একটি অতিপ্রাকৃতিক কক্ষভোজনঃ অ্যান এপিক অ্যাডভেঞ্চার

…..বুয়েট লাইফটা অনেক বেশি ডাইন্যামিক। পি. এল.(প্রিপারেটরী লীভ, ’পাছায় লাথথি’ ভাববেন না!) শুরু হবার আগ পর্যন্ত আজ ক্লাশ টেস্ট, কাল ল্যাব টেস্ট, পরশু ভাইভা, তরশু কুইজ-এই করে করে কিভাবে যে এক একটা সেমিস্টার পার হয়ে যায়, টেরই পাইনা। পুরোটা সময় কাটে একটা ঘোরের মধ্যে। ক্লাশ চলাকালীন যতই আঁতেল বা সুপারকুল হবার চেষ্টা করি না কেন, নতুন টার্ম শুরুর আগে যখন পূর্ববর্তী টার্মের আমলনামা (মার্কশীট) হাতে দেয়া হয়, তখন বারংবার পশ্চাদদেশে ‘সর্ববৃহত ঘাস>>বাঁশ’ এর শিহরণ অনুভব করি। তবে শত ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুদের সাথে হল লাইফ+বুয়েট লাইফ অনেক এনজয় করি। কেননা জানি, আর দশটা ছা-পোষা মধ্যবিত্ত মানুষের মত আমাকেও জীবন-যুদ্ধে নামতে হবে আর কিছুদিন পর। কাউকেই আর ফিরে পাব না এখনকার মত……..

ধুর!! বুয়েট লাইফ নিয়ে তো লিখতে বসিনি! স্বরস্বতী পূজার বন্ধ পেলাম, আমার হিন্দু বন্ধুরা জ্ঞান-দেবীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আগামী সপ্তাহ শুরু করবে নতুন উদ্যমে। আর আমি লেখাপড়া শিকেয় তুলে, আবারো আমার ১০টা আংগুল আর আস্থাভাজন স্মৃতিশক্তিকে পুঁজি করে, বসে গেলাম আমার ক্যাডেট জীবনের আরো একটা স্বরণীয় ঘটনা লিখতে……….
[বিঃদ্রঃ..ছোটবেলায় সুকুমার রায়, শরতচন্দ্র প্রমুখ কিংবদন্তীর সাহিত্য পাঠ করিয়া সাধু ভাষাকে আমার নিকট যথেষ্ট রস-বান্ধব মনে হইত। যদিও গুণীজন কি কারণে চলিত ভাষাকে ‘ভদ্র ভাষা’ আখ্যা প্রদান করিয়াছিলেন, আমার জ্ঞানে নাই। তথাপি এই ‘অভদ্র’ আমি, সাধু ভাষাকেই আমার মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করিলাম। আশা করি বিজ্ঞ গুণীজন আমার ‘অভদ্রতা’ এবং গুরুচণ্ডালী দোষ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।।]

…………জানুয়ারী,২০০৪। প্রচন্ড শীত।পদ্মাপারে প্রবল কুয়াশাবিধৌত প্রভাতে পি.টি. তে দাঁড়াইলে পার্শ্ববর্তী মানবসন্তানকে দেখিয়া চিহ্নিত করাই কষ্টকর। এমতাবস্থায় ড্রীলের সময় যখন কর্তৃপক্ষের খেয়াল হইল, জুনিওর-সিনিওর স্কটে অন-প্যারেড ক্যাডেটদিগের তুলনায় সিক রিপোর্ট স্ট্যান্ডে দণ্ডায়মান অফ-প্যারেড ক্যাডেটদিগের সংখ্যাই অধিক, তখন তদানীন্তন অধ্যক্ষ জনাব ফায়জুল হাসান স্যার দয়া পরবশ হইয়া পি.টি.-প্যারেড স্থগিত করিয়া দিলেন। আমরাও হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিলাম। কেননা, রাতে চোরের মত বে-আইনীভাবে (লাইট-অফঃ১০টা ৪৫ মিনিট) জ্ঞানচর্চা করিয়া, আড্ডা মারিয়া কিংবা ফল-ফলাদি চুরি করিয়া অন্ধকার কুয়াশাময় প্রভাতে পি.টি করা আসলেই মানবেতর ছিল আমাদিগের জন্য। উল্লেখ্য, তখন আমরা এস.এস.সি. পরীক্ষার্থী ব্যাচ। এই বিশেষ শ্রেণীতে(!) উঠিয়া যখন স্কন্ধে অ্যাপুলেটখানা পরিলাম, গর্ভে(গর্বে) এবং ভাবে শুধু আমি নহে, আমাদিগের সকলেরই বক্ষ ‘কয়েক ফুট’(ইঞ্চি কহিলাম না, কেননা অতি চতুর পাঠককুল-আমাদিগের লিঙ্গ পরিবর্তন ঘটিয়াছিল ভাবিতে পারেন) বাড়িয়া গেল। ইহার হেতু হইল, বড় ভ্রাতাদিগের নিকট হইতে বহু রূপকথা শুনিয়াছিলাম, যাহার অধিকাংশই তাহারা এই সময়ে ঘটাইয়াছিল। কাজেই, আমরাও কোন এক রূপকথার জন্ম দেওয়ার জন্যে মুখাইয়া ছিলাম…….সেই রূপকথাময় রাত্তিরে কত কিছু যে করিয়াছিলাম তাহা ঐ সময়ে কোন মানুষ তো নহেই, কাক পক্ষীও টের পাইনাই। তবে কুকুর এবং চড়াই পক্ষী আল্লাহ তাআলার অশেষ কুদরতে আমাদিগের আকাম ধরিতে পারিয়াছিল। কেমনে পারিয়াছিল,তাহা কাহিনিপরম্পরাতেই চলিয়া আসিবে…………. .

