হাসিনা বনাম ইউনূস তথা সরকার বনাম এনজিও দ্বন্দ্ব বুঝবার জন্য তত্ত্বীয় কাঠামোর একটা খসড়া প্রস্তাবনা

গ্রামীন ব্যাংক থেকে ডঃ ইউনূসকে সরকারী আদেশে পদত্যাগ করানোর মধ্য দিয়ে যে সংকট তৈরী হয়েছে, তা’ মিডিয়ায় ইউনূস-হাসিনার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে প্রচারিত হলেও আদতে তা’র মূল ব্যক্তিগত বলয়ের থেকেও অনেক গভীরে, তারা যে যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা’র কাঠামোর মধ্যে; অর্থ্যাৎ এই দ্বন্দ্ব মূলতঃ তৃতীয় বিশ্বের উদীয়মান জাতি-রাষ্ট্র আর এনজিও-র মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। এই পোষ্টে আমি আলোচ্য বিতর্ককে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের (State Building) প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক (institutional) দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশে সরকারের সাথে এনজিওদের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ২০০১ সালের আগে আওয়ামীলীগ শাসনামলে কতিপয় এনজিও-র বিরুদ্ধে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক এবং তার ফলে সেসব এনজিও-র উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপ দিয়ে শুরু, আর ২০০১ সালের নির্বাচনের পর প্রকাশ্যে এই দ্বন্দ্ব দেখা যায় বিএনপি-প্রশিকার দ্বন্দ্ব আকারে। এরপর ছোট-মাঝারি আকারের অনেক এনজিও সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা লাভ করে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসে এই দ্বন্দ্ব আরো প্রকট আকার ধারণ করে, যা’র প্রকাশ দেখি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশিকা থেকে কাজী ফারুকের বহিস্কারের মধ্যে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, বিশেষ করে সত্তরের দশকে ইউরোপীয়দের উপনিবেশগুলো একে একে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে এশিয়া-আফ্রিকা জুড়ে। এইসব স্বাধীন রাষ্ট্রে ইউরোপীয় জাতিরাষ্ট্রের মডেল “আরোপ” করা হলেও এগুলোর বেশিরভাগেই জাতীয়তাবোধ ছিল সবেমাত্র সূতিকাগারে, অথবা অজানা। ফলে এইসব দেশের মধ্যে গোত্র-বর্ণ-ধর্ম-অঞ্চলভেদে অন্তর্কলহ লেগে যায়, আর সেই সুযোগে দেশে দেশে সামরিক বাহিনী বা কোন বিশেষ মতবাদের আশ্রয়ে জেঁকে বসে স্বৈরতন্ত্র যা’ সত্তর ও আশির দশক পর্যন্ত মোটামুটি একাদিক্রমে শাসন চালিয়ে যায়। এই সময়কার বিশ্ব-মুরুব্বীরা- বিশেষ করে আমেরিকা এবং অন্যান্য সাবেক উপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহ- নিজেরা গণতন্ত্রের চর্চা করলেও তৃতীয় বিশ্বের এইসব উদীয়মান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বদলে স্বৈরতন্ত্রকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। কারণ, এইসব নবীন রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের জন্য আবশ্যিক প্রতিষ্ঠান (যেমন, স্বাধীন মিডিয়া, সুশীল সমাজ, লোকপ্রশাসন, ইত্যাদি) না থাকায় গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার নির্বাচন ও শাসনকার্য পরিচালনা কঠিন হবে, ফলে প্রায়শঃই যুদ্ধ-মারামারি-দূর্যোগ ইত্যাদিতে সাধারণ জনগণের দূর্ভোগ বাড়বে। অতএব, বেসরকারী সেক্টর এবং এনজিও (বা সুশীল সমাজ ) এর মাধ্যমে বাজারব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্ভব ও বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। – এরকম প্রেক্ষাপটে আমরা দেখি যে, এশিয়া-আফ্রিকায় স্বৈরশাসকদের ক্ষমতায় বহাল রেখে প্রথম বিশ্বের “দাতা দেশসমূহ” তাদের সাবেক উপনিবেশগুলোতে নানার রকমের “উন্নয়ন অনুদান” দেওয়া শুরু করে যা’ প্রধানতঃ এনজিও-দের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে(=জনকল্যাণে) ব্যয় করা হয়। কিন্তু দুই দশকের উন্নয়ন-প্রচেষ্টার পরও দেখা যায় এইসব দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে আশানূরূপ ফল লাভ হয়নি। এই থেকে একাডেমিক পরিমন্ডলে গবেষকরা তৃতীয় বিশ্বে উন্নয়নকে নতুনভাবে বোঝার চেষ্টা শুরু করেন।

বর্তমানে ষ্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক James Ferguson দক্ষিন আফ্রিকার মধ্যস্থিত রাজাশাসিত ক্ষুদ্র এবং দরিদ্র রাষ্ট্র লেসেথোর উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে গবেষণা করে প্রকাশ করেন Anti-politics Machine: Development, Depoliticization and Bureaucratic Power in Lesotho (1986)। তিনি উল্লেখ করেন যে, সত্তর এবং আশির দশক জুড়ে লেসেথোতে যে পরিমাণ অনুদানের অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে যে, সেই অর্থ লেসেথোর জনগণকে নগদ দিলে লেসেথোর মাথাপিছু আয় মধ্যম আয়ের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে যেতো। দুই দশকের যাবতীয় উন্নয়ণ প্রকল্প লেসেথোর দারিদ্র্য দূর করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো, এই ক্রমাগত ব্যর্থতার পরও দাতারা একই রকম প্রকল্পে অর্থের যোগান দিয়েই চলেছে। এখান থেকে ফার্গুসন প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, দারিদ্র্য বিমোচনে ক্রমাগত ব্যর্থ এইসব প্রকল্প কেন+কিভাবে টিকে থাকছে? দারিদ্র্য দূরীকরণ ছাড়াও কি এসব উন্নয়ণ প্রকল্পের আলাদা কোন ফলাফল আছে যা’ দাতা+শাসক+সুশীল সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাধারণতঃ অনালোচিত ?- তিন বছরের এথনোগ্রাফিক গবেষণায় তিনি এইসব উন্নয়ন প্রকল্পের এমন ফলাফল দেখলেন যা’ সাধারণতঃ উন্নয়ণ আলোচনায় উল্লেখ করা হয়না- যেমন, (১) স্থানীয়দের প্রতিরোধ এড়িয়ে রাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিস্তার, এবং (২) দারিদ্র্যকে একটি অরাজনৈতিক+টেকনিক্যাল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা যা’ উন্নয়ণ সংস্থা+এক্সপার্টদের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।

অন্যান্য প্রাক-উপনিবেশিক রাষ্ট্রের মত লেসোথো’র প্রশাসনিক (বা আমলাতান্ত্রিক) ক্ষমতা ছিল রাজধানী এবং প্রধান প্রধান শহরাঞ্চলের মাঝে সীমিত। রাষ্ট্রের অনেকাংশ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সরাসরি ক্ষমতার বাইরে ছিল। এসব অঞ্চলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিস্তার ও বৃদ্ধির প্রচেষ্টা স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাঁধার মুখে অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে। এই অবস্থায় উন্নয়ণ সংস্থাগুলো দারিদ্র্যকে এমন একটা টেকনিক্যাল সমস্যা হিসেবে উপস্থাপণ করে যা’ উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং প্রযোজনীয় মূলধনের সমন্বয়ে দূর করা সম্ভব। আর তাই, দারিদ্র্য দূর করার জন্য অতি দরকারী এইসব প্রযুক্তি এবং মূলধন নিয়ে লেসোথো’র প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানান এনজিও আসে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ৫/৬ বছর মেয়াদী নানামুখী প্রকল্প নিয়ে। তারা সেসব অঞ্চলে চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট বানায়, অফিস এবং আবাসনের জন্য পাকা ঘরবাড়ী বানায়, কেনাবেচার জন্য বাজার বসায়, অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যাংক বসায়। একদা অচঞ্চল-শান্ত-স্থবির এইসব গ্রামাঞ্চল সহসাই কর্মব্যাস্ত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রের দারিদ্র্যপীড়িত এইসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ণ কর্মকান্ডের জোয়ার শুরু হয়। কিন্তু যেই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের বিচার হয়, তা’ আগের থেকেও আরো খারাপ ধারণা দেয়, উন্নয়ণের নানান ইন্ডিকেটরে লেসোথোর মানুষের সার্বিক অবস্থা আরো দরিদ্র বলে প্রতিভাত হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলে এনজিওরা চলে যায়, ফেলে যায় দালানকোঠা, রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত, ব্যাংক, বাজার, ইত্যাদি নানান প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো। রাষ্ট্র তখন বিনা খরচে এবং বিনা প্রতিরোধে সেইসব নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করে নিজস্ব প্রশাসন (থানা, সেনা ছাউনী, সরকারী অফিস, ইত্যাদি)। এভাবে, উন্নয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে অল্প সময়ে রাষ্ট্রের অবকাঠামো উন্নয়ণের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্ষমতা ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ে রাষ্টের সর্বত্র। এভাবে উন্নয়ণ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মাত্র ২/৩ দশকেই তৃতীয় বিশ্বের এইসব রাষ্ট্রে সারা দেশের উপর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ক্ষমতার বিস্তার সম্পন্ন হয়।

