স্মৃতি খুঁড়ে খুঁড়ে

আজ বহুদিন পর ফজলুল করিম স্যারের কথা ভীষণ মনে পড়ছে। আমাদের এফ কে স্যার। বছরের শেষ দিকটায় তিন/চার দিন জুড়ে কলেজে যখন ক্রিকেটের ধুম মৌসুম, সে সময় আমরা এফ কে স্যারকে ব্যাটে-বলে মাঠে নেমে পড়তে দেখতাম প্রিয় ছাত্রদের সাথে। তাঁর চোখে-মুখে তারুণ্যের অরুণ আলোর ঝিলিক। তাঁর হৃদয়ে ধানের গুচ্ছের মতো সবুজ ভালোবাসার বন্যা। আমার সহপাঠীদের মধ্যে নাহিদ, সাব্বির, এনাম ক্ষুদে বয়সেই ছিল তুখোড় ব্যাটসম্যান। ফয়সালের ছিল চোখ ধাঁধিয়ে দেয়া উড়ন্ত ঘুর্ণিবলের দুরন্ত গতি।

বিস্তারিত»

প্রথম দিন

১। নোঙ্গর তোলা

উনিশ শো আটাত্তরের জুন, বাংলা তেরোশো পঁচাশি সনের আষাঢ় মাস। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সবে সাত বছরের কিশোর তখন। মৌসুমী হাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের জলভরা মেঘ এসে বাংলার সবুজ প্রান্তরের উপরে ফেলেছে প্রগাঢ় ছায়া। দুরন্ত ছেলের মত থেকে থেকে মাটির বুকে আছড়ে পড়ে ঝমাঝম বৃষ্টি। আবার ক্ষনিকের বিরতিতে সূর্য তার রাজ্যপাট দেখে যায়। এই মেঘবৃষ্টি রৌদ্রছায়ার খেলায় বিভোর যখন চরাচর, আমি এবং আমার মতো আরো জনা পঞ্চাশেক কিশোরের জীবনে এক আশ্চর্য্য ভ্রমনের শুরু ঠিক অখন।

বিস্তারিত»

স্মৃতিনামচায় শৈশব আর বিলুপ্ত রেওয়াজের ঘেরাটোপ

আমাদের ছোটোবেলায় রোজার মাসের আগে থেকেই এক রকম রেওয়াজ-রীতির আয়োজন আর উদগ্রীব অপেক্ষা শুরু হতো।

শৈশবের এই বিষয়ক ভাবনার শুরুটা ছিলো কে কয়টা রোজা রাখতে পারলাম এটা নিয়ে। যে বেশী রাখলো তার বুকের ছাতি নাসের ভুলু পালোয়ান। আর অন্যরা সব যেনো রবিউল (ঐ আমলের হার জিরজিরে খ্যাংড়া কাঠি কৌতুক অভিনেতা)।

পাড়ায় মহল্লায় ছেলে পুলেদের আর একটা প্রতিযোগিতা ছিলো তারাবীর নামাজ পড়া নিয়ে।

বিস্তারিত»

একটি ঘাসফুল গাছের আত্মকাহিনী

কখন কিভাবে এবং কোথায় আমার জন্ম হয়েছে ঠিক বলতে পারব না তবে যখন থেকে পৃথিবীর আলোবাতাস বুঝতে শিখেছি তখন থেকে দেখছি আমি এক লম্বা করিডোরের এক রুমের সামনে এক টবের মধ্যে অবস্থান করছি। সামনের রুমের নাম্বারটা দেখা যায়। ৩২৯ নাম্বার রুম। আশেপাশে যারা চলাচল করে তাদের থেকে শুনেছি এটা হচ্ছে ওমর ফারুক হাউজ, কলেজের নাম রংপুর ক্যাডেট কলেজ। আর আমি যে করিডোরে আছি এটা হচ্ছে সিনিয়র ব্লক।

বিস্তারিত»

সাদা বাড়ীর রহস্য

ইউনিভার্সিটি এভেন্যুর এক ধারে বিরাট ক্যাম্পাস, অন্য ধারে গরিব মহল্লা। লোকে বলে টেক গেটো। কথাটা একেবারে উড়িয়ে দেবার মত নয়। সারা এলাকা জুড়ে সারি সারি আপরিচ্ছন্ন জরাজীর্ণ বাড়ি, সামনে পেছনে জং ধরা তারের কি রংচটা কাঠের বেড়া, আর কাঁটা ঝোপের জঙ্গল। সাথে মানানসই পুরোনো ঢাউস গাড়ি, লোম উঠা কুকুর, ভাঙ্গাচোরা যন্ত্রপাতি। মার্কিন দেশের ঝাঁ চকচকে চেহারাটা এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখানে থাকে যত বিদেশী ছাত্রছাত্রী।

