পূর্ব-এশীয় দেশগুলোর শিল্পায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শিক্ষা

বিশ্বের শিল্পোন্নত সকল দেশ- ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে কোরিয়া ও তাইওয়ান- শিল্পায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে দেশীয় শিল্পকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা সহায়তা দিয়ে শক্ত ভিত্তির উপর গড়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র যেসব উপায় অনুসরণ করেছে তা’র মধ্যে বিশেষ বিশেষ দেশীয় শিল্পকে সুবিধাজনক শর্তে ঋণদান, কাঁচামাল আমদানী+তৈরী পণ্য রপ্তানীতে ইনসেনটিভ প্রদান, আভ্যন্তরীণ বাজারে উদীয়মান দেশীয় শিল্পের সাথে প্রতিযোগীতাকারী বিদেশী পণ্যের প্রবেশে বাঁধা প্রদান প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রথম পর্যায়ের শিল্পোন্নত দেশগুলো (অর্থ্যাৎ পশ্চিম ইউরোপীয় দেশসমূহ)এইসব সংরক্ষণমূলক নীতিকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আড়াল করতে চাইলেও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো প্রকাশ্যেই এগুলোকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করে যা ‘Import-Substituting Industrialization (ISI)’ নামে বহুল পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪০ ও ১৯৫০ এর দশকে ISI-মডেল অনসুরণ করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো শিল্পক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করে এবং ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। তাদের অভিজ্ঞতায় উৎসাহিত হয়ে এশিয়ায় সদ্য-স্বাধীনতা পাওয়া দেশগুলোও ISI-মডেলের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে শুরু করে যাদের মধ্যে পূর্ব-এশীয় দেশগুলোসহ ভারতও অন্তর্ভূক্ত।

ISI-মডেলের উন্নয়ন প্রকল্পের পুঁজির মূল উৎস ছিল বৈদেশিক বিনিয়োগ, তৃতীয় বিশ্বের সব দেশেই। কিন্তু তাহলে পূর্ব-এশীয় দেশগুলো ছাড়া আর কেউ শিল্পোন্নত হতে পারল না কেন? কি পার্থক্য ছিল তাদের সাথে বাদ বাকি উন্নয়নকামী দেশগুলোর?

পূর্ব-এশীয় দেশগুলোর সরকার ১৯৬০-র দশকের শেষভাগ থেকে ISI-মডেল থেকে বের হয়ে রপ্তানীমূখী (Export-Oriented Industrialization) শিল্প-বানিজ্য নীতি সাফল্যের সাথে অনুসরণ করা শুরু করে। এক্ষেত্রে তারা কিছু কিছু নীতি অনুসরণ করেছিলো যা ছিল অপরাপর উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে একেবারেই আলাদা। যেমন-
১। সরকার আমলাতন্ত্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংস্থা গড়ে তোলে যা’ সমগ্র আমলাতন্ত্রের উপর মর্যাদা+ক্ষমতার মাধ্যমে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় শিল্প-বানিজ্য নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনোয়ন করতো। এরফলে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন শ্রেণী (বিশেষ করে শিল্পপতি ও ভূস্বামী) জাতীয় স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে তাদের সংকীর্ণ শ্রেণীস্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু অন্যান্য দেশে এরূপ একটা শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক সংস্থা না থাকায় সরকারের আভ্যন্তরীণ সমন্বয় সম্ভব হয়নি, এবং সরকার ভূস্বামী/শিল্পপতিদের কায়েমী স্বার্থকে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের অধীনে নিয়ে আসতে পারেনি। যেমন- ভারত সরকারের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশীয় শিল্পপতিরা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্তর্গত শিল্পস্থাপনার জন্য আবেদন করে লাইসেন্স+ঋণ নিত, কিন্তু সেই পুঁজি ব্যক্তিগতভাবে অধিক লাভজনক শিল্পে বিনিয়োগ করত। এতে লাইসেন্স+পুঁজির অভাবে অন্যান্য উদ্যোক্তারাও সরকারের ইপ্সিত শিল্পে প্রবেশে বাঁধা পেত। ফলশ্রুতিতে ভারতের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় (চিব্বের, ২০০৩)। আবার ব্রাজিলে অনুরূপ শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক কোন সংস্থা না থাকায় প্রভাবশালী ভূস্বামীরা তাদের নিজ নিজ গোষ্ঠিগত, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্বার্থে ঘনঘন রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতো। ফলে সেখানে কখনোই একটা সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গঠন সম্ভব হয়নি যা’র অনিবার্য ফলস্বরূপ আসে শিল্পায়নে ব্যর্থতা।

