টুকরোকথন-১(বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কিত…)

১) সিসিবিতে প্রায় দু-মাস কিচ্ছু লেখা হয়নি।একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে, পাঠক-পাঠিকারা এই দুমাস ফাঁকিবাজি পোস্টের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।আক্ষরিক অর্থেই বেশ দৌড়ের উপরে রয়েছি-মোটামুটি একটি লেখা দিতেও যে সময় লাগে তাও পাবার আশা নেই।এ কারণেই, অনেকটা স্বার্থপরভাবে নিজের “প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি” হয়ে এই সিরিজ চালু করছি।এখানের টুকরো মন্তব্যগুলো একান্তই আমার নিজস্ব,আর আম জনতার দৃষ্টিতে দেখা এবং লেখা বলে কোন কোন উপমা/শব্দে কেউ কেউ হয়তো মাইন্ড করে বসতে পারেন।সেরকম কিছুর জন্যে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

২) জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব করার মত অনেক কিছুই রয়েছে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্বের দরবারে তার উপস্থাপনা নেই।উদাহরণ,সিঙ্গাপুর তাদের কৃত্রিম “সেন্তোসা আইল্যান্ড” দেখিয়ে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে অথচ আমাদের চট্টগ্রামের সবচাইতে সাদামাটা পাহাড়ের সৌন্দর্যও তার চাইতে কয়েকশতগুন বেশি। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের থাবা বিস্তারে আমাদের প্রতিবেশী দেশের কথা তো বলাই বাহুল্য(এটি তাদের দোষ যতটা,আমাদের ব্যর্থতা তার চাইতে অনেক বেশি)।এ কারণে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজন নিয়ে আমি বেশ শঙ্কিত ছিলাম।বাংলাদেশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের ফেভারিট হুইপিং বয়,কারণে অকারণে বাংলাদেশের দারিদ্রের উদাহরণ না টানলে কারো কারো তো মনে হয় লেখাটাই অপূর্ণ থাকে।একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার তাই বারংবার ভয় হচ্ছিলো না জানি নতুন কি দুর্নামের উৎস আমরা প্রদান করে ফেলি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে গিয়ে।

৩) কথা ছিলো বৃহষ্পতিবার বিকালের কার্যক্রমের পর সবাই অফিসার্স মেসের টিভিরুমে নিজের ইচ্ছেমত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবে।হঠাৎ ঘোষণা এলো তা হবেনা, অফিসারদের একাংশকে প্রিন্সিপাল স্যার এবং একাডেমির অন্যান্য অফিসারদের সাথে অডিটরিয়ামে বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখতে হবে।দুর্ভাগ্যক্রমে ওই একাংশের ভেতরে আমিও ছিলাম,ছুটির রাতটা মাটি হয়ে যাওয়ার ভাগ্যকে দোষারোপ করেছি বহুবার।কিন্তু বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখার পর মনে হয়েছিলো-নাহ, এটি না দেখলে জীবনের অন্যতম বড় মিস হয়ে যেত!

৪) অনুষ্ঠানের শুরুতে অডিটোরিয়ামের গুরুগম্ভীর পরিবেশে ভুলভাল মেশানো ইংরেজি আর বাংলায় বক্তৃতা শুনে বিরক্ত হচ্ছি, হঠাৎ এক ঝলকের মত দেখতে পেলাম আমার অতি প্রিয় দোস্ত পরমা আর তার বান্ধবী মাহার মুখ।প্রিয় মানুষের মুখ এরকম অপ্রত্যাশিতভাবে ইয়া বিশাল প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখতে পেলে এরকম আনন্দ হয় তা আগে বুঝতে পারিনি।ওই সেকেন্ডের ভগ্নাংশেই দেখলাম দুজন মুখে রঙ মেখে বাংলাদেশের জার্সি পরে চেঁচিয়ে গলা ফাটাচ্ছে। আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা আফসোস হল নিজে থাকতে না পেরে।দেশের মাটিতে এ ধরণের যাবতীয় অনুষ্ঠান উপভোগের পরিবর্তে পরবর্তীতে হয়তো “দারোয়ানের” কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে-এটা ভেবে একটা ছোট সাইজের দীর্ঘশ্বাসও বেরিয়ে এলো !!!

