তুমি আজ ভালোবাসোনি ………

সংবিধিবদ্ধ সতর্কিকরন – পুরোপুরি কল্পনা থেকে লেখা। বাস্তব কোনো চরিত্র বা ঘটনার সাথে মিল পেলে … কিছুই করার নেই।

——————————————-
আগের গল্প ——-

একজন অসুস্থ মানুষ

ও, আমি এবং আমরা ……
যেদিন আমার মৃত্যু হলো ……………
বলতে চাই … তোমাকেই চাই

—————————————————————-

ভার্সিটি জীবনের শেষ বছরে এসে সবাই কেমন যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ে। থিসিস, স্কলারশীপের জন্যে আবেদন, জি আর ই বা আই ই এল টি এস জন্যে প্রস্তুতি …… রীতিমতন ছেড়াবেড়া অবস্থা। আমি এখনো বুঝে উঠতে পারছিনা কি করবো। তবে মনে হচ্ছে, রেজাল্ট যেহেতু তেমন একটা ভালো না, দেশেই চাকরী বাকরি করার চেষ্টা করব। বাপের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায়, নিজ উদ্যোগে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আপাতত বাদ, কোনোদিন নিজে টাকা জমাতে পারলে হয়ত দেখা যাবে। কিন্তু সমস্যা হলো, আমি মানুষটা বড়ই অলস। একবার চাকরীর লাইনে ঢুকে গেলে আবার লেখাপড়ার লাইনে আসতে পারব বলে মনে হয়না। কিছুদিন ধরে নিজের একান্তেই হতাশা বোধ করছি। বারবার মনে হচ্ছে, কেনো প্রথম দুইটা বছর আরেকটু ভালো করে লেখাপড়া করলাম না। এখন নিজেকে প্রায় “না ঘরকা, না ঘাটকা” মনে হচ্ছে। আরো বড় সমস্যা হলো, কারো সাথে এই ব্যাপারটা নিয়ে ডিসকাসও করতে পারছিনা। বুঝতে পারছিনা, ইদানিং কেনো এই রকম মনে হচ্ছে।

– আসলে শরৎচন্দ্রের যুগে জন্মানো উচিত ছিলো তোমার …
– কেন ??!!
– এইত, লেখাপড়া শেষ করছ, সহজেই চাকরি পেয়ে যেতে। আর পয়সাওলা ঘরে জন্মালে তো আর কথাই ছিলো না, লেখা পড়া শেষ করে চাকরী বাকরির চিন্তা না করে সাহিত্যচিন্তা করতে পারতে …
– হুমমমম …… আসলেই ওল্ড ইজ গোল্ড।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকি। যখন ক্যাডেট কলেজে ছিলাম, আমার খাটের ওপরে সিলিং এ নায়িকা কাজলের পোস্টার লাগিয়ে রেখেছিলাম, যেন সকালে ঘুম ভাংলেই সেটা দেখতে পাই। একটা সুবিধাও ছিলো ছিলো অবশ্য সিলিং এ পোষ্টার লাগানোর, স্যারেরা দেয়ালে বা লকারে লাগানো পোষ্টার খেয়াল করলেও ওপরেরটা তেমন খেয়াল করতেন না। ভাবছি নিজের থাকার জায়গা হলে ওর একটা ছবি সিলিং এ লাগিয়ে রাখবো।

– পরের বউয়ের ছবি দেখে আর কদ্দিন ??
– তার চেয়েও গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার হলো সে আদৌ ছবি টাঙ্গানোর পারমিশন দেবে কিনা ………

গতকাল ও ফোন দিয়েছিলো, আজ আমার সাথে দেখা করতে চায়। কারন জিজ্ঞেস করায় শুধু জানালো খুব জরুরি কথা এবং কাজ আছে, দুপুরের ক্লাশ শেষে যেন অবশ্যই দেখা করি। গত দুই সপ্তাহ ধরে ওর সাথে তেমন একটা দেখা হচ্ছেনা। আমি পিপাসিত চাতকের মতন দুপুর হবার অপেক্ষাতে বসে আছি। সময় একটা বড়ই আজিব জিনিস, পরীক্ষার হলে শেষ ত্রিশ মিনিট যেনো দশ মিনিটেই কেটে যায়। আর এখন আমি যখন সময় কাটার অপেক্ষাতে আছি, প্রতিটা মিনিট পার হচ্ছে আধা ঘন্টা পরপর। আসলেই, সময়ও হয়ত আপেক্ষিক একটা ব্যাপার।