২। সরকার কঠোরভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে পুঁজির চলাচল (প্রবেশ ও প্রস্থান) নিয়ন্ত্রন করতো, প্রধানতঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ফলে দেশী-বিদেশী সকল বিনিয়োগের উপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রন সম্ভব হয়েছিল। এ অবস্থায় সরকার তার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শিল্পখাতে পুঁজির বিনিয়োগকে প্রবাহিত করতে সক্ষম হয় (কোরিয়ার প্রেক্ষিতে এই প্রক্রিয়ার চমৎকার বিবরণ দিয়েছেন Jung-en Woo তার Race to the Swift: State and Finance in Korean Industrialization (১৯৯১) গ্রন্থে)। কোরিয়া সরকার বিদেশী পুঁজিকে (প্রধানতঃ জাপানীজ) বেশ কিছু শর্তস্বাপেক্ষে প্রবেশাধিকার দেয় যা’র অন্যতম শর্ত ছিল কোরিয় শিল্পপতিদেরকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রের নির্ধারিত রপ্তানীমূখী শিল্পখাতে (ষ্টীল, কেমিক্যাল, ইত্যাদি) বিনিয়োগ করতে হবে এবং তাদের উন্নত প্রযুক্তি কোরিয় শিল্পপতিদের সাথে শেয়ার করতে হবে। এর ফলে জাপানীজ পুঁজি+প্রযুক্তি উভয়ই কোরীয়ার দেশীয় শিল্পপতিদেরকে আরো শক্তিশালী হতে সাহায্য করে যা’র মাধ্যমে এক দশক পরে কোরিয় শিল্পপতিরা নিজেরাই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু অন্যান্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পলিসিতে এই বিষয়টি অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে দেশীয় এবং বৈদেশিক উভয় পুঁজিই রাষ্ট্রের অগ্রাধিকারভিত্তিক শিল্পক্ষেত্রকে পাশ কাটিয়ে শুধুমাত্র সেইসব শিল্পে বিনিয়োগ করে যেখানে অল্প ঝুঁকি+অধিক মুনাফা ছিলো। এর ফলে দেশীয় শিল্পপতিরা পূর্বের মতোই দূর্বল এবং সরকারী+বিদেশী পুঁজির উপর নির্ভরশীল থেকে যায়।

উপরের আলোচনা থেকে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাধারণজ্ঞানের অন্তর্গত দুটি নিও-লিবারেল ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়; এক, জাতীয়/দেশপ্রেমিক শিল্পপতি (তাত্ত্বিক পরিভাষায় বুর্জোয়া) শ্রেণী। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন দেশেই দেশপ্রেমিক জাতীয় বুর্জোয়া বলে কোন শ্রেণীর অস্তিত্ব ছিল না। একারণেই চিব্বের (২০০৩) এই ধারণাকে কল্পকথা (Myth) বলে অভিহিত করেছেন। কাজেই বসুন্ধরা গোষ্ঠির ‘বসুন্ধরা, দেশ ও মানুষের কল্যাণে’ দাবী সম্বলিত বিজ্ঞাপণে অথবা জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে শিল্পপতি+ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের প্রতি নানান সুবিধার জন্য দাবীর প্রতি সমর্থন দেওয়ার আগে আমাদের (সরকার+জনগণ) ভালো করে ভেবে দেখতে হবে বসুন্ধরার মতো শিল্পগোষ্ঠি এবং আনিসুল হকসহ অন্যান্য শিল্পপতি-ব্যবসায়ী নেতাদের অনুসৃত কর্মসূচী কতটা জাতীয় স্বার্থে কনট্রিবিউট করছে। অবশ্য তার আগে আমাদেরকে নির্ধারণ করতে হবে আমাদের জাতীয় স্বার্থটা কি? (এটা মূলতঃ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব যেখানে আমাদের কপাল পুরাটাই পোড়া!)।

