চিন্তা খেলা করে ১

মনখারাপের সুর

ম্যাকাও পাখির মতো মন খারাপ করে বসে ছিলাম সারা বিকেল, সারা সন্ধ্যা। ছুটির এইসব একান্ত অবসরে ইদানিং একাকিত্বই ভালো লাগে। একাকিত্বের কাছে সময় চাইলে কখনোই ফিরিয়ে দ্যায় না ও। এছাড়া শহরভর্তী অগুণতি ব্যস্ত মানুষ। কার কাছে সময় চেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ি, তাই একাই এ শহর হেঁটে বেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। শহরভর্তী মায়া মায়া মানুষ। যেন ঈদ উদযাপন। প্রেমিকাদের পারফিউমের গন্ধে সমাচ্ছন্ন প্রেমিকেরা ঘুরে বেড়ায় চারপাশে। চুমুর মতো শীত এসে জাপটে ধরেছে মাটির শরীরকে। তারপর কুয়াশা ভেদ করে হেঁটে যেতে যেতে দেখা হয় চারুকলার সামনে ভিক্ষা করা সেই বৃদ্ধার সাথে। একই টোনে যে ভিক্ষা চায়, বাবা আল্লায় তোমারে দেবে। আমি নামাজ পড়ে. . .

বাক্য শেষ হবার আগেই তাঁকে অতিক্রম করে চলে যাই প্রতিবার। আজ ইচ্ছে হয় থামার। পুরো বাক্য শোনার। আমার দাঁড়িয়ে থাকার মমার্থ টের পায় না সে। আবার বলে ওঠে, বাবা আল্লায় তোমারে দেবে। আমি নামাজ পড়ে. . . .খন্ড বাক্যের পৌনঃপুনিক ব্যবহার। বৃদ্ধা, যিনি এই শহরের সবাইকে নিজের ছেলে ভেবে বাবা সম্বোধন করে , সেও হয়তো জানে এই অগণন ভ্রান্তিবিলাসে ভরপুর শহরে পুরো বাক্য শোনার কারো সময় নেই। চলে যাই পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে। আলোকসজ্জিত বাহারি বইয়ের সাথে কিছুক্ষণ প্রেমালাপ হয়। লাস্যময়ী যে সুন্দরী নারী অর্ভর্থনা কারী পাঠকসমাবেশে ঢুকতেই জিজ্ঞেস করে আমার কুশল আজ তাকেও মন খারাপ করে পড়ে থাকতে দেখি। মনে হয় শহর জুড়ে মন খারাপের দারুণ মিছিল। সেই মিছিল আরো ভারি হয়। কাঁটাবনে এসে কিছুক্ষণ পশুপাখির সাথে সময় কাটাই। খাঁচা বন্দী এক রাশিয়ান বিড়ালের সামনে বৃত্তবন্দী আমি দাঁড়িয়ে থাকি। বিড়ালটা আমাকে দেখেই ডেকে ওঠে,ম্যাও. . . . .

সোলায়মান নবীর মতো পশুপাখির ভাষা জানি না বলে বিড়ালের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হই। তবুও উত্তর দেই, আমারো মন খারাপ।

মাঝেমাঝে মনে হয় পশুপাখির ভাষা বুঝতে পারলে কিছুটা মন খারাপ ওদের সাথেও ভাগ করে নেয়া যেত

রূপান্তর

ছেলেগুলো গুছিয়ে কথাও বলতে পারতো না। মেয়েগুলো ওদের গুছিয়ে কথা বলা শেখালো।ছেলেগুলো ভুগতো দারুণ হীনমন্যতায়, মেয়েগুলো ওদের জাতে ওঠালো। ছেলেগুলো প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকতো মেয়েগুলোর স্কুলের পথে। মেয়েগুলো ‘মাধ্যমিকের বাধ্য’ মেয়ে। এড়িয়ে যেতো। ছেলেগুলো মুরগীর রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে মেয়েদের নরম মন আরো গলানোর চেষ্টা করতো। ছেলেগুলো অযথাই হাত পা কাটার মিথ্যে অভিনয় করতো। আবার কেউ কেউ প্রেমিকার নামের অদ্যাক্ষর লিখে রাখতো হাতের বাহুতে, এই কাজটি করতে পেরে কেউ কেউ নিজেকে গ্রীক বীর একিলিস ভাবতো। এসব দেখে দেখে মেয়েগুলো একসময় রাজি হয়েও যেত।

