বন্ধু – এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প: 2

ধূমপান
সিগারেট আমাদের কলেজে একটা নিষিদ্ধ বস্তু। আমাদের সবারই জানা যে, যার কাছে সিগারেট পাওয়া যাবে। তাকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। বেশ আজব একটা ব্যাপার। আমাদের বেশ কয়েকজন স্যার প্রকাশ্যে সিগারেট টেনে বেড়ান আর আমাদের বোঝাচ্ছেন-ওটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা বস্তু। আমরা আকর্ষিত হচ্ছি, কিছুটা তাঁদের দেখাদেখি, আর আমাদের বলা হচ্ছে, এটা খুব মজার জিনিস, কিন্তু তোমাদের জন্য এ জিনিস নিষিদ্ধ। আমাদের ক্যাডেট কলেজের নিয়ম-কানুনগুলো আমার কাছে একেবারে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের মতো মনে হয়। যেমন মদ খাওয়াটা মানুষের জীবনে একটা অন্যতম আকর্ষণীয় ব্যাপার। আর ধর্ম বলে, ওটা আকর্ষণীয় বটে, কিন্তু তোমার জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু যতই নিষেধ করা হয়, ততই আকর্ষণ বাড়ে। সিগারেট ছিল আমাদের কাছে তেমনই একটা ব্যাপার। মনে হতো, সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ার চেয়ে ভালো ‘স্টাইল’ আর কি হতে পারে? এইতো, গেল সপ্তাহেই আমাদের ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন, দেখালো। ওয়েস্টার্ন। সেখানে তো মারা যাবার আগ মূহূর্তেও একজন তার বন্ধুকে বলল, সিগারেট ধরিয়ে দিতে। বন্ধুটি তাই করলো। ধরিয়ে দেওয়া সিগারেটে দুটো টান দিয়েই শান্তিতে মৃতু্যবরণ করলো।

এই সিগারেট জিনিসটা আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যারা সিগারেট খায় না তারাও খোঁজ রাখে আমরা কখন দল বেঁধে সুখটান দিতে যাচ্ছি। তারাও তৈরি হয়ে থাকে আমরা কেউ ধরা পড়লে আমাদের বাঁচাবার জন্য একটা গল্প ফাঁদার জন্য। আর কলেজ কর্তৃপ, শিক, আ্যাডজুটেন্ট-সবাই প্রায়ই সিগারেট উদ্ধারে বের হন। আমরা হয়তো একাডেমিক ব্লকে কাস করছি, তখন সহসাই তারা হাবিলদারদের নিয়ে আমাদের হাউসে চড়াও হন। সন্দেহভাজন সিগারেটখোরদের আলমারি খোলা হয়, আলমারির ভেতরের পাল্লায় সুন্দর করে লাগানো নানা রঙের কাগজগুলো ছেঁড়া হয়। কখনো বা কিছু পাওয়া যায়, বেশিরভাগ সময়ই পাওয়া যায় না। বিশেষ করে শিক আর হাবিলদাররা কখনোই কিছু উদ্ধার করতে পারেন না। এ্যাডজুটেন্ট মেজর তামজীদ কয়েকবার পেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। তিনি জানেন, একজন ক্যাডেটের চিন্তার পরিধি কতদূর। দুইবার তিনি সিগারেট উদ্ধার করেছিলেন। বাথরুমের ফাশের মধ্যে তিনি কিছু বগলা সিগারেট পেয়েছিলেন। পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পানিতে ডোবানো ছিল। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন, প্রিন্সিপালের বাহবা পাবার পর।
সিগারেট লুকিয়ে রাখার েেত্র আমাদের একেকজনের পন্থা একেক-রকম। আমি রাখি আমার বিছানার ওপর যে বৈদু্যতিক পাখাটি ঘোরে তার ওপর। পাখার ওপরের দিকে বাটির মতো একটা জিনিস থাকে, তার মধ্যে। সবুজ হাউসের নাবিল আমাদের ডাইনিং হলের একজন ওয়েটারের কাছে রাখে। সেজান আমাদের হাউসের দণি দিকের পুকুরের পানির মধ্যে ডুবিয়ে রাখে। ইমুর কৌশলগুলো একেবারে ভিন্ন-ওর মাথা কিভাবে কাজ করে, তা আমি আজও পর্যন্ত বুঝি না। কোথায় রাখে, কেউ জানে না। একবার দেখেছিলাম, ওদের কমনরুমে রাখা দেয়াল পত্রিকার ভেতর থেকে সিগারেট বের করতে। ভাষা আন্দোলন উপল েদেয়াল পত্রিকা। পাঁচ ফুট বাই ছয় ফুট পত্রিকার ঠিক মাথার ওপর শহীদ মিনারের একটা প্রতিকৃতি। শহীদ মিনারের প্রতিটি স্তম্ভের পেছনে একটা করে দরজার মত। একটার দরজা খুলে সে দুটো সিগারেট বের করে আনলো। ইমু নিজেই ঐ প্রতিকৃতিটা বানিয়েছিল। আমিতো অবাক! মনে মনে ওর বুদ্ধির তারিফ না করে পারলাম না। ভাবতাম, ওর মাথায় এ্যা-তো বুদ্ধি! তো বুদ্ধিগুলো পড়াশোনায় ব্যবহার করে না কেন? আমি নিজে অনেক ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। অনেক পড়াশোনা করি-বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, মহাকাশ, আনর্্তজাতিক সম্পর্ক-সবই আমার নখদর্পণে। কিন্তু এমন বুদ্ধি আমার মাথায় আসেনি। ইমু আমাকে লুকানোর অনেক জায়গা দেখিয়েছিল। যেমন খেজুর গাছ। এই গাছে বছরের বেশির ভাগ সময় কেউ উঠে না। শুধু শীতের শুরুতে উঠে। সত্যিই! পলিথিনে মুড়িয়ে এমনভাবে খেজুর গাছের পাতার মধ্যে গুঁজে দিয়ে আসত যে, পাখিরাও টের পেত না।