………যুগান্তকারী আইডিয়াখানি মাথায় আসিল কাইয়ূমের। অ্যাথলেটিক্সের কয়েকদিন আগে রূমে বসিয়া অপ্রাসঙ্গিকভাবেই কথা পাড়িল সে, ”বয়েজ, এক্সামিনি হয়ে গেছি, একটা ভাব আছে না! চল এমন কিছু একটা করি, যেটা জুনিওররা যুগ যুগ ধরে বলাবলি করব। বলব, কাসিম হাউসের ৩৭তম ব্যাচের ভাইগুলা বস ছিল।“ বলাই বাহুল্য, প্রবল নিয়ম-শৃঙ্খলাযুক্ত পরিবেশে নিয়ম ভাঙ্গাটাই নায়কোচিত। কাইয়ূমের কথাখানি কবিরাজি দাওয়াই এর মত কাজ করিল। সকলেই ঘাড় ফিরিয়া তাকাইল তাহার দিকে। ‘সিরিয়াস মেহেদী’ সিরিয়াসলি জিজ্ঞাসা করিল, ”কি করতে চাস তুই?’ কাইয়ূম কহিল, ’চল একটা পিকনিক করি।’ তাহার এই প্রস্তাব শুনিয়া আমরা বজ্রাহত হইয়া গেলাম।

কেননা, প্রথমত, তখন কলেজে মাননীয় অ্যাডজুটেন্ট জনাব শফিউল্লাহ মাস্তান স্যার রীতিমত ত্রাস সৃষ্টি করিয়াছেন। যখন তখন প্রেতের মতন এখানে সেখানে হাযির হইয়া যাইতেন তিনি। দেখা গেল, প্রেপটাইমে পড়া বাদ দিয়া নিদ্রাদেবীর সহিত স্বপ্নমৈথুন করিতেছি, আর তিনি হঠাৎ যমদূতের মত হাজির হইয়া আমার পরকীয়া প্রেমলীলা ভাঙ্গিয়া দিয়া ভয়ানক গলায় আদেশ করিতেন, ”Asib , My dear! Why are you sleeping? Go, splash water on the face, come back & study, Hurry up!” আবার দেখা গেল, ডাইনিং এ বাটলার, ও.আই.সি. প্রমুখ পুলিশ শ্রেণীর মানুষদিগের চক্ষুকে মধ্য আঙ্গুল দেখাইয়া হাত দিয়া রাবার খাইতেছি (জী পাঠকবৃন্দ, বিব্রত হইবেন না, পরোটা রাবার নয়ত টায়ার যে কোন একটির মতই দুঃছিন্নপ্রায় ছিল, আর সেই পরোটা ছুরি-চামচ দিয়া খাইলে পুষ্টি আর পেটে যাইত না, পরোটা কাটিতেই ব্যয় হইয়া যাইত।), এমন সময় তিনি ডাইনিং হলে আসিয়া আমাদিগের সহিত প্রাতঃরাশ সারিতেন। দুষ্টু ছেলের দল গুজব ছড়াইয়াছিল, রাতের বেলা ম্যাডামের সহিত বিবাদ করিয়া খানা-বঞ্চিত হইয়াই তিনি বিনামুল্যে আমাদিগের সহিত উদরপূর্তি করিতে আসিতেন। দ্বিতীয়ত, আমাদের কাসিম হাউস ঐ সময় ওভারঅল চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বারের মত তৃতীয় হবার কৃতিত্ব অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌছাইয়াছিল। একমাত্র অ্যাথলেটিক্স আর সি.এস.সি (College Stage Competitions) – ট্রফি নিশ্চিত করিলেই কেবল খালিদ হাউসকে ডিংগাইয়া দ্বিতীয় হইবার পথ খোলা ছিল। এমতাবস্থায় যদি বনভোজন করিতে গিয়া ধরা পড়ি, তাহা হইলে নিজেদের তো খবর হইবেই, উইকলি ডিসিপ্লিন এ বাঁশ খাইয়া আর দ্বিতীয় হইবার সু্যোগটিও থাকিবে না। নায়ক হইবার বদলে জুনিয়্রদিগের নিকট রীতিমত খলনায়কে পরিণত হইব।

