রাজাকার

স্বপ্নে এক মুক্তিযোদ্ধার সাথে বর্তমানের এক তরুণের দেখা। প্রথমজনই কথা শুরু করলেন।

-রাজাকার কারা?
-একাত্তরে যারা রাজাকার দলের সদস্য ছিল তারা।
-রাজাকাররা কি ঘৃণ্য?
-অবশ্যই, কারণ তাদের কোন আদর্শ ছিল না; দশজনের কথা ভাবার আগে তারা নিজেদের কথা ভেবেছে; নিজের স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে তারা হিংস্রতার নিম্নতর স্তরে পর্যন্ত গিয়েছে; সম্পদ লুট করেছে; সাধারণ মানুষ হত্যা এমন কি ধর্ষণ করতেও বাঁধেনি তাদের।
-কিছু কিছু রাজাকার তো ছিল যাদের আদর্শ ছিল, মুসলিম লীগ করে পাকিস্তানের স্বাধীনতা এনেছিল বলে তারা মুক্তিযুদ্ধকে সহায়তা করে নি, তাদেরকেও কি তুমি ঘৃণ্য বলবে?
-হ্যাঁ। তাদের অধীনের লোকেরাই এসব নিকৃষ্টতা করেছে কিন্তু তারা কখনো বাধা দেয় নি। এ পৃথিবীর কোনও নীতিতেই এদের প্রশ্রয় দেয়াকে মেনে নেয়া যায় না।
-ঠিক আছে। তবে সে সময়কার সুশীল সমাজের যারা রাজাকারে যোগদান করেনি কিন্তু পাকিস্তানি অফিসারদের পার্টিতে গিয়েছে, তাদের তোষামোদ করেছে, তাদের তুমি কি বলবে?
-তারাও আদর্শহীন। এদিক দিয়ে তারাও রাজাকারের সমতুল্য।
-অর্থাৎ বড় অর্থে ধরলে যারা সুবিধাবাদী, আদর্শহীন এবং আত্মকেন্দ্রিক; নিজে সকল সুবিধা ভোগ করেও যারা অন্যের কথা এতটুকুও চিন্তা করে না তারাই রাজাকার?
-হ্যাঁ।
-অনেক কথা হল। এবার তোমার সম্পর্কে জানা যাক। তুমি তো ২০১১ সালের এক তরুণ, এখন মুক্তিযুদ্ধ হলে তুমি কি যুদ্ধে যেতে?
-(দৃঢ়স্বরে) হ্যাঁ যেতাম।
-রাজাকার হতে না?
-(আরও দৃঢ় ও জোরালো স্বরে) না।
-বেশ ভালো কথা। তা তোমার নাম কি?
-(নাম বলা হল)
-আমি যে স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়ে গেলাম তার কোনও সুবিধা কি তুমি ভোগ করছ?
-আমি আজ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারি, আমার মাতৃভাষায় কথা বলতে পারি, অন্য ভাষা, ভূখণ্ড বা জাতীর কেউ এসে আমার ওপর অবিচার করতে পারে না। অবশ্যই, আপনাদের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ।
-ভালো কথা। তা তুমি তো একটি সচ্ছল পরিবারে ছেলে?
-জি।
-এখন কি করছ?
-…… বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি।
-আমি আবার বুঝিয়ে বলি, তুমি এক সচ্ছল পরিবারের ছেলে; একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছ; আমার প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীনতা ভোগ করছ, আমার প্রশ্ন তার বিনিময়ে তুমি কি করছ? আমায় তুমি কতটুকু ফিরিয়ে দিচ্ছ?
-আমি আমার পড়াশোনা করছি, আমি বড় এক চাকুরীজীবী হলে তো এ দেশেরই নাম বাড়বে, তাই নয় কি?
-মনে করিয়ে দেই, তুমি এক স্বপ্নের মাঝে আছ। এখানে মিথ্যা বলা অসম্ভব। এবার বল, তুমি পড় কিসের জন্য? দেশ নাকি নিজের টাকা বানানোর জন্য?
-…… নিজের জন্য।
-দেশের স্বার্থে কোনও বিষয় নিয়ে তুমি মাথা ঘামাও না, ন্যায়ের পথের কোনও আন্দোলনের পিছে দাঁড়াও না, বেশিরভাগ ২৬শে মার্চ, একুশে ফেব্রুয়ারিতে তুমি ঘুমিয়ে কাটাও, যদি কখনো কিছু করেও থাক কি জন্য কর? আমাদের প্রতি সম্মান নিয়ে নাকি বন্ধুরা যায় বলে? ‘মাস্তি’ হবে বলে?
-সত্যি বলতে বন্ধুরা যায় বলেই যাই।
-আচ্ছা আমি নাহয় ধরে নিলাম তুমি তোমার মতো করেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, হয়তো ভালো কিছু, নতুন কিছু করে দেখাতে চাও পড়ালেখা, খেলাধুলা এদের মাঝেই। অথবা সৃষ্টিশীল গান, নাটক বা এধরনের কিছু কর। অর্থাৎ এমন কিছু যা তুমি শুধু নিজের জন্য, নিজের ভালো লাগার জন্য বা খ্যাতির জন্য কর না। মানুষের জন্য কর। এমন কিছু কি তুমি কর? আবারো বলছি তুমি স্বপ্নে আছ। মিথ্যার অস্তিত্ব নেই এখানে।
-আমার ভালো একটি ক্যারিয়ারেও তো মানুষেরই লাভ। আমি একটি ফ্যাক্টরি তৈরি করে কত মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারি। এভাবে আমি মানুষের জন্য করব।
-ভুল করে কারো পকেট থেকে টাকা পড়ে যাবার পর তা যদি কেউ খুঁজে পায় তাকে দান বলা যায় না। আমার প্রশ্নটি উদ্দেশ্যে। তুমি ফ্যাক্টরি দিচ্ছ তোমার জন্য, ক্যারিয়ার ডেভেলপ কর তোমার জন্য মানুষের জন্য নয়। এতে মানুষের কিছু হচ্ছে না তা আমি বলব না, কিন্তু যে কাজ তোমার ইচ্ছায় হয়নি তা থেকে তুমি কিছু দাবি করতে পার না। আবার এ কথাও সত্যি, জীবনের সবচাইতে স্বাধীন সময় তুমি এখন কাটাচ্ছ, এখনই যদি তুমি কারো জন্য কিছু না কর তবে সে সময় করবে এ প্রশ্নই তো আসে না।
-কিন্তু করতেই হবে কে বলেছে?
-কেউ বলেনি যে করতেই হবে। আমি দেখতে পারছি তুমি কিছুই করো না। তোমার মুখ থেকেই জানতে চাচ্ছি যে তুমি করনি। কেননা সুবিধা নিয়ে কিছু না করাই তো অপরাধ। তাই শেষবারের মত বলছি। নিজের জন্য ছাড়া মানুষের জন্য তুমি কিছু কর?
-(দীর্ঘশ্বাস) না।
– তাহলে তুমি হচ্ছ এমন একজন ছেলে যে কিনা সমাজের প্রায় সকল সুবিধাই ভোগ করে, আমার প্রাণর্জিত স্বাধীনতাকে পেট পুরে খায়, কিন্তু যা যেনে আমি ঘুমিয়েছিলাম, যে তুমি মানুষের জন্য কাজ করে যাবে তার কিছুই তুমি কর না। তাই আমি তোমায় বলতেই পারি তুমি একজন আত্মকেন্দ্রিক, সুবিধাবাদী, আদর্শহীন মানুষ।
-জি পারেন।
-তবে স্বপ্নের প্রথমাংশের কথা চিন্তা করে দেখ তো তুমি কে?
-(প্রচণ্ড ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো ছেলেটার। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কোনও কথা বেরোচ্ছে না তার মুখ দিয়ে)
-তুমি কে?
-জানি না।
-(উচ্চস্বরে) তুমি কে?
-(নিম্ন-শিরে, নিম্নস্বরে ছেলেটির জবাব) আমি এক রাজাকার।

