বৃষ্টির জন্য

১.
আষাঢ় শ্রাবণে আকাশ অভিমানী হয়। ঘন ঘন তার বুকে পুঞ্জিভূত হয় ক্ষোভ। কখনও কখনও তা সুপেয় তরলে দুঃখ হয়ে ঝরে পড়ে। আকাশের সেই ক্ষোভের নাম মেঘ। সেই দুঃখের নাম বৃষ্টি।
এ গল্পটা বৃষ্টি নিয়ে। তবে এটা কোন আষাঢ়ে গল্প নয় এমন কি আষাঢ়েরও গল্প নয়। শ্রাবণের কোন এক দিনের গল্প। জিহাদ ঘরের বাহির হবে বলে তৈরী হল।

কিন্তু গত তিন দিন ধরে একটানা বর্ষণ হচ্ছে। ফোটা ফোটা, টিপ টিপ, রিমঝিম, টাপুর টুপুর কিংবা মুষলধারে। প্রতিটা বৃষ্টিরই উপস্থিতি সম্যক। ঢাকার চমৎকার ড্রেনেজ সিস্টেম পানি জমিয়ে রেখেছে। প্রতিটা রাস্তায় পিচ আর জলের লুকোচুরি। সাধরণের যাতায়াতে ভোগান্তির একশেষ। শহরের নিচু পরিধিতে ইতিমধ্যেই রিকশার পরিবর্তে নৌকা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আকাশে ভারী মেঘের আস্তরণ। ক্রমে ধাবমান সেসব মেঘ পরস্পর ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলছে। সশব্দ বিদ্যুতের ঠমক নগরবাসীকে ঘন ঘন চমক দিচ্ছে। দিন আর রাত্রির পার্থক্য সামান্যই। সময় বুঝি থেমেই গিয়েছে। শহর জুড়ে কেমন একটা ছুটির আমেজ। স্বাভাবিক নগর জীবন সম্পূর্ণই ব্যহত।
গৃহ আসবাব আর্দ্র হয়ে আছে। খাওয়া দাওয়ার ঝামেলা ছাড়া সবাই লেপের নিচে ডুব দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলেছে আরও দু’দিন এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সাধারণ নাগরিক সে কথায় ভরসা রাখতে পারছে না। অন্তত আরো সাত দিনে এ অবস্থা পরিবর্তনের তারা কোন আশা দেখছে না।

তবে ব্যস্ততার কারণে যারা পরিবারকে সময় দিতে পারেন না তাদের জন্য এইসব দিনগুলি আশির্বাদ স্বরূপ। জিহাদের বাবা মুমিন সাহেব অবশ্য সে দলের নন। এমন কি পরিবারের জন্য যে সময় দেয়া প্রয়োজন এটাও তিনি বিশ্বাস করেন না। সকাল থেকেই তিনি উসখুস করছেন এক খেপ বাইরে যাবার জন্য। ঘরের ভিতর বাক্সবন্দী জীবনে তার পোষায় না।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত ধার্মিক লোক। বিসিএস ক্যাডারে প্রথম শ্রেনীর সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। গত বছর রিটায়ারের পর তিনি পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পরেন তাবলীগের মাধ্যমে দ্বীনি দাওয়াত দেয়ার কাজে। যুব সমাজের প্রতি তার বিশেষ নজর। কোন দাওয়াত কালে বিনয়ী এই মুমিন সাহেবকে দেখে কেউ ধারণাই করতে পারবে না পরিবারে তিনি কতটা মেজাজী। শুধু পরিবারে কেন চাকরী জীবনেও তিনি সহকর্মীদের কাছে রাগন আলী হিসেবেই খ্যাত ছিলেন।

