অভিনন্দনবার্তা আর শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-২

ঃ অভিনন্দনবার্তাঃ
…..খোমাখাতা বন্ধ করে দিয়ে সরকার আমাদের ভার্চুয়াল সামাজিকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি। বাধা যখন দেয়া হয়,সেটা অতিক্রম করার দ্বারও উন্মোচিত হয়। যেভাবেই হোক,নিষিদ্ধ হবার পর খোমাখাতাতে ঢুকতে কেন জানি ‘ক্যাডেট কলেজের নিয়ম ভাঙ্গা’ ধরনের অনুভূতি হচ্ছে। সরকারের নামে সিসিবি-তে মাংস ভক্ষণ করলেও খোমাখাতাতে করার সাহস আমার নাই। করলে কালকের দুপুরের খাবার জেলে খেতে হতে পারে! কি যে দিনকাল পড়ল! গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারের মধ্যে আছি!……

…..ধুরু,কিসের মধ্যে কি,পান্তা ভাতে ঘি। কথায় বলে,আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন! খোমাখাতায় আজকে না ঢুকলে একটা গরম,সুস্বাদু,টাটকা,টসটসে খাবার থুক্কু খবর জানতাম না! সেটা ইতোমধ্যে সবাই জানেন>> আমাদের জুনিয়র ব্লগারদের উৎসাহদাতা,সিনিয়র ব্লগারদের অতি আদরণীয়,সবার প্রিয়>>যিনি সবার সাথে মাথা নিচু করে কথা বলেন(!),আর যার সাথে প্রায় সবাই মাথা উঁচু করে কথা বলেন(!)>>যার খাদ্যের প্রতি ভালোবাসা প্রবাদপ্রতিম,যার মন্তব্যে একটা ব্লগে আলাদা হিউমার যোগ হয়……সেই লাভগরু (তার নিজের দাবী),পিচ্চি(!),মাইয়াদের হার্টথ্রব তারকা,সিসিবি-ফ্যামিলির অন্যতম জামাই ‘তাহসিন মাসরুফ হোসেন মাসফি’ ওরফে মাস্ফ্যু ভাই,(আমার মাশরুম ভাই) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে……এই ব্লগ এবং তার পরিবারের সবাইকে অনেক গর্বিত করেছেন।
….সবার কথা জানিনা,আমি তড়িঘড়ি করে নিজের মনের খবর জানিয়ে দিচ্ছি,ভাইইইইইইইইইইইইইইই,খুব ভালো লাগল,দোয়া করি আপনি সৎভাবে আপনার পেশাগত জীবনে একটা উজ্জ্বল ও সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

……আর কয়েকদিনের মধ্যে নিশ্চয় আমি আপনার চাচাশ্বশুর হতে যাচ্ছি।এই কে আছিস,আরসিসির জুনিয়ররা,জামাইকে সালাম দে……

এই ব্লগটা তাই মাসরুফ ভাই এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলাম ….


শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-২

শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-১

…..অনেকদিন আগে প্রথম পর্ব ছেড়েছিলাম,হাসাহাসি করতে গিয়ে কারো কারো বিরাগভাজন হয়েছিলাম,ক্ষমা চেয়ে নিস্তার পেয়েছি কিনা জানি না,এবার সাহস করে দ্বিতীয় পর্ব লিখে দিলাম,কেননা ব্লগে আজকে একটু উৎসব উৎসব ভাব,সবার মেজাজ ফুরফুরে,অফচান্সটা মেরেই দেই….

