টেকি নিউজ ০২: ওপেনসোর্স অ্যাপ্লিকেশন

কয়েকদিন আগে কার পোষ্টে জানি দেখলাম লিনাক্স নিয়ে কথা বার্তা হচ্ছিলো। আজকে ভাবলাম টেকি নিউজ এ ওপেন সোর্স নিয়ে কিছু কথা আলোচনা করি। বেশির ভাগ কথাই হয়তো আমরা অনেকেই জানি।
ওপেনসোর্স কি, কেন?
একটি অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়ার তৈরী করা হয় প্রোগ্রামিং কোডের উপর ভিত্তি করে । প্রোপ্রাইটরি সফটওয়্যার কোম্পানী গুলো তাদের তৈরীকৃত সফটওয়্যার এর প্রোগ্রামিং কোড বা সোর্সকোড তাদের কাছেই সংরক্ষিত রাখে ।তার মানে আপনি ওই সফটওয়্যার এর কিছু পরিবর্তন করতে হলে তাদের সাথেই যোগাযোগ করতে হবে। ওপেনসোর্স হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত । ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের প্রোগ্রামিং সোর্সকোড সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে । এখন কথা হচ্ছে কী লাভ এতে ?
লাভ দুপক্ষেরই রয়েছে সফটওয়্যারটির প্রস্তুতকারকের ও তার ব্যবহারকারীর।

প্রস্তুতকারকের লাভ :
যেহেতু সকলেই এর সোর্সকোড দেখতে পারে তাই যে কেউ সফটওয়্যারটিকে আরো উন্নত করতে পারে । কারণ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য প্রোগ্রামার একজন আরেকজন থেকেও দক্ষ । তারা সেই সফটওয়্যারটিকে আরো উন্নত করে তোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে (প্রোপ্রাইটরী সফটওয়্যার কোম্পানীর ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রামারদের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে )। সফটওয়্যারে কোন ত্রুটি থাকলে সেটি প্রকাশ পাবার সাথেসাথেই সমাধান পাওয়া সম্ভব ( প্রোপ্রাইটরী সফটওয়্যার কোম্পানীর ক্ষেত্রে তাদের উপর নির্ভর করে বসে থাকতে হয় কখন তারা এটির সমাধান করবে )

ব্যবহারকারীর লাভ :
ওপেনসোর্স এ্যাপ্লিকেশনে আপনি যদি কোনকিছু বা কোন ফিচারের অভাব বোধ করেন তবে সেটি ডেভলপারদের জানালে আপনার চাহিদা গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং এপ্লিকেশনে উক্ত ফিচার যুক্ত ও করে দেয়া হবে। এমনকি মূল ডেভেলপার না করলেও অন্য যে কোন প্রোগ্রামার এ্যাডঅন/প্লাগইন হিসেবে উক্ত ফিচার যুক্ত করতে পারেন। আর দুনিয়া জুড়ে অনেকে অপেক্ষা করে থাকেন আপনার অনুরোধের জন্য। কারন তাতে তারও প্রোগ্রামিং প্রাকটিস হয়।