বিস্তারিত»

আমার প্রাণের ‘পরে চলে গেল কে

আমার কৃষ্ণকায় নির্ঘুম রাতগুলোতে জালালুদ্দিন রুমি এলেন খানিক আলোর দিশা হয়ে। প্রভাতের ঝরে পড়া শিউলির মত সবার অলক্ষে নিজের অসামান্য সুর আর সুরভিটুকু বিলিয়ে রুমি আমার ঠাকুরের মতই বলতে চাইলেন, তোমারে দাও আশা পুরাও তুমি এসো কাছে। আমি সেই সময়ের কথা বলছি যখন বেনে জ্যোৎস্নার আলো আমায় ভাসিয়ে নেবার বদলে নিমজ্জিত করেছে অপার অন্ধকারে। কাঁচের জানালার ফোঁকর গলে যে এক টুকরো আকাশ আমার ঘরে ঢুকে পড়তো তার সাথেই আমার নিত্যদিনের যোগাযোগ ছিল শুধু।

বিস্তারিত»

ত্রিরঙ্গ-চতুরঙ্গে মানসপটে ফৌজদারহাটের পঞ্চভুত

পাহাড়-সমুদ্র-সমতট। পাহাড় তো নয়, ঢেউ খেলানো ভূমির বাঁক যেনো ছন্দবদ্ধ তালে-লয়ে অবিরাম আছড়ে পড়ছে খোল-করতাল-মাদলে-বীণায় মনের গহীণ সন্তর্পে। সমতটের বিস্তৃতি অন্তর্গত ভাবনা-চিন্তা-চৈতন্যে ক্রমশ: বাড়িয়ে যেতে থাকে তার বিস্তার। আর সমুদ্র ! বিশালত্বে উদ্বেল সুপ্রসারিত দু’হাত মেলা মনের ক্যানভাসে, আঁকে ছবি অন্তহীন, ভেঙে দিয়ে গোপন সব প্রকোষ্ঠ। এই তিনের সাথে জুড়ি দেয়া অবারিত উদার আকাশ ত্রিবৈচিত্রের নিয়ত উন্মীলন সংগী। আর কি চাই !

একটি মানুষ।

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ স্যাডেল ইয়োর ড্রিমস বিফোর ইউ রাইড ‘এম

দেশে যাতায়াতের জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্স আমাদের পছন্দের। ওদের প্লেনে উঠলেই দেশ দেশ একটা ভাব চলে আসে। তারা অনলাইনে এমিরেটসের মুভি লিস্টের পাত্তা লাগায়, সামনের দিকে সিটের বুকিং দেয় সাথে সাথেই। বাড়ির বাইরে পা দেয়া মাত্র আমার খাই খাই একটা ফিলিং শুরু হয়ে যায় সব সময়। যাত্রায় ভোজন নাস্তি’ কথাটি আমি খুব মানি। ভারী খাবার খাইনা বটে কিন্তু সামান্য বাদাম বা প্রেটসেলস অথবা আধা কাপ কমলার জুসে বেশ চলে যায়।

বিস্তারিত»

কলেজে রোজা

ক্লাশ সেভেনের বাচ্চা তখন।কলেজই ঠিক মত বুঝতে পারলাম না। দুপুরে ক্লাশ লিডার জিজ্ঞাসা করল শবে বরাতে রোজা রাখব কি না!!! ক্যাডেট কলেজে রোজা!!! ক্যামনে কি??
বুকে দম নিয়ে মুন্না ভাই কে জিজ্ঞাসা করতে যাব যে ওইদিনের শিডিউল কি তার আগেই মুন্না ভাই নিজে থেকে বলল,
– মজা আছে বুজছ!! রোজা রাখলে সারাদিন ঘুমাবা।
আমার চোখ দুটা বড় বড় হয়ে গেল। কন্ঠে অনেক বিস্ময়।।

বিস্তারিত»

পিঙ্ক ফ্লয়েড এর দেয়াল : একখানা মুভি

গানের ব্যাপারে নিজেকে আমি সর্বভুক বলেই দাবি করি.. তবুও কেউ যখন ফেভারিট আর্টিস্ট বা ব্যান্ড এর ব্যাপারে তখন আমি চোখ বন্ধ করে বলে দেই Pink Floyd এর কথা। পিঙ্ক ফ্লয়েড ইজ পিঙ্ক ফ্লয়েড। পিঙ্ক ফ্লয়েড এর নাম প্রথম শুনি পত্র পত্রিকায় আমাদের দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড এর ইন্টারভিউএ । তখন আমি স্কুলে পড়ি আরকি। সাংবাদিকরা যখন আমাদের দেশের বিভিন্ন আর্টিস্ট দের জিজ্ঞেস করে যে দেশের বাইরে তাদের ফেভারিট ব্যান্ড কি তখন সবাই কয়েকটা ব্যান্ড এর নাম বলে..

