নস্টালজিক বিশ্বকাপ ২০০৬ আর অপ্টিমিস্টিক বিশ্বকাপ ২০১০!

২। অপ্টিমিস্টিক বিশ্বকাপ ২০১০:

……বিশ্বকাপ-জ্বরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। এই জ্বর থার্মোমিটারে মাপা যায় না, অনুভব করতে হয়। বাঙ্গালীরাও পিছিয়ে নেই। ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা স্বপ্লের জাল বুনি, কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলা আর লোডশেডিং-জর্জরিত বাংলাদেশ ডিজিটালাইজড হওয়া একই কথা। তারপরও ফুটবলই এদেশে জনপ্রিয়। বাপ-চাচারা সবাই ’৮৬-তে ম্যারাডোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার ভক্ত, ভাই-বেরাদাররা অবশ্য রোমারিও-বাজ্জিও-বালাকদের খেলা দেখে দ্বিধাবিভক্ত। আমি প্রথম থেকেই ব্রাজিল-ভক্ত, কেননা যখন থেকে ফুটবল বুঝি, তখন ব্রাজিলই ফর্মে ছিল। তো ‘বিশ্বকাপে বিশ্ব কাঁপে’ এই ডায়লগটা এদেশে ব্যাপক খাটে। আজকে জানলাম, এক কলেজ ছাত্র আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙ্গাতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মারা গেছে! হায়রে, কাঁপাকাঁপি করতে করতে শেষ পর্যন্ত কিনা পপাতধরণীতল! কবে যে পেপারে দেখব, ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০, ২জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক!’ হায়রে হুজুগে বাঙ্গালী!….
:bash:

……আমার ছোট ভাই পড়ে এইটে। ফুটবল খেলে কম, শরীর নিয়ে নড়তে পারে কম, তাই গোলকিপার থাকে। ফুটবল নিয়ে তার যতটুকু জ্ঞান, তার সূচনা হয় কম্পিউটারে ফিফা খেলতে গিয়ে! প্লেয়ার বায়োডাটা মুখস্থ করে আর টিম পার্ফর্মেন্স, প্লেয়ার ক্যারেক্টারিস্টক্স মুখস্থ করে সে আমার কাছে পার্ট নেয়, ‘তুমি কিছু জান??’ আমি বলি ‘না, জানি না, ফুটবলও এখন ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে!’….সে বাসার মধ্যে একটা মাঝারি আকারের লাঠির আগায় ব্রাজিলের পতাকা লাগিয়ে হাঁটাহাঁটি করে! তার এই মৌনবিজয়মিছিল দেখে যদি উপরওয়ালা ব্রাজিলকে কাপটা দান করত!..
:dreamy:

….আমার ‘ইয়ে’-ও ব্রাজিলের সাপোর্টার। সেও খেলাধুলা পছন্দ করে না,কিন্তু আমার সাথে মিলে যাওয়াতে আমি একইসাথে খুশি ও অবাক। অবাক হওয়ার কারণ,মেয়েরা অধিকাংশই আর্জেন্টিনার সমর্থক। এর কারণ…বুঝে নিন নিচের থেকে….
আমার এক বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করলাম,
-কিরে,তুই ব্রাজিল সাপোর্ট করিস না কেন রে?
তার জবাব,
-ধুর,এইসব কালা কালা প্লেয়ার কেউ সাপোর্ট করে?! x-(
মেজাজ খারাপ হলেও শয়তানী বুদ্ধি তো কম না,তাই তাকে জ্বালাতে ইচ্ছা করল। পরদিন কাকার ছবি দেখিয়ে বললাম,
-একে চিনিস?দেখ তো কেমন লাগে!
সে বলে
-ওয়াও! ছেলেটা তো হ্যান্ডসাম,কিউটও আছে!
আমি বললাম,
-এ কিন্তু ব্রাজিলের প্লেয়ার!
শুনেও তার মুড-অফ।এইবার নায়ক ব্র্যাড পিটের ছবি দেখিয়ে বললাম
-দোস্ত, এও কিন্তু ব্রাজিলের প্লেয়ার,একে ভাল লাগে না?
এবার সে একটা মোহনীয় হাসি দিয়ে বলল, ‘এরকম আর কয়েকটা কিউট কিউট প্লেয়ার দেখাইতে পারলে আমি ব্রাজিলের ফ্যান হয়ে যামু যা!’ (উল্লেখ্য,সে হিন্দি সিনেমা-সিরিয়ালে ব্যাপক বিশেষজ্ঞ হলেও হলিউড আর খেলাধুলাতে বিশেষ-অজ্ঞ!)

