টরেটক্কা টরোন্টো – আগমন (পর্ব-২)

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেখে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির এক গবেষণা প্রকল্পের ‘গবেষণা প্রকৌশলী’র পদে অ্যাপ্লাই করি। গবেষণার বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘ই-লার্নিং’ এবং লক্ষ্য হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির শিক্ষা পদ্ধতিতে বাস্তব সম্মতভাবে কিভাবে ই-লার্নিং-কে সম্পৃক্ত করা যায় সেই বিষয়ে অনুসন্ধান ও সুপারিশমালা প্রণয়ন। গবেষণা প্রকৌশলীর পদে আসলে একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে খোঁজা হচ্ছিল যার কাজ হবে সুপারিশমালার ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ তৈরি করা – ইন্টারনেট ভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে। আপ্লাই করার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ইন্টারভিউ-এর ডাক এলো ই-মেইলের মাধ্যমে – এটাও উল্লেখ করা হলো যে এ বাবদ কোন প্রকার টি. এ. / ডি. এ. দিতে তারা অপারগ। ইতিপূর্বে ট্রেনে করে কুয়ালালুমপুর থেকে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে একবার। সেটাকে পুঁজি করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে কুয়ালালুমপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠলাম রাত দশটায়। এসি দেয়া বগি, নরম গদীর সিট। সকাল সাতটায় সিঙ্গাপুরের ‘তাংজং পাগার’ স্টেশনে এসে নামলাম। সেখান থেকে ‘কমফোর্ট’ কোম্পানীর ট্যাক্সি নিয়ে সোজা চলে এলাম ‘ডোভার’ রোডে – পুরনো কিছু বন্ধু-বান্ধব পাঁচ বেডরুমের বিশাল এক অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকে সেখানে। দু’দিন পর নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির নির্ধারিত কক্ষে এসে উপস্থিত হলাম ইন্টারভিউ-এর জন্য – পাঁচ জনের বোর্ড, ফ্যাকাল্টি ডীনও উপস্থিত। কিছুটা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম আমার চাইনিজ ভাষাজ্ঞান বোর্ডের বেশির ভাগ সদস্যকে প্রভাবিত করল। ইন্টারভিউ শেষে উনারা আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললেন। কিছুক্ষণ পর রুমে ডেকে নিয়ে হাতে অফার লেটার ধরিয়ে দিলেন। মাস খানেক পর ডোভার রোডের পাঁচ বেডরুমের সেই অ্যাপার্টমেন্টের এক বেডরুম সাব-লেট নিয়ে শুরু করি আমার নতুন কর্মজীবন।

কর্মক্ষেত্রে আমার বসার জায়গা হলো মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের একটি ল্যাবে। বিশাল ল্যাবের এক কোণায় নতুন কম্পিউটার ও প্রিন্টার সহ ছিমছাম একটি কিউবিকল। কাজে যোগ দেয়ার পর জানতে পারলাম যে ‘ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া’র প্রফেসর ব্রায়ান স্টোন এবং তাঁরই প্রাক্তন ছাত্র ডঃ নেইথান স্কট নামক দুজন একাডেমিশিয়ানও এই গবেষণা প্রকল্পের সাথে জড়িত। ডঃ স্কট তাঁর পি-এইচ-ডি প্রজেক্টে তৈরি করেছেন ‘জেলী ফিশ’ নামের একটি সার্ভার-বেইজড ‘অ্যাডাপ্টিভ লার্নিং সিস্টেম’ যা কিনা সেকেন্ড ইয়ার ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিক্স’ কোর্সে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। ছাত্ররা যখন ‘জেলী ফিশ’ সিস্টেমে ‘লগ-ইন’ করবে, তখন তাকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিক্স’-এর একটি অংক সমাধান করতে দেয়া হবে। সে যদি সমাধান করতে পারে তবে পরবর্তী অংকটি হবে অধিকতর জটিল। ‘অ্যাডাপ্টিভ লার্নিং সিস্টেম’এর মূলকথা হলো শিক্ষার্থীর মেধানুসারে তাকে ধাপে ধাপে সমস্যা সমাধান করতে দেয়া হয়। প্রফেসর ব্রায়ান স্টোন এক সেমিস্টারের জন্য ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ হিসেবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিক্স’ কোর্স পড়াতে এলেন এবং সফলভাবে ‘জেলী ফিশ’ সিস্টেম ব্যবহার করলেন। আমার কাজ ছিলো ‘জেলী ফিশ’ সিস্টেমকে আমাদের সার্ভারে ইনস্টল করা এবং সার্বক্ষণিকভাবে তাকে চালু রাখা। এই কাজ করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে প্রফেসর স্টোনকে জানার সুযোগ হয়। ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ক্যান্টিনে আমরা প্রায়ই একসাথে লাঞ্চ করতাম – মাঝে মাঝে আমাদের সাথে যোগ দিতেন প্রফেসর মান্নান যিনি এই প্রজেক্টের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর।