শেষ পর্যন্ত হাউস ফিলিংস, অ্যাডজুটেন্ট ভীতি, সবকিছু ছাপাইয়া শৃঙ্খল ভাঙ্গাই আমাদিগের নিকট অধিক লোভনীয় হইয়া দাঁড়াইল। আমাদের ১৮ জনের মধ্যে নেতৃস্থানীয় বন্ধুবর্গ পড়াশুনা ভুলিয়া প্ল্যান করিতে লাগিয়া গেল। দুইদিন ব্যাপিয়া ব্যাপক মগজ দৌড়াইবার পর তাহারা যাহা পেশ করিল, তাহা শুনিয়া আমার মত জেন্টেলম্যান ক্যাডেটদিগের মাথা ঘুরিয়া গেল। যাহাই হোক, প্রেজটিজ পাংচার হইবার ভয়ে নিজ ভীতি মুখায়বতে ফুটাইলাম না। ইতোমধ্যে সরল সোজা ফয়সাল কহিল, ’পিকনিকটা ছাদে করি, ওপেন স্পেইস, মজা হবে।‘ এই কথা বলিবামাত্র তাহার দিকে “ব-শব্দ,চ-শব্দ’’ প্রভৃতির তুবড়ি ছুটিয়া গেল। বাশার কহিল, ”বোকা+(চ-শব্দ), তোর কি মাথা খারাপ হইছে? নাইট ডিউটি মাস্টার ছাদের পাশের রুমে ঘুমায়, তার পাশে তুই পিকনিক করবি?? স্যার এসে বলবে, বাবুরা, কি কর তোমরা, আমিও পিকনিক করব তোমাদের সাথে।’’ নাহিয়ান তাহাতে একটু হিউমার অ্যাড করিল,”হ, ধোয়া আর আগুন দেইখ্যা গার্ডরা ভাবব যে কাসিম হাউসের উপরে জ্বীনদের ক্যাম্পফায়ার হইতেছে। “ সিরিয়াস মেহেদী’ কহিল,’ বাদ দে,বয়েজ, ও এমনি কইছে, পিকনিক হবে ড্রাইং রুমে, জানালা কালো ব্লাংকেট দিয়ে ঢেকে দিমু, বাইরে থেকে কেউ টের পাব না।“

‘ড্রাইং রুম’ বা ‘শুষ্ককরণ কক্ষ’ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা যাক। ইহা এমনি এক বিশেষ কক্ষ যাহাতে আন্ডারগার্মেন্টস ও ওভারগার্মেন্টস উভয়ই শুকাইতে দেয়া যাইত। প্রতিটা হাউসে দুইখানা করিয়া ‘ড্রাইং রুম’ বিদ্যমান ছিল। প্রতি রুমে একটি করিয়া ফ্যান দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ঘুরিতে থাকিত। আমরা যে ড্রাইং রুমটা ব্যবহার করিয়াছিলাম, উহা ছিল নিচতলায়। এই বিশেষ কক্ষটিতে আমরা আন্ডারগার্মেন্টস সচরাচর নাড়িতাম না। কেননা, শুকাইবার পর কাহার স্যান্ডো গেঞ্জি কাহার গায়ে, কাহার মোজা কাহার পায়ে এবং কাহার আন্ডি কাহার …..-তে চলিয়া যাইত, তাহার হদিস মিলিত না। যাহাই হোক, পিকনিক স্পট হিসাবে ইহাই সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হইল।

এইবার আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, ’রান্না কেমনে করবি? র রান্না পারে কে? মেনু কি?’’নেতারা প্রস্তুত ছিল। তাতক্ষণিকভাবে ডিসিশন দিল তামীম, ”বয়েজ, চিন্তার কারন নাই, রান্নার হাঁড়ি তৈরি করা যাবে। আর আরাফাত বলছে ও খিঁচুড়ি রানতে পারে, ও আমাদের সাথে থাকবে।‘’ উল্লেখ্য, এই বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ থাকিতেন তারিক হাউসে। কিন্তু রান্নাবান্নার ব্যাপারে তারিক হাউসের বন্ধুবর্গ তাহাকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ায় এবং রান্না সংক্রান্ত অ্যাডভেঞ্চার কাসিম হাউসেই প্রথম হওয়ায় তিনি আমাদিগের সাথে অত্যন্ত গোপনে যোগদান করিয়াছিলেন। আমরাও তাহাকে এই বিশেষ দায়িত্ব ন্যাস্ত করিয়া হাঁফ ছাড়িয়া বাঁচিয়াছিলাম, কেননা আমাদের কেউ ভাত, আলুভর্তা, ডিমভাজি ছাড়া গুরুপাক খাবার রাঁধতে জানিত না। মুন্তাসির কহিল,” হাঁড়ি কি পয়দা করবি শালা, বানাবি কি দিয়ে? ”ইহার পর তামীম যাহা কহিল তাহা ততদিন পর্যন্ত আমি কল্পনাতেও ভাবিনাই। সে সোত্‌সাহে কহিল,” সামনে অ্যাথলেটিক্স, ফাইনাল ডে-তে কলসি দিয়ে ডেকরেশন করবে, আমি একটা কলসি মাইরে দিমু, ওইটার মাথা ভাইঙ্গা পাতিল হিসাবে ইউজ করা যাব। দ্যাখো বয়েজ, এছাড়া বিকল্প রাস্তা নাই। হাড়ি ম্যানেজ করা সম্ভব না।‘’ আশিক নাক সিঁটকাইল, ”মাটির কলসিতে খিঁচুড়ি!!!! ভাই, এটা যে কি হবে আল্লাহই জানে। আচ্ছা,আর নাইট ডিঊটি মাস্টার দেখে ডেইট ফিক্স কর। কোন খাস্টা স্যার থাকলে শিউর ধরা!!” আমাদের এইসব অসম্ভব চিন্তা ভাবনা দেখিয়া ও শুনিয়া দুই বন্ধু রাশেদ ও হোসেন স্বীয় ভবিষ্যতে শনি অনুভব করিল এবং পিকনিক বর্জন করিল। কাজেই লোকসংখ্যা দাঁড়াইল ১৭ জন।