বামপাশে পরমা আর ডানে মাহা...হঠাৎ এই পরিচিত মুখদুটি দেখে আরেকটু হলেই চেঁচিয়ে উঠেছিলাম!!! এদের ছবি নাকি চারটা পত্রিকায় এসেছে!!!

৫) শুরুতে বলেছিলাম যে নতুন দুর্নামের আশঙ্কায় ঘরপোড়া গরুর মত সিঁদুরে মেঘ দেখে শঙ্কিত হয়েছি অনুষ্ঠান শুরুর সাথে সাথেই।কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হবার পর অবাক বিষ্ময়ে লক্ষ্য করলাম-একেবারে কাঠখোট্টা রকমের নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলেও বাংলাদেশের উপস্থাপনা সবচাইতে ভালো হয়েছে!!!! ভারতের বড়লোকী অনুষ্ঠানের পাশে আমার দুঃখিনী মাতৃভূমিকে যেন অন্তত কিছুটা হলেও কম অনুজ্জ্বল লাগে- বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে এইটুকুই ছিলো আমার চাওয়া।কিন্তু কেম্নে কি, বাংলাদেশ লিটারেলি কিকড এ্যাস!!!!! বুকে হাত রেখে বলতে পারি,এই প্রথম দেখলাম বাংলাদেশের একটি উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য দেশগুলোকে একেবারে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত করেছে।নাহ,আসলেই আমরাও পারি!

৬) সোনু নিগমের গান ব্যতীরেকে ভারতের উপস্থাপনা আমার আহামরি কিছু মনে হয়নি।সেই তুলনায় শ্রীলঙ্কার অনুষ্ঠান দৃষ্টিনন্দন ছিলো,যদিও শ্রীলঙ্কান গায়কত্রয়ী “বাতিয়া, সান্টুশ আর ইরাজ” এর উপস্থাপনাকে আমার কাছে র‌্যাপ,পপ এর জগাখিচুড়ি বলে মনে হয়েছে-ওতে শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতির উপস্থিতির বদলে অনুকরণপ্রিয়তাই প্রতীয়মান বলে আমার ধারণা।এছাড়া ভোটকু শঙ্করের উদ্ভট লিরিক্স আর চিল্লেপাল্লামার্কা থিম সং অতি জঘন্য এবং বেমানান লেগেছে।সেই তুলনায় সোনু নিগমের গানটা থিম সং হলে আমি অনেক অনেক বেশি আনন্দ পেতাম।

৭) আমার পিচ্চি বোনটা মমতাজের “নান্টু ঘটক” গানটা পছন্দ করেনি।ওকে বুঝিয়ে বললাম,”শীলা কি জওয়ানি” মার্কা সস্তা লিরিক্সের গান যদি আমরা আতুপাতু হয়ে শুনতে পারি,সেই তুলনায় “নান্টু ঘটক” খারাপ নয় মোটেও।গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে মমতাজের নাম রয়েছে একক শিল্পী হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক এ্যালবামের গায়িকা হিসেবে।সন্দেহ নেই,বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক,বিশেষ করে সুশীল সমাজের বাইরে বসবাস করা খেটে খাওয়া গরীব মানুষগুলো তাঁর গানের অবিশ্বাস্য রকম কদর করে।মমতাজের গান বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা আমার দৃষ্টিতে তাই শতভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত। “ওয়াকা-ওয়াকায়” শাকিরার টার্কিশ মধ্যদেশদোলানি দেখে যদি সারাবিশ্ব হাততা্লি দিতে পারে সেক্ষেত্রে মমতাজের “নান্টু ঘটক” শুনে আমাদের নাক সিঁটকানির প্রত্যুত্তর হতে পারে একটাই- “Say Amen to Hypocrisy!”

