আরজ আলী মাতুব্বরের গল্প আমি প্রথম শুনি এক ঈদের দিন সকালে, ক্যাম্পাসে আংকেলদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক জটলায়। ঈদের দিন সকালে একদল মধ্যবয়স্ক মানুষের মাঝে এক কৃষকের গল্প সেরকম মজার কোন বিষয় হওয়ার কথা না কিন্তু তারপরেও আমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুনে যাই সেই গল্প। কারণ সেটা ছিল আসলে এক অন্যরকম গল্প, সমাজের সাধারণ স্তর থেকে উঠে আসা এক সত্য অনুসন্ধানী মানুষের জ্ঞান পিপাসার বিচিত্র সব গল্প।
বিস্তারিত»অতঃপর ব্লগর ব্লগর – ৬
১
জীবন প্রবাহে জীবিকার ছোবলে আক্রান্ত হতে হয় প্রায়ঃশই। কখনো হোঁচট খাই – কখনো বা পিছলে যাই – কখনো বা আমাদের স্রেফ বসে পড়তে হয়। তারপর আমরা হামাগুড়ি দিয়ে নড়তে শুরু করি। ধীরে ধীরে এরপর হেঁটে চলা আর একসময় দৌড়ে চলা। এহেন জীবন যাপনে আমরা অনেক সময়ই বাস্তবতার সাথে সমঝোতা করে নিই। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বরের জমকালো ইফতার সন্ধ্যা মিস্ করার পর নিজেকে সান্তনা দেওয়ার জন্যই বোধকরি এ ভূমিকাটুকুর অবতারনা।
চিকিৎসা – ৪

এক দুই তিন
চার
ফেরার পথে সারা পৃথিবী চষা সুমন লন্ডনে একবার তার পুলিশের হাতে পরে নাস্তানাবুদ হওয়ার গল্প বলছিল।
স্বপ্নাতুর চোখে লাবনী জিজ্ঞেস করলো,
-লন্ডন শহরটা কেমন?
-শহরটা অনেক পুরনো তো তাই একটু ঘিঞ্জি ধরনের। রাস্তাঘাট ছোট ছোট, বাড়িঘর দোকানপাট খুব লাগোয়া। ব্যস্ত মানুষজন পেভমেন্ট দিয়ে হাঁটছে। পথে ঘাটে সব সময় গাড়ি, বাস,
চিকিৎসা – ২, ৩
দুই
লাবনীর আজকে সুমনের সাথে আশুলিয়াতে লং ড্রাইভে যাওয়ার কথা। কথা আছে এগারটার সময় গাড়ির মধ্যে থেকেই সুমন মিস কল দিবে আর সে নীচে নেমে যাবে। এখন প্রায় বারটা বেজে যেতে চললো অথচ সুমনের কোন খবর নেই। এদিকে হাসানকে বলে রেখেছে আজকে সাড়ে এগারটা থেকে তার দুটো কোচিং ক্লাস। হাসান তো ঠিকই তিনটা চারটার দিকে ফোন করে খোঁজ নেবে লাবনী বাসায় ফিরেছে কি না।
অপরিচিতা

পুব আকাশে সূর্য এলে,কিংবা আলোর দুপুরে,
দিন ফুরিয়ে শেষ বিকেলে কে যায়?বাজায় নূপুরে-
চৈতালী সুর-ধিনাক ধিনাক;ভাঙা কাঁচের রিনঝিনি-
হাসিতে কে দেয় ভেঙে মোর ভাঙা বুকের অঞ্জনি?
কে ঢালে মোর সুখসাগরে একটু প্রেমের বিষাদজল?
কার প্রেমাদে তরল আবেগ উথলে উঠে অচঞ্চল?
কার আচঁলের আড়াল কোলে লুটপুটি খায় বকুল ফুল?
কে দেয় দোলা নদীর জলে,বুক দোলে মোর দোদুলদোল!
ঘুম
“ক্লাস এ যাবে না?” বলে
ডেকে দিল বাবা।
ভাঙল ঘুম, কি আজব!
“এই ঘুমাচ্ছ কেন?” বলে
বের করে দিল টিচার।
হলো না ঘুম ক্লাসেও, কি আজব!
