শ্যুটিং

[সে অনেক অনেক আগের কথা…আরবের কোরাইশরা তখন খেজুর খেতো….সম্ভবত সেই আমলে শেষ ব্লগটা লিখেছিলাম…তাই লিখতে গিয়ে কোথা থেকে যেন একরাশ অস্বস্তি এসে ভর করছে….যাই হোক….]

ছেলেটা আমার ধরানো সিগারেটের দিকে ‍অনেক্ষণ হা করে তাকিয়ে তারপর বলল- তুমিও বাংলা ফাইভ? বাহ পার্টনার পাওয়া গেলো একজন। ঢাকা বিশাববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদে আমি তখন খুব পাটে থাকি। সিনয়রদের সামনে সিগ্রেট খাই। সংসদের পক্ষে ফার্স্ট ইযারদের রুমে আসার দাওয়াত দেই। তাই ফার্স্টইয়ারের পোলাপান পোছার টাইম আছে? খুব এক্টা পাত্তা না দিয়ে টেনে যেতে থাকলাম বাংলা ফাইভ। কিন্তু ছেলেটা নাছোড়বান্দা। বলল- আর আছে নাকি? আমি মনে মনে বেশ খানিকটা বিরক্ত হলাম। তবু উদারতার চরম উদাহরণ স্থাপনের জন্যই প্যাকেট থেকে দিলাম এক্টা। আমি সিগারেট দেব সে খাবে এটা যদি পার্টনারশিপ হয় তাহলে এ পার্টনারশীপ আমি মানি না। সে সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলল, আসলে সিগারেট জিনিসটা খুব খারাপ। সবারই উচিৎ এ টাকে পুড়িয়ে ধ্বংস করা জাতীয় রসিকতা করে যেতে লাগল। আস্ত আস্তে আবিষ্কার করলাম নাহ সে গল্প ভালোই বলে। সে তার গল্প চালিয়ে যেতে লাগলো।খানিকক্ষণ পর ভাবলাম তার চিন্তা ভাবনা তো আমার কাছাকাছি! তারো খানিক পরে দেখলাম্‌আমি সেধে সেধে তাকে সিগারেট দিচ্ছি। ছেলেটা ফার্স্ট ইয়ার হলেও ম্যান্দা মারা ফার্স্টইয়ার নয়। সেদিনই এই ছেলেটার সাথে কঠিন প্রতিজ্ঞা করলাম আমরা আর সিগেরট খাবো না। এমনকি বাংলা ফাইভ হলেও না। আর যে টাকা বাঁচবে সেই টাকায় সিগারেটের বিরুদ্ধ কঠোর আন্দালন গড়ে তুলব, লিফলেট করব, পোস্টার করব। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেব ইত্যাদি ইত্যাদি (সিগারেট না খাওয়া টাকায় টিভি বিজ্ঞাপন তৈরি করা সম্ভব কি না সেদিনের আলোচনার বিষয় সেটা ছিলো না)। এত কথার পরও সেদিন তার নামটা না জেনেই বিদায় দিলাম তাকে।
পরদিন রোকেয়া হলের সামনে আবার দেখা দুজনের। চোখা চোখি হতেই দুজন যার যার ডান হাতটা পিছনে সরিয়ে নিলাম। কিন্তু তাতে কি? ধোয়া তার আপন গতিতে উড়ে সিগারেটের অস্তিত্ত্ব জানান দিতে ভুল করল না একদম। দুজনই হেসে উঠলাম। তারপর সে বলল- ও কালকে তোমার নামটা জানা হয়নি, সরি। আমি বললাম- টিটো। আর তুমি?
সে বলল-

থাক ওর গল্পে পরে আসি। অন্য গল্প বলি। শ্যুটিং এর গল্প।

পরিচিত বেশ কয়েকজন ফিল্ম বানাচ্ছেন। ডিজিটাল ফিল্ম। তাদের দেখাদেখি আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম একটা শর্ট ফিল্মের। প্রিপারেশন নিতে গিয়ে দেখি বাজেট ৭০ ক্রস করছে। ৮ মিনিটের একটা ফিল্ম বানাবো এতো টাকা দিয়ে? এবং এই টাকা ফেরত আসার সুযোগও নেই। কাজেই পরিবারের পরামর্শে টাকা যাতে ফেরত আসে তার ব্যবস্থা করতেই নাটকের চিন্তা। স্ক্রিপ্টটা অবশ্য অনেক আগেই লেখা ছিল। তাই নতুন কিছু না লিখে ওটা দিয়েই শুরু করলাম। শ্যুটিং করতে গিয়ে দেখি কি ভুলটাই না করেছি….প্রথম কাজ। তার ৯০ ভাগই আউটডোর। মাই গড। ক্রাউড সামলাবো না শ্যুটিং করব?