তবে সততায় তিনি প্রবাদসম। পরিবারে কিংবা কর্মক্ষেত্রে হম্বিতম্বি করার সেটাও একটা কারণ। তিনি জানেন তিনি সৎ এবং বাকীরা সাধু নয়।
তার মন্ত্রনালয়েরই দ্বিতীয় শ্রেনীর কর্মকর্তা অনেকেই বাড়ি গাড়ি করে ফেললেও তার সম্বল একখানি মাত্র ফ্লাট। তাও ব্যাংকের লোন নিয়ে। এরকম একজন লোকের ঘরে টেলিফোন না থাকাটাই স্বাভাবিক। পত্রিকা রাখেন তাই তো অনেক বেশি। তাও বৃষ্টির কারণে পত্রিকার ছেলেটা আসছে না দু’দিন।
চেয়ারে বসে থেকেই তিনি হাক ছাড়লেন
– কারো কোন খবর আছে? বারান্দায় যে প্যান্টটা ভিজছে।
জিহাদের মা আয়েশা খাতুন সকালের বাসি প্লেট ধুচ্ছিলেন। দুপুরের তরকারি কুটতে হবে।এই বয়সে বসে বসে তরকারী কুটতে কষ্ট হয়। মেয়েটাকে ডাকবেন কিনা ভাবছিলেন। আর তখনি মুমিন সাহেবের হাক
– জিহাদ দিয়েছে
মুমিন সাহেবও সেটাই ভেবেছিলেন। এমন গাধার মত কাজ তার পুত্রধনের দ্বারাই সম্ভব। এই ছেলেটা সায়েন্সে পড়লে কি হবে দিনকে দিন একটা গাধা হয়ে উঠছে। এত এত সাবজেক্ট থাকতে বোটানি নিযেছে। আচ্ছা বোটানি পড়ে হবে টা কি? গাধা বলাও এমন ছেলেকে ভুল হচ্ছে বরং উদ্ভিদ বলাটাই শ্রেয়। তাদের আমলে এই সাবজেক্টটা সবে শুরু হযেছে। তখন এ ডিপার্টমেন্টের কোন ছেলেকে মেয়েদের পাশে দেখলেই তারা সেটাকে ‘ছেরি কালচার’ বলতেন। সেরি কালচার নার্সারির একটা জনপ্রিয় টার্ম। তার পুত্রধনও এ কালচারই করছে। ক’দিন আগে হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই অমনি এক মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলে বসল। এখনও মাস্টার্স শেষ করতে পারেনি এমন ছেলে বিয়ের কথা মুখে আনে কি করে? লাজ লজ্জাও নেই। আশ্চর্য! এসব ভাবতে না ভাবতেই জিহাদ লিভিং রুমে প্রবেশ করে। বাবার সামনে এসে গত রাতের অমিমাংসিত বিষয়ে কথা শুরু করে
– বাবা টাকাটা দাও
– টাকা দাও মানে? কালকে রাতেই তো ও চ্যাপ্টার ক্লোজ হল।
– আমার লাগবে। খুব জরুরি কাজ
– তোর জরুরী কাজ থাকলে ভ্যারেন্ডা ভাজবে কে?
– সত্যি আমার কাজ আছে । বাইরে যাব
– এই বৃষ্টির মধ্যে জন্তু জানোয়ারও তো ঘরের বাইরে যায় না
– আমি জন্তু জানোয়ার না।আমাকে যেতে হবে
– তুই তো তারও অধম। বল এই ঝড়র্বৃষ্টির মধ্যে বাইরে কি?
– আছে। তোমাকে বলা গেলে তো বলতামই
– আমাকে বলা যায় না এমন কি কাজ? নেশার টান উঠছে?? নাকি ওই লাফাঙ্গা মেয়ের কাছে যাবি
– দেখ উল্টাপাল্টা কথা বলবা না।
– বললে কি করবি?
– টাকা লাগবে
– হ, গাছ নিয়া তো বসে আছি। তোর মত একটা উদ্ভিদকে মানুষ করার চেষ্টা করছি এই তো অনেক বেশি। ধর্মকর্মে নাম নাই, বন্ধু বান্ধব নিয়া খালি হই হুল্লোর। অসভ্য কোথাকার। আবার মুখে মুখে কথা বলে। চড় মেরে সব কটা দাঁত ফেলে দেয়া দরকার।

এমন বাপ বেটার যুদ্ধে পরিবারের বাকী সদস্যরা সাধারণত চুপ থাকেন। বিশেষত আয়েশা খাতুন তার স্বামীকে খুব ভয় পান। আর পারেও ছেলেটা। দিনক্ষণ নেই বাপের উপর হঠাৎ হঠাৎ জিহাদ ঘোষণা করে। জিহাদ বাবার কাছে সুযোগ না পেয়ে মায়ের কাছে আসে। রাগী মুখে দ্রুত তেলতেলে একটা ভাব আনে। তারপর মাকে বলে
– দেখো তো মা। সামান্য পাঁচ হাজার টাকা চাইছি তার জন্য কালকে থেকে কি রকম ব্যবহারটাই না করছে
মায়ের সাথে জিহাদের সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর। যত আব্দার তাই তার কাছেই। কিন্তু তার কাছে বিশেষ টাকা থাকে না। তিনি স্থানীয় একটি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা। কিন্তু বেতনের দিন ঠিকই মুমিন সাহেব সেখানে হানা দেন। বেতনের তথ্য না জানালে তো আরো বিপদ। আয়েশা খাতুন বললেন
– তোর বাবা তো ঠিকই বলেছে। এই বৃষ্টির মধ্যে কোন জাহান্নামে যাবি? দেখিস নাই ঢাকা শহর পুরা অচল।
– আছে। কাজ আছে। তুমি দাও না। টাকা পয়সা তো ত্যাজপাতা
জানে হবে না তবু অক্ষমের আস্ফালন আর কি। মা বললেন
– ওই যে কোনায় তেজ পাতা আছে । নিয়া যা।
– মা, মজা কইর না । সত্যি আমার খুব তাড়া
আয়েশা খাতুনের মেজাজ খারাপ হল। ভাল নির্লজ্জ হয়েছে তো ছেলেটা। তিনি চড়া সুরেই বললেন
– এই বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বের হলে আমি তোর ঠ্যাং ভেঙে দেব
– তুমিও। উফ জীবনটা …ত্যাজপাতা
জিহাদ কথা শেষ না করেই উঠে পরে। বুঝতে পারছে আজ তার কপালে খারাবি আছে।