এক ঝটকায় ঘুম ভেঙে গিয়ে শোওয়া থেকে বসে পড়ল ছেলেটি। দৌড়ে গিয়ে আয়নার দিকে তাকালো সে।
আঁতকে উঠল।
এত বীভৎস চেহারার এ কে?
ভয়ে বারবার মুখে পানির ঝাপটা দিতে থাকল সে।
কিন্তু আবারো একই দৃশ্য, শত ঝাপটাতেও তা যাবার নয়।
এমনই সময় আকাশ থেকে ভেসে এলো স্বপ্নের কথাগুলো “আমি এক রাজাকার… আমি এক রাজাকার…”, ইয়াহিয়ার সেই ছবিটির মতই কুৎসিত আয়নার চেহারাটি মাথার চারপাশে ঘুরতে লাগলো।
আর সহ্য করতে না পেরে আয়নাটিই ভেঙে ফেলল সে।
অবশেষে নীরবতা ……… প্রশান্তি।
ভেবেই নিচের দিকে তাকালো ছেলেটা।
ভয়-ক্ষোভ-হীনমন্যতা-নিকৃষ্টতায় দুহাতে মাথার চুলগুলো জাপটে ধরে আর্ত চিৎকার করে উঠল সে।

হাজার ভাঙা আয়না হতে তার দিকে তাকিয়ে আছে হাজারটি রাজাকার।

***

(সকল কথা ও চরিত্রই কাল্পনিক। কারো জীবনের সাথে কোনোভাবে মিলে গেলে লেখক দায়ী নন। এমনকি অনেকের সাথে মিলে গেলেও না)

২,২১১ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “রাজাকার”

  1. সামিয়া (৯৯-০৫)

    অসাধারণ অসাধারণ এবং অসাধারণ একটা লেখা!! এরকম স্বপ্ন যেন সবার মাথার মাঝে কিলবিল করতে থাকে, কুটকুট করতে থাকে, মানুষকে শান্তিতে না থাকতে দেয়।

    কিন্তু কয়েকটা কথার সাথে একমত নই।

    আমার ভালো একটি ক্যারিয়ারেও তো মানুষেরই লাভ।

    এই কথাটিকে আমি অত্যন্ত পসিটিভলি দেখি। দেখো, আমাদের দেশে কোন সিস্টেম নাই। কারণ কেউ তার নিজের কাজটা ঠিকমত করে না। আমি একজন ডাক্তার, আমি যদি যত্ন নিয়ে রোগী দেখি, তাহলে একজন সুমন মারা যায় না। আমি ব্যবসায়ী, সঠিক দামে চিনি বিক্রি করি। আমি টিচার, আমি শিশুকে রেসিজম, অসত্য, অসততা হতে দূরে রাখি...

    আমার মাঝে মাঝে খুব খারাপ লাগে...আমি আর্কিটেকচার পড়ে কি করব? বড়লোকের বাড়ি বানাব...দেশের জন্য কি করছি? কিছুই না। আমি কিন্তু ভুলে যাই এই পেশাতেও আমি যদি আমার সর্বোচ্চটা ঢেলে দিই, তাতেই এই দেশটা উপকৃত হবে। এই হতাশায় না নিজের কাজ ঠিকমত করি, না দেশকে কিছু দিতে পারি।

    ক্যারিয়ারিস্টরা বরঞ্চ আমার মতন হিপোক্র্যাটদের চেয়ে ভালো, তারা এটলিস্ট একটা কাজ ঠিকমত করছে। দেখো এদেশে সবাই যদি ক্যারিয়ারিস্ট হতো, একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা হত, নিয়মটা ঠিকই নিজ নিয়মেইএগিয়ে চলত।

    জবাব দিন
    • অয়ন মোহাইমেন (২০০৩-২০০৯)

      অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য আপু।

      আমিই হয়তো 'ক্যারিয়ারিস্ট' শব্দটার ভুল প্রয়োগ করেছি। কেউ যদি তার কাজটুকুই সপ্ন নিয়ে করে তাহলে সে কখনোই রাজাকার নয়।

      এদেশে সবাই যদি ক্যারিয়ারিস্ট হতো, একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা হত

      দুঃখটা তো আপু 'সুস্থ' শব্দটাতেই।

      জবাব দিন
  2. নাফিজ (০৩-০৯)

    "ক্যারিয়ারিস্টরা বরঞ্চ আমার মতন হিপোক্র্যাটদের চেয়ে ভালো, তারা এটলিস্ট একটা কাজ ঠিকমত করছে। দেখো এদেশে সবাই যদি ক্যারিয়ারিস্ট হতো, একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা হত, নিয়মটা ঠিকই নিজ নিয়মেইএগিয়ে চলত।"

    খুব খাঁটি একটা কথা। আমেরিকার কথা ভাব তো...ওখানে তো খেতে- বসতে-ঘুমাইতে সবজায়গাতেই ডলারের হিসাব, সবজায়গাতেই ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা- ক্যাপিটালিসমের প্রথম পাঠ। কিন্তু কালেক্টিভলি দেশ হিসেবে ওরা কিন্তু ঠিকই একদম চূড়ায় উঠে বসে আছে- আরো অনেকদিন থাকবে।

    একসময় সিলেটে একজন একটা কথা বলসিলেন আমাদের, মনে আছে? মানুষের উপকারের জন্য কাজ করো, জীবনটাকে সেইভাবে গড়ে নাও। উপকারের চেয়ে আনন্দ আর কোনকিছুতে নাই।

    আমরা হয়ে গেছি মাস্তি জেনারেশন- এই চিন্তাটাই আমাকে এখন সবচে বেশি পীড়া দেয়।ক্লাস শেষ হইলেই মুভি দেখতে, নাইলে কেএফসিতে দৌড়াই আমরা। আর এফবি তো আছেই মাশাল্লাহ। ভিন্ন একটা কিছু করবো- এই চিন্তাটাই আমাদের কারো মধ্যে আসেনা- আসলেও শিখাটাকে জিইয়ে রাখতে পারিনা। যেদিন নিজেদের প্রতি কমিটেড হতে পারবো সবাই- ও আরো একটা ব্যাপার, দুর্নীতিকে প্রশয় না দেবার মত শক্ত মনমানসিকতা- এই দুইটা জিনিস যদি আমাদের মধ্যে আসে, সেদিনই দেশও এগিয়ে যাবে। দেশ মানে তো আমরাই ,এই পনের কোটি মানুষই তো, তাই না ?


