ভ্রমন ব্লগঃ এইবার কক্সবাজার

গত কিছুদিন আগে আমাদের কলেজের ওয়াহিদ ভাই (৯০-৯৬) একদিন ক্লাবে বল্লেনঃ “ওই কিছুদিন পর একক থেকে আনফিসিয়ালী ট্যুর দিমু। যাবি নাকি?” ট্যুর আবার কখনো মিস করি নাকি? রাজি হইয়া গেলাম সাথে সাথে। মাঝখানে গত সপ্তাহে রাঙ্গামাটি থাকতে আমাদের জিন্নাত ফোন দিয়া কইলো ট্যুর কনফার্ম হইছে। ৩০ তারিখ রাতে যাবো কক্সবাজার। ১ তারিখ রাতে ব্যাক করবো।

ঢাকাতে ব্যাক করে ভুলে গেসিলাম কনফার্ম করতে যে আমি যাবো। হঠাত ২৯ তারিখে মনে পড়লো। ওয়াহিদ ভাই রে ফোন দিলাম। “ভাই আমি কিন্তু যামু।” “কি কস? তুই কিছু জানাস নাই দেইখা মনে করছি তুই যাবি না। আচ্ছা দাড়া ম্যানেজ করতেছি।” রাতেই ফোন। সিট পাওয়া গেছে একটা। ইয়াহু।

ঠিক হলো, ৩০ তারিখ ক্লাবে বারী সিদ্দিকীর কনসার্ট আছে। সেখানেই সবাই মীট করে তারপর যাবো। আমি সকালেই ব্যাগ রেডি করে অফিস এ হাজির। আবার বাসায় যাওয়ার ঝামেলা করতে পারবো না। সন্ধ্যায় অফিস শেষ করতে করতে কামস রে ফোন দিলাম “ক্লাব এ আসবি না? “কামস বল্লো “আসতেছি। তুই রওয়ানা দে। “

ক্লাবে গিয়ে আমি কামস আর শাহরীয়ার বসে আড্ডা দিচ্ছি আর বারী সিদ্দিকী এর গান শুন্তেছি। একে একে আমাদের সব এসে হাজির হলো। জিন্নাত আসলো ১০ টার দিকে। আমাদের ইন্টেক থেকে আমরা ২ জন। আর আমাদের জুনিয়র মাত্র ১ জন। নাঈম (৯৮-০২)। বাকি সব আমাদের সিনিয়র। টোটাল ১৬ জন। ক্লাবে কনসার্ট শেষ করে রওয়ানা দিলাম বাসের উদ্দেশ্যে। এই ফাকে লিস্ট টা দিয়ে দেই কে কে গেলামঃ

বাশার ভাই (১ম ইনটেক)
এহসান ভাই (২য় ইনটেক)
আলফি ভাই ( ৪র্থ ইনটেক)
মোর্শেদ ভাই (৪র্থ ইনটেক)
রেজা ভাই (৪র্থ ইনটেক)
মামুন ভাই (৫ম ইনটেক)
আনোয়ার ভাই (৭ম ইনটেক)
জাহেদ ভাই (৭ম ইনটেক)
নূর ভাই (৭ম ইনটেক)
ইশতিয়াক ভাই (৯ম ইনটেক)
রিফাত ভাই (৯ম ইনটেক)
ওয়াহিদ ভাই (১১তম ইনটেক)
মেহেদী ভাই (১১তম ইনটেক)
জিন্নাত (১৫ তম ইনটেক)
আমি (১৫ তম ইনটেক)
নাঈম (১৯ তম ইনটেক)