পরদিন সকালে ক্লাস টাইমে চুপিচুপি মেনু ঠিক করা হইল শুকনা খিঁচুড়ি, আলুর ডাল (খিঁচূড়ির সহিত!!), ডিমভাজি। কিন্তু ডাল আর ভাজি করতে তো কড়াই লাগবে। কড়াই কই পাওয়া যাবে? তখন রাফি কহিল যে তাহার একটা চওড়া-চ্যাপ্টা বিস্কুটের বৈয়াম আছে। সেটার ঢাকনা দিয়ে ভাজি আর বৈয়াম দিয়ে ডাল রান্না করা যাবে(!!!!)। আরো ঠিক হইল, কাইয়ূম, তামীম যাবে কলেজের বাইরে আতপ চাল, সয়াবিন তেল, ডিম, ডাল আনিতে। চাঁদা ৩০ টাকা/ক্যাডেট। আলুর জন্য একটি স্পেশাল ফোর্স দুইটা বালতি নিয়ে যাবে ৩য়-৪র্থ শ্রেণীর কলোনী সংলগ্ন আলুক্ষেতে। এই ফোর্সের গর্বিত সদস্য ছিল বাশার, মেহেদী, নাহিয়ান, মুন্তাসির, আশিকসহ আর দুই তিনজন। আর মসলা চুরি করা হইবে ডাইনিং হল থেকে। এই মিশনে যাইবে শফি, হাসান, মাহমুদ এবং আব্দুল্লাহ। আর আরাফাত থাকিবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে। আমি, রাফি, ফয়সাল গার্ড দিব। চাল, সবজি আসার পর কুটা-বাছা ও ধোয়ার কাজ আমার উপর পড়িল (কেন পড়িল, সেই প্রসঙ্গে বলিতে চাই, বাবা-মা দুইজনই চাকুরিজীবী হইবার সুবাদে এইসব গৃহস্থালি ব্যাপারে সবার থেকে একটু অ্যাডভান্স ছিলাম আমি, লেডীস ভাবলে ভাবেন, I don’t mind)। সবশেষে হাউস অফিসে গোপনে হানা দিয়া কাইয়ুম দেখিয়া আসিল, অ্যাথলেটিক্স এর পর ডীউটি রোস্টারে কোন ঘুমকাতুরে টিচার আছেন। ডিসিশন হইল যে, খন্দকার লুতফর রহমান স্যার (বাংলা বিভাগ,তখন খালিদ হাউসের হাউস মাস্টার ছিলেন) এর ডিউটির রাতে আমাদের ‘কক্ষভোজন’ অনুস্ঠিত হইবে। আপাতত,অ্যাথলেটিক্স আসুক………

…..অবশেষে অ্যাথলেটিক্স অনুস্ঠিত হইল। তারিক হাউস আমাদের শিরোপার স্বপ্ন প্রবল প্রতাপে ধবংস করিয়া অ্যাথলেটিক্স এ চ্যাম্পিয়ন হইল। সেইসাথে তাহারা ২০০৩ সালের জন্য ওভারঅল চ্যাম্পিয়ন হইল, আর আমরা লাস্ট হাউস হিসাবে হ্যাট্রিক পূর্ণ করিলাম। যাহাই হোক, মনকে বুঝাইলাম, কিছুই পরোয়া করি না। আমাদের ‘কক্ষভোজন’ হইবেই। তো, যথারীতি তামীম গ্রাঊণ্ড থাকিয়া একখানা কলসি মারিয়া দিয়া তাহার পালঙ্কের তলদেশে লুকাইয়া রাখিল। সেই দিন আমার মনে আছে হাউস মাস্টার (গোলাম মোশ্তফা>>আরাফাতের বেস্ট টিচার) এবং হাউস প্রিফেক্ট ওয়ার্সি ভাই এর মন ও মেজাজ এতটাই গরম ছিল যে একটা সময় তাহাদের মাথাতেই যাবতীয় রান্না সম্পন্ন করা যায় কিনা, ভাবিতেছিলাম……

….অবশেষে আসিল সেই আকাংক্ষিত রাত্রি। প্ল্যানমাফিক রাত ১০টা নাগাদ অবিশ্বাস্যভাবে কলেজের বাইরে গিয়া তামীম ও কাইয়ুম চাল,ডাল,তেল লইয়া আসিল। আমাদের কাজ শুরু হইবার কথা নাইট ডি.এম. রাঊন্ড দিয়ে তিনতলায় উঠবার পর। কিন্তু তীর্থের কাকের ন্যায় চাহিয়া থাকি। স্যার আর আসিতেছেন না। এইভাবে রাত ১টার দিকে তাহাকে দেখা গেল ক্লান্ত পায়ে তিনতলায় উঠিতে। হাউস বেয়ারা ইমরান ভাই বয়সে স্যার এর থেকেও বড়, ১৯৭১ সালেও বেয়ারা ছিলেন আমাদিগের হাউসের। তিনি সবসময়েই ম্যানেজড। তিনিও ঘুমাইয়া পড়িলেন। যে যে যার যার দায়িত্ব মত কাজে লাগিয়া গেল। আমি, আরাফাত রুমটা পরিস্কার করলাম। হাসান প্রিন্সিপাল বাংলোর সামনের লেবুবাগান হইতে আগেই ৬ খানা ইট লইয়া আসিয়াছিল, সেটা সেট করিয়া চুলা বানাইল।(পাঠককুল,ভাবিয়া দেখুন,শুকনা কাপড়-চোপড় ভর্তি রুমে খড়ির চুলায় রান্না!!)……