গল্পটা ভাসর্টি লাইফ কেন্দ্রিক। আহামরি কিছু নয়। আর নাটক মানে তো টিস্যু পেপার। ব্যবহারের পর নিশ্চত ডাস্টবীনে। তবু ফিল্মের আদলে করতে চেয়েছিলাম। তাই গল্পের গরুকে গাছে উঠিযে ইনডোরে শট নিতে চাইনি। টিএসসির দৃশ্য টিএসসিতে, হলের দৃশ্য হলে রাখার চেষ্টা করেছি। তবু মন মতো কাজগুলো কি হলো?? তিনদিনের শ্যুটিং এ মাঝখানের দিনটাই ম্যাচিউরড কাজ করতে পেরেছি। বাকী দুদিন যাচ্ছে তাই।

প্রায় ২ বছর হলো ফিল্মের সাথে যোগাযোগ হীন। কাজেই সবকিছু ম্যানেজ করতে বেগ পেতে হয়েছে বেশ। বিশেষত ঈদের আগে আর্টিস্ট শিডিউল। তবু যে শ্যুটিং শেষ করতে পারেছি এই অনেক।

করব কি করব না গড়িমসি করছিলাম। এর মধ্যে একদিন প্রথমআলো অফিসে আরজে সায়েমের সাথে দেখা। আমিও নায়ক খুজছিলাম, কম বয়সী কাউকে। আমাদের নায়করা তো আবার অনেক বয়সে নায়ক হন। তাই যাকে দুই বাচ্চার বাপ চরিত্রে ভালো মানাতো তাকে ধরে এনে ভার্সিটির ফার্স্টইয়ার বানানোর হাস্যকর চেষ্টা চলে। আবার অপরিচিত কাউকে নিতে পারছিলাম না, কারণ নাটক বেচতে তো হবে। নায়িকাদের কয়েকজনকে স্ক্রিপ্ট দিলাম। বাঁধনের পছন্দ হলো খুব। স্ক্রিপ্ট পড়াতে গিযে একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হলো। সেই নায়িকাদের মা দের ফানি কার্যকলাপ। এর মধ্যে মিমের মা বেশ। বলল- আপনার কাস্ট কে কে। আমি বললাম, আরজে সায়েম বাধন আর আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা। সে বেশ আশ্চর্য হয়ে বলল-সে আবার কে? চিনি নাতো। নাকি নায়ক শিমুলরে আবৃত্তিকার সাজাইবেন ??

নাটকের কযেকটা ছবি দেই

নায়িকা পাশে থাকলে এমন হাসিই বের হয়

নায়িকা পাশে থাকলে এমন হাসিই বের হয়

দুই কন্ঠশিল্পী

দুই কন্ঠশিল্পী

11152_177346954276_556309276_2588495_5435330_n11152_177350989276_556309276_2588518_1754790_n11152_177356304276_556309276_2588606_2964668_n11152_177365604276_556309276_2588772_1471629_n11152_177369524276_556309276_2588818_7359946_n11152_177369579276_556309276_2588822_1249496_n

এখন এডিটিং চলছে। সবাই দোয়া করবেন।

আর হ্যা ..সেই ছেলেটির নাম পাভেল। সে র‌্যাগিং এর জন্য তখন ফার্স্ট ইয়ার সেজে থাকলেও আমাদের দুই ব্যাচ সিনিয়র। একটু বড় হলেও আমাদের খুব কাছেরই। সুযোগ পেয়ে নাটকের জন্য ওর লেখা ও সুরে, ওরই কন্ঠে একটা গান রেকর্ড করলাম। কেমন হলো জানাবেন। গানটির মিউজিক করেছেন জেসিসির অমিত দা।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ এখানে।

৪,০২০ বার দেখা হয়েছে

৭০ টি মন্তব্য : “শ্যুটিং”

  1. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    মাস্ফ্যু এখনও লগ-ইন নাই। তাই "আমিও নাটক করপো" টাইপের চিল্লাচিল্লি শোনা যাচ্ছে না। আর এমন কথা তো আমি বলতে পারি না!! B-) B-) B-)

    শুনলাম এই লাইনে নাকি কামাই-রোজগার ভালোই........... ~x( ~x( ~x(


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  2. বন্য (৯৯-০৫)

