আনন্দ আশ্রম-

কুমিল্লায় এসে যখন পৌঁছলাম চারিদিকে তখন স্বরস্বতী পুজার আমেজ। গত রাতে জগন্নাথ হলে গিয়ে ঘুরেছি অনেক। আগে প্রতি বছর অনেকটা সময় কাটতো ওখানেই। আর এবারে হুট করে ঘুরে আসা খানিকটা, অতিথির মত আলগোছে। চারুকলা প্রতিমা বসায় পুকুরের মাঝে, চিরকালই, সেখানে গিয়ে প্রতিবারের মতই মুগ্ধতা একরাশ। অনেক অনেক ছবি। তারপরে, মানুষের ভিড়ে হাঁটতে হাঁটতে জগন্নাথের মাঠে। সেখানে পুরনো অনেক বন্ধু, আলিঙ্গন, উচ্ছ্বাস। আবারও অনেক অনেক ছবি।

বিস্তারিত»

আমার প্রেমিকারা-৫

‘পুরুষ মানুষের মন আর নারীর দেহ,এই দুইটার-ই কপিরাইট থাকা দরকার’। কথাটা প্রথম যখন শুনি,হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। তারপর ভেবে দেখলাম-এ আবার কেমন কথা? গুরু বললেন- এই দুইটার কপিরাইট করা থাকলে এই পৃথিবীটায় আর কোনোদিন কোনো ঝামেলা থাকতোনা।যত নষ্টের গোঁড়া,এই দুই বিষফোঁড়া।

আমি ভেবে অবাক হই-তাইতো গুরু, আপনিতো ঠিক বললেন।আমার নিজের এই মনটার ঘাটে ঘাটে নোঙ্গর করার স্বভাবটার মিল বুঝি এখানেই খুঁজি পাচ্ছি।কবির ভাষায় বলি-
‘আর পারছিনা গুরু,সেই ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু’।

বিস্তারিত»

যে ভুল আর শোধরাতে পারিনি

১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার নিরাপরাধ দুই চাচা নিহত হলেন। বাবা তার প্রিন্টিং প্রেস ব্যবসা হারালেন এবং যুদ্ধে তার দুই ভাইকে হারিয়ে মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেন। বিশেষ করে যখন জানলেন যে তার এক ভাইকে মিলিটারীরা অন্যদের সাথে নদীর ধারে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মেরেছে এবং অন্য ভাইকে স্থানীয় বিহারীরা তাকে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে থেকে দরজায় শিকল তুলে দিয়ে বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে।

বিস্তারিত»

শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর ভুমিকা কি হওয়া উচিত?

মাসরুফ ভাই এর রিসেন্ট পোস্টে সেনাবাহিনীর ভুমিকা নিয়ে কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পোস্টের অবতারনা। আলাদা পোস্টের কারন আমি এই সম্পর্কে আলোচনা এবং ভিন্ন মত শুনতে আগ্রহী।

শুরু করা যাকা রবীন্দ্রনাথের একটি প্রবন্ধ দিয়ে। প্রবন্ধটির নাম ভুলে গেছি। তার কালান্তর গ্রন্থে প্রবন্ধটি সংকলিত আছে। তৎকালীন রুশ বিপ্লব কে সামনে রেখে তিনি ঐতিহাসিক সমাজবাস্তবতার কিছু বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। তার আলোচনার সাড়বস্তু ছিল ইউরোপ তথা বিশ্বের সমাজ বিবর্তনের ইতিহাসে ধর্মীয় সংস্থাগুলো প্রাথমিক অবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ছিল।

বিস্তারিত»

বন্ধু – এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প: 2

ধূমপান
সিগারেট আমাদের কলেজে একটা নিষিদ্ধ বস্তু। আমাদের সবারই জানা যে, যার কাছে সিগারেট পাওয়া যাবে। তাকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। বেশ আজব একটা ব্যাপার। আমাদের বেশ কয়েকজন স্যার প্রকাশ্যে সিগারেট টেনে বেড়ান আর আমাদের বোঝাচ্ছেন-ওটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা বস্তু। আমরা আকর্ষিত হচ্ছি, কিছুটা তাঁদের দেখাদেখি, আর আমাদের বলা হচ্ছে, এটা খুব মজার জিনিস, কিন্তু তোমাদের জন্য এ জিনিস নিষিদ্ধ। আমাদের ক্যাডেট কলেজের নিয়ম-কানুনগুলো আমার কাছে একেবারে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের মতো মনে হয়।