শেষ চেষ্টা হিসেবে ছোট বোন রুমুর ঘরে টোকা দিল। রুমু ভিকারুন্নেসায় পড়ে।ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। সে বেশ কৃপন। পিপড়ের মতই সঞ্চয়ী। তার হাতে ক্যাশ থাকে সবসময়। রুমুর সাড়া নেই তবে রুম খোলাই আছে। জিহাদ ঢুকে পড়ে। বাথরুমে পানির আওয়াজ পাওয়া যায়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় সে। এই মেয়ে চাইলেও যে টাকা দিবে না এটা প্রায় একশ ভাগ নিশ্চিত। মৃদু পায়ে সে আলমিরা খুলে ওর পার্স নেয়। লিপস্কিট, ফেস পাউডার, দুটো আচার, কলম, টিস্যু ইত্যাদি মেয়েলি জিনিসপত্রের মাঝে হাতাহাতি করতে একরকম অস্বস্তি বোধ হয়। তবু এক সময় ভিতরের ছোট পকেটে টাকা আবিষ্কার করে। ঠিক তখুনি রুমু বাথরুম থেকে বের হয়ে আসে। ছিটকিনি খোলার শব্দে জিহাদ আগেই ব্যাগ পিছনে চালান করেছে। রুমু বলে
– তুই এই রুমে কি করিস? আচছা তুই আর বাবা শুরু করেছিস কি? তোদের জন্য তো শান্তিতে ঘুমানোও যায় না।
হঠাৎ তার চোখ যায় বিছানায়। সেখানে চকচকে দু’টি পাঁচশ টাকার নোট পড়ে আছে।
– কি করছিস তুই।
জিহাদ অপরাধীর মত উঠে দাড়ায়। আর তখন পার্সটাও দৃশ্যমান হয়।আর যায় কোথায়? চিলের মত ছো মেরে পার্সটা নেয় ও। তারপর ভর্ৎসনা করে
– ছিঃ। আমার ব্যাগে হাত দিতে তোর লজ্জা করল না? তোকে ভাই বলতেও লজ্জা লাগে। তুই তো একটা ফ্রিক। ছিঃ ছিঃ ছিঃ
জিহাদ রাগে দুঃখে হাতের কাছের একটা হফ প্লেট ভেঙে বাইরে বেরোয়।

২.
আরো ঘন্টা খানেক পর সে নিউমার্কেট পৌঁছে। রাগের মাথায় ছাতা নিয়ে বের হয়নি বলে কাক ভেজা হয়ে গেছে। প্যান্ট কাদা-জলে একাকার। আশপাশে অনেক খুঁজে একটা ফোন ফ্যাক্সের দোকান পায়। সেখান থেকেই সে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু রায়হানকে ফোনটা দেয়। রায়হানরা বশ বড়লোক। বাবা ডাক্তার। সেরকম পসার। সম্প্রতি মোবাইলটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দাম কমে তিরিশে এসেছে। তার এ বন্ধুটি লক্ষাধিক টাকা দিয়ে বছর দুয়েক আগেই একটা কিনেছে।
দ্বিতীবারের চেষ্টায় ফোন ধরে রায়হান। কন্ঠে তার ঘুম ভাব স্পষ্ট।
– হ্যা…লো
– আমি জিহাদ। তুই কি এখনও ঘুমাচ্ছিস?
– হুম। যেই আবহাওয়া..
– ঠিক আছে । এখন ওঠ। চলে আয়
– কোথায়?
– ক্যান নিউমার্কেট
– কেন বলতো??
– কেন ভুলে গেছিস আজকের প্রোগ্রাম?
– ও না মনে পড়ছে। আচ্ছা আজকে বাদ দেওন যায় না?
– এইটা কি বলিস? শোন পকেটে একটু টাকা পয়সা নিয়ে আসিস
– শোন দোস্ত এই বৃষ্টি বাদলার মধ্যে বরং বাদই দে।
– কি মেয়েদের মত কথা বলিস? আর তোর সমস্যা কি? গাড়ি নিয়ে আসবি।
– উহুঁ। গাড়ি বের করা যাবে না। বাপ নিষেধ করছে। টেংরি ভাইঙ্গা দিব
– তার মানে তুই আসবি না
– আসব না বলছি নাকি? বৃষ্টির কারণে বলছিলাম পিছাইয়া দিতে
– ঠিক আছে আয় তাইলে।
– কিন্তু বাইরে যা বৃষ্টি
জিহাদ একটু গরম হয়।
– বাহ! আমি সেগুন বাগিচা থেকে আসতে পারছি আর তুই ধানমন্ডি থেকে…
– দোস্ত আমার একখান রিকোয়েস্ট রাখ। প্লিজ পিছা। দেখবি কেউ আসবে না।
– আসলে আসবি না আসলে নাই। এত তেল মাখতে পারুম না।
জিহাদ রেগে মোবাইল রেখে দেয়। তারপর ফোন দেয় মুহাম্মদকে। ওর মা ধরে। আরো ভয়বহ খবর। মুহাম্মদ নাকি রিরিসিরি গিয়েছে। ভরা বর্ষণে সোমেস্বরীর যৌবন উছলায় সেটা ও জানে। তাই বলে ওর জীবনের চেয়ে একটা নদী বড় হয়ে গেল? কে জানে হয়ত আসবে না বলে মাকে দিয়ে ওই কথা বলিয়েছে। নিজে হয়ত কোন ফোনই ধরছে না। হাসনাইনের বাসাও ফোনহীন। ওও যে আসবে না সেটা এতক্ষণে ভালই বুঝতে পেরেছে সে। সামান্য বৃষ্টি এই ছেলেগুলোকে একদম পাল্টে দিল! অবশ্য তার পরিবারই আজ যে খেলটা দেখাল সেখানে ওদের এই ব্যবহার তো নস্যি।
শ্রাবণের আকাশের মতই জিহাদের বুকে অভিমান পুঞ্জিভূত হল।

