল্পনা শক্তির প্রয়োগের সুযোগ আছে।
৪। ৩.২ মিলিয়ন বছরের পুরানো ফসিল, Lucy (বৈজ্ঞানিক নাম Australopithecus) -কে বিজ্ঞানীরা মানুষ ও ape এর কমন এন্সেসটর হিসেবে ধরতো। হাড়ের গঠনে এই প্রানীর সমান দক্ষতার সাথে গাছে ঝুলার, মুষ্ঠি দিয়ে হাটার এবং মানুষের মত সোজা হাটতে পারার ইঙ্গিত ছিল। চোয়ালের হাড়ের মিলের উপরে ভিত্তি করে ২০০৭-এর ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে [৩২] উল্লেখ করা হয় ঐ প্রজাতি, মানুষের পূর্বপুরুষ হতে পারে না। তারা শুধুই গরিলার পূর্বপুরুষ এবং তারাও গরিলা!
৫। এই বিভ্রান্তির অন্যান্য উদাহরণ হিসেবে Homo Rudolfensis, Homo habilis-দেরও উল্লেখ করা যায়।

পাঙ্কচুয়েশন ইকুইলিব্রায়াম থিউরী অনেকটা, না মেলা অঙ্কের পেছনে দাঁড় করানো যুক্তির মতো। যেন প্রানীরা বিবর্তনের জন্যে এক রহস্যময় দ্বীপে যেত, তারপর বিবর্তিত হয়ে আবার আগের জায়গায়/বা নতুন এলাকায় চলে যেত। তা না হলে, তাদের নতুন জায়গায় সম্পুর্ণ বিবর্তিত প্রানীর সাথে তাদের বিবর্তনের সময়ের প্রানীগুলোর অস্তিত্বও তো থাকার কথা। ফসিল রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে, জুলাই ২০০৮-এ ফ্লাটফিশের asymmetry-এর আবির্ভাবের উপরে একটি নিবন্ধ[৩৩] প্রকাশিত হয়। [আপাত-সত্য ধরে নিলেও এই ঘটনা কিন্তু বিবর্তনবাদকে সমর্থন করে না। কারণ বিবর্তনের ফলে নতুন প্রানীর তৈরী হয়নি। মাছ ছিল, অন্যদিকে চোখের আরেকটি মাছ হলো।] যে উদ্দেশ্যে এই উদাহরণ দেয়া তা হচ্ছে, একটা মাছের চোখ ঘুরে যাওয়ার মত ছোট ঘটনার প্রমান ফসিলের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে অথচ এত বিশাল সময় ধরে সঙ্ঘটিত ট্রান্সিশনের আলামত এখনও মিলছে না! সত্যিই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।

Richard Dawkins-এর মতো বিবর্তনবাদীদেরও এখন বলতে শুনেছি যে, বিবর্তনবাদ প্রমানের জন্য ফসিল রেকর্ডের প্রয়োজন নাই কারণ বিবর্তনবাদ হচ্ছে ‘Fact’. কিন্তু কোন প্রমান ছাড়া কেমন করে একটি তত্ত্বকে ‘fact’ বলতে পারি? এটা কি আদৌ বৈজ্ঞানিক?

৫.০ কুরআন ও বিবর্তন
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে অনেকেই ধরে নিতে পারেন ইসলাম সম্পূর্ণভাবে বিবর্তনের বিপক্ষে। আগেই বলেছি, কোর্আনের ব্যাখ্যা করা, আমার জন্যে ঔদ্ধত্যের পর্যায়ে পরে কারণ এক, কোর্আনের কাছিকাছি ইংরেজী বা বাংলা অনুবাদ পর্যন্ত আমার দৌড় আর দুই, কোর্আন কোন বৈজ্ঞানিক জার্নাল না, যে এখানে বিজ্ঞানের সবকিছু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা থাকতে হবে। সব যুগের জন্য লেখা এই গ্রন্থে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে মাত্র। তবে আমার কাছে ইঙ্গিতটুকু উল্লেখ করার মত মনে হয়েছে।

সূরা আন-নূর (২৪) আয়াত ৪৫
(Translated by Yousuf Ali) And Allah has created every animal from water: of them there are some that creep on their bellies; some that walk on two legs; and some that walk on four. Allah creates what He wills for verily Allah has power over all things.
(Translated by Pickthall) Allah hath created every animal of water. Of them is (a kind) that goeth upon its belly and (a kind) that goeth upon two legs and (a kind) that goeth upon four. Allah createth what He will. Lo! Allah is Able to do all things

সূরা আল-হাশর (৫৯) আয়াত ২৪:
(Translation Yousuf Ali) He is Allah, the Creator, the Evolver, the Bestower of Forms (or Colours). To Him belong the Most Beautiful Names: whatever is in the heavens and on earth, doth declare His Praises and Glory: and He is the Exalted in Might, the Wise.
(Translated by Pickthall) He is Allah, the Creator, the Shaper out of naught, the Fashioner. His are the most beautiful names. All that is in the heavens and the earth glorifieth Him, and He is the Mighty, the Wise.