    প্রথমে তারেক ভাইর ফেসবুক লিংকে দেখসিলাম পরিচালক টিটো ভাইর কথা....আর আজকে স্বয়ং পরিচালকের অভিজ্ঞতা শুনা গেল। :clap:
    খুব খুব খুব বেশি খুশি হইসি টিটো ভাই....অনেক সুন্দর একটা নাটক দেখার আশায় থাকলাম তাহলে। 🙂 🙂

    আর হ্যাঁ, অভিনন্দন :hatsoff: :hatsoff:

    বেশি করে নিডো খান...আর এগিয়ে যান..দুর্দান্ত কিছু কাজ চাই কিন্তু আপনার কাছ থেকে :salute: :salute:

    জবাব দিন
  3. যাক অবশেষে গল্পকার থেকে চলচ্চিত্রকার টিটো ভাইয়ের দেখা পাওয়া গেল। শ্যুটিং এর কাহিনী আরেকটু ডিটেইলস জানতে মন চায়।
    লেখা আর ছবি দুইটাই পাংখা হইছে।

    জবাব দিন
  4. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    টিটোর সংগে ঘন্টা দুয়েক এডিটিং প্যানেলে কাটিয়ে এসে লিখছি।

    গল্পটা আমার বেশ পছন্দ ছিল। প্রতিকূল অবস্থায় শ্যুটিং না করতে হলে নিশ্চয়ই এখন যেমন দেখলাম তারচেয়ে অনেক ভালো হতো। বাজেট কাটছাট করতে গেলে অনেক সময় কাজের সংগে আপোষ করতে হয়। যেভাবে সবকিছু ভাবা থাকে , কাজ করতে গেলে সবকিছু সেভাবে হয় না।

    প্রথম কাজে নানান ভুল ত্রুটি থাকে, সেগুলি নিয়ে ভয় পাবার কিচ্ছু নেই। কয়েকদিন পর ঠিক হয়ে যাবে।

    আপাতত 'শব্দ গ্রহন' সমস্যাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে রাফ-কাটটা শেষ কর। এটা নিয়ে আমি একজন ভালো সম্পাদকের সাথে কথা বলে দেখবো। আশা করি সমাধান হয়ে যাবে। বিকল্প হিসেবে ডাবিং অপশন তো আছেই।

    শুক্রবার ফ্রি হতে পারলে ফোন করে চলে আসবো। আর না পারলে এরপরে যে কোনদিন, সন্ধ্যায়।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  5. তারেক (৯৪ - ০০)

    অভিনন্দন টিটো। 🙂
    আমি দেশে নাই এই চান্সে কেমন ফাঁকা মাঠে গোল দিয়া দিতেছিস তোরা... 😛

    নাঈকারে বিশেষ পছন্দ হইছে। কিন্তু সানি আর মাসুমরেও দেখলাম মেকাপম্যান কি জানি করতেছে, ওরাও কি অভিনয় করছে নাকি? আর মাহবুব? কস কী!

    পাভেলদার গলা শুনলাম বহু বছর পরে। গানটা একটু পুতুপুতু হয়ে গেছে, কথার কারণে নাকি সুরের বুঝতেছি না। তবে নিশ্চয়ই নাটকের জন্যেই এমন করছিস, তাই না?

    পরিচালক হিসাবে তোর প্রথম কাজ দেখার জন্যে মুখাইয়া আছি। আবারও অভিনন্দন!


    www.tareqnurulhasan.com
    www.boidweep.com

    জবাব দিন
    • টিটো রহমান (৯৪-০০)
      আমি দেশে নাই এই চান্সে কেমন ফাঁকা মাঠে গোল দিয়া দিতেছিস তোরা…

      ফাঁকা মাঠ ঠিকাছে কিন্তু গোল দিতে পারুম কি না জানি না

      একমাত্র নায়িকাই ভালো করছে

      হ্যা ওরাও অভিনয় করছে 😛
      গানটা মিউজিক সহ যতোটা খারাপ লাগছে মিউজিক ছাড়া অতোটা লাগছে না..........নাটকে সেই অংশটাই দেব।

      থ্যংক্স দোস্ত


      আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

      জবাব দিন
  6. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    খুব ভালো লাগলো। সবকিছুতেই, আর নায়িকার ছবি তো বোনাস। 😀

    নাটকের নাম দাওনি নাকি? খুজে পেলাম না কোথাও। আর প্রচার সময়টা জানিয়ে দিও, প্লিজ। কামরুল বদের রাস্তায় যেও না।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।