(১) আমাদের সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেল বলতে ছিল কেবল চ্যনেল আই, এন টিভি,বি ফোর ইউ মিউজিক,সাহারা টিভি,রাশিয়ান টিভি আর ইটিভি বাংলা। ক্যাডেটদের চাহিদা তো আর বাংলা চ্যানেল দিয়ে পূরণ হয় না! তাই সারাদিন বুভুক্ষুর মত বি ফোর ইউ আর রাশিয়ান চ্যানেল দেখে চোখের ক্ষুধা মিটাতাম। কোন গরম গান বা দৃশ্য হলেই হাউসে ভূমিকম্প শুরু হত। সবার দৌড় টিভি রুমের দিকে। অবশ্য সেভেন-এইটের লাজ-লজ্জা বেশি হওয়াতে তারা রুমেই ছটফট করত,বাইরে আসত না। তো এরকমই এক শুক্রবারে ক্লাস টুয়েলভে উঠার পর আমাদের তারিক হাউসের ছেলেপেলেরা টিভিরুমে বসে আছে।হঠাৎ একজন বাইরে এসে চিৎকার দিল, ”বয়েজ,হাররি আপ,টিভিতে বেড সিন দেখাচ্ছে!!” অমনি ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল! তারিক হাউসের দৌড়াদৌড়ি দেখে আমাদের কাসিম হাউসেও দৌড়াদৌড়ি শুরু হল। সবাই টিভি রুমে গিয়ে দেখল, এন টিভিতে নাটক হচ্ছে! ”দিলারা জামান”(!) খাটে শুয়ে আছেন!!

(২) ইংলিশ ভার্সন চালু হয়ে ভালোই হয়েছিল। নইলে স্যারদের ইংলিশের গভীরতা আমরা মাপতে পারতাম না! আমরা তখন ইলেভেনে। আমরা কয়েকজন হাউসের সিঁড়িতে বসে গীটার প্র্যাকটিস দেখছি আমাদের ব্যান্ড টিমের। এমন সময় ডিউটি মাস্টার OH স্যার (যাকে আমরা হাইড্রক্সিল স্যার ডাকতাম ) এসে হাজির। তো এসব দেখে তিনি বললেন, ”এহ বয়েজ, হোয়াট আর ডান?” একজন জবাব দিল, ‘স্যার,মিউজিক প্র্যাকটিস করতেছি’ স্যারের উত্তর, ‘মিউজিক প্র্যাকটিস করবা,তো এখানে কেন, মিউজিয়ামে যাও! উল্লেখ্য,উনি মিউজিক ক্লাব বুঝিয়েছিলেন…..

(৩) আমাদের সবার প্রিয় ডঃ অ ব ম স্যার আমাদের গান-কবিতা লিখতে উৎসাহিত করতেন। ছেলেপেলেও কম শয়তান না! আমাদের নাহিদ একদিন স্যারের কাছে তাহসানের ‘ঈর্ষা’ গানটা লিখে নিয়ে স্যারের কাছে গেল। স্যার পুরোটা পড়ে বললেন, ‘বাহ! তুমি তো ভালোই কবিতা লিখ! কিন্তু কষ্টের হয়ে গেছে একটু!’
আর সুফিয়ান নিয়ে গেল অর্থহীনের ‘অদ্ভুত সেই ছেলেটি’। স্যার পড়ে বললেন, ‘ব্যাপার কী! আজকাল তোমরা এত ভালো ভালো কবিতা লিখতেছ কিভাবে? আচ্ছা সুফিয়ান,দিও তো,দেখি এই কবিতাটায় আমি সুর দিতে পারি কিনা!”
উল্লেখ্য,তিনি বিশিষ্ট সুরকার,গীতিকার ও গায়ক ছিলেন!!

