দুষ্মন্তপুরান-২

রাজা দুষ্মন্ত মধ্যাহ্নভোজন সারিয়া নিদ্রা যাইতেছিলেন। স্বপ্নে দেখিলেন, কাঁচুলি আর কৌপিন পরিহিতা এক পিনোন্নতা গুরুনিতম্বী তাহার চতুর্দিকে নৃত্য করিতেছে। নৃত্য করিতে করিতে এক পর্যায়ে সে রাজার কোলে চড়িয়া বসিল। বসিয়া রাজার চিবুক,ওষ্ঠ্য,ললাট স্বীয় জিহবা দ্বারা লেহন করিতে লাগিল। রাজা উত্তেজনায় শিহরিয়া উঠিলেন। রূপসীকে সুধাইলেন,ওহে অপরূপা, তুমি এতোদিন কোথায় ছিলে? কি নাম তোমার? সে কহিল,ভৌ।

রাজার ঘুম চটিয়া গেল। তাকাইয়া দেখিলেন,এক সারমেয় সন্তান তাহার কোলে চাপিয়া তাহার সর্বাঙ্গ লেহন করিতেছে। রাজা তোবা তোবা বলিয়া লাফাইয়া উঠিলেন। কুক্কুর ভয় পাইয়া দুই লাফে ঘর হইতে পলায়ন করিল। কিছুক্ষন পর শকুন্তলা উহাকে কোলে লইয়া প্রবেশ করিল। রাজাকে কহিল, বলি,সারাদিন তো পড়ে পড়ে ঘুমাও। ঘরজামাই থেকে তো বহুত আরামে দিন কাটাচ্ছ। মাঝেমধ্যে বাজার সদাইএ হেল্প করলেও তো পারো। কাজ তো কর মাত্র তিনটা- ঘুম খাওয়া,আর টয়লেট। আর কোন আক্কেলে তুমি পুচিকে ভয় দেখালে? রাজা কহিলেন, কি বলিতেছ তুমি? এই নীচ প্রাণীকে তুমি লইয়া আসিয়াছ? আসিয়াই আমার আপাদমস্তক লেহিয়া দিয়াছে। নাউজুবিল্লা,আস্তাগফিরুল্লা। শকুন্তলা কহিল, হ্যাঁ। এটা হল একটা “Bichon Frise” জাতের ডগি। কি কিউট তাই না? রাজা কহিলেন, এ তুমি কি করিলে? এ প্রাণী তো রোগবালাইএর আধার। আর নামাজ কালাম পূজা আর্চনা সব তো মাথায় উঠিবে। শকুন্তলা ধমকাইয়া কহিল,এহ,আইসে আমার পূজা করনেওয়ালা। জীবনে দেখলাম না মন্দিরের ধারে কাছে যাইতে।এখন খুব পূজা করার সাধ জাগসে,না?? রাজা আরো কিছু বলিতে চাহিলেন। তার আগেই শকুন্তলা তাহার হস্তে বাজার সদাইএর লিস্টি ধরাইয়া দিয়া প্রস্থান করিল।

পুচি আসিয়া রাজার জীবনের সব শান্তি মৃত্তিকার সহিত মিশাইয়া দিল। পূর্বে তিনি শুইয়া বসিয়া খাইয়া, আশ্রমবালাদের অঙ্গভঙ্গি দেখিয়া,তাহাদের স্নানকালে পিপিংটমবৃত্তি করিয়া সময়ক্ষেপন করিতেন। পুচি আসিবার পর শকুন্তলা তাহার অকর্মা সোয়ামির উপর পুচির যাবতীয় দায়িত্ব অর্পন করিল। পুচিকে স্নান করানো, তাহাকে আহার করানো, প্রাতঃকালে তাহাকে লইয়া টাট্টি করিতে লইয়া যাওয়া,সব দায়িত্ব রাজাকেই সম্পাদন করিতে হইত। বিশেষত, প্রাতঃকালে পাঁচ ঘটিকার সময়, সাধের ঘুম বিসর্জন দিয়া ওই হতচ্ছাড়া সারমেয়কে বাহিরে টাট্টি করাইতে লইবার ব্যাপারে রাজার প্রভূত আপত্তি ছিল।আশ্রমে আইন ছিল,রাস্তায় যদি কোন গৃহপালিত কুক্কুর অপকর্ম সাধন করে,তবে তাহার মালিককে নগদ একশত টাকা জরিমানা করা হইবে।তাই,রাজাকে প্রত্যহ সকালে মেথরবৃত্তিও করিতে হইত। তিনি তাহার স্ত্রীকে বলিয়াছিলেন,ইয়ে,সকালে গৃহের ভৃত্যটিকে পাঠাইলে হয় না? শকুন্তলা মুখ বাঁকাইয়া কহিল, তাহলে সকালে নাস্তা বানাইবে কে? তোমার বাপ? নিজের পিতার যাহাতে আর অধঃপতন না ঘটে,সেহেতু রাজা চুপ মারিলেন।