চিকিৎসা-১

(গল্পটি পুরানো এবং আগে একটি ব্লগে ছাপানো হয়েছিলো।)
এক
ইন্দিরা রোডের একেবারে মাঝামাঝি দাড়ালে কামাল সাহেবের সুদৃশ্য সিরামিক ইটের চারতলা বাড়িটা নজর কাড়ে। নাগরিক জীবনের শর্ত মেনে বিলডিংএর ভাড়াটিয়া মোট সাতটা পরিবার দৈর্ঘ্যের বিচারে যতটা না নৈকট্যে, নিজেদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কে ঠিক ততটাই দূরত্বে। একেকটা ফçাট যেন একেকটা দ্বীপ। প্রায় প্রতিদিনই দোতলার বাসিন্দা হিয়ার সাথে তারই সমবয়সী চারতলার বাসিন্দা লাবনীর সাথে সিড়িতে উঠানামার পথে দেখা হয়।
এলোমেলো-৫: বাংলা
১.
খুব সম্ভবত ক্লাস নাইনের ঘটনা। আমাদের পছন্দের বাংলার এক ম্যাডাম ক্লাসে এসে আমাদেরকে একটা দরখাস্ত লিখতে বললেন। বিষয়- গ্রামে একটা দাতব্য হাসপাতাল স্থাপনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন । খুব ভালো কথা, আমিও ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দরখাস্ত লিখতে বসে গেলাম। আমাদের গ্রামেই কেন লোকজনের দাঁতে খুব ব্যথা হয় এবং এই ব্যথা উপশমের জন্য কেন হাসপাতাল স্থাপন করা খুব জরুরী- এই সংক্রান্ত অনেক চাপাবাজী এক পৃষ্ঠার মধ্যে লিখে (দরখাস্ত এক পৃষ্ঠার মধ্যে লেখার নিয়ম ছিল) ম্যাডামের কাছে জমা দিয়ে দিলাম।
অসংলগ্ন ভাবনাচিন্তা ……… বয়েস এবং পেশা পর্ব
অনেক প্রস্তুতি নেয়া সত্ত্বেও ম্যাচটা মিস করলাম। একেবারে ঠিক খেলা শুরু হবার ত্রিশ মিনিট আগে টেরও পেলাম না কখন ঘুমিয়ে পড়েছি। সাড়ে বারোটার পরে ঘুম থেকে উঠে দুরুদুরু বুকে লাইভস্কোরের ওয়েব সাইটটা খুলে দেখি ব্রাজিল জিতেছে। কলেজে থাকতে দেড়টা বিশ্বকাপ পেয়েছিলাম। ৯৪ সালেরটা গোটাটাই কলেজে দেখেছি, ৯৮ সালেরটাতে, সম্ভবত, কোয়ার্টার ফাইনালের সময় আমরা এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি চলে যাই। ২০০২ এর সময় বুয়েট বন্ধ থাকার কারনে খেলাগুলো দেখেছিলাম আকিকের বাসায়।
বিস্তারিত»আমাদের মোল্লা স্যার
একটা কথা ছিলো না……সেই ১৯৫৩ সাল থেকে…..তেমনি, সেই কোন সাল থেকে মোল্লা স্যার আমাদের ক্যাডেট কলেজ প্রাঙ্গনকে উনার পদভারে কম্পিত করেছিলেন, তা আমার এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। তবে আমার মতো আন্ডাবাচ্চা থেকে শুরু করে আন্ডাবাচ্চার বাপ হওয়া পর্যন্ত সব এক্স ক্যাডটরা যে মোল্লা স্যারকে চেনেন, এ ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তিনি আমাদের নুরুজ্জামান মোল্লা স্যার, গণিতের শিক্ষক।
মোল্লা স্যারের যে জিনিসটা সবচেয়ে ইউনিক,
মালায়শিয়ার চিঠি – ০৮
১
