উদ্ভট ফ্যান্টাসী-০৩

উদ্ভট ফ্যান্টাসী – ০১
উদ্ভট ফ্যান্টাসী – ০২

৩য় পর্বঃ
(ওইযে একটা প্রবাদ আছে না, নিজের পায়ে কুড়াল মারা, আমার হয়েছে সেই দশা। কিভাবে যেনো এই সিরিজের দুটি পর্ব লিখে ফেলেছিলাম। আসলে সবসময়ই সাইন্স ফিকশনের পোকা ছিলাম। অনেক আগের শখ ছিলো লিখার। কিন্তু দুটি পর্ব লিখার পর বিভিন্ন কারনে আর লেখা হচ্ছিলো না। এর মাঝে দেশের বাইরেও ছিলাম অনেকদিন। আর না লেখার কারনে ডেইলী কাইউম ভাই ম্যাসেঞ্জারে আল্টিমেটাম দেয় কবে দিবি উদ্ভট এর পরের পর্ব? তাই আবারো চেষ্টা কিছু উদ্ভট লেখার। যাক, ভুমিকা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে।)

রিকান আমাকে ডেকে বললো “স্যার আপনার কি মনে হয় আমাদের এই মহাকাশযানের দায়িত্ত একটা রোবটের উপর দেয়া ঠিক হচ্ছে?”
“রিকান, ও কোনো সাধারন রোবট না। এনরয়েড-৯। যাকে আন্তঃ গ্যালাক্সী কাউন্সিল মানুষের সম পর্যায়ের মর্যাদা দিয়েছে। আর তুমি কিন্তু এইমাত্র একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছো। মনে আছে গত শতাব্দীতে রোবট কে রোবট বলার উপর নিষেধ জারি করা হয়েছে।আর আমার মনে হয় সে পারবে। আর ক্রিনি তো সবসময় আমাকে রিপোর্ট পাঠাবেই”।
রিকানঃ “ঠিক আছে। আপনি যেমন মনে করেন।”
আমি ক্লান্ত। গত এক বছর ধরে আমি এই মহাকাশ যান পরিচালনা করছি। যদিও আমার করার কথা না। কিন্তু এর উদ্দেশের কারনে আমাকে দেয়া হয়েছে। আমরা এটি নিয়ে গিয়েছিলাম গ্যালাক্সী-আর৬ এর নবম সৌরজগতের ২য় গ্রহে। যেখানে আরেকটি সভ্যতা আছে, অনেকটা মানুষের কাছাকাছি।
আমাদের যাবার কারন ছিলো, দুই সম্প্রদায়ের মাঝে প্রযুক্তি বিনিময়। আমরা আমাদের গুলো অদের দেখিয়েছি। আর বিনিময়ে ওদের গুলো আমরা পেয়েছি। তবে এর মাঝে যেই প্রযুক্তি টা আমার সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে সেটি হলো অন্ত্রদেস্ত্রে (ওদের ভাষায়)।
আমি এটার নাম দিয়েছি ইউনো ল্যাংগুয়েজ। আসলে এটি একটি কনসেপ্ট, যা আমাদের এতো দিনকার ধারনা সম্পূর্ন বদলে দিবে। আমার ব্যাক্তিগত ধারনা, আমাদের গ্যালাক্সী এখনো এটার জন্য প্রস্তুত না।
এটার যদি সাধারন ভাষায় ধারনা দেই, তাহলে এরকম হবে, আমাদের যতো কম্পিউটার প্রযুক্তি বলি সবই হলো প্রোগ্রামিং। আর এই প্রোগ্রামিং এর মূল হলো ০ আর ১। আমরা যাই করি বা যন্ত্র দিয়ে করাই না কেনো, যন্ত্র বুঝে ০ অথবা ১।
কিন্তু এই ইউনো ভাষায় ওরা ব্যবহার করেছে শুধু মাত্র শূন্য (০)।আমাদের আগেকার পন্ডিতরা বলতেন , শূন্যের খমতা অসীম। এটা মনে হয় এতো দিনে বাস্তব হতে চলেছে। শুধু একটি মূল উপাদান বলে এর ব্যবহার ও অনেক গুনে বেশি। এটি শক্তিশালীও বটে। এটি দিয়ে যেকোনো প্রোগ্রাম করা সম্ভব।
ভয়টা এখানেই। যেহেতু এটি প্রচলিত বাইনারী সিস্টেম থেকে শক্তিশালী, তাই যদি এটি মন্দ হাতে পড়ে তাহলে যেকোনো কিছু করা সম্ভব। কারন এটি দিয়ে যেকোনো কোড ব্রেক করা সম্ভব। আমাদের আদি গ্রহের বানানো যেকোনো সিকিউরিটি ভেংগে দেয়া সম্ভব।এটি দিয়ে যেকোনো স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রন নেয়া যাবে চোখের পলকে,কম্পিউটার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যেকোনো কিছুর দখল নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা যাবে।
ক্রিনি এর ডাকে আবার বাস্তবে ফিরি।
“আপনার সেলকেটর (সেলফোন + কমিউনিকেটর)এ একটি সংকেত এসেছে, যা দেখে আপনি বরাবরের মতো উত্তেজিত হবার সম্ভাবনা ৯৯.২% ”
ওহ, কতোদিন পর।এ নির্ঘাত টুসকি।
আসলেই। টুসকি-২২৫৭।সায়েদ ভাইও আজকাল আমার মতো ফাকিবাজ হয়ে গেছে। আগে কতো ঘন ঘন লিখতো। আর এখন অনেকদিন পর পর। তাও মাঝে মাঝে না লিখে চিন্তার ম্যাপিং পাঠিয়ে দেয়। সানা ভাই কে বলে উনাকে পাংগার ব্যবস্তা করতে হবে। সানা ভাই আবার বিশাল সেলিব্রেটি। মিডিয়া গ্রেট।
যাক, আগে টুসকি পড়ি। যা ভেবেছিলাম। সায়েদ ভাই চিন্তার ম্যাপিং দিয়েছে। আর কমেন্ট যথারিতি তাইফু ভাই প্রথম, কাইউম ভাই ২য় আর তানভীর ৩য়।
হঠাত মূল কম্পিউটার কিরিক্রি এর ইমারজেন্সী সিগনাল।
“একটি অচেনা মহাকাশযান হাইপার ডাইভের মাধ্যমে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। মূল ডাটাবেস এর যোগাযোগ করার পর জানা গেছে, এটি গতো শতাব্দীতে পাঠানো হয়েছিলো এবং অজানা কারনে এর সব যাত্রী মারা গিয়েছিলো।”
ওকে বললাম “কতখন লাগবে মুখোমুখি হতে?”
কিরিক্রি এর উত্তরঃ “৫৬ মিনিট ০৩ সেকেন্ড। আর সংঘর্ষ হলে টিকে থাকার সম্ভাবনা ০.০৭ ভাগ”।
(চলবে…)