আমার মতে, বিবর্তন বলতে যদি পরিবর্তন বুঝায় তবে ছোট মাত্রায়(scale) তা সম্ভব। যেমন, অনবরত রোদে থাকলে আমরা কালো হই বা ঠান্ডার দেশের মানুষেরা ফর্সা হয়। দেখা যায়, এই পরিবর্তিত অবস্থা ধীরে ধীরে আমাদের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। তবে ছোট পরিবর্তন থেকে আস্তে আস্তে বড় পরিবর্তনের দিকে যাওয়া সম্ভব আমার মতে এটা সবসময় সত্যি নয়। আমি উদাহরণ দিব, কিন্তু পরের পরিচ্ছেদে, যাতে আমি ইসলামের ব্যাখ্যায় নেমেছি এই অপবাদ বয়ে বেড়াতে না হয়।

৬.০ ছোট পরিবর্তন থেকে বড় পরিবর্তন
প্রকৃতি সবসময় পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করে। পরিবর্তন ধীর হলে বাধাটাও ছোট হবে, আর হঠাৎ পরিবর্তন, যত ছোটই হোক, বিশাল বাধার সম্মুখীন হয়। আমার এত যুক্তির অত্যাচার সহ্য করে যেহেতু এই পর্যন্ত এসে পৌঁছেছেন, শেষ একটা চ্যালেঞ্জ গ্রহন করুন। ব্যাপারটাকে আমি গনিত ও পদার্থবিদ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করব। এই ব্যাখ্যার পুরো ব্যাপারটা আমার বোধ থেকে দাঁড় করানো। এর মধ্যে যেকোন ভুল থাকলে আমি মাথা পেতে নিব এবং চেষ্টা করবো তা সংশোধন করতে।

image-91
চিত্র ৯: বিভিন্ন মেকানিজমের মধ্যে মিল এবং সরল ব্যাখ্যা।

ইলেক্ট্রনের উপরে যে ইলেক্ট্রিক ফিল্ড(E) কাজ করে তা নিচের সুত্র দিয়ে নির্ণয় করা যায়,
E = -dp/dx
যেখানে p হচ্ছে বিভব বা পটেনশিয়াল এবং x হচ্ছে অবস্থান। (phi না থাকায় p symbol ব্যবহার করা হয়েছে।) ভড়কে গিয়েছেন, তাই না? আচ্ছা সহজ করে বলছি। চিত্র ৯ এ আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি গাড়ি উপরে উঠার চেষ্টা করছে। গাড়ি যত ডানে যাবে, তা তত উপরে উঠবে এবং তার স্থিতিশক্তি বা পটেনশিয়াল এনার্জি (mgh) তত বাড়বে। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে, উপরে যেতে চাইলে তার বিপক্ষে একটা বল কাজ করবে। তার মানে, (ছবিতে) ডানদিকে যেতে চাইলে, বল কাজ করবে বামদিকে। এবং এই পটেনশিয়ালের পরিবর্তন(dp/dx) যত দ্রুত হবে উল্টোদিকে(এই কারণেই নেগেটিভ চিহ্ন) কাজ করা বলের মান তত বেশি হবে। সুতরাং, এই ক্ষেত্রে বলের মান,
F = – (dp/dx) = – d/dx (m g h) = d/dx (m g x tan(theta))= m g tan(theta)
দেখুন, সমীকরণ একই কথা বলছে, ঢাল বেশী হলে, theta বেশী, তাই বলের মানও বেশী। পরিবর্তন কতটুকু হলে সেটার উপরে কিন্তু বল নির্ভর করে না, নির্ভর করে পরিবর্তন কত দ্রুত হচ্ছে তার উপরে। হঠাৎ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিপরীত দিকে কাজ করা এই বলের মান হবে অসীম (tan 90 = inf)। তাই সেই ঢাল উতরাতে অসীম বল প্রয়োগ করতে হবে। যা অসম্ভব। তাই গাড়ি আটকে যাবে।

শুরুতে যা বলছিলাম, এই একই নিয়ম মেনে চলে ইলেক্ট্রন। ইলেক্ট্রিক ফিল্ড আর কিছুই না, একক ইলেক্ট্রনের উপরে বল এবং আর মান নির্ণয়ের সূত্রেরও কোন পার্থক্য নাই। শুধুমাত্র p কিভাবে নির্ণিত হবে তা আলাদা। প্রকৃতি অন্যান্য অনেকক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে। মোটা হয়ে যাওয়ার পরে আপনি হঠাৎ করে যদি ঠিক করেন ব্যায়াম করে শুকাবেন। দেখবেন আপনার ক্ষুধা বেড়ে গেছে। খাওয়া দাওয়া করে আপনি আরো ভারী হবেন, আর আপনার দৌড়ানোর ইচ্ছা থাকবে না। শুকনা মানুষের ক্ষেত্রে কিন্তু উল্টো কাজ হয়।

এবার জীবের পরিবর্তনের ব্যাপারে আসা যাক। মানুষের বর্ণ বা ছোট-খাট পরিবর্তন কিন্তু ধীর প্রক্রিয়া। আপনি হয়তো কক্সবাজারে রোদে ঘুরে কালো হবেন, কিন্তু ঢাকায় আসলে দেখবেন আবার ফর্সা হয়ে গেছেন। কালো মানুষেরা কিন্তু শীতের দেশে গিয়ে একবারে ফর্সা হন না। ফর্সা মানুষের বেলায়ও একি ধরণের কথা সত্য। সুতরাং, বৈরী পরিবেশে (উল্টো বলের বিরুদ্ধে) আপনি আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হবেন যাতে সেখানে আপনার খাপ খাইয়ে চলার পটেনশিয়াল বাড়ে। জেনেটিক্স যদি না থাকতো তাহলে সব পরিবর্তনই ধীর বলে চালিয়ে দেয়া যেত। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, শিম্পাঞ্জী থেকে মানুষের পরিবর্তন, বা গাধা থেকে ঘোড়ার পরিবর্তনে জেনেটিক্যাল ইনফরমেশনের একটা জাম্প আছে, যা ক্রমোজম সংখ্যার। এবং অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, প্রকৃতি অসম্ভব বল দিয়ে তাকে বন্ধ করার চেষ্টা করছে, প্রকৃতির অন্য যেকোন ব্যবস্থার মতো। এখন তাই প্রমানের অবকাশ আছে, এই বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে তাহলে কেমন করে বিবর্তন হতে পারে।