এদিকে কাজ না পাইয়া তামীম আর কাইয়ুমের (ফাইজলামো করিয়া আমি এই মানিকজোড়কে ‘শম্ভু ও বগা’ কহিয়া ডাকিতাম) মাথায় নতুন ভূত চাপিয়া বসিল। খালিদ হাউস টু একাডেমী ভবন রূটে শেড ছিল। সেই শেডের একটা ফাটলে প্রাকৃতিকভাবেই কয়েকটা পায়রা বাসা বাঁধিয়াছিল। তাহাদের খায়েশ হইল, কবুতরের মাংস ভোজন করিবে। তো যেই ভাবা, সেই কাজ এবং বিপত্তির উত্‌পত্তি। জায়গামত গিয়ে যেই না কবুতরের খোপে হাত ঢুকাইয়াছে, অমনি কোথথেকে যেন স্বয়ং কলেজ প্রিফেক্ট নাসের ভাই আর কলেজ কালচারাল প্রিফেক্ট মুকাররাবীন ভাই উদয় হইয়া মামদো ভূতের মত জিগাইলেন,’কাহিনি কী?এত রাতে কবুতর ধরতে আসছ কেন?’ তারা আমতা আমতা করিয়া কহিল, ”ভাই, এদিক দিয়ে হাটতেছিলাম, দেখি কবুতরের বাচ্চা একটা পড়ে আছে, তুলে দিলাম, ধরতে আসিনাই ভাই। শিয়াল দেখলে খেয়ে ফেলবে না! পড়তে ভাল লাগতেছিল না তাই হাটতে বের হইছি।“ এইসব ভুং-চুং বুঝাইয়া তাহারা সেই যাত্রায় বাঁচিয়া ফিরিয়াছিল। উল্লেখ্য, এই ব্যাচের সাথে আমাদিগের সুসম্পর্ক বজায় ছিল। তাছাড়া, পরীক্ষার্থী ব্যাচ বলিয়া আমরা ছাড় পাইয়াছিলাম। যাহাই হোক, ডাইরেক্ট ধরা খাইয়াও তাহারা বিনা ফ্যাসাদে যে ফিরিয়া আসিল, ইহাই বড় কথা।

এদিকে মসলা ডাকাতির মিশনে যাহারা গিয়াছিল, তাহারা বিরাট সমস্যায় উপনীত হইল। ডাইনিং হলের পিছনদিকে ছিল মসলাঘর। সকালে ব্রেকফাস্টের জন্য রাতেই মসলা বেটে রাখিয়াছিল বাবুর্চীরা। তো এই জায়গাটাতে ৫-৬টা কুকুর নিদ্রাযাপন করিতেছিল। আমাদের বিশিষ্ট ডাকাতদিগকে দেখিয়া তাহাদের মেজাজ খারাপ হইয়াছিল, না মানুষকে জ্বীন ভাবিয়াছিল জানি না কী হেতু; কুকুরসমুহ সপরিবারে তারস্বরে চিত্‌কার আরম্ভ করিল। কোনমতে একটা লম্বা লাঠি দিয়া ভয় দেখাইয়া উহাদিগকে তাড়ান গেল। এইবার মসলাঘরের দিকে তাকাইয়া তাহারা দেখিল, জানালাখানা নেটিং করা এবং জানালা থেকে মসলার গামলা প্রায় ১.৫-২ মি. দূরে। তো আমাদের ডাকাতবাহিনীর আর্টিলারি ছিলঃ ২টা কাঁচি, একটা টেবিল চামচ, দড়ি আর দুইটা লম্বা ডাল। কাঁচি দিয়া প্রথমে নেটটা সুচারুরূপে তিন বাহুতে কাটিল দুইজনে মিলিয়া, যাহাতে ডাকাতির পর নেট টা আবার বল্টাইয়া পুর্বের মত রুপ দেওয়া যায়। নেট কাটা হইবার পর দুই ডাল রশি দ্বারা বাঁধিয়া তাহার আগায় চামচ লাগানো হইল। অতঃপর এই বিশাল হাতলওয়ালা চামচ খানা দিয়া(গিনেজ বুক ঘাটা দরকার!) ‘মেধাবী’ মসলা-ডাকাত গুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ মসল্লা ডাকাতি করিল। ফিরিবার সময় খড়ি লইতেও ভুলিল না।