দুই, “বৈদেশিক পুঁজি (তা’ সে অনুদানই হোক, আর ঋণই হোক) দেশে আসলেই শিল্পায়ন তথা উন্নয়ন হবে”- এটা একটা আজাইর‌্যা পেচাল। আমরা জানি যে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে পুঁজি+প্রযুক্তির স্বল্পতা শিল্পায়নের প্রধান অন্তরায়। তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক পুঁজিকে আসতে দিতেই হবে। কিন্তু তা’কে অবশ্যই এমন একটা সিস্টেমে ফেলতে হবে যেন বৈদেশিক পুঁজি+প্রযুক্তির সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় পুঁজি+প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে, যেটা করেছিলো পূর্ব-এশীয় দেশগুলো। বৈদেশিক পুঁজিকে স্বাধীন ভাবে আসতে দিলে সেটা তা’র নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় বাজারে যেসব খাতে সর্বাধিক মুনাফা আছে, সেখানে চলে যাবে। এতে একদিকে সেইসব খাতে উদীয়মান দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, অন্যদিকে যেসব ভারী শিল্পখাত পুঁজি+প্রযুক্তির অভাবে বিকশিত হতে পারছেনা, সেগুলো সেভাবেই থেকে যাবে।

জাতীয় উন্নয়নে ভূ-রাজনৈতিক (Geo-political) অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সব যুগে সব দেশের জন্যই। ইংল্যান্ডের শিল্প-বিপ্লব অনেকাংশে সফল হয়েছিল প্রধানতম কলোনীয়াল শক্তি হিসেবে বিশ্ব বাজারে প্রধান্য বিস্তারের মধ্য দিয়ে। ইংল্যান্ডের শিল্প-বিপ্লবের ভিত্তি বস্ত্রশিল্প বিশ্ববাজারে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে যাবার মুহুর্তে ইংলিশ সরকার ভারতীয় বস্ত্র আমদানীর উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বস্ত্রশিল্পকে রক্ষা করে। পাশাপাশি ভারতবর্ষের উপর অসম বানিজ্য চাপিয়ে দিয়ে একে ইংলিশ পণ্যের বিশাল বাজারে রূপান্তরিত করে যা ব্যতীত ইংল্যান্ডে শিল্প-বিপ্লব অসম্ভব না হলেও অবশ্যম্ভাবীরূপেই ধীর হতো। অনুরূপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আমেরিকা অন্যতম শিল্পায়িত দেশ হলেও যুদ্ধোত্তর সময়ে অন্যান্য সকল প্রতিযোগী দেশের অর্থনীতির বিপর্যয়ের সুযোগে একমাত্র আন-এফেক্টেড দেশ হিসেবে আমেরিকা শিল্পে দ্রুত উন্নতি সাধন করে একনম্বর স্থানে চলে আসে। একইভাবে, পূর্ব-এশীয় দেশসমূহের শিল্পায়নের পেছনে তাদের জন্য আমেরিকার নিঃশর্ত অর্থনৈতিক (কিন্তু রাজনৈতিক শর্তযুক্ত) সহযোগিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্ব ব্যবস্থায় আমেরিকার সাথে প্রতিযোগিতায় নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় রাশিয়া+চীন যারা মতাদর্শিক দিক থেকে ইউরোপ+আমেরিকা তথা পুঁজিবাদী বিশ্বের বিপরীতে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করে। কাজেই সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সম্প্রসারণ ঠেকানোর জন্য আমেরিকা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্ভাব্য দেশগুলোকে পুঁজিবাদী বলয়ের অন্তর্ভূক্ত করার নীতি অনুসরণ করে। আমেরিকার এই বৈদেশিক নীতির ফলেই পূর্ব-এশীয় দেশসমূহ তথা কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অনুদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং আমেরিকার বাজারে প্রবেশাধিকার লাভ করে। এক হিসাবে দেখা গেছে যে, ১৯৫০ আর ১৯৬০ এর দশকে আমেরিকা যে পরিমাণ অনুদান সমগ্র আফ্রিকাতে দিয়েছে, তা’র থেকেও বেশি অনুদান দিয়েছে শুধু কোরিয়াতেই! আমেরিকার আশ্রয়ে থাকার কারণে এসব দেশ আইএমএফ/বিশ্বব্যাংক -এর সর্বময় প্রভাব থেকে দীর্ঘদিন মুক্ত থাকতে পেরেছে। এছাড়াও এসব দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য আমেরিকা এসব দেশে সসৈন্য উপস্থিতির মাধ্যমে স্বৈরশাসকদের সমর্থন+সহযোগিতা করেছে (নিজে গণতান্ত্রিক হয়েও!)।- আমেরিকার এসকল সমর্থনের প্রধানতম কারণ ছিলো এই অঞ্চলে চীন+রাশিয়ার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক সম্প্রসারণ রোধ করা।