একটু আগের প্রসঙ্গে ফেরত যাই, বিবর্তন যদি প্রমান করতে হয়, তাহলে এই খাড়া ঢাল পাড়ি দেয়ার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর তা নাহলে (ছবি ৯-এর মতো) A থেকে B তে যাওয়া প্রমান করে A থেকে C তে যাওয়াও সম্ভব বলাটা হবে অবৈজ্ঞানিক এবং অসত্য।

[কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী ইলেক্ট্রনের একই ধরনের ব্যবহার ব্যাখ্যা করা হয়। শুধু পার্থক্য হচ্ছে, সব ইলেক্ট্রনই ফেরত আসবে, তবে যেখানে পটেনশিয়াল এনার্জি হঠাৎ করে বেড়েছে সেই এলাকায়ও ইলেক্ট্রন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে যত ভিতরে যাওয়া যাবে এই সম্ভাবনা ততই কমতে থাকবে। অর্থাৎ, ইলেক্ট্রন হয়তো কিছুটা ভিতরে ঢুকবে কিন্তু সবাই ফেরত আসবে।]

৬.০ উপসংহারঃ
প্রানের আবির্ভাবের ব্যাখ্যায় ১৯৫২ সালে Miller–Urey experiment পরিচালিত হয় এবং এমিনো এসিড তৈরী করা হয় প্রাথমিক অবস্থায় পৃথিবীতে যে পরিবেশ ছিল সে রকম একটি পরিবেশ তৈরী করে। এমিনো এসিড যেহেতু প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তাই প্রচার হয়ে যায় বিজ্ঞানীরা প্রাণ তৈরী করে ফেলেছেন। পরে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভূল পরিবেশে, ভুল উপায়ে এবং প্রাণ তৈরীর ভুল উপাদানগুলো পেয়েছেন তারা। স্থল প্রানী থেকে তিমি মাছের বিবর্তন বা ফটোসেন্সিটিভ চামড়া থেকে চোখের আবির্ভাব ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিষের ব্যাখ্যায় তারা হয় শুরুতেই মোটামুটি জটিল একটা ব্যবস্থা ধরে নেন অথবা এমন কিছু ধাপ বলে বসেন যা শুধুমাত্র একজন ‘বিজ্ঞানী’ বলছেন বলেই মেনে নিতে হয়!

সংক্ষেপে বললে, বিজ্ঞানীরা বিবর্তনবাদকে সত্য হিসেবে দেখতে পান শিম্পাঞ্জির ক্রমোজমের থেকে মানুষের ক্রমোজমের আবির্ভাবের ইঙ্গিত পেয়ে। পরে তারাই এখন এই দুই প্রানীর ক্রমোজমের অমিলে অবাক হচ্ছেন। এত বিশাল ফসিল রেকর্ডের মাঝেও এখনো গ্রহনযোগ্য কোন প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি বিবর্তনবাদিরা। মানুষের বিবর্তনের ফসিল রেকর্ডতো অনবরত তাদের বিপক্ষে যাচ্ছে। জীবের ও জীবনের জটিলতা ব্যাখ্যায় তারা ব্যর্থ। অনেকক্ষেত্রেই ব্যাখ্যা দিয়েছে কিন্তু সময়ে তা ভুল প্রমানিত হয়েছে। সৃষ্টির শুরু বা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কারণ তাদের জানা নাই। এতকিছুর পরেও কোন কারণে বিবর্তনবাদকে আমরা ‘fact’ হিসেবে ধরে নেব? আমরা যা দেখি না বা যার অস্তিত্ব সরাসরি প্রমান করা যায়না, যেমন স্রষ্টা, তাকে সত্যি বলে আমরা বিশ্বাস করে নেই। আশা রাখি সময় একদিন সবকিছুকে সত্য প্রমান করবে। বিবর্তনবাদীরা মনে করেন, যে বিজ্ঞান একসময় তাদের ধারণার পক্ষে প্রমান উপস্থাপন করবে। একে যদি ‘বিশ্বাস’ বলি, তা হলে কি অন্যায় হবে?