আমার কাজের ব্যাপারে আমাকে সরাসরি রিপোর্ট করতে হতো প্রফেসর মান্নানকে। আমি যেদিন প্রথম তাঁর কাছে রিপোর্ট করতে যাই, সেদিনই তিনি আমাকে ‘রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ারের’ চাকুরীর পাশাপাশি ‘পার্টটাইম মাস্টার্স বাই রিসার্চ’ করার জন্যে উৎসাহিত করেন। আমার পদবীর কারণে আমাকে কোন টিউশন ফি দিতে হবে না। তিনি আমাকে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর আশরাফ কাসিমের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে আমি প্রফেসর আশরাফের তত্ত্বাবধানে আবারও স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হই। ‘জেলী ফিশ’ সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি আমার গবেষণার প্রস্তাবনা জমা দিলাম – ‘ইন্টিলিজেন্ট টিউটরিং সিস্টেম’। অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে দীর্ঘ তিন বছর পর আমি অবশ্য এবার স্নাতকত্তোর ডিগ্রী সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমর্থ হই। এই তিন বছরে আমাকে চারটি কোর্সওয়ার্ক, দুইটি জার্নাল পেপার এবং সবশেষে থিসিস লেখা শেষ করতে হয়। আমার দীর্ঘদিনের মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের আকাংখা পূরণ হয় অবশেষে।

দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর মালেয়শিয়ারই ক্ষুদ্র সংস্করণ, তবে জনসংখ্যার অনুপাতে চাইনিজদের তুলনায় মালেয়দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যার জাতিগত অনুপাত হচ্ছে – চাইনিজ শতকরা ৭০ ভাগ, মালেয় ২০ ভাগ এবং ইন্ডিয়ান ও অন্যান্যরা হচ্ছে বাকী ১০ ভাগ। ১৯৬৫ সালের অগাস্ট মাসে মালেয়শিয়ান ফেডারেশন থেকে বহিস্কৃত হয়ে স্বাধীন সিঙ্গাপুরের জন্ম হয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তির ঠিক বছর খানেক আগে জুলাই মাসের ২১ তারিখে সংঘটিত মালেয় এবং চাইনিজদের মাঝে হয় এক নৃশংস জাতিগত দাঙ্গা। এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৬৯ সালে কুয়ালালুমপুরেও সংঘটিত হয় একই ধরণের দাঙ্গা যা ছিল আরও ভয়াবহ। এই দুইটি দাঙ্গা পরবর্তীকালে দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের গঠন প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

হঠাৎ স্বাধীনতাপ্রাপ্ত সিঙ্গাপুরের অবকাঠামো ছিল খুবই নাজুক – শিক্ষাদীক্ষায় পশ্চাৎপদ, আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাং-দের দৌরাত্ব্য, পানি ও বিদ্যুতের অভাব এইগুলো ছিল প্রাথমিক সমস্যা। আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত ‘লি কুয়ান ইউ’-এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই সমস্যাগুলি একে একে কাটিয়ে উঠে সিঙ্গাপুর এক সময় পরিণত হয় প্রথম বিশ্বের সমমানের একটি দেশে।

