একটু শুনবেন, প্লিজ…

আপনার এলাকার সবচে’ যোগ্য ও গুনী লোককে ভোট দিন। সে যে দলেরই হোক

জ্বি জ্বি!! আমি জানি, আপনি বুঝতে পেরেছেন আমি কোন দলের কথা বলছি। আর যাদের মাথা একটু মোটা আছে, তাদের জন্যই বোল্ড করা। আরে ভাই চামচ নিয়ে কমোডের দিকে যাচ্ছেন কেন?? না না! আমি ওসব খাইনা। যুদ্ধাপরাধীদের পরিবর্তে নেড়ি কুত্তাকে ভোট দিবেন? তা কী করে হয়? একটু ভাবুন প্লিজ!!

যুদ্ধ তো আমরা করি নাই ভাই। যুদ্ধ তো করলো সেই ভারতের দালাল আর ভারতের সৈন্যরা। আমরা তো নিজের দেশের সার্বোভৌমত্ব রক্ষা করতে চেয়েছিলাম মাত্র। এমনিতেই ছোট ছিল দেশটা। তারপর সেটাকে আবার দুই ভাগ করতে চাওয়াটা কতটা যুক্তিসংগত, আপনিই বলেন। আপনারাই তো বাধালেন সমস্যাটা।

সংস্কৃতি, ঐতিয্য!! এগুলো কি ধর্মের চেয়েও বড় আপনার কাছে? তাহলে আমার বলতেই হচ্ছে মাথা ঠিক নেই আপনার। ঐ সব ঐতিয্য- মৈতিয্য মরে গেলেই শেষ। আর ধর্ম তো কত বড় একটা ব্যাপার। ব্রিটিশদের কাছ থেকে আমরা এত কষ্ট করে রাষ্ট্র আদায় করে নিলাম- হিন্দুদের কাছ থেকে চিরতরে আলাদা হয়ে গেলাম। আর আপনারা কী না তাদের সাথেই হাত মিলালেন? ভুলটা স্বীকার করে নিন ভাই, ভুল স্বীকার মহত্ত্বের লক্ষণ।

আর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথা বলে হাসাবেন না ভাই। যুদ্ধ শেষ হবার পর আমাদের আগের দেশের নওজোয়ানদের আপনারা তো ঠিকই বিনা বিচারে ফেরত দিয়ে দিয়েছিলেন। তাহলে রাজাকারদের বিচার করার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন কেন? এইগুলো পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র। তারা চায় না, আমরা সবাই একসাথে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই। পুরান গু ঘাটলে বেশী গন্ধ বের হয়, তাহলে কী লাভ ঘাটাঘাটি করে…

তাও মানবেন না? ও বুঝেছি। আপনার মা- বোনকে ধর্ষণের কথা ভুলতে পারছেন না, তাই তো। আরে ভাই, দেশ রক্ষার জন্য শক্ত- সামর্থ জোয়ানরা এই আজিব দেশে আসলো, তাদের একটু চাওয়া- পাওয়া আছে না? আপনার মা- বোনদের কী দায়িত্ব ছিল না, তাদের একটু খাতির যত্ন করা। তাহলেই তো আর জোরাজুরি করতে হয় না। আপনি ভাই, একদম অবুঝ।

শহীদ!! হা হা হা। শহীদের সংজ্ঞা আপনার ঠিক মতো জানা নেই বলে মনে হচ্ছে। বলুন মৃত। আর কত জনই বা মারা গিয়েছিল? দশ হাজার। সংখ্যাটা পছন্দ হলোনা? প্লিজ, একটু ঠান্ডা হন। কমোডের দিকে যাবে না দয়া করে। আচ্ছা যান পঞ্চাশ হাজার। এ আর এমন কি বলুন। জাপানের আনবিক বোম মেরে কয়েকলক্ষ মানুষ মেরে ফেলা হলো। এই কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলো। তাতে করে কী কয়েক কোটির জীবন বাঁচালো না। ভাই, মনটাকে সংকীর্ণ করে রাখবেন না। ইতিহাসের দিকটাও একটু ভেবে দেখুন।

ওই সব রুমী, আজাদ, আনিস কিংবা শওকতের মতো ছেলেগুলো যদি লাল সবুজের জন্য অস্ত্র না তুলে, চাঁদ তারার নীচে থাকতো- তাহলে কতো ভালো হতো একবার ভেবে দেখুন তো। তখন আর যাই হোক- ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে হুমায়ুন আজাদ, আহমেদ শরীফ কিংবা আরজ আলীর মতো লোকজন ইসলাম বিরোধী কথা বলার সাহস পেতনা। আরে ভাই, ওরা যা বলে না। এসব কথা শুনলেও তো ঈমান দূর্বল হয়ে যায়।

