সাবধান ! লেহেঙ্গা বাজার !!

লাঞ্চের পর লিফটে দশ তলায় উঠছি। জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স ওয়ার্কশপের সমাপনী। হঠাৎ যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর শুনি –

: আউতসাইদ ভেরি হত। ইত’স ডিসটার্বিং।

কী আশ্চর্য! হিট সেনসিটিভ লিফট নাকি! একটু মনযোগী হই। কয়েক সেকেন্ড পরের কথা-

: লিফট ইজ গোইং আপ। ডোর ইজ ক্লোজিং।

ও! তাহলে ভুল শুনেছিলাম। ভাতঘুমের আক্রমণ। ওয়ার্কশপ শেষে রাজশাহীগামী বাসে চড়ে বসি। জ্যাম আর গরমে মনটা উদাস হয়ে ওঠে।

বিস্তারিত»

দ্বিতীয় জীবন (পর্ব-১)

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে লিখেছিলেন -“সবচেয়ে কঠিন শিক্ষা হলো, জীবন থেমে থাকে না। তুমি যতই ভেতর থেকে ভেঙে পড়ো, যতই ক্লান্ত হও, জীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করবে না।” কথাটি নির্মম, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সত্য। জীবনের ধর্মই হচ্ছে নিরন্তর ছুটে চলা। এই ছুটে চলার ধরন অবশ্য মোটা দাগে দুই রকমের। প্রথমটি হচ্ছে ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটে চলা। যেমন ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার তাড়া। সময়মতো বাস কিংবা সাবওয়ে ধরতে না পারলে অফিসে লেইট হওয়ার টেনশন।

বিস্তারিত»

সাগর সঙ্গমে

তিন নদীর মোহনার কাছাকাছি
বেলাভূমিতে ছোটখাটো মেলা।
আছড়ে পড়া ঢেউ এর নকশায়
মাকড়সাসম কাঁকড়ার বিচরণ।
ফাতরার বন থেকে ভেসে আসা
অংকুরিত সুন্দরী গাছের ফল
ঝাউবনের সামনে আরেকটি
ছোট্ট সুন্দরবনের সম্ভাবনা।
নিযুত কোটি ঝিনুকের খোলা
ছড়ানো সাদা এক মহাসড়ক
জলের শেষ সীমানায় সূর্য
ডুবে যাওয়ার আগে পরে
ছবি তোলার রঙঢঙের সাক্ষী।
আমার ক্যামেরার ফোকাস
সীমাবদ্ধ কেবলই প্রাকৃতিক দৃশ্যে।

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৬) – আত্মনির্ভরশীলতায় আত্মসম্মান

শিক্ষকের ডায়রি (পর্ব ১৬) – আত্মনির্ভরশীলতায় আত্মসম্মান

ছেলেটার নাম জয়। সে ফেনী ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র। প্রথম ছবিটা ক্যাম্পাসের মাঠে তোলা, পেছনের অটোরিক্সাটা তার নিজের। দ্বিতীয় ছবিটা ফেনী পুলিশ লাইন্স ক্যান্টিনে তোলা, একজন সার্ভার তুলে দিয়েছেন ছবিটা। ছেলেটার বাবা এখন কৃষক, মা গৃহিনী, আর সে নিজে ক্লাস এবং পড়াশোনার ফাঁকে অটো চালায়। সেটা নিয়ে তার মাঝে বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ নেই। আমার সাথে সে প্রচুর গল্প করে,

বিস্তারিত»

কুয়াকাটার ডায়েরি

সাগরকন্যার ডাক –
ঝাঁকি খেতে খেতে পথ
তেপান্তরের মাঠ

আঙ্গুলের কলম –
বালিতে লেখা যত নাম
মুছে দেয় ঢেউ

ছোট্ট ছেলেটা
ছোটে ভেজা বালিতে –
দরিয়ার গর্জন

বালির উপর
আঁইশের নকশা কাটা –
কাঁকড়ার বাচ্চা

সমুদ্রের গর্জন –
জিও ব্যাগের উপর
আছড়ে পড়ে ঢেউ

সাগরের ঢেউ
তাদেরও আবেগী করে –

বিস্তারিত»

নিঃশব্দ বিভাজন

ছিন্নমস্তা শঙ্খ জোড়ার বিনুনি কাটা,
শিরদাঁড়ার পথে ওঠে হিংসার জহর।
অবশ করা নীল বেদনার আকাশ।
ইত্যবসরে কারও শাটার ক্লিক,
অবকাশ যাপন যাত্রার সুযোগ।