উন্মুক্ত সোর্সকোডের সুফল :
আপনি যদি প্রোগ্রামার হন বা শেখা শেষ করেছেন তবে ওপেনসোর্স এ্যাপলিকেশন ও তার সোর্সকোড আপনার জন্য মূল্যবান । কেন ?
ধরুন আপনার আগ্রহ বা ইচ্ছা হচ্ছে ইমেজ এডিটিং এ্যাপলিকেশন তৈরী করবেন । তবে এটি সম্পর্কে ধারণা পাবেন কিভাবে ? তখন আপনি সে ধরনের ওপেনসোর্স সফটওয়্যার খুঁজে বের করে বা http://www.sourceforge.net/ থেকে এ্যাপলিকেশন এর সোর্সকোড ডাউনলোড করে বা GIMP (http://www.gimp.org/) এর সোর্সকোড ডাউনলোড করে তা স্টাডি করতে পারেন এবং শিখতে পারেন কিভাবে সে জাতীয় এ্যাপলিকেশন তৈরী করা যায় । এটাইতো ওপেনসোর্সের লক্ষ্য/উদ্দেশ্য আপনাকে এ্যাপলিকেশন তৈরী শেখা ও মডিফিকেশনের সুযোগ দেয়া । যেটা প্রোপাইটারী এ্যাপলিকেশনে সম্ভব নয় ।
ব্যয় হ্রাসের ক্ষেত্রে ওপেনসোর্সঃ
বেশীর ভাগ ওপেনসোর্স সফটওয়্যার বিনামূল্যে হওয়ায় আপনি উচ্চমূল্যের সফটওয়্যার না কিনে ফ্রি ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যায় হ্রাস করতে পারেন। আপনি যখন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ক্রয় করেন তখন তাতে ছোটখাটো কিছু সফটওয়্যার দেয়া থাকে কিন্তু বাকিগুলো আপনাকে কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আপনি যদি লিনাক্স ওএস ব্যবহার করেন তাহলে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সফটওয়্যার এর সাথেই পাচ্ছেন যেমন Openoffice (মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প), Gimp (ফটোশপের বিকল্প),Firefox (ওয়েব ব্রাউজার) এছাড়াও আরও নানান সফটওয়্যার আপনি একদম বিনামূল্যে পাচ্ছেন।
স্বচ্ছতাঃ
ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। যেমন আপনি একটি সফটওয়্যার ক্রয় করলেন যেটির সোর্সকোড উন্মুক্ত নয়। এখন সেই সফটওয়্যারে যদি কোন গোপন কোড থাকে যেটি আপনার গোপন তথ্য পাচার করে দিতে পারে এমন কিছু থাকলে তা আপনার বোঝার কোন উপায় থাকবেনা। কিন্তু ওপেনসোর্স ব্যাপারটি পুরোপুরি স্বচ্ছ কারণ আপনি সফটওয়্যারটির প্রোগ্রামিং কোডগুলো দেখতে পাচ্ছেন এবং অনাকাঙ্খিত কোড এর উপস্থিতি সহজেই বের করতে পারছেন।
আর ওপেনসোর্স মানেই ফ্রি সফটওয়্যার নয় । এটি বিক্রয় ও করা যাবে সোর্সকোড উন্মুক্ত রেখে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওপেনসোর্স জগতে পণ্য বা অ্যাপ্লিকেশন বিক্রির বদলে উন্নত সেবা বিক্রয় করা হয়)। প্রোপাইটারি বা বাণিজ্যিক সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে অর্থ দিয়ে সেই অ্যাপ্লিকেশন কেনা সত্ত্বেও ক্রেতাকে অ্যাপ্লিকেশনটির সোর্সকোড দেয়া হয়না । সফটওয়্যার কোম্পানী এটি তাদের কাছে সংরক্ষিত রাখে ।
আপাতত এই টুকুই থাক।
(তথ্য সূত্রঃ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নেট, ব্লগ এবং ব্যাক্তিগত যোগাযোগ থেকে সংগ্রৃহিত)

২,২৩৩ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “টেকি নিউজ ০২: ওপেনসোর্স অ্যাপ্লিকেশন”

  1. রকিব (০১-০৭)

    কেই নাই আশেপাশে, যাই একটা গোল দিয়া আসি 😀 😀 ।
    http://www.w3.org/Status এইখানেও কিছু ওপেন সোর্স অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যাবে।


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. সাজিদ (২০০২-২০০৮)

    ২ মাস ধইরা ভারসিটি বন্ধ কিসু করার নাই দেইখা প্রোগরামিং শিখতেসি, C আর C++ শেখার কোন ভাল সাইট ঠাকলে জানায়েন প্লিজ, আমি কয়েকটা পাইসি তবে আরো পাইলে ভাল হয়........
    পোস্ট সিরকম হইসে :thumbup: :thumbup: এরকম আরো চাই....

