আমাদের স্বাধীনতার গল্প

লেখকঃ  উখ্যইনু (১৫১৩) মাওয়া (১৫১৫) হৃদিতা (১৫১৬) জান্নাত (১৫৩১) তাসনিয়া (১৫৩৯) আশিফা (১৫৪৬) নুঝাত (১৫৫৭) সাবাবা (১৫৬১)। কলেজ ম্যাগাজিনে ছাপা হওয়া লেখাটিকে এই চার বছর পর ডক ফাইলে এ রুপান্তর করেছেন জান্নাত (১৫৩১)।

(কলেজের শেষ বছর কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য আমরা আট জন মিলে লিখেছিলাম “আমাদের স্বাধীনতার গল্প”। মূলত, স্মৃতিচারণ করতে করতেই লিখে ফেলেছিলাম এটি। গল্পের নাম স্বাধীনতার গল্প হবার পেছনের অন্যতম কারন হচ্ছে আমাদের ক্যাডেট কলেজে পদার্পণ করি পঁচিশে মার্চ।

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ২৪

12077386_10206498642680049_769358395_n
JRS এর এই ছবিটা ২০১৪ এর মধ্য জুলাই এ তোলা হয়েছে, লন্ডনে।

কিংবদন্তী শিক্ষক JRS
এমসিসি তে এসে প্রথম যেদিন থেকে ক্লাসে যোগদান করলাম, সেদিন থেকেই জেনেছিলাম এখানকার শিক্ষকগণ তাদের নামের আদ্যোক্ষর দিয়ে পরিচিত। যেমন নাজমুল আহসান-NA, নূরুল ইসলাম-NI, হায়দার আলী-HA, ইত্যাদি। প্রথম দিনের ইংরেজী ক্লাসের শিক্ষক হিসেবে ক্লাস রুটিনে দেখলাম নাম লেখা আছে JRS। কল্পনা করতে থাকলাম,

বিস্তারিত»

ববি ডারিন – “ভুল সময়” যাকে “কিংবদন্তি” হতে দেয়নি

“কাম সেপ্টেম্বর” ছবিটা তরুণ্যের কালে বিটিভিতে দেখেছিলাম।
কিন্তু তখন রক হাডসন আর জিনা লোলা ব্রিজিডাকে দেখায় এতটাই মশগুল হয়ে ছিলাম যে এ ছবির তরুণ সাপোর্টিং একটর-একট্রেসদের কে লক্ষ করা হয়নি সেভাবে।
তাছাড়া তখনতো আর তথ্য-প্রযুক্তির কাল আসে নাই, তাই পরে তাঁরা এছবি থেকে কি কি স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন, তার কোন কিছুও জানা হয়নি আর।

কিছুদিন আগে অনেকটা হঠাৎ করেই এক বন্ধুর কাছে জানলাম,

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ২৩

আমার শিক্ষকেরাঃ
জনাব আব্দুল্লাহ আল আমিন
জনাব আব্দুল্লাহ আল আমিন আমাদের বাংলার শিক্ষক ছিলেন, তবে ইংরেজীতেও তাঁর বেশ ভালো দখল ছিলো। একইসাথে তিনি নজরুল হাউসের হাউস মাস্টারও ছিলেন। প্রতিদিন সিরিয়াসলী পড়াতেন না, কিন্তু যেদিন তাঁর পড়ানোর মুড আসতো, সেদিন তিনি পিন পতন নিস্তব্ধতার মাঝে গড়গড় করে লেকচার দিয়ে যেতেন। আমরা হয়ে থাকতাম তাঁর বিমুগ্ধ শ্রোতা। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দ্বিজেন্দ্রলাল, গোলাম মোস্তফা, জসিম উদ্দিন প্রমুখ কবিদের লেখা থেকে তিনি প্রচুর রেফারেন্স টানতেন।

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ২২

আমার শিক্ষকেরাঃ
জনাব মাসউদ হাসান
সপ্তম শ্রেণীতে যাঁরা পড়াতে আসতেন, তাঁদেরকে বিষয় বিশেষজ্ঞ না হলেও চলতো। মনে আছে প্রথম দিন কিংবা প্রথম দিকের কোন একদিনে ভূগোলের শিক্ষক জনাব মাসউদ হাসান স্যার এসেছিলেন আমাদের পৌরনীতি পড়াতে। যেহেতু ইংরেজী মিডিয়াম, পৌরনীতিকে বলা হতো সিভিক্স। Civics, Geography এবং History, এই তিনটি বিষয়ের একত্রিত নাম ছিল সোশ্যাল স্টাডীজ। মাসুদ হাসান স্যার ক্লাসে এসে প্রথমে সংক্ষেপে তাঁর পরিচয় তুলে ধরলেন,