(৪) ক্লাস নাইনে আমাদের বাংলা ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন শা আ স্যার। পড়াচ্ছিলেন বাংলা উপসর্গ (অ,অঘা,অজ,অনা,……রাম,উপ,আ…)। তো স্যার বললেন, ‘রাম’ দিয়ে কি কি হয় বলত তোমরা……একজন বলল রামদা,একজন বলল রামছাগল…বইতে এই দুইটাই ছিল। কিন্তু আমি বেশি বিজ্ঞ হতে গিয়ে একটানে লাফিয়ে বললাম, স্যার রামভোদাই! সমস্যা হল, ‘রামভোদাই,স্যার’ বা শুধু রামভোদাই বললে হয়ত স্যার কিছু মনে করতেন না। আমার কথা শুনে তিনি কি না কি ভাবলেন,বললেন, ‘আছিব। এইদিক আস’। গেলাম। দুইকান ধরে দলাই মলাই করলেন,গালে দুইটা চড় দিয়ে বললেন, এইবার সবার দিকে ফির! ফিরলাম,স্যার তখন বললেন, ‘বয়েজ,একে যেমন দেখাচ্ছে,রামভোদাই দেখতেও সেরকম’!

(৫) কলেজে প্রিফেক্ট হলে অনেকেরই ভাবে কান্ডজ্ঞান উল্টায় যায়! ঠিক সেরকম ৩৩তম ব্যাচের ডাইনিং হল প্রিফেক্ট ভাই প্রায় প্রতিদিনই টি-ব্রেকে ডাইনিং এ ঢুকে শান্টিং দিতেন এইভাবে, ”বয়েজ,কিপ মাম!হুয়াট ইজ আওয়ার প্রবলেম? ইট ইজ এ বাজার? মাছ মার্কেট? ইফ আই সি আনিওয়ান সাউন্ডিং,আই উইল কিক হিম ‘আপ’ অফ দা ডাইনিং হল!”

…..টু বি কন্টিনিউড………

৬,৩৫৮ বার দেখা হয়েছে

১৩০ টি মন্তব্য : “অভিনন্দনবার্তা আর শাহী ডায়লগস ফ্রম দ্য গেরাম মোক্তারপুর-২”

  1. রকিব (০১-০৭)

    অভিনন্দন মাস্ফ্যুদা!!!! দোয়া করি আপনি দ্রুত সিপি (কমিশনার অব পুলিশ) হবেন। 😀
    অফটপিকঃ কে জানি একবার কইছিলো, পুলিশে যারা চাকরি করেন, তারা নাকি ভুড়িয়ালা হয়ে যায় (পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন পূর্বক কেবল মাত্র মজা করার জন্যই বলছি); তাইলে মাস্ফ্যু ভাই কী হবেন? 😕 😕


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. আশহাব (২০০২-০৮)

    সালাম মাস্ফ্যুদা 😀
    ভাই, আমি সিসিআর এর পক্ষ থেকে সালাম দিয়া দিলাম B-) গলা ফাটায়া একটা চিৎকার দিতে ইচ্ছা করতেসে, কারণ সামনে বিশাল একটা ভোজ আসে :goragori:

    জবাব দিন
  3. মাসরুফ অভিনন্দন!!!
    এতো দিন অনেক আফসোস করতাম নর্থ আমেরিকান পুলিশ গুলাই খালি সেই রকম ড্যাশিং!!!! দেখলে মনে হয় ২ হাতে ২ জন রে তুলে আছাড় মারতে পারে।
    যাক আসছে বাংলাদেশের শুভদিন,
    মাসরুফ মার্কায় ভোট দিন 😀

    জবাব দিন
  4. রাব্বী (৯২-৯৮)

    অভিনন্দন মাস্ফ্যুকে!!!

    মাস্ফ্যু খুউব আনন্দের খবর এবং ব্যাপক খুশী হলাম। বাংলাদেশ পুলিশ একজন ভাল কপস পেলো। অনেক অনেক শুভকামনা রইলো ভবিষ্যতের জন্য।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
  5. নাজিব(২০০৩-২০০৯)

    " অবশ্য সেভেন-এইটের লাজ-লজ্জা বেশি হওয়াতে তারা রুমেই ছটফট করত,বাইরে আসত না"
    তাই বলে জুনিয়র দের উপর দিয়া চালায় দিলেন!!!!!আমরা তো ঠিক ই আসতাম আপনারাই তো বার করে দিতেন| :(( :(( :(( :(( :((

