বৃষ্টি এবং ফুটবল এর গল্প

কালকে রাত এ অফিস এর কিছু প্রোগ্রামিং নিয়ে কাজ করছিলাম। কাজ করতে করতে কখন যে রাত পার হয়ে ভোর হয়ে গেছে টের পাই নাই। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি ভোরের আলো এবং বৃষ্টি। বৃষ্টি দেখেই মনে পড়ে গেলো কলেজ এর সকাল এর কথা । প্রতিদিন পিটি এর সময় চিন্তা করতাম বৃষ্টি নামে না কেনো? ইস , একটু বৃষ্টি নামলেই ত সবাই দোয়া করতাম আরেকটু জোরে নামতো যদি। আর পিটি তে যাবার পর যদি বৃষ্টি নামতো, সেদিন তো ঈদ এর মতো মনে হতো। কারন হাউসে এসে ১০-১৫মিনিটের ঘুমটা কি যে ভালো লাগতো।

বৃষ্টি এর সাথে ফুটবল এর ১টা অদ্ভুত সম্পক আছে। তাই বৃষ্টি এর সাথে ফুটবল এর কথা না বললেই না।

আমরা তখন ক্লাস টুয়েলভ এ। আইসিসিএফএম খেলতে গেলাম ১৯৯৯ এ রংপুর এ। (সাইফ আল দিন তুই যে কেনো যাস নাই আমি এখনও চিন্তা করি) আমরা ছিলাম আগের বারের চ্যাম্পিয়ন। তাই আমাদের সাথে প্রথম খেলা স্বাগতিক রংপুর এর। আগের মাঠ দেখেই টাসকি খেলাম। এতো বড় কেনো মাঠ। ওটা তো প্রায় ২টা ফুটবল মাঠ এর কাছাকাছি। পরে শুনলাম রংপুর ইচ্ছে করেই করেছে এই কাজ এবং ওরা প্রায় ৩ মাস প্র্যাকটিস করেছে ওই মাঠে। (ভাই, রংপুরের কেউ মাইন্ড কইরেন না, আমাদের দোস্তরাই বলছিলো )। যাই হোক, আমরা ১ দিন প্র্যাকটিস করলাম ওই মাঠে। খেলার আগের দিন সারাদিন, সারারাত বৃষ্টি। সেকি বৃষ্টি। ভালই হ্ল, হাউসে ৮ কলেজ কঠিন আড্ডা দিলাম। (পাবনা কেনো যেনো নিজেরা নিজেরা থাকতো। ) তো ম্যাচ এর দিন আমরা নতুন ড্রেস, বুট , গ্লাভস ইত্যাদি পড়ে মাঠে গেলাম। গিয়ে দেখি, বৃষ্টি বাবাজি তখনো চলছে। আমি গিয়ে পোষ্টে দাড়ালাম। আমার বুট পুরোটাই পানির নিচে। যাই হোক খেলা শুরু করলাম। ভালই চলছিলো। ১০ মিনিটে আমরা গোলও পেয়ে গেলাম। ইতিমধ্যে আমি প্রচুর গালি পাচ্ছি বিনামূল্যে। কারন আমি গোলকিপার। আর আমার পোষ্ট এর পিছনে স্বাগতিক দর্শক। বুঝতেই পারছেন। অনেক ধরনের গালি শিখলাম ওইদিন। কিছক্ষন পর ১টা শট ধরতে গিয়ে আমি দেখি পানিতে সাঁতার দিয়ে ডি বক্স এর অনেক বাইরে আর রংপুরের ১ জন ড্রাইভ দিয়ে বল সহ পোষ্টের ভিতর। ওই ম্যাচ আমরা হেরেছিলাম ৪-২ গোল এ।

কলেজ থেকে বের হয়ে ভার্সিটি তে আসলাম। যেহেতু বেসরকারি, তাই খেলাধূলার তেমন সুযোগ নাই। তো ১ বছর পর হঠাৎ আসলো Inter Private University Football tournament. যাক, খুশি লাগলো আবার খেলতে পারবো। যথারীতি আমি আবার কীপার। তো কোয়ার্টার ফাইনাল এ খেলা ইবাইস ভার্সিটি এর সাথে। যথারীতি বৃষ্টি তে। ওদের টীম এ আবার জাতীয় দলের ৭-৮ জন প্লেয়ার। আমিনুল, জনি, আরমান আরো কে কে যেনো। তারা নাকি এম বি এ করছে। যদিও আমরা জানি খেলার জন্যই ওদের আনা হয়েছে। আর আমাদের দল এ আমরা ২-৩ জন ছাড়া সবাই ফার্মের মুরগি। (:)) সবাই বুঝতেই পারছেন ওদের সাথে খেলতে গিয়ে আমাদের কি অবস্থা হতে পারে। তাও আমরা খারাপ খেল্লাম না। ৩-১ এ হারলাম। আর আমি ১টি পেনাল্টি আটকিয়ে বাফুফে থেকে man of the match পেয়েছিলাম (নিজের ঢোল নিজে পিটাও)। ওই বছর আমরা ফেয়ার প্লে ট্রফি ও পেলাম।

তার পর শুরু করলাম অফিস লাইফ। এখানে প্রতি বছর ফুটবল হয়। তো ২০০৭ এ গিয়েছিলাম নারায়নগঞ্জ প্রীতি ম্যাচ খেলতে। গ্রামীন ফোন বনাম নারায়নগঞ্জ ক্লাব। গিয়ে দেখি অইদিন ওদের এমন অনেক প্লেয়ার আছে যারা বাংলাদেশ এ অনেক নামী দামী। যেমন চুন্নু, জাকির, আসলাম। আবারো সেই বৃষ্টি। বৃষ্টি এর কারনেই অইদিন আমরা সম্মান নিয়ে আসতে পেরেছিলাম। বৃষ্টির জন্য তারা বেশি ভালো খেলতে পারলোনা। ৩-১ এ হারলাম।

তাই আমার হারগুলার সাথে বৃষ্টির ১ টা অদ্ভুত সম্পর্ক আছে। জিতেছি অনেক। ওগুলা নাহয় আরেকদিন বলব।

১,৪০৭ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “বৃষ্টি এবং ফুটবল এর গল্প”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আমাদের কলেজে যতই বৃষ্টি পড়ুক না কেন কলেজ বেল পড়ার ঠিক ১৫ মিনিট আগে কেন জানি থেমে যেত।কারণ্টা আজও খুঁজে পাইনি।বোধহয় প্রকৃতিও চাইত আমরা সুঠাম দেহের অধিকারী হয়ে উঠি।দারুণ লেখা,প্রিন্স ভাই!

    জবাব দিন
  2. এরকম হলে আমি খালি আকাশের দিকে তাকিয়ে গালিগালাজ করতাম।
    আর আমরা ক্যাডেট লাইফে কখন বৃষ্টির কারনে জুম্মা নামাজ মিস হইনি......
    শুধু আমাদের ব্যাচ না,আমাদের আগের ১০ বছরেও নাকি এমন রেকর্ড ছিল না।

    জবাব দিন
  3. হাসনাইন (৯৯-০৫)

    আইসিসি -এর প্রাক্টিসে ভাই মজাই আলাদা... 😀 । সকালে সবাই ব্লকে চলে যাওয়ার পর প্রাক্টিস শেষে গরম গরম পরোটা... 😛 চাকুম চাকুম...। এক্সট্রা ডায়েট ...। হা হা হা

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।