যদিও আছে, তবুও মনে করো নেই
আমার কোন সহোদর সহোদরা।
আর সব থাক; নয় মাস অবস্থান,
দৌড়াদৌড়ি শেখা পর্যন্ত স্তন্যদান।
বোমা কিংবা আগুনঝরা দিন-রাত
নিরাপদ থাকতে এবং রাখতে,
এদিক-সেদিক সতর্কতার সাথে
বুকে আগলে রেখে পলায়ন
শুধু এটুকুই তো সব নয়;

বিস্তারিত»

প্রতিকৃতি ও কান্না বারণ

কান্না বারণ

 

কান্নার শব্দে সাড়া মেলে না
চকিতে চোখ মুছে নেয় সে
গায়ের ধুলো ঝেড়ে ফেলে
দু’হাত পকেটে ঢুকিয়ে
মাথা একটু নিচু করে
শিস্ দিতে দিতে আগায়
একটু থামে চারিদিকে তাকায়
যাবতীয় দুঃখ গ্লানি হতাশা
পেরুবার সীমিত দরোজা
ক্রোধ কিংবা সফলতা
পুরুষ হবার পথে যাত্রা শুরু।

০৫   এপ্রিল  ২০২৪

 

বিস্তারিত»

দুইটা লিরিক

[ফেসবুক মেমরি থেকে পেলাম। গত দশকের গোড়ার দিকের লেখা। গান হবে এরকম চিন্তা ছিল। হয়নি। ঘনিষ্ঠ এই ব্লগে আনকাট ভার্সনটা টুকে রাখা থাক।]

#
শ্যাওলা জমেছিল বুঝি
তোমার মনের পুকুরে,
ভিজতে ইচ্ছে করেছিল
তাই অন্য শ্রাবণ দুপুরে।

দেয়াল পাশের বাতায়নে
কাঁদতে যখন অঝোরে
ভাবনা জমাট বাঁধা ছিল
অন্য কারো আদরে।

খেয়াল খুশীর ইচ্ছে মত
আমায় কেন জড়ালে?

বিস্তারিত»

জীবন থেইকা মাধুর্য উইড়া গেছে

বৃহঃস্পতিবার আসলে আগে একটা ফিল পাইতাম। এই ফিল প্রথম আসে স্কুল-কলেজে থাকতে। যেইখানে পড়তাম ওইখানে শুক্কুরবার সকালে পিটি-প্যারেড করতে নামা লাগতো না। আর বৃহঃস্পতিবার রাতে আমাগো ভালো-মন্দ খাইতে দিত। ওইটারে আমরা বলতাম— স্পেশাল ডায়েট। জেলখানার কয়েদিদের যেমন বিশেষ দিবস আসলে এইরকম খাবার খাইতে দেয়। আর বৃহঃস্পতিবার রাতে মুভি শো হইতো৷ দল বাইন্ধা আমরা বিদেশি সিনেমা দেখতাম৷ যদিও ইলেভেন-টুয়েলভে সিনেমা না দেইখা, মোবাইলে তৎকালীন প্রেমিকার লগে কথা কইতাম বা পছন্দের জুনিয়র ডাইকা গান শুনতাম,

বিস্তারিত»

দু’টি চতুর্দশপদী কবিতা

প্রশ্নমালা

কবি! কেমনে লিখো হে এমন কবিতা?
লিখিতে কবে থেকে? ছাত্র থাকার কালে?
উনপঞ্চাশ বায়ু পঞ্চাশ পার হলে?
নয়! খুলে বলো তবে, রহস্য ছবিতা।
বলো কে সে মায়াবী আড়ালে আবডালে
কোন কাশবনের সেলফি তোলা ষোড়শী
গেঁথেছে তোমায় উছলতার বড়শী!
হয় কি মাতামাতি গোপন মহলে?
হতে পারে নাকি কভু গোধূলিতে ভোর
স্বপনে তোমায় দেখি, হবে নাকি মোর?