তাও ভালো সবাই আপনাদের মতো হুজুগে না। অনেকেই ভুল বুঝতে পেরেছে। তাইতো আমরা ক্ষমা পেয়েছি, প্রকাশ্য রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছি। ভাইরে, বুঝতে হবে…বুঝে ইজি থাকতে হবে।

জ্বী জ্বী, আমাদের প্রতিকটা দাড়িপাল্লা। শ্লোগানটা মনে আছে নিশ্চয়ই।

ভোট দিলে পাল্লায়

বেহেশত দিবে আল্লায়

২,২৪০ বার দেখা হয়েছে

৩৪ টি মন্তব্য : “একটু শুনবেন, প্লিজ…”

    • রেজওয়ান (৯৯-০৫)

      ঐ হারামখোরের বাচ্চা গুলারে কমোডের মধ্যে ফ্লাশ করা উচিৎ ~x( ~x( ~x( ~x(
      দোস্ত এই লেখা পইরাও যদি কারো ঘৃনা না জাগে তাইলে সেই লোক...এই লেখাগুলান লিফ্লেট আকারে জনগনের কাছে পৌছাইয়া দিতে পারলে আরও ভাল হইত... সাবাস বেটা...... :clap: :clap: :clap: :salute: :salute: :salute: :salute:

      জবাব দিন
  1. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    দিন আসবে যেদিন যুদ্ধাপরাধী আর রাজাকাররা নিজেদের কবর দেয়ার জন্য এই বাংলায় মাটি খুঁজে পাবে না। শেয়াল-শকুন দিয়ে ওদের লাশ খাওয়াবো আমরা।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  2. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    এই লেখার "আমি" আরও কইতাছে:

    আরে ভাই তুমরা এতো বিচার বিচার কর। অথচ নিজেগোর বিচারেরই খবর নাই। একাত্তরে পাক বাহিনীর হাতে মানুষ মরছিল মাত্র ১০ হাজার। ৯০ হাজার পাকী সেনাগোর কত সতর্ক থাকতে হইছে এতো কম মানুষ মারনের লাইগা ভাইবা দেখছ? ওরা তো মুক্তিগোর মত শয়তানের কাছে নিজেগোর বেইচ্চা দেয় নাই। ওরা যুদ্ধ করছিল শহীদী তামান্নায়। আর ১৬ই ডিসেম্বরে দেশ ভাঙ্গোনের পর তুমরা কি করলা! লাখে লাখে বিহারী আর ইসলামপন্থী লোক মাইরা শেষ করলা। একাত্তরের নয় মাসে যত মানুষ মরছে পাক-স্থান দ্বিখণ্ডিত হওনের পর মাত্র তিন মাসে তার কয়েক গুণ মানুষ মরছে। মারছ তুমরা, হেই বিচার করা না ক্যা? আমরা কত ভালা দেখছনি? জীবনে কুনদিন হেই মুসলিম-হত্যার বিচারও চাই নাই।

    এই কথাগুলো শোনার পর কোন জবাব দেয়ার রুচি হয়নি...

    জবাব দিন
  3. তৌফিক (৯৬-০২)

    পাকিস্থানের দিকে তাকিয়ে ভাবি, আমরা অনেক অনেক ভালো আছি। আর এরা বাংলাকে আফগান বানাতে চায়, পাকিস্থান বানাতে চায়। এদের মোটিভেশনটা কি শুধুই ধার্মিক নাকি ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে এরা বেশি বেইল পাবে বলে মনে করে?

    সরাসরি রাজাকারগুলোর কর্মকান্ড আমি তাও কিছুটা বুঝতে পারি। এরা পাকিস্থানের অখন্ডতা রাখতে চেয়েছিল যেকোনভাবে। যুদ্ধের ডামাডোলে জেহাদী জোশে আক্রোশ মেটানোর জন্য গণহত্যা, ধর্ষণ করেছে। কিন্তু আমাদের প্রজন্মের এরা যখন এদের পেছনে দাঁড়ায়, আমি ঠিক বুঝতে পারি না কেন এরা এরকম করছে......

    জবাব দিন
    • আমি সত্যি প্রথম যেদিন জানলাম, অবাক হয়ে গেছিলাম, ভেবেছিলাম, নতুন প্রজন্মে অন্তত স্বাধীনতা বিরোধী নেই, এখন দেখছি, এদের ট্যাকল দেয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

      জবাব দিন
  4. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    সবাইকে একসাথে ধন্যবাদ।

    এই লেখাটি লেখা কতিপয় উঠতি বরাহশাবকের উদ্দেশ্য। যারা বিভিন্ন মেইলিং গ্রুপ, ফেসবুক, ব্লগে এ ভিন্ন মাত্রায় জামাতের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের বোধদয় ঘটুক, এই কামনাই করি...

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।