আরও অনেক পন্থা ছিল ওর। ইমু নিজের আলমারি সাজাতো নানা ধরনের কাগজের তৈরি স্থাপত্য দিয়ে- নাটকের মঞ্চ, ঘরবাড়ি ইত্যাদি। সেগুলোর ভেতর সিগারেট রেখে দিয়ে নির্বিকার থাকতো সে। আমাদের কর্তৃপরে চিন্তার বিস্তার অতদূর নেই- কখনোই ছিল না। এই প্রথম সে কারো কাছে এভাবে ধরা পড়ল।

উদ্ধার
তাওসিফ আর সাবির, আমাকে আর রম্যকে নিয়ে ঢোকাল ড্রাইং রুমে (কাপড় শুকানোর ঘর)। সাবির আমাদের লাল হাউসে চলে যেতে বলল।

‘মুঈদ, রম্য, তোরা চলে যা, তোরা এখানে থাকলে তোদের বিপদ হবে। আমরা সবাই যাব বুলবুলির কাছে। ইমুকে ছাড়িয়ে আনব, ওটা কঠিন কোনো ব্যাপার নয়।’

সাবিরের কণ্ঠ আদেশের মতো শোনাল। ওর কথাটা রাখতে ইচ্ছে করল না। নিজেকে একটা জড় পদার্থের মতো মনে হলো। বন্ধুত্বের মাপকাঠিতে আমি ইমুর আরো ভালো বন্ধু। ইমু আমাকে বাঁচিয়েছে অনেকবার। ওর জন্য আমার থাকতেই হবে। ওকে বাঁচাতে হবে।
রম্য রেগে গেল। ‘যাবো কেন? ঐ শুয়োরের বাচ্চা ইমুর গায়ে যদি একটা হাত দেয়। ওকে আমি দেখে ছাড়ব।’