বিস্তারিত»

জঞ্জাল থেকে কুড়ানো…

বাসার বুকশেলফের নিচের তাকটায় পুরাতন জিনিসপত্রের জঞ্জাল বেড়ে যাওয়ায় পরিষ্কার করার অভিযানে নেমেছিল বউ। আমি ভাদাইম্মা মানুষ, আমারে দিয়ে ওইসব হয় না। তবে পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে দেখছিলাম কি করা হচ্ছে। অনেকদিন আগের একটা স্ক্র্যাপবুক পেলাম, আর একটা ত্রৈমাসিক কলেজ ম্যাগাজিন। সাদা-কালোতে ছাপা। খুলে একটু স্মৃতিকাতর হয়ে গেলাম। সেই স্মৃতিকাতরতায় আপনাদের সামিল করতে আমার নিবেদন-

এখানে-ওখানে
-ক্যাডেট ওমর/১৮৩৫
(কবিতাটা আমার লেখা না,

বিস্তারিত»

বন্ধু – এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প

কঠিনেরে ভালবাসিলাম

ইস্পাত-মোড়ানো বেতের লাঠির শপাং শপাং শব্দ হচ্ছে। শব্দের শেষ প্রান্তে আঘাতের থপ্ থপ্ আওয়াজ। আঘাতগুলো পড়ছে ইমুর গায়ে। হাতে, কাঁধে, কোমরে, কোমরের নিচে, পিঠে, নখে। প্রতিটা আঘাতের সঙ্গে ইমু কেঁপে উঠছে, কিন্তু ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার চেহারা দেখে আঘাতের তীব্রতা বোঝার উপায় নেই। প্রিন্সিপাল নিজেই মারছেন। আমরা বাকি একান্ন জন যারা এ দৃশ্য দেখছি আর রাগী মন নিয়ে আঘাতের শব্দ শুনছি,

বিস্তারিত»

আরো একবার

আরো একবার ফিরে আসবো লোকালয়ে
যখন দুঃখ দুঃখকে ছোঁবেনা,
সুখ সুখকে
মাথার ওপর আকাশ থাকবেনা,
পায়ের নীচে শিশির
গোধুলী শেষে গোকুল ফিরবেনা,
থাকবেনা চুলোর ওপর কলমিলতার গন্ধ।

আরো একবার ফিরে আসবো তোমাদের কপাটে
যখন যুদ্ধ ফেরত স্বপ্নেরা
ডানা মেলবেনা,
শহীদের ভালবাসার ফুল কাঁদবে
শুধু’ই এক বীরাঙ্গনার হাতে,
তাকে বাঁচাতে তোমাদের ছেলেরা
আর কখোনো যুদ্ধে যাবেনা।

বিস্তারিত»

শ্যাল উই ডান্স?

আলোর সামনে বসে আছে জয়তী। চুল আঁচড়াচ্ছে। বুকের কাপড়টা ঘাড় থেকে পিছলে বুকের মাঝে কোনোমতে বিঁধে রয়েছে। জয়তীর বুকের ছোট ছোট সোনালী লোম আর লোমকুপগুলো দেখা যাচ্ছে। মাটিতে নতুন ঘাসের মতো। আলো পড়াতে সেগুলো আরও উজ্জ্বল লাগছে। জয়তীর নিঃশ্বাসের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে তার বুকটাও ওঠানামা করছে। সোনায় ঝলসানো লোমগুলোর দিকে শুভ অপলক তাকিয়ে আছে। চেষ্টা করেও পলক ফেলতে পারছে না-পাছে এই দৃশ্য জীবনে আর যদি ফিরে না আসে!

বিস্তারিত»

৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ৭ম পর্ব

আর সবার আমার এই ব্লগ পড়ে কেমন লাগছে তা জানিনা তবে আমার লিখতে খুবই ভাল লাগছে। প্রতিটি ব্লগ লিখতে বসে যখন পুরনো স্মৃ্তিগুলো লিয়ে চিন্তা করি সেই অনুভূতিটাই অন্যরকম। মনে হই এই সেদিনই কলেজে ঢুকলাম আর আজ প্রায় ১০ বছর হতে চলল। তো স্বভাবতই ক্লাস সেভেনের ক্যাডেট হিসেবে আমরা দৌড়ের উপরে থাকতাম। মোটামুটি সবাই আমাদেরকে পাঙানি দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় থাকত। আর আমাদের শুরু হল এই পাঙানি কিভাবে বাঁচা যায় তা নিয়ে লুকোচুরি খেলা।