‘স্রষ্টায় বিশ্বাস’ বিজ্ঞানের অংশ নয় এটা ঠিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বিবর্তনবাদীরাই ‘God Delusion’ নামের বই লিখে প্রমান করার চেষ্টা করেন যে, বিশ্বাসীরা বিশাল বিভ্রান্তির মধ্যে আছে। তাই আমাদের নিজেদের একবার তলিয়ে দেখা উচিত যে, আমরা আদৌ ভুল করছি কিনা? জানা উচিত, বিবর্তনবাদ কি আসলেই ধ্রুব সত্য, যাকে আমরা আমাদের ধর্মকে বিসর্জন দিয়ে গ্রহন করতে পারি। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে তাই বিবর্তনবাদীদের যুক্তিগুলো খন্ডনের চেষ্টা করলাম, বিজ্ঞানেরই আলোকে।

স্রষ্টা এবং বিজ্ঞানের (বিবর্তনবাদ বিজ্ঞানকে সবকিছুর ব্যাখ্যার প্রধান উপকরণ হিসেবে বেছে নেন) বিরোধের প্রসঙ্গে ফ্রান্সিস কলিন্সের একটি অসাধারণ উদাহরণ বর্ণনা করতেই হয়। এক বিজ্ঞানী কোন এক এলাকার সামূদ্রিক প্রানীদের উপরে গবেষণা করতে ৩ ইঞ্চি ফাঁকা আছে এমন একটি জাল নিয়ে ঐ এলাকায় গেলেন। তা দিয়ে আটক বিভিন্ন প্রানীর বর্ণনা দিয়ে তিনি একটি নিবন্ধ লিখলেন। নিবন্ধের শেষে মন্তব্য করলেন, “অদ্ভুত ব্যাপার এই যে ঐ এলাকায় ৩ ইঞ্চির চেয়ে ছোট প্রজাতির কোন সামূদ্রিক প্রানী বাস করে না”।
গল্পের মোরালঃ যথাযথ টুল বা উপকরণ ছাড়া কোন পরিক্ষায় সত্যিকারের অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটে না।

এটাই সত্যি যে, বিজ্ঞান স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমানের জন্য যথাযথ টুল নয়। বিজ্ঞান যেমন প্রমান করতে পারে না স্রষ্টা আছে, তেমনি তা এও প্রমান করতে পারে না যে স্রষ্টা নাই। বিজ্ঞানের পরিধি মানুষের পর্যবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। মহাবিশ্বের বাইরে, সময়শূন্য ক্ষেত্রের যেকোন ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের আয়ত্তের বাইরে। আমরা শুধু আমাদের চারপাশে ছড়ানো উপাদানগুলো নিয়ে একটা ধাঁধার সমাধানের চেষ্টা করতে পারি। কত ইঞ্চি মাপের জাল নিয়ে আমরা পরীক্ষা করব আর কিভাবে তা ব্যাখ্যা করব তার উপরে নির্ভর করবে আমাদের তৈরী করা ধাঁধার উত্তর।

অন্যকথাঃ
দেশের মাটিতে ধর্মপালনে কেউ কখনো প্রশ্ন করে না। দেশের বাইরে এসে আমি প্রথম প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তারপর থেকে সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে পক্ষের-বিপক্ষের বিভিন্ন যুক্তি শুনতে পাই। আমার জানা তথ্যগুলোকে আমি নিজের মত করে এখানে প্রকাশ করলাম। তিন ধরণের বিশ্বাস থেকে কে কোনটাকে বেশী যৌক্তিক মনে করবেন তা পাঠকের উপরে, সবারই বোঝার ক্ষমতা আছে। সুতরাং ‘বেছে নিন’। কিন্তু একটা ব্যাপারে সবাই একমত (পরজন্মে বিশ্বাসীরা ছাড়া) যে, জীবন কিন্তু একটাই। সুতরাং, ‘শট্-টা বুঝে-সুঝে খেলেন। একবার প্যাভিলিয়নে গেলে, নেক্সট ইনিংস খেলার সুযোগ কিন্তু নাই’!

তথ্যসূত্রঃ
[২৯] Presentation by Dr. Marc Surtees
//www.tangle.com/view_video.php?viewkey=13232e10f8bceb0306ce
[৩০] N H Shubin, E B Daeschler and F A Jenkins, (2006) “The pectoral fin of Tiktaalik roseae and the origin of the tetrapod limb” Nature 440(6): 764-771.
[৩১] C A Boisvert, E M-Kurik and P E Ahlberg, (2008) “The pectoral fin of Panderichthys and the origin of digits”, Nature 456(4):636-638.
[৩২] Y Rak, A Ginzburg, and E Geffen, (2007) “Gorilla-like anatomy on Australopithecus afarensis mandibles suggests Au. afarensis link to robust australopiths”, The proceedings of The National Academy of Sciences of the USA, 104(16): 6568–6572.
[৩৩] M Friedman, (2008) “The Evolutionary Origin Of Flatfish Asymmetry”, Nature 454(10): 209-212.

৪,৪১২ বার দেখা হয়েছে

৩৮ টি মন্তব্য : “বিবর্তনবাদ – a Review (৩)”

  1. তৌফিক (৯৬-০২)

    বেশিকিছু বুঝি নাই, তবে জাহিদ ভাই, আপনার গাড়ির এনালজির এনালাইসিসে আমার মনে হয় একটু ভুল আছে। একটু সময় করতে পারলে আমি বিস্তারিত ব্যখ্যা করবো। কিছু ডায়াগ্রাম আঁকতে হবে।

    জবাব দিন
  2. জাহিদ (১৯৮৯-৯৫)

    sorry. I have to write in ENGLISH. I don't have avro and phonetic is acting weird in this PC.

    Toufiq,

    I think you are going to talk about Car with a wheel and a brick. Even though it is a step function it will overcome that. But if you realize it, for circular wheel, there will be a part of the force acting upwards when it will touch the brick. and along upward direction the force is not a step function. Electron doesn't have wheel and so do our evolution system! So, there is none to push upward!

    If this is not the case, please let me know. I will be glad to admit and fix the error.

    জবাব দিন
    • কামরুল হাসান (৯৪-০০)

      জাহিদ ভাই
      স্পেসিফিক কোন ছবি ছোট করতে চাচ্ছেন? নাকি সবগুলি ?