খড়ি পাইয়া আমরা চাল-ডাল ধুয়ে খিঁচুড়ি চড়াইয়া দিলাম। আর এদিকে গার্ডদের চক্ষু ফাঁকি দিয়া আলুচোরেরা দুই বালতি আলু লইয়া নির্বিঘ্নে আমার হাতে অর্পণ করিল। তাহাদের কাজটাই আসলে ঝুকিপুর্ণ ছিল, কারণ হাউস থেকে আলুক্ষেত কম দূরে না! তবে বালতির দিকে তাকাইয়া আমার চক্ষু চড়কগাছ হইয়া গেল, আলুগাছ হইয়া গেল বলিলেও ক্ষতি নাই। কারণ, দেখিলাম, এই আলুচোরেরা তাড়াহুড়া করিয়া আলু নহে, বরং আলুর গাছ উপড়াইয়া লইয়া আসিয়াছে। দেখিলাম, প্রতিটা গাছের তলে বড় বড় কাল দলা। বুঝিলাম ইহাই আলু। ভাবিলাম, যাক, এত আলু দিয়া আলুর ডাল তো বটেই, আলুভর্তাও খাওয়া যাবে। এই ভাবিয়া আলু ধৌত করা শুরু করিলাম। পাঠকবৃন্দ, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, উপর্যুপরি ১৯ বার ধোয়ার পর যে শ্বেতশুভ্র জিনিসগুলা আবিষ্কার করিলাম, তাহা দেখিয়া আমার মনে হইল, ইহার তুলনায় সমপরিমাণ শিম চুরি করিয়া আনিলে শিমের ডালও(!) হইত, শিমভর্তাও হইত। তাহার পর এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকনা লইয়া ড্রাইং রুমে প্রবেশ করিতেই মনে হইল, পুরা এলাকার যত কুয়াশা সব এই রুমে কেন্দ্রীভুত হইয়াছে। পরক্ষণেই বুঝিলাম,ইহা কুয়াশা নহে, ধোঁয়াশা এবং ইহার উতপত্তিস্থল মাথাভাঙ্গা সেই পাতিলরুপী কলসির ভিতর ফুটতে থাকা অর্ধতরল,অর্ধকঠিন পদার্থখানা। এই ব্যাপক ধোঁয়াশা খাইয়াই আমার উদরপুর্তি হইয়া গেল এবং ভাবিলাম, সকাল বেলা প্রাত্যহিক প্রাকৃতিকলীলা চালাইবার সময় কেবলমাত্র বায়বীয় পদার্থ নিঃসরণ করিয়াই ‘বৈশ্বয়িক উষ্ণায়ন’-এ অবদান রাখিব………

আরাফাত যে কেমনে এই ধোঁয়াশার মধ্যে এত সময় বসিয়া ছিল, আমি বুঝিলাম না। নিজের রুমে ফিরিয়া চিত হইয়া শুইয়া পড়িলাম। প্রায় ৪০ মিনিট পর ডাক আসিল যে, রন্ধনকার্য সম্পন্ন হইয়াছে। মন খুশিতে নাচিয়া উঠিল। সকল খাবার রুমের আলোতে লইয়া আসিলাম। তারপর সকলে মিলে আবিষ্কার করলাম সম্পূর্ণ’ ভিন্ন জাতের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য। ইহার বর্ণ ছিল কোথাও সাদা, কোথাও হলুদ। একই সাথে ভাত ও খিঁচুড়ি রান্না করা যায় এটা সেদিনই শিখিলাম। তবে ইহার স্বাদ আস্বাদন করিতে গিয়া বুঝিলাম যে ইহা ভাত ও না, খিঁচুড়িও না, ইহা একটা মৌলিক সৃষ্টি। প্রত্যেকেই আরাফাতের দিকে চোরাদৃষ্টিতে একবার করে তাকাইলাম। দেখি বেচারা পাংশু মুখ করিয়া বসিয়া আছে, খাবে কি খাবে না এই নিয়ে দ্বিধায় আছে। সেই সময় বোধ করি সকলের মনেই এক কথা চলিতেছিল, এত কষ্ট করিলাম, না খাইয়াই থাকিব?!! অন্যদের কথা জানি না, আমি নেয়া শুরু করিলাম। আমার দেখাদেখি অন্যরাও নিল।যতটুকু আলুর ডাল হইয়াছিল, ততটুকুই সবার মাঝে বণ্টন করা হইল। ডিমভাজির সাইজ হইয়াছিল পিঁয়াজুর সমান। যাই হোক, জিহবার আস্বাদন-তন্ত্রের ঘোরতর আপত্তি উপেক্ষা করিয়া খাওয়া শেষ করিলাম। হঠাত আরাফাত রুম থেকে দৌড়াইয়া বাহির হইয়া গেল এবং যাহা কিছু পেটে ঢুকাইয়াছিল সকলি উদগীরণ করিল। বুঝিলাম না, সেগুলা বায়বীয় পদার্থ ছিল নাকি তিন রকম পদার্থই ছিল! তবে জীবনে প্রথম এবং সম্ভবত শেষ যে ব্যাপারটা খেয়াল করিলাম তাহা হইল, ’’বাবুর্চী নিজেই নিজের রান্না খাইয়া তাহা উদগীরণ করিয়াছে।।‘’

ঠিক তখনই রাফি খুব সিরিয়াসলি একটা ডায়লগ মারিল, কিন্তু আমার নিকট উহাই সবথেকে বড় জোক্স মনে হইল…..”আসলে আরাফাতের কোন দোষ নাই। সব সিস্টেমের দোষ।“………..

