বাংলা সিনেমা নিয়ে হালকা চালে গভীর ভাবনা-১

[লেখাটা আমার দুইজন প্রিয় বন্ধু টিটো আর কামরুলকে উৎসর্গ করলাম।যে দুজন মানুষের সাথে আমি চলচ্চিত্রের অনেক ভাবনা শেয়ার করেছি,তা ভেবে অনেক স্বপ্ন্ব ও দেখেছি।তা অতীতের কথা কিন্তু এখনও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি,এই দুজন একসময় মহৎ কোন শিল্প তৈরী করবে।আর এই লেখাটা নিয়ে নানান হা-হা,হি-হি আর ইমোর মাঝে ভাবনার খোরাক যোগাক,এটাই আসল কথা। 😉 ]

বাংলা সিনেমা নিয়ে লোকে নাক সিঁটকায়,এ আর নতুন কিছু নয়।কোন ভালো গল্প নেই,ভালো চিত্রনাট্য নেই,টেকনিশিয়ানরা দক্ষ নন,সঙ্গীতের অবস্থা খুবই সঙ্গীন,অভিনয় যাচ্ছেতাই,গুণী পরিচালকের অভাব-এরকম বিস্তর অভিযোগ।কিন্তু তারচেয়েও একটি বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে-তথাকথিত রুচিশীল দর্শক বলে নিজেকে যারা উন্নত মনে করেন,তারা কি ভালো চলচ্চিত্রের কোন চাহিদা বাজারে তৈরী করতে পেরছেন?এওতো সত্য যে,দিনশেষে চলচ্চিত্র একটি পণ্য,যার ভিত্তি পুঁজির উপর দাঁড়িয়ে কিন্তু অন্য আর দশটা অর্থনৈতিক পণ্য থেকে এটি একটু আলাদা করা যায়,কারন এর একটা শিল্পগুণ রয়েছে যার সাথে কিছুটা সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।তাই এই পণ্যটিকে বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে শুধু যোগানদাতার দোষ খুঁজলে হবেনা,চাহিদার দিকটাও দেখতে হয়।

বিস্তারিত»

ভুল অ্যালগরিদমে আত্মগ্রাসী যৌনতা

ডেভিড ক্রোনেনবার্গ এর ক্র্যাশ (১৯৯৬) [পল হ্যাগিস এর ক্র্যাশ (২০০৪) নয়] আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অস্বস্তিকর সিনেমাগুলোর একটি। অস্বস্তিকর শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করিনি। আসলে পুরো সিনেমায় যদি বিপরীত ও সমকামী সংগম, গাড়ি দুর্ঘটনা, শুষ্ক ক্ষত, ভগ্ন হাড় আর নাইহিলিস্ট প্রতিবেশ ছাড়া আর কিছু না থাকে তবে স্বস্তি পাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু অস্বস্তি জাগানিয়া সিনেমাটি নিঃসন্দেহে নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে সাহসী, মানবিক, উদ্ভাবনী সিনেমাগুলোর একটি।

বিস্তারিত»

ইয়ু হ্যাভ কিলড গড, স্যার!

ডারউইনের জীবনীর উপর ভিত্তি করে তৈরী ২০০৯ এ মুক্তি পাওয়া ব্রিটিশ চলচ্চিত্র ক্রিয়েশন। যারা রিভিউ পড়তে চাননা কিন্তু সিনেমাটি দেখার আগ্রহ আছে- তারা সরাসরি নীচে চলে যেতে পারেন, ডাউনলোড লিংকের জন্য।

দৈনিক পত্রিকায় একটি বইয়ের রিভিউ লিখে দেওয়ার জন্য একজন কয়েকদিন আগে আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। আমি জীবনে কখনও কোনো কিছুর আদর্শ রিভিউ লিখিনাই, সুতরাং বেশ বাটে পড়লাম তার প্রস্তাবে রাজী হয়ে।

বিস্তারিত»

একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব – ২

আজ আর সকালে যাওয়া হল না। ১ টার আগে তো যেতেই হতো, জাক দেমি-র সিনেমা দেখার জন্য। যে সময়ে রওনা দিয়েছিলাম তাতে জাম আরেকটু জেঁকে বসলেই মুভির অর্ধেকটা মিস হয়ে যেতো। তেমন কিছু হয় নি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম শাহবাগ, মুভির প্রথম ৩ মিনিট মিস করলাম। আজ অবশ্য একা ছিলাম না, গিয়ে দেখি আন্দালিব ভাই ও লিংকন অলরেডি এসে পড়েছে, আমি আর তাওসিফ মিলে হল ৪ জন।

বিস্তারিত»

একাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব – ১

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি সম্ভবত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। অবশ্য এখন ভাগ হয়েছে বলাটা ঠিক হবে না। স্বাধীন দেশে ১৯৮০-র দশকের শুরুতেই এটা হয়েছে। এক সময় দেশের সবাই প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখতো। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত কেউ বাদ ছিল না। কিন্তু, অন্য অনেক দেশের মতো এদেশেও যখন মধ্যবিত্ত সমাজের প্রভাব বাড়তে শুরু করে তখন এটার সাথে তাল মিলিয়ে একটি চলচ্চিত্র সংস্কৃতি বেড়ে উঠতে পারে নি।

বিস্তারিত»

মুভি ব্লগ: শূন্য দশকের সেরা ১০ ছবি

শূন্য দশকের সেরা ছবি কোন দশটা? এক কথায় উত্তর দেওয়া মুশকিল। একজনের সাথে আরেকজনের পছন্দ মিলবে না। ওয়েব সাইট ঘাটলে একশর বেশি তালিকা পাওয়া যাবে, একটির সাথে আরেকটি সম্পূর্ণ মিল নেই। সমালোচকদের এক রকম পছন্দ, দর্শকদের আরেকরকম। আর গত ১০ বছরে যত ছবি বের হয়েছে তা দেখাও একজনের পে সম্ভব না। তারপরেও গ্রহণযোগ্য কিছু তালিকা ধরে শূন্য দশকের সেরা ছবির একটি তালিকা এখানে করা যেতে পারে।

বিস্তারিত»

ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডসঃ ওয়ান্‌স আপ’ন এ টাইম, ইন নাৎজি অকুপাইড ফ্রান্স

[ব্লগ লেখা এক মারাত্মক নেশা। ঘাড় থেকে নামিয়ে রেখেছি আশ্বাসে নিশ্চিন্ত হয়ে বসলেই টের পাই কোন ফাঁকে সে আবারও ঘাড়ে চড়ে বসেছে এবং দুই হাঁটু দিয়ে কানের ওপরে চাপ দিচ্ছে! একটা ব্লগ না লেখাতক এই অদৃশ্য ব্যথাটি সরছে না!]

Inglourious Basterds নামটার মধ্যে প্রথমেই যেটা খেয়াল করলাম সেটা হলো নামের বানান ভুল। ভাবলাম টাইপো, তারপরে ভাবলাম টারান্টিনো কি ভুল শিখেছেন নাকি (যদিও চিন্তাটা শিশুতোষ ভীষণ),

বিস্তারিত»

সানশাইনঃ সূর্যস্নানের মানবিক ছবি

[পুরোপুরি স্পয়লারমুক্ত মুভি-রিভিউ 😀 ]

ধরা যাক, আমরা একটি সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র বানাতে যাচ্ছি। ছবিটির কাহিনী অনেকটা সময় পরের পৃথিবীর পটভূমিতে। এমন একটা সময়ে যখন সূর্যের আয়ুষ্কাল শেষের পথে। তারকা হিসেবে সূর্যের দীপ্তি কমে আসছে, ধীরে ধীরে সে নিভে যাচ্ছে। সূর্য নিভে গেলে প্রাণের উদ্ভব হওয়া গ্রহটিতে সকল প্রাণ বিলুপ্ত হবে। মানুষ হিসেবে তখন সবচেয়ে জরুরি কাজই হবে সূর্যকে টিকিয়ে রাখা। মানব সভ্যতার এরকম একটা ক্রান্তি সময়ে একদল নভোচারীকে পাঠানো হলো সূর্যরক্ষা মিশনে।

বিস্তারিত»

মুভি ব্লগ: ২০ বছর আগের দেখা পাঁচ ক্লাসিক

সময়টা ছিল ভিসিআর বা ভিসিপির যুগ। এক হাজার টাকা দিয়ে রোজ ভ্যালির সদস্য হয়েছিলাম। একটা ছবির ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। ইব্রাহিমপুর থেকে সাইকেল চালিয়ে যেতাম ছবি আনতে। তখনও আনার্স পরীা দেইনি। নেশা ছিল ছবি দেখার। কোনটা ভাল ছবি আর কোনটা ভাল নয়, জানার উপায় ছিল কম। পত্রিকা ঘেটে ঘেটে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করতাম ভাল ছবির কিছু নাম। আমি আজ থেকে ২০ বছর আগের কথা বলছি।

বিস্তারিত»