আধূনিক জাতি-রাষ্ট্র পূর্বের সাম্রাজ্য বা রাজত্ব থেকে এই অর্থে আলাদা যে, প্রথমটির শাসনকার্যে জনগণ নিজেদের শাসক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে নিজেদের শাসনকার্যে অংশ নেয়, যা সাম্রাজ্য বা রাজ্যে অনুপস্থিত। তাছাড়া, জাতি-রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্ষমতা সাম্রাজ্য/রাজ্যের থেকেও অনেক বেশি বিস্তৃত (expansive), সমন্বিত (comprehensive)এবং শক্তিশালী (intense)। জাতি-রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার শুরুতে ইউরোপে সাম্রাজ্য (বিশেষ করে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স) এবং অন্যান্য ছোট রাজ্যসমূহ আনুমানিক দুইশ বছর ক্রমাগত আভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে (war-making) মধ্যযুগের “রাজার প্রতি প্রজাদের নিঃশর্ত আনুগত্য” আজকের থেকে “নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের বিনিময়ে রাষ্ট্রের আনুগত্য” পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের পেট থেকে জন্ম নেওয়া তৃতীয় বিশ্বের এই জাতি-রাষ্ট্রসমূহ এই প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল। ফলে এখানে সম্রাট/রাজার সাথে জনগণের কোনরূপ বোঝাপড়ার (social contract) দরকার হয়নি। এখানকার প্রজারা শুধুই প্রজা, আগে উপনিবেশের অধীনতা স্বীকার করতো, এখন করে স্থানীয় শাসকের যারা সাধারণতঃ জনগনের থেকে বিচ্ছিন্ন (অথবা ক্ষমতায় গিয়ে বিচ্ছিন্ন)। ইউরোপে জাতি-রাষ্ট্রে ক্ষমতা নির্ধারণ করে সেখানকার জনগণ বা নাগরিকরা, কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের এইসব নবীন জাতি-রাষ্ট্রের স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা অর্জন+সংহত করে সাবেক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহের মদদে। আর তাই, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্ষমতা জনগণের সাথে প্রায়শঃই সাংঘর্ষিক। ফলে রাষ্ট্রের প্রশাসন বিস্তারের যেকোন প্রয়াসে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের সম্ভাবনা বিদ্যমান। এই পরিপ্রেক্ষিতে দারিদ্র্য বিমোচনে ক্রমাগত ব্যর্থতা সত্ত্বেও উন্নয়ণ প্রকল্পে পরিবর্তন-পরিমার্জন না করে একই ধারা বজায় রাখার কারণটা স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়।

এখানে লক্ষ্যনীয় যে, তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ণ মহাযজ্ঞে সাধারণভাবে তিনটি পক্ষ দৃশ্যমানঃ (১) জনসাধারণ যারা প্রধানতঃ দরিদ্র এবং সাহায্যের মুখাপেক্ষী, (২) দেশীয় শাসক যারা ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী করতে আগ্রহী, এবং (৩) বিদেশী প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ যারা নিজ নিজ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও সম্প্রসারণে আগ্রহী।

বিদেশী রাষ্ট্রসমূহ, যাদেরকে আমরা সাধারণভাবে “দাতা দেশ” বলে জানি, তারা নানা রকম অনুদানের মাধ্যমে দরিদ্র রাষ্ট্রসমূহের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে। ফলশ্রুতিতে সেইসব দেশের তাদের পণ্যের বাজার তৈরী+বিস্তৃতি ঘটে।,যেমন- ইন্দোনেশিয়ায় জাপানীজ ইলেক্ট্রনিক ও অটোমোবাইল ইন্ডাষ্ট্রি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃক জাপানকে সমর্থন। ইন্দোনেশিয়ার স্বৈরশাসক জেনারেল সুহার্তো জাপান (এবং অন্যান্য প্রভাবশালী দাতা দেশসমূহ) এর আর্থিক ও রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা পেয়ে সত্তর ও আশির দশকে সুদীর্ঘকাল ক্ষমতায় টিকে থাকে। এই সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুদানের ব্যাপক প্রবেশ সত্বেও এখানকার দরিদ্র সাধারণ জনগণ দরিদ্রই থেকে যায়। [ফিলিপাইনের মার্কোস,পাকিস্তানের জিয়াউল হক, আমাদের এরশাদ এরা সবাই একই দলের]।

নব্বইয়ের দশকে এসে পুরো তৃতীয় বিশ্ব জুড়েই পরিবর্তনের ঢেউ লাগে। দেশের দেশে স্বৈরাচারের পতন শুরু হয়, তাদের স্থলে ক্ষমতায় আসে জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলসমূহ এবং তাদের জনপ্রিয় নের্তৃবৃন্দ। পুর্বের শাসকদের মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না করে এরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি শিল্প ও অর্থনীতি থেকে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে বেসরকারী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার নীতি অবলম্বন করে যা’কে আমরা জানি “মুক্ত বাজার অর্থনীতি” হিসেবে। বেসরকারী বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নানা রকম ইন্সেনটিভ দিয়ে জাতীয় অর্থিনীতিকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

এই সময়কে প্রধানতঃ বিশ্বায়নের যুগ বলে অভিহিত করা হয়। বিশ্বপুঁজির অবাধ চলাচল অর্থনীতি, রাজনীতি,সমাজনীতি সহ সর্বক্ষেত্রে এতটাই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যে, কেউ কেউ বিশ্বপূঁজির কাছে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা দূর্বল হয়ে যাচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন (Appadurai, 1996)। কারণ, পুঁজির প্রয়োজনে তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র নতুন আইন প্রনয়ণ করে (যেমন, কপিরাইট আইন, পরিবেশ আইন, ইত্যাদি), বিদ্যমান আইন সংশোধন করে (যেমন, সম্পত্তি আইন, শরীয়া আইন, ইত্যাদি), নতুন শিল্পনীতি, বানিজ্যনীতি, ইত্যাদি তৈরী করে। কিন্তু বিশ্বপুঁজির এই প্রবাহ স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ক্রমাগত শিল্পায়ণ ও বানিজ্যিকীকরণের ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে যা’ স্থানীয় জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে, যেমন ভারতের ‘নর্মদা বাঁধ বিরোধী আন্দোলন’, আমাজানের রাবার সংগ্রাহকদের আন্দোলন, ইত্যাদি। স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত এইসব প্রতিরোধ আন্দোলনকে আপাদুরাই বলেছেন Grassroot Globalization (2001)।