বিস্তারিত»

সালতামামি ১৪২১

সালতামামি ১৪২১

ঋতুভেদে বাংলাদেশের রুপবৈচিত্র্য কেমন ? প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে পদ্য বা গদ্য নিয়ে সালতামামি ১৪২১ লেখলে কেমন হয় ? ভেবেছিলাম ১৪২১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে। ওপর আলার রহমতে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় , শ্রাবণ ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ,ফাল্গুন , চৈত্র পেরিয়ে অবশেষে পৌছালাম আরেক বৈশাখে । বৈশাখ ১৪২২। বছরের প্রথম দিনেই সালতামামি প্রকাশ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আলসেমিতে কাজটা হয়ে ওঠেনি। এদিকে কালবৈশাখী অজুহাতে লোডশেডিং আরও ঝামেলা তৈরী করছে।

বিস্তারিত»

নবীশী কুচকাওয়াজ

নবীশী কুচকাওয়াজ

ক্যাডেট কলেজে আসার পর পরই শুনেছিলাম নভিসেস প্যারেড বলে একটা ভীষন ব্যাপার আছে। নতুন ক্যাডেটদের বেশ ভাল করে সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজ শেখানো হবে। তারপর তিন হাউসের মধ্যে প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে নাকি কপালে বিশেষ দুর্ভোগ আছে। আগের বছরে আমাদের বড়ভাইদের দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে নি। ফলে তাদের কেমন সাজা হয়েছিল তার রোমহর্ষক বিবরন কিছু শুনেছি। সেই থেকে আমার নিত্য এক দুশ্চিন্তা।

বিস্তারিত»

জার্মানির জার্নাল ২

সকালে হোটেলের রিসেপসনে ডাক পড়লো। ওলফ ওয়ান্ডারস নামে সিমেন্স থেকে একজন ভদ্রলোক এসেছেন। ওলফের সাথে রাতে কথা হয়েছিল। নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন লিয়াজো অফিসার হিসাবে। রিসেপসনে এসে জানা গেল তিনি শুধু লিয়াজো অফিসারই নন, সিমেন্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের এক জন শিক্ষকও বটে। তিনি আমাদের শেখাবেন হাইকম টেলিফোন এক্সচেঞ্জের নেট ওয়ার্কিং। ওলফের চেহারায় একটা সারল্য আছে, আর আলাপ চারিতায় আছে বন্ধুতা। পরিচয় পর্বের পর প্রত্যেককে একটি করে রেল পাশ আর পাতাল রেলের রূট ম্যাপ ধরিয়েদিলেন।

বিস্তারিত»

বাঘের দুধ

ক্লাস ইলেভেন, এ ফর্ম । একাডেমিক ব্লকের নিচের তলা । চতুর্থ পিরিয়ডের ঘন্টা পড়লো । ক্লাসে হাজারী স্যার কেমিস্ট্রি ফার্স্ট পার্ট খাতা নিয়ে আসলেন । খাতা দেয়া শুরু হলো ।

আশরাফ খাতা পেয়েই মুখ কালো করে বসে রইলো । সে ঘামছে আর বারবার কাউন্ট করছে । দুই তিন বার কাউন্ট করেই তার মুখ হাসি হাসি । এবার সে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে ।

বিস্তারিত»

প্রথম দিনের গল্প

২০০৪ সালের ১৪ ই এপ্রিল ছিলাম ময়মনসিংহে। আমার খালার বাসায় চলে এসেছিলাম। পহেলা বৈশাখ ছিল সেদিন। ক্লাস সেভেন পড়ুয়া ছেলে হিসেবে এই দিনে একটু বাইরে গিয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই স্বাভাবিক ছিল আমার জন্য। কিন্তু প্রচন্ড নার্ভাসনেস এর কারনে সেইদিন কোন কিছুই আর স্বাভাবিক লাগছিল না আমার। পরদিন জয়নিং ডেট.. মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে। চিন্তায় সেই রাতে ঘুম হয় নি ঠিকমতন। আচ্ছা, ধান ভানতে গিয়ে আমি শিবের গীত কেন গাচ্ছি?

বিস্তারিত»