এরপর ছেলেগুলো পাল্টে গেলো। দীর্ঘদিন ধরে যে মেয়েগুলোর জন্য তারা পাগলামি করতো, সম্পর্ক দীর্ঘায়িত হলে তারাই একসময় এক ঘেয়েমিতে ভুগতো। মেয়েগুলো বড়ো হলো। সেই সাথে পুরনোও। ছেলেগুলোর চোখে তখন ক্যাম্পাসের নতুন ভর্তি হওয়া তরুণী, ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র। সময় বয়ে চললো। যে মেয়েগুলো বাল্যপ্রেমকে সম্মান করে সবাইকে অগ্রাহ্য করলো, একদিন তারাই অগ্রাহ্যের শিকার হলো। তারপর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেংগে গেলো। ছেলে গুলো গুছিয়ে কথা বলা শিখলো, প্রেমের ধরণ বুঝলো, তরুণীদের আয়ত্তে আনার কৌশলও শিখে ফেললো। নতুন সম্পর্ক গড়ে দিব্যি ভুলে গেল পুরনো সবকিছুকে। সবকিছুই চললো আগের মতো।

কিন্তু, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেংগে যাওয়া তরুণী, ব্যালকনিতে দাড়িয়ে এই আশ্বিনের বৃষ্টিস্নাত রাতে যে অঝোর ধারায় কেঁদেছিল, সে কান্নায় চোখের কাজল লেপ্টে গিয়েছিল কি না, কেউ খোজ রাখলো না………

আত্মহত্যার আগে

মাঝেমাঝে মরে যাওয়ার ইচ্ছে হলে আমাদের মাথায় বিচিত্র সব চিন্তা এসে ভীড় করে। আমরা সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে মেঝের সাথে এর দূরত্বটুকু দেখে ভাবি, থৈ থৈ জোছনার কোন এক মধ্যরাতে যদি এক গোছা দড়ি বা প্রাক্তন প্রেমিকার ওড়না দিয়ে ঝুলেই পড়ি, তাহলে মৃত্যুর সম্ভাবনা কতটুকু। কিংবা কখনো অন্য উপায় খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছে জাগে। সমান্তরাল রেল লাইনের বয়ে চলা দেখে কখনো ইচ্ছে হয়, যদি একদিন আত্মঘাতী অভিমান বেড়েই যায়, তাহলে হয়তো এর নিচে কাটা পড়ে মরে যাওয়া যাবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আবার ঘুমের ঔষধ সংগ্রহে রেখে মরে যাওয়ার চেষ্টা করি। কারণ, এতে মরে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও বেচে যেতে যেতে অন্তত এটুকু জানা যায়, কার কার প্রিয় ছিলাম, বা আদৌ ছিলাম কি না।

এভাবে ভাবতে ভাবতে কেউ কেউ ডায়েরি খুলে সুইসাইড নোটে লিখে রাখে ইমেইল আইডি এবং পাসোয়ার্ড। আবার কেউ কেউ পয়েট অফ দ্যা ফলস এর হোয়ার টু ড্র দ্যা লাইন…..ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ঝুলেই পড়ে, এই নগরীর কোন বিষন্ন ব্যালকনিতে। আবার কারো কারো ল্যাপটপে বাজে মেলানকলিক কোন গান।