৩.
পরের ফোনটা দিল সে বর্ষাকে। বাবার সেই লাফাঙ্গা মেয়েটা। ফোন ধরল বর্ষার ছোট বোন রিমঝিম। জিহাদের সাথে তার সখ্যতা আছে। অতীতে বর্ষার সাথে অনেকবারই সে ক্যাম্পাসে এসেছে। হবু দুলাভাই হিসেবে এটা ওটা বায়নাও ধরেছে। রিমঝিম অবাক গলায় বলল
– জিহাদ ভাই! কই ছিলেন আপনি! গত তিন দিনে একবারও ফোন করতে. . . . .
জিহাদ কথা শেষ করতে দিল না। বেশি কথা বলার অভ্যাস আছে ওর। সে বলল
– তুমি তাড়াতাড়ি তোমার আপুকে ডেকে দাও।
– আচ্ছা আপুই . . .
– তুমি দয়া করে ডেকে দাও সোনা। লক্ষী

রিমঝিম গেল বর্ষাকে ডাকতে। জিহাদ রিসিভার কানে অপেক্ষায় রইল। কিন্তু পাঁচ মিনিটেও বর্ষা আসল না। দোকানি ছেলেটা বেশ কৌতুহল নিয়ে জিহাদকে দেখছিল। তার বয়স বেশি নয়। সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ হবে হয়ত। ক্লীন শেভ। এই বৃষ্টি দিনে অনেকটা সময় কাটানোর ছলেই দোকান খুলেছে সে। এরকম এক কাস্টমার তার জুটে যাবে সে ভাবতেও পারেনি। উপরওয়ালার কাছে সে প্রর্থনা করছে এই লোকের যাতে আরো অনেক বন্ধু বান্ধব থাকে। এবং তারাও যেন আগের বন্ধুর মত মোবাইল ওয়ালা হয়। মোবাইলে তার ডাবল বিজনেস। দশ টাকা মিনিট। সবচেয়ে ভাল হয় মোবাইল ওয়ালা কারো সাথে যদি প্রেম সংক্রান্ত ঝামেলা থাকে। এই কেসে তার টাকার মিটার হু হু করে বাড়তে থাকে।

