অনুরোধ

[কবিতা বড়ই সংক্রামক। কথাটা প্রায়ই ভাবি, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না।
পূর্ণেন্দু পত্রীর এই পংক্তিগুলো চোখে পড়লো, আজ সকালে, এক বন্ধুর স্ট্যাটাসে।
\\ যখনই পেতেছো হাত,দিয়েছি উপুড় করে প্রাণ, তবু আমি একা,
তবু আমার কেউ নও তুমি,
আমিও তোমার কেউ নই,
আমাদের অভ্যন্তরে স্রোতস্বিনী আছে সেতু নেই। //
আর কোত্থেকে যেন নীচের এই কথা গুলো ভেসে এলো মাথার ভিতরে।
সেগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে এই কবিতাখানা দাড় করালাম।
বড়ই তাজ্জব ব্যাপার! বড়ই তাজ্জব ব্যাপার!!]

জানতে চেয়েছিলাম, “কি হয়েছিল”?
সেই ইচ্ছে গুলো কি হারিয়ে গিয়েছিল?
একসময় যারা ডানা মেলতো হৃদয় আকাশে!
আর ভাসিয়ে নিয়ে যেতো আমাদের‌ –
মেঘের ভেলায় করে, সপ্ত আসমানে,
স্বর্গের সীমানায়, সীমাহীন ভাললাগায়…

তুমি বললে, “না, তা না”
তারপরে জানালে –
মন উঠে গিয়েছিল তোমার।
তুমি না বললেও জানি,
“মন কি আর কলের পুতুল
চাবী দিলেই চলবে তা?”

“সম্পর্কটা কাজ করছে না –
এটা জানার পরেও,
তা আঁকড়ে ধরে থাকার মত –
তা টেনে নিয়ে যাবার মত –
মেয়ে যে আমি নই,
জানতে না তা?”

“জানবো না কেন, খুবই জানি,
খুবই বুঝি, তবে কি, জানো?
জানা ও বোঝা কিছু কিছু কথা
নির্দিষ্ট করে শুনে নিতে ইচ্ছা হয়।
যেন সেই জানা বা বোঝাটায়
কোনো ভুল থেকে না যায়”।

এই যেমন ধরো, “কেন তোমার
মন উঠে গেল”, বল নাই কখনো,
তবুও আমি জানি ও বুঝি
কি কি হতে পারে, পিছনের কারনগুলো।
হয়তো সেই বোঝাগুলি ঠিক,
হয়তো বা ঠিক না। তবে,

একবার তোমার মুখে শুনতে পেলে –
নিঃসংশয় হতে পারতাম।
নিজে নিজে ধরে নিলে, সেখানে,
দোষারোপ এসে যায় আর তখন তোমার
ইচ্ছা জাগে আমার মৃত্যু কামনার।
কি দরকার, সময় খরচ করার, এই তুচ্ছ ইচ্ছায়?

স্বেচ্ছায় যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল,
স্বেচ্ছায় তাঁর মৃত্যুও ঘটলে ঘটুক,
কোনো দ্বিমত নাই তাতে, কিন্তু যে
ভাললাগা রেখে গেল তা,
তার কি মৃত্যু আছে? হওয়া সম্ভব?
পারলে মেরে ফেলে দেখাও দেখি তা?

তা যখন পারবে না,
এইটুকু কৃপা করো,
নিজের নেয়া একসময়কার ভাললাগাকে
কবর দিতে চাইলে দাও, কিন্তু,
অসম্মান করো না, অস্বীকার করো না
তাতে নিজেই অসম্মানিত হবে তুমি।

২,৭৩০ বার দেখা হয়েছে

২ টি মন্তব্য : “অনুরোধ”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।