জাতিগত দাঙ্গা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকার গ্রহন করে ‘রেসিয়াল হারমনি’ নীতি, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের মোট জনসংখ্যার জাতিগত আনুপাতিক হার অনুসারে সুযোগের বন্টন। সরকারী আবাসন প্রকল্পের ফ্লাট বরাদ্দ থেকে শুরু করে সরকারী ও আধা-সরকারী চাকুরীর নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বত্রই এই নীতি অনুসরন করা হয়। তবে আমি চাকুরীর ক্ষেত্রে কখনোই মালেয়দের কোঠা পূরণ হতে দেখিনি।

স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পরপরই সিঙ্গাপুর তার প্রতিরক্ষাকে ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে শুরু করে, আর এইক্ষেত্রে ইসরাইলী মিলিটারি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই তিন বাহিনী নিয়ে গঠিত ‘সিঙ্গাপুর আর্মস ফোর্সেস’। এর সাথে আছে ‘সিভিল ডিফেন্স ফোর্স’ যা কিনা মূলত ‘ফায়ার সার্ভিস’ ও ‘এম্বুলেন্স সার্ভিস’-এর সেবা প্রদান করে। সিঙ্গাপুরের প্রত্যেক পুরুষ নাগরিকের জন্য দুই বছরের সামরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং চল্লিশ বছর বয়স অবধি সবাইকে বছরে অন্তত একবার রিপোর্ট করতে হয় তার সামরিক ইউনিটে। ফলে রেগুলার ফোর্সের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের প্রতিটি পুরুষ নাগরিকই হচ্ছে একজন পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিংপ্রাপ্ত রিজার্ভ সৈনিক। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া মালেয় পুরুষদের যে শুধুমাত্র ‘সিভিল ডিফেন্স ফোর্স’-এ নিয়োগ দেয়া হয়, সেই বিষয়টি অল্পদিনের ভেতরই আমার নজরে পরে। ফলে ‘রেসিয়াল হারমনি’ নীতি আমার কাছে মালেয়শিয়ায় প্রচলিত ‘ভূমিপুত্রা’ নীতিরই ‘সুগারকোটেট’ রূপ বলেই মনে হয়েছে। ‘ভূমিপুত্রা’ নীতির কারণে মালেয়শিয়াতে সরকারী চাকুরীসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে মালেয়দেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়ে থাকে।

আমি ধীরে ধীরে সিঙ্গাপুরের জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাওয়াতে শুরু করি। ইতিমধ্যে ‘ফরেন ট্যালেন্ট’ ক্যাটাগরীতে সিঙ্গাপুরের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সশীপ পেয়ে যাই। দুই বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেই ‘বুকিত পানজাং’ এলাকায়। সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী ঢাকা থেকে এসে উঠে সেই অ্যাপার্টমেন্টে। আমি এবং আমার স্ত্রী, আমরা দু’জনেই অবশ্য একই ব্যাচে গণচীনে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়তে যাই, তার বিষয় ছিল মেডিকেল সায়েন্স। সিঙ্গাপুরে আসার কিছুদিন পরই আমার স্ত্রী ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের মলিউকুলার বায়োলজী ডিপার্টমেন্টে ‘রিসার্চ স্কলার’ হিসেবে যোগ দেয়, তার গবেষণার বিষয় হলো ‘ক্যান্সার সেল’।