      চিত্র ৫: ব্যাঙের রুপান্তর।
      চিত্র ৬: (a) আর্কিয়অপ্ট্রিক্সের মডেল
      চিত্র ৭: মাছ থেকে tetrapod-এর বিবর্তন।
      চিত্র ৮: বাংলাদেশের জেলার বিবর্তন!
      চিত্র ৯: বিভিন্ন মেকানিজমের মধ্যে মিল

      জানালে করে দিচ্ছি 😀


      ---------------------------------------------------------------------------
      বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
      ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

      জবাব দিন
    • জাহিদ (১৯৮৯-৯৫)

      Brother,

      You are right in your way. You are thinking of force per unit length while it is travelling in the ramp. Your unit of lenght is along the path of the car (sqrt(x^2+h^2).

      I am calculating force per unit length of x, and x is perpendicular to h.

      If theta changes, the path on the ramp to travel unit length along x changes. I am trying to avoid that. x is more or less universal. So, I am calculating in that way.

      If theta is 90, then you are going totally against the gravity and force according to your formula working against the car is mg sin 90, which makes sense. but that is the force to go up. So, if you have a car that Toufiq has, you can go if you can overcome that force. But you can not go right because you are going in perfectly vertical direction. It also, implies that you need to have infinite fource(!) to have a component along x if you want to travel along that direction!

      You can directly get the same result if you use my formula to calculate the force to go along x as I have shown before. The infinite force you need to travel in x direction because you have a wall which is blocking you and you need to break it. If it is mountain then you have to drill through it!

      I hope you understand that both of us are right but thinking in two different ways. And I used formulas that directly represent the system I am interested.

      No hard feelings!

      জবাব দিন
      • ফাহিম (৯০-৯৬)

        গাড়ির ব্যাখ্যায় সহমত হতে পারি নি। কিছু ডায়াগ্রাম পোষ্ট করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু মন্তব্যে তা পারি নি। যাই হোক এই বিষয় নিয়ে তর্ক করে পোষ্টের মূল বক্তব্যের ব্যাঘাত ঘটাতে চাচ্ছি না।

        একটা ব্যাপারে সবাই একমত (পরজন্মে বিশ্বাসীরা ছাড়া) যে, জীবন কিন্তু একটাই। সুতরাং, ‘শট্-টা বুঝে-সুঝে খেলেন। একবার প্যাভিলিয়নে গেলে, নেক্সট ইনিংস খেলার সুযোগ কিন্তু নাই’!

        শতভাগ একমত।

        জবাব দিন
  3. তৌফিক (৯৬-০২)

    জাহিদ ভাই, ক্ষমা করবেন। আমি দু'একদিনের মধ্যে পোস্টটা দিতে পারব না। আমি বলছি না, আপনি নিশ্চিতভাবেই ভুল। আমার কাছে মনে হয়েছে আপনার ভুল হয়েছে। বহুদিন আগে রোলিং মোশন নিয়ে পড়েছিলাম, কিছু রেফারেন্স দেখা ছাড়া আমি ম্যাথমেটিক্যাল ট্রিটমেন্টটা দিতে পারব না। সেটার জন্য সময় লাগবে, যা আমার এই মুহূর্তে নেই। আমার সিসিবির নেক্সট পোস্টটা এটা নিয়েই হবে, যদি আমার ভুল হয়, তাইলেও হবে, নাহইলেও হবে। তবে আপাতত একটা কথা বলে যাই, ফ্রিকশন ছাড়া একটা চাকার পক্ষে সামনে বাড়া সম্ভব না (কাদায় বা বরফে গাড়ির চাকা পড়লে তা সামনে যায় না, চরম মসৃণ মেঝেতে সামনে বাড়া যায় না)। আপনি একটু ভেক্টর কম্পোনেন্টগুলার দিকে তাকাইলেই বুঝবেন। আর এই ফ্রিকশনের জন্যই উলম্বদিকে যাওয়া সম্ভব (যতোদূর মনে পড়ে)। আমার আর্গুমেন্টগুলো দেয়ার জন্য একটু টাইম লাগবে। ততোদিন পর্যন্ত বিদায় নিলাম।

    জবাব দিন
  4. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    রজনী হইসনা অবসান, আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচান।

    😀

    ঘাবড়াইও না, এইটা একটা গানের লাইন। আমার নেক্সট পোষ্টে আইব।

    জাহিদ তোমার পুষ্ট পড়ছি। বুঝি নাই।

    এত বুইঝা কি হইব কও? মরতে তো একদিন হইবই। 😀


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • আহসান আকাশ (৯৬-০২)
      এত বুইঝা কি হইব কও? মরতে তো একদিন হইবই।

      :thumbup: :thumbup: :thumbup:

      আমার নেক্সট পোষ্টে আইব।

      আপনিও মূলা ঝুলায় দিলেন? 😕 😕


      আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
      আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

      জবাব দিন
    • জাহিদ (১৯৮৯-৯৫)

      ফয়েজ ভাই,

      অঙ্কে ঘাবড়াইছেন নাকি? একটা চেষ্টা নিলাম আপনাকে ম্যাথ শিখাইতে! তাও পিছলায়ে গেলেন! 🙂 ঐ অংশের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেখানো যে,

      পরিবর্তন ধীর হলে বাধাটাও ছোট হবে, আর হঠাৎ পরিবর্তন, যত ছোটই হোক, বিশাল বাধার সম্মুখীন হয়।

      প্রকৃতির সবক্ষেত্রে এইটা যে সত্যি দেখাইলাম। কোয়ান্টাম ফিজিক্স না আনলে পারতাম, কিন্তু ব্লগে অনেক জ্ঞানী লোক আছে, চিপা দিয়া বলে বসলে যে "ইলেক্ট্রনতো এই জাতীয় বাধা পার হতে পারে" আমারে আবার বিপদে পরতে হত। তাই ব্যাখ্যাটা দিয়ে দিলাম।

      মন খারাপ করেন না। বাকি জিনিষ বুঝছেন তো? আপনিও নিশ্চয়ই এমন কিছু বুঝেন যা হয়তো আমি বুঝি না।

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)
        অঙ্কে ঘাবড়াইছেন নাকি?

