দুঃস্বপ্নের শ্লোগান

(৭১’এর পিশাচদের বিচারের দাবীতে)

এসলাম এজলাস করে করে দ্বীন গেল অজুহাতে
চলমান কালো তাবু বানাতে চাস রূপবতী বাঙালি নারীকে
পর্দার আবরণে ঢেকে দিতে চাইছিস বঙ্গকণ্যাকে মাথা থেকে পায়ে
তবে তোর মায়ের নেকাব খুলেছিলি কেন ৭১ এ !!

ভাবীর ব্লাউজ-শাড়ি, বোনের সালোয়ার-কামিজ
ছিড়েছিলি কেন ছিন্নভিন্ন করে ! একেই বুঝি দ্বীন রক্ষা বলে!
জলপাই রঙের গাড়িতে করে একদল পাক-জানোয়ার ডেকে
কেন লেলিয়ে দিয়েছিলি তোর গর্ভবতী মায়ের দিকে!

বিস্তারিত»

অপারেশন ফার্মগেট

১৬ই ডিসেম্বর,১৯৭১

ঢাকার রেসকোর্স ময়দান। সময়টা প্রায় বিকাল ৪টার কাছাকাছি। জেনারেল অরোরা, মাঝে জেনারেল নিয়াজী এবং তার পাশে মুক্তিবাহিনীর একজন তরুণ অফিসার দৃপ্ত পদক্ষেপে সামনের দিকে হেটে চলেছেন আত্নসমর্পনের জন্য নির্ধারিত স্থানের দিকে।কাঁধে ঝোলানো চায়নীজ অটোমেটিক রাইফেলটি যেন বোঝাতে চাইছে এখনো যে কোন অপ্রিয় এবং আকষ্মিক ঘটনার জন্য প্রস্তুত তিনি। তরুনের নাম মেজর হায়দার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যিনি ছিলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের একজন অফিসার।

বিস্তারিত»

দেউল্লা রাজাকারঃ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী

স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের বয়স চল্লিশের বেশী। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ নামক এই দেশটিকে নিয়ে চলে আসছে দেশী বিদেশী নানান ষড়যন্ত্র। যে দলটি ৭১ সালে আমাদের এই দেশটির জন্মই চায়নি আজকে তারাই আবার আমাদের দেশটাতে দাপটের সাথে রাজনীতি করে যাচ্ছে। আবার তাদের গাড়ীতে বাংলাদেশের পতাকাও উড়তে দেখা গেছে।দেশের পতাকাকে অসম্মান করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান আছে জানি। আমার প্রশ্ন হল যদি যুদ্ধাপরাধীদের বাড়িতে,গাড়ীতে জাতীয় পতাকা উড়ে সেটা কি জাতীয় পতাকার অবমাননা নয় ?

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(বার)

দিনগুলি রোদ্রজ্জল ঝক ঝকে।আর রাত গুলিতে বেশ শীত পরতে শুরু করেছে। তখন ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ এর যুগও ছিলনা, নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারি আসলেই শীতকাল ছিল।হাড় কাঁপানো শীত। তবে এ নিয়ে আমাদের এত আক্ষেপ ও ছিলনা। বরং আমরা খুশিই ছিলাম। আমার ছোট্ট একটা বুদ্ধি বেশ ভালই কাজ দিচ্ছল।

আমাদের ব্যাচেলর দের থাকার রুম ছিল বারান্দার একদম শেষ মাথায়। বাথরুম এর পার্শে। ফজরের নামাজ শীতের কারনে একসাথে  না পড়ে নিজ নিজ ঘরে পরার পারমিশন পেয়ে গেলাম আব্দুল করিম মিয়া সাহেবের কাছ থেকে।

বিস্তারিত»

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতিগত ঘৃণা ও আমাদের আত্ম-পরিচয়ের রাজনীতি

সিসিবিতে নিয়মিত আসলেও লেখা হয়না অনেকদিন। কেন, সে’ এক বিরাট ইতিহাস। আজ মনে হলো কিছু একটা লিখি, ইতিহাস নিয়েই, তবে তা’ সিসিবিতে আমার লেখার মাঝে এই লম্বা বিরতি নিয়ে নয়, বরং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সেই প্রেক্ষিতে ব্যক্তির বিচার বিষয়ে, মোটাদাগে যা’কে বলা হয় Sociology of Man in War.