আমাদের দুজনের কর্মস্থল একই জায়গায় হওয়াতে আমরা সকালে একসাথে ঘর থেকে বের হতাম, প্রায়ই দুপুরে একসাথে লাঞ্চ করতাম ক্যান্টিনে, আবার দিন শেষে এক সাথে ঘরে ফিরতাম। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমাদের একমাত্র সন্তানের জন্ম হলো সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত ‘কানডাং কারবাও’ হসপিটালে। ঐতিহ্যবাহী এই হসপিটালের নাম পরবর্তীকালে ইংরেজীতে রাখা হয় ‘কে. কে. উইমেন্স এন্ড চিল্ড্রেন’স হসপিটাল’। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম যে কালের প্রবাহে সিঙ্গাপুরের মালেয় ঐতিহ্যগুলি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের অনেকের কাছেই আজ অজানা যে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে ‘মালেয়’ – অথচ এই ভাষাকে ধীরে ধীরে করা হয়েছে গুরুত্বহীন। সিঙ্গাপুরের জাতীয় সংগীত হচ্ছে মালেয় ভাষাতে। আমি সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন সেই জাতীয় সংগীতের সুরের পরিবর্তন আনা হয় – আবার অনেক ক্ষেত্রেই যন্ত্রসংগীতের আকারে জাতীয় সংগীত বাঁজাতে শুনেছি।

আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রায় দুইমাস পর আমার স্ত্রী আবার তার রিসার্চের কাজ শুরু করে। আমাদের সন্তানের দেখাশোনার জন্য শরণাপন্ন হই প্রতিবেশী এক একান্নবর্তী মালেয় পরিবারের কাছে। দিনের শুরুতে কাজে যাওয়ার সময় আমাদের সন্তানকে রেখে যাই সেই মালেয় পরিবারের কাছে, আর দিন শেষে তাকে নিয়ে আসি আমাদের কাছে। কয়েকদিনের মাঝেই আমরা যেমন সেই মালেয় পরিবারকে আপন করে নিয়েছিলাম, তারাও তেমনি আমাদের সন্তানসহ আমদেরকে তাদেরই একজন করে নিয়েছিলো। এতটাই আপন হয়েছিলাম যে সেই পরিবারের ছোট মেয়ের বিয়ের মেন্যুতে তাদের অনুরোধে আমি যোগ করেছিলাম শশা, টমাটো, কাঁচা মরিচ আর ধনিয়া পাতা দিয়ে বানানো একটি সালাদ। কোন এক অজানা কারণে আমার তৈরী অতি সাধারণ এই সালাদের বিশেষ ভক্ত ছিল তারা।

আমাদের সন্তানও তাদেরকে একান্ত আপনজন জেনেই বড় হতে লাগলো এবং ধীরে ধীরে তার মুখে মালেয় ভাষা ফুটতে শুরু করলো। তার সাথে সাথে আমার স্ত্রীও মালেয় ভাষা শিখা শুরু করলো। যার ফলে পানাস (গরম), বান্তাল (বালিশ), সুসু (দুধ), গিগি (দাঁত), মান্ডি (গোসল), মাকান (খাওয়া), মিনুম (পান করা) ইত্যাদি মালেয় শব্দ ধীরে ধীরে আমাদের মুখে বাংলার সাথে মিশে যাওয়া শুরু করল।

সিঙ্গাপুরের অফিসিয়াল ভাষা হলো চারটি – ইংরেজী, ম্যান্ডারিন, মালেয় এবং তামিল। মজার ব্যাপার হলো সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যার শতকরা সত্তুর ভাগ হচ্ছে চাইনিজ, অথচ তাদের কারোরই ন্যাচরাল ল্যাঙ্গুয়েজ ম্যান্ডারিন নয়। কারণ তাদের বেশীর ভাগই দক্ষিণ চীন থেকে ভাগ্যান্বেষণে আসা চাইনিজদের বংশধর। মূলত তাদের ভাষা হক্কেইন, হাক্কা অথবা ক্যান্টনিজ, যা কিনা ম্যান্ডারিন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠার পর এবং চীনের ‘ওপেন ডোর পলিসি’ গ্রহণের ফলে সিঙ্গাপুরের চাইনিজরা তাদের শিকড়ের সন্ধানে আগ্রহী হলো এবং সেটার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তারা তাদের কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ম্যান্ডারিন শিখতে এগিয়ে এলো। ‘ম্যান্ডারিন ইন, ডায়ালগস আউট’ ছিল ১৯৮৩-তে সিঙ্গাপুর সরকারের নেয়া ‘স্পিক ম্যান্ডারিন ক্যাম্পেইন’-এর শ্লোগান। ২০০০ সালে সরকার চালু করে নোতুন শ্লোগান – ‘স্পিক ম্যান্ডারিন? নো প্রোব্লেম’।