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ২১

পকেট মানি’র অবিশ্বাস্য বরকতঃ
প্রতি টার্মের শুরুতে আমাদের অভিভাবকদেরকে আমাদের পকেট মানি বাবদ কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট ৫০.০০ (পঞ্চাশ টাকা মাত্র) পাঠাতে হতো। আজকের দিনে কি এটা বিশ্বাস করা যাবে, যে তিন মাসের জন্য মাত্র পঞ্চাশ টাকা হাতখরচ? অথচ তখন এই ক্ষুদ্র এমাউন্ট থেকেও কিছুটা হলেও বাঁচানো সম্ভব হতো। কোন দুষ্টামির কারণে কিংবা কোন কিছু হারিয়ে ফেলার কারণে কারো কোন মাইনর ফাইন হলে সেটাও এখান থেকে মিটানো হতো।

বিস্তারিত»

সাদা বাড়ি থেকে ব্লগ বাড়ি

বিকেলের রোদ খানিক মরে এলে আমরা সত্যধামের ছাদে খেলতে যেতাম। আমাদের নিজেদের অতো বড় ছাদ থাকতে সত্যধামের ছাদে খেলতে যাওয়া কেনো সেটি একটি প্রশ্ন হতে পারে বটে কিন্তু উত্তর কে দেবে?

ময়মনসিংহে আমাদের বাবা চাচাদের বাড়িগুলো পাশাপাশি। আমাদের তিনটে বাড়িই দোতলা; সাদা রঙের। বড় চাচার বাড়িটি মাঝে, হাতের ডানে আমাদের বাড়ি; বাঁয়ে ছোট চাচার। আমাদের বাড়িটির সামনে বড়সড় একটি বাগানবিলাস আছে; ডালপালা মেলে সেটি তিনতলার ছাদ অবধি ছুঁয়েছে।

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ২০

প্রথম কোন শিক্ষকের বিদায়ঃ
যে শিক্ষক আমাদের প্রথম পাক্ষিক পরীক্ষাটি নিয়েছিলেন এবং যাঁর পরীক্ষায় আমি আমাদের সেকশনে প্রথম পরীক্ষাতেই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলাম, তিনিই দুর্ভাগ্যক্রমে সবার আগে আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন জনাব হাফিজ উদ্দিন খান। মূলতঃ পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক হলেও তিনি সপ্তম শ্রেণীতে আমাদের অঙ্ক ও জ্যামিতির ক্লাসগুলো নিতেন। তিনি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন। ঐ অল্প ক’দিনেই আমরা তাঁর কাছ থেকে অনেক ভালো ভালো উপদেশ পেয়েছিলাম।

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ১৯

চলনে বলনে, পোষাক পরিচ্ছদে, কথা বার্তায়, সব কিছুতেই উইং কমান্ডার কীয়ানির একটা সফিস্টিকেশন ছিলো। অত্যন্ত সুদর্শন এই এয়ারফোর্স অফিসার চিত্রজগতে প্রবেশ করলেও যে তিনি বক্স অফিস তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াতেন, সে কথা প্রায় নিঃসন্দেহে বলা যায়। ঐ সময়ে দেশের সিনেমাহল গুলোতে একটা জনপ্রিয় ইংরেজী ছায়াছবি The Night Of The Generals চলছিলো। সেই ছবির অন্যতম নায়ক Peter O’ Toole এর সাথে তাঁর চেহারা, চালচলন এবং স্বভাবের অনেক মিল ছিলো।

বিস্তারিত»

৭৩ এর যুদ্ধবন্দী

ব্যাপারটা যে কাকতালীয় তাতে সন্দেহ নেই – “সবুজ সিল্ক শাড়ী” পরা মহিলাটির সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। আমি তাকে দেখামাত্রই চিনতে পেরেছি। ইন ফ্যাক্ট আমরা চোখাচোখি হওয়া মাত্র একে অন্যকে চিনতে পেরেছি। সে আমার দিকে হাত নাড়ল। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর একসাথে বসব বলে সাব্যস্ত হল।

১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরের কোন এক সকালে তার সাথে আমার প্রথম ও শেষ দেখা। ১৯৭১ এর পাক-ভারত যুদ্ধের সহস্র যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে সেও একজন।

বিস্তারিত»

কলেজ জীবনের সাতকাহন (গ্যাং অব চোর) – শেষ পর্ব

আগের পর্ব

“এই! আপনাঁরা এখানে কীঁ করশেন ষ্যার?”