উন্নয়ণ প্রকল্পের একটা প্রধান সেক্টর হল গণশিক্ষা যা’ সাধারণ জনগণকে তাদের রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নানান অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। গণভোটে তাদের অংশগ্রহন এবং এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন বৃদ্ধির ফলে সরকারের সাথে জনগণের দূরত্ব পূর্বের থেকে হ্রাস পায়। নিয়মিত ভাবে ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনের ফলে জনগণের কাছে শাসকদের জওয়াবদিহীতার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এ’ অবস্থায় জনগণকে পাশ কাটিয়ে স্বৈরশাসকদের ন্যায় ইচ্ছেমত আইন করা এবং সরকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে যা’ বিশ্বপুঁজির স্বার্থের জন্য সময় সময় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। [যেমন বাংলাদেশে ফুলবাড়ি কয়লাখনিতে বিনিয়োগ, পশ্চিমবঙ্গে টাটার বিনিয়োগ, ইত্যাদিতে সরকারের ইচ্ছে থাকা সত্বেও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে পুঁজি পিছু হটে]। এরফলে তৃতীয় বিশ্বে শাসন ক্ষমতায় জনগণের কাছে মুখাপেক্ষী সরকারের বদলে এমন ধরণের শাসক/শাসন দরকার হয়ে পড়ে যারা জনগণের ভোটের উপর নির্ভরশীল নয়। এই পর্যায়ে বিশ্বপুঁজির পেছনের শক্তিসমূহ তৃতীয় বিশ্বে গণমুখী রাজনৈতিক দলের শাসনকে অস্থিতিশীল করে তোলে (বিভিন্ন দেশে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমেরিকা আর ব্যক্তিপর্যায়ে জর্জ সোরসের ভূমিকা স্মর্তব্য), আর বিকল্প হিসেবে সুশীল সমাজকে শক্তিশালী করার প্রয়াস পায় যারা জনগণের মধ্যে ক্ষমতাবান অথচ তাদের মুখাপেক্ষি নয়।

তৃতীয় বিশ্বব্যাপী চলমান উন্নয়ণ প্রকল্পে ক্ষুদ্রঋণের নতুন ভূমিকার শুরু এই সময়। ক্ষুদ্রঋণ মূলতঃ অলাভজনক; কারণ, একে টিকিয়ে রাখার জন্য বাইরে থেকে ভর্তুকি দিতে হয় (ডেনিয়েল পার্ল এই বিষয়টি সর্বপ্রথম ২০০১ সালে মিডিয়ায় নিয়ে আসেন)। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অধীনে নিয়ে আসে যা’র ফলে তারা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়। এই প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাই ফুকোর বর্ণীত Disciplinary Power (1974)। এই ক্ষমতা সমগ্র সমাজের (society as a whole) উপর খবরদারীর বদলে ব্যক্তির (individual) ছোটবড় সমস্ত কাজকর্ম, চলাফেরা, আচার-আচরণ, গতি-প্রকৃতি, ইত্যাদির উপর খবরদারী করে (যেমন, ক্ষুদ্রঋণ সমিতির একেকজন সদস্যদের সকল কার্যক্রমে খবরদারী করে- সদস্যদের জন্য গ্রামীনের নির্ধারিত ১৬টি নীতি স্মর্তব্য যা’ তারা প্রতি সপ্তাহে একত্রে মুখস্ত করে ও বলে); এই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য ব্যক্তির বিচার (ভালো ব্যক্তি/মন্দ ব্যাক্তি) থেকে সড়ে গিয়ে ক্ষমতা চর্চাকারী সংস্থার কার্যক্রম, সফলতা/ব্যর্থতার উপর নিবদ্ধ হয় (যেমন, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতার আর্থিক সাফল্য/ব্যর্থতার বদলে ঋণ প্রদানকারী সংস্থার লাভ-ক্ষতির হিসাবঅকে গুরুত্ব দেয়); এই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কি ফলাফল লাভ করা হচ্ছে তা বিবেচনার বদলে ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে মূখ্য ধরে নেয় (ক্ষুদ্রঋণ প্রধানকারী সংস্থাগুলো সদস্যদের নানান কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের ফলে কি কি লাভ করলো সেই হিসাবে কখনোই মনোনিবেশ করে না, কিন্তু সেইসব নিয়ন্ত্রণ যাতে নীরবচ্ছিন্ন ভাবে চলে তা’ নিশ্চিত করে)। এই ক্ষমতা ব্যক্তির জন্য শোষণমূলক হলেও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক; কারণ, প্রতিষ্ঠান নিত্য নতুন পদ্ধতি আরোপে করার মাধ্যমে ব্যক্তির শরীর থেকে সর্বোচ্চ ব্যবহারযোগ্যতা (utility) আদায় করে নিতে পারে ব্যক্তির কোন প্রকার প্রতিরোধ ছাড়াই।

Disciplinary Power অধীনস্ত ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে কিছু অদৃশ্য, কিন্তু উপলদ্ধিযোগ্য (objective) পদ্ধতির মাধ্যমে যা’কে ফুকো বলেছেন mechanics of power; বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামাজিক প্রক্রিয়া এবং অবস্থানের মধ্য থেকে এদের উদ্ভব হয়, ক্রমান্বয়ে ধাপে ধাপে বিকাশের নানা পর্যায়ে এদের কার্যক্ষেত্র+পদ্ধতি একে অপরের মধ্যে মিশে (support, overlap, repeat, imitate) গিয়ে একটা সমন্বিত ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতার জন্ম দেয় যা’র কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিই অধীনস্ত। এই ক্ষমতা এমন এক ব্যক্তিস্বত্ত্বার জন্ম দেয় যে শুধুমাত্র ক্ষমতার আদেশই মান্য করে না, বরং সেই আদেশ কি কি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে, কোন গতিতে করতে হবে, শরীরের কোন অংগকে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, ইত্যাদি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও নির্দেশনা মেনে নেয়। এরফলে অধীনস্ত ব্যক্তির স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতার পাশাপাশি স্বাধীন চিন্তা+মতপ্রকাশও অসম্ভব হয়ে পড়ে। [আমেরিকায় কাউকে পুলিশ প্রথমবারের মত ক্রিমিনাল অফেনসে ধরলে তাকে কারেকশনের জন্য একটা সিডি দেয় যেখানে আমেরিকার জেলখানার অভ্যন্তরের অবস্থা এবং সেখান থেকে বের হয়ে আসা কয়েকজনের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের জেলের অভিজ্ঞতা দেখানো হয়েছে। পরিচিত একজনের কাছ থেকে দেখেছিলাম একটা। আমার কাছে মনে হয়, ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতা বোঝার জন্য এর থেকে সহজ+কার্যকরী আর কিছু নেই]।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের ব্যাপক বিস্তারের শুরু মূলতঃ ১৯৯০-এর দশকে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশ কতগুলো প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হয়, যেমন- ১৮৮৮, ১৯৯৬ ও ৯৮ এর ব্যাপক বন্যা। এসময় বাংলাদেশে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়ঃ বাংলাদেশ মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশ করে, নারী শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করে, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে মাঠপর্যায়ে বিস্তৃত করে। নতুন নতুন এইসব কর্মসূচীতে সরকারের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনের বদলে বেসরকারী পর্যায়ের অংশগ্রহন প্রধান হয়ে ওঠে, সরকার থাকে তাদের সহযোগীর ভূমিকায়। এই পর্যায়ে দেখি বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এনজিও ‘ব্যবসা’র প্রসারঃ অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় ব্র্যাক স্কুল (আসলে ছোটবড় সকল এনজিও), সেনিটেশন কার্যক্রমে ব্র্যাক (এবং অন্যান্য এনজিও), ক্ষুদ্রঋণে গ্রামীন (সেই সাথে আশা এবং অন্যান্য এনজিও)। এইসব গণমুখী কার্যক্রমে শুরুতে জনসেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসলেও সকল এনজিও কার্যক্রমেই মুনাফা লাভের বিষয়টা অবিচ্ছেদ্যভাবে বিদ্যমান, যা’ এনজিওদের ক্রমবর্ধমান “নিজস্ব সম্পত্তি” এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জীবনযাপনে দৃশ্যমান (যদিও কাগজে-কলমে এটা কোন এনজিও স্বীকার করে না)। এসময় বিদেশী রাষ্ট্র এবং দেশীয় সরকার নিজ নিজ স্বার্থে এনজিওদেরকে সকলপ্রকার সমর্থন দিয়ে যায়। বিদেশী রাষ্ট্র উন্নয়ন অনুদান প্রদানের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব জারি রাখতে চায়, দেশীয় সরকার জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য নানান খাতে ব্যয় করা থেকে রেহাই পায়। সরকারসমূহের পাশাপাশি এই সময় বিশ্বপুঁজির আরেক শক্তিশালী পক্ষকে দেখা যায়, এটা হলো জায়ান্ট কর্পোরেট যাকে সংক্ষেপে MNC বলা হয়। আলোচ্য এনজিও কার্যক্রমে এদের স্বার্থটা হচ্ছে নিজ নিজ পণ্যের (প্রযুক্তি, ভোগ্যপণ্য, ইত্যাদি) বাজারের বিস্তার। যেমন, এনজিওদের সেনিটেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে প্রথমে শেখানো হলো টয়লেট এবং খাবার গ্রহনের আগে+পরে ভালো করে (ছাই দিয়ে) হাত পরিস্কার করতে হবে, এখন এসেছে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ যেখানে শেখানো হচ্ছে লাইফবয় সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। একইভাবে আর্সেনিক সম্পর্কিত গবেষণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রকল্পের মাধ্যমে বোতলজাত পানির বাজার তৈরী করা হয়েছে।