নুপুর আর রশিদকে দেখলে এখন আমার রীতিমতন ঈর্ষা লাগে। এই প্রবলেমটিক সময়টাতে ওরা কি সুন্দর একে অপরকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে মানসিকভাবে। তার ওপরে, ওরা নিজেদের বাসায় নিজেদের সম্পর্কের জানিয়ে দিয়েছে এবং ওদের বাসাতে তেমন একটা উচ্চ্যবাচ্চ্য না করে মেনে নিয়েছে। গত তিন চার বছর ধরে খেয়াল করছি, বাপ মায়েরা এখন ছেলে মেয়েদের পছন্দের পাত্রী বা পাত্র আছে শুনলে মনে হয় কিছুটা নিশ্চিন্তবোধ করেন। যাক, তাদের আর খোঁজা লাগবেনা এবং বিয়ের পরে মতের মিল না হলে কেউ তাদের কোনো দোষারোপও করতে পারবেনা। আজকালকার বাপ-মায়েরা ……… পুরা ডজার।

– ব্যাপারটা আজকালকার ছেলেমেয়েদের বাপ-মায়েরা হবে …… কারন, উনারা বাপ-মা হয়েছেন, না হলেও চব্বিশ পঁচিশ বছর হয়ে যাচ্ছে ……
– ধন্যবাদ ………

ওইদিন রশিদ কপট দুঃখে করছিলো, ওর অনেক পুরাতন রোমান্টিক স্বপ্ন, পালিয়ে বিয়ে করাটা বোধহয় আর পুরন হলোনা বলে। আমি ওকে আইডিয়া দিলাম, বিয়ের দিন সকালে যার যার আব্বু আম্মুকে বলে পালিয়ে যাবি, আমরা কোনো জায়গাতে তোদের বিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা করব, তারপরে দুপুরে বা রাতে এসে নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠান এটেন্ড করবি। তোদের শখও পুরন হবে, আবার তোদের বাপ-মায়েরাও তেমন একটা মাইন্ড করবেনা মনে হয়। নুপুর খালি বললো, আজকে বুদ্ধি-প্রতিবন্ধি দিবস দেখে তোকে কিছু বললাম না। আশ্চর্য, আমার আইডিয়াটা কি এতই খারাপ ছিলো। আসলেই, মনে হয়, একটা স্টেজে আসার পরে মেয়েদের রোমান্টিসিজম কমে আসে। অবশ্য আমার ওপরে তার একটু রাগও আছে। নুপুর আমার থিসিস পার্টনার, আর আমি বেছে বেছে ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর টিচারের কাছে থিসিস নিয়েছি। আমার ধারনা, একটু দৌড়ের ওপরে রাখার চেষ্টা করলেও, মোটামুটি লেগে থাকলে উনি ভালো মার্কস দেবেন আর আমাদের টপিকটাও ভালো। আসলে রশিদকে ঝাড়ি দেবার টাইম কমে গেছে দেখে সে ঝাল এখন আমার ওপরে ঝাড়ছে।

