ভালোবাসার বন্ধুত্ব- ০৮

ভালোবাসার বন্ধুত্ব- [১] [২] [৩] [৪] [৫] [৬] [৭]
৩৪।
পরদিন সকালে অয়ন নীল্ কে ঘুম থেকে ডেকে তুললো।
নীলঃ কিরে আজকে তো ক্লাস নাই, তুই এতো সকাল সকাল কই যাস?
অয়নঃ যাই একটু ডেটিং করে আসি বউ এর সাথে।
নীলঃ শালা দুই দিন হলো না প্রেম হইছে, এখনি বউ, ভালো।
অয়নঃ যাবি নাকি? ওদের কলেজে নাকি অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে আছে। গেলে হয়তো তোর ও কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।
নীলঃ তুই যা, আমার দরকার নাই।
অয়নঃ হ্যা, তুই তো দেবদাস হয়েছিস, কিন্তু তোর পারু সরি নীলিমা তো আর ফিরে আসবে না।
নীলঃ ডায়লগ মারিস না। যা। বিকালে তাড়াতাড়ি আসিস, কাজ আছে।
অয়নঃ ঠিক আছে। তুই ঘুমা।
বেশিক্ষন অবশ্য ঘুমাতে পারলো না। একটু পরেই সোহেল আর হাসান আসলো।
হাসানঃ জানতাম তোকে বাসাতেই পাওয়া যাবে।চল।
নীলঃ কোথায়?
সোহেলঃ তেমন কোথাও না। একটু মার্কেটে যাই চল। কাজ তো নাই।
নীলঃ চল যাই।
৩৫।
মার্কেটে ঘুরতে ঘুরতে ওদের সাথে দেখা হয়ে গেলো অয়ন আর তার বউ এর।
হাসানঃ কিরে তুই এইখানে কি করিস?
অয়নঃ দেখিস না কি করি?প্রেম করি।
নীলঃ হ্যা তা তো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু তোর না ওর কলেজে থাকার কথা অন্যান্য সুন্দরীদের দেখার জন্য।
ফারিয়া (অয়নের বউ) কি আমাকে রেখে অন্যদের দেখবে? চোখ নষ্ট করে দিবো না।
অয়নঃ যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর। আমি তো অন্য মেয়ে দেখতে চাই নীলের জন্য।
ফারিয়াঃ তাই নাকি? তা নীল ভাই, আপনার কেমন মেয়ে পছন্দ।
নীলঃ অয়নও বললো, আর তুমিও শুরু করলা।
ফারিয়াঃ কেনো? আপনি কি জীবনে প্রেম করবেন না বলে ঠিক করছেন নাকি?
নীলঃ তা না। যখন হবে দেখা যাবে।
ফারিয়াঃ দাড়ান আপনার জন্য একটি মেয়ে ঠিক করে দিবো।
হাসানঃ হ্যা। দাও তো। নীলের দ্বারা কিছু হবে না। যেই মেয়ে ওকে চায় সে তাকে পাত্তা দেয় না।
ফারিয়াঃ মানে?
নীলঃ কি বলতে চাস?
হাসানঃ আরে আমি ওইযে অনীতার কথা বলতেছিলাম। মেয়েটা যে তোকে পছন্দ করতো এটা তো সবাই জানতো। তুই তো কিছুদিন ঘুরলিও ওর সাথে।তারপর কি হলো আর কিছু করলি না।
নীলঃ বাদ দে তো পুরানো কথা। চল আমরা যাই। ওদের একা থাকতে দে। ফারিয়া যাই।
ফারিয়াঃ আমি কিন্তু আপনার জন্য মেয়ে দেখা শুরু করলাম।
নীলঃ দেখতে থাকো।
অয়নঃ এইবার বুঝবা চান্দু মেয়ে মানুষ কি জিনিষ।
ফারিয়াঃ কিছু বল্লা মনে হয়।
অয়নঃ আরে না। আমার এতো সাহস কোথায়।
নীলঃ তোরা ঝগড়া কর। আমরা যাই।
৩৬।
ঠিক দুই দিন পর…
ভার্সিটি তে নীল, হাসান আর সোহেল বসে আড্ডা দিচ্ছে, এমন সময় অয়ন আসলো।
হাসানঃ এইযে আসছে প্রেমিক পুরুষ।খবর কি?
অয়নঃ আরে আমার খবর তো আগের মতোই।খাই দাই ঘুরে বেড়াই।
নীলঃ কথাটা একটু অন্য রকম হবে। খাই দাই আর প্রেম করে বেড়াই।
অয়নঃ ভালো কথা মনে পড়ছে। ফারিয়া তোকে দেখা করতে বলেছে।
নীলঃ কেনো?
অয়নঃ আমি জানি না। কি জানি কথা আছে।
