এলোমেলো-১: আমার জানালা

আমার জানালাটা খুলে দিলেই আকাশটাকে স্পষ্ট দেখা যায়। সেই জানালাতে রাতের তারাগুলো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে থাকে খুব কাছে। M কিংবা W আকৃতির ক্যাসিওপিয়াটাকে দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। তার একদম মাঝের তারা বরাবর তাকিয়ে আমি খুঁজতে থাকি ধ্রুবতারাটাকে। প্রশ্নবোধক চিহ্নের মত সাতটি তারার সপ্তর্ষিমন্ডলটাকেও চিনে ফেলি অনায়াসে। কিংবা মাঝে তিনটা উজ্জ্বল তারার বেল্ট পরা শিকারী কালপুরুষকে আমি লক্ষ্য করতে থাকি একদৃষ্টিতে। কালপুরুষের ছুড়ে দেয়া তীরটা ছুটে যেতে থাকে অনন্তের দিকে। সেই তীরটাকে হঠাৎ করেই আমি হারিয়ে ফেলি। তার জায়গায় ভেসে আসে একটা এসএমএস দিয়েই এক মুহূর্তে ভালবাসার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলা মানুষটার হাত। সেই হাত আমাকে আহবান করে কিনা জানি না, আমি ছুটে চলি আমার ফেলে আসা কৈশোরের দিকে। সেখানে আমি কিছু কিশোরকে দেখি অবিকল আমার মত একটা জীবন পার করতে। তাদের একজনের সাথে লাইটস-অফের পর আমার অন্ত্যাক্ষরী খেলা চলতে থাকে। রাত ১-২টার দিকে আমরা খেলা ড্র ঘোষনা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন সকালে আবার পিটি কিংবা ড্রিল। হঠাৎ করেই দেখতে পাই কলেজের ছুটিতে একত্রিত হওয়া কিছু কিশোরকে। আমরা নেশাগ্রস্থের মত ক্রিকেট খেলে যাই। এই একটা খেলা নিয়ে আমাদের কত হাসি-ঠাট্টা, মান-অভিমান, কত গল্প। ক্লান্ত আমরা সন্ধ্যায় আবার জড়ো হই টাউন হলের মাঠে, বলে যাই কত কথা। বছর গড়িয়ে যায়। টাউন হলের মাঠটা কখনও পুরানো হয় না, পুরানো হয়না আমাদের কথাগুলোও। আমাদের বয়স বেড়ে যায়, কিন্তু আমরা একই রকম ভাবে হেসে উঠি কিংবা মন খারাপ করে ফেলি। জলযোগে গিয়ে ডুবে যাই মিষ্টির রসে। ধর্মসাগর পাড়ে চাঁদের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে থাকা বন্ধুদের মুখগুলোর মাঝে আমি আমাকেই খুঁজে বেড়াই।

মাঝে মধ্যেই খুব মন খারাপ হয়ে গেলে খুলে দেই আমার মনের জানালাটাকে।

[ভূগোলের শহীদ স্যারের প্রতি রইল অশেষ শ্রদ্ধা। উনার চিনিয়ে দেয়া তারাগুলোকে আজও চিনতে ভুল করি না।]

৩,৯৩১ বার দেখা হয়েছে

৫৩ টি মন্তব্য : “এলোমেলো-১: আমার জানালা”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    বাই দ্য ওয়ে .........

    তার জায়গায় ভেসে আসে একটা এসএমএস দিয়েই এক মুহূর্তে ভালবাসার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলা মানুষটার হাত

    আশা করছি ভবিষ্যত পর্ব গুলোতে ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে ..।......

    জবাব দিন
  2. মেহবুবা (৯৯-০৫)

    ভাইয়া এত্ত সুন্দর করে লিখেছেন যে পড়তেই ইচছা করছিল।
    অতীত আসলেই বিশাল একটা বেপার। কিছু কাদায় কিছু হাসায়।কিছু দীঘশাস রেখে চলে যায়।
    খুব ভাল লাগলো পড়ে।

    জবাব দিন
  3. তানভীর ভাই,

    জানালাটা আরেকটু খুলে রাখতে পারতেন... আমরা কিছু সুন্দর আর অলংকরণময় স্মৃতিচারণ উপহার পেতাম...

    আপনার প্রতি আমার অনুরোধ---

    সব ক'টা জানালা খুলে দাও না

    😀 😀

    জবাব দিন
  4. রকিব (০১-০৭)

    ভাইয়া, আপনাকেও আমার রোগে পেয়েছে। কাকতালীয়ভাবে আমিও খানিকটা স্মৃতি-বিজাড়িত হয়ে পড়েছি আজকে। ভালো লাগলো।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  5. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    পোলাটায় আবার ছ্যাকা ট্যাকা খাইয়া বসল কিনা বুঝবার পারতাছিনা। 😕

    কি দিনকাল পড়ল, ডিজুস মাইয়া গুলা ভালো পোলাগুলারে বেইল দেয় না, সব ছুটে গ্ল্যামারের পিছে 🙁


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  6. তারেক (৯৪ - ০০)

    তানস,
    অনেক অনেক দিন হয়ে গেছে, সেই কবে কি এক দৌড় শুরু করসি, এখন থামার নাম গন্ধ নাই। অনেকগুলা স্টেশান পার হয়ে যায়, উঁকি মেরে দেখি, কিন্তু দৌড় থামাতে পারি না। আশ্চর্য কি জানিস, দুই দন্ড বসে যে পুরনো দিনগুলার কথা মনে করবো, মনে হয়, স্রষ্টা সেই সময়টাও আমাকে দিতে নারাজ।
    তোর এই পোস্টটা পড়ে অনেক অনেকদিন পর চোখ ভিজে আসলো। সেই অন্তাক্ষরী, লাইটস আউটের পর, অথবা জলযোগে আমাদের স্পন্জ-সাধনা! খুব মিস করিরে দোস্ত। বুড়া হয়ে যাচ্ছি, কবে আবার তোদেরকে কাছে পাবো তাও জানি না....।


    www.tareqnurulhasan.com
    www.boidweep.com

    জবাব দিন
  7. তাইফুর (৯২-৯৮)

    তান্স, আরেকটা সিরিজ শুরু করলি তাইলে,
    ভাল হইছে ... এই সিরিজে আরও কিছু বিয়াপওক লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    (ভূ-গোল নিয়া কচকচি ... আরো কত কত গোল জিনিস আছে ... 😉 ছুড ভাইরে হিন্টস দিলাম)


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  8. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    জানালা যেন কোন দিন খুলতে না হয় ভাইয়া। মন খারাপ হওয়ার কি দরকার। আমরা কিছু সুন্দর লেখা মিস করব এই তো আর কিছু না।
    লেখাটা অসাধারণ। কেন যেন মন খারাপ করে লেখা গুলাই ভাল লাগে বেশি ।

    জবাব দিন
  9. আহমেদ (১৯৯৪-২০০০)

    মন টা খারাপ করে দিলি রে তান্স। আমার বা কেমস এর বাসায় ক্রিকেট, টাউন হলের আড্ডা, আড্ডা শেষে জলযোগ, ঈদ এর দিন এক সাথে বরিং টাইম কাটানো (মুখ আমসি করে তারেক এর মোবাইল গুতাগুতি 😛 ) এই দিনগুলা আর কখনো ফিরে আসবে না ভাবতেই মনটা অসম্ভব খারাপ হয়ে যায় 🙁 🙁 🙁

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।