জিহাদ কতক্ষণ ফোন কানে বসে আছে বলতে পারবে না। কিন্তু একসময় ঠিকই ওপাশে বর্ষার গলা শোনা যায়। বেশ জড়ানো গলা। সম্ভবত সেও ঘুমাচ্ছিল।
– হ্যা…লো
জিহাদ বেশ বিরক্তি নিয়েই বলল
– কি? কই ছিলা? এতক্ষণ লাগে ফোন ধরতে?
বর্ষা কিছু বলল না। সম্ভবত তার ঘুম এখনও কাটেনি। জিহাদ ধারণা করল
– তুমি ঠিকই বলতা আমার বন্ধুরা সব স্বার্থপর। আমি ওদের জন্য কি না করছি? আর শালারা আজকে আসতে পারে নাই। সব শালারে দেখে নিব? তুমি চলে আস
বর্ষা তবুও কিছু বলল না। জিহাদ একাই বলছে
– যাক চিন্তা কোর না। স্বাক্ষী ছাড়াও বিয়া হয়। কাজীরে একটু বেশি টাকা দিতে হয়, এই আর কি। শোন আমি ফাপরে পরে গেছি। বাসা থেকে টাকা আনতে পারি নাই। তুমি হাজার পাঁচেক নিযে এস। কম করে কাবিন করলেই হবে। একলাখ করলে কি ছোট লোক ভাববে?
বর্ষা শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। জিহাদ বলল
– কি কথা বলছ না কেন? নাকি বৃষ্টির জন্য তুমিও বের হতে পারবা না? রায়হান প্রোগ্রাম পিছাতে বলছিল। কি পিছায়ে দেব? ধুর, লাইনে আছো তো নাকি? কথা বল
এবার বর্ষা বেশ ঝাঁজের সাথেই বলল
– গত তিন দিনে একবারও ফোন করলে না কেন?
ও তাহলে এই ব্যাপার? অভিমান হয়েছে মেম সাহেবের। জিহাদ বলল
– সামান্য ফোনের জন্য এই বৃষ্টিতে কেমনে বের হই?
– সামান্য ফোন না করে তুমি অসামান্য কাজ করেছ। গতকাল দুপুরে আমার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। আমি এখন সেই ছেলের বাগদত্তা।
জিহাদ আকাশ থেকে পড়ে।
– মানে কি?ফান করো আমার সাথে?
বর্ষার মজা করা স্বভাবের সাথে জিহাদের পূর্ব পরিচয় আছে। কিন্তু এটা কি মজা করার সময়। বর্ষা বলতে শুরু করে। তার গলা কেঁপে যায়
– মজা না জিহাদ। মাকে না জানিয়ে আমি কাউকে বিয়ে করতে পারতাম না। তোমার সাথে আলাপের পরই এসে মাকে বলেছি। কিন্তু সে আব্বাকে বলে দেয়। আর আব্বাকে তো তুমি চেন।
বর্ষার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছিল অনেক আগেই, বন্ধুর ছেলের সাথে। তবে অনার্স কমপ্লিটের আগে বিয়ে দেয়ার কোন ইচ্ছে তার ছিল না। এবং বর্ষা সেটা জানত।
তবু মনের ওপর জোর চলে না। তখন সবে ভার্সিটিতে এসেছে। ডিপার্টমেন্টের নবীন বরণ অনুষ্ঠান। সিনিয়র এক বড় ভাইকে দেখল আলুর মত সব খানেই খাটছেন। ও নাচে অংশ নিয়েছিল। দেখা গেল, ছেলেটা নাচ সম্পর্কে খুব বেশি না জানলেও মোটামুটি ধারণা রাখে। বর্ষা কথা বলে বেশ আরাম পেয়েছিল। জিহাদের সাথে সম্পর্ক সেই থেকে। তারপর প্রায় সাড়ে তিন বছরের প্রেম। কিন্তু বাসার কেউ একদম টের পায়নি। বাবার বন্ধুর ছেলে পাশ টাশ দিয়ে বাইরে থেকে দেশে আসলে বিয়ের কথা ওঠে যথাপূর্বম। এবং খুব দ্রুতই সব ঠিকঠাক হয়। ছেলে আবার চলে যাবে। সে কারণেই তাদের আকস্মিক বিয়ের সিদ্ধান্ত, পালিয়ে। পরের ব্যাপার পরে বোঝা যেত। তবে জিহাদ তার বাসায় চেষ্টা করেছিল।
বর্ষা তার কথা বলে যায়
– বাবা আমাকে কিছু না বলে হঠাৎ করেই এনগেজমেন্টের আয়োজন করে। গতকাল তারা আমাকে আংটি পরিয়ে গেছে। আজকেই হলুদ, আজকেই বিয়ে।
– তুমি আংটি পড়লে কেন?
– বোকার মত কথা বল না। এত মানুষের সামনে কি করতাম আমি?
– কিছু একটা
বর্ষা চুপ থাকে কিছুক্ষণ। তারপর বলে
– কান্নাকাটি করেছি অনেক। এখনও কাঁদছিলাম।
জিহাদ এতক্ষণে ওর জড়ানো গলার কারণ খুঁজে পেল। বলল
– আংটি পরিয়েছে তো কি হয়েছে? এখনও তো বিয়ে হয়নি। তুমি আস
– তা হয় না জিহাদ। তুমি জান না এনগেজমেন্টের পর আমার উপর কি ঝড় গেছে। আর বাসা ভর্তি মেহমান। তা ছাড়া এই বৃষ্টির মধ্যে কেমন করে বের হব? আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাইনি। কিন্তু রিমঝিম………. আই এম সরি জিহাদ।
জিহাদ বোঝাবার চেষ্টা করে
– তুমি বুঝতে পারছ যে আমাদের আর কোনদিনই দেখা হবে না? আজ থেকে তুমি আর আমি অনেক দূরের মানুষ হয়ে যাব। তুমি এক কাজ কর। ওই ছেলের বাসার ফোন নম্বর দাও, নয়ত ঠিকানা দাও
এবার বর্ষার কান্না আরো বেড়ে যায়। অনুনয়ের গলায় বলে
– খবরদার । ভুলেও ওটা করবে না। বাবা আমাকে খুন করে ফেলবে। শেষটা ভাল ভাবেই শেষ হোক। প্লিজ।
জিহাদ কান্নায় ভোলে না। সে ক্ষেপে যায়
– ভাল ভাবে শেষ হোক মানে? তুমি কয়দিন আমার সাথে বন্ধুর বাসায় গেছ তা ওই লোক না জেনেই শেষ হয়ে যাবে?
বর্ষাও ফুসে ওঠে। এই মুহূর্তে ওসব নিয়ে কেউ কথা বলতে পারে? ওর এই বদরাগী স্বভাবকে বর্ষা সবসময়ই ঘৃনা করে এসেছে।
– চুপ। একদম চুপ। একটাও খারাপ কথা বলবা না। তোমার সাথে প্রেম ছিল, গেছি।এখন আমি আর একজনার। সেখানে তুমি কিছু করলে তার ফল ভাল হবে না।
জিহাদ খুব অসহায় বোধ করে। তার কন্ঠ আবার নত হয়
– এই দুই নম্বরীটা তুমি কেন করলে বর্ষা?!
– আমি কোন দুই নম্বরী করিনি। বৃষ্টির জন্য বের হতে পারিনি। নয়ত তোমার বাসা না চিনলেও ঠিকই খুঁজে বের করতাম, যে ভাবে পারি। কিংবা ক্যাম্পাসেও হয়ত তোমার সাথে দেখা হত। কিন্তু কি আর করা! কপালে নেই। মেয়ে হয়ে জন্মাও নাই তো তাই জীবনের অনেক কিছুই টের পাবা না।
আবার গরম হয় জিহাদ নি:স্ফল আক্রোশে
– এইসব আজাইরা কথা রাইখা আসল কথা বল। মালদার পার্টি পাইয়া মইজা গেছ তুমি। তুমি..তুমি..তো বেশ্যার চেয়েও অধম। তাদের তাও একটা নীতি আছে
– একবার বলছি না খারাপ কথা বলবা না। আমি আমার দিক থেকে ক্লিয়ার আছি জিহাদ। তুমি খারাপ ভাবতে পারো। আমার সমস্যা নাই
– এখন সমস্যা নাই. . . . . .
এরপরের ভাষা প্রকাশের যোগ্য নয়। বর্ষা ফোন রেখে দিল। জিহাদ আরো দুবার চেষ্টা করল কিন্তু লাইন পাওয়া গেল না। সম্ভবত তার খুলে রাখা হয়েছে।