– সাইদ বিশ্বাস স্যারের ট্রেডমার্ক আওয়াজ। উপরে তাকিয়ে দেখি, হ্যাঁ তিনিই। বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের ঠিক উপরে দোতলার বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঈশ! টাইমিংটা একটু এদিক সেদিক হলেই ওনার শ্যেনদৃষ্টিটা এড়ানো যেত। জানি, এসময়ে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হয়। মাথার ভিতরে ঢ্যাঢ্যাং ঢ্যাঢ্যাং করে ছয় বছর আগে শোনা সিএইচএম শহিদ ওস্তাদের অমোঘ বানী বাজতে লাগলো,

বিস্তারিত»

চিন্তা খেলা করে ১

মনখারাপের সুর

ম্যাকাও পাখির মতো মন খারাপ করে বসে ছিলাম সারা বিকেল, সারা সন্ধ্যা। ছুটির এইসব একান্ত অবসরে ইদানিং একাকিত্বই ভালো লাগে। একাকিত্বের কাছে সময় চাইলে কখনোই ফিরিয়ে দ্যায় না ও। এছাড়া শহরভর্তী অগুণতি ব্যস্ত মানুষ। কার কাছে সময় চেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি, তাই একাই এ শহর হেঁটে বেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। শহরভর্তী মায়া মায়া মানুষ। যেন ঈদ উদযাপন। প্রেমিকাদের পারফিউমের গন্ধে সমাচ্ছন্ন প্রেমিকেরা ঘুরে বেড়ায় চারপাশে।

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ১৮

এমসিসি’র তৃতীয় (আমাদের দেখা দ্বিতীয়) প্রিন্সিপাল উইং কমান্ডার সুলেমান হায়দার কাইয়ানিঃ
১৯৬৯ সালের শেষের দিকে কর্ণেল আনসারী আমাদের কলেজে চাকুরী শেষ করে পাকিস্তানে ফিরে যান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (আরসিসি) এর তৎকালীন অধ্যক্ষ উইং কমান্ডার সুলেমান হায়দার কাইয়ানি। উল্লেখ্য, ‘কাইয়ানি’কে ‘কীয়ানি’ উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। আমাদের পাড়ার একজন সিনিয়র ভাই তখন আরসিসিতে পড়তেন। কলেজ ছুটির সময়ে আমরা কখনো কখনো একত্র হয়ে গল্পগুজব করতাম।

বিস্তারিত»

বন্দী নিশাচর

রাত বারোটা-
সবে তো রাত শুরু
জেগে উঠছে কিছু আজব প্রাণীর দল।
ক্লাশ টুয়েলভের সবচেয়ে সুবোধ বালকটা
মাত্র রুমের দরজা খুলে বের হল।
ডিউটি মাস্টার চলে গেছে-
হাউস বেয়ারাও ব্যস্ত সুখের নিদ্রায়,
মোবাইলের চার্জও শেষ।
এইত সময়-
ছক কষার।
হাতে অনেক কাজ বাকি-
টিভি রুমটা খুলতে হবে,
চ্যাম্পিয়নস লীগের ম্যাচ আছে-
অমুকের মনটা আজ ভাল নেই,তাই-
সে ব্যস্ত টেংকিতে ওঠার রাস্তা বানাতে,

বিস্তারিত»

জীবনের জার্নাল – ১৭

তৃতীয় এ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন এ কাইয়ুম মালিক, আর্টিলারীঃ
ক্যাপ্টেন আনোয়ার আমাদের কলেজের এ্যাডজুট্যান্ট থাকা অবস্থাতেই মেজর পদবীতে উন্নীত হয়েছিলেন। পদোন্নতির পর তাঁর বদলির আদেশ আসে। আর্টিলারী কোর এর ক্যাপ্টেন এ, কাইয়ুম মালিক তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। নতুন এ্যাডজুট্যান্ট দেখতে খুব ইয়ং লুকিং ও সুদর্শন ছিলেন, নম্রতা ভব্যতার দিকেও একটু এগিয়েই ছিলেন বলতে হয়। তার তুলনায় আমার মনে হয় ক্যাপ্টেন আনোয়ার একটু বেশী রাফ এ্যান্ড টাফ ছিলেন হয়তো এ কারণে যে তিনি আমাদের সিনিয়র ভাইদেরকে কাকুলস্থ পাকিস্তান মিলিটারী একাডেমীর কঠোর প্রশিক্ষণ পরিবেশের সাথে এখান থেকেই কিছুটা ধাতস্থ করে তুলতে চেয়েছিলেন।

বিস্তারিত»