এগুলাও রাজা সহিয়া লইতেন। কিন্তু নিত্যনূতন সমস্যা পয়দা হইতেই লাগিল। একদিন,রাজা নির্জনে বসিয়া প্লেবয়ের নভেম্বর সংখ্যাটি উল্টাইয়া পাল্টাইয়া দেখিতেছিলেন। হঠাৎ কোথা হইতে পুচি হারামজাদা আসিয়া পত্রিকাটি লইয়া কামড়াইয়া ফালা ফালা করিয়া অবশিষ্টাংশ শকুন্তলার নিকট লইয়া গেল। সেদিন শকুন্তলা মরা কান্না জুড়িল,আমি কি মরে গেস্লুম যে তুমি এখনো হাতের ব্যায়াম চালিয়ে যাবে? রাজা যতই বোঝাইবার চেষ্টা করেন,ব্যাপারটা মোটেও সেরূপ ছিল না। সে ততোধিক জোরে কান্না করিতে থাকে।

আরেকদিন,রাজা এক রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিবসে সানবাথ করিবার নিমিত্ত নগ্ন গাত্রে লোশন মাখিয়া মাদুর পাতিয়া উপুড় হইয়া শুইয়া ছিলেন। শুইয়া রাজার তন্দ্রামত আসিয়া গিয়াছিল।কিয়ৎকাল পর,তাহার বোধ হইতে লাগিল, তাহার পৃষ্ঠদেশের উপর কোথা হইতে গরম জলের ধারা আসিয়া পড়িতেছে। চোখ মেলিয়া দেখিলেন, বদমাশ পুচিটা উহার সংক্ষিপ্ত কর্ম তাহার গাত্রের উপর সম্পাদন করিয়াছে।

এই অত্যাচার সহিতে না পারিয়া রাজা একদিন ভাবিলেন,শ্লার পো পুচির এক দিন কি তাহার একদিন। একদিন প্রাতঃকালে রাজা পুচিকে লইয়া বাহির হইয়াছেন। রাজা তাহাকে লইয়া গহীন বনে চলিয়া গেলেন। সেথায় গিয়া তিনি ওই হতচ্ছাড়াকে একটি থলেতে ভরিয়া একটি গাছের খোড়লে ঢুকাইয়া উহার মুখ ডালপালা দিয়া আটকাইয়া চলিয়া আসিলেন। ফিরিয়া আসিয়া শকুন্তলাকে কহিলেন, ওগো,তোমার পুচিকে বাঘে খাইয়া ফেলাইয়াছে গো। আমি আপ্রান চেষ্টা করিয়াও তাহাকে বাঁচাইতে পারিনাই। শুনিয়া শকুন্তলা,ওরে আমার পুচি কই গেল রে,বলিয়া বিলাপ করিয়া উঠিল। রাজা তাহাকে শান্তনা দিয়া কহিলেন, কাঁদিয়া আর কি হইবে বল। যে যাইবার সে তো চলিয়া গিয়াছে। ভাগ্যবিধাতা বড় নিষ্ঠুর। আমাদের সুখ তাহার সহিতেছিল না। শুনিয়া শকুন্তলা আরো উচ্চস্বরে বিলাপ করিতে লাগিল।

