ইংরেজির গোড়াপত্তন (প্লাস একটা সুসংবাদ)

আমার বাবা সবসময় আফসোস করতেন, আমরা নাকি ভাল ইংলিশ শিখি নাই। তাঁদের সময় (ব্রিটিশ+পাকিস্তান পিরিয়ডে) মানুষ বেশ ভাল ইংরেজি চর্চা করতো, স্বাধীনতার পরে এই চর্চাটা দারুণরকম কমে গেছে। কথা সত্য, তবে আমি যে ইংরেজিতে একদম খারাপ না, সেটা আমার বাবার মুখে কখনো স্বীকার করাতে পারিনি। :((

আমার এবং এই ব্লগের সবার ইংরেজির মান ভাল বলে আমার বিশ্বাস। এর কারণটা ক্যাডেট কলেজ।
ক্যাডেট কলেজে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আমরা ইংরেজির একটা দৃঢ় প্রশিক্ষন পেয়ে এসেছি। হাউস এসেম্বলি, প্রিন্সিপাল’স এসেম্বলি, বিভিন্ন স্টেজ পারফরমেন্স সর্বোপরি এডজুটেন্ট সাহেবদের ইন্টারাপ্টের বদৌলতে আমাদের ইংরেজির গোড়াপত্তন হয়।

নানা স্টাইলের ইংরেজি শেখার জন্যে স্বীকার করতে হবে এডজুটেন্ট স্যারদের ভূমিকা। যেমনঃ কোন ক্যাডেট একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে এডজুটেন্ট মঈনুদ্দীন মাহমুদ স্যার বলতেন, “pregnant duck”.
মনে পড়ে, আমাদের এডজুটেন্ট মেজর ফরিদ একবার গেমস গ্রাউন্ডে এক ক্যাডেটকে ফল-আউট করালেন। তখন শীতকাল ছিল বলে আমরা হাফশার্ট পরে যেতাম, নিচে অবশ্যই গেঞ্জি পরতে হতো। তো, সেই ক্যাডেট দৌড়িয়ে এডজুটেন্টের সামনে গিয়ে চেক মারলো। আমরা অপেক্ষায় আছি, বেচারা কী ফল্ট করেছে, শুনার জন্য। এডজুটেন্ট চিত্কার দিয়ে বললেন, “ফরহাদ, why didnt u wear ur bra?” :shy:

কুমিল্লার ১৪তম ব্যাচের কলেজ প্রিফেক্ট হয়েছিলেন মহসিন ভাই। CP হবার পরই শুরু হলো তাঁর ইংরেজি বলা। জুনিয়রদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে শুরু করলেন। আমরা তাই কোনো ফল্ট করতেও ভয় পেতাম, পাছে আবার ওনার হাতে পড়া লাগে! Listening, then speakingএর প্র্যাকটিস হয়ে যাবে, এই ভয়ে আমরা সদা মহসিন ভাইয়ের ১০০ হাত দূরে থাকতাম। মনে পড়ে, একবার আমরা ফলিনে হৈচৈ করছিলাম, হঠাত কোথা থেকে CP মহসিন ভাই হাজির। আমাদের দিকে তাকিয়ে চিল্লায়া বললেন, “ক্লাস নাইন, why r u chirping like chickens?”
১৫তম ব্যাচের (তারেক/তানভীর ভাইদের) জেপি ছিলেন ফেরদৌস ভাই। একদিন আমাদের ফ্রন্টরোল দিতে বলছিলেন, আমরা দিচ্ছিলাম না। রাগে ওনি আমাদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লেন, আর গর্জন,”ব্লাডি ক্লাস নাইন, a bunch of monkeys…” পরে রুমে গিয়ে শব্দগুলার মানে দেখলাম ডিকশনারিতেঃ একগুচ্ছ বানর, বান্দরের দল। :party:
এভাবে হাসি-ঠাট্টা বা কষ্ট-উল্লাস বা খেলার ছলে কতো শব্দ শিখেছি, তার হিসাব নাই।

আমাদের একজন ইংরেজির স্যার ছিলেন, সাখাওয়াত হোসেন। বাচাল লোক বলে পোলাপান তার নাম দিয়েছিলো garrulous. তবে তাঁর
এই অতিভাষার কল্যাণে কতো নতুন word শিখেছিলাম আমরা। এ-ব্যাপারে সবচে উল্লেখযোগ্য হলো আনোয়ারুল হক স্যারের নাম (আমাদের হাউস মাস্টার, পরবর্তিতে সিলেটের VP ও প্রিন্সিপাল)। ওনিও ইংরেজির টিচার ছিলেন, নানান গঠণে বাক্য তৈরির মাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ক্লাসটা মাতিয়ে দিতেন। আমাদের প্রতি আচরণ হিসেবে নানা দোষে দুষ্ট থাকা সত্বেও তাঁর ইংরেজি জ্ঞান আমাদের মুগ্ধ করতো।
এমন আরেকজন ছিলেন শফিক স্যার। একদিন ক্লাসে দাঁড়িয়ে কাগজ মুড়ানোর বানান বললেন, “This is ‘wrap’, not ‘rape’.”
বাকি দুই ইংরেজি টিচার শাহিন স্যার আর সোলায়মান স্যারের কাহিনী অনেক লম্বা।…