এনজিও কার্যক্রমের পরিধি দিন দিন বেড়েই চলেছে, সাথে সাথে জীবনের নানান ক্ষেত্রে তাদের “পরামর্শ+নির্দেশনা+সহায়তা” ইত্যাদির ব্যাপ্তিও বেড়েই চলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লেনদেন, যৌনতা, সামাজিকতা, নারীপুরুষের সম্পর্ক, বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক, শিক্ষকের সাথে ছাত্রের সম্পর্ক, ইত্যকার দৈনন্দিন বিষয়াদিও ক্রমাগত এনজিও কার্যক্রমের মাধমে এক ধরণের নজরদারী+নিয়ন্ত্রনের আওতায় আসছে। জনসাধারণের উপর এই যে নিয়ন্ত্রন, এটা দেশীয় সরকার, বিদেশী রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট পুঁজি- সকলের জন্যই উপকারী। এই নিয়ন্ত্রণের অধীনে থাকলে জনগণ নানান ক্ষেত্রে সরকারের ক্রমাগত ব্যর্থতা (আমাদের সরকারের ব্যর্থতার তালিকা সীমাহীন), বিদেশী রাষ্ট্র অযথাই আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো (আমাদের দেশে আমেরিকা বা ভারতের ভূমিকা), বা কর্পোরেট পুঁজির নগ্ন মুনাফা লোভের (আমাদের দেশের মোবাইল ফোন, খাদ্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট) বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ তৈরী করতে পারেনা।

বেসরকারী সেক্টরে প্রধানতঃ এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত উন্নয়ণ কার্যক্রমের এই যে অনুল্লিখিত কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে প্রভাব- অর্থ্যাৎ, ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতা- এর ফলাফল বিচারে কিন্তু কখনোই এইসব কার্যক্রমে ব্যক্তি মানুষ কি অর্জন করলো তা’ মূখ্য নয়, বরং সামগ্রিক ভাবে এই কার্যক্রম অবিরাম ভাবে চলছে কি না, এইসব কার্যক্রমকে আরো এফিসিয়েন্ট ভাবে চালানোর জন্য বিদ্যমান পদ্ধতিতে কি কি পরিবর্তন আনতে হবে, আরো কি কি নতুন পদ্ধতি সম্পৃক্ত করতে হবে, ইত্যাদি বিষয় গুরুত্ব পায়; অর্থ্যাৎ, ব্যক্তি মানুষের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হলেও এই কার্যক্রমের পর্যালোচনায় ব্যক্তির ভালো-মন্দের বদলে চলে আসে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থার সাফল্য/ব্যর্থতা এবং কিভাবে সংস্থাকে আরো এফিসিয়েন্ট করা যায়!

তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রে উন্নয়ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতা বিস্তারের এই যে প্রক্রিয়া, এখানে দেশীয় সরকার, দাতা রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট পুঁজি একসাথে কাজ করলেও তাদের স্বার্থ আলাদা। একারণে, কখনো কোন পক্ষের স্বার্থ আরেক পক্ষের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলে স্বভাবতই এই “তিন পাগলের মেলা” ভেঙ্গে পড়ে। আসুন, দেশে চলমান হাসিনা-ইউনূস দ্বৈরথকে উপরে বর্ণিত তাত্ত্বিক কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে দেখি কি পাওয়া যায়ঃ

বিদ্যমান বিতর্কে হাসিনা দেশীয় সরকার প্রধান যে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূখন্ডের মধ্যে রাষ্ট্রীয় আইনের আওতায় সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, আমেরিকা অন্যতম দাতা রাষ্ট্র, এবং ডঃ ইউনূস এনজিও সেক্টরের প্রধান মুখপাত্র। হাসিনা বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনের বলে ডঃ ইউনূসকে গ্রামীন ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছে। ডঃ ইউনূস সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপীল করেছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি তিনি ক্ষমতাশালী বিদেশী বন্ধুদের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। এর ফলে আমেরিকা আর বৃটেনের সংসদ সদস্যদের কয়েকজন হাসিনার এই পদক্ষেপকে সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছেন এবং ইউনূসের সাথে সমঝোতা করতে বলেছেন (১৮ মার্চের ডেইলী ষ্টার ও ইত্তেফাক দ্রষ্টব্য); এমনকি আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে গিয়ে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন। পাশাপাশি প্রথম বিশ্বে আরো কিছু সরকার প্রধান এবং কর্পোরেট সংস্থা যারা ডঃ ইউনূসকে নানা সময় পুরস্কার ও পুঁজি দিয়ে ক্ষুদ্রঋণকে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে তারা “ফ্রেন্ডস অব গ্রামীণ” নামের এক সংস্থার মাধ্যমে সমবেত হয়ে অবিরাম প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ডঃ ইউনূসের পক্ষে।

অতএব, এই দ্বন্দ্ব প্রকৃতপক্ষে আমাদের সরকার, দাতাদেশসমূহ এবং এনজিওদের মধ্যকার নিজ নিজ স্বার্থের (তথা, ক্ষমতার) দ্বন্দ্ব।

হাসিনার, তথা দেশীয় সরকারের স্বার্থ হচ্ছে এনজিওদের উপরে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা’ ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রতি রেগুলেটরী সংস্থা স্থাপন এবং এর মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম তদন্ত করার ঘোষনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত। এতদিন এনজিওদের সাথে একত্রে কাজ করলেও এখন কেন সরকার এনজিওদের উপর আরো নিয়ন্ত্রণ চাইছে? – এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ২০০৬ সালের ১/১১ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উপর তার পরবর্তী ফলাফলের মধ্যে। সেই সময় এনজিও কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ ফলাফল সুশীল সমাজ রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার প্রতি শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। তাদের মুখপাত্র হিসেবে ডঃ ইউনূসকেও রাজনীতিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। ফলে, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এনজিও+সুশীল সমাজ একটা অন্যতম প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা দেয়। অতএব, নিজেদের সার্বভৌম ক্ষমতা আর বিদ্যমান আইনের বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডঃ ইউনূসকে পদত্যাগ করার নির্দেশ জারি করেছেন এবং এর মাধ্যমে সুশীল সমাজকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।

ডঃ ইউনূস দেশের আইন মেনে পদত্যাগ না করে কেন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছেন? বলা হচ্ছে, তিনি ক্ষুদ্রঋণের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি না থাকলে ক্ষুদ্রঋণের আইকন গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতএব, দেশের আইনকে পাশ কাটিয়ে তাকে গ্রামীনের ক্ষমতায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশীদের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য দেশপ্রেম এবং দেশের ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি তার শক্তিমান বিদেশী বন্ধুদের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন তাকে দেশের আইনের আওতার বাইরে রাখার জন্য। একজন “নোবেল শান্তি” বিজয়ী শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষমতার মোহে নিজে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, এটা আমি বিশ্বাস করিনা। আমার মতে, ডঃ ইউনূসের অনড় অবস্থান প্রকৃতপক্ষে গ্রামীন ক্ষুদ্রঋণের প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বকে সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রচেষ্টা।