        আবার জিগায়। ৬ টা ম্যাথ কোর্স ছিল গ্রাজুয়েশনে, মাক্সিমাম গ্রেড পাইছি C + 😀

        আপনিও নিশ্চয়ই এমন কিছু বুঝেন যা হয়তো আমি বুঝি না।

        একটা জিনিস বুঝি, ডিবেটে কেউ দল বদল করে না। বরং যেটা করে সেটাতেই আরো মজবুত হয়ে যায়।


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
  5. তানভীর (৯৪-০০)
    আমার জানা তথ্যগুলোকে আমি নিজের মত করে এখানে প্রকাশ করলাম। তিন ধরণের বিশ্বাস থেকে কে কোনটাকে বেশী যৌক্তিক মনে করবেন তা পাঠকের উপরে, সবারই বোঝার ক্ষমতা আছে। সুতরাং ‘বেছে নিন’।

    ভাইয়া, আপনার এই এপ্রোচটাই আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে।

    লেখাটা অনেক ভালো লেগেছে। অনেক কিছুই বুঝেছি, আবার বুঝি নাই এমন কিছুও আছে। কিন্তু, সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে।

    অনেক ধন্যবাদ গুছিয়ে, সুন্দরভাবে কথাগুলো উপস্থাপন করার জন্য।

    জবাব দিন
  6. জুবায়ের অর্ণব (৯৮-০৪)
    ব্যাঙের ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহে ঘটা বিবর্তন

    বিবর্তন এভাবে কাজ করে না।

    বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে আপাত অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া অঙ্গের উপস্থিতি থাকা উচিত।

    কেন?

    ট্রান্সিসনাল ফসিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত প্রানীগুলোর মধ্যে সবসময়ই অন্যপ্রানীর সম্পূর্ণ বৈশিষ্ট্যই পরিলক্ষিত হয় এবং সম্পুর্ণ বিকশিত ফিচার থাকে।

    যেমন?

    তাহলে কেমন করে প্রমান হয় যে ডাইনোসর থেকে বিবর্তিত হয়ে এই প্রানী এসেছে।

    এটা জানার জন্য আমাদের মর্ফোলজি এবং পেইলিঅন্টোলজি জানতে হবে। এগুলোর কোন আলোচনা না করেই আপনি সরাসরি এক কথায় বলে ফেললেন আর্কিঅপট্রিক্স ডাইনোসরের বংশধর না? একটা এভিডেন্সও কি আপনার দেখানো উচিত ছিল না আপনার দাবীর স্বপক্ষে?

    কোন একদিকে পরিবর্তিত হওয়ার সেই গল্পে Panderichthys যেন বাধ সাধল।

    একদিকে পরিবর্তিত? এইটা কি নেইচার বলেছে? নাকি এইটা আপনার কথা? পরিবর্তনের দিক এই ধারণাটাই বা আসলো কোথা থেকে? এর সংজ্ঞা?

    আর বেশি ফারাক থাকলে; ‘পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম’ নামের অসাধারণ তত্ত্বই শেষ ভরসা! [ব্যাঙ্গার্থে লেখা]

    ব্যাঙ্গ করার আগে পাঙ্কচুয়েইটেড ইক্যুইলিব্রিয়ামের সংজ্ঞা একবার দিয়ে নেওয়া কি উচিত ছিল না, এবং এর মেকানিজম, কিভাবে এটা কাজ় করে?

    কুরআন ও বিবর্তন

    অপ্রাসঙ্গিক।

    ছোট পরিবর্তন থেকে বড় পরিবর্তন

    অপ্রাসঙ্গিক এবং অবৈজ্ঞানিক। আপনি সম্ভবত থার্মোডায়নামিক্সের এন্ট্রপিক প্রিন্সিপালের কথা বলতে চেয়েছিলেন, যা বলার আগে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে সোলার সিস্টেম কোন ক্লোজড সিস্টেম না, পৃথিবী প্রতিমুহুর্তে সূর্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করে চলছে যার বিপরীতে সূর্য প্রোটন ফিশন করে হিলিয়াম বানিয়ে বানিয়ে শক্তি উৎপাদন করে চলছে। মুলত ইউনিভার্সই কোন ক্লোজড সিস্টেম না, কেননা ইউনিভার্সই ইজ এক্সপ্যান্ডিং।

    এবার জীবের পরিবর্তনের ব্যাপারে আসা যাক। মানুষের বর্ণ বা ছোট-খাট পরিবর্তন কিন্তু ধীর প্রক্রিয়া। আপনি হয়তো কক্সবাজারে রোদে ঘুরে কালো হবেন, কিন্তু ঢাকায় আসলে দেখবেন আবার ফর্সা হয়ে গেছেন।