‘পাগলামি করিস না রম্য। একে তো লাল হাউস থেকে এখানে এসেছিস। একজনকে বাঁচাতে পারবো? তিনজনকে নয়। তোরা যা, আমি আর তাওসিফ ইমুকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসছি।’

সাবিরের উদ্দীপ্ত কণ্ঠ। ঈষর্া হলো সাবিরের দৃঢ়মনোতার। সব কিছু উপো করে সাবির আর তাওসিফ ইমুকে বুকে টেনে নিতে পারে, কোনো কিছু চিন্তা না করেই। ইমু আগে, আর সবাই পরে। রাগ হলো। ক্যাডেট কলেজ জীবনের প্রথম চার বছর ইমু ছিল লাল হাউসে। সুখে-দুঃখে আমরা সবাই এক ছিলাম। ইমু কতবার আমাকে বাঁচিয়েছে সিনিয়রদের মার খাওয়ার হাত থেকে। বড় ভাইরা যখনই আমাকে দু-ঘা দেওয়ার আয়োজন করেছে, তখনই ইমু এসে হাজির। সব দোষ নিজে মাথাপেতে নিয়ে আমাকে বাঁচিয়ে দিতো।

বলতো: ‘আমের ভাই, বদর ভাই-মুঈদ কিছু করেনি। আমার সব দোষ, সাদী ভাইকে আমিই সিঁদে চোর বলেছি।’
আমের আর বদর ভাই তো হা হয়ে যেত! বুঝে উঠতে পারত না কি করবে। শেষে আমাকে ছেড়ে দিয়ে ইমুকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। ইমুর জানা ছিল, কিভাবে বড় ভাইদের মারগুলো ঠেকাতে হয়। আর বেশিরভাগ সময় ওর আকার-আয়তন চিন্তা করে অনেকেই ওকে মারতো না। শেষে ইমুই যদি তাদেরকে মেরে বসে এই ভেবে। বড় ভাইদের মধ্যে আবার কেউ কেউ ছিল ইমুকে বাঁচিয়ে দিতো। মুস্তাকীম ভাই তাদের একজন। এই মুস্তাকীম ভাইয়ের প্রভাবে পড়েই ইমু সিগারেট খাওয়া শিখেছিল। এই বড় ভাইটা আমাদের অনেক কাছের মানুষ। ইমুর সঙ্গে ছিল তার অন্যরকম খাতির। ইমুকে ডেকে নিয়ে সাহিত্য বিষয়ে আলাপ করতো। ইমু পড়াশোনা করতো না, কিন্তু বই পড়ত প্রচুর। আমাদের কলেজ লাইব্রেরিতে অনেক বই। বেশিরভাগই উপন্যাস। ক্যাডেট জীবনের চার বছরের মধ্যে বাংলা ইংরেজি মিশিয়ে লাইব্রেরির অর্ধেক বই ইমুর পড়া হয়ে গিয়েছিল। স্যার কাস নিচ্ছেন, আর ইমু একটি বইয়ের নিচে আরেকটি বই রেখে সেটি পড়ে যাচ্ছে। স্যার হঠাৎ করে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারতো না। শাস্তি পেতে হতো।

‘মুঈদ, প্লিজ তোদের হাউসে চলে যা। কি চিন্তা করছিস?’ সাবির সামান্য চিৎকার করে বলল।

আমি আর রম্য চলে গেলাম। রাতে খাবারের সময় ডাইনিং হলে গিয়ে জেনেছিলাম, ওরা ইমুকে বাঁচাতে পারেনি। কলেজ প্রিফেক্ট মাসুদ ভাই রাতে খাবারের সময় জানালেন, কাস ইলেভেন-এর সবাইকে পরদিন একাডেমিক ব্লকে যেতে হবে না। বরং আমরা যাব প্রিন্সিপালের অফিসের সামনে। ইট্’স ভেরি সিরিয়াস।