বিদেশী রাষ্ট্র এবং কর্পোরেটগুলো ডঃ ইউনূসের পক্ষে মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে এই বলে যে, ডঃ ইউনূসের মতো একজন বিশ্বব্যক্তিত্ব এবং গ্রামীনের মত একটা দারিদ্র্য বিমোচনকারী সংস্থা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত রোষের কবলে পড়েছে। এই পক্ষ ক্ষুদ্রঋণ (তথা সমগ্র এনজিও) সেক্টরকে সরকারের বিরুদ্ধে সমর্থন করছে তাদের নিজ স্বার্থে; আর এই স্বার্থ কখনো রাজনৈতিক (যেমন, ইসলামের রাজনীতিকরণ এবং বিশ্বব্যাপী ইসলাম তথা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ), কখনো অর্থনৈতিক (যেমন, ব্র্যাকের সদস্যের ‘সুফলা ধান’ নামক হাই ব্রীড কিনতে বাধ্য করা)। তাদের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ এখন রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা প্রায়শঃই সম্ভব নয়। একারণে তারা চায় তৃতীয় বিশ্বে একটা অরাজনৈতিক সহযোগী পক্ষ (এনজিও) যারা জনগণের কাছ থেকে কোন প্রকার রাজনৈতিক প্রতিরোধ ছাড়াই তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবে। অতএব, তৃতীয় বিশ্বের সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতার বিরুদ্ধে গিয়েও এনজিও সেক্টরকে তারা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

পুরো ব্যাপারটিতে তিন পক্ষের নিজ নিজ স্বার্থ এবং এর ভিত্তিতে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরুদ্ধতা ও সহযোগিতার প্যাটার্ন আলোচনার মাধ্যমে আরো একটা বিষয় পরিস্কার হয় যে, তারা কেউই ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গ্রহিতাদের কি কি লাভ/ক্ষতি হচ্ছে তা’ নিয়ে মনোযোগী নয়, ফলে ক্ষুদ্রঋণের পক্ষে/বিপক্ষে কোন আলোচনাও নেই। মূল ফোকাস হচ্ছে, গ্রামীন ব্যাংক তথা ক্ষুদ্রঋণের নিয়ন্ত্রন এবং এর মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিধি পুণঃনির্ধারণ, অর্থ্যাৎ, শিল্পক্ষেত্রে সরকার নিয়ন্ত্রনমুক্ত ইপিজেড এর মতো আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রেও সরকারী নিয়ন্ত্রনমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ (এবং পরবরতীতে এনজিওদের অন্যান্য অন্যান্য সেক্টর)। সরকার তার সমস্ত শক্তি (প্রশাসনিক এবং দলীয়), ডঃ ইউনূস তথা গ্রামীন ব্যাংক তথা এনজিও তার সমস্ত শক্তি (বিদেশী বন্ধু সরকার+সংস্থা+ব্যক্তি, গ্রামীন ব্যাংকের কর্মকর্তা+কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তি-ইমেজ) এবং দাতা দেশসমূহ তাদের সমস্ত শক্তি (কূটনৈতিক প্রভাব) নিয়ে জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ নামের তৃতীয় বিশ্বের একটা রাষ্ট্রের সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিধি ভাগাভাগির লড়াইয়ে।

২,৪২৬ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “হাসিনা বনাম ইউনূস তথা সরকার বনাম এনজিও দ্বন্দ্ব বুঝবার জন্য তত্ত্বীয় কাঠামোর একটা খসড়া প্রস্তাবনা”

  1. তৌফিক (৯৬-০২)
    পুর্বের শাসকদের মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না করে এরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়।

    এরশাদের পরে আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারেরা খুব একটা বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করেছে কি? হাসিন আর খালেদা- দুইজনের মধ্যেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতা প্রবল। বাংলাদেশেকে তাহলে কি ব্যতিক্রম বলবেন?

    সুশীল সমাজ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটা আবশ্যকীয় এলিমেন্ট- এই টপিকটা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো আলোচনা করবেন আশা করছি। আমার নিজের কাছে এদেরকে বিরাট মোনাফেক মনে হয়। এই হইলে ভালো হয়, ওইটা কইরো না- ইত্যাদি সবক তারা নিজেরা দিয়ে থাকে। কাজের বলায় লবডংকা। জনগণ কি ভালোমন্দ বুঝে না যে তোমাদের জাতির বিবেক সাজতে হইব?

    আপনার লেখা বরাবরই ভালো লাগে। পুরা ব্যাপারটার একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা পেলাম। কয়েকটা টাইপো আছে, সময় পেলে একটু দেখবেন প্লিজ। পুরো লেখাটা দুই পর্বে আসতে পারত। ব্লগ হিসাবে কলেবরটা একটু বড় মনে হয়েছে।

    (একটু ক্রিটিক হওয়ার ট্রাই দিলাম 😛 )

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      ধন্যবাদ তৌফিক, ক্রিটিক হিসেবে আমার ব্লগ পড়া+মন্তব্য করার জন্য।

      ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণটা আসলে আমরা যে অর্থে বুঝি, সেটা নয়; আমি এখানে ফুকোর বর্ণীত ডিসিপ্লিনারি পাওয়ারের প্রেক্ষিতে বলেছি। আরেক সময় এটা নিয়ে বিস্তারিত আলাপে যাবো, এই পোষ্ট এমনিতেও অনেক দীর্ঘ হয়ে গেছে।

      কয়েকটা টাইপো ঠিক করে দিলাম, কিন্তু আরো থাকতে পারে। ক্রমান্বয়ে ঠিক করবো সেগুলো চোখে পড়লে।


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
  2. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    পড়লাম।

    তোমার লেখাটা পড়ে বঙ্গবাজারে গিয়ে জিন্স কিনতে যে রকমের অনুভুতি হয়, তাই হল। ফ্রী সাইজের জিনিস, পড়ে-টড়ে যেটা ফিট হয় সেটা দামাদামি করে কিনে ফেল, দর্জির কাছে গিয়ে হালকা ফিনিশিং টাচ দাও, ব্যস, হয়ে গেল ব্র্যান্ডেড ডেনিম জিন্স।

    তুমি কিছু প্রাতিস্টনিক দ্বদ্ধে্র কথা তুলে এনেছো, রাস্ট্রের সাথে (সুনিদির্স্ট ভাবে বললে সার্বভৌমত্বের সাথে) এনজিও, পুজিবাদের সংগে দারিদ্র্য, দাতাদের চাপ এবং টাকা বন্টনের উপায় ঈত্যাদি, এবং এটাকে তুমি বর্তমান হাসিনা-ইউনুস কাইজ্জার সংগে মিক্স করে এটাকে জাতে তুলতে চেয়েছো, তোমার লেখা পড়ে আমার এটাই মনে হয়েছে। এবং এটাকে গ্রহনযোগ্য করতে তুমি আশেপাশের অনেক উদাহরণ দিয়েছো।

    অর্থাৎ তুমি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে অনেক "বিজ্ঞ এবং জ্ঞানী" বলে প্রমান করতে চেয়েছো। এবং বলতে চেয়েছো, এটা অবশ্যম্ভবী ছিল, রাস্ট্রের জন্যই। এরকম হলে তো আমরা বেচে যাই মাহমুদ।

    আসলে কি ব্যাপারটা তাই? তোমার কি তাই মনে হয়? আমার তো তা মনে হয় না। ইন-ফ্যাক্ট এটা আমার কাছে হিন্দী সোপ অপেরার বাইরে বেশী কিছু নয়। আমি মনে-প্রানে চাই, আমার এই ধারনা ভুল হোক, সঠিক হোক তোমার ধারনাটা। 🙂

    একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ইউনুস যেমন দেশের বাইরের কাছে যাচ্ছে, তেমনি সরকারের নিজের আব্রুর জন্য তোমার এই লেখার মত আরও কিছু লেখা সরকারের দরকার। তাহলেই আমরা বরং বেঁচে যাই এই কাদা ছোড়াছুড়ি দেখা থেকে। হাজার হোক, আমরা বাংলাদেশী যেহেতু, ইউনুসও আমাদের নিজেদের লোক, আর সরকারও আমাদেরই, কাদা তো ছিটকে আমাদের গায়েও কিছু লাগছে। এড়ানো যাচ্ছে না।

    ইউনুসের বিদেশী বন্ধুরা আসুক, আসুক এই পোস্টের মত সুশীল মতামত, যুদ্ধ থেমে যাক, আমরা শান্তিতে থাকি। (সম্পাদিত)


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
      তুমি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে অনেক “বিজ্ঞ এবং জ্ঞানী” বলে প্রমান করতে চেয়েছো। এবং বলতে চেয়েছো, এটা অবশ্যম্ভবী ছিল, রাস্ট্রের জন্যই।