    এটাকে বিবর্তন বলে না। বিবর্তনের প্রথম অনুমিতিই হচ্ছে " সিলেক্সন প্রেসারের অধীনে রিপ্রডাকশন উইথ ভ্যারিয়েইশন।"

    জেনেটিক্স যদি না থাকতো তাহলে সব পরিবর্তনই ধীর বলে চালিয়ে দেয়া যেত

    জেনেটিক্স আছে বলেই আমরা জানতে পারছি যে সব পরিবর্তনই ধীর হতে হবে। জেনেটিক্স জানাচ্ছে ম্যুটেইশন রেইট কত বেশী হলে অর্গানিজম মারা যাবে।

    শিম্পাঞ্জী থেকে মানুষের পরিবর্তন, বা গাধা থেকে ঘোড়ার পরিবর্তনে জেনেটিক্যাল ইনফরমেশনের একটা জাম্প আছে, যা ক্রমোজম সংখ্যা

    কথাটার মানে? আপনি যদি ধরে নিয়ে থাকেন যে একটা ক্রমোজমাল ফিউশনের ইভেন্টই একবারে দুইটা ডিস্টিঙ্ক্ট স্পিসিস তৈরী করেছে সেটা আপনার ভুল, বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানীদের নয়।

    এখন তাই প্রমানের অবকাশ আছে, এই বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে তাহলে কেমন করে বিবর্তন হতে পারে।

    কি প্রমান বা ফিজিকাল এভিডেন্স আছে জানতে পারি কি? আপনি কি "শক্তি", "প্রমান" এই বৈজ্ঞানিক টার্মগুলো ভুলভাবেই এখানে ব্যাবহার করছেন না? আর প্রমান আপনার কাছে থাকলে লাভই বা কি, কোন সায়েন্টিফিক জার্নালে তো গত ১৫০ বছরেও একটা প্রমান জমা হল না যা বিবর্তনের বিরুদ্ধে যায়।

    এমিনো এসিড যেহেতু প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তাই প্রচার হয়ে যায় বিজ্ঞানীরা প্রাণ তৈরী করে ফেলেছেন।

    ভুল তথ্য। কখনও প্রচার হয়নি যে তাঁরা ল্যাবে প্রাণ সৃষ্টি করেছেন।

    পরে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভূল পরিবেশে, ভুল উপায়ে এবং প্রাণ তৈরীর ভুল উপাদানগুলো পেয়েছেন তারা।

    তাঁরা প্রাইমোডিয়াল পরিবেশ সিমুলেইট করেন পর্যাপত হিট এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অ্যাকটিভিটি রিপ্রোজিউস করে, ব্যবহার করেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন, পানি, নাইট্রোজেন ও অ্যামোনিয়া এবং তাঁরা একটি নিদৃষ্ট সময় পর পান আলফা এল অ্যামাইনো অ্যাসিড। কোন্টাকে আপনি ভুল বলছেন?

    স্থল প্রানী থেকে তিমি মাছের বিবর্তন বা ফটোসেন্সিটিভ চামড়া থেকে চোখের আবির্ভাব ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিষের ব্যাখ্যায় তারা হয় শুরুতেই মোটামুটি জটিল একটা ব্যবস্থা ধরে নেন অথবা এমন কিছু ধাপ বলে বসেন যা শুধুমাত্র একজন ‘বিজ্ঞানী’ বলছেন বলেই মেনে নিতে হয়!

    সেটাই কি স্বাভাবিক না? বিজ্ঞান বিষয়ে একজন হুজুরের চেয়ে একজন বিজ্ঞানীর বক্তব্যই আমরা মেনে নেব?

    বিজ্ঞানীরা বিবর্তনবাদকে সত্য হিসেবে দেখতে পান শিম্পাঞ্জির ক্রমোজমের থেকে মানুষের ক্রমোজমের আবির্ভাবের ইঙ্গিত পেয়ে।

    এটা একটি প্রমান, এরকম কমসে কম আরও একশো হাজার প্রমান আছে যা অকাট্যভাবে প্রমান করে বিবর্তন, যেগুলোর একটিও আপনি উল্লেখ করেননি।

    তারাই এখন এই দুই প্রানীর ক্রমোজমের অমিলে অবাক হচ্ছেন।

    "ক্রমোজমের অমিল" এটা কি বৈজ্ঞানিক সেন্স প্রকাশ করে আমি জানি না। সম্ভবত আপনি বলতে চেয়েছেন "জেনোমে অমিল"। কোন অমিল নেই। আমাদের এবং শিম্পাঞ্জীর জেনোম শতকরা ৯৮.৫ ভাগ আইডেন্টিকল, যা বিবর্তনের প্রেডিকশনকে কনপফার্ম করে।

    এত বিশাল ফসিল রেকর্ডের মাঝেও এখনো গ্রহনযোগ্য কোন প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি বিবর্তনবাদিরা। মানুষের বিবর্তনের ফসিল রেকর্ডতো অনবরত তাদের বিপক্ষে যাচ্ছে। জীবের ও জীবনের জটিলতা ব্যাখ্যায় তারা ব্যর্থ।