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের মাঝে যে সাধারণ ডিসকোর্স চালু রয়েছে, তা’তে ব্যক্তির সামগ্রিক মূল্যায়ণ হয় প্রকৃতপক্ষে একটা বাইনারি স্ট্যান্ডার্ডের মাধ্যমেঃ আক্রান্ত/আক্রমনকারী,

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(এগার)

“তেলেপোকা” নিয়ে একটা বিজ্ঞান সাময়িকীতে একবার পড়েছিলাম, এই আজব  প্রাণীটির বিচরণ অন্ধকার জগতে।এরা সর্বভুক।স্বজাতীয় দের নিয়েও মাথা ব্যথা নেই। নিজে বাঁচতে পারলেই হল।সমীক্ষায় প্রমানিত হয়েছে, ‘আনবিক বোমায়’ পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীকুল মৃত্যু বরন করলেও, কোন আজব উপায়ে খোলস পরিবর্তনের মাধ্যমে “তেলেপোকা” বেঁচে থাকবে।বর্তমানের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে কথাগুলি মনে আসলো, তাই লিখে ফেললাম। ভাবছিলাম এই অধ্যায়ে আমি এই প্রজন্মের পাঠকদের যুদ্ধের খল নায়ক ” দালালদের” ব্যপারে কিণচিৎ আলোকপাত করবো।

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(দশ)

১৯৭১ এর শেষ কয়েকটি মাস।আবার ঢাকা শহর।  কোথাও কোন ঝামেলার চিঁহ্ন মাত্র নেই ।চারিদিক  জীবনযাত্রা সব স্বাভাবিক।  চোখের কোনে কিছু ধরা দিয়েও দেয়না। চারিদিকের  মাত্রাতিরিক্ত স্বাভাবিকতা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কে শুধু সাবধান করে দেয়, কোথায়ও বড় কোন  ঘাপলা আছে, বেশ বেখাপ্পা লাগে।দেশ বিদেশে এত কানাঘুষা আর এখানে ‘”সব কুছ ঠিক হ্যাঁয় ” এ হতেই পারেনা। তবে মানুষ গুলিকে খুব নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সব প্রাণহীন দম দেয়া পুতুল “জম্বি”

বিস্তারিত»

পাঠকের ডায়েরিঃ বন্দীশালা পাকিস্তান

সন্ধ্যার সময় কাজ না থাকলে প্রায়ই বইয়ের দোকানে ঘোরাঘুরি করি, খুব যে একটা বই কিনি তা না বরং এসি বা ফ্যানের হাওয়া খাইতে খাইতে বই দেখাই মূল উদ্দেশ্য। এরকম গত কয়েকদিন আগে গরমের মধ্যে “মধ্যমা” নামক দোকানে এসির হাওয়া খাইতে খাইতে হঠাত তাকের একটা বইয়ের দিকে চোখ পড়ল, হালকা পাতলা হলুদ রঙের একটা বই। কয়েক পৃষ্ঠা উল্টাতেই আগ্রহ জাগল তবে বইয়ের দোকানে বই আগ্রহ জাগালেও সব সময় তা গরীব ছাত্রদের পকেটের অবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় না।

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(নয়)

একটা যুদ্ধে সব সময় শুধু দুঃখ, কষ্ট, মৃত্যুর ই হাতছানি থাকবে তা কিন্তু নয়, তার মধ্যেই নতুন জন্ম , হাঁসি, আনন্দ সবেরই মিশেল ছিল।বিশ্ব বিখ্যাত ওয়ার মুভি “সান ফ্লাওয়ার” এর কানের দুল খেয়ে ফেলার মত হাসির ঘটনা ও আছে প্রচুর !

দুই একটা এর মাঝে উল্লেখ না করলে আমার পাঠক দের প্রতি অবিচার করা হবে।

গেরিলা সম্মুখ ‘এঙ্কাউন্টার’ চলছে । দুই পক্ষই গুলির খৈ ফুটাচ্ছে।

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(আট)

সম্ভবত তিনটা প্রধান কারনে তল্পি গুটিয়ে আবার গ্রাম ছেড়ে শহর মুখো হতে হোল।

প্রথম এবং প্রধান মনস্তাতিক সমস্যা : ভেসে আসা লাশের সংখ্যা ! প্রতি দিন ইসামতির মৃদু ঢেউএ ভেসে আসতে লাগলো অনেক হতভাগ্য মানুষ । ১৯৭০ এর ১২ নভেম্বরের  ঘূর্ণি ঝড়ের মৃত সভ্যতা ভোলা- চর ফ্যশান এর সংবাদ পত্রের সেই ‘লাশ আর লাশের’  ছবি গুলিরই যেন বাস্তব উপস্থাপনা হয়ে উঠল নানা বাড়ীর এই মধুর আনন্দের ঝাঁপিয়ে পরে গোসল করা নদীটি !