বাসে উঠেই দেখা গেলো কেউ ইশতিয়াক ভাই এর সাথে বসতে রাজি না। না কারন অন্য কিছু না। উনার সাথে যে বসবে সারারাত তাকে হাসতে হবে। উনার কাজই হলো হাসা এবং হাসানো। শেষ পর্যন্ত ওয়াহিদ ভাই বসলেন। যথারীতি মোটামুটি সারা রাস্তা হাসতে হাসতে জান শেষ। কুমিল্লা যাওয়ার আগে থেকেই প্রচন্ড বর্ষা 🙂 শুরু হলো। কুমিল্লা তে খাওয়া দাওয়ার পর ইশতিয়াক ভাই একটু ঘুমালেন। সবাই তখন কিছুটা ঘুম। রাস্তা আর শেষ হয় না। নরমালি রাত এ রওয়ানা দিলে ভোর এর দিকে কক্সবাজার থাকার কথা। কিন্তু রাস্তায় কিছু কিছু জায়গায় পানি উঠে যাওয়ার কারনে আর প্রচন্ড বর্ষা এর জন্য আমরা যখন হোটেল এর সামনে গেলাম তখন বাজে ১১৩০ এর মতো। আগেই প্রাসাদ প্যারাডাইজ এ দুইটা কটেজ বুক করা ছিলো। রুম বরাদ্দ হলো সবার। আমরা জুনিয়র হওয়াতে পেলাম নীচতলায়। পরে দেখলাম ভালোই হয়েছে। আমাদের রুম এর বারান্দা থেকে সুইমিং পুল একদম সরাসরি দেখা যায়। :))

ব্যাগ রেখেই সবাই সরাসরি বীচ এ। সাথে ফুটবল। বেশ কিছুক্ষন বীচ ফুটবল হলো। বৃস্টি এর মাঝে। জোস। কিন্তু কারোই স্ট্যামিনা নাই। কিছুখকন খেলেই দম শেষ। তারপর সাগরে ঝাপাঝাপি চললো অনেক্ষন। ওটা শেষ করে এসে সুইমিং পুল এ বোম্বাস্টিং খেলা।
রুম এ গিয়ে ফ্রেশ হবার পর সবাই খিদায় পারলে সব খেয়ে ফেলে। খাওয়ার জন্য সবাই গেলাম হোটেল কোরেল রীফ এ। ইচ্ছামতো খেলাম সবাই। ইশ তিয়াক ভাই একাই খেলো ৫টা রুপচাদা। তারপর আমি ৩ টা। খাওয়ার পর হোটেল এ এসে রেস্ট। অনেকেই ঘুম। কেউ কেউ গেলো আবার সমুদ্র দেখতে। আমার দেখা হোটেল এ আমার এক বস এর সাথে। উনি আমাকে দেখেই বললেন, কি ব্যাপার আপনি নাকি হানিমুন এ আসছেন ? আমিও সাথে সাথে উত্তর দিলাম, জ্বি ভাইয়া। এসে আর বউ কে খুজে পাইতেছি না। পাইলেই আসতেছি আপনার দোয়া নিতে।

রাত এ দেখি আনোয়ার ভাই বিয়াপক আয়োজন করছেন। কোরেল রীফ এর রেস্টুরেন্ট আমাদের জন্য রিজার্ভড, গীটার, সাউন্ড সিস্টেম সহ লোকাল কয়েকজন সংগীত শিল্পী হাজির। সাথে খাওয়া দাওয়া প্রচুর। ওইখানেও বিয়াপক মজা হইলো। রাতে আবার সবাই গেলো বিচ এ। ইশতিয়াক ভাই দেখি একটু পর পর পানিতে ঝাপ দেয়। রাত এ আবার আড্ডা আর বালাদেশের খেলা দেখা। খেলা দেখে আবার অনেক্ষন বারান্দায় আড্ডা।

সকাল এ ঘুম থেকে আমি আর ইশতিয়াক ভাই উঠলাম ১১৩০ এর দিকে। দেখি ততক্ষনে সবাই হোটেল এর ফ্রি ব্রেকফাস্ট করে এসেছে। সবাই রেডি হচ্ছে আবার বীচ এ যাবার জন্য। আমরা ৩ জন (ওয়াহিদ ভাই ও ব্রেক ফাস্ট মিস করছেন) গেলাম বাইরে ব্রেকফাস্ট করতে।

কিছুক্ষন লাফালাফি করে মামুন ভাই এর প্রস্তাবে সবাই গেলাম হোটেল সীগাল এর সুইমিং পুল এ।ওইখানে গিয়ে একটা জটিল ওয়াটার পোলো ম্যাচ হলো ‘এ’ ফর্ম বনাম ‘বি’ ফর্ম। অনেক ফাউল করেও বি ফর্ম আমাদের সথে জিততে পারলোনা। এর পর শুরু হলো আরেক মজা। মামুন ভাই এর প্রস্তাবে যারা সাতার পারে না একে একে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো গভীর পানিতে। তারপর মামুন ভাই এর প্রস্তাব “এইবার বাপ বল তাইলে রক্ষা পাবি।” হা হা।