রাগে জিহাদের শরীরে আগুন ধরে গেল। টাকা মিটিয়ে বইরে বের হলে বৃষ্টিও তা সে আগুন নেভাতে পারল না। মুখে থুতু জমে গেল তার ঘৃণায়। পিচিক করে ফেললও তা। হঠাৎ উথলে ওঠা মেয়ে জাতির প্রতি তীব্র ঘৃণা বহন করে রাস্তার পানিতে ভাসতে লাগল থুতু।
জিহাদের শরীরে এখন জ্বলন। এখন সে কোন মেয়ের বুকেই ফুলের ঘ্রাণ পাবে না। এখন সবাই তার কাছে যে কোন নারী। এবং সে বিপদজনক। জিহাদ টিএসসির দিকে হাঁটা দিল।

৪.
তিন দিন ধরে উপোস আছে জরিনা। বৃষ্টির কারণে একটা খদ্দেরও জোটেনি তার। বাচ্চা দু’টির দিকে তাকাতে পারছে না সে। ইতিমধ্যে দু’তিনবার মার খেয়েছে তারা, ভাত চাওয়ার অপরাধে। এখন তারা কচি দু চোখে কেবল ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মায়ের দিকে। এই বৃষ্টিতে পার্কের এখানটায় কোন লোক আসবে না। বৃষ্টি বাদল পেয়ে তার দালাল ব্যাটাও কোন ঘুপচিতে ঢুকেছে কে জানে? এখন তাকে আইনের ভয় করলে চলবে না। সে রাস্তায় বেরিয়ে এল। বৃষ্টি একটু কমে এসেছে। তবে থামেনি। রাস্তায় একটা লোকও নেই।
আজ সে পানির ভয়ে লিপস্টিক দেয়নি। হাতে তার ভাজ করা লম্বা একটা পলিথিন এবং ব্লাউজের নিচে দুটো কনডোম। আবহাওয়া ঠান্ডা আছে। খদ্দের তুষ্ট হবে। এসব ভাবতে না ভাবতেই একজন মানুষকে আসতে দেখা গেল। জরিনার লিপস্টিক হীন ঠোটে হাসি ফুটল। চেহারা ফোটা পানিতে রহস্যময় হয়ে উঠল।

একটু পরে যাত্রী ছাউনির পিছনটায় অগ্নি ও ফুলের মত দু’জন মানুষ সঙ্গমে লিপ্ত হল। তাদের একজন নারীদের অপমান করে তার পতিশোধ নিচ্ছে আর একজন তার শিশুদের পেটের দাওয়াই জোগাচ্ছে। উপর থেকে আকাশ তখন আবার ভারী ফোটায় জল ছেড়ে দিল। অপার্থিব সুখ নেমে এল পৃথিবীতে।

তারা মিলনে ব্যস্ত থাক, আমরা এই ফুরসতে চলে যাই ট্রাফিক দু’জনের কাছে। রাস্তায় গাড়ির অভাবে ক’দিন ধরে তাদের উপরি বন্ধ। সরকার তাদের অনেক পকেট তো আর এমনি বানিয়ে দেয়নি! পকেট গুলোতে এক ভাঁজ করে টাকা রাখতে বেশ আরাম। তারা পরামর্শ করে শাহবাগ মোড়ের ট্রাফিক ছেড়ে পার্কের দিকে রওয়ানা দিল। উদ্দেশ্য পার্কের রহস্যময় খালারা। পূর্বে তারা তাদের কাছে টাকাও পেয়েছে, আর মৌজ মাস্তি ছিল ফাও। খদ্দের থাকলে তাদের আরো সুবিধা। বিশেষত ভদ্রলোক হলে তো কথাই নেই। ইজ্জত বাঁচাতে সব কিছুই দিয়ে দেয়।
তবে তাদের বেশিদূর যেতে হল না। যাত্রী ছাউনির পিছনেই খালাদের একজনকে পাওয়া গেল, একদম খদ্দের সহ।