বিস্তারিত»

সাম্প্রতিক কবিতা


ভালোবাসা মেঘ হয়ে গ্যাছে বহু আগে,
এখন শীতকাল,
মেঘমুক্ত আকাশের দিকে
তাকিয়ে তবুও বৃষ্টির অপেক্ষা।
বৃষ্টি হবার কোন সম্ভাবনা নেই।
চরাচরে তীব্র রোদ।
ভালোবেসে যারা রোদ্দুর হতে চেয়েছিলাম,
এই শীতে তারা অডিনের সঙ্গে ডিনার করবো ভালহালায়।
সুদিন কবে আসবে, অডিন?
আর্তনাদ চেপে বীরের মতো মরে যাবো।
কোথাও কী আছে আর্তনাদহীন মৃত্যু, মৃত্যুহীন ব্যথা,

বিস্তারিত»

জ ল পা ই ব নে র দি ন লি পি

১.
তাবুতে থাকলে “ক্যাম্পে”র কথা মনে পড়ে, নিঃশব্দে আওড়াই-

“এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি;
সারারাত দখিনা বাতাসে
আকাশের চাঁদের আলোয়
এক ঘাইহরিণীর ডাক শুনি—
কাহারে সে ডাকে!”

আমাদের ক্যাম্প এক জলপাই বনে, নরসিংদীর এক বর্ধিষ্ণু গ্রামে। অদূরেই ভৈরব, আড়িয়াল খাঁ নদ, ব্রহ্মপুত্রের চর, মেঘনার শুরু। চারদিকে ধান ক্ষেত, যেখানে ”ধান কাটা হয়ে গেছে”। এর মধ্যে আমাদের ক্যাম্প,

বিস্তারিত»

শিক্ষকের ডায়রিঃ পর্ব-৭

আমি সচরাচর আমার এক্সিস্টিং কোন ছাত্র/ছাত্রীর কাছ থেকে কোন প্রকারের গিফট/টোকেন রিসিভ করি না। তবে কালেক্টিভলি ছাত্র/ছাত্রীরা যদি ডিপার্টমেন্টের সব শিক্ষকের জন্য (বিশেষ করে তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে) স্মৃতিস্মারক হিসেবে কোন কিছু দেয়, তখন তো সেটা নিতেই হয়। অবশ্য এর বাইরেও কখনো কখনো নিতে হয়েছে; যেমন, কেউ হয়তো বিদেশ সফর থেকে ফিরেছে, এবং ডিপার্টমেন্টের সকল শিক্ষকের জন্য কিছু টোকেন নিয়ে এসেছে; আমার কাছে তখন মনে হয়েছে সেটা ফিরিয়ে দেয়া অসামাজিক এবং অসম্মানজনক।

বিস্তারিত»

টরেটক্কা টরোন্টো – আগমন (পর্ব-২)

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেখে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির এক গবেষণা প্রকল্পের ‘গবেষণা প্রকৌশলী’র পদে অ্যাপ্লাই করি। গবেষণার বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘ই-লার্নিং’ এবং লক্ষ্য হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির শিক্ষা পদ্ধতিতে বাস্তব সম্মতভাবে কিভাবে ই-লার্নিং-কে সম্পৃক্ত করা যায় সেই বিষয়ে অনুসন্ধান ও সুপারিশমালা প্রণয়ন। গবেষণা প্রকৌশলীর পদে আসলে একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে খোঁজা হচ্ছিল যার কাজ হবে সুপারিশমালার ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ তৈরি করা –

বিস্তারিত»

শহরের এক পৌনঃপুনিক দিন

মধ্য আগস্ট-শ্রাবণ শেষের দিনে, শহর জুড়ে সুতীব্র শোকের ছায়ার মাঝে, তৃতীয় বারের মতো উদাসীন-অসাবধানতায় হারিয়ে যায় ফোন। যেহেতু, জীবন নিয়ে আর কোন নীল-নকশা নেই, যা কিছু যায় (ব্যক্তি কিংবা যন্ত্র) তার জন্য কোথাও কোন ক্রন্দন থাকে না। তবুও জিডি করতে যাই হাতিরঝিল থানায়। দেখি, কর্তব্যরত অফিসার রঙ্গ-রসে ব্যস্ত হয়তো শ্যালিকা, বন্ধু, আত্মীয় কিংবা পরিচিতার সঙ্গে। ভাষায় বুঝি একই ডেমোগ্রাফিতে আমাদের বেড়ে ওঠা। আলাপ হয়। খাতির যত্ন করেন (অবশ্য যেটুকু পেলেই তাকে খাতিরের মত মনে হয়)।

বিস্তারিত»