কয়েকদিন আগে অনুপদের বাসায় মিষ্টি খেতে গিয়েছিলাম। অনুপের আম্মা নিজেই জটিল মিষ্টি বানাতে পারেন, এই জন্যে দুই তিন মাস পর পর জটিল অ্যাসাইনমেন্টের নাম করে ওর বাসায় গিয়ে আমরা আড্ডা দেই এবং হাভাতের মতন মিষ্টি খাই। সেদিন গিয়ে দেখলাম তিথী, কাজল আর নুপুরও সেখানে। একটু পরে দেখি সেখানে অঞ্জলীও আছে, সে আন্টিকে কাস্টার্ড বানাতে সাহায্য করছে। পরে খোঁজ পাওয়া গেলো, আসলে অঞ্জলীদের সাথে অনুপদের অনেক আগে থেকেই পরিচয়। অনুপকে যখন জিজ্ঞেস করলাম কেন এই ব্যাপারটা চেপে গিয়েছে, অনুপের আর্তনাদ এবং কাকুতি-মিনতি অগ্রাহ্য করে আন্টি একটা ছবি এগিয়ে দিলেন। ছবিটার বিষয়বস্তু ঘটনাতে পরিবর্তন করলে যেটা দাঁড়াবে, এক উল্লসিত পিচ্চি অঞ্জলী ব্যাপক উৎসাহের সাথে ক্রন্দনরত এক অনুপকে পিটাচ্ছে। আন্টি ভেতরে চলে গেলে কমেন্ট করলাম, তোকে তাহলে অঞ্জলী বহু আগে থেকেই ভেড়াতে কনভার্ট করে রেখেছে। তারপরে কি মনে হতেই অঞ্জলীর কাছে জানতে চাইলাম, তুই তো এখন অনুপকে পিটাইতে পারার কথা না, ওর সিগারেটের নেশা ছাড়াইসিস কিভাবে ? মুহুর্তের মধ্যে অঞ্জলী লাল হয়ে গেলো আর বাকি মেয়েগুলো হিহি করে হাসা শুরু করলো। আমি আর আবির একটু কনফিউজড দৃষ্টিতে অনুপের দিকে তাকায়ে দেখি, অনুপও একটু লাল হয়ে আছে আর রশিদ সমঝদারের হাসি হাসছে। সম্ভবত কোনো গোপন কম্পেনসেশনের ব্যবস্থা আছে।

এখনো এক ঘন্টা বাকি। দেখি, ক্যাফেটেরিয়া গিয়ে আড্ডা দেই গিয়ে। ওকে এখনো আমার কথা বলা হয়নি, আসলে সাহস করে উঠতে পারছিনা। ও কাকে পছন্দ করে সেটাও এখনো জানিনা। বুঝতে পারছিনা আমার কি করা উচিত –

– তুমি কি বুঝতে পারছো, তুমি যত দেরী করছো, তোমার সাফল্যের সম্ভাবনা তত কমে যাচ্ছে ?? ……
– সে অন্য আরেকজনকে পছন্দ করে, আমার কখনই সাফল্যের কোনো সম্ভাবনা ছিলো না ………
– কিভাবে জানো ? কমপক্ষে ও তো এখনো একা আছে ………

বুঝতে পারছি না এই ব্যাপারটা নিয়ে অনুপ বা আবিরের সাথে কথা বলা ঠিক হবে কিনা। রশিদের সাথে বলা যাবে না নিশ্চিত, কারন সে জানলে নুপুর জেনে যাবে তারপরে সে খবর থেকে ওর দুরত্ব একটা কল মাত্র। আর আবিরের সাথে কথা বলা যাচ্ছে না, কারন ও যদি আসলেই আবিরকে পছন্দ করে থাকে, যেটার সম্ভাবনা আমি প্রবল হিসেবে দেখছি, আবির বিশাল প্যাচে পড়ে যাবে। আর অনুপ প্রতিদিন তৃষ্ণার্তের মতন অপেক্ষা করে কখন ছুটি হবে আর কখন সে মেডিক্যাল কলেজের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারবে। ওর কাছে থেকে সময় নিতে ইচ্ছে করে না সে জন্যে, বেচারী সারাদিন ধরে এই ছুটির জন্যে অপেক্ষা করে।

ক্যাফেতে বসে সিগারেট ধরালাম, আর কিছুক্ষন তার পরেই …… হঠাৎ দেখি ও আর ওর ডিপার্টমেন্টের বান্ধবীরা আসছে …… শেষ ক্লাশ আগে আগে শেষ হয়ে গিয়েছে মনে হয়। ও আমাকে দেখে থেমে দাঁড়িয়ে ইশারায় আমাকে কাছে আসতে বলল। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
— কি রে, কি ব্যাপার ?? হঠাৎ জরুরী তলব ??
— ফিল্ডের দিকে চল।