বিস্তারিত»

দিনলিপি: প্রতিক্রীয়াশীল রাজনীতির বিষবাষ্প

বাংলাদেশ সহ পশ্চাৎপদ দেশ সমুহে একটি সাধারন বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করা যায়। গনতান্ত্রিক মানসিকতার তীব্র অভাব সেই সাধারন বৈশিষ্ঠ্য শোষিত এবং ক্ষুধায় কাতর জনতা নিজেকে রাষ্ট্রের কাঠামোতে নিজেকে গুরুত্বপূর্ন ভাবতে পারে না। তাই বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার অভাব থেকেই উৎসারিত হয় একরকম ছদ্ম গনতান্ত্রিক রাজনীতির যার কংকাল হয় স্বৈরতান্ত্রিক আর চামড়া ফ্যাসিবাদের।

বাংলাদেশে এই সংকট প্রকট আকারে দাড়িয়েছে। আমার প্রেমিকার প্রিয়দল বিএনপি কারন খালেদার শাড়ী খুব সুন্দর।

বিস্তারিত»

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকঃ পর্ব ৫ (শেষ পর্ব)

পূর্ব প্রকাশের পর…

রাইন,

হ্যাঁ, ঘুমান। (বাবা-মায়ের সাথে নাশতা খাওয়ার প্ল্যান বাতিল?)

আপনাকে সারা রাত জাগিয়ে রাখলাম আজকে। অবশ্য এজন্য আমার একটুও দুঃখ লাগছে না… অপরাধবোধও না! কারণ আমি জানি আমার কাছে লিখতে আপনার ভালোই লাগলো, আমারও যেমন। না? 🙂

লর্ড অফ দ্যা রিংস আমারও খুব প্রিয় একটা মুভি। আমরা প্রত্যেকটা হলে গিয়ে দেখসি। কয়েকটা দৃশ্য আছে এতো সুন্দর।

বিস্তারিত»

আমার খুব শীত লাগছে

বাংলাদেশে এখন শৈত্য প্রবাহ বইছে বলে আমার এক বন্ধু আমাকে জানিয়েছে। আমেরিকাতেও বর্তমানে চলছে শৈত্য প্রবাহ। এই মুহুর্তে ঘরের বাইরের তাপমাত্রা ফ্রিজিং পয়েন্টের নীচে। আমাদের বাড়ীর নিকটের পর্বতচূড়াগুলি সাদা তুষারাবৃত হয়ে আছে। এমনিতেই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০০ ফিট উচ্চতায় থাকি আমরা। শীতকালে ঠাণ্ডা পড়াটাই স্বাভাবিক। সেন্ট্রাল হিটিংয়ের বদৌলতে ঘরের মধ্যে শুধু একটা জামা পড়ে আছি এবং সাটেলাইট টিভিতে বাংলাদেশের চ্যানেলে উত্তর বাংলার মানুষের কষ্ট দেখছি। এমন সময় মনে পড়লো মেরীর কথা।

বিস্তারিত»

শীতের আমেজে………..

এই হাড়কাঁপানো শীতের বিকেলে
গোসলটা দুই ডুবে সেরে
চাচার চায়ের দোকানের আড্ডা
উফ! কল্পনায় হিমালয়ের পাদদেশে
বসে চায়ের ভাড়ের উষ্ণতা খুঁজে পাই।

বিস্তারিত»

৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ৬ষ্ঠ পর্ব

আজকে লিখতে বসে বেশ অনেকখন ধরে বসে ছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথম পাঙানি যেদিন খেলাম সেইদিনের কাহিনী বর্নণা করব। এই পাঙানি খাওয়া ছিল জীবনের একটা বড় অভিজ্ঞতা।

যাইহোক ঘটনার দিন-তারিখ মনে করতে পারছি না, কিন্তু এটুকু বলতে পারি দিনটি ছিল সোম-বৃহস্পতিবারের মধ্যের যেকোন একটি দিন। ক্লাসে ৭ম পিরিয়ডে আমাকে জানানো হল যে লাঞ্চের পর ৩০৮ নং রুমে থাকতে হবে। ভয়ে ভয়ে শেষ পিরিয়ড করলাম এবং লাঞ্চে ঠিকমত খেতে পারলাম না।

বিস্তারিত»