৩,৬৮৩ বার দেখা হয়েছে

৫৪ টি মন্তব্য : “উদ্ভট ফ্যান্টাসী-০৩”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    প্রথমে ঠিক করছিলাম প্রতিদিন এক লাইন করে পড়ব... :dreamy:
    কারণ এর পরের টা রবিন ভাই নিশ্চয়ই ছয় মাসের আগে দেবেন না... :-B
    কিন্তু পড়তে গিয়ে পুরাটা পড়ে ফেলেছি... :bash:
    এত সুন্দর করে লিখলে কি আর না পড়ে থাকা যায়?????? :thumbup: :thumbup: :thumbup:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    রবিন সুন্দর লিখছিস :clap: :clap:
    তবে আগেরগুলার সাথে যেরকম বঙ্গোপসাগর মার্কা গ্যাপ দিছোস, সব ভুলে গেছিলাম, আবার গিয়া রিভিশন দিতে হইছে x-( x-(
    যাহোক, এই পার্ট টা আরেকটু বড় করলে আরো ভালো হইত। 🙂 পরের পর্ব কুইক দিতে হইব এখন 😀


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  3. তানভীর (৯৪-০০)

    রবিন, চরম হইছে দোস্ত! :thumbup: :thumbup:

    আমিও কাইয়ূম ভাইয়ের মত আগের পর্বগুলা ভুইল্যা গেছিলাম, এখন আবার পড়লাম।

    পরের পর্বটা একটু তাড়াতাড়ি দিস, নাইলে তো আবার পুরানো পর্বগুলা পইড়া আসতে হবে।

    জবাব দিন
  4. তাইফুর (৯২-৯৮)

    বাইনারী আর ইউনো ... শূণ্যের ক্ষমতা ... ফ্যান্টাসী অসাধারণ ছিল। :boss:
    নীচে চলবে লেখসিছ, ভাল ... কবে চলবে তা তো কইলি না ... x-(
    কতদিন পরে দিবি একটা ধারণা যদি দিতি ... 😀


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  5. সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

    রবিন,
    লেখা ফাটাফাটি হইসে... :thumbup:

    পরের পর্বে জুনা রে কোন চরিত্র দেয়া যায়না?

    গ্রিশিন গ্রহের কিম্ভুতকিমাকার জন্তু জাতীয়, যে একই সঙ্গে প্রাণী আবার উদ্ভিদও 😛


    "আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
    আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস"

    জবাব দিন
  6. পুরো লেখাটি পড়ার ধৈর্য পেলাম না। কারন কাজী আনোয়ার হোসেন এর মাসুদ রানা সিরিজের হ্যাকার ১ ও হ্যাকার ২ বইটা আমি পড়েছি। ইউনো কোড এর ধারনা টা লেখক মে বি এখান থেকেই নিয়েছেন।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।