স্কুলের কারিকুলামে ইংরেজীর পাশাপাশি চালু হলো ‘মাদার টাংগ’ – চাইনিজদের জন্য ম্যান্ডারিন, মালেয়দের জন্য মালেয় এবং ইন্ডিয়ানদের জন্য তামিল অথবা মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোন ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ। মজার ব্যাপার হলো বাংলা সেই অনুমোদিত ল্যাঙ্গুয়েজ লিস্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল, ফলে আমার সন্তানের বাংলায় হাতেখড়ি হয়েছিলো সিঙ্গাপুরের প্রাইমারী স্কুলে।

উত্তর চীনের ন্যাচরাল ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে ম্যান্ডারিন, যা কিনা সমস্ত চীনের জন্য সরকারী ভাষা হিসেবে বিবেচিত। সিঙ্গাপুর সরকার বিশুদ্ধ ম্যান্ডারিন শেখানোর লক্ষে উত্তর চীন থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষককে নিয়োগ দিলো বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুলে এবং টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রামগুলোতে। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে চাইনিজ জনসংখ্যার আনুপাতিক হার যাতে কোনক্রমেই শতকরা সত্তুর ভাগের নীচে না নেমে যায় সেই লক্ষে হাতে নেয়া হলো ‘স্টাডি মা-মা’ নামের একটি বিশেষ প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে চীন থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক  প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী লেভেলের ছাত্রদেরকে সিঙ্গাপুরের স্কুলগুলিতে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। ছাত্রদের সাথে তাদের মা-দেরকেও কাজের অনুমতিসহ সিঙ্গাপুরে বসবাসের সুযোগ দেয়া হয়। সরকারের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা হলো যে এই শিশু ও কিশোর ছাত্ররা একদিন বড় হয়ে সিঙ্গাপুরের মেইন স্ট্রীমের সাথে মিশে যাবে। কিন্তু বাচ্চাদের সাথে আসা মায়েদের শিক্ষাগত এবং ভাষাগত দূর্বলতার কারণে তাদের জন্য উপযুক্ত কাজের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হতে লাগল। ফলে অনেকেই ম্যাসাজ পার্লারের মতন জায়গায় কাজ করা শুরু করল এবং নানাবিধ সামাজিক সমস্যার সৃস্টি হতে লাগলো। এই সময় ‘স্টাডি মা-মা’ প্রকল্পের অধীনে পড়তে আসা ‘হুয়াং না’ নামক আট বছরের একটি মেয়ের অন্তর্ধাণ এবং তিন সপ্তাহ পর তার লাশ উদ্ধারের ঘটনা তখন পুরো সিঙ্গাপুর জুড়ে তুমুল আলোড়নের সৃস্টি করে। ‘হুয়াং না’-র হত্যাকারী মালেয়শিয়ান নাগরিক ‘টুক লেং হৌ’-কে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে। যদিও সিঙ্গাপুরের ‘ক্রাইম রেইট’ উল্লেখ করার মতন কম, তারপরও সর্বত্র পুলিশ ফোর্সের সতর্কবানী – ‘লো ক্রাইম ডাজ নট মিন নো ক্রাইম’।

ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরে আমার বসবাসের বেশ কিছু বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। যে বিশেষ ব্যাপারটি আমাকে সব সময় উদ্দীপ্ত রেখেছে সেটা হলো এখানকার সমাজ আমাকে তাদেরই একজন হিসেবে স্থান করে দিয়েছে। আমার মাঝেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে বিশেষ করে ভাষাগত ব্যাপারে। বিশুদ্ধ ম্যান্ডারিন আমি এবং আমার স্ত্রী সেই বেইজিং-এ পড়াকালীন সময় থেকে বলতে পারি, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ করে কাঁচা বাজারে চাইনিজদের সাথে আমরা ম্যান্ডারিনে কথা বলতাম। কাজ চালানোর মতোন মালেয় আমাদের শেখা হয়ে গেছে ততদিনে। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরের ‘কলোকিয়াল’ ইংরেজীতে অভ্যস্থ হয়ে গেছি আমরা। ইংরেজীর সাথে মালেয় এবং ‘হক্কেইন’ শব্দ জুড়ে দিয়ে সাবলীলভাবে ‘সিঙ্গলিশ’ ভাষায় আমার কথা বলা দেখে একবার এক বাংলাদেশী শ্রমিক ভাই আমাকে সিঙ্গাপুরিয়ান ভেবে বসেছিলো। এদিকে দেখতে দেখতে আমাদের ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্সশীপ’-এর নবায়নের সময় চলে এলো। সিঙ্গাপুর সরকার যদি ‘ডুয়েল সিটিজেনশীপ’-এর অনুমোদন দিত, তাহলে হয়ত এই সময়ে সিঙ্গাপুরের সিটিজেনশীপটা নিয়ে নিতাম। তার বদলে অনেকটা ‘দেখি কি হয়’ এই মনোভাব নিয়ে পরিচিত অনেক বাংলাদেশী পরিবারের দেখাদেখি আমরাও কানাডার ইমিগ্রেশন ভিসার আবেদন পত্র জমা দিলাম। সিঙ্গাপুর যদিও শক্ত একটি অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, তারপরও দুইটি বিশেষ কারণে কানাডা যাবার চিন্তা আমার মাথায় ঢুকেছিল। এক, প্রো-চাইনিজ শিক্ষা ব্যবস্থা; দুই, আমার চুক্তিভিত্তিক চাকুরীর নিয়োগ।

সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক শক্তির মূলে প্রধানত যে তিনটি সেক্টরের অবদান উল্লেখযোগ্য সেগুলো হলো – সার্ভিস (এয়ারপোর্ট, সি-পোর্ট), ইলেক্ট্রনিক্স (সেমিকন্ডাক্টর ফ্রেব্রিকেশন ইন্ডাস্ট্রি) এবং কেমিক্যাল (অয়েল রিফাইনারী)। তখন সিঙ্গাপুরের ‘চাংগি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ র‍্যাঙ্কিং-এ পৃথিবী সেরা আর আধুনিক সব বিমান নিয়ে সজ্জিত সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স বিশ্বের প্রথম সারির একটি এয়ারলাইন্স। সিঙ্গাপুরে বিশ্বমানের সি-পোর্টের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি শিপইয়ার্ড, যার মধ্যে ‘জুরং’ এবং ‘সেমবাওয়াং’ শিপইয়ার্ডের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য। পৃথিবীর বড় বড় কোম্পানীর জাহাজ এসে ভীড় করে এই দুই শিপইয়ার্ডে সার্ভিসিং-এর উদ্দেশ্যে। ১২০ বছর আগে সিঙ্গাপুরের ‘পুলাউ বুকম’ দ্বীপে বিখ্যাত ‘শেল’ কোম্পানীর প্রতিষ্ঠিত ‘কেরোসিন ডিপো’ আজ পরিণত হয়েছে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ‘অয়েল রিফাইনারী’-তে। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ক্রিয়েটিভ’ নামক সামান্য এক কম্পিউটার রিপেয়ারিং শপ ‘সাউন্ড কার্ড’ তৈরী করে পরিণত হয় বিশাল এক গ্লোবাল কোম্পানীতে। ‘ক্রিয়েটিভ’-এর এই অভাবনীয় সাফল্যে সিঙ্গাপুর সরকার সচেস্ট হয় ইলেক্ট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে, ফলে গড়ে উঠে সেমিকন্ডাক্টর ফ্রেব্রিকেশনের বিশাল বিশাল প্ল্যান্ট যা সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে রাখে বিশেষ অবদান। অর্থনীতিকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এই তিনটি সেক্টরের বাইরে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠে ‘তেমাসেক হোল্ডিংস’ নামক একটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানী । সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের ধনী রাস্ট্রদের কাতারে নিয়ে আসতে ‘তেমাসেক হোল্ডিংস’-এর অবদান অপরিসীম।