খাওয়া শেষে যত প্রমাণ আছে, মুছিয়া ফেলিলাম। কিন্তু ড্রাইং রুমের ফ্লোরের পোড়া দাগটা থাকিয়া গেল। এই মহান অ্যাডভেঞ্চারের উদ্যোক্তা কাইয়ুম সদর্পে ঘোষণা করিল, ”যাহ শালা। একটা চিহ্ন থাক, জুনিওররা জানবে, কি করছি এক রাতে।“
প্রায় অর্ধেক খিচুড়ি বাঁচিয়া গেল। আরাফাত বমি করেই হাউসে চলিয়া গিয়াছিল। তামীম কহিল,’’সামনে গার্ডেনিং কম্পিটিশন, জমিতে সার দেই।“ এই কহিয়া পাগলাটা গার্ডেনে নামিয়া গেল। আমরাও তালে তালে তাহাকে অনুসরণ করিলাম। ১০ মিনিট ধরিয়া চাষাদের মতন সার ছিটানোর পর খিচুড়ি শেষ হইল। তারপর হাত মুখ ধুইয়া শয়ন করিলাম। তখন ফজরের আজান হইতেছিল, ইহা মনে পড়ে………..

সকালে প্রাতঃরাশ সারিতে গিয়াই বুঝিলাম, কিছু একটা ঘটিয়াছে। দেখি, কাসিম ও তারিক হাউস তরকারি পাইয়াছে কিন্তু খালিদ হাউস পায়নাই। আরও দেখিলাম ও.আই.সি.(অফিসার-ইন-চার্জ) আর বাটলার উদ্ভ্রান্তের মতন দৌড়াদৌড়ি করিতেছে। ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করিয়া জানিলাম, মসলা শর্ট ছিল দেখিয়া এক হাউসের কারি রান্না হয়নাই। হাসতে পারিলাম না, ভাবিলাম, এক হাউসের মসলা মারিয়া দিলাম অথচ খিঁচুড়ির রঙ হলুদ করিতে পারিলাম না!!!!

প্রাতঃরাশ শেষে ফল-ইন এ দাঁড়াইলাম আমাদের গার্ডেনের সম্মুখে। হঠাত দেখি দিক-বিদিক থাকিয়া আকাশ বাতাস কালো করিয়া শত শত চড়াই পক্ষী আমাদিগের বাগিচা পানে ছুটিয়া আসিতেছে। বুঝিলাম, আমরা যে খিঁচুড়ি রোপণ করিয়াছিলাম, তাহা হইতে খিচুড়িচারা গজাইবার পুর্বেই চড়াই পক্ষী উহা গলাধঃকরণ করিবে। এমতাবস্থায় দেখি আমাদের ইমরান ভাই বাঁশ লইয়া চড়াই পক্ষী তাড়া করিতেছেন এই বলিতে বলিতে, ”হায়রে আমার লাগানো পিচ্চি পিচ্চি বিচি গুলারে খাইয়া শেষ কইর্যাই ফালাইলো রে, স্যার রে বুলবো কি বে!! স্যার যখন বুলবে গাছ গজায় না কেনে, তখন আমি কি বুলব তারে এ এ এ………..’’
তামীমের দিকে তাকাইলাম। ও হাসিতেছে না। ঐ ছিল ‘খিঁচুড়ী রোপণ কর্মসুচীর’’ হোতা। সার দিতে গিয়া কী বিপত্তি যে ঘটাইয়াছি তাহা হাড়ে হাড়ে টের পাইলাম। নাসের ভাই carry on দিলেন। মার্চ শুরু করিলাম একাডেমীর দিকে…..মনে মনে চাহিতেছিলাম, ’হে আল্লাহ! ইমরান ভাইকে একজোড়া ডানা দাও, যাতে সে বাশ নিয়ে চড়ুই তাড়া করতে পারে।“ ”কেননা, বহুদুর পর্যন্ত শুনিতেছিলাম, ইমরান ভাই চিল্লাইতেছেন, ”আআমারর বিচিইইইইই……………………”

বৃদ্ধবয়সে যদি কখনও নাতি নাতনীদের ‘টীম এফর্ট’ কি জিনিস বয়ান করিতে হয়, এই কাহিনিটাই কহিব। আর শেষে একটা ডায়লগ মারিয়া দিব,’’It doesn’t matter whether you do or don’t achieve what you want, but eventually you will feel better by telling to yourself , ”WE WORKED AS A TEAM & WE WERE UNITED;AGAINST THE CHAINS”

পুনঃশ্চ—
আমার প্রিয় বন্ধু আরাফাত এখন চীনে থাকে। ওর জীবনসঙ্গিনীর কাছ থেকে জানতে পারলাম, ও নাকি সেখানে পুরাই নান্না মিয়া হয়ে গেছে। ওর বউ এর ত্থেকে ওর রান্নাই নাকি বেশি সুস্বাদু……ইসশশ, আরাফাত, দোস্ত কবে দেশে আসবি? তোর রান্না খাব………..

আর একটা কথা! আমাদের হাউস ঐ বছর গার্ডেনিং কম্পিটিশনে কি হয়েছিল আমি জানি না, সম্ভবত এস.এস.সি. এর ছুটিতে ছিলাম, তবে প্রথম যে হয়নি সেটা আমিও বুঝি, আপনারাও বুঝবেন।

বাংলা গদ্যের রচনামুলক প্রশ্নের মত একটা প্রশ্ন করি……নামকরণটা কি সার্থক হয়েছে?