    জবাব দিন
  6. মাসরুফ ভাইয়ের সুখবর শুনে কী খাবো তা ভাবতে বসে পড়ছি...
    😀 😀 কংগ্রাটজ ভাই।

    ------------------------------------
    সেই ঐতিহাসিক ডাইনিং হল প্রিফেক্টের কথা মনে পড়লোঃ

    বয়েজ,কিপ মাম!হুয়াট ইজ আওয়ার প্রবলেম? ইট ইজ এ বাজার? মাছ মার্কেট? ইফ আই সি আনিওয়ান সাউন্ডিং,আই উইল কিক হিম ‘আপ’ অফ দা ডাইনিং হল!

    এই লোকটা আমারে সেইরকম পার্সোনাল টার্গেট করছিলো। হুদাই... প্রচুর পানিশমেন্ট দিছে আর জ্বালাইসে... এখনও মনে পড়লে বিরক্ত লাগে! যত্তসব... (সম্পাদিত) (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  7. মামুন (০০-০৬)

    কি যে দিন আসলো মাস্ফ্যুদা ?? x-( x-(
    বড় থাইকা শুরু কইরা পিচগি পিচগি পোলাপাইনও খাওয়া ছাড়া কিচ্চু বুঝে না :grr: :grr: :grr:

    আমি দাদা বেশী কিচ্চু চাইনা শুধু দুপুরে স্টারে লাঞ্চ, রাতে বুমার্স এ ডিনার আর শেষে হাল্কা চা-বিড়ী আর কি 😀 😀 😀

    বলেন তো দাদা আমি কি বেশী কিচ্চু চেয়েচি :)) :)) :)) (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  8. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)

    অভিনন্দন মাশ্রুফ। অনেক অনেক বড় হও। অনেকদিন থেকে একটা জিনিসের অভাব বোধ করছিলাম। কাছের পরিচিতদের মধ্যে কেউ পুলিশ নেই। তুই সেই অভাব দূর করে দিলি। আবারো অভিনন্দন।

    জবাব দিন
  9. পুরো লেখা জুড়েই কেমন পোলাউ বিরিয়ানি গন্ধ,ভালই লাগছে! :awesome: :awesome:
    ম্যাশ ভাইয়া কে নতুন করে আর কি অভিনন্দন দিব,তবে ভাইজান শুধু গন্ধেই যেন আমার পেট না ভরে একটু খেয়াল রাখবেন আরকি!! 🙂 🙂

    পিণ্টু,

    বয়েজ,একে যেমন দেখাচ্ছে,রামভোদাই দেখতেও সেরকম’!

    তোর স্যার খুব ই সত্যবাদি ছিলেন,উনারে সালাম :salute:

    জবাব দিন
  10. সৌমিত্র (৯৮-০৪)

    অনাথ বন্ধু মল্লিক স্যারের মতো প্রতিভাধর মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি। তাঁর সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই তাঁর সাথে নানা রসিকতা করতো (এখনো হয়তো করে) তবে সেটা আমার কাছে খুব খারাপ লাগতো। স্যারের সাথে মাসকয়েক আগে দেখা হয়েছিল। স্যার এখন জেসিসিতে। স্যার বাংলা ভাষার প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তি অভিধান সংকলন করছেন। স্বরবর্ণ শেষ। তবে রাজশাহী থেকে বদলী হয়ে যাওয়াতে তাঁর এই গবেষণাকর্মে সম্ভবত সমস্যা হচ্ছে, কেননা এ কাজে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা পাচ্ছিলেন। ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষ তো আর গবেষণা বোঝে না, এই ব্যুৎপত্তি অভিধানের গুরুত্ব অনুধাবন করার ক্ষমতাও রাখে না। স্যারের জন্য খারাপ লাগে। কেন যে তিনি ক্যাডেট কলেজে পড়ে আছেন!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।