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
    • অয়ন মোহাইমেন (২০০৩-২০০৯)

      দোস্ত, আমার মতে আমাদের সমস্যাটা অন্য যায়গায়,

      বর্তমানে আমাদের সবাই চায় চুরি করতে, তাই নিজে শুদ্ধ থাকলে এই দেশটাকে বাঁচানো সম্ভব না। সিলেটের সে কথাটিকে সম্মান করেই যদি বলি মানুষের জন্য করব তাহলে সবচেয়ে বেশি করা যায় পাবলিক সার্ভিস এ গিয়ে । কিন্তু ওখানে তো এ কথা আরো বেশি সত্য "If you do nothing, you're doing wrong"

      তাই দোস্ত শুধুমাত্র নিজের জন্য করে আর মনে হয় না এ দেশের উন্নতি হতে পারে। (সম্পাদিত)

      জবাব দিন
  3. আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

    শেষের ছবিটার সাথে কোনক্রমেই সহমত পোষন করতে পারছি না। এটা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের কোন ডকুমেন্ট নয়। লেখকের উদ্দেশ্য যদি হয় উপমা, তাহলে স্পষ্টতই এটি উদ্দেশ্যমূলক। এর তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি।

    স্বীকার করছি, মুসলীম লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে এবং পাক-হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে। অনেকেই লুটতরাজ, হত্যা, ধর্ষন প্রভৃতি ঘৃণ্য অপরাধের সংগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল। তবে প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে যেই পোশাকের উপর আঘাত এসেছে তা মুসলমানদের সুন্নতি পোশাক। কেউ খারাপ কাজ করলো আর জোব্বা-টুপি পড়ে মানুষকে বোঝাতে চাইলো যে সে ভালো, সেইজন্য তো ওই পোশাক দায়ী নয়। আমি ছোটবেলা থেকে যাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকার হিসাবে চিনতাম, তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু লেখকের প্রতীকী চিত্রের উলটোটিই দেখেছি। আমাদের এলাকার কুখ্যাত রাজাকারকে দেখতাম স্যুট পড়তো আর অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতাম পাঞ্জাবী-পাজামা পড়তেন।

    যা হোক, লেখার উপজীব্য বিষয় অবশ্যই অসাধারন। বাস্তবিকভাবেই আমাদের চিন্তা-ভাবনা এবং লক্ষ্য অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক এবং পাশবিক। এর থেকে আমাদের অবশ্যই বের হয়ে আসা প্রয়োজন, অন্যথায় দেশের এবং দশের উন্নতি কখনোই সম্ভব নয়। অন্তত ক্যাডেট হওয়ায় আমাদের দায়বদ্ধতা অনেক অনেক অনেক বেশী। আমরা জাতির কাছে ঋণী।

    জবাব দিন
    • অয়ন মোহাইমেন (২০০৩-২০০৯)

      আপনার কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ ভাই।

      ছবিটি "আমার বন্ধু রাশেদ" চলচ্চিত্র থেকে নেয়া। রাজাকারদের প্রতি তীব্র ঘৃণার প্রতীক হিসেবে এটি করেছি। ধর্ম, ইসলাম বা এ পোশাকটির বিপক্ষে কিছুই বলা এ লেখার উদ্দেশ্য না।

      জবাব দিন
      • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

        ধন্যবাদ অয়ন তোমার উত্তরের জন্য। আমি তোমাদের মত লিখতে পারিনা তবে আমি যেটা বিশ্বাস করি তা হচ্ছে লেখকদের দায়িত্ব অনেক। একটু সাদা চোখে যদি দেখো তাহলে তুমিও আবিষ্কার করতে পারবে যে আমার বন্ধু রাশেদ চলচ্চিত্রের এই শটটাতে রাজাকার বুঝানোর জন্য যেই পোশাক আর সাজ দেখানো হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। এইটা কি ক্যাডেট কলেজের কোন কারেন্ট এফেয়ারস ডিসপ্লে শো যে যেমন ড্রেস পেলাম তা দিয়েই চালিয়ে দিলাম????

        আবারও বলছি তোমার ফটো সিলেকশন যথার্থ নয়। (সম্পাদিত)

        জবাব দিন
        • কামরুলতপু (৯৬-০২)

          মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করছি।
          মন্তব্যের ছোট্ট ঘরে হয়ত নিজেকে ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারব না ।ছবিটিকে তুই যেভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বললি তা আমরা ৪০ বছর পর বলছি ভয় পাচ্ছি ১০০ বছর পর কি বলবি। সমস্ত লেখা, সংস্কৃতি যে উপমা হতে হবে তার কোন দরকার নেই। কিছু সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, লেখা হতে হবে দলিল নির্ভর যাতে কোন উপমা থাকবে না যে উপভোগ করতে যাবে সে ভেবে নিবে নিজের মত করে তা হবে না। কিছু জিনিস থাকবে সত্যের প্রকৃত চিত্র। তারেক মাসুদের মুক্তির গানের মত। যেগুলোতে আমরা আর কিছু ভাবব না শুধুমাত্র ভেবে নিব এটা তখনকার হাইলাইটস।
          ১৯৭১ এ যারাই মানুষ মারত কেউ স্যুট প্যান্ট পরে মানুষ মারত না (রাজাকারদের ইংগিত করছি )। তখন ভিন্ন ধর্মালম্বীরা কলেমা মুখস্ত রাখত পাঞ্জাবী পায়জামা পড়ে, পকেটে তজবী নিয়ে ঘুরত নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। রাজাকার রা পাজামা পাঞ্জাবী পড়েই পাকিস্তানিদের নিয়ে নিমকহারাম জয় বাংলার লোকদের ধরিয়ে দিতে নিয়ে যেত। আমাদের জন্য যেটা মুক্তিযুদ্ধ পাকিস্তানি এবং রাজাকারদের কাছে সেটা ধর্মযুদ্ধ ছিল। ধর্মকে টিকিয়ে রাখার জন্য, প্রায় হিন্দু হয়ে যাওয়া বাংগালীদের কে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য নতুন করে ১৭ এর জায়গায় ১৭০০০০ ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি এসেছিল। তাদের প্রোপাগন্ডাই ছিল পূর্ব পাকিস্তান ভারতের প্রভাবে হিন্দু হয়ে যাচ্ছে, রবীন্দ্র সংগীত শুনে, ওদের কে আল্লামা ইকবাল শুনাতে হবে লুংগি ফতুয়া বাদ দিয়ে পাজামা পাঞ্জাবী পড়িয়ে দিতে হবে। আর যারা পড়বে না তারা গণিমতের মাল তাদের নিয়ে কি করতে হবে তার জবাবদিহিতা নেই। এমন কোন রাজাকার নেই যারা টুপি আর পাজামা পাঞ্জাবী ছাড়া তাদের দেশপ্রেমের দায়িত্ব পালন করেছে। তাই সেই সময়ের প্রকৃত ছবি তুলে আনতে গিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগন্ডা থেকে বাচার জন্য তাদের কে কোট স্যুট প্যান্ট পরিয়ে দেওয়া যায় না। আর তোর কথামত যেসব রাজাকার রা কোট স্যুট প্যান্ট এমন কি হালে মুজিব কোট ও পড়ে তারাও ১৯৭১ এ পাজামা পাঞ্জাবীই পড়ত আর আমার বন্ধু রাশেদ ১৯৭১ এর পটভংগিমায় বানানো ছবি। আমি ছবি দেখি নি মেকিং কেমন জানিনা তবে এখানে যদি পাঞ্জাবী না হয়ে অন্য কোন দৃশ্য হত তাহলে আমার কাছে অন্যতম মেকি এবং ব্লুপারস বলে মনে হত।
          আমি ইমোশনাল না হয়ে লিখব ভেবেছিলাম। তবে বুঝতে পারছি আমি অবজেক্টিভ ভাবে আমার মতামত প্রকাশ করতে শিখিনি। আমার সব কিছু সাবজেক্টিভ হয়ে পড়ে তাই গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
          প্লিজ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এইসব শব্দ ব্যবহার করে সত্যিকারের উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করিস না। আর এসব নোংরা বিষয়ে ধর্মের কথা এনে ধর্মকে আর বেশি কলুষিত করিস না। ৯০% মুসলমানের দেশে ইসলাম কি এবং কেমন সেটা সবাই জানে এবং বুঝে। ১৯৭১ এ ধর্মকে ব্যবহার করে যা হয়েছে সেটা স্বীকার করে নিলেও ইসলাম ধর্মের এতটুকু আঁচড় লাগবে না। বাংলাদেশ এখনো এমন হয়নি যে আমেরিকার মত (দাড়ি দেখলেই লাদেন বলা) পাঞ্জাবী পড়া দেখলেই রাজাকার বলবে। বড় জোর হুজুর বলবে কিংবা তাবলীগ বলবে। এইসব উদ্দেশ্যপ্রণোদনার উদ্দেশ্যটুকু ভাল করে বুঝার জন্যই আরো বেশি বেশি করে আমাদের সত্যিকার ঘটনা আরো বেশি রূঢ় ভাবে দেখা দরকার। কিভাবে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয় আমি কখনো দেখিনি। যদি সত্যিকারের ভিডিও না থাকে তাহলে ডামি দিয়ে বানিয়ে আমাদের দেখানো দরকার কিভাবে মারা হয়েছিল। কেমন সেই বীভৎস দৃশ্য। তাতে বেয়নেট বা জলপাই রঙের পোষাককে আমরা ঘৃণা করব না। আমরা আরো বেশি করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বীভৎসতা বুঝতে পারব। নইলে আরো ৪০ বছর পরে আমরা বুঝতেই পারব না আসলে কতটুকু আমরা সহ্য করেছি সেই ৯ মাসে।
          তুই যে হিসেবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছিস আমি যদি ঠিকমত বুঝে থাকি তা হচ্ছে পাজামা পাঞ্জাবী পড়িয়ে ইসলামি পোষাক এর প্রতি মানুষের বিদ্বেষ তৈরি করা। আমি এটা মোটেও বিশ্বাস করি না। কেউই বিশ্বাস করবে না। আর সত্যি বলতে কি জাফর ইকবালের থেকে যদি এই দৃশ্য তৈরির সময়ে কোন মতামত চাওয়া হয় আর উনি যদি বলেন বা কোন তীব্র মুক্তিযুদ্ধ চেতনার মানুষ (যারা তীব্রভাবে জামাত বিরোধী) যদি এটি এইভাবে বানান তাহলে একটি মাত্র উদ্দেশ্য চিন্তা করা যায় সবার কাছে জামাতের প্রতি বিদ্বেষী বানানো। সেখানে ও আমার কিছু কথা আছে। জামাতের আমীররাই এখন পাজামা পাঞ্জাবীর বদলে কালো রঙের একধরণের কি পোষাক পরেন যার নাম আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। এমন কি বাংলাদেশে কেউ পাজামা পাঞ্জাবী পড়লে সবার মাথায় প্রথমেই আসে তাবলীগ করে মনে হয়। জামাত চিন্তা আসেই না। সো সেই হিসেবেও এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলার কোন অবকাশ নেই। আর জামাত বিরোধী কট্টর পন্থীরাও কিন্তু শুধুমাত্র চিহ্নিত রাজাকারদের নিয়েই কথা বলেন। আর বর্তমান জামাত শিবিরের পক্ষের লোকদের ঘৃণা করেন শুধুমাত্র রাজাকারদের পতাকাতলে থাকার জন্য। অন্যান্য ইসলামী রাজনীতিক দলকে কেউই কিছু বলে না। তাই পোষাক দিয়ে এখনো আমরা বাংলাদেশের মানুষ কিছু বিচার করিনা। এইবার মনে হয় একটু আবেগ ছেড়ে কথা বলতে পারলাম।
          অন্য কেউ হলে আরো সুন্দর করে গুছিয়ে লেখতে পারত।

          জবাব দিন
          • কামরুলতপু (৯৬-০২)

            আরেকটা কথা না লিখলেই নয়, পাজামা পাঞ্জাবী সুন্নতী পোষাক এটার রেফারেন্স কি? আরবীয়রা পাজামা পাঞ্জাবী পড়ে না। ওদের পরিধেয় পোষাক জোব্বা টাইপের একধরনের পোষাক সেটাকে কোন মতেই পাঞ্জাবীর সাথে মিলানো যায় না। বেশির ভাগ মুসলমান এক ধরণের পোষাক পড়লেই তাকে হয়ত মুসলমানদের পোষাক বলা যায় কিন্তু সুন্নতী পোষাক বলতে হলে তোকে রেফারেন্স বলতে হবে।
            বুখারী শরীফের ভলিউম ৭ এর ৬৯৫ নম্বর হাদীসে আল্লাহর নবী মুসলমানদের পোষাক কেমন হবে তা বলেছেন। সেটা ইংরেজীতে দিলাম কারণ আমি বাংলা করলে সেতা অর্থ বদলে যেতে পারে।
            Volume 7, Book 72, Number 695:
            Narrated Ibn 'Abbas:

            The Prophet said, "Whoever cannot get an Izar, can wear trousers, and whoever cannot wear sandals can wear Khuffs."