      - ফয়েজ ভাই, আপনার কথার প্রথম অংশে দ্বিমত, দ্বিতীয় অংশে একমত 🙂


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
  3. রাব্বী (৯২-৯৮)

    ব্লগ হিসাবে লেখাটা একটু ভারি হয়ে গেছে মনে হয়, মাহমুদ ভাই।

    জেমস ফারগুসন এবং অর্জুন আপাদুরাইয়ের কাজ আমারও পছন্দ। সেই সাথে পার্থ চ্যাটার্জি, কোমারফস এবং তানিয়া মুরা লী। ফুকোডিয়ান দৃষ্টিতে শুধু মাইক্রোক্রেডিট বা এনজিও নয়, রাষ্ট্রের যে কোন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকেই সাংঘাতিকভাবে ব্যবচ্ছেদ করা যায় এবং পশ্চিমা ক্ষমতা, জ্ঞান এবং নিয়ন্ত্রনের উপস্থিতি পাওয়া যাবে।

    সার্বভৌমত্ব, ডিসিপ্লিন এবং গভার্নমেন্টালিটি রাষ্ট্র ক্ষমতার ভিন্ন ভিন্ন মডালিটি যেইটা আবার সপ্তদশ শতাব্দির ইউরোপীয় আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা থেকে আসা। তো আমাদের ডিসিপ্লিনারি পাওয়ার কিংবা নলেজের কেন্দ্র আসলে পশ্চিমে। রাষ্ট্রের কাঠামো, সংবিধান, লেখাপড়া, বিচারিক কাঠামো, পুলিশ, মিলিটারি, ডাক্তারি, হাসপাতাল, জেলখানা, মানবাধিকার, উন্নয়ন সবই পশ্চিমের কপিক্যাট। নিজেদের বলতে আছে শুধু রক্তমাংসের দেহ, মন, আশা-হতাশা, মাটি আর লোকজ সংস্কৃতি; সেইটাও আবার বায়োপাওয়ার এবং নলেজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর গর্ব করার মতো দুইটা জিনিস - , ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ। সার্বভৌমত্বটা আমরা মনে করি যে আমাদের অটুট কিন্তু এইটাতে হস্তক্ষেপ জন্ম থেকেই হয়ে আসছে। এইটা আমরা শুধু তখনই টের পাই যখন ডিপলোম্যাটিক/পলিটিক্যাল ইনঞ্জিনিয়ারিং ফেল করে সরকারের সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থায় চলে যায়। সিভিল সোসাইটি পশ্চিমে এবং তৃতীয় বিশ্বে দুই রকম আচরণ করে; তবে এটা জন্মগতভাবেই পশ্চিমা বায়াসড। সিভিল সোসাইটি তো শুধু এনজিও না। অবসরপ্রাপ্ত সিভিল এবং মিলিটারি বুরোক্রাটস, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, ধর্মীয় নেতা, থিংক ট্যাংকস এরাও আছেন।

    এনজিও আমাদের স্বাধীনতার আগে থেকেই ছিল। এইটার বুম হয় একাত্তরের পর যুদ্ধ পরবর্তী রিলিফ এবং পূর্নবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে এরশাদ এইটারে নিয়ন্ত্রনের ভিতর আনে কড়াকড়িভাবে। কারণ ফরেন ডোনেশন দিয়ে কিছু এনজিও কার্যক্রম মিলিটারি জান্তার গদির জন্য হুমকি বলে চিন্থিত হয়। তখন এডাব গঠিত হয় মূলত সরকারের সাথে নেগোসিয়েট করার জন্য। আর এদিকে সরকারের পাঁচটা সংস্থার কাছ থেকে ফরেন ডোনেশন ছাড়পত্র নেবার ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে এনএসআই এবং ডিজিএফআইও ছিল। প্লাস ৩২ কপি পেপার ওয়ার্কসের ব্যবস্থা করা হয়। ছোট এনজিওগুলোর ফান্ড পাওয়া কঠিন হয়ে যায় আর বড় এনজিওগুলো মোনোপোলাইজ করে তখন ডোনেশন। কারণ তারা এতো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কাজ চালাতে থাকে। আর যেখানে আমলাতান্ত্রিক ঝামেলা হয় সেখানে পারস্যুউ করে বা ঘুষ দিয়ে কাজ সারে। কিছু কিছু দাতা দেশের সরকারকে দিয়ে সুপারিশ করে নিয়ম শিথিল করে। এনজিও নিয়ন্ত্রন নিয়ে টাগ অব ওয়ার নতুন না। সারা সি. হোয়াইট ব্রিটেনের ওডিআইয়ের জন্য একটা প্রতিবেদন বানায় সেখানে আছে এসব। আর মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি ২০০৬ থেকে আছে, তবে এর বোধহয় গায়ে জোর নেই তেমন।

    একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, নতুন ইসলামিক এবং র্যাডিক্যাল ইসলামিক এনজিওগুলোকে কিভাবে দেখবো? এদের কার্যক্রমের সম্পর্কের ধরণ তো আর দশটা এনজিওর মতো এক নয়। কিংবা ধরুন বামপন্থী বা প্রো-মার্কসীয় এনজিও। যদিও এরা দাতার অর্থে পরিচালিত এনজিও কিংবা সেলফ হেল্প। এদের দাতা সবসময় পশ্চিমে নয়। কিংবা আদিবাসী এনজিওগুলোও তো সরকার এবং কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রনকে (পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে) প্রচ্ছন্নভাবে চ্যালেঞ্জ করে। দাতা দেশ এবং দাতা সংস্থা পার্বত্য বিষয়েও হস্তক্ষেপ করে। তখন সার্বভৌম ক্ষমতার চর্চা যে নতুন মাত্রা যোগ করে তখন সেটাকে কিভাবে থিয়োরাইজ করবো?

    অনেক খেটেখুটে লিখেছেন এবং কথা রাখার জন্য ধন্যবাদ। তবে লেখার মূল প্রোপজিশন নিয়ে এখন কিছু বলবো না। আরো দেখতে চাচ্ছি। জিনিসটা এখন পাওয়ার প্লে পর্যায়ে চলে গিয়েছে। দেখা যাক নেগোসিয়েশনটা কি হয়। তবে ঘটনা হলো, গরীব হলে কথাবার্তা এবং কাজকর্ম একটু টেকনিক্যালি সারতে হয় তা নাহলে আখেরে খবর হয়।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      দারুন কিছু কথাবার্তা এসেছে তোমার মন্তব্যে, এর বেশিরভাগের সাথেই আমি একমত।

      তবে ঘটনা হলো, গরীব হলে কথাবার্তা এবং কাজকর্ম একটু টেকনিক্যালি সারতে হয় তা নাহলে আখেরে খবর হয়।

      -সেটাই।


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      রাব্বী,
      গতকাল সময়-স্বল্পতার জন্য তোমার মন্তব্যের অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তর দিয়েছি। আরো বেশ কিছু কথা বাকী ছিল, সেইগুলা এখন বলিঃ

      ১। সিভিল সোসাইটি আসলেই পশ্চিমা ধারণা এবং এর উৎপত্তি জাতি-রাষ্ট্রের সাথে জড়িয়ে, কেননা, ক্লাসিক্যাল সংজ্ঞা অনুযায়ী সিভিল সোসাইটির মূল কাজ হচ্ছে রাষ্ট্র সোসাল কন্ট্রাক্ট এর মধ্যে স্বীকৃত জনগণের মৌলিক নাগরিক অধিকারগুলো ঠিকঠাক মতো নিশ্চিত করছে কিনা তা'র তদারকি করা, না করে থাকলে রাষ্ট্রের সমালোচনা করা। তুমি ঠিকই বলেছো যে, পশ্চিমের বাইরে আসলে এই সিভিল সোসাইটির চরিত্রও বলদে যায়। এর কারণও আমি দেখি এখানকার রাষ্ট্র গঠনের ভিন্ন প্রকৃয়ার মধ্যে যেখানে জনগণের সাথে সোসাল কন্ট্রাক্ট অনুপস্থিত। ফলে এখানে সিভিল সোসাইটি গড়ে ওঠে রাষ্ট্রের উপর (নাগরিক অধিকার বিষয়ে) চাপ সৃষ্টিকারী দল হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের সহায়ক শক্তি হিসেবে যারা রাষ্ট্রের নানা কর্মকান্ডকে বৈধতা দেয় (সরকার দলীয় অংশ) অথবা শুধুই বিরোধীতা করে (বিরোধী দলীয় অংশ)। সম্ভবতঃ একারণেই আমাদের দেশে দলনিরপক্ষে সিভিল সোসাইটি বিরল।