৮) সাবিনা ইয়াসমিন কিংবা রুনা লায়লার কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই।নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা এবং শিবলী মোহাম্মদের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। আমাদের দেশে জন্ম নেয়া বিশ্বমানের এই শিল্পীরা বিশ্বকাপের এই উন্মুক্ত মঞ্চে নিজেদের শৈল্পিক সত্তা তুলে ধরবেন-এটাই তো স্বাভাবিক! গান কিংবা নৃত্যের ঝংকারে এঁনাদের গর্বিত মুখচ্ছবি দেখে আমার মনে হচ্ছিল আমিই যেন ওখানে নিজেকে প্রকাশ করছি,সারাবিশ্ব যেন আমাকেই দেখছে।বুকের ভেতর এই অনুভুতিটুকু জন্ম দেবার জন্যে এই শিল্পী এবং আয়োজকদেরকে পুরো হৃদয় খুলে ধন্যবাদ জানালেও শেষ হবেনা।সাবাস বাংলাদেশ!

৯) অন্যদের কথা জানিনা, তবে একটি জিনিস আমার খুব দৃষ্টিকটু লেগেছে।রুনা লায়লা বাংলাদেশের একজন শিল্পী হিসেবে উর্দু গানটি না গাইলেও পারতেন।মানছি এটি তাঁর বিখ্যাত একটি গান-কিন্তু ভাষার মাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের দরবারে ওই গানটি বাদ দেবার মত বিবেচনাবোধ তাঁর থাকা উচিত ছিলো।আমি দুঃখিত,কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি বোধহয় অতটা উদার হয়ে উঠতে পারিনি।অবশ্য এই উদারতা আমি চাইও না।স্টেজে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীকী উপস্থাপনায় পাকিস্তানিদেরকে পরাজিত করার একটা দৃশ্য থাকলে খুব খুশি হতাম,যদিও সেটি হয়তো আন্তর্জাতিকতাবাদের ক্ষেত্রে খুব শুভ হতনা।”ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়”-এই অদ্ভুত, হৃদয়কাড়া উপস্থাপনার সাথে সাথে এই “ওরা” আসলে কারা,তা বিশ্বকে দেখিয়ে দিলে একেবারে খারাপ হতনা বলেই আমি মনে করি।

১০) গতকাল অডিটরিয়ামে আমাদের সাথে অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।সমগ্র অনুষ্ঠানের যে পর্বটি নবীন আমরা সহ লাশ,খুনোখুনি আর রক্তপাত দেখতে অভ্যস্ত এই অফিসারদের চোখেও জল এনে দিয়েছিলো সেটি হচ্ছে “বিউটিফুল বাংলাদেশ” ডকুমেন্টারিটি।আমি জানিনা এটি কে নির্মান করেছে-এর নির্মাতা যদি বিদেশীও হন(সে সম্ভাবনাই বেশি) আমি ঠিক করেছি কখনও দেখা হলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলব-আপনি আমাদেরই লোক।ডকুমেন্টারিটি দেখছিলাম আর ভাবছিলাম-এত সুন্দর আমাদের এই দেশ,এত সুন্দর!!!!!! এই দেশের মানুষ হিসেবে গতকাল থেকে গর্বে আমার উচ্চতা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে,মাটির দুহাত উপর দিয়ে হাঁটছি আপাততঃ- সহসা মনে হয়না পা মাটিতে নামবে,তা বাংলাদেশ যেমনই খেলুক।গতকাল বোমাবাজ সামিয়াপ্পুর কাছে ডকুমেন্টারির মেয়েটিকে “যাস্ট ফ্রেন্ড” বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে কিছুটা দুষ্টুমি করলেও দিব্বি দিয়ে বলছি,আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছি আমার দেশের এমন অদ্ভুত সুন্দর চিত্রন দেখে।বহুদিন পর আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম-প্রিয় মাতৃভূমি,আমি তোমার এক গর্বিত সন্তান!

১১) আমি জানিনা এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কেমন হবে।তবে যা-ই হোক,আমি শেষ পর্যন্ত সাথে আছি টাইগারদের।চলুন আবার সবাই একসাথে বলি, হালুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউম!!!!