তাওসিফ আর সাবিরের কোনো কথাই শোনেননি মি. বুলবুল। ইমু একটা খারাপ ক্যাডেট। ওকে কোনোভাবেই কেউ পাকড়াও করতে পারছে না। তিনি যখন পেরেছেন, কোনো ছাড়া-ছাড়ি নেই। ইমুকে এবার শাস্তি ভোগ করতেই হবে। প্রিন্সিপাল কর্নেল নূরুল বাশার খুশি হবেন। ‘বুলবুলি’কে খুব তাড়াতাড়ি অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর বানিয়ে দেবেন। এতবড় সাফল্য! না বানিয়ে কি উপায় আছে? আামাদের কিছু বন্ধু-ফয়েজ, সামসু জাহিন এবং তাদের অনুসারীরা খুব খুশি হলো। তাদের এতবড় শত্রু ইমু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে। তাদের খুশি দেখে কে! তারা ইমুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াল। ওর জন্যই আমাদের এতবড় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রিন্সিপালের সামনে মাথানত করে দাঁড়াতে হচ্ছে।

আমাদের বন্ধুদের মধ্যে এই দলটা খুব রেগে গেল অন্যদের হাত তোলা দেখে। ফয়েজ আর সামসু তো বিড়বিড় করে আমাদের গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগল। কেন আমরা ইমুকে বাঁচাতে যাচ্ছি? ইমুর যা প্রাপ্য, তাই হচ্ছে। আর একটু পর যা ঘটতে যাচ্ছে, তা ভেবে তো তাদের মেজাজ আরও খিচড়ে গেল। আমি নিশ্চিত এ কারণে পরে ওরা ইমুর ওপর শোধ নেবে।

এদিকে কর্নেল সাহেব বিপদে পড়ে গেলেন-আমাদের সবাইকে নিয়ে কি করবেন। একসঙ্গে এতজনকে সামলানোর মুখোমুখি তিনি এখানে প্রিন্সিপাল হবার পর আর হননি। আমরাও তাঁকে আগে কখনো এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে দেখিনি।

এ্যাডজুটান্ট আমজীদের দিকে ইশারা করে তাঁর দপ্তরে যেতে বললেন। তাঁরা দু’জনে মিলিয়ে গেলেন প্রিন্সিপালের ঘরের দরজার পর্দার ওপারে। খুব বেশিণ সময় তারা নিলেন না। মিনিট পাঁচেক পরেই বেরিয়ে এলেন।

মেজর আমজীদ ঘোষণা করলেন, ‘বয়েজ, দ্য হোল কাস উইল বি ইন দ্য গ্রাউন্ড টিল লাইটস-আউট টুডে। অ্যান্ড ইউ উইল হ্যাভ নো ফুড টুডে। ব্রেকফাস্ট টুমরো উইল বি ইওর নেকস্ট মীল।’