জরিনা এসব কাজে কখনওই হুশ হারায় না। কষ্ট চেপে পড়ে থাকে কিন্তু নিজেকে আনন্দে হারাতে দেয় না। এমনকি খদ্দেরকে সে শাড়িও খুলতে দেয়না। কেবল একটু উচিয়ে নেয়। সে ই প্রথম দেখল তাদের। অমনি বুকের উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে জিহাদকে ফেলে দিল। তারপর দৌড়।

জিহাদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। কোনমতে সে কাদা ছেড়ে উঠে দাড়ায়। কিন্তু ততক্ষণে বেশ দেরী হয়ে গেছে। প্যান্ট টানারও সুযোগ মিলল না তার। পুলিশ দুজন দৌড়ে এসে ধরে ফেলল তাকে। বিছানো পলিথিন দিয়েই বেধে ফেলল তার হাত। তারপর একে একে মানিব্যাগ, ঘড়ি খুলে নিতে লাগল। জিহাদ কেবল নি:স্ফল আক্রোশে পা ছুড়তে পারল।
আর তখনি তার চোখ বেয়ে দুঃখ ঝরে পড়তে লাগল।

৫.
যদি বৃষ্টি না হত তবে কোন সম্পর্কে ঘুন না ধরেই জিহাদ ও বর্ষার কিন্তু খুবই চমৎকার একটি সুখী দাম্পত্য হতে পারত।

৪,১৯৮ বার দেখা হয়েছে

৪৭ টি মন্তব্য : “বৃষ্টির জন্য”

      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        সাধরণের, ছুঁয়ে ছুয়ে, নাগরবাসীক, আবহ্ওায়া, চাকরী, দিযেছেন, তােমাকে, হফ , ক্ষাইরে, ভর্ৎসনা , রিরিশিরি , জোেেটনি, বৃৃষ্টির , রিকোেয়েস্ট , রিমজিম নিযে (নিয়ে হবে)

        আছে আরও কিছু। আর ইয়ে, আমার এই কমেন্টা মুছে দিও তুমি।


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
          • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

            আমার কাছে সাজেশন চাও, হাসুম না কাদুম বুঝতেছি না। যাইহোক সাজেশন দেই একটা......।।

            তোমার লেখা পড়ে আমার মনে হয়েছে তুমি কিছু একটা (মানে নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন) এইগুলা মাথায় রেখে লিখছ, এর ফলে নিজেই নিজের লেখায় একটা সীমাবদ্ধতা টেনে দিচ্ছ, একটা ফ্রেমে জোর করে ফেলতে চাইছ। অনেক সময় প্লটের সংগে সেটা মিলছে না। তবে যখন মিলছে তখন দারুন হচ্ছে।

            আমি তোমার মত লিখতে পারলে প্লটকে বেশি প্র্যায়োরিটি দিতাম। নাটক বানাবো, সিনেমা বানাব এইগুলো মাথায় রাখতাম না।


            পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

            জবাব দিন
            • টিটো রহমান (৯৪-০০)

              ভাই জীবনের একটাই ধ্যান জ্ঞান.....ফিল্ম। একদিন বানাবোই। আর জীবনে এই একটা বিষয়ই সিরিয়াসলি চর্চা করেছি।

              লেখালেখি তো করি আইডিয়া আসে তাই।
              আমি লেখক না আইডিয়াবাজ বলতে পারেন।
              তবে ব্যক্তিগত জীবনে আমি আদারু কিসিমের। প্রচন্ড অলস। তাই কষ্ট করে লিখতেও ইচ্ছা করে না। ওইদিন রায়হানকেও বলতে ছিলাম....আমি আইডিয়া দিতাম আর কেউ একজন লিখে দিত! তাহলে ভাল কিছু সাহিত্য হতে পারত।

              আরও একটা ব্যাপার লেখালেখি থেকে অনেকদিন দূরেও ছিলাম....বছর চারেক


              আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

              জবাব দিন
  1. তানভীর (৯৪-০০)

    কি লেখলিরে দোস্ত!
    আমি পুরাই টাশকি খাইয়া গেলাম!
    দারুণ হইছে!