….সমস্যা এখানে মিটে গেলে ভালো ছিল। কিন্তু সেদিন মেজাজ খিঁচড়ে গেল আমার রুমমেটের কথা শুনে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কিরে তুই কোন দল, ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা?’ সে বলে,
-ব্রাজিলের কালা সব প্লেয়ার, ভাল্লাগে না! আমি আর্জেন্টিনা! (বলাই বাহুল্য, সে কিন্তু ছেলে! খেলাধুলা করে-বুঝে-দেখে না, শাহরুখ খানের ডাই-হার্ড ফ্যান আর প্রচুর টিউশনী করায়!)
আমি বললাম,
-শালা, তোর ছাত্রীরা যদি এই কথা বলত, কিচ্ছু মনে নিতাম না, তুই ব্যাটা ফুটবলারদের মধ্যেও চেহারা দেখস, গে কুনহানকার! 😡

……. হুজুগের শেষ নেই। সারা দেশ পতাকায় ভরে গেল। আকাশে বাতাসে এত পতাকা। আশা করি, বিশ্বকাপের পরে এসব পতাকা দিয়ে অগণিত গরীব-দুস্থদের বস্ত্রচাহিদা পূরণ করা হবে! এখন এদেশে আসলে মনে হয় পতাকা আর জার্সির বহর দেখে ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার আমাদের ‘সোনার’ ছেলেদের আফ্রিকার মাঠে ফুটবল খেলতে নামিয়ে দিতেন। অবশ্য, আমি মোটামুটি নিশ্চিত, আফ্রিকায় গেলে আমাদের ‘সোনার’ ছেলেরা ‘সোনার কাপ’ এর চিন্তা বাদ দিয়ে হীরার খোঁজে দলছুট হয়ে যেত কিংবা আফ্রিকার পার্মানেন্ট সিটিজেন হওয়ার তরিকা খুঁজত!
আমার হলের সামনে ৪০’x২৮’ এর ব্রাজিলের পতাকা টাঙ্গানো হল, যা দেখে সবাই বাহবা দিল। আর আর্জেন্টিনার একটা পতাকা টাঙ্গানো হল,৪ তলা থেকে নিচ পর্যন্ত। এসব দেখে জনৈক বুয়েটীয় আঁতেলের সুচিন্তিত মন্তব্য- ‘আর্জেন্টিনার পতাকার লেংথ বেশি,তাই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার বেশি!’ কি আর বলব, পতাকার ডাইমেনশন দেখে যারা ফিলিংস মাপার চেষ্টা করে, তারা ভালো ইঞ্জিনিয়ার হবে না তো কি আমার মত ফাতরা পোলাপান ভালো ইঞ্জিনিয়ার হবে?!! ~x(

…..যাই হোক, হলে তো আর কারেন্ট যায় না, ওয়ার্ল্ড কাপ দেখব ৪২’’ এলসিডি টিভিতে। সেইরাম ফিলিংস! সব হলেই দেয়া হয়েছে এইসব টিভি! গত কয়েক মাসের পারফরমেন্স আর টিম স্পিরিট দেখে আমার ব্রাজিলের এবার অপার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়। অনেক ভাই-বেরাদাররা তথ্যবহুল রচনা দিয়ে আমার মত ম্যাংগো-সাপোর্টারদের ক্রীড়াজ্ঞান বিকশিত করেছেন।মইনুল ভাই, আকাশদা, কামরুল ভাই সবাইকে সাধারণ সালাম :salute:

আমি অ্যানালাইসিসের ধৃষ্টতা দেখাব না। তাই আমার চারপাশে ঘটমান অবস্থা নিয়ে একটু আলগা ভ্যাজর ভ্যাজর করলাম। সব কথার শেষ কথা, আশা করছি মেয়েদের হার্টথ্রব কিউট কিউট আর্জেন্টাইনের মুখে চুনকালি দিয়ে আমার যোগ্য ব্রাজিলিয়ানরা কিংবা স্প্যানিয়ার্ডরা এবার ওয়ার্ল্ড কাপ ঘরে তুলবেই। যাই তাহলে, শাকিরার ড্যান্স দেখে আসি…………………

১।নস্টালজিক বিশ্বকাপ ২০০৬:

২০০২ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হল মনে আছে। জুনিয়র ছিলাম, কলেজে শান্তিমত খেলা দেখিনি, তবে ক্লাসমেটদের মধ্যে বাকযুদ্ধে ঠিকই তৎপর ছিলাম! ছুটিতে এসে শেষ কয়েকটা খেলা দেখেছিলাম। কিন্তু লোডশেডিং এর ব্যাপক তাফালিং এর জন্য শান্তি পাইনি খেলা দেখে। অত দরদ নিয়েও দেখিনি, কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি স্পষ্ট মনে আছে, যা অনেকেই স্মৃতিচারণ করে ফেলেছেন।

…..কিন্তু ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আমার সারাজীবন মনে থাকবে। মনে পড়ে, ২৮শে জুন কলেজ থেকে পাস আউট করলাম। ৯ই জুন- ৯ই জুলাই বিশ্বকাপ হল। ৩০শে জুন যখন জার্মানী-আর্জেন্টিনার উত্তেজনাকর ম্যাচ হল, তখন আমার চোখে পানি! আর্জেন্টিনা হারার দুঃখে তো নয়ই, উত্তেজনাবশতও নয়। এই পানির কারণ, টিভিরুম আর আমার বন্ধুদের চিল্লাপাল্লা ব্যাপকভাবে মিস করছিলাম! কলেজ থেকে কেঁদে বের হইনি, কিন্তু বুকের মধ্যে যে হাহাকার সেটা ধীরে ধীরে শুধু বেড়েছেই, কমেনি!

…..জুনের আগেই প্রিন্সিপাল আবু সাঈদ বিশ্বাস স্যার আর এ্যাডজুটেন্ট শফিউল্লাহ মাস্তান স্যার বদলি হয়ে চলে গেলেন। আমরা বিদায়ী ব্যাচ, এইচ.এস.সি. পরীক্ষা চলছে। কিন্তু বিশ্বকাপ কাছে আসছে, ‘জ্বর’ বাড়ছে,টের পাচ্ছিলাম। ইনারা চলে যাওয়াতে এতদিন যা যা করতে পারিনি, তা তা করার বুদ্ধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আগের অ্যাডজুটেন্ট পতাকা-সে কাপড়ের কিংবা কাগজের যা-ই হোক, সিজ করে নিয়ে যেতেন, চড়-থাপ্পরও দিতেন, কিন্তু নতুন অ্যাডু কিচ্ছু বললেন না। ছেলেপেলেও ব্যাপক উৎসাহে নেমে পড়ল পতাকা বানানোর কাজে। আর আমরা যখন টিভিরুম খোলা থাকত, তখন টিভিরুমেই সকল জুনিয়রের আনাগোনা নিষিদ্ধ করে বেঞ্চ সব সরিয়ে দুই দল করে ফুটবল খেলতাম! বল যথারীতি মোজা দিয়ে বানানো! সাদা মোজা তো আর তখন লাগত না, আমরা যে পরীক্ষার্থী!