সদা পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে সরকার হাতে নেয় ‘নলেজ ইকোনমি’ প্রকল্প যার চালিকা শক্তি হিসেবে নির্ধারিত হলো ‘লাইফ লং লার্নিং’। ‘নলেজ ইকোনমি’-র অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ‘ইনোভেশন’ – তাই সরকার একটি ‘ইনোভেটিভ নেশন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরাদ্দ করে বিশাল অংকের বাজেট। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা শুরু হলো ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’-র উপর সেমিনার আর ওয়ার্কশপ, যার বেশীর ভাগই পরিচালনা করতেন বিশ্বের নামকরা সব এক্সপার্টরা। এই সময় ‘ব্রেইন ডান্সিং’ খ্যাত দীলিপ মুখার্জী সহ অন্যান্য খ্যাতনামা লোকদের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয় আমার। তবে আমার দৃস্টিতে ‘ইনোভেশন’ একটি ন্যাচরাল ‘ইনস্টিংক্ট’ যা কাউকে শিখানো যায় না, যেমন কবিতা লেখা। আর একটি জাতি তখনই ইনোভেটিভ হয়ে উঠে যখন তারা তাদের দৈনিন্দন জীবনে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয় এবং সেগুলোর সমাধান তাদেরকেই বের করতে হয়। যেহেতু সিঙ্গাপুর একটি ‘সমস্যাবিহীন’ দেশ, তাই জাতি হিসেবে সিঙ্গাপুরিয়ানদের ইনোভেটিভ হওয়ার সুযোগ অনেক কম। সরকার হয়ত এই সত্যটি অনুধাবন করে সচেস্ট হলো শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ উপাদানটি যোগ করার জন্যে। ঠিক এই সময়ে মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন-এর অর্থায়নে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন-এর অধীনে গঠিত হলো একটি নতুন রিসার্চ উইং – ‘সেন্টার ফর রিসার্চ ইন পেডাগজী অ্যান্ড প্রাকটিস’ অথবা সংক্ষেপে ‘সি. আর. পি. পি.’। এই রিসার্চ উইং-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সিঙ্গাপুরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান মান বিশ্লেষণ করে তাতে কিভাবে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ উপাদান যোগ করা যায় তা খতিয়ে দেখা।

আমি তখন সিঙ্গাপুর পলিটেকনিকের ওয়েব বেইজড এডুকেশন প্রকল্পের সিস্টেম অ্যানালিস্টের পদ ছেড়ে দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিলাম ‘সি. আর. পি. পি.’-তে সিনিয়ার সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে। আমার কাজ হলো কমপিউটিশনাল লিঙ্গুইস্টিক টেকনোলজীর মাধ্যমে ক্লাশরুম টিচিং-এর মান বিশ্লেষণ করা। এই সময় আমি ‘সি. আর. পি. পি.’-এর ডীন প্রফেসর অ্যালেন লূক-এর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসি। সেকেন্ড জেনারেশন চাইনিজ-আমেরিকান প্রফেসর লূক-এর জন্ম ও বেড়ে উঠা লস এঞ্জেলিসের চায়না টাউনের পাশে ‘ইকো পার্ক’ এলাকায়, পি. এইচ. ডি. করেছেন কানাডার সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটি থেকে কিন্তু স্থায়ী হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। এডুকেশনাল পলিসির একজন বিশ্বখ্যাত অথরিটি হিসেবে বিবেচিত প্রফেসর লূক সিঙ্গাপুর সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে এই রিসার্চ সেন্টারের সর্বোচ্চ পদবী গ্রহন করেন।