    যদি বৃষ্টি না হত তবে কোন সম্পর্কে ঘুন না ধরেই জিহাদ ও বর্ষার কিন্তু খুবই চমৎকার একটি সুখী দাম্পত্য হতে পারত।

    জব্বর! :clap: :clap: :clap:

    জিহাদ, মনে কষ্ট নিওনারে ভাই। এইটাতো কাল্পনিক ঘটনা! 😛

    জবাব দিন
  2. গল্পটা যখন তোর মুখে শুনেছিলাম তখন আরো বেশি ভালো লেগেছিলো। :clap: কিন্তু পড়ার সময় সেই প্রত্যাশায় ঘাটতি পুরন হচ্ছে না। 🙁 এর কারন আমি ভালো বলতে পারবো না। 🙁 কিন্তু মনে হচ্ছে যতটা যত্ন নিয়ে তুই গল্পটা আমাকে বলেছিস লেখার সময় ততটা যত্ন নিচ্ছিস না।

    তার মানে তারেকের কথাই সত্যি। তোর আরো সময় নিয়ে এই সব দারুন প্লট গুলি নিয়ে কাজ করা উচিত। 😛

    আর একটা কথা আমার মনে হয়েছে, চরিত্রের জন্য অন্য নাম ব্যবহার করলে সিসিবির পাঠকরা গল্পের আরো গভীরে যেতে পারতো। পরিচিত নাম হওয়ায় গল্পের রস আস্বাদনে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটছে। 😀

    জবাব দিন
  3. মুসতাকীম (২০০২-২০০৮)

    ভালো ছিল 😀 😀 😀 :clap: :clap:


    "আমি খুব ভাল করে জানি, ব্যক্তিগত জীবনে আমার অহংকার করার মত কিছু নেই। কিন্তু আমার ভাষাটা নিয়ে তো আমি অহংকার করতেই পারি।"

    জবাব দিন
  4. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    প্লটটা ভালো। লেখাও দারুণ। কিন্তু পরিচিত নামগুলোর কারণে বারবার হোঁচট খেতে হয়েছে। শেষের বিষয়টা কামরুল, রবিনও বলেছে। চাইলে এখনো এডিট করে নামগুলো বদলে দিতে পারো। নতুন পাঠকদের প্রতিক্রিয়াটা তাহলে ধরতে পারবে। :hatsoff: অভিনন্দন।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  5. জিহাদ (৯৯-০৫)

    গল্পের প্লটটা সুন্দর। কিন্তু কামরুল ভাইয়ের কথার সাথে একমত। কিছু কিছু অংশ আরেকটু গোছানো হলে আরো ভাল্লাগতো। বিশেষ করে কথোপকথনের অংশগুলো।

    আর ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হলো বর্যার মধ্যে আবেগের একটু অভাব দেখলাম যেন। এতদিনকার সম্পর্ক ভেংগে যাবার পর ওর ব্যবহারটা আরেকটু আবেগপূর্ণ হলে ব্যাপারটা আরেকটু স্বাভাবিক লাগতো মনে হয়। অবশ্য এটা আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত।

    আর চরিত্রের নামের ব্যাপারে কিছু বললাম না । হাজার হৈলোও ঘটনাটা যখন কাল্পনিক। :guitar:


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  6. রহমান (৯২-৯৮)

    আমার কাছে এই গল্পের প্লটটা অসাধারণ লেগেছে, বাস্তবধমী ঘটনা। নামগুলোর কারনে হোচট খাচ্ছিলাম বারবার। অন্য নাম ব্যবহার করলে সিসিবির পাঠকরা কাহিনীর আরো গভীরে প্রবেশ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

    জবাব দিন
  7. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    এইমাত্র বাইরে থেকে আসলাম...বৃষ্টির কথা শুনে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হতে থাকলেও পড়তে পড়তে একসময় তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে চলে এল...(বিশেষ করে ৪. পড়ে... 😉 )

    গল্পটার শুরুতে যে 'অসাধারণ' ভাবটা ছিল, শেষে এসে কেন জানি আমার কাছে 'ভালোই তো...!' মনে হল... :-B

    :hatsoff: :hatsoff:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  8. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    আবার পড়লাম।
    নামগুলা পরিচিত থাকার পরও কয়েক লাইন পর আর সেটা মনে থাকেনি (সবাই যেটা বললো, সেরকম লাগলোনা) প্লটটা চমৎকার, আর আগে শুনিনি দেখে (কামরুল যেটা বললো) পার্থক্য করতে না পারলেও মন্দ লাগলোনাতো।
    টিটোর লেখার সবচেয়ে দারুন লাগে যেইটা সেটা হইল ওর বলার ভংগিটা। আমার মতে আগেরগুলোর মতো এই গল্পটাতেও সেটা বজায় ছিলো। :clap: :clap:


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  9. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)
    ইতিমধ্যে দু’তিনবার মার খেয়েছে তারা, ভাত চাওয়ার অপরাধে। এখন তারা কচি দু চোখে কেবল ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মায়ের দিকে।

    ভাই এই অংশটা অসাধারন।

    আমি খুব সমঝদার কেউ না, কিন্তু আমার মনে হয় গল্পটা হয় আরেকটু বড় নয় আর একটু ছোট হতে পারতো।

    জবাব দিন
  10. দিহান আহসান

    ভাইয়া প্রথমে ভাবছিলাম জিহাদ ভাইয়াকে নিয়ে লিখছেন।
    পরে পড়তে পড়তে মিশে গেলাম। তবে ৪নাম্বার পার্টে এসে একটু যেন কেমন কেমন লাগলো। তারপরও বলব, ভাল লেগেছে। 🙂

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।