পূর্ব-এশীয় এইসব দেশের শিল্পায়নে আমেরিকার সহযোগিতার গুরুত্ব আরেকবার স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে এসে আমেরিকার সাথে চীনের অর্থনৈতিক সমঝোতামূলক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর। ১৯৯৩ সালে চীন বিদেশী বিনিয়োগের জন্য আভ্যন্তরীণ বাজার উম্মুক্ত করে দিলে আমেরিকা তাইওয়ান ও কোরিয়ায় (এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও) নিঃশর্ত সাহায্য কমিয়ে দেয়। ফলে এই এলাকার সমস্ত দেশ আইএমএফ-এর খপ্পরে পড়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থেকে রাষ্ট্রকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়, যা’র ফলশ্রুতিতে মাত্র ৫/৬ বছরের মাথায় দেশগুলো ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়ে।

– এ’ পর্যন্ত আলোচিত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, বাঁধা-বিপত্তি ইত্যাদি বিষয়ে পরবর্তী কিস্তিতে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

২,৬২৬ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “পূর্ব-এশীয় দেশগুলোর শিল্পায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শিক্ষা”

  1. আদনান (১৯৯৪-২০০০)

    এখন পর্যন্ত সব পরিষ্কার । আর লেখার বক্তব্য বেশ সাবলীল । আপনার নৈর্ব্যক্তিক লেখার ধরনটা আমার বরাবরই ভাল লাগে । পরের পর্বে বাংলাদেশকে নিয়ে পড়ার আপেক্ষায় থাকলাম । :thumbup:

    জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)
    বসুন্ধরা গোষ্ঠির ‘বসুন্ধরা, দেশ ও মানুষের কল্যাণে’ দাবী সম্বলিত বিজ্ঞাপণে অথবা জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে শিল্পপতি+ব্যবসায়ী নেতাদের সরকারের প্রতি নানান সুবিধার জন্য দাবীর প্রতি সমর্থন দেওয়ার আগে আমাদের (সরকার+জনগণ) ভালো করে ভেবে দেখতে হবে বসুন্ধরার মতো শিল্পগোষ্ঠি এবং আনিসুল হকসহ অন্যান্য শিল্পপতি-ব্যবসায়ী নেতাদের অনুসৃত কর্মসূচী কতটা জাতীয় স্বার্থে কনট্রিবিউট করছে। অবশ্য তার আগে আমাদেরকে নির্ধারণ করতে হবে আমাদের জাতীয় স্বার্থটা কি? (এটা মূলতঃ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব যেখানে আমাদের কপাল পুরাটাই পোড়া!)।

    তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু পারি সতর্ক থেকে যাবো। পোড়া কপাল ভাল করার কাজ আমাদেরই হাতে নিতে হবে।

    আইএমএফ-এর খপ্পরে আমরাও কিছুটা পরে আছি, সেটা থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখতে হবে।

    পড়ছি, মাহমুদ ভাই। আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করছি বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে আলোচনাটার জন্যে।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  3. মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

    আগে সবার কাছে মাফ চায়া নিই আলোচনা চালায়া যাবার জন্য দেশের সময় অনুযায়ী নেটে না থাকার কারণে। আসলে হইছে কি, আমি ডর্ম ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশী দুই ফ্রেন্ডের বাসায় উঠছি সাময়িক ভাবে। আর ওদের বাসায় নেট নাই :(( । পাশে আরেক ফ্রেণ্ডের বাসায় নেট আছে, কিন্তু বেচারি এখানকার বিকেলেই শুধু বাসায় থাকে। তাই সেই সময় ছাড়া আমিও নেটের বাইরে 🙁

    আগ্রহ নিয়ে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

    তবে আগেই কয়া যাই, নেক্সট পর্ব দুয়েক দিন দেরী হতে পারে।


    There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।