ভাই রে ভাই!

আমি তখন অনেক ছোট, খুলনা শহর তখনও সিটি কর্পোরেশন হয়নি। তো, সেবার খুলনা পৌরসভার ইলেকশনে আমাদের পাশের বাড়ীর দবীর চাচা(ছদ্মনাম) কমিশনার পদে দাঁড়ালেন। তাঁর মার্কা হল উড়োজাহাজ, এরোপ্লেন। খুলনার আঞ্চলিক টানে অনেকেই বলতেন “আইরো পেলেন” – মানে বাঁকা প্লেন, কিছু দুষ্টু লোকেরা আবার ওটাকে “আইঢ়ে পেলেন” বলেও ডাকতেন (একথার অর্থ এখানে লেখা যাবে না)।

প্রতিদিন বিকালে পাড়ার ছেলেপুলেরা “তোমার ভাই – আমার ভাই,

বিস্তারিত»

খপ্পরে পড়া

আমাদের কলেজ জীবনে বন্ধুদের মাঝে “খপ্পরে পড়া” নামে একটা বাগধারা বহুল প্রচলিত ছিল। প্রচলিত বাংলায় কথাটি এক ধরনের বাজে, নেতিবাচক এবং ক্ষেত্র বিশেষে নোংরা অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন “ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়া”, “নারীখেকোর খপ্পরে পড়া” কিংবা “বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে পড়া”, ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের কাছে কথাটা সাধারণ্যে প্রচলিত অর্থের চেয়ে অনেক খানি ভিন্ন, কোন প্রকার নোংরামির সংশ্রবহীন, কিছুটা তামাসা মিশ্রিত মজাদার একটা অর্থ বহন করত। অনেক সময় “জীবনে একটু বৈচিত্র আনার আশায়”

বিস্তারিত»

বাঙ্গালনামা

অনেক অনেক দিন আগের কথা। রাম-রাবণের যুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। স্বর্ণলঙ্কা পুড়ে ছাই। বিজয়ীরা কেউ রং ছিটাচ্ছে, কেউ পটকা ফোটাচ্ছে, কেউবা আবার রংমহলে আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা। চারিদিকে বিজয়ী পক্ষের বীরদেরকে নানান মাপের পুরষ্কার প্রদান ও গ্রহনের ছড়াছড়ি চলছে। আনন্দ আর উত্তেজনার আতিশয্যে দেবতাগনও একফাঁকে কয়েকজনকে অমর বর দিয়ে দিলেন। একবার এই বর পেলে তাঁকে আর কোনোদিন মরতে হবে না। হনুমান থেকে শুরু করে বিভীষণ পর্যন্ত অনেকেই পেয়ে গেলেন সেই অমূল্য বর।

বিস্তারিত»

হৃৎপ্রাচীর

মাঝে মাঝে এমন ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দিন আসে। ভোরের আলোর মোলায়েম পরশ থাকে না। স্লেটের মতো ছাইমাখা আকাশ ভয়ঙ্কর থমথমে চোখে চেয়ে থাকে। তার নিচেই ধাতব শীতল বাতাস এলোমেলো ঘুরতে থাকে। এমন দিনে রাস্তায় বেরুলে কোন মানুষ দেখবে না, দেখবে সারি সারি মৃত মুখ, নিস্প্রভ আলোহীন অবয়বে হেঁটে যাচ্ছে। সূর্যহীন আকাশের কারণে অবয়বগুলোর কোন ছায়া পড়ে না মাটিতে। তারা যেন মসৃণ কালো রাস্তার পাশ দিয়ে কিছুটা পিছলে পিছলে চলে যেতে থাকে।

বিস্তারিত»

শিশু যৌন নিপীরণ- সচেতন হতে হবে এখনই!