৩,৯০৭ বার দেখা হয়েছে

৪২ টি মন্তব্য : “টুকরোকথন-১(বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কিত…)”

  1. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আমার ক্যাডেটতুতো মামী এমজিসিসির প্রমার ছোট বোন প্রজ্ঞা এই মাত্র আমাকে জানালো "বাংলাদেশ-স্কুল অফ লাইফ" এর ডিরেক্টর গাজী শুভ্র,রেড ডট মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড এর। আমার ক্ষমতা থাকলে উনারে একপাল্লায় রাইখা আরেক পাল্লায় উনার ওজনের সমান সোনা উপহার দিতাম। ও শুভ্র ভাইজান,আপনি কই? কেউ আপনেরে ডিস্টার্ব দিলে খবর দিয়েন বস- কাঁচা খায়া ফালামু...

    জবাব দিন
  2. রাশেদ (৯৯-০৫)

    মাস্ফু ভাই অনেকদিন পর লিখলেন 🙂
    কালকের অনুষ্ঠানের প্রথম দিকে ভাষণ শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম ভুল করে এরা বুঝি পল্টনের মাঠের জায়গায় এখানে এসে পরেছে। তবে অনুষ্ঠানের বাকি অংশ বিশেষ করে বাংলাদেশের অংশ হতাশ করে নি। আর বাংলাদেশের উপর বানানো ডকুমেন্টারিটা আসলেই অসাধারণ বিশেষ করে স্কুল অফ লাইফ, এডমিশন গোয়িং অন এই ডায়লগটা দারুণ লাগছে। এই পর্যন্ত যতগুলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বো্ধনী অনুষ্ঠান দেখলাম তার মধ্যে এইটাই বেস্ট।
    আর আশা করি কালকে ভারত টের পাবে বাঘ কী জিনিস 😀


    মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

    জবাব দিন
  3. রায়েদ (২০০২-২০০৮)
    এই দেশের মানুষ হিসেবে গতকাল থেকে গর্বে আমার উচ্চতা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে,মাটির দুহাত উপর দিয়ে হাঁটছি আপাততঃ- সহসা মনে হয়না পা মাটিতে নামবে,তা বাংলাদেশ যেমনই খেলুক।

    তীব্রভাবে সহমত পোষণ করলাম।

    ৮৩, ৯২ আর ৯৬ এ ভারত, পাকিস্তান আর শ্রীলংকা প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছিল। আশা করি এবার বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হবে।
    হালুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউম!!!!

    জবাব দিন
  4. Nasim (03-09)

    "আমি জানিনা এটি কে নির্মান করেছে-এর নির্মাতা যদি বিদেশীও হন(সে সম্ভাবনাই বেশি) আমি ঠিক করেছি কখনও দেখা হলে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলব-আপনি আমাদেরই লোক".........সহমত
    "আশা করি কালকে ভারত টের পাবে বাঘ কী জিনিস" ........ :boss:

    জবাব দিন
  5. কামরুলতপু (৯৬-০২)

    একদমই মতের মিলল না আমার সাথে।
    সনু নিগামের গানটা একেবারেই ভাল লাগে নাই।
    মমতাজের এই গান এই জায়গায় উপস্থাপনের উপযুক্ত নয় বলেই মনে হয়েছে।
    রুনা লায়লার ভিনদেশী ভাষায় গান গাওয়াকে আমার কিছুই মনে হয় নি। বরং খুশি হতাম উনি যদি আরো কয়েক ভাষার গান গাইতেন। একটা বৈশ্বিক রূপ আসত। এর আগে বক্তৃতা দেখে কলেজের ফাইনাল ডে মনে হইছে। বিশেষ অতিথির কাছে কিছু চাওয়ার জায়গাটায়।

    জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      🙂 ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গেলাম,আর আমার মিউজিক সেন্স যে বড়ই "উচ্চমানের"(??!!) এইটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত সত্য 😛 । তবে ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করার কথা এরকম একটা অনুষ্ঠানে উর্দু গান গাওয়াটা আমার কাছে অতিমাত্রায় ন্যাক্কারজনক এবং পাকিপ্রেমপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।অনেকটা "কর্তায় কইছে শালার ভাই-আনন্দের তাই সীমা নাই" টাইপের।পৃথিবীর সব উদারতার ভান্ডার যেন আমাদের কাছে জায়গীর দেয়া হয়েছে-যেই ভাষা চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে এই মাসেই রক্ত ঝরালাম আমরা, নিজস্ব সংস্কৃতি সারাবিশ্বকে প্রদর্শনের একটা আসরে ঠিক ওই ভাষাতেই গান গেয়ে উদারতার ষোলকলা পূর্ণ করার দায়িত্বটা মনে হয় বাঙ্গালি জাতি ছাড়া আর কেউ নিতনা।গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করতে ইচ্ছে করছিলো ওই জায়গাটায়-আর এই গান গাইতে যে অনুমতি দিয়েছে তার পশ্চাদ্দেশে আস্ত একটা ব্যাটন প্রবেশ করাতে পারলেও রাগ কিছুটা কমত আমার।আমি দুঃখিত,এর চাইতে শালীন ভাবে বলা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।ঠিক কোন যুক্তিতে উর্দু গান গাইতে হবে বিশ্বকাপের মত একটা আসরে তা আমার এই হাটুবুদ্ধি নিয়ে কোনদিনও বোধহয় বুঝে উঠতে পারবোনা।

      জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      BHAIYA KI KOKHONO HINDI GAAN GULA BANGLA KORE DEKHCHO??? ORA SUDHU MUSICIAN AR VOCAL ER JORE PAR PAIYA JAYE. MOMTUZ KI DOSH KORLO??? JODIO MOMTAZ ER EI GAAN SONA HOY NAI; BUT JEI KOYTA GAAN SHUNCHI TOP CLASS. TUMI BHAIYA SHEFALI GHOS ER GAAN O SHUNE DEKHTE PARO. VALO LAGHBE ASHA KORI. (FOR THE RELIGIOUS REASON ARABIC IS THE MOST BEAUTIFUL LANGUAGE TO US. MOST PEOPLE SAY IT'S FRENCH. OTHERS SAY, URDHU MITHA JUBAN. DOESN'T MATTER WHICH ONE IS THE BEST. STILL BANGLA IS MY FAVOURITE ONE. THAT'S THE LANGUAGE I USED TO DREAM. RUNA LAILA GREW UP IN PAKISTAN; HER FAME CAME THROUGH URDHU MUSIC. MAY BE THAT'S THE REASON SHE SANG URDHU. PERSONALLY I HATE THAT LANGUAGE; I HATE PAKI AS WELL. PEOPLE MAY THINK I LOVE INDIA. SORRY GUYS I HATE THEM TOO. DOES THAT MEAN MY HEART IS FULL WITH HATE; OR I'M RACIST??? I'M NOT. I LIKE MEHEDI HASAN, GHULAM ALI, JAGJIT SINGH, MOHAMMAD RAFI, MUKESH, RABISHANKAR, ALLAH RAKHA, CHAURASHIA, VHIM SEN, ETC ETC.


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন
  6. আন্দালিব (৯৬-০২)

    লেখাটা ভালো লাগলো। আমার নিজের কাছে রিকশায় করে অধিনায়ক আনা, আর ভ্যানে করে মাসকট স্টাম্পিকে আনার ইভেন্টটা দুর্দান্ত লেগেছে। সোনু নিগমের গান ভালো লাগে নাই। অতিরিক্ত টেনে টেনে গাওয়া, গলার কেরদানি দেখানো বেশি হয়ে গেছে। মমতাজের গান খুবই ভালো লাগছে। যদি রিকশা মাঠে আনা যায়, তাহলে তাদের প্রাণের গান কেন বাজবে না? এইটা মধ্যবিত্তীয় হিপোক্রেসি। এইগুলা আমরা যত তাড়াতাড়ি ঝেড়ে ফেলবো, ততই আমাদের সঠিক শিল্পের মূল্যায়ন হবে।