মেডিকেলে পড়ুয়া এক নারীর কথা মনে পড়ে আমাদের। বিগত প্রেম ভেংগে গেছে বলে যে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে অতীত হতে চেয়েছিল, তার কথা। আমাদের গল্পের যে সব নায়করা একসময় আত্মঘাতী অভিমান থেকে সরে এসে বেচে গিয়েছিলো, তাদের ভেতর থেকেই কেউ একজন সে নারীর বায়োকেমিস্ট্রি বইয়ের ওপরে লিখেছিল,
ইমন জুবায়েরের সে লাইন,

জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।

এরপর সে নারী আর কোনদিন মরে যেতে চায়নি।

কিন্তু আমাদের গল্পের কিছু কিছু চরিত্র জানি, আজো ঘুমাতে যাবার আগে সিলিং ফ্যানের সাথে মেঝের দুরত্ব মাপে, কিছু কিছু চরিত্র, হয়তো আমরাই জীবনের লেনদেন গুছিয়ে এনে বিচিত্র ভাবনা নিয়ে ঘুমাতে যাই।

ঘুম থেকে উঠে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভংগ’ কবিতা পড়ে কিংবা বুদ্ধদেবের ‘ কি ভালো আমার লাগলো আজ এই সকাল বেলা, তা কেমন করে বলি’ উচ্চারণ করার মাঝে জীবনের অর্থ খুজে পেয়ে বলি,

জীবন আনন্দের।

তারপর, সিলিং ফ্যানের সাথে আমাদের মেঝের দূরত্ব কমে আসে। আমরা খুঁজে পাই জীবনের মানে….বেচে থাকি ভালোবাসায়।

পর্যাবৃত্ত

দীর্ঘদিনের সম্পর্কগুলোতে একধরণের এক ঘেয়েমিতা চলে আসে। একটা সম্পর্ক যখন “খেয়ে নিও,ভালো থেকো,পরে কথা হবে” এই বাক্য গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং একই বাক্যের পৌনঃপুনিক ব্যবহার চলে তখন ধরে নেয়া যায় শুধুমাত্র দীর্ঘদিনের জমে থাকা মায়া ব্যতীত সেখানে ভালোবাসা বা আবেগ নেই,অভিমান থাকলেও তা পানসে হয়ে যায়। মায়ার ছায়া থেকে বের হওয়া যায় না বলেই আবারো ফোন দিয়ে সেই একই বাক্য। খেয়ে নিও।ভালো থেকো। পরে কথা হবে।

মানুষ সম্পর্কগুলোকে রিনিউ করতে পারে না। মানুষ জানে না একটি সম্পর্কের যত্ন নিতে হয়। যত্ন না নিলে সে সম্পর্ক হয়ে যায় পানসে,লবনহীন তরকারির মতো। একটা মানুষের প্রতি যখন আগ্রহ শেষ হয়ে যায়,তখন সেখানে ভালোবাসা থাকে না। থাকে সামাজিক সৌজন্যতা…তাই ঘুরেফিরে সেই একই বাক্য..ভালো থেকো..খেয়ে নিও,পরে কথা হবে।