ওর সাথে হাটতে হাটতে চিন্তা করছি, কি এমন ব্যাপার হতে পারে, হঠাৎ দেখলাম ও আমার দেয়া ডায়রীটা বের করেছে। মৃদূ হেসে বলল,
— তোর কথাই মনে হয় ঠিক রে, ছেলেটা আসলেই গাধা।
— আমি তোকে আগেই বলেছিলাম, এইসব ব্যাপারে আমার ভবিষ্যতবানী ঠিক হয় ………
— তাইলে টাইম নষ্ট না করে একটা টিয়া পাখি নিয়ে মোড়ে বসে গেলেই পারিস, হিউজ ইনকাম করতে পারবি ভবিষ্যতবানী করে।

আমি হাসি, আসলেই আমাদের কুপ্রভাব পড়েছে ওর ওপরে। সারকাস্টিক কমেন্ট করতে এখন ওর আর জুড়ি নেই। মাঠের সামনে গাছের ছায়াতে দাড়ালাম দুজনে।

— কি ব্যাপার ??
— তোর হেল্প লাগবে, বুঝতেই পারছিস কি ব্যাপারে ………

– ওহ শীট ……… বিশাল ঝামেলা ………
– আসলেই …………

ডায়রীটা এগিয়ে ধরে বলল,
— এখানে আমি তার সম্পর্কে লিখেছি, তোর পরামর্শ মতন ……… তুই পড়ে দেখ ……… তারপরে আমাকে বল আমি কি করবো ??
— দেখ, আমার মনে হয় না আমি তোর এই ঝামেলা সল্ভ করার জন্য উপযুক্ত লোক …… তুই বাকিদের কাউকে বল ………

সে ব্যথাতুর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়,
— কেনো ?? তুই না কেন ?? রশিদ আর নুপুরদের ব্যাপারটা ………

ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,
— সেটা অন্য রকম ব্যাপার ছিলো ………
— কিভাবে ???
— আমি তোকে এখন বলতে পারবো না ……… বিশ্বাস কর, পরে তুই নিজেই খুশী হবি আমার সাহায্য নিস নাই বলে …… প্লীজ ……
— প্লীজ ………
ওর কান্না ধরা গলার আওয়াজ শুনে আমার ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। এখন কি করবো আমি ?? ওর হাত থেকে ডায়রীটা নিয়ে বললাম,
— শোন ……………
এখন কিভাবে ওকে আমি এই কথা বলি …… এই অবস্থাতে ও তো আরও কনফিউজড হয়ে যাবে …… কিন্তু আমিও তো অত বড় মহাপুরুষ না …… সবকিছু যদি আমার থেকে আড়ালে ঘটত …… নাহ, আমি এই ব্যাপারে অ্যাক্টিভ্লি পার্টিসিপেট করতে পারবো না ……… ও আসলেই কাঁদছে ……
আমি আবার চেষ্টা করি,
— শোন, প্লীজ একটু খোলা মন নিয়ে শোন ……… আমার ধারনা ……… না … আমি জানি, আমি তোর প্রেমে পড়েছি। প্লীজ রাগ করিস না ……… জাস্ট আমাকে শেষ করতে দে …… আমার প্রথমে মনে হয়েছিলো বোধ হয় সাময়িক আকর্ষন ………
আমি হাসলাম,
— কিন্তু যত সময় যেতে থাকলো ব্যাপারটা …… কিন্তু আগেই তুই মোটামুটি জানায়ে দিসিস যে তুই কাউকে পছন্দ করিস ……… তাই আর …

ও কান্না থামিয়ে আমার কথা শুনছে, ওর চোখে দেখলাম কান্না কেটে গিয়ে অন্য কিছু একটা আসছে ……… অবাক ভাব ?? রাগ ?? শান্ত গলায় বলল,
— তুই যদি না জানতি আমি কাউকে পছন্দ করি, তাইলে কি করতি ?