    যারা এই বিষয়ে দ্বিমত, তাদের আমি বলি, যেই ইংরেজি আর উর্দু আর হিন্দি গান শুনে আমরা লাফঝাঁপ দেই, সেগুলোর লিরিক একটু বাংলা করুন। হিপস ডোন্ট লাই কেমন করে নান্টু ঘটকের চাইতে 'উচ্চ' গান সেইটা জানতে ইচ্ছাও করে। আর স্টেডিয়ামে সোনুর গানে মানুষ লাফায় নাই, মমতাজের গানেই লাফাইছে। 😉

    রুনা লায়লা এবং শঙ্কর এহসান লয় হতাশ করেছে। খুব ভালো মুডে ছিলাম বলে রুনা লায়লার আচরণে যে ক্ষোভ জন্মাতো সেটা জন্মায় নাই। তার ভিতরে পাকিস্তানি জার্ম আছে, সে সেইটার প্রকাশ করেছে। উদ্যোক্তাদের উচিত ছিলো তাকে নিষেধ করা।

    জবাব দিন
  7. তানভীর (98-04)

    আমার দেশ হয়তো অনেক সুন্দর যা আমি নিজেও জানি না। beautiful Bangladesh এডটা দেখে মনে হলো - আরে দেশটাকে তো এই ভাবে কখোনো দেখা হয়নি। সবচেয়ে ভাল লেগেছে ঐ অংশটুক যেখানে বলে " who else can tell u to love ur language more". শুনে মনে হলো এখনি আবার ভাষা আন্দোলনে রাস্তায় নেমে পড়ি।
    কোন পেপারে যেন এড দেখেছিলাম " ওরা ১১ জন vsআমরা সবাই ১ দেশ"
    টাইগারেরা plz plz plz তোমরা বিজয় ছিনিয়ে আন, আমরা সবাই তোমাদের সাথে। ::salute:: ::salute:: ::salute:: ::salute:: ::salute::

    জবাব দিন
  8. আরিফ (১৯৯৭-২০০৩)

    ওরে মাশ্রুফের বাপের বাচ্চা, কি লেখলি বাপ এইটা?
    গতকাল যখন এইটা দেখাচ্ছে, আমি তখন বাইরে...তোর লেখা পইড়া ডাউনলোড মারলাম। পরে তোর লগে কথা কমুনে।


    মুছে যাক গ্লানি/ঘুচে যাক জরা
    অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা

    জবাব দিন
  9. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    তীব্র দ্বিমত মাস্ফু ভাই, আপনার বোন এখন আর পিচ্চি নাই। এবং সনু নিগামের গান অত্যন্ত অত্যন্ত অত্যন্ত বাজে জঘন্য। থিম সং যে বানাইসে তাদেরকে কে করতে দিসে আল্লাহ অপাক জানে, তার চেয়ে অর্নবদের গানটা হাজার হাজার হাজার হাজার কোটি কোটি কোটি কোটি গুণ ভাল।

    রুনা লায়লার ইন্ডিয়ান শাড়ি আর পাকিস্তানী গান অত্যন্ত অসংলগ্ন লেগেছে ঠিকই, তবে তার ভেতরে পাকি জার্ম আছে এটা ধরে নেয়াটা বোধহয় গতকালকের জন্য ঠিক হবে না। গানটা উপমহাদেশের বিখ্যাত একটা কাওয়ালী, রুনা লায়লা এটা অসংখ্য বার গেয়েছে। তবে শুনতে খুবই খারাপ লেগেছে আমার।
    মমতাজের গান আর সাবিনার রসিক বন্ধুরে গান দুইটাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য একটু কেমন জানি লাগলো, তবে মজা পাইছি। তবে ইন্ডিয়ানদের স্টেজে উঠতে দেয়াটা ঠিক হয় নাই। গাধার বাচ্চারা ক্রিকেট আর হিন্দী সিরিয়াল গুলায় ফেলছিল। ভাবসে এটা দিল তো কামাল হ্যায়ের প্রিমিয়ার শো।
    আর পাকিস্তানীদের সামনে ভাষা আন্দোলনের কাহিনী তুলে ধরাতে ব্যাপক মজা পাইছি 😀

    জবাব দিন
  10. আরিফ (১৯৯৭-২০০৩)