            বুখারী শরীফের বেশির ভাগ হাদীসে যে পোষাক সম্বন্ধে এসেছে সেটা হচ্ছে ইজার যেটা মোটেও পাজামা পাঞ্জাবী সদৃশ নয়। যে কেউ একটু গুগলিং করে দেখে নিতে পারবে। আর অনেক জায়গায় শার্ট এর কথাও এসেছে। আরেক জায়গায় হাদীসে নবীর প্রিয় পোষাকের কথা বলা আছে।
            Volume 7, Book 72, Number 703:
            Narrated Qatada:

            I asked Anas, "What kind of clothes was most beloved to the Prophet?" He replied, "The Hibra (a kind of Yemenese cloth)."
            বুখারী শরীফে পোষাক নিয়ে আলাদা অংশ আছে । যে কেউ একটু পড়ে দেখতে পারেন। সেখানে অনেক ধরনের পোষাকের নাম আছে। আমি যতটুকু পড়েছি কোথাও পাজামা পাঞ্জাবী টাইপের কিছুর নাম পাইনি।

            সবাইকে অনুরোধ করব আমরা যা বাপ দাদাদের আমল থেকে পালন করি সেটাকে কোন ভাবেই বাই ডিফল্ট ইসলামী পোষাক মনে করলেও সুন্নত যেন মনে না করি। একটি হাদীসে আছে, আমি এই মুহূর্তে উৎস্য বলতে পারছি না কেউ জানতে চাইলে খুঁজে দিব, কথাটা অনেকটাই এইরকম " নবী বললেন তারা ধ্বংস হবে যারা আমার নামে মিথ্যা আরোপ করবে, কেউ একজন জিজ্ঞেস করলেন সেটা কিরকম, কেউ আমার নাম দিয়ে মিথ্যা বলবে"।
            জীবনটা এখন আর আমাদের স্কুল কলেজের ধর্ম পরীক্ষা নয়। যা কিছু বাস্তব জ্ঞান সব সুন্নত বলে চালিয়ে দিব। আর সেদিন ও আর নেই যে সব কিছু হুজুরদের কাছেই শুনতে হবে। সহীহ হাদীস হাতের কাছেই এমন কি নেটেও পাওয়া যায়। টপিক হিসেবে আলাদা করা থাকে। খুব সহজেই হাদীস পাওয়া যায়। কোনটা সুন্নত তা জানা যায়। যেটা নিজের বুদ্ধিতে কুলাবে না সেটার জন্য কিংবা যখন বিভিন্ন বর্ণনা আসবে সেটার জন্য এই বিষয়ে জ্ঞানীদের কাছে যাওয়া যাবে। তার আগে নিজে একবার দেখে নিলে অনেক ভুল থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

            রেফারেন্স ছাড়া একটা কথা বলছি। আমাদের দেশে ইসলাম এসেছে ফারসী থেকে তাই তাই সমস্ত ইসলামিক ভাষা ফারসী ভাষা। অনেকদিন যাবত আমি জানতামই না নামায ফারসী ভাষা। ওরা যদি সালাত কে নিজের ভাষায় নামাজ বানাতে পারে আমরা বাংলায় প্রার্থনা বা অন্য কিছু বলতে পারব না কারণ বাংলা আগে অন্য ধর্মালম্বীদের ভাষা ছিল সেটা মাথায় আসে না। ফারসী কোন দেশের ভাষা আমি জানিনা তারাও নিশ্চয়ই প্রথম থেকেই মুসলমান নয়?
            আমাদের ইসলামিক আচার ব্যবহার, পোষাক আশাক , সংস্কৃতি সমস্তই এসেছে যাদের থেকে আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি সেই ইখতিয়ার বখতিয়ার খলজিদের সংস্কৃতি থেকে তাই আমরা যা পালন করি গড়পড়তায় তাকে সুন্নত বলার আগে অনেক চিন্তাভাবনা করা উত্তম।

            আমরা যারা নতুন করে ইসলাম শিখছি জাকের নায়েক থেকে তারাও অনেকে জানিনা নামাজে যে ইকামত দেই আমাদের দেশে তা বুখারী শরীফের হাদীসের থেকে আলাদা। আমি জানিনা আমাদের রীতির কোন হাদীস আছে কিনা তবে বুখারী শরীফে ২টি হাদিস আছে যেখানে বলা হয়েছে একামত এর সময় সব শব্দ একবার করে বলা
            Volume 1, Book 11, Number 579:
            Narrated Anas:

            Bilal was ordered to repeat the wording of the Adhan for prayers twice, and to pronounce the wording of the Iqamas once except "Qad-qamat-is-Salat".
            যে কেউ বুখারী খুলে দেখে নিতে পারেন। আমি এ নিয়ে আমাদের দেশের কারো সাথে কথা বলতে গেলেই শুনেছি তুই কি সব হাদীস পড়েছিস নাকি অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী। আমি জানিনা আমার অল্প বিদ্যা কতটুকু ভয়ঙ্করী আমি শুধু জানি আমি যেটা জানি সেটা ভুল নয় আর আমরা যেটা পালন করি সেটা সঠিক কি ভুল সেটা এখনো আমাকে কেউ বলতে পারেনি। এবং কেউ জানে না কোথা থেকে আমরা সেটা পালন করি।

            আমার আসলে এত কিছু বলার ইচ্ছা ছিল না। আমি সাধারণত এইগুলো নিয়ে কিছু বলিনা কারণ আমার জ্ঞান অনেক সীমিত আস্তিক, নাস্তিক যে কেউ আমার সাথে বিতর্ক করতে আসলে আমি দ্বিতীয় কোন কথা বলব না।

            (প্লিজ প্লিজ আমার কমেন্ট থেকে যেন কোন আস্তিক নাস্তিক ঝগড়া শুরু না হয়, পুরা বিষয়টি ছিল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এবং সেখানে একটি অনির্ভরযোগ্য (পাজামা পাঞ্জাবী সুন্নতী পোষাক ) সেটা নিয়ে। এখানে কে ইসলাম বিশ্বাস করে , আল্লাহ কে মানে বা মানে না নবীর কথা কেন মানতে হবে সেধরণের কমেন্ট অবান্তর। আমার কমেন্টে কোন আপত্তি থাকলে এখানে কমেন্ট না করে আমাকে ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠালে খুশি হব, সিসিবি থেকে ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠানো যায়। এখানে আলোচনা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে থাকতে দিন। আর ধর্ম, আস্তিকতা নাস্তিকতা নিয়ে আমরা অন্য জায়গায় আলোচনা করব অন্য কোন দিন।
            জবাব দিন
            • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

              তপু, শিশিরের কমেন্টটা পড়ে যে কথাগুলো মাথায় এসেছিল একটু নিচে এসেই দেখি তুই তার থেকে আরো সুন্দরভাবে বলে দিয়েছিস। ৭১ এ ইসলাম পাকিস্তানিরা আর তাদের দোসর রাজাকার আলবদরেরা ইসলামকে কিভাবে ব্যবহার করেছে সেটা খুব সচেতনভাবেই আড়াল করে রাখার চেষ্টা চলেছে। এই সত্য প্রকাশ পেলে তাতে ইসলামের কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না, হবে জামাতিদের আর গো আজম, নিজামী সাইদীদের, তাদেরকে রক্ষার উদ্দেশ্যেই ইতিহাসকে অনেক ঘসামাজা করা হচ্ছে আর সেই সত্যগুলোকে তুলে আনলে সেটাকে ইসলামের বিরুদ্ধবাদিতার নাম দিয়ে আবারো আড়ালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমিও তোর মত সংকিত, ৪০ বছর পরেই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে ১০০ বছর পরে কি হবে?


              আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
              আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

              জবাব দিন
          • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

            @তপু...... আমি আমার মন্তব্য করার আগে ছবিটা খুব সূক্ষভাবে খুটিয়ে দেখেছি।

            দেখ দোস্ত, এটা আমি জানি এবং মানি যে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী আর বাংগালী রাজাকার (মুনাফিকের দল) ইসলামকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে তাদের অসদুদ্দেশ্য সফল করতে। সত্যি বলতে কি, ইসলামকে নিয়ে আসা ছিল পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর যুদ্ধের একটা কৌশল মাত্র। ইসলামে কোন যুদ্ধেই নিরস্ত্র মানুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অত্যাচার কিংবা হত্যার কোন সুযোগ নেই এবং ঘড়বাড়ি ফসল বা গবাদিপশু ধ্বংস করার অনুমতি নেই। আর গনিমতের মাল যুদ্ধ জয়ের আগে কিভাবে সম্ভব??? তাহলে যারা ৭১ সালে ধর্মের নামে যুদ্ধ করতে যেয়ে ইসলামে যার কোন অনুমতি নেই সবকিছুই করলো আর মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান তাকে ধর্মযুদ্ধ নামে অভিহিত করা কতটা যোক্তিক?? পাকিস্তানী আর রাজাকাররা যতই দাবী করুক, আমরাতো বুঝি যে ওইটা তাদের একটা ভাওতাবাজি। যাই হোক আমি যেইটা মানি তা হচ্ছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল জালিমদের বিরুদ্ধে মজলুমের যুদ্ধ। আর রাজাকার আলবদরদের আমি মুসলমান মানতেও নারাজ কারন এরা ছিল সুবিধাবাদীর দল, কাপুরুষের দল এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত।

            যাই হোক আমার আপত্তি কেন জানিস????? গুলি করছে যে রাজাকার তার পরনে সাদা রঙের জোব্বা আর সাদা রঙের টুপি। তোর কি কোন সন্দেহ আছে যে, এইটা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পোশাক??? টুপি নিয়ে তুই আপত্তি করতে পারিস কারন উনি পাগড়ী পরতেন।

            যা হোক আমি এত কথা এইজন্য বলছি কারন, মুভি মেকিং এর সময় অত্যন্ত সযত্নে প্রতিটা সেট সাজানো হয় আর এক শট যতক্ষন পারফেক্ট না হয় ততক্ষন নেয়া হয়। তোর কি ধারনা এই জোব্বা পরিয়ে দেয়ার কারন রাজাকারদের সাথে যায় এমন কোন পাঞ্জাবী পাজামা না পাওয়া??? এতটা ক্যাজুয়াল ক্যাডেটরা হয়, কিন্তু জাফর ইকবাল স্যারের মত কেউ হবেন এইটা ভাবাটা বোকামী। যিনি ইসলামকে গ্রহন করার অর্থ করেন মধ্যযুগীয় পশ্চাদপসরণ তার ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে বিশদ যাচাই করার কোন প্রয়োজন আমি মনে করি না, কেননা তার প্রথম আলোতে লেখা একটা কলাম আমি নিজেই পড়েছিলাম ২০০৩ বা ২০০৪ সালে যেখানে তিনি এমনটা লিখেছিলেন। রেফারেন্সটা দিতে না পারার জন্য দুঃখিত।

            আর তোর হাদীসের রেফারেন্সসহ উল্লেখ করাকে আমি স্বাগত জানাই। তবে আমি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে নারাজ কারন আমি এই ব্যাপারে এক্সপার্ট নই। তবে আমি নির্ভরযোগ্য আলেমদের কাছে যেটা জেনেছি তা হচ্ছে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পোশাক ছিল জোব্বা আর উনার প্রিয় পোশাক নিয়ে এখানে কোন আলোচনা করছি না।

            যাক ভালো থাকিস আর আমিও আশা করি এখানে আস্তিক নাস্তিক কোন দ্বন্দ্ব শুরু হবে না।

            জবাব দিন
            • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

              শিশির, ৭১ এ রাজাকার আলবদরদের অফিশিয়াল মটিভেশন ছিল মালাউনদের হাত থেকে সাচ্চা মুসলমানদের রক্ষা করা, তাদের সকল কাজ পাঞ্জাবী পায়জামা বা জোব্বা পরে করাই কি যুক্তিসংগত মনে হয় না তোর কাছে?

              আর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত বিশ্বাষ টেনে এনে তুই এই দৃশ্যটাকে উদ্দেশ্যমূলক বললি, সিনেমাটা কিন্তু জাফর ইকবালের বানানো নয়, তুই যেভাবে বললি 'মুভি মেকিং এর সময় অত্যন্ত সযত্নে প্রতিটা সেট সাজানো হয় আর এক শট যতক্ষন পারফেক্ট না হয় ততক্ষন নেয়া হয়।' সেটা কিন্তু জাফর ইকবাল করেনি করেছে এই মুভির পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম। তারো কি ইসলাম বিদ্বেষ নিয়ে কোন রেকর্ড আছে নাকি?


              আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
              আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

              জবাব দিন
              • অয়ন মোহাইমেন (২০০৩-২০০৯)

                আহসান আকাশ ভাইয়ের কথাগুলোই আমি বলতে চাচ্ছিলাম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আর কোনো পোশাকে কি সে সময়ের রাজাকারদের দেখানো সম্ভব? সেটাই কি বরঞ্চ উদ্দেশ্যপ্রণীত হবে না।

                কামরুল তপু ভাইয়ের তথ্যবহুল মন্তব্যে অবশ্য তা অনেক আগেই বোঝানো হয়ে গিয়েছে বলে আমার মনে হয়।

                জবাব দিন
              • অয়ন মোহাইমেন (২০০৩-২০০৯)

                আহসান আকাশ ভাইয়ের কথাগুলোই আমি বলতে চাচ্ছিলাম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আর কোনো পোশাকে কি সে সময়ের রাজাকারদের দেখানো সম্ভব? সেটাই কি বরঞ্চ উদ্দেশ্যপ্রণীত হবে না।

                কামরুল তপু ভাইয়ের তথ্যবহুল মন্তব্যে অবশ্য তা অনেক আগেই বোঝানো হয়ে গিয়েছে বলে আমার মনে হয়। ভাইকে :boss: :boss: :boss:

                জবাব দিন
              • আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)
                শিশির, ৭১ এ রাজাকার আলবদরদের অফিশিয়াল মটিভেশন ছিল মালাউনদের হাত থেকে সাচ্চা মুসলমানদের রক্ষা করা, তাদের সকল কাজ পাঞ্জাবী পায়জামা বা জোব্বা পরে করাই কি যুক্তিসংগত মনে হয় না তোর কাছে?