সাত বছরের বাচ্চারা যেমন হয় তেমনই হাসিখুশি, উচ্ছ্বল ও বাবা-মা এর আদরের মেয়ে কমল। ওর বাবার পুরনো বন্ধু মি. বকশি আগের বাসা বদলে ওদের ঠিক সামনের ফ্ল্যাটে ওঠেন। মি এবং মিসেস বকশি দুজনেই চাকুরিজীবী, পরিবারের সদস্য সংখ্যাও দুজনই। খুব দ্রুত মি. বকশি’র সাথে কমলের ভাল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে- কেননা তিনি হাসিখুশি, কমলকে চকলেট-আইসক্রিম সহ নানা উপহার কিনে দেন, কমলকে মাঝে মাঝে গাড়ি করে স্কুলে নামিয়ে দেন,

বিস্তারিত»

চার্চ, শুঁড়িখানা ও অশনির সংকেত

গল্পটা মোটামুটি এরকম – একদিন এক চার্চের ঠিক সামনেই একটা শুঁড়িখানা চালু হল। এহেন দুষ্কর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে চার্চের পাদ্রি-পুরুতগন দিন রাত ওই শুঁড়িখানার বিরুদ্ধে ঈশ্বরের কাছে নালিশ দিয়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন। তাঁদের লাগাতার বদ-দোয়ার কারনেই হোক কিংবা নিছক কাকতালীয়ভাবেই হোক, কয়েকদিন পরেই বজ্রপাত হয়ে শুঁড়িখানাটি পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। তখন শুঁড়িখানার মালিক আদালতে গিয়ে চার্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিল। সে বলল, শুঁড়িখানার বিরুদ্ধে এই চার্চের পাদ্রি-পুরুতদের প্রার্থনার কারনেই সেটি ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিস্তারিত»

জাতিসঙ্ঘে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ভাষণ দেয়া উচিত

ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিঃ মোদী এবার জাতিসঙ্ঘে হিন্দিতে ভাষণ দিয়েছেন। উপমহাদেশের একটি অন্যতম ভাষাকে বিশ্বসমাজে তুলে ধরার জন্য আমি তাঁকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল হিন্দিতে কেন? বাংলায় কেন নয়?
ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার অনেকগুলি বৈশিষ্ট্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রের নিজস্ব আইডেন্টিটি তৈরি হয়। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকেরই উচিত যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে তাঁদের সেই আইডেন্টিটি গুলোকে সমুন্নত করা। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি আছে ভাষা সম্পর্কিত, যেমন, রাষ্ট্রভাষা,

বিস্তারিত»

ছোট গল্পের বড় শিক্ষা!

ছোট গল্পঃ
এক লোকের পাঁচ ছেলে ছিল। কিন্তু ছেলেদের মধ্যে মোটেই সদ্ভাব ছিল না, সব সময় নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-মারামারি করত। এটা নিয়ে লোকটির দুঃখের সীমা ছিল না। শেষে তিনি এক বন্ধুর পরামর্শ নেবার কথা ভাবলেন। বন্ধু ঘটনা শুনে বলল, ‘উইয়ার্ড! তোমার মত হুবহু কাহিনী নিয়ে একটা গল্প আছে, সম্ভবত ঈশপের…তুমি গল্পটা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে পার।’ লোকটা তো খুশি মনে ঈশপের গল্পের বই কিনে দেখলেন আসলেই এই রকম একটি গল্প আছে!

বিস্তারিত»

একটি সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি এবং…

কাল তারিফের জন্মদিন, একটা স্পেশাল দিন। আর কারো জন্য না হলেও তারিফের জন্য অবশ্যই। তাই এই উপলক্ষ্যে প্রীতি তারিফকে একটা সারপ্রাইজ দেবে বলে ঠিক করেছে। গার্লফ্রেণ্ড হিসেবে এটা তার দায়িত্ব বলেই ধরে নিয়েছে সে।

তারিফ তার কলেজের বন্ধুদের খুব মিস করে। প্রীতির পরিকল্পনা হলো, তারিফের সেই বন্ধুগুলোকে একসাথে ডেকে নিয়ে একটা সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি দেবে। পরিকল্পনামত তারিফের কলেজের বন্ধু নুর-এর সাথে যোগাযোগ করলো প্রীতি।

বিস্তারিত»

মুক্তিযুদ্ধে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
দুঃসহ এ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।

বিস্তারিত»

ধোঁকামী, …অতঃপর, সি.এম.এইচ ভ্রমণ

ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে আমি ছিলাম দুর্দান্ত ভাল ছাত্র। আমার স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল জাহাঙ্গীর স্যার(বহিষ্কার হওয়া এক্স-ক্যাডেট), আমাকে ‘অ্যাটম বোমা’ উপাধি দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, আমি এম্নিতে শান্ত, কিন্তু পরীক্ষার সময় সবাইরে ফাটায়ে ফেলি আর কি! ধারে কাছে কেউ থাকে না। তো এই আমি ক্যাডেট কলেজে আসার পর সম্পূর্ণ বদলে গেলাম। অ্যাটম বোমা থেকে খুব দ্রুত সাধারণ পটকা হয়ে গেলাম। ক্লাস সেভেন লাইফটা ৪ থেকে ১০ এর মধ্যেই পার করেছি।

বিস্তারিত»

আমরা কী ভুলে গেছি!