    হুমম, দোস্ত
    দেইখা কেন যেন চোখে পানি চলে আসলো।
    আসলে রবী বুইড়া কথাটা ঠিকই বলছিল
    "দেখা হয় নি দুচোখ মেলিয়া/ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/একটি ধানের শীষের উপর/ একটি শিশির বিন্দু"
    admission going on...... 😀


    মুছে যাক গ্লানি/ঘুচে যাক জরা
    অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা

    জবাব দিন
  11. রাব্বি (১৯৯৮-২০০৪)

    খালি একটা কথাই কই, আমার এক ইংরেজ দোস্ত বিউটিফুল বাংলাদেশ” ডকুমেন্টারিটি দেইখা নেক্সট সামারে বাংলাদেশ ঘুরতে যাবে বলছে, আর কিছু কি বলার দরকার আছে ?

    লেখা সিরাম... ::salute:: :gulli2: :duel:

    জবাব দিন
  12. আমীন (০১-০৭)

    আমি জানিনা কোন সৌভাগ্যে সেদিন স্টেডিয়ামে বসে পুরো অনুষ্ঠানটি দেখতে পেরেছিলাম।নিজেকে এত ভাগ্যবান এর আগে কখনো মনে হয় নি।
    মাস্রুফ ভাইয়ের লেখা নিয়ে কিছু বলব না।উনার লেখা বরাবরই চমতকার।
    আমি শুধু সেদিনের কিছু ঘটনা তুলে ধরব।
    * এক সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় সবাই যখন দাড়ালো আমার মনে হল আমার দেশ যেন বিশ্বের দরবারে আরো একধাপ এগোলো।
    * পিচ্চি কন্ঠে ভেসে আসল-"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি"।আমি মাথা নিচু করে ফেল্লাম,চোখের পানি পাছে কেউ দেখে ফেলে।খেয়াল করলাম আমার পাশের জনও মাথা নিচু করে আছে,হাত দিয়ে চোখ মুছতেছেন।আমি মাথা তুল্লাম।দেখি সবাই চোখের পানি আড়াল করতে চাচ্ছে।আমার চাপা কান্না আর ধরে রাখতে পারিনি,ফুপিয়ে উঠি।খেয়াল করে দেখি সবাই ঠিক আমার মতই।এই প্রথম সবার সামনে কেদে লজ্জা পাইনি,গর্বে ভরে গিয়েছিল বুক।
    *আমার সামনে বসে ছিল এক বিদেশি।বাংলাদেশের ডকুমেন্টারি দেখানোর পর তার চিতকার-"i want admission form".
    আমি যতটা আশা নিয়ে গিয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি গর্ব নিয়ে ফিরেছি।

    জবাব দিন
  13. রুম্মান (১৯৯৩-৯৯)

    ‎ফেসবুকে একজন আমাকে এই বিস্তারিত খবরটা দেয় । পুরাটা বাংলা বানানোর পেইন না নিয়ে ইংলিশটাই দিয়ে দিলাম । ডকুমেন্টরীর ডিটেইল ঃ
    158 shooting crew worked behind this film, it was a REDdot production, producer and director : Gazi Shubhro, Colorist : Ziaul Paikar Jewel, DP : Khosru, Production Manager: Zahed(R.I.P), GM:Rony, AD: Tonu, Dip, Manna, Joyonto, Ashraf, Editor:Jewel and Prodip, Agency: Grey Bangladesh, Client: ICC & Parjatan BD, Music By: Adit, Musicians: Prithwi (sargams, santoor & percs), Najrul (dhol & mondira), Alom (ektara,dugi & nupur), Mukaddes (dotara), Jalal (flute), Monir Kaka (silver flute) Lyrics: Shaon. Script copy: Anam.


    আমার কি সমস্ত কিছুই হলো ভুল
    ভুল কথা, ভুল সম্মোধন
    ভুল পথ, ভুল বাড়ি, ভুল ঘোরাফেরা
    সারাটা জীবন ভুল চিঠি লেখা হলো শুধু,
    ভুল দরজায় হলো ব্যর্থ করাঘাত
    আমার কেবল হলো সমস্ত জীবন শুধু ভুল বই পড়া ।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।