এখন আমার মূল কথায় আসি। আজ আমার IELTS পরীক্ষার রেজাল্ট হলো। স্বাভাবিকভাবেই রেজাল্ট খারাপ হবার কথা নয়, 6.5 পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। যাইহোক, এই সুসংবাদটা সিসিবির সাথে শেয়ার করা উচিত মনে হলো, কারণ ক্যাডেট কলেজের পরিবেশই আমার ইংরেজির ভিত তৈরি করেছে, ক্যাডেটেই হয়েছে আমার ইংরেজি শেখার গোড়াপত্তন।
সেজন্যে অন্তর থেকে :salute: ক্যাডেট কলেজকে।
আর… সেই সাথে… আফসোস আমার বাবার জন্য, ২০০৩ সালের আগে যিনি প্রতিদিন আমাদের ইংরেজির মান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতেন, তাঁকে আর আমার IELTS রেজাল্টটা দেখিয়ে দেয়া হলোনা। আমার হাসি দেখে গর্বিত হতে পারলেন না তিনি।

১,৬৮৪ বার দেখা হয়েছে

২৩ টি মন্তব্য : “ইংরেজির গোড়াপত্তন (প্লাস একটা সুসংবাদ)”

  1. তাইফুর (৯২-৯৮)

    6.5 ... congrats

    আর বাকীদের সাথে গলা মিলিয়ে

    আংকেলের প্রতি শ্রদ্ধা
    ক্যাডেট কলেজ কে :salute:


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  2. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    আপনাকে :salute:
    ক্যাডেট কলেজ কে :salute: :salute:
    এবং আংকেলকে :salute: :salute: :salute:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  3. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)

    জিআরই দিছিলাম গতবছর .... এইবার টোফেল দিলাম গত সপ্তাহে। টোফেলের রেজাল্ট দিলেই বুঝতে পারব ইংরেজীর দৌড় কতদূর 😛

    লেখাটা চমৎকার .....তোমার বাবাকে শ্রদ্ধা

    জবাব দিন
    • আলম (৯৭--০৩)

      তারেক ভাই
      অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার শখ আমার ছোটবেলা থেকেই। তাই একটু চেষ্টা করতেছি আরকি। তবে স্কলারশিপ না পাইলে কোথাও যামুনা, খাইট্টা খাওয়ার মানুষ আমি নই।
      আর ২ মাস পর অনার্স শেষ হচ্ছে। তাই এখুনি এপ্লাই শুরু করেছি। জাপানে MSএর একটা স্কলারশিপে এপ্লাই করেছি, আরো কোথাও করবো।
      আপনাদের বুদ্ধি-পরামর্শ পেলে ভাল লাগবে।

      জবাব দিন
      • তারেক (৯৪ - ০০)

        অস-এড না জানি অস-এইড বলে এইখানে একটা স্কলারশিপ দেয় পোস্ট গ্রাজুয়েটদের জন্যে। আমার ভাল ধারণা নাই, আমি আসছিলাম আন্ডার-গ্রাডে।
        তবে খোঁজ নিয়া জানাতে পারবো।


        www.tareqnurulhasan.com
        www.boidweep.com

        জবাব দিন
        • আলম (৯৭--০৩)

          thanku bhai.
          অস-এইড'অলারা আবার ২ বছরের work experience চাইতেসে। আমি University of Melbourne (school of Engineering) এবং La Trobe University এই দুইটায় ট্রাই করছি। আমি আসলে একবারে MS সাইরা ফেলতে চাই। এইরকম কোন সুযোগ জানা থাকলে kindly জানাইয়েনঃ nazbd20@yahoo.com

          আবারো ধন্যবাদ।

          জবাব দিন
  4. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আলম ভাই আপনে তো সহজে বাইচা গেলেন, এখন আমার তো higher education(সোজা বাংলায় ব্যারিস্টারি) এর জন্য ৭.৫ তাও সব মডিউল বা সেকশনে বাধ্যতামূলক। আমার জন্য দোয়া কইরেন(জানি কামডা কঠিন তয় ক্যাডেটের জইন্য সব সম্ভব)।

    জবাব দিন
    • তারেক (৯৪ - ০০)

      হুম, সবগুলায় আলাদা করে সাড়ে সাত খুব ঝামেলার জিনিস। আমাদের এইখানে পিআর এর জন্যে সাত করে লাগে সবগুলায়। আমি luckily পেয়ে গেছি প্রথমবারেই, কিন্তু পরিচিত অনেকেই দেখতেছি গত এক বছর ধরে ielts টেস্ট দিয়েই যাচ্ছেন!
      কোমর বাইন্ধা পড়া শুরু করো।


      www.tareqnurulhasan.com
      www.boidweep.com

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।