…..আমরা ছিলাম এককাঠি সরেস। কলেজ অথরিটি গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর জন্য কিছু ফ্রীনেস দিল। যেমন, লাইটস অফের (১০টা ৪৫ মিনিট) পরও কিছুক্ষণ খেলা দেখতে দেয়া, কোন কোন খেলার জন্য সেকেন্ড প্রেপ এক্সকিউজ করা ইত্যাদি। তারপরও আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। এক্সামিনী ব্যাচ আমরা,সবকিছুই এক্সকিউজ। সারাদিন হাউসে থাকি আর পড়ি। আর খাইস্টা প্রিন্সি-অ্যাডু চেঞ্জ হওয়ায় আমাদের সাহস গেল বেড়ে।চোরের মত রুম ক্রিকেট খেলা বাদ দিয়ে করিডোর ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম। ধরাও খেতাম অবশ্য নতুন হাউস মাস্টার জামশেদ স্যারের কাছে (জেসিসি থেকে আগত,বর্তমানে এমজিসিসির ভিপি হিসেবে আরসিসি থেকে ভাগত!)। তিনি আসতেন, মোজা দিয়ে তৈরি বলটা আর দুর্ভাগ্যে থাকলে ব্যাট হিসাবে ব্যবহৃত পা-দানি টা নিয়ে চলে যেতেন। পরে অবশ্য হাউস বেয়ারাকে ম্যানেজ করে আবার বল-ব্যাট নিয়ে আসতাম। একদিন কায়দা করে মেইন দরজার সাথে আঁটাতালা চেঞ্জ করে আমরা পার্সোনাল একটা তালা সেঁটে দিলাম। এইভাবে সেইরাতে একটা বিগ ম্যাচ দেখলাম,সম্ভবত ইংল্যান্ড বনাম সুইডেন! কিন্তু এই তরিকা তো আর প্রতিদিন খাটবে না। কেননা, হাউস বেয়ারাকে তো আর প্রতিদিন ফাঁকি দেয়া যাবে না! তাই একদিন রেস্টটাইমে আমাদের মেহেদী আর কয়েকজন মিলে টিভিরুমে ঢুকার একটা দরজা ভেঙ্গে ফেলল! দরজা ছিল দুইটা। একটা সবসময় তক্তা দিয়ে সাঁটা থাকত। খোলা হতনা। তো আমরা ধরে নিলাম, যেহেতু এই দরজা কেউ খুলে না, তাই কেউ খেয়ালও করবে না। তো তক্তা যেওরকম ছিল, তেমনই থাকল, আমরা কবজা খুলে নিলাম! কেউ বুঝল না, দরজাটা ভাঙ্গা। রাতে ১টার দিকে ম্যাচ হত মনে আছে। তো সেই সময় আমরা ঢুকে যেতাম চুপচাপ। জানালায় ব্যবহার করতাম আমাদের বিছানার চাদর। আর চেয়ারে না বসে লাইট সব অফ করে মেঝেতে বসতাম, যাতে কেউ বাইরে থেকে না বুঝে! খেলা শেষে সব কিছু ক্লিয়ার করে ভালো করে দরজা মেরে দিয়ে বেরিয়ে আসতাম। ভালোই চলছিল এভাবে, প্রায় এক দুই সপ্তাহ ভালো কাটল। কিন্তু ঐ যে প্রচলিত প্রবাদ, ‘চোরের ১০ দিন আর গৃহস্থের এক দিন!’ আমরাও এই প্রবাদে সিদ্ধ হলাম!….কাহিনী নিম্নরূপঃ

…..কলেজ থেকে বের হতে বেশি দেরী নেই। দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হল। জার্মানী বনাম সুইডেন খেলা দেখে রাত ৩টায় ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে হাউস বেয়ারা এসে আমাদের মাহমুদকে ডেকে নিয়ে গেল, ‘ও মাহমুদ ভাই, উঠেন ঊঠেন,আপনেরে হাউস মাস্টার ডাইক্তিছে’ মাহমুদ গেল। ব্যাপক ঝাড়ি আর শেষ মুহূর্তে কলেজ আউট হওয়ার হুমকি নিয়ে সে ফিরল! ঘটনা হচ্ছে, খেলা দেখে তার জানালা থেকে বেডশীট খুলে নিয়ে আসতে মনে ছিল না! তো সকালে তারিক হাউসের বেয়ারা খেয়াল করল,কাসিম হাউসের টিভি রুমে বেডশীট ঝুলে! আমাদের বেয়ারাকে বলার পর সে বেডশীট নিয়ে যায়,তাতে লেখা ক্যাডেট নং-১৯৬০। যথারীতি হাউস মাস্টার জেরা করল, লাইটস অফের পর কিভাবে টিভিরুমে ঢুকলাম আমরা! তো মাহমুদের যাতে কিছু না হয়,তাই আমাদের স্বীকার করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। সব শুনে স্যারের মন্তব্য, ‘ডাকাত দেখেছি,এরকম ডাকাত দেখিনি,তোমরা টিভিরুমেও ভাংচুর করলা!কেবলই হাউস মাস্টার হয়ে আসলাম তোমাদের কলেজে,এই নমুনা দেখাচ্ছ আমাকে? জেসিসিতে-তো অমুক…তমুক…ইত্যাদি ইত্যাদি……’ উল্লেখ্য, এই কাহিনী ছাড়াও শেষ এক দেড় মাস আমরা ম্যালা আকাম করেছিলাম, তাই স্যারের এসব কথা আসলেই যুক্তিহীন ছিল না! স্যারকে অনেক জ্বালিয়েছি, অবশ্য স্যার কোন ঘটনা ফরোয়ার্ড করেননি। মাহমুদের ধরা খাওয়ার পর আর শেষ কয়টা দিন আমরা ঠান্ডাই ছিলাম! স্যারকে সাধারণ সালাম :salute:

……আমাদের ব্যাচে প্রায় সবাই ছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। দুইজন ছিল ইটালীর আর দুইজন ছিল ফ্রান্সের, আর একজন মনে হয় পর্তুগাল ছিল! তো গণতান্ত্রিক দেশে একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব দেখানো বোকামী। কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পার্ট নেয়াটা আহাম্মকী। কিন্তু আমাদের ইটালীর সাপোর্টার রাফিকে কিছুতেই টিজ করে দমানো যাচ্ছিল না! তার কাজ ছিল, যে দলের খেলাই হোক, খালি গায়ে ইটালীর পতাকা জড়িয়ে টিভি রুমে এসে বসে থাকত! ইটালী একটার পর একটা ম্যাচ জিতছিল, আর তার উল্লাস দেখে আমাদের গা জ্বলছিল! অবশ্য তখনও ব্রাজিল চরম ফর্মে ছিল। আর্জেন্টিনাকে অনেক নড়বড়ে লাগছিল।তারপরও কিভাবে যেন চলে আসল কোয়ার্টারে,ব্রাজিলও তো বিদায় নিল কোয়ার্টার ফাইনালে! দুঃখের ষোল কলা পূর্ণ হল যখন ইটালী চ্যাম্পিয়ন হল আর রাফি ফোন দিয়ে বলল, ‘কিরে পিন্টুর বাচ্চা,খুব তো টিজ করলি, ইটালীর বেল নাই,এখন দেখলি তো! তোর ব্রাজিল ভুয়া, ভুয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি…’…. =((

…..আজ যখন খেলা দেখব, তখনও মিস করব সেই টিভিরুমকে। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের টিভিরুমেও খেলা দেখি, কিন্তু পাইনা সেই কলেজের সিনিয়র হয়ে সামনে রিমোট নিয়ে বসার মজা, জুনিয়রদের টিম-সাপোর্ট নিয়ে ডিকটেশন করার মজা, বেআইনী ভাবে টিভিরুমে ফুটবল খেলার মজা!…….ক্যাডেট মাত্রই নস্টালজিক,তাই না??…….

২,৩১৬ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “নস্টালজিক বিশ্বকাপ ২০০৬ আর অপ্টিমিস্টিক বিশ্বকাপ ২০১০!”

  1. জুলহাস (৮৮-৯৪)

    তোমারে রেড কার্ড মিয়া!!!!!!!!!!!!!!!!!!
    নিজের জালে বল ফালাইসো...দুঃখ নাই.........,
    কিন্তু নিজে গোল্কিপার হইয়া???????????????
    ঝাতি ভিছার ছায়!!!!!!!!!!!!!!!!!!!


    Proud to be an ex-cadet..... once a cadet, always a cadet

    জবাব দিন
  2. বিশ্বকাপ নিয়ে এত পোস্ট এর ছড়াছড়ি,কিন্তু ভয় এ একটাও পড়িনা।কারণ আমি এত ভাল ফ্যান ফুটবলের যে এক বিশ্ব কাপের পর আরেক বিশ্বকাপ আসতে আসতে আমি ভুলেই যাই আগের বার আমি কোন দলের সাপোর্টার ছিলাম!!তয় তোর পোস্টটা বেশি জোশ লাগছে,কারণ এখানে ফুটবল কম,মঞ্জা বেশি 😀
    যাই হোক,এইবার আমি আর্জেন্টিনা,কারণ আমার টাণ্টু ও আর্জেন্টিনা! 🙂 🙂

    জবাব দিন
  3. রাশেদ (৯৯-০৫)

    লেখা ভাল লাগছে আছিব মিয়া 🙂

    ২০০২ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হল মনে আছে। জুনিয়র ছিলাম, কলেজে শান্তিমত খেলা দেখিনি, তবে ক্লাসমেটদের মধ্যে বাকযুদ্ধে ঠিকই তৎপর ছিলাম! ছুটিতে এসে শেষ কয়েকটা খেলা দেখেছিলাম।

    এইখানে একটা সংশোধনী হতে সম্ভবত, কারণ ২০০২ এ শেষের খেলা গুলা আমরা কলেজে দেখছিলাম। শুরুর সময় ছিলাম বাসায়। ফ্রান্স আর সেনেগালের প্রথম খেলাটা বাসায় দেখেছিলাম বলেই মনে আছে। আর শেষের দিকটা কলেজে হয়েছে। ব্রাজিল আর ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল এর দিন শুক্রবার ছিল, জুমার পর এসে খেলা দেখেছি।


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।