নীলঃ ঝগড়া করেছিস নাকি?
অয়নঃ বন্ধু, প্রেম করলে তো ঝগড়া হবেই। ওইরকম কিছু না। আমি আসলে জানি না।কালকে সময় থাকলে চল ওদের কলেজে আমার সাথে।
সোহেলঃ আমরাও যাবো। দেখি এই ফাকে কিছু সুন্দরী দেখে আসি। ওদের কলেজে নাকি অনেক সুন্দরী পড়ে।
হাসানঃ যা ঘুরে আয়। কালকে আমার একটু কাজ আছে।
সোহেলঃ তোর আর কি কাজ। বসে বসে নীলিমার কথা চিন্তা করা।
বলেই সোহেল বুঝতে পারলো কথাটা এইভাবে বলা ঠিক হয় নাই।হাসান নীলের কথা না জানলেও নীলিমার কথা শুনলেই নীলের যে ভালো লাগে না এইটা সোহেল জানে।
হাসানঃ দেখ ফাজলামো করিস না। তোরা যা আমার অন্য কাজ আছে।
অয়নঃ ঠিক আছে কালকে তাহলে তোরা চলে আসিস সময় মতো। আমি যাই এখন। একটা ক্লাস আছে।
নীলঃ তুই আবার ক্লাস করিস কবে থেকে?
অয়নঃ আরে পরের ক্লাসে পরীক্ষা। পাস তো করতে হবে।
সোহেলঃ যা তাহলে।
৩৭।
পরদিন সকালে নীল আর সোহেল গেলো ফারিয়া দের কলেজের সামনে। গিয়ে দেখে অয়ন আর ফারিয়া দাঁড়িয়ে।
নীলঃ কি ব্যাপার। জরুরি তলব।
ফারিয়াঃ আপনার এই বোন আপনার জন্য একটি মেয়ে দেখেছে।
নীলঃ ধুর, এই ব্যাপার। আমি ভাবলাম কি না কি।
ফারিয়াঃ আরে এটা আপনার কাছে কোনো ব্যাপার মনে হচ্ছে না?
নীলঃ দেখো তোমার কি মনে হয় এই ভাবে প্ল্যান করে প্রেম হয়?আর আমার আপাতত এই গুলা নিয়ে কোনো চিন্তা নাই।
ফারিয়াঃ আরে জোর করে তো হয় না আমিও জানি। হলে হবে নাহলে নাই।
সোহেলঃ ঠিকই তো।
নীলঃ তুই চুপ থাক। তোমরা কিছু খাবে? আমার ক্ষুদা লেগেছে। চলো সাম্নের ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসি।
সোহেল জানে নীল কেনো চলে যেতে চাচ্ছে। আসলে নীলিমা ছাড়া ও আর কাউকে নিয়ে ভাবতে পারে না।
ফারিয়াঃ ঠিক আছে, আপনার গিয়ে বসেন। আমি আসছি।
সোহেলঃ তাড়াতাড়ি এসো।
নীল,অয়ন আর সোহেল গিয়ে হোটেল এ বসলো।
সোহেলঃ একটা কথা বলি?
নীলঃ বল।
সোহেলঃ তুই এখনো নীলিমাকে ভুলতে পারিস নাই। কিন্তু এইভাবে কতোদিন চলবে?
নীলঃ জানি নারে। কি করবো? ভুলতে না পারলে কি আমার দোষ?
সোহেলঃ তা না। কিন্তু কারো না কারো সাথে তো জীবন কাটাতে হবে।
নীলঃ হয়তো।
এমন সময় পেছন থেকে ফারিয়া এর কন্ঠ শুনলো।
ফারিয়াঃ নীল ভাই, আমার ফ্রেন্ড এর সাথে পরিচিত হোন। ওর নাম নীলিমা।
অয়ন নাম শুনে চমকালো আর নীল এবং সোহেল চেহারা দেখে। এই তো সেই নীলিমা। যাকে নীল পছন্দ করতো এখনো করে কিন্তু হাসানের জন্য কিছু বলে নাই।নীলিমার অবশ্য চিনার কথা না। সে সবাইকেই হাই বললো। আর নীল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
(চলবে…)

২,৫৩১ বার দেখা হয়েছে

২৪ টি মন্তব্য : “ভালোবাসার বন্ধুত্ব- ০৮”

  1. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    এইডারে কি উপন্যাস বানাইতাছো? আত্মজৈবনিক নাকি? 😀

    ধারাবাহিকটারে দ্রুত আগাইয়া নাও। পাঠকেরও তো টেনশন হয়, নাকি!! :grr: :grr: :grr:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।