প্রভু নষ্ট হয়ে যাই

পরীক্ষার শাদা খাতা দেখলে আমার মিলনকে মনে পড়ে। মিলনকে কারো মনে আছে? সেই যে ‘খাকি চত্বরের খোয়াড়ি’ এর মিলন। যে মিলনের শরীর জুড়ে ছিলো কবিতার চাদর। যে পড়ছিল মির্জাপুরের এক আধাসামরিক বিদ্যাপীঠে। যে বিদ্যাপীঠের রং ছিলো খাকি। আর ছিল অজস্র নিয়ম কানুন আর কিছু জলপাই রং পোশাক পড়া মানুষের দাপট। মিলন, যে এই খাকি চত্বরের খোয়াড়ির একজন খুদে খাকি, মুক্তি পেতে চাইতো কবিতায়, আর তাই চত্বরের পাশে রেললাইনে চলে যেত অনেক রাতে। তারপর রেল লাইন আর তার আশেপাশে লেপ্টে থাকা প্রকৃতি তাকে মেঘ আর বৃষ্টির কবিতা শোনাতো। এই কবিতা বুকে নিয়ে সে ফিরে আসতো চত্বরে। হ্যা হ্যা, সেই মিলনের কথাই মনে পড়ে। যার ঘরে সত মা। যার পিতা শরীর থেকে কবিতার চাদর খুলে ফেলে বাধ্যতামূলক জলপাই রং পোশাক পড়াতে চেয়েছিল। আর তাই মিলিটারি সায়েন্স পরীক্ষার আগে যে শাদা খাতা পেয়ে লিখেছিল, একটি মাত্র লাইন, সমস্ত খাতা জুড়ে।
প্রভু নষ্ট হয়ে যাই
প্রভু নষ্ট হয়ে যাই
প্রভু নষ্ট হয়ে যাই।

তারপর সে রাতেও রেললাইন তাকে ডাকলো। খাকি চত্বরের জলপাই রং চোখ আর খাকি জড়ানো বন্ধুদের অগ্রাহ্য করে চলে গেল রেললাইনে। হ্যা, ওটা মির্জাপুরেইতো। পাশে ধানখেত, যেখানের প্রকৃতি মেঘ আর বৃষ্টির কবিতা শোনাতো… এরপর মিলন আর ফিরলো না……….সে রাতে পূর্নিমা ছিলো। থৈ থৈ পূর্নিমায় ভেসে যাচ্ছে মির্জাপুরের রেললাইন। তার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে মিলন। আট বছর আগের একদিন কবিতার মতো, যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমির চাদ, মরিবার হলো তার সাধ………

পরীক্ষার শাদা খাতা দেখলে আমার মিলনকে মনে পড়ে। প্রভু নষ্ট হয়ে যাই…বারে বারে নষ্ট হয়ে যাই…..

এমন লাইন লিখতে ইচ্ছে হয় পুরো খাতা জুড়ে। তারপর মলিন মিলনের মতো কোন রেললাইনের ওপরে শুয়ে থাকবো। ট্রেন আসার শব্দ ভেসে আসবে কানে। নির্লিপ্ত আমি মনে মনে পড়বো,

পাখির মতো উড়ে পাইনি যা পৃথিবীর কোলে
মৃত্যুর চোখের ওপর চুমু দেই তাই পাবো বলে
সাম্রাজ্য নারী জয়, কোন কিছুই মৃত্যুর মতো নয়
মৃত্যুর শান্তির মতো নয়….

পলাশী

গভীর রাতে ঘুম না এলে পলাশী যাই। পলাশী বাধ্য স্ত্রীর মতো, এই মধ্যরাতেও হরেক রকম খাবারের আয়োজন নিয়ে বসে আছে। যেমন অফিস ফেরত স্বামীর জন্য ভাত বেড়ে অপেক্ষায় থাকে আবহমান বাংগালি নারী। এখানে অদ্ভুত সব খাবারের দেখা মেলে। ডিম আর সবজির মিশেলে সে অমৃত স্বাদের খাবারের দেখা মেলে আমরা তাকে আদর করে চাইনিজ ডাকি। কেন একে চাইনিজ ডাকা হয়, আজো জানি না। আমাদের মতো যাদের জীবন যাত্রা দারিদ্র‍্যসীমার অনেক নিচে, তারা গভীর রাতে চাইনিজ আর পরোটা খেয়ে শান্ত হই। আর ভাবি সেই অমোঘ বাণী, এই জীবন লইয়া আমি কি করিব? এ জীবন লইয়া কি করিতে হয়???