      সিভিল সোসাইটির কম্পোজিশন পেশাভিত্তিক পরিচয়ে আলাদা করা সম্ভব নয়। তোমার উল্লিখিত পেশাসমূহে নের্তৃস্থানীয় বেশিরভাগকেই দেখবে কোন না কোন এনজিও-র সাথে উপদেষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি, কন্সালট্যান্ট, ইত্যাদি সম্পর্কের মধ্যে। ইনফ্যাক্ট, ইউরোপীয় জাতি-রাষ্ট্রের মধ্যে হেবারমাস যে রাজনীতি-সচেতন 'পাবলিক স্পেয়ার' এর উদ্ভব+বিকাশ লক্ষ্য করেছেন, আমাদের দেশে তা'র কাছাকাছি একটা প্লাটফর্ম তৈরীতে এনজিওগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

      ২।

      ফরেন ডোনেশন দিয়ে কিছু এনজিও কার্যক্রম মিলিটারি জান্তার গদির জন্য হুমকি বলে চিন্থিত হয়

      - এটাই আমার পোষ্টের মূল কথা- তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র সব সময় এনজিওকে নিজের ক্ষমতার জন্য একটা হুমকিস্বরূপ দেখে এসেছে এবং এই ধারণা/সন্দেহ থাকার কারণে সব সময় এনজিওদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে, শুরু থেকেই। আজ খালেদা জিয়া ডঃ ইউনূসকে সমর্থন দিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে তিনিও গ্রামীনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইতেন, আর হাসিনাকে দেখতাম গ্রামীনের পক্ষ নিতে।

      ৩।

      নতুন ইসলামিক এবং র্যাডিক্যাল ইসলামিক এনজিওগুলোকে কিভাবে দেখবো? এদের কার্যক্রমের সম্পর্কের ধরণ তো আর দশটা এনজিওর মতো এক নয়। কিংবা ধরুন বামপন্থী বা প্রো-মার্কসীয় এনজিও। যদিও এরা দাতার অর্থে পরিচালিত এনজিও কিংবা সেলফ হেল্প। এদের দাতা সবসময় পশ্চিমে নয়। কিংবা আদিবাসী এনজিওগুলোও তো সরকার এবং কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রনকে (পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে) প্রচ্ছন্নভাবে চ্যালেঞ্জ করে। দাতা দেশ এবং দাতা সংস্থা পার্বত্য বিষয়েও হস্তক্ষেপ করে। তখন সার্বভৌম ক্ষমতার চর্চা যে নতুন মাত্রা যোগ করে তখন সেটাকে কিভাবে থিয়োরাইজ করবো?

      - এই বিষয়টা নিয়ে তেমন একটা ভাবিনি।

      আমার পোষ্টের মূল বক্তব্য সঠিক ধরলে (অবশ্যই আপাততঃ, কারণ এটা একটা খসড়ামাত্র। আরো চিন্তা-ভাবনা, আলোচনা, পরিমার্জনা, পরিবর্ধনের পর এর অবয়বে অনেক পরিবর্তন আসবে) জাতি-রাষ্ট্রের বিকাশের প্রক্রিয়ার মধ্যেই আমি এই উদীয়মান ধারার এনজিওদের ভূমিকা+ভবিষ্যত বোঝার চেষ্টা করবো। সেক্ষেত্রে, এসব এনজিও যেহেতু সর্বসাধারণের স্বার্থকে রিপ্রেজেন্ট না করে একটা বিশেষ গোষ্ঠি/দলের স্বার্থ রিপ্রেজেন্ট করে, তাই তাদের সার্বভৌমত্বের ধারণা অবশ্যই মৌলিকভাবেই আলাদা হবে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণও তেমন হবে।

      - সব কথার শেষ কথা, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকার নিরঙ্কুশ করার জন্য আমাদের দেশে রাজনোইতিক দলগুলো সর্বদাই সচেষ্ট। আর যতদিন এখানকার জনগণকে নাগরিক অধিকার দিয়ে নয়, বরং পেট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক, বা বিদেশী জুজুর ভয়, কিংবা পরকালের লোভ দেখিয়ে ভোটে নিজের পক্ষে নিয়ে আসা যায়, ততদিন রাজনৈতিক দলগুলো সিভিল সোসাইটিকে (এনজিওসহ আর অন্যান্য সকল প্রকার) দৌড়ের উপরে রাখবে। আবার, কোন বিশেষ সরকারকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে বিদেশী/দাতারা কোন কোন এনজিওকে ব্যবহার করবে বা করার চেষ্টা করবে। আম জনতা হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে, বিদ্যমান বাস্তবতায় মোটাদাগে সিভিল সোসাইটি হয় সরকারের পক্ষে অথবা বিপক্ষে, বিদেশী শক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে, কিন্তু সাধারণ জনগণের পক্ষে নয়, অন্ততঃ এখনও সেই স্বাতন্ত্র্য অর্জন করতে পারেনি।


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
      • রাব্বী (৯২-৯৮)

        মাহমুদ ভাই, একটু দৌড়ের উপ্রে আছি। তাই অল্প কথায় বলি-

        ১. সিভিল সোসাইটির পেশাটা উল্লেখ করেছিলাম, এনজিওর বাইরের লোকদের উপস্থিতি বোঝানোর জন্য। আমার কাছে মনে হয়, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সিভিল সোসাইটি ফরমেশনে এনজিও আছে, কিন্তু মিডিয়া এবং থিংক ট্যাংকস (সিপিডি, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট, প্রভৃতি) এখন আরো অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। আমাদের কেয়ার টেকার সরকার তো মোটামুটি সিভিল সোসাইটি ফরমেশনে, সেখানে রিপ্রেজেনটেশনটা দেখলে পেশাভিত্তিক ক্যাটেগরিটা স্পষ্ট হয়।

        ২.

        তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র সব সময় এনজিওকে নিজের ক্ষমতার জন্য একটা হুমকিস্বরূপ দেখে এসেছে এবং এই ধারণা/সন্দেহ থাকার কারণে সব সময় এনজিওদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে, শুরু থেকেই।

        সেটা ঠিক এনজিওর অলটারনেটিভ ডিপলোম্যাটিক এবিলিটির কারণে সরকারের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। কিন্তু এরশাদের সময়টায় এনজিওতে অনেক বামপন্থী কর্মী যোগদান করে তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং এনজিওতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবার কারণে। এবং এনজিওতে তারাই মূলতঃ এরশাদ বিরোধী একটিভিজমটা শুরু করে।

        আবারো ধন্যবাদ ভাল কিছু বিষয় উল্লেখ করে রিপ্লাই লেখার জন্য।


        আমার বন্ধুয়া বিহনে

        জবাব দিন
        • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

          রাব্বী,
          সিভিল সোসাইটি বিষয়ে তোমার সাথে আমার বোঝার হালকা পার্থক্য আছে, তবে সেটা এই পোষ্টে বিতর্কের মূল বিষয় নয় বলে এখনকার মতো বাদ দিচ্ছি। পরে কোন এক সময় আবার কথ হবে এ'ই নিয়ে।

          (পোষ্টটা মনে হয় বেশি বিমূর্ত হয়ে গেছে, তাই না?)


          There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

          জবাব দিন
            • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

              আপু, আপনিও এইকথা বললেন?