                দেখ তাদের ভূমিকা নিয়ে আমার কোন সন্দেহই নেই। অবশ্যই তাদের ড্রেস পাঞ্জাবী- পায়জামাই হবে। সে ব্যাপারেও আমার কোন সন্দেহ নেই। তবে আমি যতদূর জানি (ইতিহাস থেকে রেফারেন্স দিতে পারছি না), বাঙ্গালী মুসলমানদের পাঞ্জাবী এমন হতো না। সেসময়ে প্রচলিত পাঞ্জাবী ছিল অনেকটা এখনকার শর্ট পাঞ্জাবীর মতো তবে এতটা আটো-সাটো না। জোব্বার প্রচলন ছিল না বললেই চলে। আর এখনও লক্ষ করলে দেখে থাকবি, জোব্বা খুব কম লোকই পড়ে। শুধুমাত্র আলেম সমাজকেই দেখা যায়, তাও আবার জামায়াতে ইসলামীর লোকদের নয়। তো এই পোশাকটা কি এতটাই অসচেতন ভাবে করা হয়েছে বলতে চাচ্ছিস? আমার কিন্তু তা মনে হয় না। সেইজন্যই আমার এই আপত্তি।

                জবাব দিন
  4. নাফিজ (০৩-০৯)

    "তোর কি কোন সন্দেহ আছে যে, এইটা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পোশাক???"

    ভাই হয়তো ঠিকই বলেছেন, এটা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পোশাক হতেই পারে। ধর্মের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে বলছি, তাই বলে এই পোশাক আর কোথাও কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না সেটা কিন্তু ঠিক না। আমাদের মুসলিমদের সমস্যা আছে এখানে, আমরা বাহ্যিক ফর্মালিটিকেই বেশি প্রাধান্য দেই। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পোশাকটাই মুখ্য নয়, তার আদর্শ, তার জীবনবোধকে আত্মস্থ করতে পারাটাই আসল। এই পোশাক পরে তো মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সময় অনেক মুসলিম যুদ্ধও করেছে (রেফারেন্স ছাড়াই বলছি, কারণ এটা তখন আরবের প্রচলিত পোষাক ছিলো, তাই ধারণা করলাম।), সেক্ষেত্রে কোন নিষেধমূলক হাদিস তো শুনিনি।আর এখানে তো পোশাকটা শুধুমাত্র চিত্রটাকে বাস্তবসম্মত দেখানোর একটা প্রচেষ্টা থেকে এসেছে- কোন বাজে কাজে ব্যবহার হয়নি।

    খোদ স্বাধীন বাংলাদেশেই তো ভাই এই মহান পোশাক পরে অনেক মিথ্যাচারই হয়েছে, কই তখন তো ভাই কারো আপত্তি শুনলাম না! আল্লাম সাইদী যখন পল্টনে গিয়ে এই জোব্বা পরে "নারী নেতৃত্ব হালাল " করেন, নাইলে "আওয়ামী লীগ মুরতাদ" করেন, নাইলে "মুসলমানদেরকেই হিন্দু সাজিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের নাটক করান তার সমাবেশে" (শেষেরটা আমি একটা ব্লগে পড়েছি, এই মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছিনা- নাহলে রেফারেন্স দিতাম)- সবকিছুই করেন এই জোব্বা পরে। কই, তখন তো কারো আপত্তি শুনিনা!

    "এতটা ক্যাজুয়াল ক্যাডেটরা হয়, কিন্তু জাফর ইকবাল স্যারের মত কেউ হবেন এইটা ভাবাটা বোকামী। যিনি ইসলামকে গ্রহন করার অর্থ করেন মধ্যযুগীয় পশ্চাদপসরণ তার ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে বিশদ যাচাই করার কোন প্রয়োজন আমি মনে করি না"

    অন্য লেখার কথা বাদ দেন, "আমার বন্ধু রাশেদ" উপন্যাসের কোন অংশটা পড়ে আপনার মনে হয়েছে যে এইটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামবিদ্বেষী ? ব্যক্তিগতভাবে উনার ধর্ম দর্শনের সাথে আপনার -আমার দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু কথায় কথায় উনাকে ইসলামবিরোধী বলাটাতো ভাই ছাত্রশিবিরের একটা পুরনো স্টাইল।আশা করি এব্যাপারে সচেতন থাকবেন।

    ছোট মুখে অনেকগুলো বড় বড় কথা বলে ফেললাম। কোথাও বাড়াবাড়ি করে থাকলে ছোটভাই মনে করে ক্ষমা করে দেবেন।

    religious leader


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
  5. আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

    @ Nafiz

    অন্য লেখার কথা বাদ দেন, “আমার বন্ধু রাশেদ” উপন্যাসের কোন অংশটা পড়ে আপনার মনে হয়েছে যে এইটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামবিদ্বেষী ? ব্যক্তিগতভাবে উনার ধর্ম দর্শনের সাথে আপনার -আমার দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু কথায় কথায় উনাকে ইসলামবিরোধী বলাটাতো ভাই ছাত্রশিবিরের একটা পুরনো স্টাইল।আশা করি এব্যাপারে সচেতন থাকবেন।

    ভাইরে কাকের মত কালো সন্তান কিন্তু এক সময় কাকই হয়ে যায়। 🙂
    আমি কোন জায়গাতে কি লিখেছি যে, আমার বন্ধু রাশেদ উপন্যাসটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলাম বিদ্বেষী??? আর অন্য লেখার কথা বাদ দিতে কেন বলছো??? কোন মানুষের পরিচয় কি তার মাত্র একটা সাহিত্যকর্মেই???

    আর মোরশেদুল ইসলাম পরিচালক বলে কি ডঃ জাফর ইকবালের মুভি মেকিং এর ব্যাপারে কোনই ভুমিকা নেই? ধরে নিচ্ছি নেই।

    আর উনাকে তো কথায় কথায় ইসলাম বিদ্বেষী বলা হয়নি। আমি কিন্তু উনার একটা কথার ভিত্তিতে বলেছি যে উনার ইসলাম বিদ্বেষ সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নাই। আর ছাত্রশিবির কি বললো না বললো তা এখানে উল্লেখ করাও মনে করি না প্রাসংগিক। আমার দৃষ্টিভংগী থেকে মনে হয়েছে ব্যাপারটা সূক্ষ হলেও উদ্দেশ্যমূলক, তাই আমি এর বিরোধীতা করেছি। আমার ধারনো সেই অধিকার আমার আছে এবং প্রত্যাশা করি ক্যাডেটদের মানসিকতা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মত নয় যে বিরোধীতা করা মানেই তারা স্বাধীনতাবিরোধী বা শত্রু মনে করবে।

    আর আমি এখানকার একজন ব্লগার হিসেবে মন্তব্য করেছি, হয়তো জামায়াতে ইসলামীতে থাকলে এইসকল ভন্ডামীরও বিরোধীতা করতাম। আর একজন মুসলমান হয়েও তাদের সমর্থন না করাই কি তাদের বিরোধীতা করা নয়???

