এইসব দিনরাত্রি এবং আমার ভাবনাগুলো (প্রাক-কথন)

দিনগুলো কেটে যাচ্ছে ভিষণ ব্যস্ততার মাঝে। জীবনের, আরো নির্দিষ্ট করে বললে ক্যারিয়ারের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। ফলে, ইচ্ছা-থাকা সত্বেও সিসিবিতে লিখতে পারিনা আগের মতো করে। এমনকি প্রতিদিনকার হাজিরাটাও মাঝে মধ্যে মিস করে ফেলছি। কি আর করা……

ফ্রান্সে ইসলামী-টেরোরিষ্ট এটাকের প্রেক্ষিতে আমার কিছু ভাবনা সিসিবিতে শেয়ার করতে চাই। তবে সেটা গুছিয়ে নিতে আরো কয়েকদিন লাগবে। ইত্যোবসরে আমি জেনে নিতে চাই এই ঘটনা নিয়ে সিসিবি’তে লোকজন কে কি ভাবছে। জানি, এখনই হয়তো সংখ্যাগরিষ্টের অবস্থান সম্পর্কে একটা অনুমান করা যাবে। কিন্তু আমি নিজের কোন অনুমান আরোপ করতে চাইছি না অন্যান্যদের মতামতের উপর। সকলের সুবিধার্থে একটা সরল প্রশ্ন করছি। আশা করি সকলেই তাদের মতামতটা মন্তব্যের ঘরে জানিয়ে যাবেন। প্রশ্নটা হলো-

আপনি কি এই হামলাকে নিন্দা করেন?

উত্তর ‘হ্যাঁ/না’ দিয়ে দিলেই চলবে। তবে কেউ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলে আরো ভাল।

১,২৮৩ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “এইসব দিনরাত্রি এবং আমার ভাবনাগুলো (প্রাক-কথন)”

  1. গুলশান (১৯৯৯-২০০৫)

    বিশেষভাবে এই ধরণের ঘটনা, আর সাধারণভাবে সারা পৃথিবীর সাম্প্রতিককালের ঘটনা নিয়ে অনেক কথাই মনে আসে। কিন্তু শেয়ার করতে পারি না। হয়ত শেয়ার করতে ভয় পাই। বেশির ভাগ মানুষের সাথেই মিলে না কথাগুলো, এজন্য। এসব ঘটনার পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়, মাঝামাঝি পক্ষও থাকে এক ধরণের। কারও সাথেই মিলতে চায় না। একা হয়ে যাবার ভয়ে নিজের মধ্যেই রেখে দিই বা দু-এক কথায় কিছু একটা বলে দিই ফেসবুকে।

    পাশ্চাত্যে আপাত প্রবল বস্তুগত বা ম্যাটেরিয়ালিস্টিক দর্শনে, যতক্ষণ পর্যন্ত কারও ম্যাটেরিয়ালিস্টিক বা বস্তুগত কোন ক্ষতি না করা হচ্ছে, তার কোন ক্ষতিই করা হয়নি। সেখানে প্রাচ্যের আইডিয়ালিস্টিক ধারণাকে অ্যাসল্ট করা হলে কারও কিছু যায় আসে না। ইসলামে যেমন নবীর সমালোচনা করা যায় না, আওয়ামী লীগের কাছে বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করা যায় না, সেক্যুলারদের কাছে সমালোচনা করা যায় না "মত প্রকাশের স্বাধীনতার"। অবশ্য একটু জানাশোনা মানুষের কাছে গেলে তারা বুঝিয়ে দেবেন, হ্যাঁ সমালোচনা করা যাবে, প্রশ্ন তোলা যাবে, যেগুলোর উত্তর উনারা দেয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু ঠাট্টা-মশকরা(Ridicule) করা যাবে না। এখানে একটা কথা আসে। কোন ব্যক্তিকে যেভাবে mock/ridicule করা যায়, কোন অ্যাবস্ট্রাক্ট আইডিয়াকে সেভাবে mock করা সম্ভব না। আবার mockery এর মধ্যেও ভাগ করা যায়। কোনটা subtle, কোনটা vulgar। পাশ্চাত্য সবচেয়ে vulgar mockery আর স্রেফ প্রশ্ন তোলাকে একই "মত প্রকাশের স্বাধীনতা"-র ছাতার নীচে এনে Indemnity দিয়ে দেয়। প্রাচ্য এখনও দেয় না। এমনকি প্রাচ্যের সেক্যুলাররাও না। একটু পার্থক্য করার চেষ্টা করে। বিশেষ করা প্রাচ্যের সেক্যুলাররা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে কখনও বলবে না, এটা তো শুধু তোমার আইডিয়াকে আঘাত করে, কোন ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ক্ষতি তো করে না। সেই সংখ্যালঘু হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান যে ধর্মেরই হোক না কেন। পাশ্চাত্যের মত না যে, মানুষের মনের কোন দাম নাই।

    যাহোক, প্যাঁচাল বাদ দিয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। যেকোন বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ড সমর্থন করি না। প্যারিসেরটাও সমর্থন করি না। একইভাবে খুনীদেরকেও আইনের আওতায় এনে নির্ধারিত শাস্তি দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করি। তবে আমি কি মনে থেকে এই হত্যাকান্ডকে ঘৃণা করি, নিন্দা জানাই? যখন প্রেক্ষাপট দেখি, আমার আবেগ সেটা করতে দেয় না। একটা সিনেমার গল্পের মত মনে হয় ব্যাপারটাকে- গল্পের নায়ক নিরীহ ছেলেটিকে এলাকার নেতার ছেলে নিয়মিত নাজেহাল করে। সম্ভাব্য সবভাবে তাকে রাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। দুজনেই জানে, তারা যেই সিস্টেমের মধ্যে আছে, সেই সিস্টেম সেই নেতার পুত্রের কিছুই করবে না। একসময় নায়ক মনে হয়, এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল। আর মরার সময় সিস্টেমটা যতটুকু পারা যায় ভাঙার চেষ্টা করে যাই। আর সেটাই সে করে।

    আমি আশা করি, পাশ্চাত্য প্রাচ্যকে বা সাধারণভাবে সব মানুষ সব মানুষকে আরও ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করবে।

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    যতদিন পৃথিবীতে ইসলাম থাকবে ততদিন পৃথিবীতে অশান্তি থাকবে।
    এন্ড আমি প্রাউড যে আমি ইসলাম ত্যাগ করিয়াছি।
    নিজেকে আর খুনি খুনি লাগে না।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।