    জবাব দিন
  3. ভাইয়া আপনার লিখাটাকে আমি বলব: "সাবলীল" ...... অর্থাৎ প্রথম পড়াতেই কেউ অনেকটাই বুঝবে......

    আমি নিজেও এই টপিকটা নিয়ে ভালই বলতে পারব...... আপনি কি সিরিজটা কন্টিনিউ করবেন ??? করলে একদম শেষ পর্বে যেয়ে ডিসকাশন করার মত কিছু প্রশ্ন করব.... আর না করলে এখানেই সেগুলো তুলে ধরতে পারি......

    জানাবেন.....

    জবাব দিন
  4. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    আমার কি ধারনা জান, টেকি পাব্লিকদের জন্য ওপেন সোর্স ঠিকাছে, কিন্তু যারা নন-টেকি, তাদের জন্য উইন্ডোজ বেস্ট। কারন তাদের এত ট্রাবল স্যুট করার সময় নেই।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • রবিন (৯৪-০০/ককক)

      ভাইয়া, এক অর্থে আপনার কথা ঠিক আছে, কিন্তু এখন কিন্তু ওপেন সোর্স ওএস গুলা অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলী। প্রায় উইন্ডোজ এর কাছাকাছি। হ্যা, আমাদের পরিচিত সফটওয়ার গুলো হয়তো পাবো না। কিন্তু শুরু করলে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া যায়।

      জবাব দিন
      • ফয়েজ (৮৭-৯৩)

        আহসান আকাশ, তুমি কার সাথে সহমত? রবিন নাকি ফয়েজ?

        @ রবিন, ইউজার ফ্রেন্ড্লী কথাটা আপেক্ষিক, তোমার কাছে যেটা ইউজার ফ্রেন্ডলী, অন্য অনেকের কাছে সেটা নাও মনে হতে পারে।

        এখন কম্পিউটারের অনেক ব্যবহার হচ্ছে। তুমি একটা লাইসেন্সড উইন্ডোজ কিনে একটা লাইসেন্সড ভালো এন্টি-ভাইরাস কিট ইন্সটল করে ব্যাবহার শুরু কর তুমি যে আরামে তোমার দৈনন্দিন কাজ সারতে পারবা, লিনাক্স দিয়ে কি সেটা পারবা? আমারে বুঝাও।

        আমি যখন স্টুডেন্ট ছিলাম, খুব আগ্রহ নিয়ে লিনাক্স অপারেটিং এ কাজ করতাম। হাবিজাবি অনেক কিছু। তখন কমান্ড মুখস্ত করতে করতে জান ফালুদা হই যাইত। শুনেছি এখন অনেক ইউজার-ফ্রেন্ডলী। কিন্তু কর্পোরেট কাজের জন্য যে ধরনের প্রয়োজন (সার্ভার কিংবা সফট ছাড়া) সেই পর্যায়ে কি এসেছে।

        আমি তো ভরসা পাইনা।


        পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

        জবাব দিন
        • রবিন (৯৪-০০/ককক)
          তোমার কাছে যেটা ইউজার ফ্রেন্ডলী, অন্য অনেকের কাছে সেটা নাও মনে হতে পারে।

          আমি কিন্তু সাধারন ইউজার হিসাবেই চিন্তা করে বলছি। আমিও কিন্তু লাইসেন্সড উইন্ডোজ এবং লাইসেন্সড এন্টি-ভাইরাস ব্যবহার করি। কিন্তু উইন্ডোজ এ তারপরও অনেক ঝামেলা। বিশেষ করে ভাইরাস, সেই সমস্যা লিনাক্স এ নাই।
          তারপরো আমাকে কিছু কাজ করার জন্য উইন্ডোজ এ আসতেই হয়। অনেক সফটওয়্যার ব্যবহার করি প্রোগ্রামিং বা অন্য কাজে যেই গুলা লিনাক্সে নাই।

          জবাব দিন
        • আহসান আকাশ (৯৬-০২)
          আহসান আকাশ, তুমি কার সাথে সহমত? রবিন নাকি ফয়েজ?