বিস্তারিত»

রাজাকার

স্বপ্নে এক মুক্তিযোদ্ধার সাথে বর্তমানের এক তরুণের দেখা। প্রথমজনই কথা শুরু করলেন।

-রাজাকার কারা?
-একাত্তরে যারা রাজাকার দলের সদস্য ছিল তারা।
-রাজাকাররা কি ঘৃণ্য?
-অবশ্যই, কারণ তাদের কোন আদর্শ ছিল না; দশজনের কথা ভাবার আগে তারা নিজেদের কথা ভেবেছে; নিজের স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে তারা হিংস্রতার নিম্নতর স্তরে পর্যন্ত গিয়েছে; সম্পদ লুট করেছে; সাধারণ মানুষ হত্যা এমন কি ধর্ষণ করতেও বাঁধেনি তাদের।

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ।(সাত)

যুদ্ধের ভয়াবহতা ধীরে ধীরে টের পেতে লাগলাম । এলাকায় পাক আর্মি যেমন তাদের লোকবল বৃদ্ধি করতে লাগলো, সাথে সাথে মুক্তি বাহিনী ও দিন দিন শক্তিশালী হতে লাগল। বাঙ্গালী বীর যোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিমের নেত্রীত্বে মানিকগঞ্জ ,তাল তলা এলাকায় ভয়াবহ সম্মুখ সমরে  নাকানি-চুবানি শুধু নয় প্রকৃত অর্থেই ওরা ‘পানিতে চুবানি’ খেতে লাগলো ।

বাজার ঘাটে গানবোটের সমারোহ বাড়লো । মুক্তি বাহিনীর ভয়ে থানার ঘাটির আশে পার্শের বাজার,

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(ছয়)

শুনে বাবা খুশী হওয়ার বদলে গম্ভীর হয়ে পড়লেন।কারন টা দুদিনেই বুঝা গেল। আবার গ্রামে আর্মি আসছে।এবং এবার আর ফ্রেন্ডলি নয়।দুদিনেই গ্রামটার প্রান চঞ্চল্ল্য কোথায় যেন হারিয়ে গেল। কেমন থমথমে হয়ে পড়লো। শিশুরা কান্না করলে ও “আর্মি আসছে” বলে চুপ করানো হয়।

বর্ষার থৈ থৈ পানি চারিদিকে। রাস্তা ঘাট থক্-থকে কাঁদায় ভরপুর। আর্মিরা পারত পক্ষে থানা থেকে বেরুতে চাইতো না। সুদৃঢ় ব্যাংকার পরিবেষ্টিত হয়ে থানায়ই থাকা নিরাপদ মনে করতো।

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(পাচ)

১৫০০০ ফিট উপর থেকে সবুজ শ্যামল দেশটা কে কত সুন্দর লাগছে। ছোট ছোট ম্যাচ বক্স এর মত ঘর বাড়ি ,পুকুর।এর চেয়েও ছোট মানুষ। পিঁপড়া থেকেও ছোট ।এত উপর থেকে দেখা যাবে কিনা সন্দেহ। তাদের এই জমিনএ এই তাণ্ডব, এত হানা-হানি।আল্লাহ্‌ তালা নিশ্চয় উপর থেকে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করছেন ও হাসছেন।ভাবনাটা সাংঘাতিক।ছোটদের এরকম ভাবতে নেই ।শাস্তি যোগ্য অপরাধ।

সবুজ পোশাক, সবুজ টুপি পরা বিমান বালা এবার ভালো ব্যাবহার করেই ‘কে,রাহমান’

বিস্তারিত»

আমার দেখা ‘৭১ এর মুক্তি যুদ্ধ!(চার)

কোরবানীগঞ্জ-খাতুনগঞ্জ ।চট্টগ্রামের, তথা দেশের আমদানি-রফতানি ব্যবসার তৎকালীন প্রান কেন্দ্র ।’জলিল-হাকিম ম্যানসনের’ চার তলায় বাবার অফিসের একাংশ পরিষ্কার করে মহাসুখে নতুন সংসার গুছিয়েছেন মা। চারিদিকে  উর্দু-গুজরাটি-বোম্বাইয়াদের ভিড় । হাসি খুশী ভদ্র সুন্দর ব্যবহার । মূলতঃ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

মজার ব্যপার হল, দেশকে ধ্রুত আবার স্বাভাবিক অবস্তায় ফিরিয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর পাকিস্তানী ‘হুকুমত’ এইসব এলাকাকে এড়িয়ে চলছিলো । যাতে পূর্ণোদ্দমে অর্থনীতি আবার সচল হয়।

কিন্তু জেলখানার মানুষের আবার স্বাভাবিক জীবন ?

বিস্তারিত»