সর্বনাশ ………… ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছিনা ………
— জানি না, তবে মনে হয় না কিছু করতাম …… তুই তো জানিস, আমার অনেক বাজে ব্যাপার …… আসলে আমার কখনো নিজেকে তোর প্রেমিক হিসেবে উপযুক্ত মনে হয়নি ……
তীব্র গলায় জিজ্ঞেস করলো,
— তাহলে আজকে কেন বলতেসিস এই সব কথা ?
— তোকে হেল্প করতে পারবো না বললাম আর তুই কাঁদলি, আমার খুব খারাপ লাগলো …………

আমার হাত থেকে ডায়রীটা রীতিমতন কেড়ে নিলো ও।
— কোনো একটা রিলেশনশীপের রেস্পনসিবিলিটি নেয়ার সাহস না থাকলে, সেই রিলেশনশীপ স্বীকার করবিনা কখনো।

আমি কিছু বলার চেষ্টা করতেই থামিয়ে দিলো,
— একটা কথাও বলবিনা তুই ……… তোর মুখ দেখতে ইচ্ছা করতেসেনা আমার।

হাতের পুরো জোর দিয়ে ডায়রীটা আমার দিকে ছুড়ে মারলো ও। আমার কাঁধে লেগে পড়ে গেল ওটা। ও উলটো ঘুরে চলে যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে আমার দিকে একবারও না তাকিয়ে। রাস্তার ধারে গাছতলাতে বসে সিগারেট ধরালাম আরেকটা। খুব খারাপ লাগছে না বললে নিজের সাথে প্রতারনা করা হবে, তার পরেও কষ্ট ছাপিয়ে উঠে আসা সন্তুষ্টি অনুভব করে একটু অবাক আর হতাশ হলাম। হ্যাঁ, ওকে আমি বলতে পেরেছি, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্ব মনে হয় এর মুল্য হিসেবে দিয়ে দিতে হয়েছে।

– এখন আর কষ্ট পেয়ে লাভ নেই ………
– জানি ……… কিন্তু আমি কি অভিনয় করে যেতে পারতাম না …… মহাপুরুষের অভিনয় ……… খুব কঠিন হত কি ??
– সেটা সহজ বা কঠিন হবে কিনা সেটা বোঝার জন্যে ও কাকে পছন্দ করে সেটা আগে জেনে নেয়া উচিৎ ছিলো ……

আসলেই ……… আমি হয়ত একটু কষ্ট করলেই আমাদের বন্ধুত্বটা বাঁচাতে পারতাম। পড়ে থাকা ডায়রীটা দেখে মনে হয়, এখনো হয়তো বাঁচানো যাবে। দেখে ও কাকে পছন্দ করে, ওকে গিয়ে পরে বললেই হবে আমি দায়িত্ব এড়ানোর জন্যে অভিনয় করেছিলাম …… হয়ত বিশ্বাস করতেও পারে, হয়ত দুই-চার দিন রাগ করে থাকবে ……… তারপরে সব হয়ত আগের মতন হয়ে যাবে, আমরা হয়ত বন্ধু থাকতে পারবো। ভাবতে ভাবতেই ওরা ডায়রীটা উঠিয়ে নিয়ে পাতা উল্টাতে থাকি। দুই পাতা গ্যাপ দিয়ে লেখা শুরু, ওর স্টাইল। প্রথমেই খুব সুন্দর একটা কবিতা –

তোমার কাছে কখনই বেশী কিছু চাইব না, তোমার ভালোবাসা ছাড়া,
দালান, অট্টালিকায় থাকব না, তোমার ঘর ছাড়া,
লাগবেনা কাঁড়ি কাঁড়ি অলংকার, পোশাক, অর্থ-বিত্ত,
যদি শুধু সুযোগ দাও –
আচঁল দিয়ে মুছে দিতে তোমার পরিশ্রমের স্বেদবিন্দু।

কবিতাটা ভালো না খারাপ জানি না, আমি একেবারেই কবিতা বুঝিনা, তবে বক্তব্যটা আমার ভালো লেগেছে। ইস …… কে এই সৌভাগ্যবান ছেলে ?? যেই হোক, আমি ওকে সাহায্য করব, আমি যতটুকু পারি। পাতা উলটে পড়া শুরু করলাম ………… আমার পরামর্শ মতই অনেকক্ষন সে নাম না উল্লেখ করে লিখেছে ……… ছেলেটার প্রতি আমি খুব ঈর্ষাবোধ করছি। কিন্তু আমি জানি আমাকে কি করতে হবে। একটাই জীবন আমাদের, আমি আমারটাতে আমার ভালোবাসাকে সুখি আর আনন্দ উচ্ছল দেখতে চাই, সে যার সাথে চায়, ঠিক তার সাথেই। অবশেষে নামটা পেলাম আমি,

– শীট ………………
– আসলেই …………
– কিভাবে সুখী দেখবে ওকে এখন ??