প্রফেসর লূক-এর বিশেষ আগ্রহে সি. আর. পি. পি.-তে তখন প্রায়ই বিশ্বের নামকরা এডুকেশনালিস্ট-রা এসে সেমিনার করতেন। সেই সব সেমিনারে নিয়মিত যোগ দিয়ে ‘এডুকেশনাল পলিসি’ সম্পর্কে আমার তাত্বিক জ্ঞানের পরিধি অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। ‘এডুকেশন’ হচ্ছে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা কিনা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণীকে তাদের দারিদ্রের বৃত্ত ভেঙ্গে বের হয়ে আসার সুযোগ করে দেয়। বৃত্ত ভাঙ্গার এই শক্তিশালী হাতিয়ারকে তাই প্রতিটি রাস্ট্রই  করতে চায় নিয়ন্ত্রণ, সেই জন্যে প্রবর্তন করে তার নিজস্ব এডুকেশনাল পলিসি। সিঙ্গাপুর সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়, ফলে সরকারের শিক্ষা নীতিতে মূলতঃ প্রাধান্য পায় কিভাবে দেশের নেতৃত্বের ধারা বজায় রাখার জন্যে পরবর্তী নেতা শ্রেণী এবং কিভাবে দেশের প্রতিটি কর্ম খাতের জন্য দক্ষ কর্মী শ্রেণী তৈরী করবে। ফলে সিঙ্গাপুরের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিতে চালু রয়েছে ‘স্ট্রিমিং’ – যা প্রাইমারী  লেভেলেই নির্ধারণ করে দেয় একজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না তাকে ‘টেকনিক্যাল’ লাইনে পড়তে হবে। এই ‘আর্লি স্ট্রিমিং’ পদ্ধতির সমালোচনা করায় সরকারের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন প্রফেসর লূক। তাই তাকে ফেরৎ যেতে হয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই।

প্রফেসর লূক-এর সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপচারিতার মাঝে তাকে আমি জানিয়েছিলাম আমার কানাডা অভিবাসনের কথা। তিনি আমাকে সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটিতে পি. এইচ. ডি. করার জন্য উৎসাহিত করে পরোক্ষভাবে আসলে উৎসাহিত করেছেন কানাডাতে পাড়ি জমাতে। হয়ত তিনি বুঝতে পারতেন যে সিঙ্গাপুরের ‘প্রো-চাইনিজ’ শিক্ষা পদ্ধতি একজন ‘নন-চাইনিজ’ নাগরিকের পূর্ণভাবে বিকশিত হওয়ার জন্যে একটি বড় অন্তরায়।

প্রফেসর লূক-এর এই হঠাৎ চলে যাওয়াতে সি. আর. পি. পি.-এর কার্যক্রমে আসে নানাবিধ পরিবর্তন। আমারও উৎসাহে ভাটা পড়ে, তাই চুক্তির মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে দেই হিউম্যান রিসোর্স বরাবর। তারপর একদিন তল্পিতল্পা বেঁধে পরিবারসহ রওনা হয়ে যাই টরোন্টো অভিমুখে।

ঠিকানা ধরে এক সময় মাইক্রোবাসটা এসে থামে আমার সহপাঠী বন্ধুটির বাসার সামনে। আমার বন্ধুর গাড়ি তখনও এসে পৌঁছায়নি। ভাড়া মিটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি তাদের অপেক্ষায়। এভাবেই সূচনা হয় টরোন্টোতে আমার নতুন জীবন।

(চলবে)

৭৪ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।