ঈদ আসছে আবার। ছেলেবেলায়, সারা বছর অপেক্ষা করে থাকতাম এই দিনটার জন্যে। অনেক মজার একটা দিন, পড়াশুনার বালাই নেই, নেই বকা ঝকা। সারা দিন ইচ্ছেমত ঘুরা আর টিভি দেখা। এখন অনেক বড় হয়ে গেছি, পড়াশুনা আর করা লাগে না, বকা ঝকার দিনও দেখতে দেখতে শেষ হল। তাই হয়তো ঈদ গুলো আর সেই ছেলে বেলার মত রঙ্গিন নেই আজকাল। তার পরেও গত দুই বছর বেশ মিস করেছি ঈদ।
অলিভার স্টোন-এর ‘প্লাটুন’ (১৯৮৬)
ফ্রঁসোয়া ত্রুফো বলেছিলেন, যুদ্ধবিরোধী সিনেমা কখনোই বানানো সম্ভব না, কারণ যুদ্ধ নিয়ে করা সব সিনেমাতেই বীরত্ব ও অ্যাকশন দেখানোর মাধ্যমে এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় যে যুদ্ধকে বেশ মজার মনে হয়। ত্রুফোর এই কথার চেয়ে বড় সত্য আর নেই। অনেক সিনেমায় যুদ্ধবিরোধী আন্ডারটোন থাকলেও নগ্ন বীরত্ব গাঁথা-টাই মুখ্য হয়ে উঠে। যুদ্ধের জটিল কলাকৌশল, স্নাইপারদের কারিশমা দেখতে তাই আমার কখনোই ভাল লাগে না। অপরদিকে যুদ্ধবিরোধী সিনেমা আমার প্রিয় জঁনরাগুলোর একটি।
বিস্তারিত»সাপ্তাহিক ১০
ক। রোজা শুরু হবার পর থেকে দিনের রুটিন খুব সরল হয়ে গিয়েছে, ভোরে উঠে সেহেরি খাওয়া তারপর আবার ঘুম, ৯টা থেকে ৩টা ক্লাস, তারপর ইফতারের আগ পর্যন্ত টিভি, ইন্টারনেট মাঝে মাঝে ঘুম, ইফতারের পর ডিনারের আগ পর্যন্ত সামান্য আড্ডাবাজি আর সে টিভি/ইন্টারনেট, ডিনারের পর ইন্টারনেট আর মুভি, মুভি দেখতে দেখতেই ঘুম। মাঝে অবশ্য পরীক্ষার জন্য দুদিন এই চক্র ভেঙ্গে গিয়েছিল, তারপর আবার যেমন ছিলে।
বিস্তারিত»আচার ০২৫: বিচিত্রামচা
১।
প্রথম বিশ্ব হোক আর তৃতীয় বিশ্ব- সব বিশ্বের সরকারের অবস্থা একই। চরম রকমের ইনএফিসিয়েন্ট এরা। নিজের বাপ সরকারী চাকুরীজীবি, তারপরও এই কথা বললাম। বলার কারণ অবশ্য যথেষ্টই আছে, বিদেশে পড়তে আসার মাস দুয়েক আগে থেকে শুরু হইছে সরকারী অফিসে অফিসে কাগজপত্রের জন্য ধরনা দেওয়া। কানাডায় আইসাও তার ব্যতয় ঘটে নাই, এই কাগজ সেই কাগজের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হইছে গত দুইবছর। বাংলাদেশের সরকারী অফিস আর এই খানের সরকারী অফিসের মধ্যে পার্থক্য একটাই,
বিস্তারিত»আমার ক্যাডেট কলেজ
কলেজ থেকে আসার সময় আমার খুব গর্ব হচ্ছিল যে আমি ৬ বছর কলেজে থাকতে পারলাম। একদম ক্রেষ্ট নিয়ে বের হতে পারলাম। B-) কলেজ থেকে আসার পর যখন বাসায় আসলাম তখন প্রথম দিন ভাবলাম যাহ কি মজা আর ভেকেশান থেকে কলেজে যাবার কথা চিন্তা করতে হবেনা।
কিন্তু এই অনুভুতিটা বেশিক্ষণ থাকতে পারলোনা ওইদিন রাতেই ঘুমাতে গিয়ে দেখি ঘুম আর আসেনা যখন ভাবতে লাগলাম আমি আর কমন রুমে গিয়ে আয়েশ করে বসে টিভি দেখতে পারবোনা আমাকে দেখে আর জুনিয়ররা চেয়ার থেকে উঠে জায়গা করে দিবেনা রিমোটটা আমাদের ক্লাসের কারো হাতে তুলে দিবেনা,