একনিষ্ঠ শিশ্ন-চর্চায় রত ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ

সিনেমা বিষয়ে স্ট্যানলি কুবরিক এর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। হাই স্কুল শিক্ষা যখন শেষ করেন তখন আমেরিকায় মন্দা চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সেই দেশে নিয়ম করা হয়েছিল, ৬৭% এর উপর নম্বর না থাকলে কেউ কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। তাই হাই স্কুলের পর আর কুবরিকের পড়াশোনা করা হয় নি। পরবর্তীতে মন্তব্য করেছিলেন যে, স্কুল তাকে কিছুই শেখাতে পারে নি, এমনকি স্কুলের কোনকিছুতে তিনি কোনদিন উৎসাহও পান নি।

বিস্তারিত»

শ্যুটিং

[সে অনেক অনেক আগের কথা…আরবের কোরাইশরা তখন খেজুর খেতো….সম্ভবত সেই আমলে শেষ ব্লগটা লিখেছিলাম…তাই লিখতে গিয়ে কোথা থেকে যেন একরাশ অস্বস্তি এসে ভর করছে….যাই হোক….]

ছেলেটা আমার ধরানো সিগারেটের দিকে ‍অনেক্ষণ হা করে তাকিয়ে তারপর বলল- তুমিও বাংলা ফাইভ? বাহ পার্টনার পাওয়া গেলো একজন। ঢাকা বিশাববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদে আমি তখন খুব পাটে থাকি। সিনয়রদের সামনে সিগ্রেট খাই। সংসদের পক্ষে ফার্স্ট ইযারদের রুমে আসার দাওয়াত দেই।

বিস্তারিত»

মুভি ব্লগ: হিচকক, অন্তহীন, কখনো আসেনি আর……

নানা ধরণের ছবি দেখা হয়। কিছু ছবি ভাল জেনে দেখি, কিছু এমনিতেই দেখা হয়। অসংখ্য ছবি জমা হয়ে আছে, সময়ের অভাবে দেখা হচ্ছে না। অসংখ্য ছবি এখনো কেনার আছে, কেনা হয় না। আজকাল হলিউডের বাইরের ছবির দিকে ঝোঁক বাড়ছে। সব সময় পাওয়া যায় না, কোনটা ভাল তাও সব সময় জানা থাকে না। জানতে পারলে ভাল হতো। সেদিক থেকে ব্লগ একটা ভাল মাধ্যম।
সময় হাতে থাকে কম,

বিস্তারিত»

ঈশ্বরের লীলাখেলা বোঝা বড় দায়

ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ” (Dr. Strangelove or: How I Learned to Stop Worrying and Love the Bomb) আমার জীবনে দেখা সেরা কমেডি সিনেমা। মাঝে মাঝে মনে হয়, এটাই বোধহয় জীবনে দেখা সেরা সিনেমা। কোন সিনেমা দেখে এতোটা মুগ্ধ হইনি, কোন সিনেমাই এতো বার দেখিনি। অবসর পেলেই স্ট্রেঞ্জলাভ দেখতে বসে যাই। বেশ কিছুদিন আগে ইউটিউবে স্ট্রেঞ্জলাভ নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে একটা ট্রেলার পেয়েছিলাম। ট্রেলারটাও খুব মজার।

বিস্তারিত»

আমাদেউস (১৯৮৪)

যেভাবে একটি অপেরা শুরু হয়। পর্দা উঠুক আর না উঠুক, শুরু হয় ওভার্চার। মিলশ ফরমান এর “আমাদেউস” (১৯৮৪) এর শুরুটা ঠিক তেমনই। পর্দা ওঠার আগেই শুরু হয় ওভার্চার ধর্মী গাঢ় সুর। সুরের তালেই পর্দা ওঠে, আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উনবিংশ শতকের ভিয়েনা-র একটি শীতল রাত, যেমন রাতে ঘোড়ারা নিঃশ্বাস ফেললে ধোঁয়াশার খেলা শুরু হয়। এই শীর্ণ রাতের নীরবতা ভেঙে কোত্থেকে চিৎকার ছুটে আসে-
মোৎজার্ট…

বিস্তারিত»

সিনেমার সুকান্ত: জঁ ভিগো

সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যপ্রতিভার রহস্য এখনও কেউ ভেদ করতে পারে নি। সুকান্ত একই সাথে আমাদের মাঝে বিস্ময় ও বিষাদ এর অনুভূতি জাগিয়ে গেছেন। তার অসাধারণ কাব্য সুষমা জাগিয়েছে বিস্ময়, আর তার অকালমৃত্যু আমাদেরকে চিরদিনের জন্য করে গেছে দুঃখী। অনেক সমালোচকের মতে রাজনৈতিক চেতনা নিয়ে বেশি ভাবতে গিয়েই কবি ও কাব্য সমালোচকরা সুকান্তর প্রকৃত প্রতিভার প্রতিটি পাঁপড়ি মেলে দেখতে পারেন নি। সুকান্ত মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা গেছেন।

বিস্তারিত»