          ফয়েজ ভাই আপনার সাথে সহমত (আমি যখন কমেন্ট লিখি তখন তো রবিন ভাই এর কমেন্টটা দেখলাম না 🙁 )


          আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
          আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

          জবাব দিন
  5. ওপেন সোর্সের বিপক্ষে আমার কোন কথা নাই...... কারণ ফ্রি থাকতে টাকা দেয়ার কোন ইচ্ছা আমার নাই....

    মাইক্রোসফটের ওপেন সোর্সের বিরুদ্ধে বলার কারণ আছে যেহেতু তারা টাকা দিয়ে সফট বিক্রি করে.... তাদের বিভিন্ন যুক্তিগুলো একটা জার্নাল পাবলিকেশনে পড়েছিলাম সেখান থেকে প্রশ্ন:

    ১) কোন পাবলিশারের কাছে টাকা দিয়ে কিছু কিনলে আমি সার্ভিস পেতে বাধ্য.... এখন ওপেন সোর্সের কোন একটা প্রোডাক্টের যদি কোন স্বীকৃত পাবলিশার যদি না থাকে তাহলে কিভাবে আমি ব্যবহার পরবর্তী সেবা পাব ???

    ২) ওপেন সোর্স প্রোডাক্ট আমরা কমার্শিয়ালি ব্যবহার করতে পারি......( যতক্ষন না আমরা এর কোড মডিফাই করছি অতক্ষন ).... মডিফাই করে আমাকে লাইসেন্সের শর্ত মেনে পরিবর্তিত অংশটা ওপেন লাইসেন্সেই রাখতে হবে....

    এখন লিটল ফিশ কোন কোম্পানী সুন্দর কোন কাজ করেও বিগ ফিশ কোম্পানীর কাছে ধরা খেতে পারে কারণ বিগ ফিশ কোম্পানীটা হয়ত ওপেন সোর্স প্রোডাক্ট টার কমার্শিয়াল লাইসেন্সড কপি কিনেছে ফলে তারা যেকোন আপডেট ব্যবহার করতে পারে (এক্ষেত্রে লিটল ফিশের আপডেট টা) ও তাদের নিজেদের আপডেট কাউকে দিতে বাধ্য না...... এর ফলে লিটল ফিশ কোম্পানীটা ধরা খেয়ে যাবে.... এটা ঠেকানোর উপায় কি ?

    ৩) ওপেন সোর্স প্রোডাক্টগুলো'র ডেভেলপারদের অর্থের উৎস কি ??? ঘরের খেয়ে মোষ তাড়ানোর মত মানুষ কতদিন টিকবে ??

    সবশেষে বলব, ৩ নংটার উত্তর হল সারাজীবন থাকবে কারণ জ্ঞান প্রদানকে অর্থের বিনিময়ে করার জন্যে সিএসই ইন্জিনিয়াররা কোনকালেই আগ্রহী ছিলেন না, নাই, থাকবেন ও না.... আমার প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর প্রয়োজন 🙂

    আর হ্যা, ভাবছি একটা পোস্ট দিব ব্যবহারকারী ও প্রফেশনাল কাজে লিনাক্স ও উইন্ডোজের অবস্থান নিয়ে.... লিনাক্স পার্সোনাল ইউজারদের জন্যে না...তাকে উইন্ডোজের মত ব্যবহারবান্ধব হতে আরো অনেক যেতে হবে.... কোডিং এ না, মেন্টালিটি পাল্টাতে হবে লিনাক্স ডেভেলপারদের... তারা কোন জগতের মানুষ আল্লাহই জানে... ওদের ধারণা যে পিসি ব্যবহার করে সে ৪০ বার কম্পুতে পিএইচডি করছে.... আজিব ব্যাপার

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।