৭,৮৫৫ বার দেখা হয়েছে

১৩১ টি মন্তব্য : “একটি অতিপ্রাকৃতিক কক্ষভোজনঃ অ্যান এপিক অ্যাডভেঞ্চার”

    • আছিব (২০০০-২০০৬)

      😀 আমরা সফল হয়েছিলাম ভাই, 😀 কিন্তু কিছুদিন পর তারিক হাউসের পোলাপান আমাদের মত করতে গিয়া তো ডিমটাও ডাইনিং থেকে চুরি করছিল 😡 ,আর সেই নেট কেটে ফেলে রাখছিল,জানালার এই হাল দেখে সেদিন ও.আই.সি. এর মাথা ঘুরান দিয়াছিল :duel: ,সে তো আর একটু হইলে ডাইনিং হল প্রিফেক্ট এর প্রিফেক্টশীপ সিজ করত!! :))
      অ্যানিওয়ে,অনেক ধন্যবাদ,বস :boss:

      জবাব দিন
  1. আছিব,টানটান উত্তেজনা নিয়ে লেখাটা পড়লাম,নিজেই ভয় এ অস্থির হয়ে গেছি,পারবে তো??
    :boss: :boss: :boss:
    বেচারা আরাফাত,এত কষ্ট করে রান্না করা খিচুরি টা হজম করতে পারল না!

    জবাব দিন
  2. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    শত শ্ত বৎসর ধরিয়া বালকসেনাদিগের এইরুপ বনভোজনের যে ধ্রুপদী রীতি তাহা ধরিয়া রাখিবার জন্যে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল হইতে তোমাদিগকে অভিবাদন জানাই।লেখা অত্যন্ত সরস হইয়াছে-বিশেষ করিয়া কতিপয় বর্ণনা পড়িয়া হাসিতে হাসিতে খাবি খাইয়াছি।সময় করিয়া সে সকল নিয়া পরবর্তীতে দীর্ঘকায় মন্তব্য করিব।পিন্টু মহাশয়,তিন হস্তিমূর্খ চলচ্চিত্রের চিত্রাভিনেতা ধনশীল খাদকের ন্যায় এই বেলা বলিয়া রাখি স্মৃতি-রোমন্থনের ক্ষেত্রে-"তুসি গ্রেট হো"

    জবাব দিন
  3. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    তোমাদের এই পিকনিকের কাহিনীটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নাই ...... যথারীতি জটিল ......
    তোমার লেখার স্টাইলটাও সেইরকম লেগেসে ...... তুমি একটা মাল ... :boss: :boss: :boss: :boss:

    জবাব দিন
  4. টিটো রহমান (৯৪-০০)
    রন্ধন বিশেষজ্ঞ থাকিতেন তারিক হাউসে।কিন্তু রান্নাবান্নার ব্যাপারে তারিক হাউসের বন্ধুবর্গ তাহাকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ায় এবং রান্না সংক্রান্ত অ্যাডভেঞ্চার কাসিম হাউসেই প্রথম হওয়ায় তিনি আমাদিগের সাথে অত্যন্ত গোপনে যোগদান করিয়াছিলেন।.........১৯ বার ধোয়ার পর যে শ্বেতশুভ্র জিনিসগুলা আবিষ্কার করিলাম,তাহা দেখিয়া আমার মনে হইল,ইহার তুলনায় সমপরিমাণ শিম চুরি করিয়া আনিলে শিমের ডালও(!)

    অসাধারণ.......... আছিব...... সিম্পলি অসাধারণ :khekz: :khekz: :khekz: :khekz: :khekz: :khekz:


    আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

    জবাব দিন
  5. রকিব (০১-০৭)

    জ্যেষ্ঠ ভ্রাত,
    অপার মহিমায় লিখিয়াছেন। বিমুগ্ধ, বিমোহিত এবং যারপরনাই পিরা (এইটা পিরা ভাষা) না যাইয়া পারিলাম না। আপনি ইষ্টকান (পাথরান)। :boss:


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  6. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    এই ঘটনা কার কাছ থেকে যেন আগেই শুনছিলাম। তা মাল্লেখক পিন্টু(এই নামটা আমার বিশেষ পছন্দ তবে তোর নাম এই জন্যে না, এর অধিকারী আমার এক বন্ধু), দিন দিন তুই দেখি উন্নতির চরম শিখর ধরতেছিস। উত্তম, অতি উত্তম।

    আমার স্মৃতি যদি বিভ্রাট না করে থাকে তবে ২০০৪ সালে আমরা খালিদ হাউসকে হ্যাট্রিক শিরোপা পাইয়েছিলাম। তাহলে ২০০৩ এ তারিক কাউস কিভাবে ওভারঅল চ্যাম্পিয়ন হল? :-/ তারিক হাউস এনুয়াল স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ন হইছিল বলে মনে পরে।

    জবাব দিন
  7. আচ্ছা এই নাহিয়ান কি বাধন না? এখন আর্মিতে আছে, রংপুরে পোস্টিং। তাই না? আমি আর নাহিয়ান শহীদে একরুমে থাকছি। ম্যান আমি ক্যাডেট-এ চান্স পাইলে হয়ত এই "ভয়ংকর এ্যডভ্যান্চারে" আমিও থাকতাম।:) যাই হোক ভাইয়া, তুমি বুয়েটে কোন সাবজেক্টে পড়?

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।