সামনে পরীক্ষা। তাই ঘুরাফিরা,খেলাধুলা, কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে দিয়েছি। এখন গায়ে রোদ জড়ায়ে সারাদিন বসে থাকি আর সিগারেট ফুঁকি। ঘুম থেকে উঠে গোসলের আগ পর্যন্ত,আবার গোসলের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। নিয়মিত দুই বেলা। গত দুইদিন রোদ নেই, তাই মনও ভাল নেই।
আজ রোদ উঠেছে, পরীক্ষা উপলক্ষে একটা ঘড়ি কিনে দিয়েছে বন্ধু পলাশ। আনন্দ সীমা অতিক্রম করার কথা। অথচ মন ভাল নেই। অনেক দূর থেকে ভেসে আসা একলা পাখিটার ডাকে ঘুম ভেঙেছে।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃএকান্তই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
কলেজ থেকে বের হওয়ার পরে সবচেয়ে কঠিন সময় হচ্ছে তার পরের কয়েক মাস।এই সময়েই নির্ধারিত হয়ে যায়,কার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।অনেকে সাবলীল্ভাবে পার করে দেয় এই সময়টা,অনেকে পিছিয়ে পড়ে।এই লেখায়,আমি আমার এই সময়টার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।
বেশিরভাগ বন্ধুই কলেজ থেকে বের হওয়ার পরে ঢাকায় তাদের সাময়িক নিবাস নিয়ে ব্যস্ত,আমার বাসা ঢাকায় হওয়ায়,আমার সেই চিন্তা ছিলো না।ওদের ছিলো খাওয়ার কষ্ট,পানির কষ্ট,যাতায়াতের কষ্ট,টিপে টিপে খরচ করার কষ্ট।আর আমার ছিলো একা থাকার কষ্ট।থাকতাম বারিধারা ডিওএইচএসে।আশেপাশে ব্যাচমেট তো দূর কি বাত,পরিচিত কেউই ছিলো না।উদ্ভাস থেকে দেওয়া লেকচার শীট পড়তে বসলে মনে হত,না বুঝলে বুঝায়ে দেওয়ার মত কেউ আশে-পাশে নেই,পড়ে লাভ কি???কম্পিউটারে বসলে ঘুরে-ফিরে চলে যেতাম সেই ফোল্ডারে,যেখানে আছে আমার কলেজ লাইফের সব স্মৃতি।সেই ছবিগুলো দেখে বুকে মোচড় দিত।অদ্ভুত একটা ফিলিংস।একই ফিলিংস হয়েছিলো সেইসব দিনের অনেকদিন পরে।১৫ জানুয়ারী ২০১২ তে।ডিপার্টমেন্টে প্রথম ক্লাস করতে যেয়ে একটা মেয়েকে দেখেছিলাম।ক্লাস শেষের পরে তাকে তার বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে চলে যেতে দেখে।আজব না???দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা,অথচ কষ্টটা এক।
যে কোন কথাকে তিল থেকে তাল বানানো মানুষের জন্মগত প্রতিভা। ক্যাডেটরাই বা বাদ যাবে কেন? ক্যাডেট জীবনে এমন অনেক গল্প শুনেছি যা শুধু তিল থেকে তাল বললে ভুল বলা হবে, ব্যপারগুলো তিল থেকে তাল, সেই তাল থেকে পিঠা আর পিঠা থেকে পিঠা উৎসবে রূপ নিয়েছে। এই রকম পিঠা উৎসব ধরণের অনেকগুলো গল্প থেকে ৫ টি বলি।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য বেকারের খাতায় নাম লিখিয়েছি। স্বগোত্রিয় আরও কয়েকজনের সমবায় সমিতিতে শুরু হল পন্ডিতি। বিকাল বেলা লোকমানপুর স্কুল মাঠে কখনও ক্রিকেট আবার কখনও বাদাম টুয়েন্টি নাইনে বুদ্ধিজীবির ভূমিকা। মাস্টারী করি তাই ছা পোষাদের সাথেও মেলা মেশা শুরু।এমন একজন ছিলেন দলিল চাচা।পেশায় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। মাদার টিংচার থেকে বিভিন্ন মাত্রার ওষুধ তৈরী বেশ ভাল একটা বিনোদন। শিশিটাকে উঁচু করে দ্রুত হাত নামিয়ে আস্তে করে অন্য হাতে ঠেকান।
আমার পিতামহের গল্প বলতে ইচ্ছা করছে।এর সবটাই শোনা গল্প।
কুরবান আলি-অনেক ভাইবোনের মধ্যে ছোটর দিকে। মানে ঐ আরকি ঠিক ছোটটার একটু বড় । অন্য ভাইয়েরা লেখাপড়া জানে।একজন তো ফার্সি ও উর্দু কবিতা লেখেন।কয়েকজন কুরানে হাফিজ।আর কুরবান কিছুতেই পড়ালেখা মাথায় ঢুকাতে পারেনা।একটু বোকা কিসিমের সহজ সরল।
বাবা ১৭ বছরের কুরবানকে বিয়ে করিয়ে ঘরে আনলেন ৯ বছরের বধু।
বৌকে কুরবানের পছন্দ হল। কি লাজুক আর কি মিষ্টি !