সবাই বুঝি ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছি! ভারচ্যুয়াল জগতটাতেই স্বস্তিতে আছি! একটু কি সময় নেই আমাদের পরস্পরকে দেয়ার জন্য? একটু দেখা সাক্ষাৎ, গল্প আড্ডা, হা হা হি হি, ছবি তোলা, সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া কী করা যায় না?

প্রতিবছর রোজায় ব্লগের ইফতার পার্টির কথা কী আমরা ভুলে গেছি? আমি ভুলিনি। দেখি কার কার মনে আছে? সাড়া দাও, দাও সাড়া।

বিস্তারিত»

সাংবাদিকতার নীতির কতটা বাইরে যেতে পারি

(০৩/০৫/২০১৩) এক টেলিভিশন সাংবাদিকের ছবি ফেসবুকে ঘুরছে। তিনি একটি চ্যানেলের প্রতিবেদক। তাকে দেখা যাচ্ছে জুরাইন কবরস্থানে একটি খোঁড়া কবরের মধ্যে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে পিটিসি (পিস টু ক্যামেরা) দিচ্ছেন। দৃশ্যটি হয়তো টেলিভিশনে প্রচারিতও হয়েছে। একজন ফটোগ্রাফার ওপর থেকে তুলছেন দৃশ্যটা। তবে প্রতিবেদক দাবি করেছেন, এটা সম্প্রচারিত হয়নি। কিন্তু ছবিটি সাংবাদিকতার যা ক্ষতি করার করে দিয়েছে। ছবিটা টেলিভিশনের চেয়েও বড় মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।

ছবিটি দেখার পর এই প্রতিবেদক সম্পর্কে কী ধারণা হয়েছে দর্শকের,

বিস্তারিত»

সাংবাদিকতায় ফলো-আপের অভাব

সাংবাদিকতা পেশায় অনেকগুলো বছর পার করার পরও কেমন যেন লাগে। মনে হয় ঠিক মতো আমার সব কাজগুলো করতে পারিনি। কারণ অনেক। মাঝে-মাঝে নিজেরই ইচ্ছে হয়নি। কিছু সময়ে আলস্য গেঁড়ে বসেছিল, আবার অনেক সময় আমার নিজের দুর্বলতা ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ সময়-সুযোগ হয়নি। তার মানে কিছুই যে করতে পারিনি তা নয়; তবে অনেক কাজই অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

এ কথা শুধু আমার একার নয়। বাংলাদেশে সাংবাদিকরা সুযোগের অভাবে অনেক কাজ করতে পারেন না।

বিস্তারিত»

অপ্রকাশিত ভালবাসা

শৈশবে যে মানুষটাকে সবচেয়ে ভয় পেতাম, সাথে সাথে ঘৃণাও করতাম সে আর কেউ নয়, আমার পরম শত্ত্রু; আমার বাবা!!! এই লোকটার চোখ একবার ফাঁকি দিতে পারলে আমার সারা দেহ-মনে এক অনন্য তৃপ্তির ছোঁয়া লাগত। মনে মনে কতবার যে তার অকাল মৃত্যু কামনা করেছি সে কথা ভাবলে এখন সত্যিই খুব হাসি পায়; শিশুমনে কতনা ভাবের উদয় হয়!!!!

ছোটবেলায় সবসময় তোমাকে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে দেখেছি,যাকে দেখে আমাদের বাড়ির সব ছেলে-মেয়ে সবসময় ভয়ে কাঁপে।পড়ার সময় তোমার ছায়া টের পেলে তাদের মুখদিয়ে ফেনা উঠে যায়,

বিস্তারিত»