এক কালে ক্যাম্পাসের লেখক, দার্শনিক আর কবিরা মিলিত হতো পলাশীর প্রান্তরে। এর মানিব্যাগ, ওর সিগারেটের প্যাকেটের পেছনের কাগজ, আবার কারো হাতে থাকতো আস্ত ডায়েরি। আমাদের মধ্যে যারা প্রেমিকাকে চুমু খাওয়ার আগে ধূমপান করবে না বলে প্রতীজ্ঞা করেছিল, তারাও সুযোগ বুঝে দু এক টান দেয় সিগারেটে। আর সদ্য প্রসব হওয়া কবিতা শোনায়।

সিগারেটের চেয়েও বিষাক্ত তোমার ঠোট
আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী।

এই কবিতা শুনে আমরা সাধু সাধু বলে চিতকার করি। প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে করে এক কবি হঠাত মুঠোফোন চেয়ে বসে। এরপর ফোন দিলে ওপাশ থেকে শোনা যায় যন্ত্রমানবীর কন্ঠ, এই মুহূর্তে আপনার কাংক্ষিত নাম্বারে….

পুরো লাইন শেষ হবার আগেই লাইন কেটে দেয়। এরপর বিচ্ছিরি ভাষায় এক গালি প্রসব করে। সেই গালি শুনে আমরা বুঝতে পারি তার সদ্য বিবাহিতা প্রাক্তন প্রেমিকা এই মূহূর্তে সংগমে ব্যস্ত হয়তো। তারপর আমরা কয়েক মুহুর্তের জন্য দার্শনিক হয়ে গেলে লতা মুংগেশকর আমাদের নীরবতা ভাংগে।

প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে….গান শুনতে শুনতে আমার মায়াকে মনে পড়ে। অনেক কাল আগে যে পদ্যের সুরে বলেছিল,
রাব্বী
আজকে থেকে আমার কথাই ভাববি।

মায়াকে ফোন দিতে ইচ্ছে হয়। মুঠোফোন হাতে নেই। দেখি যথেষ্ট টাকা নেই। ভাবি থাক্য আরেকদিন কথা হবে। এভাবে আগামীকালের হিসেব কষে দেখি দুই বছর আগে আমাদের শেষ কথা হয়েছিল। মায়া নিশ্চয়ই এখন যারতার প্রেমিকা।

ইদানিং আর কবিদের সাথে দেখা হয় না। যে কবি এককালে খোচা খোচা দাড়ি রেখে জীবনানন্দ হতে চেয়েছিল, আজ সে সুটেড ব্যুটেড হয়ে কল সেন্টারে যায় চাকুরী করতে। আর কবির সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বহু রাত এক সাথে কাটিয়েছি, প্রথমবার বিসিএসে না হলে প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাবে বলে সে এখন শক্তি সুনীল ছেড়ে আজকের বিশ্ব আর এমপি থ্রী মুখস্ত করছে।

আমার কোন পিছুটান নেই বলে মধ্যরাতে পলাশী আসি। পলাশীকে স্ত্রীর মতো মনে হয়। শান্ত কন্ঠে বলি, বউগো একটু খাওন দাও। খুব খিদা লাগছে……..

১,৪২২ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “চিন্তা খেলা করে ১”

  1. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    বহুমাত্রিক বিভায় কতো নীল
    তার গভীরতায় পড়ে থাকে
    স্বপ্নের সিঁড়ি ভাঙ্গা কবিতার সুনীল
    পত্রীর কথা বিনুনীর ভাঁজে
    চাঁদের আলো ঠিকরানো রেলের পাতে
    পাথরের গভীরে কান্নার আওয়াজে
    টুকরো কাগজে বিছানো শব্দের বুননে
    প্রস্থানের কাঁপা কাঁপা সুরগুলো বাজে
    ভালো আছি খেয়ে নিয়ো
    ছকবাঁধা কথার আমেজে ।
    জীবন তখনো পলাশী, মুঠোবন্দী মুঠোফোন
    থাকে অপেক্ষায়, কখনো যদি ফেরে আওয়াজে ! (সম্পাদিত)

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।