ছোটবেলায় আমার নাম শুনে অনেকেই যখন বলত,”বাহ,তোমার ডাকনামটা তো সুন্দর”,তখন খুব ভালো লাগত।সেইসময় তো আর বুঝতাম না যে মানুষ অনেক কিছুই বলে,যেগুলোর নাম হচ্ছে “কথার কথা।”তাই নাম নিয়ে আমার ভিতরে হাল্কা গর্ব ছিলো।আমার এই গর্ব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় পাবনা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে।টিচার থেকে শুরু করে সিনিয়র,স্টাফ,হসপিটাল অ্যাটেনডেন্স,যেই নাম জিজ্ঞেস করে,আমার উত্তর শুনে কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে,”হিন্দু নাকি?”সারাজীবনে আমার যে কয়জন “প্রতীক”
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে প্যারাগ্রাফ নামের একটা জিনিস ছিল । তো সেই প্যারাগ্রাফের নানা রঙ ,নানা ঢং। একবারের বিষয় আমার মেনি বিড়াল তো আরেকবারের বিষয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি । তবে সুবিধাও ছিল । ক্যাডেট কলেজের বদৌলতে আর পাঁচটা ক্যাডেটের মত এই বস্তু পড়ার হ্যাপা কখনও পোহাতাম না । -ধুর মামা, প্যারাগ্রাফ পড়া লাগে নাকি? ওইটা তো এমনি লেখা যায় । সিভিল বন্ধুদের সামনে পার্টটা ছিল দেখার মত।
ততক্ষণে বিজিত বিকেলে শীত নেমে এসে
নিভায়ে দিয়েছে যৌবনের শিখা
যা জ্বলেছিল শেষরাত্রির বৃষ্টি শেষে।
কথা ছিল তা হবে মহাকালে লেখা
সহস্রাব্দের কোন কবিতার মত
অন্ধকার কোন গুহার দেয়ালে আঁকা
অভিমানে শুকানো ইতিহাসের ক্ষত।
অথচ ভেবেছি অনন্তকাল
কেটে যাবে প্রেমিকার চোখে
স্বপনে দেখেছি যে স্বর্ণসকাল
একে দেব,মেখে দেব প্রিয় সে মুখে
তারপর ভালবাসা ফুরায়ে গেলে
বিপ্লবী হব আমি বিবস্ত্র শোকে।।।
প্রথম আলোতে একটা সিরিজ বিজ্ঞাপন খুব চলছে। দেশপ্রেমকে ব্যাবহার করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষকে উজ্জীবিত করা বিজ্ঞাপন, যার বক্তব্য অনেকটা এরকম-দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তারা এর কোন অংশ নই। আমরা আমাদের কাজ করে যাব। ভালো কথা। বিশেষত যখন ওই লাইনটা বলে “আমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ” তখন আমারো লোম খাড়া হয়ে যায়। কিন্তু আমি বিজ্ঞাপনের যে মূল বক্তব্য তার আরো একটু ভিতরে ঢুকতে চাই।
ট্রেনে চড়েছি। এই নিয়ে চতুর্থবার। অবরোধে প্রথম। তিস্তা এক্সপ্রেস, “ঝ” বগি। প্রথম সিটে, জানালার পাশে। ব্যাপক প্যানিকের মধ্যে আছি। বসেই আমি আর শিপু দুইজন মিলে ট্রেনের বেগ,বাতাসের বেগ,গতিশীল পিকেটারের গতিশীল ঢিলের বেগ,স্থির পিকেটারের গতিশীল ঢিলের বেগ,ঢিলের ট্য্রাজেক্টরি ইত্যাদি বলবিদ্যা বিষয়ক হিসাব কষা শুরু করলাম। সাথেসাথে আমরা পিকেটার হলে কোথায় ঢিল ছুড়তাম? বলবিদ্যা বিষয়ক হিসাবগুলা করতাম কিনা?ঢিল ছুড়ার জন্য সুবিধাজনক জায়গা কোথায় হত?কতটুকু দুরত্ব থেকে ঢিল ছুড়লে লক্ষ্যভেদ করার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে?কত ডিগ্রি কোণে?
২৪ শে আগস্ট , ২০১৩: সার্ভারে কাজ চলছে দেখে রুমের ইন্টারনেট বেশ কয়েকদিন ধরেই ডাউন। ইন্টারনেট বলতে ক্লাসরুমের ওয়াই-ফাই ই এখন ভরসা। যে আমি ৪/৫ দিন আগেও ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার জন্য সবসময় হাসফাস করতাম, সেই আমি ই এখন ক্লাসরুমে পারলে কাথা বালিশ নিয়ে আস্তানা গেড়ে ফেলেছি।ক্লাস শেষ হয়ে যায়, আমি ডেস্ক থেকে নড়িনা। আমার প্রফেসরের এর ধারণা বিদ্যার্জনের প্রতি আমার আগ্রহ রাতারাতি বেড়ে গেছে।শিক্ষক মহোদয় ব্যাপক আনন্দিত।মানুষ জন আনন্দ পেলে ভালোই লাগে।
গতকাল রাত থেকে স্মৃতিকাতর হয়ে আছি।
গোফ-দাড়ি দুটোই স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ছিলো। মাস দুই এর কম না।
চেহারায় কেমন একটা দার্শনিক দার্শনিক ভাব চলে আসছিলো। যদিও দুর্জনেরা নানান আকথা কুকথা বলে আমাকে খোচানোর চেষ্টা করেছেন। আমি তো আয়না দেখতে জানি। জানি আমাকে বেশ লাগছিলো দেখতে। কিন্তু অন্যদের তা সইবে কেনো!
যুগ চেঞ্জ হয়ে গেছে এখন পুরুষেরা গোফ-দাড়ি তো রাখেই না, বরং অনেকে বুকের লোম ও কামায়।