    জবাব দিন
  6. নাফিজ (০৩-০৯)

    আগের মন্তব্যটা হয়তো খানিকটা আক্রমণাত্মক হয়ে গেছে। সেজন্যে দুঃখিত।

    যাই হোক, জোব্বা বিষয়ে আমার ধারণা যুক্তি-তর্ক যা দেখানোর তা হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত মতামত, পরিচালক কাজটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেননি। কাহিনীর coherency থেকেই হয়তো এই দৃশ্যে জোব্বা পরানোর বিষয়টা চলে এসেছে। কারণ পুরো সিনেমায় রাজাকার চরিত্রটা জোব্বা পরে থেকেছে, আর লাস্ট দৃশ্যে শুধু গুলি করার প্রয়োজনে জোব্বার জায়গায় পাঞ্জাবি পরানো হলো, ব্যাপারটা ঠিক মানায়না কাহিনীতে। এখন যদি বলেন যে পুরো সিনেমা থেকেই জোব্বা ব্যাপারটা বাদ দেয়া উচিত ছিলো, তাহলে তো আর কিছু বলার নেই। নজরুল যখন লিখেছিলেন-
    "খোদার আসন আরশ ছেদিয়া
    উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাতৃর।"

    এইটা তো তাহলে এক সেন্সে আরো বড় ইসলাম অবমাননা।অন্তত নজরুল নিশয়ই জানতেন, তিনি কি লিখছেন।যাই হোক,মূল কথা এটাই- আমার মনে হয়না জোব্বাটা কাউকে অবমাননা করে পরানো হয়েছে।

    আর জাফর ইকবাল প্রসঙ্গে- আমার দুঃখটা কই জানেন ? এদেশে যখন কেউ নোবেল প্রাইজ পায়, তখন তার মূখ্য পরিচয় হয়ে যায় সুদখোর ব্যাংকার। ড. আতিউর রহমান সম্পর্কেও শুনেছি- উনি নাকি দুর্নীতিবাজ। জাফর ইকবাল স্যার, যিনি আর কিছু না পারুন, অন্তত একটা বিশ্ববিদ্যালয়কে শক্তহাতে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন, তাকে আমরা হাততালি দিতে না পারি, অন্তত পরোক্ষভাবে তাকে উৎসাহ দিতে পারি।কেউই সমালোচনার ঊর্দ্ধে নন- মানছি। কিন্তু সেটা হতে পারতো গঠনমূলক। ব্যক্তিগত জীবনে উনি নাস্তিক-মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ যাই হোক না কেন ,তাতে আপনার আমার কিছু এসে যায় না।
    আর যদি ধরেও নিই যে উনি ধর্মবিদ্বেষী কোন মন্তব্য করেছেন, আপনার আমার ধর্মবিশ্বাস কি তাতে নড়ে যাওয়া উচিত? নড়বে কাদেরটা- যাদের আসলে ধর্ম কি সেই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই।যাদের কাছে ধর্ম মানে শুক্রবারের জুম্মার নামাজ, আর রমজানের তিরিশ রোজা। "আলপিনের" কেলেংকারিটার সময় কিন্তু প্রেসক্লাবের আশেপাশে "প্রথমআলো ব্যান চাই, মতিউরের কল্লা চাই " টাইপের অনেক স্লোগানই লোকজন দিয়েছে। এদের মধ্যে কয়টা লোক আসলেই ইসলাম সম্পর্কে জানতো (জুম্মার নামাজ ছাড়া) আমার সন্দেহ আছে। আমি কোনভাবেই আলপিনের কাহিনীটাকে সাপোর্ট করছিনা কিন্তু- আমি শুধু একটা চিত্র দেখাবার চেষ্টা করছি। এয়ারপোর্টের সামনে লালনের মূর্তি রাখলে যাদের ধর্ম যায়, তাদেরই ধর্মবিশ্বাসে টান পড়ে জাফর ইকবালের কোন মন্তব্যে।কয়দিন আগে ব্রিটেনে স্টিফেন হকিং কিন্তু বলেছেন- "দেয়ার ইস নো গড।" তাতে বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু হকিংকে মনে হয় কেউ "কালো কাক" উপাধি দেয়নি।

    ধর্মবিশ্বাস এমন স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার, ইচ্ছে করলে তা দিয়ে মানুষকে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মরতেও প্রভাবিত করা যায়,আবার ইচ্ছে করলে মানুষকে আলোর রাস্তায়ও নিয়ে আসতে পারে এই ধর্ম। অপশনটা একান্তই আমাদের নিজেদের হাতে, আমরা নিজেদের চোখ খুলতে তাকে কাজে লাগাবো, নাকি অন্যদের বন্ধ চোখে আরেকটু চিমটি দিতে তাকে অপব্যবহার করবো।

    নাস্তিক- আস্তিক বিতর্ক শুরু হোক এটা যাতে আবার না হয়। যা বললাম কাউকে খোঁচা দিতে নয়, নিজের ব্যক্তিগত মতামত থেকে।


    আলোর দিকে তাকাও, ভোগ করো এর রূপ। চক্ষু বোজো এবং আবার দ্যাখো। প্রথমেই তুমি যা দেখেছিলে তা আর নেই,এর পর তুমি যা দেখবে, তা এখনও হয়ে ওঠেনি।

    জবাব দিন
  7. আসাদুজ্জামান (১৯৯৬-২০০২)

    Nafiz তোমাকে স্বাগতম দুঃখ প্রকাশ করার জন্য।

    আর যদি ধরেও নিই যে উনি ধর্মবিদ্বেষী কোন মন্তব্য করেছেন, আপনার আমার ধর্মবিশ্বাস কি তাতে নড়ে যাওয়া উচিত? নড়বে কাদেরটা- যাদের আসলে ধর্ম কি সেই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেই।

    ধর্ম বিশ্বাস এখানে নড়ে যাওয়া প্রশ্ন নয়। আমার কাছে আমার ধর্মের একটা মর্যাদা আছে। আমার ধর্ম আমার সম্মানও বটে। তাই আমার ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ অবমাননাকর মন্তব্য করবে, কিংবা প্রতীকী ব্যংগ করবে আর আমার সম্মান বা মর্যাদার হানি হবে না, তা কিন্তু আমি মনে করি না। তাই আমি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতেই পারি এবং সেজন্যই আমার এই প্রতিবাদ। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা উদ্দেশ্য নয় এবং আমি আশা করি কাউকে আঘাত করিনি। তথাপি যদি কেউ আহত হয়ে থাকে তাহলে দুঃখিত।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।