জানি না, আমি এখন আর কিছুই জানি না। সুর্যের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করি, সুর্যটা চোখের পাতাগুলো যেন পুড়িয়ে দিতে চাইছে। কেন ?

এ তুই কি করলিরে কাজল ? এটা কি করলি তুই ?

—————————————–

পরের গল্প

আজ কাজলের বিয়ে ………

৩,৮৬৯ বার দেখা হয়েছে

৪৭ টি মন্তব্য : “তুমি আজ ভালোবাসোনি ………”

  1. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    শালা, সিরিয়াল দেখতে দেখতে জায়গামত আটকায়া দেয়া ভালৈ রপ্ত কইরা ফেলছিস 😡 😡
    কিন্তু, কিন্তু 😡 😡
    দারুন লাগছে।

    তবে একটা জায়গায় তোর বিবেকের মত আমার বিবেকও একটা কুশ্চেন করছে আমারে 🙁 পরের বউ দেখে আর কদ্দিন ?? ;)) ;)) :-B :-B :(( :(( 😛 😛 ;;;


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  2. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    ধূরর মিয়া, তোমার ব্যান চাই :grr:

    আসলে দারুন লিখেছো, কি বলে যে প্রশংসা করবো বুঝতে পারছি না ~x( ।

    বেচারী নায়কের কথা ভেবে শুধুই মনে হচ্ছে, আহা!


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন
  3. তানভীর (৯৪-০০)

    মইনুল ভাই, অসাধারণ।
    আপনার এই সিরিজটা খুব খুব ভালো লাগছে। বুঝাই যায়, আপনি অনেক কিছু খুঁটিয়ে দেখেন, আপনার লেখায়ও সেই জিনিসগুলো চলে আসে।
    পরের পর্ব কবে দিচ্ছেন?

    জবাব দিন
  4. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    পেচগী লাগায় ফেলছি, অনুপ, নুপুর, অঞ্জলি আবির নামগুলা কাছাকাছি হওয়াতে বিরাট গিট্টু লাগি গেছে। গিট্টু ছাড়াইতে গেলে আবার নতুন কইরা পড়তে হইব,

    পরুম, আগে শেষ কর। তুমি ভোগাইবা মনে হচ্ছে।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  5. মাসুদুর রহমান (৯৬-০২)

    আপনার লেখা পরার আর সাহস হচ্ছে না। আপনি অর্ধেক লেখাতেই আমার দম বন্ধ করে দিয়েছেন। পুরোটা পরলে নির্ঘাত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তারপরো আরেকবার TRY করব।

    জবাব দিন
  6. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    ডায়েরীতে কার নাম দেখল? নিজের নামই তো তাই না? তাহলে তো বেশি প্রব্লেম হওয়ার কথা না। দেখা যাক শেষ পর্বের অপেক্ষায়।
    চল চল চল
    মঈনুল ভাই বস।
    কপিরাইট জানি কার ভুইলা গেছি।

    জবাব দিন
  7. সামি হক (৯০-৯৬)

    যেইভাবে শেষ করছিলা তাতে ভাবছিলাম যে এইটাই শেষ পর্ব...কিন্তু পরে তোমার কমেন্ট দেখে ভুল ভাংল। কেন জানি আমার গল্পটা এখানেই শেষ হিসাবে পড়তে ইচ্ছা করছে, পাঠক যা ইচ্ছে সেইভাবে শেষটা কল্পনা করে নিতে পারবে।

    তবুও অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের।

    শুভ কামনা সব সময়...

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।