দু জন হাবিলদারের দিকে তাকিয়ে বললেন, মাঠে নিয়ে গিয়ে আমাদের শাস্তি শুরু করতে। আমাদের সবার মধ্যে বিরক্তির গুঞ্জন শুরু হলো। কেউ কেউ ইমুকে গালিগালাজ করতে লাগল। এরকম ঘটনা আগে ঘটেনি তা নয়। আজকের ব্যাপারটা বেশি করে তাদের গায়ে লাগল। এখন বাজে দুপুর বারোটা। দুপুরে খাবার কথা পৌনে দুটোর সময়। সেটা খাওয়া হবে না। তারপর বিকেলের নাস্তা পাঁচটায়। সেটাও আজকে ভাগ্যে নেই। ন’টায় রাতের খাবারের কথা তো চিন্তাই করতে পারছি না। এখন ফ্রন্টরোল বা ডিগবাজি দিয়ে আমাদের শাস্তি শুরু হবে। তারপর একে একে আমাদের ক্যাডেট কলেজে প্রচলিত সবগুলো শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। সাইডরোল, ক্রলিং, ফ্রগ-জাম্প, হাফ-চেয়ার হয়ে থাকা-সবগুলোই আজ আমাদের কপালে আছে। শেষ খাবার খেয়েছি সাড়ে দশটার সময় একটা বনরুটি, আর এক কাপ দুধ ‘মিল্ক ব্রেক’-এর সময়। আজ দিনের শেষে অনেককে যে হাসপাতালে যেতে হবে তাও বুঝতে বাকি রইল না। যতই পিটি আর প্যারেড করি না কেন, দুপুর বারোটা থেকে রাত সোয়া দশটা পর্যন্ত একনাগাড়ে শাস্তি সহ্য করা আমাদের কারো প েসম্ভব নয়। আমার তো নয়ই। ইমুকে এখন কাছে পেলে একটি ঘুষি বসিয়ে দিতাম ওর নাকের ওপর। শালা হারামজাদা, তোকে বাঁচাতে গিয়েই আজকে এই অবস্থা। বমি করে অসুস্থতার ভান করে চলে যেতে পারলে খুব ভাল হতো। আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আছে, যারা শাস্তি শুরুর কিছুণ পরই যেভাবেই হোক খাবার উগরে দিতে পারে-ফারহান, নাঈম, কামরুল ওরা আজকেও নিশ্চয়ই তাই করবে। আমার আবার হাজার চেষ্টা করলেও বমি হয় না। ক্রলিং আমার সবচেয়ে ভয়ের বিষয়। ঘাসের ওপর ক্রলিং করতে গেলে আমার কনুই দুটো ছিলে রক্ত বেরিয়ে আসে।
ফ্রন্ট-রোলিং শুরু করার কিছুণের মধ্যেই আমার নাম ধরে কেউ ডাকল-ইমুর গলা।

‘মুঈদ আমার বাপ-মা তুলে গালিগালাজ করছিস?’

‘গালি মানে! দাঁড়া এটা শেষ হোক। তোর পাছায় লাথি দেব, শয়তান তোকে সবাই ধরে পুকুরে চোবাব!’ রাগে গড়গড় করলাম।

‘আচ্ছা, আমার দোষ, আমি ধরা পড়েছি; যা ঘটার আমার ভাগ্যেই ঘটতো। তুই কেন বলতে গেলি তুইও ছিলি আমার সঙ্গে? ইমু হাসে।
‘তা না হলে আজই তোকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যেতে হতো।’

‘আমাকে তোদের সঙ্গে আরও কিছুদিন থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোকে অনেক ধন্যবাদ।’

দু’জনে পাশাপাশি ডিগবাজি দিয়ে যাচ্ছি। কিছু দূর থেকে ওয়াক ওয়াক শব্দ শোনা গেল। দেখলাম, ফারহান দাঁড়িয়ে বমি করছে আর তাইমুরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।

‘ইমু, আমার কি হবে? আমি এতণ পারবো না।’

‘শোন, ধরে নে যে, তুই ব্যায়াম করছিস। রাতে আসিস, ফাইভ-ফাইভ খাওয়াব।’

‘মানে?’

‘ফাইভ-ফাইভ রেখে দিয়েছি। এরকম সময়ের জন্য, চলে আসিস।’

‘আরে তা না হয় আসলাম, খাবার খাব কি?’

‘চানাচুর আর মুড়ি আছে আমার কাছে। নীল হাউসের পেছনের বাগানে শসা আর গাজর আছে। তাতেও না হলে ডাইনিং হল থেকে তোর জন্য পাউরুটি আর জ্যাম চুরি করে আনবো। নাও ইনজয় ইওর পানিশমেন্ট।’

ইমু আমাকে ছেড়ে ডিগবাজি দিতে দিতে অন্যদিকে চলে গেল। ওর চলে যাবার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম ও আসলেই একটা শয়তান। ক্রিয়েটিভ শয়তান।

৩,১৬৫ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “বন্ধু – এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প: 2”

  1. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    ইমরুল ভাইয়ের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি ......... কলেজে থাকতে সিগারেট ধরা খাওয়ার পরে টানা এক মাস ইডিতে ছিলাম ...... আহা ... সেই দিনগুলো ... :dreamy: :dreamy: :dreamy: :dreamy:
    অসাধারন লাগলো ইকরাম ভাই ... :boss: :boss: :boss: :boss:

    জবাব দিন
  2. ফয়েজ (৮৭-৯৩)
    আামাদের কিছু বন্ধু-ফয়েজ, সামসু জাহিন এবং তাদের অনুসারীরা খুব খুশি হলো
    ফয়েজ আর সামসু তো বিড়বিড় করে আমাদের গুষ্টি উদ্ধার করতে লাগল।

    ফয়েজ রে ভিলেন বানাই দিছেন B-)

    দূর এইটা কিচ্ছু হয় নাই :thumbdown:

    এই বইয়ের এন্টি ক্যাম্পেইন শুরু করুম


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  3. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    সিগেরেট খেয়ে কেউ ধরা খায়!! ক্লাস নাইন থেকে ফুঁকে আসছি। কলেজে কতো চেষ্টা হলো, কেউ ধরতে পারেনি। মি. গোপাল, মি. ভুঁইয়া কতো চেষ্টা করলো...........

    ঠিক আছে ইকরাম, বইটা কিনবো। 😀 জলদি ছাপাও।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  4. আমাদের সময় এমন দুই পক্ষ ছিলনা সবাই ক্লাসমেট দের বাচাতে আসত
    ভাইয়া লেখাটা অসাধারণ হয়েছে :clap:
    কলেজের সিস্টেম করি বই কিনবোনা কারো পর সিরিয়াল দিয়ে দেই :grr:
    রিবিন ভাই আপনার পর আমি 😀

    জবাব দিন
  5. ইকরাম কবীর (৭৮-৮৪)

    সিগারেট খেয়ে আমিও ধরা পরিনি, কিন্তু কেউ কেউ পড়েছে। এই চরিত্রে আমি সবার ঘটনা এক করেছি। কিছু ঘটনা আমার নিজের। সবগুলো নিয়ে একটা গল্প বুনেছি। সিগারেট দিয়ে শুরু করেছি, আরো ঘটনা আছে।
    ফয়েজ - রাগ কোরো'না। কলেজের ভিলেনরা সবাই সুইট ভিলেন ছিল।

    জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      আমাদের বন্ধুরা একবার এক বন্ধুরে মাইর দিছিল। সন্দেহ ছিল যে সে এইচএসসির প্রশ্নপত্র পেয়েছে, কিন্তু অন্যদের দিচ্ছে না। কলেজ জীবনের শেষ দিকে এসে এমন একটা ঘটনা আমাদের সম্পর্কে ভালোই সমস্যা তৈরি করেছিল। ঘটনাটা মনে ছিল না। কয়েকদিন আগে একজন মনে করিয়ে দিল।


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  6. ইফতেখার (৯৯-০৫)

    ভাইয়া, কিচ্ছু বলার নাই। :just: অসাধারণ।
    :boss: :boss: :boss: :boss:
    আবার সেই পুরানো স্মৃতিগুলো মনে করায় দিলেন। অনেক কষ্ট হয় মনে পড়লে। কিন্তু এই একটা কষ্টই যেটা পেতে কখনো কষ্ট হয় না।

    জবাব দিন
  7. Saiaf bin rayhan

    অস্থির লাগলো ভাই!!!অসাধারণ আপনাদের ওল্ড cadets দের কাহিনী গুলো....মাঝে মাঝে ভাবি বিধাতা র কিসুদিন আগে যদি পৃথিবীতে আসার সুযোগ দিতেন তাহলে হয়ত আরো কিসুদিন আগে কাদেত কলেজ এ জযেন করতে পারতাম....আসলে ভাই দিন যতই যাচ্ছে cadet কলেজ এর মজাও তত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে.আপনাদের কথা চিন্তা করলে সেদিন দিয়ে অনেক কিছুই হারিয়েছি আমরা...স্টিল যা পেয়েছি তাও কম না কোনো দিক দিয়ে..............থাঙ্কস ফর ইউর মর্ভেলুস রাইটিং.........


    Сайф

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।