তারপর দুপুরের লাঞ্চ। এইবার জাহেদ ভাই স্পন্সর। আগের দিন এর আমাদের রুপচাদা খাওয়া দেখেই মনে হয়, উনি আর অর্ডারই করলেন না। তবুও জটিল খাওয়া হলো। যদিও ঝাল ছিলো অনেক বেশি। নিটোল বে হোটেল এ।

লাঞ্চ এর পর মামুন ভাই বিদায় নিলেন। উনি চিটাগাং সি এম এইচ এ আছে। কাজ আছে। বাকিরা সবাই যার যার মতো শপিং এ বের হল। আমিও গেলাম । আমি ইশতিয়াক ভাই, রিফাত ভাই আর নূর ভাই। উনারা অনেক আচার, মেয়েদের অলংকার ইত্যাদি নিলেন। তারপর সন্ধায় আবার গিয়ে বীচে বসলাম। যথারীতি ইশতিয়াক ভাই একটু পর পর পানিতে ঝাপ দিলেন।
ঐখানেই বসে আমি আর ইশতিয়াক ভাই চিন্তা করলাম রাতে তো চলে যাবো। কিন্তু রুপচাদা খেয়ে গেলে কেমন দেখায়? রুম এ গিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে আমি, জিন্নাত, মেহেদী ভাই আর ইশতিয়াক ভাই বের হলাম। প্রজেক্ট রুপচাদা। এবার গেলাম হোটেল মিডিয়া তে। সবার জন্য ২ টি করে ফ্রাই অর্ডার করা হলো। খেয়ে হঠাত দেখি বাস এর আর ১০ মিনিট বাকি। তাড়াহুড়ো করে ফিরলাম হোটেল। বাস আমাদের কে হোটেল থেকে নিয়ে যাবে।

রাত এ যাথারীতি বাস এ ইশতিয়াক ভাই এর হাসির জন্য মনে হয় অন্য যাত্রী যারা ছিলো, আমাদের অগুনিত গালি দিলো।

শেষ পর্যন্ত ১১ ঘ্ন্টার ভ্রমন শেষে সকাল ৯৩০ এ ঢাকায় এসেই অফিসে দৌড়। আবার যান্ত্রিক জীবন শুরু।

(অফিসে বসে কাজ এ ফাকি দিয়ে লিখলাম। আর বেশি বড় লিখতে গেলে বস এর কাছে ধরা খাবো মনে হয়। ছবি গুলা হাত এ আসলেই দিয়ে দিবো ছবি ব্লগ এ)

২,৩০৫ বার দেখা হয়েছে

২৯ টি মন্তব্য : “ভ্রমন ব্লগঃ এইবার কক্সবাজার”

  1. ধুররররররররররর

    মাইনাস দিতে মন চায় :(( :(( :((
    সারা জীবনে বেড়াইতেই পারলাম না। সেই কলেজে ইলেভেন ট্যুর ছাড়া আর কিচ্ছু নাই 🙁 🙁

    আপনার গল্প পইড়া বড়োই হিংসা হয় 😡

    তবে বর্ণনা পড়ে বড়ই আরাম পাইলাম :goragori: :goragori:

    জবাব দিন
  2. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    কেনো জানি প্ল্যান করে বের হতে ভালো লাগে না।
    বুয়েটে থাকতে একদিন বিকেলে টিউশনি করে হলে ফেরার পরে জেসিসি গ্রুপ পাকড়াও করে বললো, তোর আজকে টিউশনির বেতন পাবার কথা, পাইসস ?? কিছুটা ভয়ে ভয়ে যখন সম্মতি জানালাম, ওরা খুশি বল্লো, যাক, আজকে রাতে কক্সবাজার যাচ্ছি, তুইও যাচ্ছিস আমাদের সাথে। হা করে কিচ্ছুক্ষন তাকিয়ে থাকার পরে মনে হলো ...... খারাপ কি ......
    এর পরেও অনেকবার গিয়েছি কক্সবাজার, কিন্তু ওইবারের মতন মজা লাগেনি ......

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।