              আসলে এই পোষ্টটা লেখার সময় পলিটিক্যাল সোসিওলজির নানান তত্ত্ব চিন্তার মধ্যে ভিড় করছিল। পোষ্টের দৈর্ঘ্যের দিকে খেয়াল করে আরো তিনটা সেকশন বাদ দিছি, টিলি'র ষ্টেট বিল্ডিং এর তত্ত্বকে "যুদ্ধ+যুদ্ধের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে জাতি-রাষ্ট্রের উদ্ভব" এ ছেটে নিয়েছি, সিভিল সোসাইটির ক্লাসিক্যাল ধারণাগুলো আর হেবারমাসের রাজনীতি-নিরপেক্ষ 'পাবলিক স্পেস' এর তত্ত্ব একেবারেই বাদ দিয়েছি।- আসলে কি কি বাদ দিবো সেইটা ঠিক করতেই একদিন লেগে গেছে।

              আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্য কোন সময় আবার লিখবো আরো বেশি করে বর্তমান থেকে পরিচিত উদাহরণ নিয়ে এবং তত্ত্বীয় পরিভাষা যথা-সম্ভব বাদ দিয়ে। (সম্পাদিত)


              There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

              জবাব দিন
          • রাব্বী (৯২-৯৮)

            মাহমুদ ভাই, লেখা মূর্ত হইছে। ঘটনা হলো, প্রথমে যেটা বললাম যে একটু ভারি হয়ে গেছে থিয়োরিটিক্যাল বিষয় নিয়ে কথা বলার কারণে। আর ফুকো আসলে হজম করা এমনিতেই কঠিন। তারওপর যদি কোন ওরিয়েন্টেশন না থাকে সেইটা তখন খুবই দূর্বোধ্য মনে হতে পারে।

            আর ব্লগটার মূল বিষয় থেকে সযতনে সরে আছি তাই সাইড ডিশ নিয়ে কথা পাড়লাম। পারলে সেমিষ্টার শেষ হলে সময় পেলে সিভিল সোসাইটি নিয়ে কিছু লিখেন।


            আমার বন্ধুয়া বিহনে

            জবাব দিন
  4. Jishan (06-10)

    ক্ষুদ্রঋণ মূলতঃ অলাভজনক; কারণ, একে টিকিয়ে রাখার জন্য বাইরে থেকে ভর্তুকি দিতে হয় (ডেনিয়েল পার্ল এই বিষয়টি সর্বপ্রথম ২০০১ সালে মিডিয়ায় নিয়ে আসেন)। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অধীনে নিয়ে আসে যা’র ফলে তারা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়।

    Mahmud Bhai Onek Kisu shiklam :boss:
    জবাব দিন
  5. দেশের আইনকে পাশ কাটিয়ে তাকে গ্রামীনের ক্ষমতায় রাখতে হবে। দেশের আইন!!!! হা হা হা !!!বলুন হাসিনার আইন. " হাসিনার, তথা দেশীয় সরকারের স্বার্থ হচ্ছে এনজিওদের উপরে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা’ ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রতি রেগুলেটরী সংস্থা স্থাপন এবং এর মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম তদন্ত করার ঘোষনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।" --- actually নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং vote bank তৈরী করা.

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      হাসিনা যে আইনকে ব্যবহার করে ইউনূসকে সড়াতে চাইছে, সেটা কিন্তু হাসিনা কেউ বানায়নি, সেটা বানিয়েছিল অন্য একজন (জেনারেল এরশাদ), সেই সময় যার অধীনে সরকার চলেছে এবং রাষ্ট্রের আইন বানিয়েছে। আর সেই আইন মানতে ইউনূস সাহেবের কোন সমস্যা হয়নি যতদিন পর্যন্ত সেটা তা'র স্বার্থে প্রয়োগ (এবং না-প্রয়োগ) করা হয়েছে। এখন সেটা যেই তার বিরুদ্ধে চলে গেছে, সেই তখনই বলা শুরু হচ্ছে যে, এটা হাসিনার আইন!!! আজব!!!

      আইন কি, কেমনে তৈরী হয়, কারা এ'র অধীন, কে এটা প্রয়োগ করবে, কিভাবে করবে- এইসব বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকলে দেশের আইনকে হাসিনা/খালেদা/এরশাদের আইন বলতে পারার কথা নয়। (সম্পাদিত)


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
  6. আইন কার জন্য ? মানুষের জন্য ? can you pls tell me how many ppl get fair justice without money or power?If you think our country practice fair justice without money or power, I will salute you.
    If you personally don't like Prof Younus that is different issue.সমলোচনা করার জন্য সম মানের হতে হয়.it is easy to write and easy to tell with few examples that prof. younus implented a foolish theory.Pls find a better model and implement it, we will salute you surely.

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
      সমলোচনা করার জন্য সম মানের হতে হয়

      - আপনার (এবং এই লাইনে চিন্তা করেন এমন সকলের) সাথে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

      আইন কার জন্য ? মানুষের জন্য ?

      - আপনার সাথে আমি একমত যে, আইন মানুষের জন্য, মহাপুরুষের জন্য না। আর মহাপুরুষের সমালোচনা করার এখতিয়ার কেবলমাত্র আরেকজন মহাপুরুষেরই আছে। ;;; (সম্পাদিত)


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
  7. Jishan (06-10)

    জনাব নূর, এখানে সবার একটা পরিচয় আছে; আপনার পরিচয় তা পেলে কথা বলতে অনেক সহজ হত.
    আপনার প্রথম কমেন্ট আমরা মাহমুদ ভাই এর কাছে বা লিখাতেও দেখেছি

    "তথা দেশীয় সরকারের স্বার্থ হচ্ছে এনজিওদের উপরে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যা’ ক্ষুদ্রঋণ সম্প্রতি রেগুলেটরী সংস্থা স্থাপন এবং এর মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম তদন্ত করার ঘোষনার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত।” — actually নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং vote bank তৈরী করা."

    আবার পরের কমেন্ট টা মনেহলো বিতর্ক না ঝগড়া করার জন্য. আপনাকে আমি বলি ইউনূস সাহেব কি কোনো আইন ভাঙ্গেনি ????????

    সমলোচনা করার জন্য সম মানের হতে হয়

    আপনি যার সমলোচনা করছেন আপনি কি তার সম মানের????????

    দেশের আইন!!!! হা হা হা !!!বলুন হাসিনার আইন

    দেশের আইন;আইন না তাইত বুঝাতে চাইলেন ! তাহলে কি হিলারি বলেদিলে ওটা আপনার জন্য ভালো আইনে হয় .

    জবাব দিন
  8. গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা সিলেটের রুকমা বেগম, রাজশাহীর আমেনা বেগম, দিনাজপুরের আফরোজা বেগম, পাবনার মনোয়ারা বেগম, ফরিদপুরের জাহানারা বেগম এবং উচ্চ শিক্ষায় ঋণপ্রাপ্ত সজল রায়, রায়হান আহমেদ ও আল আমিন— তাঁদের সবার বক্তব্য মোটামুটি এক ছিল। তাঁরা বলেন, যখন তাঁদের পেটে খাবার ছিল না, তখন তাঁদের সহযোগিতায় কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক এগিয়ে এসেছিল।
    “গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের সবাই ধনী হয়ে যাননি। তবে, দরিদ্র মানুষের মনে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে তাঁরা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম।’ গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ড. ইউনূসের সম্মান রক্ষা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে আলোচকেরা এই মন্তব্য করেছেন।
    Do you know why Bad debt ratio is so high in Bangladesh??
    1. It’s our general trend to forget that we have issued loan from Bank and need to make payment
    2. Natural disaster (We cannot do anything much with this, so when a loan issuer lose everything then any bank cannot recover. For this situation I personally think there might have a policy by government or bank)

    জবাব দিন
  9. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)
    The Bangladesh government and Dr. Yunus have become embroiled in a struggle for control of Grameen Bank, which has implications for the health of Bangladesh’s civil society. When I went to Bangladesh two weeks ago, Dr. James Wolfensohn and I pressed the Government of Bangladesh to protect the integrity of civil society and the autonomy of the Grameen Bank, and I warned that a failure to find a compromise that respects Dr. Yunus’ global stature and maintains the integrity and effectiveness of Grameen could affect our bilateral relations

    - মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাক এর জবানীতে ডঃ ইউনূস ও গ্রামীন ব্যাংক নিয়ে আমেরিকার মাথা-ব্যাথার (যা'র জন্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ সীমাও অতিক্রম করা যায়) প্রকৃত কারণ প্রকাশিত হলো- একটা স্বাধীন দেশের সার্বভৌম সরকারকে তারা "চাপ" দিয়েছে সুশীল সমাজ এবং গ্রামীন ব্যাংককে দেশের বিদ্যমান আইনের আওতার বাইরে নেওয়ার জন্য!!! পুরো ষ্টেটমেণ্টএ ব্ল্যাকরসাহেবের কিন্তু একবারও জনগণের কথা মনে পড়েনি। (সম্পাদিত)


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।