    মানুষ, ঘোড়া এবং তিমি মাছের ফসিল রেকর্ড সবচেয়ে পরিপুর্ণ, যা অন্য কোন সাপোর্টিঙ এভিডেন্স ছাড়া শুধু মর্ফোলজি আর ফাইলোজেনি দিয়েই প্রমান করে বিবর্তন। এওখন পর্যন্ত প্রাপ্ত কোন ফসিলই বিবর্তনের বিরোধীতা করেনি। এবং এখন আমরা জীব ও জীবন যতটুকু বুঝি তা এককথায় অসাধারণ, জীবের ও জীবনের জটিলতা ব্যাখ্যায় তারা ব্যর্থ হলে আপনার গড় আয়ু ২২ বছর থেকে ৭৭ বছর হত না, তাই না? আর মানুষের ফসিল রেকর্ড বিবর্তনের বিরুদ্ধে যায় না? উদাহারণ দেখান না একটি।

    অনেকক্ষেত্রেই ব্যাখ্যা দিয়েছে কিন্তু সময়ে তা ভুল প্রমানিত হয়েছে।

    উদাহারণ?

    সৃষ্টির শুরু বা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কারণ তাদের জানা নাই।

    বিজ্ঞানীদের দর্শন জানা বাধ্যতামূলক না।

    এতকিছুর পরেও কোন কারণে বিবর্তনবাদকে আমরা ‘fact’ হিসেবে ধরে নেব?

    কারণ এর স্বপক্ষে আমাদের ইম্পেরিকাল এভিডান্স আছে, এমনকি আমরা ল্যাবে স্পিসিয়েইশন করে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের রিপ্রজিউসেবল ইম্পেরিকাল এভিডান্স আছে।

    আমরা যা দেখি না বা যার অস্তিত্ব সরাসরি প্রমান করা যায়না, যেমন স্রষ্টা, তাকে সত্যি বলে আমরা বিশ্বাস করে নেই।

    কোন সেন্সিবল মানুষেরই প্রমান ছাড়া কোন কিছু বিশ্বাস করা উচিত না।

    বিবর্তনবাদীরা মনে করেন, যে বিজ্ঞান একসময় তাদের ধারণার পক্ষে প্রমান উপস্থাপন করবে। একে যদি ‘বিশ্বাস’ বলি, তা হলে কি অন্যায় হবে?

    যা ইতিমদ্ধেই প্রমানিত তাকে বিশ্বাস বলে না। তাকে বলে বিজ্ঞান।

    বিবর্তনবাদ কি আসলেই ধ্রুব সত্য, যাকে আমরা আমাদের ধর্মকে বিসর্জন দিয়ে গ্রহন করতে পারি।

    করলে খারাপ হয় না তো, বিজ্ঞানের বৈশিষ্টি এটা যে, এটা কুসংস্কারের অন্ধকার দুর করে। যার পক্ষে প্রমান আছে বা যা সত্যি তাকেই তাকেই আমরা গ্রহন করবো প্রমানবিহীন বুজরুকীকে বিসর্জন দিয়ে।

    আহ টায়ার্ড হয়ে গেলাম। বাকীটুকু পরে।

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      এত অল্প কথায় একটা সিউডো-সায়েন্স প্রচেষ্টার এত সুন্দর জবাব দেয়া যায়?
      শুধু মুগ্ধই না কিছুটা আক্ষেপও হলো।
      কিসব মেধাবিদেরই না আনাগোনা ছিল একটা সময়ে এই সিসিবি-তে!!
      এখন আর তেমন কাউকে খুব একটা দেখি না।

      ব্লগ-চর্চ্চার এই মুখ থুবড়ে পরা নিয়ে একটা ব্লগ লিখবো কিনা, ভাবছি....


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  7. হায়দার (৯৮ - ০৪)

    জাহিদ ভাইয়া, আপনার লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো. এই ব্লগেই কিছু লেখা আছে এই বিষয় গুলো নিয়ে .কিন্তু ওগুলো অনেক ইম্মাচিউর মনে হযেছে . আপনার লেখাটা অসাধারণ . রেফারেন্স গুলো খুব হেল্পফুল এবং বিশ্বাস যোগায় সহজে.

    জবাব দিন
  8. হায়দার (৯৮ - ০৪)
    তাঁরা প্রাইমোডিয়াল পরিবেশ সিমুলেইট করেন পর্যাপত হিট এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক অ্যাকটিভিটি রিপ্রোজিউস করে, ব্যবহার করেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন, পানি, নাইট্রোজেন ও অ্যামোনিয়া এবং তাঁরা একটি নিদৃষ্ট সময় পর পান আলফা এল অ্যামাইনো অ্যাসিড।

    সৃষ্টির শুরুতে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন, পানি, নাইট্রোজেন কোথা থেকে এলো? বিজ্ঞান কি বলে, শূন্য থেকে সৃষ্টি সম্ভব ?

    জবাব দিন
    • মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

      প্রাইমরডিয়াল পরিবেশ বলতে এখানে সৃষ্টির শুরুতে বোঝানো হয় নি। এই মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছিল আজ থেকে আনুমানিক ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে। আর এখানে যে প্রাইমরডিয়াল পরিবেশের কথা বলা হচ্ছে সেটা পৃথিবী সৃষ্টিরও অনেক পরের ঘটনা। পৃথিবী গঠিত হয়েছে মাত্র ৪০০ কোটি বছর পূর্বে, তার মানে এই প্রাইমরডিয়াল পরিবেশ গঠিত হয়েছে আনুমানিক ১০০ কোটি বছর পূর্বে। সৃষ্টির শুরু হল সেই ১৩৭০ কোটি বছর পূর্বে, ১০০ কোটি বছর পূর্বে নয়।

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।