রাজা শকুন্তলাকে খুশি করিবার নিমিত্ত কহিলেন,আর কাঁদিয়া কি হইবে,আইস,আমরা ঐ বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করিয়া পূজার আয়োজন করি। রাজা তাহার ভৃত্যকে নির্দেশ দিলেন,যাও,জঙ্গল হইতে কাঠ লইয়া আস। ভৃত্য একটি গাছের কান্ড কাটিয়া লইয়া আসিল। কান্ড আনিয়া যেই উহা কাটিতে যাইবে,অম্নি উহার খোড়ল হইতে আওয়াজ আসিল,ভৌ।

রাজা কহিলেন,আমি মরলাম।

৩,৩২৭ বার দেখা হয়েছে

৩৯ টি মন্তব্য : “দুষ্মন্তপুরান-২”

  1. আছিব (২০০০-২০০৬)

    আমিও হাসতে হাসতে মরলাম। =)) =))

    পোকা রে.........মাইরেই ফালাইলি... :salute: :boss: :pira:
    ইয়ে মানে...আজকালকার রাজারা প্লেবয়ও পড়ে ,হাতের ব্যায়ামও করে,আবার সানবাথও করে :grr: :grr:

    জবাব দিন
  2. আদনান (১৯৯৪-২০০০)

    জব্বর লিখছ । তবে গতবারের টা আমার কাছে বেশি মজার মনে হয়েছে । ভুল বুঝোনা এবারেরটাও মজার । লেখাটা বেশ টানটান ছিল । কিন্তু গতবারের মানকে উতরে যেতে পারেনি এই যা । কীপ রকিং 🙂

    জবাব দিন
  3. রাজা দুষ্মন্ত মধ্যাহ্নভোজন সারিয়া নিদ্রা যাইতেছিলেন। স্বপ্নে দেখিলেন, কাঁচুলি আর কৌপিন পরিহিতা এক পিনোন্নতা গুরুনিতম্বী তাহার চতুর্দিকে নৃত্য করিতেছে। নৃত্য করিতে করিতে এক পর্যায়ে সে রাজার কোলে চড়িয়া বসিল। বসিয়া রাজার চিবুক,ওষ্ঠ্য,ললাট স্বীয় জিহবা দ্বারা লেহন করিতে লাগিল। রাজা উত্তেজনায় শিহরিয়া উঠিলেন। রূপসীকে সুধাইলেন,ওহে অপরূপা, তুমি এতোদিন কোথায় ছিলে? কি নাম তোমার? সে কহিল,ভৌ।
    ভাই তুই বস :hatsoff: :hatsoff:

    জবাব দিন
  4. =)) =)) =)) =))
    হাসতে হাসতে মুখ ব্যাথা হয়ে গেলো...
    দারুণ হইছে আজ্জু 😀 কেম্নে লেখিস এত্তো সুন্দর কইরা??
    সিরাম হইসে...

    অফটপিকঃ রাজশাহী ট্যাগ করা হয় নাই তো! 😉 শিগগির কর...

    জবাব দিন
  5. আশহাব (২০০২-০৮)
    রাজা উত্তেজনায় শিহরিয়া উঠিলেন। রূপসীকে সুধাইলেন,ওহে অপরূপা, তুমি এতোদিন কোথায় ছিলে? কি নাম তোমার? সে কহিল,ভৌ।

    চরম চরম :boss: :boss: :boss:
    ভাই আপ্নে তো পুরাই বিন্দাস লিখেন :thumbup:
    পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম :hug:

    জবাব দিন
  6. আহমদ (৮৮-৯৪)

    ভাইরে ... এখনো হাসতেছি। চরম হইছে ... সিরিজ চলুক ... তাড়াহুড়া কইরো না ... সময় মিয়া মজা কইরা লিখতে থাক ... খালি ছাপাইতে দেরি কইরো না ... পাংখা ... ৫ তারা :boss:


    চ্যারিটি বিগিনস এট হোম

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।